• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , বুধবার, ২৭ মার্চ ২০১৯

 

গ্রাম-গ্রামান্তরে

মফস্বলের সাংবাদিকরা গৃহবন্দী

রুকুনউদ্দৌলাহ্‌

নিউজ আপলোড : ঢাকা , বুধবার, ১৩ মার্চ ২০১৯

বর্তমানে সাংবাদিকতা এক কঠিন অবস্থার ভেতর দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। রাষ্ট্রের ৪র্থ স্তম্ভ বলে স্বীকৃত সংবাদপত্র বা সাংবাদিকতার ওপর যেন আজ সবাই খড়গহস্ত। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণীত হলে গণমাধ্যমের বিশিষ্টজনরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, এ আইনের ফলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিঘিœত হবে। সাংবাদিকরা পদে পদে নিগৃহীত হবেন। সে সময় অবশ্য রাষ্ট্রের শীর্ষজনরা আশ্বাস দিয়েছিলেন আইনটি সাংবাদিকদের ক্ষতির কারণ হবে না। কিন্তু রাষ্ট্র গণমাধ্যমের ওপর আইনটি আজও প্রয়োগ না করলেও মতলববাজরা ওই আইনের সুযোগ নিয়ে সাংবাদিকদের হয়রানি করছে। এ তো গত সংসদ নির্বাচনের সময় খুলনার এক সাংবাদিককে নাকানি-চুবানি খাওয়ানো হলো। অথচ তিনি ছিলেন নির্দোষ। আবার সম্প্রতি যুগান্তরের সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এক পুলিশ মামলা করে বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছে। সারা দেশের সাংবাদিকরা এর প্রতিবাদ করেছেন। ঢাকার কেরানীগঞ্জ থানার ওসি মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশ করায় পাঁচজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে যুগান্তরের কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি আবু জাফরকে। ওসি নিজের দুর্নীতি ঢাকার জন্য কথিত স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে ব্যবহার করে মিথ্যা মামলায় সাংবাদিকদের ফাঁসিয়েছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ঘটনার প্রতিবাদে আয়োজিত কর্মসূচিতে সাংবাদিক নির্যাতনের বড় হাতিয়ার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি করা হয়।

সম্প্রতি যশোরে দিনের বেলা এক অপহরণের ঘটনা ঘটে। এর পেছনে কোটি টাকার জটিলতা ছিল। বিষয়টি যখন শহরময় চাউর হয় তখন সবাই বলাবলি করে এটা অসম্ভব ব্যাপার। কিন্তু অপহরণের ঘটনা প্রকৃতপক্ষেই ঘটে। নিরুপায় হয়ে অপহৃত ব্যক্তির স্বজনরা আদালতে মামলা করেন। সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রকৃত ঘটনা জনসমক্ষে তুলে ধরেন। কিন্তু এর পরের খেলা অন্য রকম। সংবাদপত্র অফিসে ফোন করে বলে দেয়া হয় খবরটি ছাপা যাবে না। অপহৃতকে ফেরত দেয়া হয়েছে। এ যে খবর লেখার প্রতি নিষেধ আরোপ এ কিষের আলামত। খবরটি লিখে কেউ নিজেকে সাহসী সাংবাদিক প্রমাণের ঝুঁকি নেননি। এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। যারা অপহরণ করে প্রকৃতপক্ষে তারা অপহরণের ক্ষমতা রাখে না।

হালে দেখছি আর এক খেলা শুরু হয়েছে। সাংবাদিকদের সংগঠন প্রেস ক্লাব নিয়ে মাতামাতিতে নেমেছে বিভিন্ন এলাকার আওয়ামী লীগ নেতারা। বিশেষ করে উপজেলা পর্যায়ের প্রেস ক্লাবগুলো স্থানীয় নেতারা এমনভাবে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে যে সেখানকার সাংবাদিকদের টুঁ শব্দটি করার উপায় নেই। কমিটি হচ্ছে নেতার দেয়া তালিকা অনুযায়ী। সেই কমিটি আবার অনুমোদন করছেন নেতারা। এক আজব ব্যাপার। চৌগাছার সাংবাদিকদের সেখানে গৃহবন্দী করে ফেলা হয়েছে। যশোরের চৌগাছায় সম্প্রতি প্রেস ক্লাবের নতুন কমিটি হয়েছে। ওই কমিটি অনুমোদন করেছেন সেখানকার আওয়ামী লীগের শীর্ষ ব্যক্তি। কোন আইনের কোন ধারায় তিনি প্রেস ক্লাবের কমিটি অনুমোদন করার ক্ষমতা পেলেন তার ব্যাখ্যা কি তার জানা আছে? এ ব্যাখ্যা তিনি জানেন না। আর জানার ধারও তিনি ধারেন না। তার কাছে তো নিজের চিন্তার বাইরে আর কিছু নেই। কোন ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারবেন না। ব্যাখ্যা দিতে যাবেন কোন দুঃখে। তিনি সরকারি দল করেন এটাই তো বড় কথা। এখন এ এলাকায় একটি হাস্যকর কথা প্রায় শোনা যাচ্ছে। তা হলো ‘পার্টি পাওয়ারে, দল ক্ষমতায়’ আমরা কারও ধার ধারিনে।

শোনা যায় চৌগাছায় যিনি এ ক্ষমতার অধিশ্বর তার কথায় নাকি বাঘ-ছাগলে এক ঘাটে পানি খায়। গত সংসদ নির্বাচনের কাচা খুলে লেগে গেলেন নির্বাচন করবেন, কিন্তু হালে পানি পাননি। এবার আবার সখ হয়েছে উপজেলা নির্বাচন করবেন। কিন্তু কপালে শিকে ছেড়েনি। তবুও নির্বাচন করবেন। তাই নৌকার বিপক্ষে মাঠে নেমেছেন। রাজনীতিতে এত খামখেয়ালি যিনি তার কাছে সাংবাদিকরা জিম্মি তো হবেই।

শুধু তাই নয় যে কমিটিকে তিনি অনুমোদন দিয়েছেন সেই কমিটির অধিকাংশ সদস্যই বর্তমান সরকারবিরোধী শিবিরের সঙ্গে যুক্ত আছেন অথবা একসময় বিরোধী শিবিরের তুখোড় নেতা ছিলেন। এদের মধ্যে একজন কোন পত্রিকায় কোন দিন চৌগাছা প্রতিনিধি ছিলেন না। ঢাকায় তার বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণা মামলা আছে। গ্রেফতারও হয়েছেন। ঢাকার বড় সাংবাদিক বলে পরিচয় দেন। তিনি চৌগাছা ডিগ্রি কলেজ ছাত্র সংসদে দু-দুবার ছাত্র শিবির প্যানেল থেকে নির্বাচন করেছেন। পারিবারিকভাবে জামায়াতি হলেও আওয়ামী হিসেবে সভাপতি বানানো হয়েছে। একজন চৌগাছা উপজেলা ছাত্র শিবিরের প্রতিষ্ঠাতা সেক্রটারি ছিলেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবিরের নেতা তিনি। এখন কোন পত্রিকা নেই। ভুইফোড় একটা অনলাইন ঢাকার এড্রেস দিয়ে চৌগাছায় বসে চালান। একজন শিবিরের অন্যতম নেতা ও সাথী ছিলেন। কোন পত্রিকায় কাজ করেন না। একটি রেসিডেন্সিয়াল স্কুল খুলে বসেছেন। গত বছর ওই স্কুলের আয়াকে ভাগিয়ে নিয়ে যাওয়ায় তার স্বামী চৌগাছা থানায় মামলা করেন। সাংবাদিকক পরিচয় দিয়ে বেঁচে যায়। উভয়কেই আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে বসানো হয়েছে। আর একজন একসমযের ছাত্রদল নেতা ছিলেন। বর্তমানে জামায়াত নিয়ন্ত্রিত একটি মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক। আওয়ামী কোটায় নেয়া হয়েছে। এক সদস্য হোমিও ডাক্তারি করেন। এভাবে প্রায় প্রত্যেকে কোন না কোনভাবে আওয়ামী বিরোধী শিবিরের সঙ্গে যুক্ত।

সাংবাদিকসহ আমজনতার প্রশ্ন হলো তিনি যখন আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ নেতা মনে করেন তখন কাদেরকে নিয়ে প্রেস ক্লাবের এ খেলা করছেন। সমর্থনযোগ্য নয় তবুও যদি তার অনুমোদিত প্রেস ক্লাব কমিটিতে সবাই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সাংবাদিক হতো তাহলেও কথা ছিল। আবার তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। আসলে আওয়ামী লীগ করলেও আওয়ামী লীগের আদর্শ ধারণ করেন না, মুক্তিযোদ্ধা হলেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তার ভেতর নেই। নিজের আখের গোছানোর জন্য সব করেন।

ট্যানার স্কুল পাস বলে পরিচিত ঝিকরগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতার নির্দেশনায় গঠিত হয় ঝিকরগাছা প্রেস ক্লাব কমিটি। ট্যানার স্কুলের একটু ব্যাখ্যা প্রয়োজন। এক সময় ঝিকরগাছা পূজা মন্ডপে সকালে ট্যানা মাস্টার নামে একজন শিশুদের পড়াতেন। সেই মন্ডপের পাঠশালায় পড়তেন এ নেতা। হালে তার নেতাগিরির সেই আলো নিভে গেছে। হাঁকডাক-দাপট সবকিছু হারিয়ে আঁস্তাকুড়ে পড়েছেন তিনি। তিনি যাকে মনোনয়ন দেবেন তিনিই হবেন প্রেস ক্লাব কমিটির নেতা। তার বিদ্যার দৌড় ট্যানার স্কুল পর্যন্ত হলেও তিনি আবার প্রেস ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত। দলীয় এক নেতার একটি পত্রিকার তিনি সহ-সম্পাদক পরিচয় ধারণ করেন। সহ-সম্পাদক কথাটা লিখতে বললে তিনি ভিমরি খেয়ে পড়বেন তা নিশ্চিত করে বলা যায়। তবু তিনি সহ-সম্পাদক। জীবনে কয়টা সংবাদ তিনি লিখেছেন তা কি বলতে পারবেন। সাংবাদিক পরিচয় ধারণ করতে এবং এ পরিচয়ে প্রেস ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত হতে নেতার একটুও বিবেকে বাধেনি। লাজ-লজ্জা বলে একটা জিনিস তো মানুষের থাকে। এদের তাও নেই। এসব নির্লজ্জদের কারণে বলতে হয়, হে ধরনী তুমি দ্বিধা হও, প্রকৃত সাংবাদিকরা পালিয়ে বাঁচুক।

সেখানকার সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন, ঝিকরগাছায় যারা প্রকৃতপক্ষে সাংবাদিক তাদের স্থান নেই। তারা সবাই কোণঠাসা। শেষ জমানায় নাকি মূর্খরা মঞ্চ দখল করবে আর জ্ঞানীরা পালিয়ে যাবে। অসাংবাদিকদের দৌরাত্ম্যে প্রকৃত সাংবাদিকদের এ অবস্থায় মনে হয় তাহলে বোধ হয় শেষ জমানা এসেই গেছে।

সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় একটি প্রেস ক্লাব আছে। সেখানেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। প্রকৃত সাংবাদিকদের সেখানে মূল্যায়ন নেই। নেতৃত্বে জুটেছেন বিতর্কিতরা।

চৌগাছা, ঝিকরগাছা এবং তালার মতো দেশে কত জায়গায় তো আছে যেখানে সাংবাদিকরা লিখতে পারছেন না। উপজেলা পর্যায়ের প্রেস ক্লাব কুক্ষিগত করার উদ্দেশ্য হচ্ছে সাংবাদিকদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনা। নেতার নেতৃত্বে প্রশংসা ছাড়া যাতে কুৎসা প্রচারিত না হয় সেজন্য এ অপতৎপরতা। এ কথা সত্য যে, যে সব জায়গা নিয়ে আলোচনা করা হলো সেসব জায়গার ওই সব নেতাদের বিরুদ্ধে কোন খবর প্রকাশ হতে দেখা যাচ্ছে না।

দৈনিক সংবাদ : ১৩ মার্চ ২০১৯, বুধবার, ৬ এর পাতায় প্রকাশিত

রাষ্ট্রভাষার প্রয়োগ হচ্ছে না

বাংলাদেশে বাংলা ভাষা-সাহিত্য ও বাংলা হরফ নিয়ে প্রচুর মাতামাতি থাকলেও আসলে বাংলাদেশে বাংলার সেই মর্যাদা নেই যেটির সাংবিধানিক

উপাসনালয়ে জঙ্গি-আক্রমণ

কয়েক দিন আগে নিউজিল্যান্ডের দুটি মসজিদে এক শ্বেতাঙ্গ জঙ্গির সন্ত্রাসী হামলায় ৫০ জন মুসলমান মারা গেছেন। জুমার নামাজে মুসল্লিদের ওপর এমন

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান

image

মহান রাষ্ট্রনায়ক, স্থিতধি রাজনীতিবিদ, প্রখ্যাত জননেতা, ভাষাসৈনিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং দেশিকোত্তম ব্যক্তিত্ব, বাংলাদেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি

sangbad ad

‘বাংলাদেশের গণহত্যা-রাজনীতি ও প্রতিহিংসার ইতিহাস’- পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ

বাংলাদেশে গণহত্যা কার্যক্রম অপারেশন সার্চলাইটের অধীনে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে পূর্ব

মুজিব : ভাষারাষ্ট্রের পিতা

image

মুজিব তোমাকে শততম জন্মদিনের শুভেচ্ছা। বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম বাঙালি, বিশ্বের একমাত্র বাংলা ভাষার রাষ্ট্রের পিতা, বাংলা ভাষার আন্দোলনের জনক, চার

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা

গ্যাস লাভজনক অবস্থায় দফায় দফায় দাম বাড়নো হচ্ছে। গত ২০১৭ সালে গ্যাসের দাম বাড়ানো

মানসম্মত শিক্ষার চ্যালেঞ্জগুলো

বাংলাদেশ দিন দিন উন্নত হচ্ছে এবং বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। কিন্তু একইসঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষার মানে

রাজধানীর বায়ুদূষণ : আমাদের বিবেক জাগ্রত হোক

বিভিন্ন দেশের বাতাসের মান নিয়ে গবেষণা করে আসছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার। সম্প্রতি বৈশ্বিক বায়ুমান প্রতিবেদন ২০১৮

মৃত্যুর সঙ্গে কোলাকুলি, জীবনের সঙ্গে পাঞ্জা

জীবনে বেঁচে থাকাটাই যেন এক যুদ্ধ; বাস্তবে তা এক মহাযুদ্ধ। বলা নেই কওয়া নেই

sangbad ad