• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯

 

মানসম্মত শিক্ষার চ্যালেঞ্জগুলো

শরীফুর রহমান আদিল

নিউজ আপলোড : ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৪ মার্চ ২০১৯

বাংলাদেশ দিন দিন উন্নত হচ্ছে এবং বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। কিন্তু একইসঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষার মানে দিন দিন অবনতি ঘটছে এবং বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্বাধীনতার পর থেকে সব সেক্টরে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও একমাত্র শিক্ষা ক্ষেত্রে পড়েনি উন্নয়নের ছোঁয়া। বাজেটে কমছে শিক্ষাক্ষেত্রে বরাদ্দ। ভারকি ফাউন্ডেশনের প্রায় সব প্রতিবেদনে বাংলাদেশের শিক্ষা ও শিক্ষকের মান সূচকের নিম্নমুখী। এছাড়াও ফাউন্ডেশনস অব ওয়েলবিইং ডাইমেনশনসের প্রকাশিত জরিপ অনুযায়ী শিক্ষার ক্ষেত্রে ১৩৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১১৮! অর্থাৎ, শিক্ষাক্ষেত্রে সরকার কিছু পদক্ষেপ নিলেও বাংলাদেশ বৈশ্ব্যিক সূচকের দিকে এখনও পিছিয়ে। সুতরাং আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় চ্যালেঞ্জগুলো খুঁজে বের করে তা সমাধানে রূপকল্প ঘোষণা করতে হবে। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে কিংবা মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করে সূচকে অগ্রগামী হতে হলে নিম্নোক্ত বিষয়াবলীর প্রতি অবশ্যই নজর দিতে হবে।

শিক্ষায় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ রাখা : শিক্ষায় অপ্রতুল বাজেট আমাদের শিক্ষার মানকে নিম্ন পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে। বিগত বাজেটগুলো বিশ্লেষণ করলে শিক্ষাখাতে নিম্নমুখী বাজেট প্রমাণিত হয়। বাজেটের আকার দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে কিন্তু সেহিসেবে শিক্ষাখাতে বাজেট বৃদ্ধি পাচ্ছে না, টাকার অংকে কিছু টাকা বাড়লেও জাতীয় বাজেটের শতকরা হিসাব করলে এটাকে হ্রাসই বলা যুক্তিসঙ্গত। যেমন- ২০১০-১১ বাজেটে শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪.২ শতাংশ কিন্তু পরের বাজেটগুলোতে তা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়ে হয়েছে যথাক্রমে ১২.৪, ১১.৫ ও ১১.৪ শতাংশ। ২০১৭-২০১৮ বাজেটে এখাতে কিছুটা বৃদ্ধি পেয়ে ১২.৬ শতাংশ করলেও কিন্তু ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ কমে তা দাঁড়ায় বরাদ্দ ১১.৪১ শতাংশে। শিক্ষায় মনোন্নয়ন করতে হলে শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে ২৩ শতাংশ বাজেট এখাতে নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়াও বাংলাদেশকে তার জিডিপির ৬ শতাংশ শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যয় করতে হবে বর্তমানে বাংলাদেশ জিডিপির ২ শতাংশ শিক্ষাখাতে খরচ করে। অথচ সামরিক খাতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া আমেরিকা শিক্ষাখাতে মোট জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয় করে।

শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ : দেশের সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে হবে। এমপিওভুক্ত বলে কোন প্রতিষ্ঠান থাকবে না দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আলোকে জাতীয়করণ করতে হবে। এবং প্রয়োজনে সরকার আরও কিছু প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলার উদ্যোগ নিতে পারে আর না পারলে তাতে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। এক কথায় দেশে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা হবে শতকরা ৭০ শতাংশ আর সম্পূর্ণ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হবে ৩০ শতাংশ। আর এটি বাস্তবায়নে সরকার রূপকল্প গ্রহণ করতে হবে।

সবার জন্য সরকারি শিক্ষা নিশ্চিতকরণ : স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্ষন্ত সরকারি কলেজ হয়েছে মাত্র ৭০০টি! আর এসব প্রতিষ্ঠানের সবগুলোই শহরকেন্দ্রিক। ফলে গ্রাম কিংবা তৃণমূল পর্যায়ে এ সেবা পেতে পারছেনা দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের। সবার জন্য শিক্ষা স্লোগান বাস্তবায়নের পথে থাকলেও সবার জন্য সরকারি কিংবা কমখরচে শিক্ষা নিশ্চিত করা যায়নি। জনগণের দোরগোড়ায় অন্যান্য সরকারি সেবা যেভাবে মানুষ ভোগ করছে সেভাবে গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষ ও তাদের সন্তানদের জন্য সরকারি শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে ধনীদের জন্য উচ্চমানের শিক্ষা, গরিবের জন্য নি¤œমানের শিক্ষা এই বৈষম্য প্রকট হচ্ছে সঙ্গে সঙ্গে ধনীরা আরও ধনী হচ্ছে আর গরিবরা উচ্চশিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারছে না।

শিক্ষক নিয়োগে ১ম শ্রেণী নির্ধারণ : শিক্ষাক্ষেত্রে মান নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষার কোন স্তরে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে তৃতীয় শ্রেণী তুলে দিতে হবে। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাথমিক শিক্ষায় ২য় শ্রেণী ও মাধ্যমিকে একটি ২য় শ্রেণী ৩টি প্রথম শ্রেণী করা একইসঙ্গে এ দুটি স্তরের কোন ক্ষেত্রেই মাস্টার্স পাসের কম কোন প্রার্থীকে আবেদনের সুযোগ না দেয়া। এছাড়া উচ্চ মাধ্যমিকের জন্য শিক্ষক নিয়োগে সব স্তরে ১ম শ্রেণী বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। সঙ্গে সঙ্গে সহকারী, সহযোগী অধ্যাপক, ভাইস প্রিন্সিপাল ও প্রিন্সিপাল পদে নিয়োগ কিংবা পদোন্নতির জন্য এমফিল/পিএইচডি বাধ্যতামূলক করা এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেয়ার বিধান রাখা যুক্তিসঙ্গত হবে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক পদে আবেদনের যোগ্যতায় অবশ্যই উচ্চতর ডিগ্রি থাকার বাধ্যবাধকতার মধ্যে রাখতে হবে। শিক্ষকতা পেশায় মেধাবীদের সম্পৃক্ত করতে শিক্ষাবিদরা সবসময় সরকারের কাছে দাবি জানালেও এমপিও নীতিমালা ২০১৮ এ তৃতীয় শ্রেণীপ্রাপ্তরা শিক্ষকতার জন্য আবেদন করার সুযোগ করে দিয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থাকে সেকেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অথচ, ১৯৯২ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রণীত বিধিতে শিক্ষক নিয়োগের ন্যূনতম যোগ্যতা ছিল দ্বিতীয় শ্রেণী। ২৭ বছর পর শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রথম শ্রেণী ছাড়া ২য় শ্রেণী গ্রহণযোগ্য হওয়ার কথা নয় কিন্তু উল্টো তৃতীয় শ্রেণীকে শিক্ষক হওয়ার সুযোগ করে দিল মন্ত্রণালয়! অবিলম্বে এ নীতিমালা বাতিল করে উপরোক্ত নিয়মে নীতিমালা প্রণয়নের দাবি এখন সময়ের।

এমপিও প্রথা বন্ধ করা : এমপিওপ্রথার জন্য নন এমপিও শিক্ষকরা আন্দোলন করলেও মূলত এমপিও প্রথা শিক্ষাখাতে সবচেয়ে বাজে ও অকার্যকর পদ্ধতি এককথায় অর্থমন্ত্রীর সুরে বললে এটি একটি রাবিশ পদ্ধতি। এ পদ্ধতির মাধ্যমে মানসম্মত শিক্ষা পাওয়া অসম্ভব। কেননা, এখানে নেই বদলির ব্যবস্থা, রয়েছে অশিক্ষিত ও পেশিশক্তি ব্যবহারকারী রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের দ্বারা পরিচালনা পর্ষদ। শিক্ষকদের দলাদলি, শিক্ষক কর্তৃক রাজনৈতিক ব্যাক্তিদের তোষামোদ, বেতন, বাড়িভাড়া, ঈদ বোনাসের জন্য আন্দোলন, মূল্যহীন অভিজ্ঞতা, শিক্ষক হয়েও সেলসম্যানের রূপ ধারণ করা, এমফিল, পিএইচডিকে মূল্যায়ন না করা, প্রৌঢ়ত্বে বেকার হওয়ার ঝুঁকি, গবেষণার সুযোগ না থাক, তৃতীয় শ্রেণী প্রাপ্তদের নিয়োগ, সবই এমপিওভুক্ত শিক্ষার করুণ দশার বহির্প্রকাশ।

শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা : শিক্ষক নিয়োগে অস্বচ্চতা কোন ক্রমেই কাম্য নয়। রাজনৈতিক পরিচয়ে তুলনামূলক কম মেধাবীদের সুযোগ দেয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিবেশ মাঝেমাঝে উত্তপ্ত হওযার পেছনে এসব নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের ভূমিকা প্রমাণিত হয়েছে। সুতরাং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিবেশ সুষ্ঠু ও সুন্দর রাখার স্বার্থে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা প্রয়োজন। এছাড়াও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের জন্য গঠিত এনটিআরসিএকে আরও শক্তিশালী ও দক্ষতা সম্পন্ন করে গড়ে তুলতে হবে।

গবেষণায় বরাদ্দ : বাংলাদেশে ৪০টি সরকারি বিশ^বিদ্যালয় রয়েছে। কিন্তু এসব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়না। বলতে গেলে গবেষণাকে উৎসাহিত করতে কোন বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয় না। নামমাত্র যে বরাদ্দ রাখা হয় তাও অন্য খাতে ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া যায়। অথচ উন্নত বিশে^ সরকারি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বেসরকারিভাবে যেসব গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে সেসব প্রতিষ্ঠানকেও সরকার সহায়তা করে। গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্দি করে সরকারিভাবে বিভিন্ন পোস্ট ডক্ট্ররাল প্রতিষ্ঠান খোলা প্রয়োজন।

স্বতন্ত্র পে-কমিশন : গত ৩ বছর পূর্বে বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র পে কমিশন গঠন করার জন্য আন্দোলন করেছিলেন। ফলে শিক্ষাস্তরের বিভিন্ন কর্তাব্যক্তিদের আশ^াসে সেই আন্দোলন থেকে সরে আসে শিক্ষকরা একইসঙ্গে জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ এ শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র পে-স্কেল ও কমিশনের কথা বলা থাকলেও এখনও তা কার্যকর করা যায়নি। এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা শতভাগ বেতন পাচ্ছে সরকার থেকে। উৎসব বোনাস মাত্র ২৫%! ৮ বছর চাকরির অভিজ্ঞতার জন্য বেতন বৃদ্ধি হিসেবে পাবে মাত্র ১০০০ টাকা! আর পদোন্নতিতে রয়েছে ৫:২ অনুপাত রয়েছে। মোদ্দাকথা হলো- গ্রেড -৯ এ একজন প্রভাষক যোগদান করলে ৬০ বছর বয়সে তার বেতন হবে ২৯০০০ টাকা! অর্থাৎ, একজন শিক্ষক ৩৫ বছর চাকরি করলে তার বেতন বৃদ্ধি হবে মাত্র ৭০০০ টাকা! এ দৈন্যদশা থেকে মুক্তি দিয়ে সব স্তরের শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র পেস্কেল ঘোষণা করার উদ্যোগ নিতে হবে।

শিক্ষক সুরক্ষা আইন : শিক্ষকদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়, খুন, শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন, মতামতকে দমন প্রভৃতি এখন স্বাভাবিক ঘটনা। শিক্ষক সুরক্ষা কোন আইন না থাকার কারণে এ সম্প্রদায়ের এ করুণ পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে! বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষকদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের চিত্র, নারায়ণগঞ্জে এমপি কর্তৃক শিক্ষককে কান ধরে উঠবোস করানো, বিভিন্নস্থানে শিক্ষকদের লাশ উদ্ধারের ঘটনা থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের কি অবস্থা তা সহজেই অনুমেয়। শিক্ষকতা পেশা হিসেবে এদের মান-মর্যাদা থাকার কথা অনেক উপরে এবং এদের এ বিষয়ে সুরক্ষা পাওয়ার কথা বা এ সংক্রান্ত একটি আইন থাকার কথা কিন্তু বাংলাদেশে শিক্ষক সুরক্ষা আইন বলে কিছু নেই যেইদেশ শিশুদের ওপর অত্যাধিক গুরুত্ব আরোপ করে সেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের আইন রয়েছে। গত বছর সরকারি চাকরিজীবীদের সুরক্ষার জন্য আইন প্রণয়ণ করা হয়েছে তবে শিক্ষকদের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের জন্য টিফিনের ব্যবস্থা : প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে সরকার বিনামূলে বই বিতরণ করে প্রশংসার ভাগি হয়েছেন। প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে পড়া শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের সময়সূচি ১০:০০-৪:০০ পর্ষন্ত এছাড়াও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রাইভেট কিংবা স্পেশাল ক্লাস করতে হয়। তাই হয় বইয়ের বিদ্যালয়ের সময় পরিবর্তন করার উদ্যোগ নিতে হবে অন্যথায়, শিক্ষার্থীদের দুপুরে টিফিনের ব্যবস্থা করতে হবে। যদিও প্রাথমিকে সীমিত আকারে টিফিনের ব্যবস্থা রয়েছে তথাপি তার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বারংবার।

শিক্ষক রাজনীতি বন্ধে আইন প্রণয়ন : উন্নত বিশে^র অধিকাংশ দেশের শিক্ষকরা রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও বাংলাদেশের শিক্ষকরা রাজনীতির প্রতি অতি আগ্রহী। রাজনীতি পদে থাকা, রাজনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করা, রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আশ্রয়- প্রশ্রয় দেয়া-নেয়া, রাজনৈতিক সব কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত থাকা, পক্ষপাতিত্ব, শিক্ষকদের মধ্যে রেষারেষি প্রভৃতি এখন দেশের অধিকাংশ শিক্ষকদের মধ্যে বিরাজমান এসব থেকে পরিত্রাণ পেতে এবং শিক্ষকদের গবেষণাধর্মী মানসম্মত শিখন নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের জন্য রাজনীতিতে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করতে হবে এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্যে শাস্তির ব্যবস্থা রাখতে হবে।

শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি করা : মানসম্মত শিক্ষার অন্যতম খোরাক হলো শিক্ষক প্রশিক্ষণ। যত বেশি শিক্ষককে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা যাবে তত বেশি মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ তৈরি হবে। প্রতিটি শিক্ষককে প্রতিবছর অন্তত একটি করে প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করতে হবে। এছাড়াও দক্ষ প্রশিক্ষক তৈরি করে প্রশিক্ষণ সেন্টার বৃদ্ধি করতে হবে এবং প্রতি ৪-৫ বছর পরপর বিদেশে প্রতিটি শিক্ষককে পাঠিয়ে বিদেশি প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।

প্রয়োজনাতিরিক্ত প্রতিষ্ঠান বন্ধকরণ : সরকারের নির্দিষ্ট পলিসি, পরিকল্পনা কিংবা এ সেক্টরে কোন নিয়ন্ত্রণ না থাকায় রাজনৈতিক পরিচয়ে, যশ-খ্যাতি কিংবা সুনামের জন্য অথবা, দুর্নীতিবাজ বোর্ড কিংবা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে প্রতিটি বাড়ির সামনে স্কুল প্রতিষ্ঠা করে শিক্ষার মানকে একবারে তলানিতে নিয়ে গিয়েছে। আর এ সব প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকরাই তাদের এমপিও ধরে রাখতে প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষায় এমসিকিউ বলে দেয়া ও পরীক্ষায় অনৈতিক সাহায্য করার প্রমাণ সাম্প্রতিক সময়ে পাওয়া যাচ্ছে। বাড়ি বাড়ি ছাত্র খুঁজে আনার প্রবণতা বন্ধে প্রয়োজন অতিরিক্ত প্রতিষ্ঠান বন্ধকরণে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া এবং এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের পাশর্^বর্তী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একীভূত করা।

আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশগ্রহণ : মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সেমিনার-সিম্পোজিয়াম কিংবা সমাবেশে শিক্ষক পাঠানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়াও বৈশ্ব্যিক যে ক্যাম্পইন কিংবা প্রজেক্টগুলো রয়েছে সেখানে শিক্ষকদের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা।

স্বাক্ষরতার হার বৃদ্ধি, সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করতে সব প্রাইমারি স্কুল জাতীয়করণ, নারী-পুরুষের সমতা ও নারী শিক্ষায় অগ্রগতি হওয়ায় ৫ বছর পূর্বে বিশ্বব্যাংক ও ইউনেস্কো বাংলাদেশি শিক্ষার ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন, কিন্তু ৫ বছর পর বিশ^ব্যাংক, ইউনেস্কো, বাংলাদেশের শিক্ষা নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করছে। অন্যদিকে শিক্ষা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থা যেমন ভারকি ফাউন্ডেশান, ফাউন্ডেশনস ওয়েলবিইং ডাইমেনশনসসহ আরওে অনেকে বাংলাদেশে শিক্ষার মান ও শিক্ষকের অবস্থান নিয়ে নি¤œমুখী সূচক প্রকাশ করেন এছাড়াও দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা শিক্ষাবিদরা বর্তমান শিক্ষার মান ও শিক্ষাখাতে সরকারের অমনোযোগিতার কঠোর সমালোচনায় করছেন। দেশের উন্নয়নে রূপকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে ঠিক তেমনি শিক্ষার উন্নয়ন ও মানসম্মত শিক্ষা বিস্তারে রূপকল্প ঘোষণা করতে হবে।

[লেখক : শিক্ষক, গবেষক ও
নীতি-বিশ্লেষক]
adil_jnu@yahoo.com

দৈনিক সংবাদ : ১৪ মার্চ ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ৬ এর পাতায় প্রকাশিত

আসন্ন বাজেট : উন্নয়ন ও পাবনা

২০১৯-২০২০ সালের বাজেট আসন্ন জুনের অধিবেশনে পাস করা হবে এবং জুলাই থেকে তা কার্যকরী হওয়ার কথা। এ কথা ভাবাই যায়, খসড়া বাজেট প্রণয়ন কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে এবং এখন হয়তো তার ঝাড়াই-বাছাই চলছে।

নাটকের নাম ‘আমি’

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সাহিত্য অঙ্গনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বিকশিত শিল্প হচ্ছে নাটক। টিকিট করে নাটক দেখা শুরু হয় স্বাধীনতা

অনেক নাটকীয়তার পরে অবশেষে শপথ

রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশকিছু ওলোট-পালটের ঘটনা ঘটছে। শিগগিরই আরও কিছু ঘটবে বলে মনে হচ্ছে। মারাত্মকভাবে হতাশায় নিমজ্জিত দলগুলোতেই

sangbad ad

প্রবৃদ্ধিকে টেকসই করতে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে হবে

image

চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের দেশজ উৎপাদন জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৮.১৩ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে সরকার। অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল মঙ্গলবার

বিধ্বংসী আত্মঘাতী বোমা

ইস্টার সানডেতে শ্রীলঙ্কার তিনটি গির্জা, তিনটি অভিজাত হোটেল ও দুটি জনবহুল স্থানে সিরিজ বোমা হামলায় এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে

হতাশায় নিমজ্জিত সরকারবিরোধী দল এ অবস্থা চিরস্থায়ী হতে পারে না

রাজনীতির সঙ্গেই ‘উত্থান-পতন’ শব্দটা জড়িত। একটার থেকে অন্যটা আলাদা করা যায় না। রাজনীতিকদের জীবনেও

ডিজিটাল বিপ্লবীদের দেশে

২০১৯ সালের বিশ্ব মোবাইল কংগ্রেসে ৮ নাম্বার হলে আমাদের এক টুকরো বাংলাদেশ দেখতে রিভ সিস্টেম দেখতে যাবার পথে হঠাৎ একটি বাক্য দেখে

দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজন জাতীয় বিল্ডিং কোডের যথাযথ বাস্তবায়ন

অগ্নিদুর্ঘটনা পিছু ছাড়ছে না রাজধানী ঢাকার। মাত্র ৩৭ দিনের ব্যবধানে রাজধানী ঢাকায় ঘটল আরেকটি বিভীষিকাময় আগ্নিকান্ড। গত ২০

রাজনীতিকে নোংরামির পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার দক্ষ এ দুই খেলোয়াড়

রাজনীতিতে সর্বকালেই দুষ্টু গ্রহণের আবির্ভাব হয়েছে। তারা রাজনীতির মতো সুন্দর ও সম্ভাবনাময় অঙ্গনকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, নোংরা করেছে।

sangbad ad