• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯

 

মৃত্যুর সঙ্গে কোলাকুলি, জীবনের সঙ্গে পাঞ্জা

রণেশ মৈত্র

নিউজ আপলোড : ঢাকা , সোমবার, ১১ মার্চ ২০১৯

জীবনে বেঁচে থাকাটাই যেন এক যুদ্ধ; বাস্তবে তা এক মহাযুদ্ধ। বলা নেই কওয়া নেই রোগ-বিরোগ নেই- দিব্যি ঢলে পড়তে হচ্ছে মৃত্যুর হিমশীতল কোলে। সবাই আমরা ওই বহু-ব্যবহৃত প্রবাদ বাক্যটি জানিÑ ‘জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা কবে?’ তার চাইতেও উৎকৃষ্ট চরণ হলো- ‘মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে।’ বাঁচতে চাই সবাই মিলে এটাও সত্য মহাসত্য। কিন্তু তার নিশ্চয়তা বড়ই দুর্লভ।

এই তো সেদিন, বলা নেই কওয়া নেই হারিয়ে গেল ৭০ এর অধিক তরতাজা নিরাপরাধ নারী-পুরুষ-শিশু ঢাকার অভিশপ্ত চকবাজারে। রাতও তো বেশি নয়, মাত্র দশটা। কোথা থেকে কি হলো আজও তা স্পষ্ট হয়নি কিন্তু বাড়িগুলো নিমেষেই হারিয়ে গেল। আগে থেকেও তারা কেউই জানতে পারেনি তারা আগুনের লেলিহান শিখায় জ্বলে পুড়ে মরবে।

জানি না সে রাত্রে ওই অভিশপ্ত ভবনগুলোর বাসিন্দারা রাতের খাবার খেতে পেরেছিলেন কিনা, কেউ তখন গল্পগুজবে বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে ডিনার টেবিলে খেতে বসেছিলেন কিনাÑ জানি না ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা রাতের পড়াশুনা শেষ করে ঘুমাতে গিয়েছিল কিনা; খবর পাইনি বাইরে কর্মরতও যারা ছিলেন আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে বাইরে থেকে তারা কেউ ছুটে আসতে পেরেছিলেন কিনা।

জানি না ঘটনার সময় দলে বলে ভাইবোন, স্বামী-স্ত্রী বা বন্ধুবান্ধব বসে টেলিভিশনে কোন সিরিয়াল, কোন নাটক বা দেশ-বিদেশের কোন শহরে চলমান ক্রিকেট বা ফুটবল বা অন্য কোন খেলায় বুঁদ হয়ে একাগ্রচিত্তে দেখছিলেন কিনা- কেউ পরীক্ষার প্রস্তুতি পাঠ নিয়ে ব্যস্ত ছিল না, কোন দম্পত্তি বিছানায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন কিনা?

এর সবই হয়তো হচ্ছিল, নয়তো কিছু কিছু যে হচ্ছিলই তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ থাকার কোন কারণ নেই। কিন্তু তাতে বাদসাধলো আগুন। সর্বগ্রাসী আগুনের লেলিহান শিখা ছারখার করে দিল সবকিছু, বিকট আওয়াজে কেউ কারও আর্তনাদও শুনতে পেরেছে কিনা, নিজে আর্তনাদ করতে করতেই অঙ্গারে পরিণত হলো। নাড়ির স্পন্দন থেমে গেল। অনেককে চিহ্নিত করা গেলেও বেশ কিছু কংকাল বা মৃতদেহকে চিহ্নিত করতে না পারায় দাবিদারদের ডিএনএ পরীক্ষার আয়োজন করতে হয়েছে। রোজই একজন দু’জন করে চিকিৎসাধীন আহত রোগীর মৃত্যু ঘটছে। দুঃসহ যন্ত্রণায় ভুগছে আরও অনেকেই।

এতগুলো প্রাণের মানুষের মৃত্যু বস্তুতই কি অবধারিত ছিল? কোনভাবেই কি তা প্রতিরোধ সম্ভবপর ছিল না? জানি, এর উত্তরে সবাই বলবেন, অবশ্যই সম্ভব ছিল। বাঁচানো যেত যদি সরকার প্রশাসন নিষ্ঠাবান হতো, যদি তারা দীর্ঘ দশ বছর আগে নিমতলীতে ঘটা আরও বেশিসংখ্যক মানুষের অনুরূপ ঘটনায় মৃত্যু থেকে শিক্ষা নেয়া হতো। তখনকার গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশগুলোকে যদি সময়মতো যথাযথভাবে কার্যকর করা হতো।

কিন্তু সরকার ওই সুপারিশ মালাকে কোন অংশই কার্যকর করল না। উল্টো দুজনকে নির্দোষ প্রমাণের ঘৃণ্য চেষ্টায় লিপ্ত হলেন। ওই সময়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর এবং দ্বিতীয় সাবেক মন্ত্রীরও তার চাইতেও কম ছিল না, তা মানতে কেউই যেন রাজি নন। এই দায়ীদের মনে আদৌ কোন অনুশোচনাও নেই।

বিশাল পদ সিটি কর্পোরেশনের মেয়রেরও। তিনিও দিব্যি ঘুমিয়ে ছিলেন। শীত শেষের রাতে জ্বলন্ত চকবাজারের লেলিহান অগ্নিশিখার উত্তাপে হয়তো বা ওম হওয়াতে দিব্যি তিনি আরামে নিদ্রামগ্ন হয়েছিলেন।

মন্ত্রণালয়ের সচিবেরা? অপরাপর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কর্মচারীরা? গণমাধ্যমের সামনে তারা কেউ না আসায় তাদের বক্তব্য জানাই গেল না। কিন্তু দায়দায়িত্ব ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত সবার উপরেই বর্তাবে, বর্তাতে বাধ্য।

প্রয়োজন জবাবদিহিতার কঠোর জবাবদিহিতা। কারণ দেশটা দিনে দিনে পরিণত হয়েছে ‘যা খুশি তাই করার দেশে।’ এমন দেশে প্রকাশ্যে কেমিক্যাল আমদানি হয় তা গুদামজাত হয় আরও নানাবিধ দাহ্য পদার্থ তৈরি বা আমদানি হয়ে আসে এবং পাশাপাশি গুদামজাত হয়। পরিণতি স্বরূপ যা ঘটে তা আমরা দেখলাম নিমতলীতে ১০ বছর আগে তার পুনরাবৃত্তিও দেখলাম ২০১৯ সালের শুরুতেই। আবার যে কেউ দেখবে না আর একটি চকবাজার বা নিমতলী ঘটতে তার নিশ্চয়তা কেউই দেবে না দিলেও সেটা স্রেফ মনভুলানো ব্যাপারই মাত্র।

উচ্চ আদালতে কতগুলো নির্দেশনা চেয়ে রিট দায়ের হয়েছে কয়েকটা নানাবিধ নির্দেশনাও আসবে ধারণা করি। অতীতেও এসেছে নিমতলী বা চকবাজারের নির্মম হত্যালীলা ছাড়াও অনেক ব্যাপারে মাননীয় বিচারকেরা নির্দেশ দিয়েছেন অসংখ্য। সবই জনস্বার্থে। এ নির্দেশ নির্দেশনা গত দশ বছরে আমাদের হাইকোর্ট সুপ্রিমকোর্ট কতগুলো দিয়েছে তার সবই যদি গ্রন্থীভূত করা যায়, তবে হয়তো এক হালি রামায়ণ আর এক হালি মহাভারতের সমান আকার ধারণ করবে। কিন্তু তার কতটুকু কার্যকর করা হয়েছে? যা করা হয়েছে তাকে স্বাগত কিন্তু যা করা হয় করা হচ্ছে না অগ্রাধিকার তালিকায় সেগুলো রাখা হলো না। চূড়ান্ত অবহেলায় ফেলে রাখা হলো সেগুলো কার বা কাদের নির্দেশে? যাদের নির্দেশে যাদের অবহেলায় এই উচ্চ আদালতের নির্দেশাবলী ও নির্দেশনাসমূহ কার্যকর করা হলো না বা হচ্ছে না বা অবহেলায় চাতালে তুলে রাখা হয়েছে সংশ্লিষ্ট ফাইলগুলোÑ তাদের সবার বিরুদ্ধে দ্রুত আদালত অবমাননার এবং নরহত্যার দায়ে সংশ্লিষ্ট আদালতগুলোতে একাধিক মামলা দায়ের করা হোক। দ্রুত মামলাগুলোর বিচার করে তাদের অপরাধ প্রমাণিত হলে কঠোরতম শাস্তি দেয়া হোক এবং সেই রায়গুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরিপূর্ণভাবে কার্যকর করা হোক।

পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজারসহ নানা এলাকায় দুর্ঘটনা, মৃত্যু আজকের নতুন নয়। কয়েক দশক আগে থেকেই শুনছি ওই এলাকার সব কিছু ভেঙে চুরে নতুন নতুন বহুতল ভবন নির্মাণ ও রাস্তাগুলো প্রশস্ত করা হবে। এগুলো তো সরকারি সিদ্ধান্ত হিসেবেই বলা হয়েছিল। কিন্তু দায়িত্ব কি কাউকে দেয়া হয়েছিল ওই সিদ্ধান্ত কার্র্যকর করার? না দেয়া হলে কেন দেয়া হলো না? কেন তা কার্যকর করা হলো না তার খোঁজখবরই বা কেন নেয়া হলো না। খোঁজখবর নিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপই বা কেন নেয়া হলো না?

আবাসিক এলাকাই হোক, অনাবাসিক এলাকাই বা বাণিজ্যিক এলাকাই হোকÑ সেগুলোতে ঢোকার, চলাফেরা করার, গাড়ি-ঘোড়া, যানবাহন চলাচল করাবার দুই ধারে ফুটপাতও থাকার ব্যবস্থা অবশ্যই করতে হবে এবং করতে হবে আধুনিক ড্রেনেজ ও পয়োঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থাও।

আধুনিক ঢাকা মহানগরী বলতে শুধু নতুন ঢাকাকেই বোঝায় না। পুরান ঢাকাই হলো আদি ঢাকা। সেটাকে অবহেলা করা আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্যকেই অস্বীকার করা বুঝায়। সুতরাং শুরু হতে যাচ্ছে এমন যে প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন কিছু দেরিতে শুরু করলেও জাতীয় স্বার্থের তেমন একটা ক্ষতি হবে না সেগুলো বাস্তবায়ন প্রয়োজন বোধে স্থগিত রেখে বরাদ্দকৃত অর্থ পুরান ঢাকার বিজ্ঞানসম্মত আধুনিকায়ন প্রকল্পে বরাদ্দ করে এ প্রকল্প বাবদ নতুন নতুন উৎসে বাজেট থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করে পুরাতন ঢাকার হাজার হাজার মানুষের জীবন ধারার উন্নয়ন সাধন করা জরুরি।

যে হারে, যেভাবে গণহারে মৃত্যু ঘটল নিমতলী ও চকবাজারে তাকে কোনভাবেই দুর্ঘটনা বলে অভিহিত করা চলবে না। স্পষ্টতই তাকে গণহত্যা বলে অভিহিত করতে হবে। সুতরাং সে দৃষ্টিতেই ঘটনাসমূহকে দেখতে ও তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

এক্ষেত্রে দলীয় বিবেচনার কোন অবকাশ নেই। যারাই দায়ী হোন তিনি বা তারা যে দলের কর্মী বা নেতাই হোন প্রশাসনের উঁচু বা নিচু যে পদেই অধিষ্ঠিত থাকুন বা কেন অথবা অবসরে গিয়ে থাকলেও দ্বিধাহীনভাবে তাদের অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

এই দুটি ঘটনাই তো শুধু নয়। দেশজুড়ে প্রতিদিন যে অসংখ্য মানুষ-শিশুর প্রাণ কেড়ে নেয়া হচ্ছে তার কোন বিচার সমগ্র দেশবাসী চাওয়া সত্ত্বেও আজও হলো না। এগুলোও তো গণহত্যা। এ হত্যার দায়দায়িত্ব সড়কে যানবাহনের চালকদের লাইসেন্স যারা দেন, যারা যানগুলোর ফিটনেস সার্টিফিকেট দেন যারা ‘পরিবহন মালিক শ্রমিক সমিতি’ নামে সংগঠন করেন ও তার নেতৃত্বে অবস্থান করে যাত্রী স্বার্থবিরোধী ভূমিকা অবলম্বন করে হত্যাকারীদের পক্ষাবলম্বন করেন তারাও অবশ্যই এ দৈনন্দিন হত্যালীলার দায়িত্ব নিজ নিজ কাঁধে না নিয়ে তাকে অস্বীকার করে নিজ নিজ দায়িত্ব অবহেলা করতে পারেন না। করলেও তার উপযুক্ত শাস্তির হাত থেকে রেহ্ইা পেতে পারেন না।

এই আমরাই তো মহাদুঃখে বলে থাকি ‘সব সম্ভবের দেশ বাংলাদেশ’। বলি ‘এদেশে জন্মে পদাঘাতই শুধু পেলাম সেলাম তোমাকে সেলাম।’ আসলে দেশটা যদি দেশের মানুষের স্বার্থে চলত, মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী হতো, তবে তো মানুষকে এমন কথা বলতে হতো না। তাই দেশটাকে খুনিদের হাতে না রেখে মানুষের স্বার্থের রক্ষকদের হাতে ফিরিয়ে আনতে হবে। প্রশাসন থেকে মানুষের স্বার্থ বিরোধীদের বাদ দিলে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করার মধ্যেই নিহিত আছে। দেশটাকে মানুষের স্বার্থে কাজ করার পথে ফিরিয়ে আনার কাজ। এ কাজে ব্যর্থ হওয়া চলবে না। এ এক লড়াই, প্রচন্ড লড়াই এবং এ লাড়াই এ জিততে হবে জিততেই হবে যদি আমরা মানুষ বাচাতে চাই।

‘সড়ক দুর্ঘটনা’ অভিধায় অভিহিত হয়েছে সড়কে গণহত্যা বা মানবহত্যা। সম্প্রতি বহুল প্রচারিত দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনে শেষ পৃষ্ঠায় তিন কলাম শিরোনামে লেখা হয়েছেÑ ‘ট্রাক মসজিদে, বাসের নিচে প্রাইভেট কার।’ কী মর্মান্তিক কী অমানুষিক সড়ক নিরাপত্তা বা সড়ক নৈরাজ্যের আধুনিকতম প্রকৃষ্ট উদাহরণ একটি। ওই খবরে বলা হয়েছে, ‘চট্টগ্রামে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাক মসজিদে ঢুকে গেলে তার চাপায় নিহত হয়েছেন প্রাইভেট কারযাত্রী দুই চিকিৎসকসহ তিনজন। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে দুই বাসের চাপায় মারা গেছেন এক যুবক। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে সড়ক ‘দুর্ঘটনায়’ মারা গেছেন আরও আটক। এগুলো এক দিনের ঘটনা। ঘটনা এমনই যে, তা নিত্যদিন ঘটছে ঘটেই চলেছে। রীতিমতো ভাড়ার টাকা গুনে বাসে-ট্রাকে কারে উঠে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে চলন্ত গাড়িতে শ্রেফ চালকের অথবা খুতসম্পন্ন গাড়ি হলে মালিকের অভিমুনাফা লোভের এবং বিটিআরসি নামক কুখ্যাত সরকারি প্রতিষ্ঠানের ঘুষখোর কর্মকর্তাদের দেয়া ফিটনেস সার্টিফিকেটের কল্যাণে তথাকথিত ওই দুর্ঘটনাগুলো সমগ্র বাংলাদেশে প্রতিদিন ঘটছে। কিন্তু দেখার কেউ নেই। কারণ যে সরিষা দিয়ে ভূত ছাড়ানো হবে, সেই সরিষাতেই ভূত। আর তাদের লালসা চারিতার্থ করতে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি।

ছাত্র-তরুণেরা গত বছর আন্দোলন করেছিলেন সড়কে শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে। তাদের অনেকের হাতে ছিল বাঁশের সরু লাঠি। কিন্তু ঐ লাঠি অস্ত্রে পরিণত হয়নি। তার চলমান গাড়িগুলো রাস্তার ধারে এনে চালকদের লাইসেন্স ও যানগুলোর ফিটনেস সার্টিফিকেট পরীক্ষা করলেন কয়েক সপ্তাহ যাবত। ত্রুটিপূর্ণ কাগজপত্র বা কাগজপত্রহীন কাউকে পেলে সে গাড়িগুলো যাত্রীসহ পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে আইনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে। এভাবে অনেক গাড়ি বাজেয়াফত হলো অনেক ড্রাইভার শাস্তি পেল। বহুলাংশে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে এলো ঢাকা শহরে। মানুষ তাদের অভিনন্দন জানাল প্রধানমন্ত্রীও জানালেন কিন্তু তার পরপরই নিরাপদ সড়ক আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার নির্যাতন করা শুরু হলো। একপর্যায়ে ওই আন্দোলন প্রত্যাহত হলো এবং মাত্র ২-৩ মাস যেতে না যেতেই রাজধানীর সড়কগুলোর চেহারা পূর্বাবস্থায় ফিরে এলো, যেন সেটাই কর্তাব্যক্তিদের কাম্য।

সরকার একটি ঢাউস কমিটি গঠন করেছেন সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর কারণ র্নিধারণ করে তার সমাধানের পথ বাতানোর জন্য। তার প্রধান বানানো একজন বিতর্কিত মন্ত্রী সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিকদের নেতা হওয়ায় ‘পরিবহন মালিক শ্রমিক সমিতির’ স্থায়ী সভাপতিকে। ফলটা হলো এসব অপরাধীই স্বস্তি পেল আর পেল তাদের নিরাপত্তার গ্যারান্টি। আর যাত্রী সাধারণ? তারা ভাড়াও দেবেন জীবনও দেবেন। ব্যস খেল খতম।

আর কতকাল চলবে এই দুঃসহ অবস্থা? এমন প্রাণঘাতী নৈরাজ্য? এর শেষই বা কোথায় এবং কখন ও কিভাবে, তা আমরা কেউই জানি না।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কথা শুনছি অনেক দিন হলো। শুনছি না শুধু দেখছিও। নানাক্ষেত্রে তা করাও হয়েছে এবং হচ্ছে। দেশবাসী তার সুফলও পেতে শুরু করেছে সন্দেহ নেই। কিন্তু এই যে একটি সেক্টর, বিশাল নেটওয়ার্কে বিস্তৃত সেক্টরটিকে জনবান্ধব করতে হলে তার অন্যতম পূর্বশর্ত হলো রাজপথগুলোতে দিবারাত্র যানবাহনের অবাধ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে তারও ডিজিটালাইজেশন। নতুবা এর নিয়ন্ত্রণ আজ অসম্ভব হয়ে পড়েছে। রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে নারী-পুরুষ পুলিশদের লাঠি হাতে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে দাঁড়িয়ে থাকার দরকার নেই বরং লালবাতি-নীলবাতি-হলুদবাতিই পারে বহুলাংশে শৃঙ্খলা আনতে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাতে যানজট হবে সত্য কিন্তু দুর্ঘটনা ও মৃত্যু অনেকাংশে হ্রাস পাবে; মানুষের মনে নিরাপত্তাবোধ জাগ্রত হবে। তার সঙ্গে প্রয়োজন সড়কগুলো সম্প্রসারণ, বিটিআরসির অসৎ কর্মকর্তাদের শাস্তি; শাস্তি হোক লোভাতুর পরিবহন মালিক শ্রমিক সমিতির এবং অশিক্ষিত, স্বল্প প্রশিক্ষিত, অভিজ্ঞতাবিহীন চূড়ান্ত লক্ষ্য হোক মানুষ বাঁচানোর।

[লেখক : সভাপতিমন্ডলীর সদস্য, ঐক্য ন্যাপ]
raneshmaitra@gmail.com
সাংবাদিকতায় একুশে পদকপ্রাপ্ত।

দৈনিক সংবাদ : ১১ মার্চ ২০১৯, সোমবার, ৬ এর পাতায় প্রকাশিত

আসন্ন বাজেট : উন্নয়ন ও পাবনা

২০১৯-২০২০ সালের বাজেট আসন্ন জুনের অধিবেশনে পাস করা হবে এবং জুলাই থেকে তা কার্যকরী হওয়ার কথা। এ কথা ভাবাই যায়, খসড়া বাজেট প্রণয়ন কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে এবং এখন হয়তো তার ঝাড়াই-বাছাই চলছে।

নাটকের নাম ‘আমি’

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সাহিত্য অঙ্গনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বিকশিত শিল্প হচ্ছে নাটক। টিকিট করে নাটক দেখা শুরু হয় স্বাধীনতা

অনেক নাটকীয়তার পরে অবশেষে শপথ

রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশকিছু ওলোট-পালটের ঘটনা ঘটছে। শিগগিরই আরও কিছু ঘটবে বলে মনে হচ্ছে। মারাত্মকভাবে হতাশায় নিমজ্জিত দলগুলোতেই

sangbad ad

প্রবৃদ্ধিকে টেকসই করতে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে হবে

image

চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের দেশজ উৎপাদন জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৮.১৩ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে সরকার। অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল মঙ্গলবার

বিধ্বংসী আত্মঘাতী বোমা

ইস্টার সানডেতে শ্রীলঙ্কার তিনটি গির্জা, তিনটি অভিজাত হোটেল ও দুটি জনবহুল স্থানে সিরিজ বোমা হামলায় এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে

হতাশায় নিমজ্জিত সরকারবিরোধী দল এ অবস্থা চিরস্থায়ী হতে পারে না

রাজনীতির সঙ্গেই ‘উত্থান-পতন’ শব্দটা জড়িত। একটার থেকে অন্যটা আলাদা করা যায় না। রাজনীতিকদের জীবনেও

ডিজিটাল বিপ্লবীদের দেশে

২০১৯ সালের বিশ্ব মোবাইল কংগ্রেসে ৮ নাম্বার হলে আমাদের এক টুকরো বাংলাদেশ দেখতে রিভ সিস্টেম দেখতে যাবার পথে হঠাৎ একটি বাক্য দেখে

দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজন জাতীয় বিল্ডিং কোডের যথাযথ বাস্তবায়ন

অগ্নিদুর্ঘটনা পিছু ছাড়ছে না রাজধানী ঢাকার। মাত্র ৩৭ দিনের ব্যবধানে রাজধানী ঢাকায় ঘটল আরেকটি বিভীষিকাময় আগ্নিকান্ড। গত ২০

রাজনীতিকে নোংরামির পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার দক্ষ এ দুই খেলোয়াড়

রাজনীতিতে সর্বকালেই দুষ্টু গ্রহণের আবির্ভাব হয়েছে। তারা রাজনীতির মতো সুন্দর ও সম্ভাবনাময় অঙ্গনকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, নোংরা করেছে।

sangbad ad