• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯

 

রাজনীতির পথে প্রান্তে

রাজনীতিকে নোংরামির পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার দক্ষ এ দুই খেলোয়াড়

ফকীর আবদুর রাজ্জাক

নিউজ আপলোড : ঢাকা , শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০১৯

রাজনীতিতে সর্বকালেই দুষ্টু গ্রহণের আবির্ভাব হয়েছে। তারা রাজনীতির মতো সুন্দর ও সম্ভাবনাময় অঙ্গনকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, নোংরা করেছে। অতীতের কথা বাদ দিলেও বর্তমানকালের বিষয় নিয়েই আলোচনা করা যায়। ড. কামাল হোসেন ও জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রাজনীতির নামে যা করছেন তাকে নোংরামি না বলে আর কী বলা যায়। যার পায়ের নখ থেকে মাথার চুল পর্যন্ত আওয়ামী লীগই ছিল একমাত্র পরিচয়, তিনিই কিনা এক সময় আওয়ামী লীগ ছেড়ে প্রথমে নির্দলীয় পরে গণফোরাম নামে নতুন দল গঠন করেন। এ পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। কিন্তু একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি ঐক্যফ্রন্টের নামে যা যা করেছেন তার কোন সদুত্তর পাওয়া যাবে না। যিনি স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী সাম্প্রদায়িক দলের সঙ্গে কোন সম্পর্ক রাখতেন না, তিনিই কিনা ঐক্যফ্রন্টের নামে জামায়াতকে সঙ্গে রেখে বিএনপির সঙ্গে জোট গঠন করতে দ্বিধা করেননি। যতই বলুন জামায়াতের সঙ্গে জোট করিনি, বাস্তবতা হলো বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের সঙ্গেই তিনি ঐক্য গড়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। একজন প্রার্থী না জিতলেও জামায়াতের ২০ জন প্রার্থী নির্বাচন করেছিলেন। নিশ্চয়ই সেটা ছিল কামাল হোসেনের জ্ঞাতসারেই। অর্থাৎ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধাচারণ করতে গিয়ে চিহ্নিত মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির সঙ্গেও হাত মেলাতে দ্বিধা করেননি। এখানে ড. কামাল হোসেনের একটা কৃতিত্ব দিতেই হয়। একাদশ সংসদ নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে বিএনপিকে নির্বাচনে নামাতে পেরেছিলেন। যদিও নির্বাচনে তারা মাত্র ৭টি আসনে জয়ী হয়েছে, আর ঐক্যফ্রন্টের লাভ হলো- এই প্রথম তারা গণফোরামের ব্যানারে ২টি আসনে জয়ী হয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনে কারচুপি, জালিয়াতি ইত্যাদি অভিযোগ তুলে শুধু ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেই নয়, তাদের বিজয়ী প্রার্থীদের শপথ নেয়ার ওপরও কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। বিএনপি অনড় রয়েছে, কিন্তু নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গণফোরামের দুইজন সদস্য ইতোমধ্যেই শপথ নিয়েছেন। তারা দু’জনই বলেছেন, তাদের দলের প্রধানের অনুমতি নিয়েই তারা শপথ নিয়েছেন। কিন্তু শপথ নেয়ার পর দু’জনকেই ‘বেইমান’ বলে দলের পক্ষ থেকে অভিহিত করা হয়েছে। একজনকে দল থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছে। অন্যজনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত শিগগিরই আসবে। এরপর ড. কামাল রাজনৈতিক ক্লাউনের ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন। শপথ গ্রহণের ঠিক আগে তার সঙ্গে দলীয় সদস্য মোকাব্বির খান দেখা করতে গেলে তাকে ‘গেট আউট’ বলে বের করে দেন। অথচ মোকাব্বির খান স্পষ্ট বলেছেন, তিনি তার দলীয় প্রধানের অনুমতি নিয়েই শপথ নিয়েছেন। এটা কি বিএনপিকে সান্ত¡না দেয়ার উদ্দেশেই ‘গেট আউট’ বলা? সেই সঙ্গে ঐক্যফ্রন্ট ধরে রাখার কৌশল। গণফোরামের অভ্যন্তরেও ড. কামালের এ ধরনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একটি অংশ তো রীতিমতো ক্ষিপ্ত। তারপরও বাস্তবতা হলো- ড. কামাল এখন দলের ভিতর এবং জাতীয় রাজনীতিতে একটা ভালো ক্লাউনের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে নোংরা রাজনীতির খেলা খেলছেন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বেঁচে থাকা পর্যন্ত ড. কামাল হোসেন সাহস করেননি পুঁজিবাদী অর্থনীতির পক্ষে ওকালতি করতে। ’৭৫-এর ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের সময় ড. কামাল বিদেশে ছিলেন। অনেকটা নিজেকে আড়াল করে। লন্ডনে বা ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বড় বড় শহরে যখন বঙ্গবন্ধু হত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয় তখন লন্ডনে তাকে ডেকে অনুরোধ করেও ওই সব আন্দোলনে শরিক করানো যায়নি। শেখ হাসিনা বিদেশ থেকে দেশে ফেরার সময় তিনি হঠাৎ আবির্ভূত হয়ে দলের দায়িত্ব নেওয়ার ব্যাপারে দিল্লী থেকে বঙ্গবন্ধু কন্যাকে নিয়ে আসার অন্যতম একজনের ভূমিকা পালন করে অতীতের দোষ মুছে ফেলার চেষ্টা চালান। সেই থেকে যতদিন তিনি আওয়ামী লীগে ছিলেন ততদিন নানা কৌশলে বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি ঘোষণা যে ভুল ছিল এবং পশ্চিমা রাজনীতি, অর্থনীতি আঁকড়ে ধরার মধ্যেই যে দেশ ও দলের মুক্তি সেটাই দলের অভ্যন্তরে গ্রহণ করানোর চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। আসলে তিনি প্রথম থেকেই পশ্চিমা রাজনীতি, অর্থনীতির এ দেশীয় প্রতিনিধি ছিলেন। কেবল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সময় তার এই নীতি আদর্শ তুলে ধরার সাহস করেননি। নীতি, আদর্শ ও বিশ্বাসের ব্যাপারে যার এমন রাজনৈতিক চরিত্র তিনি কখনই বঙ্গবন্ধুর ন্যায় গণমানুষের নেতা হতে পারেন না। ৫০-৬০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে যিনি একবারও মানুষের ভোটে সংসদের সদস্য হতে পারেননি, একবারই কেবল বঙ্গবন্ধুর ছেড়ে দেয়া আসন থেকে জিতেছিলেন, তিনি জাতীয় নেতার মর্যাদায় কখনই উন্নীত হতে পারেন না। তাই ড. কামাল একজন নেতার চাইতে তার প্রধান পরিচয় একজন আইনজীবী হিসেবে। আন্তর্জাতিক কিছু কোম্পানির আইন উপদেষ্টা থাকার সুবাদে তিনি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত আইনজীবী হিসেবেও। কিন্তু রাজনীতির সঙ্গে সারা জীবন জড়িত থাকার পরও একজন জাতীয় নেতার পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেননি। তার মূল কারণ নীতি, আদর্শ ও বিশ্বাসের ব্যাপারে দোদুল্যমানতা। এবার ঐক্যফ্রন্টের মাধ্যমে নির্বাচন করতে গিয়ে তিনি যে চরিত্রের পরিচয় দিয়েছেন, এখনও দিয়ে চলেছেনÑ তাতে জাতীয় নেতার মর্যাদা তিনি আশা করতে পারেন না। যুদ্ধাপরাধের বিচারের ব্যাপারে এখন পর্যন্ত তার জোরালো সমর্থনসূচক বক্তব্য বা মতামত দেশের জনগণ জানতে পারেনি।

রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে জমিয়ে রেখেছেন আরেক ক্লাউন। কেউ কেউ মনে করেন তিনিই সেরা। আবার অন্য অনেকে মনে করেন জ্ঞানবুদ্ধির প্রশ্নে জেনারেল এরশাদের চাইতে ড. কামালই সেরা ক্লাউন। দেশের রাজনীতিকে সবচাইতে নোংরা করেছেন এই দু’জন। তবে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নোংরামি খুবই নিম্ন পর্যায়ের। প্রায় তিরিশ বছর আগেই সব কিছু লক্ষ্য করেই কামরুল হাসানের মতো দেশবরেণ্য চিত্রশিল্পী এরশাদের নতুন নামকরণ করেছিলেন ‘বিশ্ব বেহায়া’। সেই বিশ্ব বেহায়া এখনও টিকে আছেন তার বেহায়াগিরি চালিয়ে। জীবনের শেষপর্যায়ে এসেও তার কীর্তিকলাপ এখনও থামেনি। জাতীয় রাজনীতিতে নোংরামির চূড়ান্তে নিয়ে যাওয়ার প্রশ্নে তার অবদান কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। একদা হঠাৎ করে এক মসজিদে উপস্থিত হয়ে সবাইকে জানান দিতেনÑ আল্লাহর স্বপ্নাদেশেই তিনি এই মসজিদে এসেছেন জুমার নামাজ পড়তে।

এখন ওইসব ধর্মের নামে ভ-ামি জনগণ আর খায় না। সে কারণে ওই পথ ছেড়ে দিয়েছেন। এবার তিনি সর্বশেষ খেলায় মেতেছেন বউ আর ভাইকে নিয়ে। আগের অসংখ্য ঘটনার কথা বাদ দিলেও বর্তমানের বউ ভাইয়ের ঘটনা নিয়েই যদি আলোচনা করা যায় তাহলে দেখা যাবে দলে ও রাজনীতিতে কতবেশি নোংরামি করতে পারেন সাবেক স্বৈরশাসক। পত্র-পত্রিকাগুলো ভদ্রতা দেখিয়ে তার কীর্তিকলাপকে নাটক বলে অভিহিত করে। কিন্তু বাস্তবে কি তাই? মাত্র ১১ দিনের মাথায় ছোট ভাই গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে তার কো-চেয়ারম্যান পদ থেকে একক ক্ষমতা বলে এবং সংবিধানের দোহাই দিয়ে সরিয়ে দিয়েছিলেন এরশাদ সাহেব। কারণ তিনি দল পরিচালনায় ব্যর্থ এবং দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছিলেন। গত ২২ মার্চ হঠাৎ করে পত্রিকায় একটা প্রেসরিলিজ পাঠিয়ে তাকে সরিয়ে দেন। এ ঘটনার মাত্র ১২ দিনের মাথায় একই কায়দায় ‘সাংগঠনিক নির্দেশ’ নামে বিবৃতি পাঠিয়ে দলের কো-চেয়ারম্যান পদে পুনর্বহাল করেন। এখানেই শেষ নয়, কাদের সাহেব সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতাও ছিলেন। এরশাদ সাহেব সেটাও কেড়ে নেন। বানানো হয় উপনেতা স্ত্রী রওশন এরশাদকে। বস্তুত দলের তৃণমূল ও সচেতন কর্মীরা ধরেই নিয়েছেন এরশাদ সাহেব মানসিকভাবে অসুস্থ। তারা এটাও মনে করেন দলের সিনিয়র কিছু নেতার সিন্ডিকেট এরশাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে ওইসব উল্টা-পাল্টা কাজ করিয়েছেন। বৃহত্তর রংপুরের তৃণমূল কর্মীরা ৫ এপ্রিল পর্যন্ত আলটিমেটাম দিয়েছিলেন এরশাদকে। তাদের দাবি গোলাম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান পদে পুনর্বহাল করতে হবে। নইলে তারা বাধ্য হবে দল থেকে গণপদত্যাগ করতে। এরপর তাকে পুনর্বহাল করা হয়, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানও করা হয় এরশাদের অনুপস্থিতিতে। সর্বশেষ জেনারেল এরশাদ যাতে সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অর্থাৎ পুনর্বহাল ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে না যান সেজন্যে পালাক্রমে গুলশানের বাসার সামনে কর্মীরা পাহারা বসিয়েছেন। নোংরামি আর কাকে বলে।

জাতীয় রাজনীতির ইতিহাসে একদা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে বলা হতো সকালের কথা উনি বিকেলে ঠিক রাখলে হয়। কিন্তু তার সারা জীবনের ইতিহাসে দেখা গেছে, বিভিন্ন দলের নেতা হলেও তিনি তার সমাজবাদী নীতি থেকে সরে আসেননি। তিনি মজলুম নেতার উপাধি পেয়েছিলেন যথার্থই। কিন্তু জেনারেল এরশাদ রাজনীতিতে নামার পর থেকে শত শত বার প্রমাণিত হয়েছে তার কোন নীতির ঠিক নেই। সকালের কথা বিকেলে পাল্টাতে তার জুরি মেলা ভার। আর রাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারের জন্য চরম দক্ষিণে বা চরম বামে যেতে তার নীতিতে বাধে না। তার দল জাতীয় পার্টির একজন সাধারণ নেতাকর্মীও জানে এরশাদের এ বেলার সিদ্ধান্ত ও বেলায় বদলে যেতে পারে। গিয়েছেও অসংখ্যবার। বৃহত্তর রংপুরের এমনকি উত্তরাঞ্চলে মানুষও একদা তাকে অন্ধের মতো সমর্থন করেছিল। যে কারণে জেলে থেকেও তিনি পাঁচটি আসনে জিতে নজির দেখিয়েছিলেন। কিন্তু যতই সময় অতিক্রান্ত হয়েছে ততই তার নিজ এলাকা রংপুরের জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করেছে। এখন তো একটার বেশি আসনে দাঁড়াবার সাহসও করেন না। আর দেশব্যাপী ইমেজও এতটা হ্রাস পেয়েছে যে, জনমন থেকে তিনি এখন পরিত্যক্ত নেতা বলেই বিবেচিত। অনেকেই ভাবেন ‘বোঝা’ হিসেবে। এমন একটা নীতিভ্রষ্ট, দ্বিমুখী সাপের মতো নেতাকে কেন যে ক্ষমতাসীনরা বারবার সমাদর করেন, আগলে রাখেন তা জনগণ বুঝতে পারে না। একদা ক্ষমতায় যাওয়ার প্রশ্নে এরশাদের প্রয়োজন ছিল কিন্তু এখন তো তিনি বা তার দল বোঝা ছাড়া আর কিছুই নয়। ২০১৪-১৮ মেয়াদে এরশাদ সাহেব প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে সম্মানীভাতার বিনিময়ে চাকরি করতেন। একই সময় তিনি তার স্ত্রী রওশন এরশাদকে দিয়ে সংসদে বিরোধী দলের নেতা বানিয়ে রাজনীতি করেছেন। আর প্রধানমন্ত্রীর দূত থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রায়শই সরকারের সমালোচনা করতে ছাড়তেন না। এহেন দ্বিমুখী চরিত্র তার মজ্জায় মজ্জায়।

‘এরশাদের চরিত্র ফুলের মতো পবিত্র’Ñ এক সময় রাজনৈতিক অঙ্গনে এ কথাটা ব্যঙ্গার্থে সবার মুখে মুখে ছিল। এরশাদের একাধিক নারী সঙ্গের ব্যাপারটা দেশ-বিদেশের পত্রপত্রিকায়ই সে সময় প্রকাশ পেয়েছিল। একজন রাজনীতিক ব্যক্তি আর রাজনৈতিক জীবন অবিচ্ছিন্ন হয় না। বর্তমান কালে তেমনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেলায় বিশ্ববাসী তা লক্ষ্য করছে। দেশ, দেশের জনগণ এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মহান কর্মযজ্ঞে যিনি ব্রতী হবেন, তার ব্যক্তি ও সামগ্রিক চরিত্র হতে হবে অনুকরণীয়। নতুন প্রজন্ম ও বর্তমান নেতার চরিত্র থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে, অনুপ্রেরণা পাবে। শেরেবাংলা শহীদ সোহরাওয়ার্দী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব দেশের ইতিহাসে ছিলেন তেমন অনুস্মরণীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। আরও অনেকেই ছিলেন; কিন্তু জেনারেল এরশাদের মতো ‘ফুলের মতো পবিত্র’ চরিত্রের নেতা দেশের ইতিহাসে আর দ্বিতীয়টি ছিল না। বাঙালির দুর্ভাগ্য এহেন নেতাও প্রায় এক দশক দেশ ও জাতির মাথায় বসে খবরদারি করে গেছেন। যদিও স্বৈরশাসকের তকমা তিনি আজও মুছে ফেলতে পারেননি। জাতি আজও জানে নাÑ এমন একটা মানুষ দেশের বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী দল ও দলের নেতাদের আনুকূল্য পেয়ে আজও রাজনীতিতে জীবিত আছেন?

বস্তুত, ড. কামাল হোসেন ও জেনারেল এরশাদ আমাদের জাতীয় রাজনীতিতে দুষ্টু গ্রহের মতো আজও টিকে রয়েছে। আর সেটা সম্ভব হয়েছে বড় বড় রাজনৈতিক দলের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ক্ষমতার স্বার্থের কারণেই। এদের নীতি আর্দশ বলে কিছু নেই। ক্ষমতার লোভে এরা যে কোন নদর্মাতেও অবগাহন করতে পারেন। সাম্প্রতিককালে ড. কামাল ঐক্যফ্রন্টের নামে যা যা করেছেন এবং মুখে বঙ্গবন্ধুর কথা বলেও বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে যে উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন তাতে তার প্রতি কোন দেশপ্রেমিক সচেতন মানুষ ও নতুন প্রজন্মের সামান্য শ্রদ্ধাবোধই আর নেই। আর এইচএম এরশাদ তো পুরনো সেয়ানা খেলোয়াড়। কিন্তু বার বার তার নোংরা খেলা জনগণের সামনে উলঙ্গ হয়ে ধরা পড়েছে। কোনদিনও রাজনীতিক হিসেবে তার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ কারও ছিল না। আর এখন তো শেষ সময়। নব্বইয়ের কোঠায় বয়স। ড. কামালেরও আশি পেরিয়েছে। তাদের এই শেষ সময়ে দেশ ও জাতির জন্য ভালো কিছু করার সময় নেই। রাজনৈতিক অঙ্গনকে সুন্দর করার প্রয়োজনে তাদের নোংরামির রাজনীতি বন্ধ হলেই জাতি বেশি উপকৃত হবে। দু’জনের কাছে এটাই জনগণের প্রত্যাশা।

[লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট]

দৈনিক সংবাদ : ১৩ এপ্রিল ২০১৯, শনিবার, ৬ এর পাতায় প্রকাশিত

ক্ষমার অযোগ্য বর্বরতা

বরগুনায় রিফাত নামের এক যুবককে নয়ন বন্ডের নেতৃত্বে এক দল সন্ত্রাসী প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

বাজেটের চাপের মধ্যেই থেকে গেল মধ্যবিত্ত

প্রতি বছরই রাষ্ট্র পরিচালনা ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে বাজেট ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে উন্নত দেশের স্বপ্ন সোপানে। আর এ স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্য নিয়ে প্রতি বছরই বড় হচ্ছে বাজেটের আকার। বাস্তবায়ন হচ্ছে,

রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নিয়ে বিদেশে প্রথম পা

১৮ সালেই বার্সেলোনা ভ্রমণের পর রাষ্ট্রীয় কাজে একবার জাপানও গিয়েছিলাম।

sangbad ad

ডিজিটাল বিপ্লবীদের দেশে

২০১৯ সালের স্পেনের বার্সিলোনায় আয়োজিত বিশ্ব মোবাইল কংগ্রেসের ৮ নাম্বার হলে আমাদের এক টুকরো বাংলাদেশ-রিভ সিস্টেমের

কৃষকের ধান ক্রয় নাকি চাল রফতানি?

গত সপ্তাহে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের টক-শোতে একজন সরকারি অর্থনীতিবিদের কথা শুনছিলাম। সরকারি বলছি এ কারণে যে তিনি

আসন্ন বাজেট : উন্নয়ন ও পাবনা

২০১৯-২০২০ সালের বাজেট আসন্ন জুনের অধিবেশনে পাস করা হবে এবং জুলাই থেকে তা কার্যকরী হওয়ার কথা। এ কথা ভাবাই যায়, খসড়া বাজেট প্রণয়ন কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে এবং এখন হয়তো তার ঝাড়াই-বাছাই চলছে।

নাটকের নাম ‘আমি’

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সাহিত্য অঙ্গনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বিকশিত শিল্প হচ্ছে নাটক। টিকিট করে নাটক দেখা শুরু হয় স্বাধীনতা

অনেক নাটকীয়তার পরে অবশেষে শপথ

রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশকিছু ওলোট-পালটের ঘটনা ঘটছে। শিগগিরই আরও কিছু ঘটবে বলে মনে হচ্ছে। মারাত্মকভাবে হতাশায় নিমজ্জিত দলগুলোতেই

প্রবৃদ্ধিকে টেকসই করতে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে হবে

image

চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের দেশজ উৎপাদন জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৮.১৩ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে সরকার। অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল মঙ্গলবার

sangbad ad