• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , রোববার, ২৯ নভেম্বর ২০২০

 

শিশুশিক্ষার সাতকাহন

শরীফুল্লাহ মুক্তি

নিউজ আপলোড : ঢাকা , রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২০

পৃথিবীতে এখনও প্রতিনিয়ত তান্ডব চালাচ্ছে করোনাভাইরাস। কোভিড-১৯ ভাইরাসের কারণে সারা বিশ্বে আজ মহামারী দেখা দিয়েছে। সবাই এখন আতঙ্কগ্রস্ত ও দিশেহারা। দিন দিন যেন সময় কঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছে। করোনাজনিত এ সংকটকালে আমরা না পারছি আমাদের শিশুদের স্বাস্থ্যের প্রতি যথাযথ নজর দিতে, না পারছি লেখাপড়ার দায়িত্বটা সঠিকভাবে পালন করতে। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো বন্ধ আছে। এ অবস্থায় বর্তমানে বিদ্যালয়সমূহ কোমলমতি শিশুদের শিখনে প্রত্যক্ষ কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না। ফলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হতে চলেছে; যা কোনোভাবে কাম্য নয়। বিদ্যালয়গামী শিশুর পড়ালেখা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তেমনি হুমকির মুখে পড়েছে অনেক শিশুর প্রারম্ভিক শৈশবকালও। ইতোমধ্যে এ বছর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলার তেমন কোনো লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দফায় দফায় ছুটি বাড়ানো হচ্ছে। শিক্ষাবর্ষও প্রায় শেষের দিকে। প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে অটো-প্রমোশন দেয়ার চিন্তা করছে সরকার।

একটি সুন্দর সমৃদ্ধ আগামী পৃথিবী গড়ে তোলার জন্য দরকার প্রাণ-প্রাচুর্যে ভরপুর সুস্থ সুন্দর শিশু। ওরাই একদিন বড় হয়ে এগিয়ে নিয়ে যাবে এ পৃথিবীকে। মানবসভ্যতা ও সংস্কৃতি বিকাশের ধারা নির্ভর করছে আজকের শিশুর ওপর। শিক্ষা প্রতিটি শিশুর জন্মগত মৌলিক অধিকার। আর প্রাথমিক শিক্ষা হচ্ছে শিক্ষার প্রারম্ভিক স্তর। বাংলাদেশের সংবিধানসহ আন্তর্জাতিক সনদসমূহেও এ বিষয়টি স্বীকৃত। শিক্ষা সম্পর্কে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে ১৭নং অনুচ্ছেদে সবার জন্য একই পদ্ধতির গণমুখী ও সার্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এবং সব শিশুর জন্য অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার ব্যবস্থা করতে রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার কথা বলা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ১৯৯০ সালে আইন প্রণয়ন করে বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হয় এবং ১৯৯৩ সালের জানুয়ারি থেকে এ আইন পুরোপুরি কার্যকর করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষাকে যুগোপযোগী ও মানসম্মত করার লক্ষ্যে বিগত দশকসমূহে সরকার যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সেগুলোর মধ্যে- ২০০৩ সালের পৃথক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা, অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা, শিশুদের জন্য বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ করার ব্যবস্থা, দরিদ্র সুবিধাবঞ্চিত পরিবারে শিশুদের জন্য সরকার ২০০০ সাল হতে ২০০১ সাল পর্যন্ত শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি গ্রহণ ও ২০০২ সাল হতে শিক্ষার বিষয়ে উপবৃত্তি কর্মসূচি কার্যক্রম বাস্তবায়ন, নারী শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ৬০% কোটা প্রবর্তন, দ্বিতীয়-তৃতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতে শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে একাডেমিক সহায়তা প্রদানের জন্য উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা রিসোর্স সেন্টার প্রতিষ্ঠা (ইউআরসি) করা অন্যতম।

বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে শতভাগ ভর্তি নিশ্চিতকরণ, একীভূত শিক্ষা ও প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালুকরণ, ২০১১ সাল হতে সম্পূর্ণ নতুন পাঠ্যপুস্তক বিনামূল্যে শিক্ষা-বছরের প্রথম দিনই ‘বই উৎসব’ এর মাধ্যমে তুলে দেয়া, নতুন ভবন নির্মাণ, পুনঃনির্মাণ, সংস্কার, নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা, স্যানিটেশন ও ওয়াশব্লক স্থাপনসহ অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন সাধন এবং আরও নতুন নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য প্রাথমিক শিক্ষক ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আইসিটি বেইজড বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পর্যায়ক্রমে ল্যাপটপ ও মাল্টিমিডিয়া প্রদান করা হচ্ছে, পাশাপাশি ইন্টারনেট সংযোগ করে আইসিটি বেইজড শ্রেণীকক্ষ চালু করার উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতি বছর প্রাথমিক শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখার জন্য শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও কর্মকর্তাসহ তেরোটি ক্ষেত্রে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক’ প্রদান করা হচ্ছে। শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের কাজের স্বীকৃতি প্রদানের জন্য বৈদেশিক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা-সফরের সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতের জন্য চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন কাজ চলমান আছে। প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে বর্তমান সরকারের ইতিবাচক মনোভাবের কোনো কমতি নেই।

বৈষম্যহীন, মানসম্মত ও একীভূত প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনে সরকারের নিরলস প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দর্শন, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয়, ন্যায়ভ্রষ্টতার আধিপত্য, অঙ্গীকার রক্ষায় সদিচ্ছার অভাব- ইত্যাদি কারণে স্বাধীনতার এত বছর পরও এদেশে তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণে যেসব প্রাথমিক বিদ্যালয় কাজ করছে তার মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নব্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (সাবেক নিবন্ধনকৃত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, অনিবন্ধিত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়), হাইস্কুল সংযুক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিটিআই সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয়, ইবতেদায়ী মাদরাসা, হাই মাদরাসা সংযুক্ত ইবতেদায়ী মাদরাসা, কিন্ডারগার্টেন, এনজিও পরিচালিত প্রাথমিক বিদ্যালয়, আনন্দ স্কুল, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল অন্যতম। এছাড়াও আছে মক্তব, কওমি শিক্ষা, গ্রামভিত্তিক শিক্ষা ইত্যাদি। এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষাক্রমও ভিন্ন ভিন্ন; পাশাপাশি শিক্ষকদের যোগ্যতা ও মান এক রকম নয়।

আমাদের প্রাথমিক শিক্ষাক্ষেত্রে আরেকটি বড় সমস্যা হলো যারা প্রাথমিক স্তরে শিক্ষকতা করতে আসেন তারা কোনোরকম পূর্বঅভিজ্ঞতা ছাড়াই শিক্ষকতা করতে আসেন। সরকারের বিভিন্ন বিভাগে (স্বাস্থ্য, কৃষি, প্রাণিসম্পদ বা যে কোনো বিভাগে টেকনিক্যাল পেশায়) চাকরি করতে হলে তাকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শিক্ষিত ও কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন হতে হয়। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ন্যূনতম প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বা ডিপ্লোমাধারী হতে হয়। প্রাথমিক শিক্ষাস্তরে শিক্ষকতা একটি জটিল পেশা সত্ত্বেও এ বিষয়ে কারিগরি জ্ঞান বা কোনোরকম পূর্বঅভিজ্ঞতা ছাড়াই শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। প্রাথমিক শিক্ষা হলো শিক্ষার মূল ভিত্তি- এ সময়টা খুবই স্পর্শকাতর। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণের অবশ্যই শিশু-মনোবিজ্ঞান ও পেড্যাগোগি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকা জরুরি।

বিগত দশকে প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহের ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধন হলেও এখনও গ্রামের অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহের অবকাঠামোগত অবস্থা ভালো নয়। অনেক বিদ্যালয়ে নেই পাকা দালান, নেই প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসবাবপত্র (চেয়ার, টেবিল, বেঞ্চ), নেই শৌচাগারের সুব্যবস্থা, নেই শিশুদের উপযোগী খেলার মাঠ, নেই পানীয় জলের সুব্যবস্থা। একটি দুই শিফটের বিদ্যালয়ে কমপক্ষে পাঁচটি কক্ষ থাকা জরুরি। একটি অফিস কক্ষ, দুইটি কক্ষ প্রাক-প্রাথমিক ও পঞ্চম শ্রেণির জন্য নির্ধারিত থাকবে, বাকি দুইটি কক্ষে প্রথম শিফটে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি এবং দ্বিতীয় শিফটে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

শহরের দুই-চারটি নামিদামি সরকারি/বেসরকারি স্কুলগুলোতে ভর্তির জন্য অভিভাবকেরা উদগ্রীব হয়ে থাকেন। এ স্কুলগুলোতে তাদের সন্তানকে ভর্তির জন্য রীতিমতো যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। আর এ স্কুলগুলো সরকারি নির্দেশ অমান্য করে প্রচুর টিউশন ফি হাতিয়ে নিচ্ছে; যার ফলে অপেক্ষাকৃত অসচ্ছল অভিভাবকরা অতিরিক্ত ও অন্যায্য আর্থিক চাপের শিকার হয়ে মানসিক কষ্টে আছেন এবং উদ্যম হারিয়ে ফেলছেন। এছাড়া এ স্কুলগুলোর ভর্তি-বাণিজ্যের অভিযোগও নেহাত কম নয়।

দেশের বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থায় পাসের হার বাড়লেও শিক্ষার্থীরা সঠিকভাবে বিকশিত হচ্ছে কিনা- এ নিয়ে মতভেদ আছে। অনেকে মনে করেন, শিক্ষার্থীরা সার্টিফিকেট অর্জন করছে ঠিকই কিন্তু নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের জায়গাটা ফাঁকাই থেকে যাচ্ছে। এ থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে দেশ ও জাতি গভীর সামাজিক সংকটের মুখে পতিত হতে পারে।

বর্তমান প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে বিভিন্ন মহলের মধ্যে দ্বিধাবিভক্তি আছে- এমনকি আমাদের নীতিনির্ধারকদের মধ্যেও। এ নিয়ে বিভিন্ন স্তরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে। তাছাড়া পঞ্চম শ্রেণির পরীক্ষা (এ বছর করোনা মহামারীর জন্য বাদ দেয়া হয়েছে) এত সমারোহে বিশ্বের খুব কম দেশেই অনুষ্ঠিত হয়- তাও উন্নত দেশে নয়। বিশেষজ্ঞগণের একাংশ মনে করেন, এ পরীক্ষার আয়োজন একদিকে শিশুদের আনন্দময় পাঠগ্রহণের পরিসরকে সংকুচিত করছে, অপরদিকে এ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে প্রাইভেট-কোচিং, গাইড ও প্রশ্নফাঁস সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠছে। আর অভিভাবকগণের উৎকণ্ঠা তো আছেই। শহরের বিত্তবান অভিভাবকের সন্তানেরা নামিদামি স্কুলে অনেক বেশি পরীক্ষার মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাস্তবতায় সঠিকভাবে গড়ে ওঠে। তাছাড়া পাঠপ্রস্তুতিতেও তারা গ্রামের শিক্ষার্থীদের তুলনায় অনেক এগিয়ে থাকে। অনেক শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মনে করেন দেশের সর্বত্র একইভাবে সুষ্ঠু পরিবেশে সমাপনী পরীক্ষা গ্রহণ এবং উত্তরপত্র যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা কঠিন। আর তা না করা গেলে সব শিক্ষার্থীর প্রতি সুবিচার করা হবে না।

সরকার প্রাথমিক শিক্ষা অবৈতনিক করলেও বাস্তবে বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যয়বহুল হয়ে গেছে। আমরা অশুভ প্রতিযোগিতায় নেমে গেছি। এখন সবাই পাস চায়, প্রকৃত জ্ঞান চায় না। শিক্ষার গুণগত মান যাই হোক না কেন সংখ্যাগত মান বৃদ্ধিতে শিক্ষাসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও সবসময় তৎপর।

প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ ও সমন্বয় করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত আদর্শ পর্যায়ে নিয়ে আসা জরুরি। বিদ্যালয়কে ভীতিকর নয়, আনন্দের জায়গায় পরিণত করতে হবে। বিদ্যালয় যেন শিশুদের কাছে স্বপ্নের ঠিকানায় পরিণত হয়। সেখানে যেন শিশুরা আনন্দঘন পরিবেশে লেখাপড়া করার সুযোগ পায়। ভাসমান শিশু, শ্রমজীবী শিশু, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু, পথশিশু, দরিদ্র পরিবারের শিশুরা সব সময়ই ঝরেপড়ার আশঙ্কার মধ্যে থাকে। এসব দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অসহায় সন্তানদের সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় এনে ঝরেপড়া রোধকল্পে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষায় একাডেমিক পড়াশোনার প্রতি গুরুত্ব কমিয়ে দেশপ্রেম, নৈতিক ও মানবিক শিক্ষার প্রতি বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিত। পাশাপাশি জীবনমুখী শিক্ষা, কর্মমুখী শিক্ষা, সৃজনশীল কাজ, দলগত কাজ, সামাজিক কার্যক্রম, সহযোগিতামূলক শিক্ষণ, দেশপ্রেমের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা, বাস্তব জীবনভিত্তিক বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের মতো বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেয়া দরকার। পোর্ট-ফলিও এবং অ্যানেকডোটাল নোটের মাধ্যমেও শিশুদের মূল্যায়নের সুযোগ রাখা উচিত। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় বা বার্ষিক পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী শারীরিক অসুস্থতা বা দুর্ঘটনাজনিত কারণে একটি বিষয়ে পরীক্ষা না দিতে পারলেই তার সমাপনী পরীক্ষা পাস বা উপরের শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই; এমনকি সে বাকি সব বিষয়ে অ+ পেলেও। কিন্তু এটি যুক্তিসঙ্গত নয়। এতে শিক্ষার্থীর একটি বছর শুধু শুধু নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণে দরিদ্র অভিভাবকরা অনেক সময় সন্তানের পড়ালেখা বন্ধ করে দেন। তাই প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে পোর্ট-ফলিও এবং অ্যানেকডোটাল নোট বাধ্যতামূলক করে কোনো শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিলে তাদের পোর্ট-ফলিও এবং অ্যানেকডোটাল নোটের মাধ্যমে মূল্যায়নের সুযোগ রাখা উচিত। কোচিং বাণিজ্য ও গাইড বইয়ের বিস্তার বন্ধের লক্ষ্যে সর্বপ্রথম অভিভাবকদের এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রত্যেক শিক্ষককে কোচিং পরিচালনা সংক্রান্ত সরকারি নীতিমালা মানতে বাধ্য করতে হবে। যারা না মানবে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষায় বর্তমানে সামষ্টিক মূল্যায়নের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। কিন্তু যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষাক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য সামষ্টিক মূল্যায়নের চেয়ে গাঠনিক, অনানুষ্ঠানিক ও ধারাবাহিক মূল্যায়নের প্রতি জোর দেয়া জরুরি শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদার বৃদ্ধির জন্য দ্রুত স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তন করা উচিত। উচ্চশিক্ষিত-মেধাবী-যোগ্য প্রার্থীদের এ পেশায় আকৃষ্ট করার জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে দেয়া উচিত। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকল্পে শিক্ষকগণের জন্য যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

[লেখক : শিক্ষা-গবেষক ও ইন্সট্রাক্টর, উপজেলা রিসোর্স সেন্টার (ইউআরসি)]

ahmsharifullah@yahoo.com

মুনীরুজ্জমান : অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতিভূ

দেশের প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী দৈনিক পত্রিকা সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খন্দকার মুনীরুজ্জামান ৭২ বছর বয়সে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন।

দেশ ও জাতির স্বার্থে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়াতে হবে

দেশ ও জাতির স্বর্থে আয়কর চলতি (২০২০-২১) করবর্ষে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়াতে হবে।

শেয়ারবাজার স্থিতিশীলতায় বিনিয়োগ আচরণের ভূমিকা

করোনাভাইরাসের বয়স প্রায় এক বছর হতে চলল, এর বিস্তার কবে থামবে তা এখনও কেউ হলফ করে বলতে পারে না।

sangbad ad

দেশটা কি মগের মুল্লুক

বিদেশে টাকা পাচার হচ্ছে এ কথাটি বহু বছর ধরে শুনছি। আমাদের দেশের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা যে বিদেশে পাচার হচ্ছে তা আদালতে প্রমাণও হয়েছে।

দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা

দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা। সংক্ষেপে আরপি সাহা। একজন সংগ্রামী, আত্মপ্রত্যয়ী মানবসেবক।

করোনাকালীন শহীদ মিলন দিবস পালন

image

২০২০ সালের ২৭ নভেম্বর সারাবিশ্ব যখন করোনা মহামারীর ভয়াল গ্রাসে বিপর্যস্ত, হঠাৎ করে ২০১৩-১৪ সালের ন্যায় ঢাকা শহরে আবারও অগ্নিসন্ত্রাস, করোনার আঘাতে বাংলাদেশে ১০৫ জন চিকিৎসকসহ প্রায় সাড়ে হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে, তেমনি সময়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বিএমএ এর তৎকালীন যুগ্ম-সম্পাদক শহীদ ডা. সামসুল আলম মিলনের শাহাদাতবার্ষিকী পালিত হচ্ছে।

ম্রো পল্লী এবং পাঁচতারা হোটেল

আমাদের সবার ভেতরেই প্রকৃতির জন্য এক ধরনের ভালোবাসা আছে। আমরা সবাই মনে মনে স্বপ্ন দেখি আমরা কোন একদিন একটা গহীন গ্রামে ফিরে যাব।

তিতুমীর : ব্রিটিশবিরোধী প্রথম বাঙালি শহীদ

image

মীর নিশার আলি, যিনি তিতুমীর নামে সবার কাছে পরিচিত। ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সফল কৃষকরা প্রতিরোধ গড়বার ক্ষেত্রে যাকে আদিপুরুষ বলে মর্যাদা দেয়া হয়, তার জন্ম আজকের উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার চাঁদপুর গ্রামে। সেটি বসিরহাট মহকুমার একটি গ্রাম।

লবণাক্ত ও খরাপ্রবণ অঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি ডাল চাষে সাফল্য

বাংলাদেশের মোট স্থলভাগের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই উপকূলীয়; যার আয়তন প্রায় ৮৭ হাজার ২১১ বর্গকিলোমিটার এবং এ উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ৫৩ শতাংশই লবণাক্ত।

sangbad ad