• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯

 

বিধ্বংসী আত্মঘাতী বোমা

জিয়াউদ্দীন আহমেদ

নিউজ আপলোড : ঢাকা , রোববার, ২৮ এপ্রিল ২০১৯

ইস্টার সানডেতে শ্রীলঙ্কার তিনটি গির্জা, তিনটি অভিজাত হোটেল ও দুটি জনবহুল স্থানে সিরিজ বোমা হামলায় এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩৫ জনে। নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে ৫০ জন মুসল্লিকে গুলি করে হত্যার প্রতিশোধ নিতে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের গির্জায় ইস্টার সানডে অনুষ্ঠানে এ বোমা হামলা চালানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তিন বছর পূর্বে দেয়া একটি উগ্র বক্তব্যের জন্য শ্রীলঙ্কার উগ্রপন্থি নেতা মৌলভী জাহরান হাশেমিকে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী বলে দাবি করা হচ্ছে; এছাড়া এক নারীসহ ৯ হামলাকারীকে চিহ্নিত করার দাবি করা হলেও শ্রীলঙ্কান সরকার তাদের পরিচিতি এখনও প্রকাশ করেনি। শ্রীলঙ্কান সরকার এ হামলার জন্য ইসলামী জিহাদি গ্রুপ ন্যাশনাল তাওহীদ জামাতকে দায়ী করলেও এদের সঙ্গে বিদেশি জঙ্গি গ্রুপের সংশ্লিষ্টতা থাকার সম্ভাব্যতার কথাও তারা বলছে। শ্রীলঙ্কার সরকারের ধারণা, এমন একটি পরিকল্পিত ধ্বংসাত্মক আক্রমণ শুধু স্থানীয় মুসলমানের পক্ষে সম্ভব নয়।

এ বিধ্বংসী হামলার জন্য শ্রীলঙ্কার মুসলমানদের দায়ী না করে তামিলদের সন্দেহ করা অধিকতর যুক্তিযুক্ত ছিল। ২৬ বছর ধরে ভেলুপিল্লাই প্রভাকরণের নেতৃত্বে তামিল জাতিগোষ্ঠীর জন্য একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের লড়াই চালিয়েছে শ্রীলঙ্কার তামিল টাইগারেরা। এই শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠীকে শ্রীলঙ্কান সেনাবাহিনী নির্মূল করতে গিয়ে নিষ্ঠুরতার পরিচয় দিয়েছে, প্রভাকরণ ও তার পরিবারে শিশুসহ সব সদস্যকে নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছে, তামিলদের নির্বিচারে গুলি করে মাটি চাপা দেয়া হয়েছে। তাই সুযোগ পেলেই তামিল টাইগারদের প্রতিশোধ নেয়ার কথা; বোমা হামলায় এরা প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত। এদের আত্মঘাতী বোমা হামলায় দুজন সরকারপ্রধানও নিহত হয়েছেন। শ্রীলঙ্কায় ভারতীয় শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের প্রতিশোধ নিতেই এরা ভারতের প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীকে হত্যা করেছিল ভারতের মাটিতে। রাজীব গান্ধীর মৃত্যুর দুবছর পরে আরেকটি আত্মঘাতী হামলায় নিহত হন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট রানাসিংহে প্রেমাদাসা। অন্যদিকে সরকারের সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ বিরোধকেও এ বোমা হামলার জন্য দায়ী করার যথেষ্ট কারণ ছিল। কিন্তু প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহের সাম্প্রতিক বিরোধকেও কেউ সিরিজ হামলার জন্য দায়ী করছে না। প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহকে বরখাস্ত করে মাহিন্দা রাজাপাকসেকে প্রধানমন্ত্রী করলেন; কিন্তু পরে আবার রনিল বিক্রমাসিংহকে শপথবাক্য পাঠ করিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পদে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হন। এ সিরিজ বোমা হামলার জন্য শ্রীলঙ্কার ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় চীন ও ভারতের দ্বন্দ্বের প্রতিও কেউ অঙ্গুলি নির্দেশ করছে না। এতগুলো সম্ভাব্য কারণ থাকা সত্ত্বেও বোমা হামলার সব সন্দেহ মুসলমানদের ওপর। শুধু শ্রীলঙ্কান সরকার নয়, সারা পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষও বিশ্বাস করে এ হামলা শ্রীলঙ্কার মুসলমানেরা এককভাবে অথবা বহির্বিশ্বের তাদের মদতদাতা জঙ্গিগোষ্ঠীর সহায়তায় করেছে।

ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ওপর আক্রমণ হলে সংশ্লিষ্টতা থাকা, না থাকা নির্বিশেষে পৃথিবীর জেহাদি মুসলিম গ্রুপগুলো শ্রেষ্ঠত্বের অহঙ্কারে নিজেদের জড়িত থাকার কৃতিত্ব জাহির করে থাকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে বিমান হামলার পর আল কায়েদা গর্ব করে ঘোষণা দিল, ‘আমরাই করেছি’। পরে ড. জাকির নায়েকসহ বহু ইসলামি চিন্তাবিদ নানা যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করতে চেষ্টা করেছিলেন যে, টুইন টাওয়ারে আক্রমণ করেছিল ইহুদিরা। বিনা চাপে অপরাধী যখন অপরাধ স্বীকার করে নেয় তখন হাজারো যুক্তি দিয়েও তা খন্ডানো সহজ হয় না। শ্রীলঙ্কার এ সিরিজ বোমা হামলার দায়ও ইসলামিক স্ট্যাটস বা আইএস মহাউল্লাসে নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছে। মুসলমান উগ্রপন্থিদের কার্যক্রমও অন্য ধর্মাবলম্বীদের জন্য সুখকর নয়। শ্রীলঙ্কার ন্যাশনাল তাওহীদ জামাত ২০১৪ সনে গঠিত হওয়ার পরপরই একটি বুদ্ধ ভাস্কর্য ভেঙেছে। বাংলাদেশেও ভাস্কার্য ভাঙার মহড়া বহুবার দেয়া হয়েছে। সব ভাস্কর্যকে মূর্তি বিবেচনায় ধ্বংস করার প্রবণতা মুসলিম জেহাদিদের মধ্যে রয়েছে। আফগানিস্তানের পর্বতগাত্রে খোদাই করা বিশ্বের সবচেয়ে বড় বুদ্ধমূর্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম ষষ্ঠ শতাব্দীর বামিয়ানের বুদ্ধমূর্তি তালিবান নেতা মোল্লা মুহম্মদ ওমরের নির্দেশে ২০০১ সনে ডিনামাইটের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ধ্বংস করা হয়।

শ্রীলঙ্কান সমাজ অনেকগুলো ধর্ম ও সংস্কৃতি নিয়ে গড়ে উঠলেও সাম্প্রতিক সময়ে বৌদ্ধ আর মুসলমানদের মধ্যে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ধর্মীয় সহাবস্থানকে অসম্ভব করে তুলেছে। ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করার জন্য প্রোপাগান্ডা তো আছেই; ফেসবুকে গুজব ছড়িয়ে দাঙ্গা বাঁধানোর লোক পৃথিবীর সব দেশেই রয়েছে। সুশিক্ষার অভাব, গ্রহণ-বর্জন ও সত্যাসত্য বিচারের অক্ষমতার কারণে সংস্কারবদ্ধ মানুষগুলো আজগুবি প্রচারণাকে অন্ধভাবে বিশ্বাসও করে। মসজিদ ভাঙার জন্য বৌদ্ধরা জড় হচ্ছে, মুসলমান ব্যবসায়ীরা তাদের খাবারের পণ্যে জন্ম নিরোধক উপকরণ মিশিয়ে বৌদ্ধ জনসংখ্যা কমানোর চেষ্টা করছে- এমনতর গুজব শ্রীলঙ্কায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধাতে ইতিপূর্বে সহায়তা করেছে। মুসলিমরা বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীকে জোরপূর্বক ইসলাম ধর্মের অনুসারি করার অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক সময়ে বৌদ্ধ বনাম মুসলিম সহিংসতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে এবং ইসলামকে রোখার জন্য ‘বদু বালা সেনা’ নামে একটি চরমপন্থি বৌদ্ধ সংগঠনও গড়ে উঠেছে। এই সংঘের প্রচারণায় শ্রীলঙ্কায় খাবারে ব্যবহৃত হালাল লোগো পরিত্যাগে মুসলমান ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়েছে। আমাদের দেশেও এক সময় হালাল সাবানের প্রচলন ছিল, এখন নেই। ১৯৬২ সনে বৌদ্ধদের একটি পবিত্র এলাকায় অবৈধভাবে নির্মিত মসজিদ নিয়েও উত্তেজনা রয়েছে। ব্যবসা, বাণিজ্যে মুসলমানদের আধিপত্যও সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধদের ঈর্ষান্বিত করে তুলেছে। শ্রীলঙ্কায় সাম্প্রতিককালে আরবদের অর্থায়নে একাধিক মসজিদ নির্মাণ এবং সেই সঙ্গে সিংহলী মুসলিম নারীদের ঐতিহ্যগত পোশাক ত্যাগ করে হিজাব ও নিকাবের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে সিংহলিদের অধিকতর সন্দেহ প্রবণ করে তুলেছে।

মুসলমানদের বিরুদ্ধে এ উত্তেজনা বৌদ্ধপ্রধান রাষ্ট্র মায়ানমার, থাইল্যান্ড, চীন এবং খ্রিস্টান অধ্যুষিত রাষ্ট্র ফিলিপিন্সেও রয়েছে। থাইল্যন্ডের দক্ষিণাঞ্চলে একটি স্বাধীন ইসলামী খেলাফত গড়ে তোলার লক্ষ্যে কয়েকটি ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে? এজন্য মায়ানমারে বৌদ্ধভিক্ষুদের একটি দল ‘মা বা থা’ ইসলামবিরোধী আন্দোলন শুরু করেছে। শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার ও থাইল্যান্ডের বৌদ্ধরা আশঙ্কা করে যে, মুসলমানেরা যেভাবে জনসংখ্যা বাড়াচ্ছে তাতে এক সময় মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে যাবে এবং বৌদ্ধধর্ম হুমকির মুখে পড়বে। এ আশঙ্কার কারণে বৌদ্ধদের কাছে তাদের জাতীয়তাবাদ আর ধর্ম একাকার হয়ে গেছে; এ ধারণা থেকে তাদের বদ্ধমূল বিশ্বাস, বৌদ্ধ না হলে শ্রীলঙ্কা, থাইল্যন্ড ও মায়ানমারের সত্যিকারের নাগরিক হওয়া যাবে না। পশ্চিমাদের মতো এ দেশগুলোর বৌদ্ধরাও মনে করে, ইসলাম শান্তির ধর্ম নয়, সংঘাতের ধর্ম। অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা এ মর্মে ভীত যে, ধর্মগ্রন্থের ইঙ্গিত অনুযায়ী মুসলমানেরা ইতোমধ্যে পৃথিবীর সর্বত্র ইসলাম ধর্ম প্রতিষ্ঠায় মরিয়া হয়ে উঠেছে।

ধর্মের কারণে সৃষ্ট বিভেদ ও সন্দেহ মানবতাকে বিপন্ন করে তুলছে। দেশে ধর্ম সম্পর্কে নির্লিপ্ত বাঙালি মুসলমান অন্য দেশে অভিবাসী হয়ে ধর্মের আনুষ্ঠনিক বিষয়গুলো পরিপালনে অতিরিক্ত সচেষ্ট হয়ে উঠেন। সারা পৃথিবীতে তাই মুসলমানদের বিরুদ্ধে অভিবাসনবিরোধী মনোভাব প্রবল থেকে প্রবলতর হয়ে উঠছে। লন্ডনের মতো শহরে হিজাব পরা মেয়েদের ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়ার অসম্মানজনক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাশ্চাত্যের বহুদেশ অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ ইত্যাদি স্থানে ধর্মীয় পোশাক পরিধান নিষিদ্ধ করেছে। শ্রীলঙ্কাও বোরকা, নেকাব পরা নিষিদ্ধ করার কথা ভাবছে; কারণ বোরকা, নেকাব পরে জঙ্গিদের পালিয়ে যাওয়া সহজ। নুসরাতকে হত্যা করার সময়ও বোরকা ও নিকাবের অপব্যবহার হয়েছে। ধর্মের নামে কিছু লোকের বাড়াবাড়ির কারণে সব ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ইত্যবসরে উগ্রপন্থি গোষ্ঠীর সৃষ্টি হচ্ছে। ইসরায়েল তো রাষ্ট্রীয়ভাবেই উগ্রপন্থা অবলম্বন করে মুসলমানদের সব আক্রমণের প্রতিশোধ গ্রহণ করে থাকে। ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের ভূমি দখল করে তাদের ৭৫ বছর ধরে উদ্বাস্ত করে রেখেছে, মাঝে মাঝে বিমান হামলা করে নির্বিচারে ফিলিস্তিনিদের হত্যা করছে। অন্যদিকে নিরাপত্তা পরিষদের বদান্যতায় নো ফ্লাই জোন সৃষ্টি করে লিবিয়া, সিরিয়া, ইরাক প্রভৃতি দেশে বিমান হামলা চালিয়ে নির্বিচারে মুসলমানদের মারা হয়েছে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্লোগান দিয়ে পাশ্চাত্য ধর্মনিরপেক্ষ সরকারের পতন ঘটিয়ে কট্টর ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। নিজেদের পছন্দের সরকার বসানোর ক্ষেত্রে পাশ্চাত্যের এমনতর হস্তক্ষেপ মুসলমানদের মধ্যে উগ্র জেহাদি গ্রুপ তৈরির সুযোগ এনে দিয়েছে। মুসলমানদের মধ্যে এ জেহাদি গ্রুপ সৃষ্টির পর তাদের আত্মঘাতী বোমা হামলায় সারা দুনিয়ার মানুষ ইসলাম ফোবিয়া আতঙ্কে ভুগছে।

শ্রীলঙ্কা এক সপ্তাহ আগে সংবাদ পেয়েও এ সিরিজ বোমা হামলা প্রতিহত করতে পারেনি। আত্মঘাতীদের অপ্রতিরোধ্য ক্ষমতা প্রতিহত করার শক্তি পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোরও না থাকায় বিভিন্ন ধর্মের উগ্রপন্থিরা পৃথিবীতে রাজত্ব কায়েম করবে, তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার পরিচালিত হবে, পারস্পরিক হিংসা, প্রতিহিংসার কারণে মানব সমাজে জন্ম নেবে ঘৃণা, ধর্ম ও বর্ণের শ্রেষ্ঠত্বের অহঙ্কারে নিজেদের খুন করে অন্যকে মারার জন্য কিছু লোকের উন্মাদনা আরও বাড়বে, মানব সমাজে ঘৃণা, ভয় ও বিভেদ তৈরি করে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চলতেই থাকবে। এ মানবিক সংঘাত শুধু বিরোধী ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যেই সংঘটিত হবে না, সমধর্মাবলম্বীদের মধ্যেও হতে থাকবে। এভাবে রক্তের স্রোত বেড়ে চললে বিশ্বজুড়ে বিরাজমান কৃত্রিম ধর্মীয় সম্প্রীতিও হুমকিতে পড়বে।

জঙ্গিদের এমন খুনাখুনিতে আমাদের মতো ছাপোষাদের মৃত্যু যে নানা দিক দিয়ে ঘনিয়ে আসছে তা বুঝতে দেরি হলে মানবতা ধ্বংসের জন্য তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আর প্রয়োজন হবে না। পারস্পরিক সংঘাতে লিপ্ত এ লোকগুলোর হাত থেকে বাঁচার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্ক পাহারায় সারা দুনিয়ায় স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করার উপায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। পৃথিবীর অনেকগুলো পাসপোর্ট আছে যে পাসপোর্টগুলো দিয়ে বিনা ভিসায় শতাধিক দেশ ভ্রমণ করা যায়। অন্যদিকে আমাদের পাসপোর্টে ভিসা থাকলেও প্রতিটি বিমানবন্দরে নানা হেনস্তার শিকার হতে হয়। নিরাপত্তা যত কঠোর হবে মানুষের সহজ চলাচল তত কঠিন হবে; মানুষের সহজ চলাচল কঠিন হলে ব্যবসা-বাণিজ্য রুদ্ধ হবে, ব্যবসা-বাণিজ্য রুদ্ধ হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্থবির হয়ে যাবে। মানুষে মানুষে, দেশে দেশে সহজ যোগাযোগ স্থাপিত না হলে অশুভ শক্তির কাছে বিজ্ঞান পরিশেষে পরাজিত হবে, বিজ্ঞান পরাজিত হলে মৌলভী, পুরোহিত, যাজকদের দৌরাত্ম্য আগের মতো আবার অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠবে; ভেটিকান সিটি তৈরি করেও রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে পৃথক করা যাবে না।

[লেখক : বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক]

eauddinahmed@gmail.com

দৈনিক সংবাদ : ২৮ এপ্রিল ২০১৯, রোববার, ৬ এর পাতায় প্রকাশিত

আসন্ন বাজেট : উন্নয়ন ও পাবনা

২০১৯-২০২০ সালের বাজেট আসন্ন জুনের অধিবেশনে পাস করা হবে এবং জুলাই থেকে তা কার্যকরী হওয়ার কথা। এ কথা ভাবাই যায়, খসড়া বাজেট প্রণয়ন কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে এবং এখন হয়তো তার ঝাড়াই-বাছাই চলছে।

নাটকের নাম ‘আমি’

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সাহিত্য অঙ্গনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বিকশিত শিল্প হচ্ছে নাটক। টিকিট করে নাটক দেখা শুরু হয় স্বাধীনতা

অনেক নাটকীয়তার পরে অবশেষে শপথ

রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশকিছু ওলোট-পালটের ঘটনা ঘটছে। শিগগিরই আরও কিছু ঘটবে বলে মনে হচ্ছে। মারাত্মকভাবে হতাশায় নিমজ্জিত দলগুলোতেই

sangbad ad

প্রবৃদ্ধিকে টেকসই করতে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে হবে

image

চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের দেশজ উৎপাদন জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৮.১৩ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে সরকার। অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল মঙ্গলবার

হতাশায় নিমজ্জিত সরকারবিরোধী দল এ অবস্থা চিরস্থায়ী হতে পারে না

রাজনীতির সঙ্গেই ‘উত্থান-পতন’ শব্দটা জড়িত। একটার থেকে অন্যটা আলাদা করা যায় না। রাজনীতিকদের জীবনেও

ডিজিটাল বিপ্লবীদের দেশে

২০১৯ সালের বিশ্ব মোবাইল কংগ্রেসে ৮ নাম্বার হলে আমাদের এক টুকরো বাংলাদেশ দেখতে রিভ সিস্টেম দেখতে যাবার পথে হঠাৎ একটি বাক্য দেখে

দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজন জাতীয় বিল্ডিং কোডের যথাযথ বাস্তবায়ন

অগ্নিদুর্ঘটনা পিছু ছাড়ছে না রাজধানী ঢাকার। মাত্র ৩৭ দিনের ব্যবধানে রাজধানী ঢাকায় ঘটল আরেকটি বিভীষিকাময় আগ্নিকান্ড। গত ২০

রাজনীতিকে নোংরামির পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার দক্ষ এ দুই খেলোয়াড়

রাজনীতিতে সর্বকালেই দুষ্টু গ্রহণের আবির্ভাব হয়েছে। তারা রাজনীতির মতো সুন্দর ও সম্ভাবনাময় অঙ্গনকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, নোংরা করেছে।

গড়ে তুলুন ডিজিটাল স্কুল

image

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিগত দশকের সবচেয়ে যুগান্তকারী স্লোগানটি হলো ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’। স্লোগান হিসেবে এটি যত বেশি আলোচিত

sangbad ad