• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯

 

বাজেটের চাপের মধ্যেই থেকে গেল মধ্যবিত্ত

এস এম মুকুল

নিউজ আপলোড : ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯

প্রতি বছরই রাষ্ট্র পরিচালনা ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে বাজেট ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে উন্নত দেশের স্বপ্ন সোপানে। আর এ স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্য নিয়ে প্রতি বছরই বড় হচ্ছে বাজেটের আকার। বাস্তবায়ন হচ্ছে, আর বাস্তবায়ন হচ্ছে বলেই ঘুরছে দেশের অর্থনীতির চাকা। কিন্তু বাজেটের তালে যে চাকাটি মন্থর গতিতে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে তার নাম মধ্যবিত্ত। প্রতি বছর বাজেটের পর জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর যে প্রভাব পড়ে তার প্রধানতম শিকার মধ্যবিত্ত সমাজ। এবারের বাজেটেও মধ্যবিত্ত সমাজের জন্য তেমন কোন সুখবর নেই বলে বিভিন্ন মহল থেকে আলোচনা-সমালোচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে অধ্যাপক বারাকাত বলেন, বাড়ি ভাড়া, ‘ডাক্তারের ফি, হাসপাতাল খরচ, সাংসারিক খরচ, অনুষ্ঠানে কমিউনিটি সেন্টার ও হোটেল ভাড়া এসবের খরচ মধ্যবিত্তের জীবনে প্রভাব ফেলে।’ বাজেটে মধ্যবিত্তকে চাপে রেখে ধনীদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। তার মতে এ বাজেটে ধনীদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব দেখানো হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির সমৃদ্ধির পেছনে যারা মূল শক্তি সেই কৃষক, শ্রমিক, নারী উদ্যোক্তারা অবহেলিতই রইলেন। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) এক প্রতিবেদনে জানা যায়, বাংলাদেশে দ্রুত মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বিকাশ হচ্ছে। এ মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বিশাল অংশ চাকরি করে। তারা এখন ফ্ল্যাটে বা জমির মালিক। তারা ইন্টারনেটও ব্যবহার করে। টাকা-পয়সা রাখে ব্যাংক হিসাবে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ২০ শতাংশ জনগোষ্ঠী এখন মধ্যবিত্ত। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ মধ্যবিত্ত হবে। গবেষক সম্পর্কে বিনায়ক সেন বলেন, মধ্যবিত্ত শ্রেণীর আরও বিকাশ হলে প্রবৃদ্ধির জন্য ভালো হবে। এতে উদ্যোক্তা, শ্রমিক ও চাকরিজীবীর সংখ্যা বাড়বে। যত বেশি চাকরিজীবী বাড়বে, প্রবৃদ্ধিও সুসংহত হবে। বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণীর চরিত্রটি সম্পর্কে গবেষণায় বলা হয়েছে- বাংলাদেশে যত মধ্যবিত্ত রয়েছে, এর ৪৮ দশমিক ৪ শতাংশ বা প্রায় অর্ধেকই বেসরকারি চাকরি করে। আর ২০ শতাংশের বেশি সরকারি চাকরি করে। মধ্যবিত্তদের মাত্র প্রায় ২২ শতাংশ ব্যবসা করে। নিম্নমধ্যবিত্তের মধ্যে ৫১ দশমিক ৬ শতাংশ বেসরকারি চাকরি করে। আর ব্যবসায় সম্পৃক্ত মাত্র ১৭ শতাংশ। একসময় ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করা শুধু উচ্চবিত্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানরাও এখন ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করে। গবেষণায় ফলাফলে দেখা গেছে, ২৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানরা ইংরেজি মাধ্যমে পড়ে। আর বাংলা মাধ্যমে পড়ে দুই-তৃতীয়াংশ মধ্যবিত্তের ছেলেমেয়েরা। তবে নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে সবচেয়ে বেশি প্রায় ৭৫ শতাংশই বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা করে।

দি ইকোনমিস্ট পত্রিকায় প্রকাশিত মধ্যবিত্ত সম্পর্কে বলা হয়েছে- উপার্জনের দিক থেকে মধ্যবর্তী স্থলে অবস্থানের জন্য অথবা সামগ্রিকভাবে স্থায়ী সমষ্টি হিসেবে। অনেক নতুন মধ্যবিত্তের অবস্থান ধনী এলিট ও গ্রামের দরিদ্র এ দুইয়ের মধ্যে কোথাও। অনেকের আয় মোটামুটি উন্নত দেশে মধ্যবিত্তের গড়পড়তা আয়ের সমান। এ কথা সত্যি যে, বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় বেড়েছে, বেড়েছে গড় আয়ু। তবে উন্নতির চাকচিক্যতা সমাজের উঁচু আর নিচু স্তুরে যতটা লক্ষ্য করা যায় তার সিকিভাগও যেন মধ্যবিত্তের ভাগ্যে জুটেনি। এর কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যবিত্তের বিকাশে জরুরি প্রয়োজনীয় বিষয়সমূহে সরকারের মনযোগ কম। মধ্যবিত্তের বিকাশে যে বিষয়গুলোতে জোড়া দেয়া প্রয়োজন সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো- শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান, সংস্কৃতি চর্চা। মধ্যবিত্ত পরিবারের প্রধান শক্তি শিক্ষা-সংস্কৃতি-ধর্মীয় মূল্যবোধ। মধ্যবিত্ত সমাজের প্রত্যাশা সীমিত জীবনযাত্রার ব্যয়, সন্তানের জন্য শিক্ষার সুব্যবস্থা এবং শিক্ষা শেষে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো- দেশে ভোগবাদি আর নিম্নবিত্তের অবারিত সুযোগ-সুবিধায় অনেকটা কোণঠাসা হয়ে না ঘরকা, না ঘাটকা অবস্থায় ঝিম মেরে আছে মধ্যবিত্ত সমাজ। সমাজে উচ্চবিত্তদের অভাব নেই। বরং তারা বিত্তের প্রভাবে বাজারমূল্যকেও প্রভাবিত করে। যার জের টানতে হয় মধ্যবিত্তকে। আর নিম্নবিত্তদের চাহিদা কম, খরচ কম, আয় বেশি- আয়ের ক্ষেত্র বেশি। অন্যদিকে মধ্যবিত্তরা সামাজিকতা, দেশপ্রেম, মানবীয় ও ধর্মীয় মূল্যবোধ এমনকিছু আদর্শ অনুসরণে জীবনযাপন করে অভ্যস্ত। তাই তারা যা খুশি তা করতে পারে না। তাদের স্বপ্ন ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা উচ্চবিত্তের মতো হলেও তা পূরণের সাধ্য নেই। আবার তারা নিম্নবিত্তের মতো জীবনযাপন করতেও অপরাগ। তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। জীবনযাত্রার ঊর্ধ্বমূল্যের সঙ্গে তারা পেরে উঠছেন না। সন্তানের শিক্ষার ব্যয়ভার বহন করা কষ্টকর হয়ে পড়ছে। আবার শিক্ষা শেষে ঘুষ ছাড়া চাকরিও মিলছে না। চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে রোগে-শোকে শোকাগ্রস্ত। এমতাবস্থায় কোথায় যাবে মধ্যবিত্তরা। অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বারাকাত বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে নির্দিষ্ট ও মধ্যম আয়ের নাগরিকদের বিদ্যুতের মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে বেশ ভালো বেগ পেতে হচ্ছে। খাদ্যসামগ্রী ছাড়া অন্যান্য এসব জিনিসের মূল্যস্ফীতির অঙ্কটা হয়ে গেছে দ্বিগুণ যা অদূর ভবিষ্যতে কমার কোন সম্ভাবনা নেই। আবার সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম মধ্যবিত্তের প্রত্যাশা সম্পর্কে বাজেট প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘বাজেটে নিম্ন-মধ্যবিত্তদের আশার প্রতিফলন ঘটেনি। ভ্যাটের চাপ পড়বে এসব শ্রেণীর ওপর। নিত্যপণ্যের দামও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

বাস্তবতা অনেকটা এ রকমই। প্রতি বছরই বাজেটের পর অনেক পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন ব্যবসায়ীরা। আর এই চাপে পড়ে পিষ্ট হতে হয় বিশেষ করে মধ্যবিত্ত সমাজকে। কারণ দ্রব্যমূল্যর পাশাপাশি বেড়ে যায়- পরিবহন খরচ, মোবাইল বিল, শিক্ষা ও চিকিৎসা খরচ, তার ওপর বাড়িওয়ালারা বাড়িয়ে দেন বাড়ি ভাড়া। বরাবরই এমন চতুর্মুখী চাপে পড়তে হয় তাদের। ক্রমাগত এই চাপের ফলে ভেঙে যাচ্ছে মধ্যবিত্ত সমাজের আদর্শের শেকড়। আদর্শ বিচ্যুত হতে বাধ্য হচ্ছে মধ্যবিত্তরা। অথচ একটি দেশের সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও সভ্যতার ধারক-বাহক হিসেবে মধ্যবিত্ত সমাজের ভূমিকাই প্রধান। মধ্যবিত্ত শ্রেণী ছাড়া একটি সুস্থ সমাজকে কল্পনা করাও কঠিন। তাই এই সমাজকে অবহেলা করে টেকসই উন্নয়ন অসম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপ (বিসিজি) এক গবেষণায় জানিয়েছিল- বাংলাদেশে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর সামর্থ্য বাড়ছে। প্রতি বছর ২০ লাখ মানুষ মধ্যবিত্ত শ্রেণীতে যুক্ত হচ্ছে। স্বচ্ছল বা উচ্চবিত্তের সংখ্যাও বাড়ছে সমানতালে। ফাস্ট মুভিং কনজিউমার গুডস (এফএমসিজি) বা ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাংলাদেশ বিশাল সম্ভাবনাময় বাজার। তাদের মতে, এই মধ্যবিত্ত এখন সমাজের গভীরে তাকায় না। সবাই চায় স্থায়ী আর্থ-সামাজিক উন্নতি। হাতে স্মার্টফোন চায়, শহরে ফ্ল্যাট চায়, নিজের গাড়ি চায়। বছরে পরিবার নিয়ে ইউরোপ কিংবা নিদেনপক্ষে ব্যাংকক-পাতায়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, বালি ট্রিপ চায়। বাস্তবতা কিন্তু আসলে সে রকম নয়।

এবারের বাজেটে সাধারণ কৃষক ও শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠী সর্বাধিক চাপে আছে। এবার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে ১০০ কোটি টাকা এবং ব্যবসার শুরু করতে আরও ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলোÑ এ ধরনের বরাদ্দ ইতিপূর্বেও ছিল তবে, সহায়তার নামে লুটপাট হয়েছে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এ বাজেটের পর ছোট ফ্ল্যাট কিনতে গেলে খরচ বাড়বে। নতুন গাড়ি কেনার সামর্থ্য নেই, রিকন্ডিশন্ড গাড়িতেই ভরসা মধ্যবিত্তের। সেখানেও দুঃসংবাদ। রিকন্ডিশন্ড গাড়ির অবচয়ন সুবিধা কমিয়ে দেয়ায় গাড়ির দাম বাড়বে। দুঃসময়ের জন্য ভরসা হিসেবে মধ্যবিত্ত পরিবারের কর্তারা সঞ্চয় করেন। কিন্তু শিগগিরই সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর কথা বলা হয়েছে। আবার সঞ্চয়পত্র কেনার সুযোগও কমানো হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্তের ভরসা যে সঞ্চয়পত্র, সেই সঞ্চয়পত্রের ওপর কর দ্বিগুণ করা হয়েছে। অথচ সাধারণ মানুষের কাছে এটি একটি সামাজিক নিরাপত্তা খাত। এটি সাধারণ আয়ের অবসরপ্রাপ্ত মানুষের শেষ অবলম্বন। এছাড়া মধ্যবিত্তের মধ্যে যারা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করেন, তারাও এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই সঞ্চয়পত্রে বর্ধিত করহার প্রত্যাহার করা উচিত।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে মধ্যবিত্ত শ্রেণীতে বাড়ছে যুবক প্রজন্মের সংখ্যা, যাদের বয়স ৩০ থেকে ৪০-এর মধ্যে। এদের সুযোগ বৃদ্ধির জন্য এখন প্রয়োজন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সময়মতো নির্বাচন, গ্রহণযোগ্য ও সবার অংশগ্রহণে সরকার নির্বাচন। অর্থনীতি বিশ্লেষকরা মনে করেন, একটি পরিশীলিত সমাজব্যবস্থার জন্য মধ্যবিত্তের সুখী অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তারা একটি নির্দিষ্ট মানের জীবনযাত্রা পরিচালিত করে। মধ্যবিত্তের দেশপ্রেম, চেতনা ও মূল্যবোধ সমাজকে দারুণভাবে আলোড়িত করে। কিন্তু মধ্যবিত্তের সেই জৌলুসকে ম্রিয়মাণ করে দেয় রাষ্ট্রের অবহেলা। মধ্যবিত্ত সমাজের বিকাশে বিনিয়োগ বা প্রণোদনা নেই। তাদের সীমিত সঞ্চয় বিকাশে তেমন কোন উদ্যোগ নেই। উপরন্তু জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে মানসিকভাবেও তাদের পদে পদে ধাক্কা খেতে হয়। অথচ দেশে মধ্যবিত্তরাই এখন উন্নয়নের বড় অংশীদার। কারণ তারাই পণ্য বাজারজাতের বড় ভোগীদার। মধ্যবিত্তে প্রসারণের ফলেই নগরায়ণ বাড়ছে, বাড়ছে মাধুর্যতা। বিভিন্ন বিশ্লেষণ থেকে দেখা গেছে, শুধু বাজার অর্থনীতি নয়, স্থিতিশীল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও মধ্যবিত্তের অপরিসীম ভূমিকা রয়েছে। এ কারণে বলা হয়ে থাকে, মধ্যবিত্ত শ্রেণীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে সমাজের সবকিছুতেই আমূল পরিবর্তন আসতে পারে। মধ্যবিত্ত সমাজের বিকাশ প্রসঙ্গে ভারতীয় অর্থনীতিবিদ সুরজিৎ ভাল্লার মত দিয়েছেন, ‘মধ্যবিত্ত শ্রেণী যত বড় হবে ততই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার বাড়তে থাকবে।’ জাতীয় প্রবৃদ্ধি যতই বাড়বে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর আকার কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেতে থাকবে। অন্যদিকে নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিল ইস্টার্লি মনে করেন, ‘মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মতের মিল থাকলে দেশের উপার্জনের মাত্রা ও প্রবৃদ্ধি বেশি হয়। সমানতালে গণতন্ত্র প্রসার লাভ করে। ফলে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা হ্রাস পায়। হিউম্যান ক্যাপিটাল বা মানব পুঁজি সৃষ্টি হয়। অবকাঠামোর সমাহার হতে থাকে। অর্থনৈতিক নীতি উত্তম হয়। আধুনিক কাঠামো তৈরি ও নগরায়ণ প্রসার লাভ করে।’ তিনি সত্যিই বলেছেন, মধ্যবিত্ত সমাজের সরব উপস্থিতি এবং প্রবৃদ্ধি একই সঙ্গে চলে। কারণ উভয়ে অর্থনৈতিক নীতির ফল। বিশ্লেষকদের মতে বিগত তিন দশকে চীনে সম্পদের প্রাচুর্য বিশাল আকারে বৃদ্ধি হওয়া মধ্যবিত্ত সমাজের বিকাশের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। তাই আমরা যে উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি- মধ্যবিত্তের উপস্থিতি ছাড়া সে বাংলাদেশ প্রত্যাশা করাই অলীক বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। কারণ মধ্যবিত্তরা উচ্চ ও নিম্নবিত্তের ভারসাম্য রক্ষা করে। সমাজ ও রাষ্ট্রের আদর্শিক চেতনার প্ল্যাটফর্ম এই মধ্যবিত্ত সমাজ।

[লেখক : কৃষি ও অর্থনীতি বিশ্লেষক]

দৈনিক সংবাদ : ১৮ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার, ৬ এর পাতায় প্রকাশিত

ক্ষমার অযোগ্য বর্বরতা

বরগুনায় রিফাত নামের এক যুবককে নয়ন বন্ডের নেতৃত্বে এক দল সন্ত্রাসী প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নিয়ে বিদেশে প্রথম পা

১৮ সালেই বার্সেলোনা ভ্রমণের পর রাষ্ট্রীয় কাজে একবার জাপানও গিয়েছিলাম।

ডিজিটাল বিপ্লবীদের দেশে

২০১৯ সালের স্পেনের বার্সিলোনায় আয়োজিত বিশ্ব মোবাইল কংগ্রেসের ৮ নাম্বার হলে আমাদের এক টুকরো বাংলাদেশ-রিভ সিস্টেমের

sangbad ad

কৃষকের ধান ক্রয় নাকি চাল রফতানি?

গত সপ্তাহে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের টক-শোতে একজন সরকারি অর্থনীতিবিদের কথা শুনছিলাম। সরকারি বলছি এ কারণে যে তিনি

আসন্ন বাজেট : উন্নয়ন ও পাবনা

২০১৯-২০২০ সালের বাজেট আসন্ন জুনের অধিবেশনে পাস করা হবে এবং জুলাই থেকে তা কার্যকরী হওয়ার কথা। এ কথা ভাবাই যায়, খসড়া বাজেট প্রণয়ন কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে এবং এখন হয়তো তার ঝাড়াই-বাছাই চলছে।

নাটকের নাম ‘আমি’

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সাহিত্য অঙ্গনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বিকশিত শিল্প হচ্ছে নাটক। টিকিট করে নাটক দেখা শুরু হয় স্বাধীনতা

অনেক নাটকীয়তার পরে অবশেষে শপথ

রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশকিছু ওলোট-পালটের ঘটনা ঘটছে। শিগগিরই আরও কিছু ঘটবে বলে মনে হচ্ছে। মারাত্মকভাবে হতাশায় নিমজ্জিত দলগুলোতেই

প্রবৃদ্ধিকে টেকসই করতে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে হবে

image

চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের দেশজ উৎপাদন জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৮.১৩ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে সরকার। অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল মঙ্গলবার

বিধ্বংসী আত্মঘাতী বোমা

ইস্টার সানডেতে শ্রীলঙ্কার তিনটি গির্জা, তিনটি অভিজাত হোটেল ও দুটি জনবহুল স্থানে সিরিজ বোমা হামলায় এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে

sangbad ad