• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০১৯

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম

জিয়াউদ্দীন আহমেদ

নিউজ আপলোড : ঢাকা , রবিবার, ০৩ মার্চ ২০১৯

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক দল থেকে পদত্যাগ করার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার মাত্রা একটু বেড়ে গেছে। এ রাজনৈতিক দলটিকে নিষিদ্ধ করার দাবিও বিভিন্ন ব্যক্তির তরফ থেকে প্রায়ই উত্থাপিত হচ্ছে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে এ দলটি শুধু পাকিস্তানকে সমর্থন করেনি, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ও সমর্থকদের অত্যাচার, নির্যাতন করে ঘৃণাও কুড়িয়েছে। জামায়াতে ইসলাম রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস তৈরি করে পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে সমানতালে বাঙালিদের গুলি করে, বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে, জীবন্ত মাটি চাপা দিয়ে হত্যা করেছে, বাঙালি নারীদের গণিমতের মাল গণ্য করে ধর্ষণ করেছে। যারা আজ ধর্মের নামে রাজনৈতিক অঙ্গনে একচ্ছত্র হর্তাকর্তা তাদের মুখ থেকে এই ধর্ষণের বিরুদ্ধে একটি কথাও শুনিনি। যারা ধর্ষণ করেছে তারা ‘গণিমতের মাল’ অভিধায় এমন অপকর্মকে জায়েজ করে তৃপ্তি পেয়েছে। শুধু যৌন লালসায় এ পাকিস্তানিরা বাঙালি নারীদের ধর্ষণ করেনি, তারা ধর্ষণ করেছে বাঙালি জাতিকে অপমান করার জন্য। বাঙালিদের মধ্যে অনেক পন্ডিত, বিদগ্ধ ব্যক্তিকে বলতে শুনি, জামায়াতে ইসলাম একাত্তরে তাদের অপকর্মের কথা স্বীকার না করায় তাদের ক্ষমা করা যায় না। বাঙালিদের যেভাবে নির্যাতন করে তারা খুন করেছে তা তো মুখে উচ্চারিত ‘ভুল করেছি’ জাতীয় কথা দ্বারা উপশম হওয়ার কথা নয়। ব্যারিস্টার রাজ্জাক ইংল্যান্ড থেকে প্রেরিত পদত্যাগপত্রে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে তাদের দলটির ভূমিকাকে দায়ী করে উল্লেখ করেছেন যে, তার প্রচেষ্টা থাকা সত্ত্বেও ভুলের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার ব্যাপারে জামায়াতে ইসলামকে সম্মত করাতে পারেননি। বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় এ আইনজীবী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াত নেতাদের পক্ষে প্রধান কৌঁসুলি হিসেবে কয়েক বছর কাজও করেছেন।

রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম এখন কোন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছে না। এ দলের নিবন্ধন বাতিল করে দেয়া হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল এখন সুপ্রিমকোর্টে শুনানির অপেক্ষায় আছে। বিগত সংসদ নির্বাচনে এ দলটির প্রার্থীরা বিএনপির ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করেছে। বিএনপির সঙ্গে একাত্ম হয়ে নির্বাচন না করে তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েও নির্বাচন করতে পারত। ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সমঝোতায় বিএনপি নির্বাচনে নেমে জামায়াতে ইসলামের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার ব্যাপারে কিছুটা চাপে ছিল। এ চাপে বিএনপি নত হয়নি। কারণ ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের ব্যক্তিগত গুরুত্ব থাকলেও জনভিত্তি তাদের কোন দলের জামায়াতে ইসলামের মতো তত ব্যাপক নয়। সারা দেশে আন্দোলন বা নির্বাচন প্রচারণায় ক্যাডারভিত্তিক কর্মী সমাবেশের একমাত্র ক্ষমতা রয়েছে জামায়াতে ইসলামের। তাই বিএনপি তাদের স্বার্থ বিবেচনায় সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছিল। কিন্তু বিএনপির প্রত্যাশা অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামের কর্মীরা নির্বাচনে কোন ভূমিকা রাখতে পারেনি; অবশ্য ভূমিকা রাখার মতো সাহস ও মনোবল তারা ইতোমধ্যে হারিয়ে ফেলেছে। সরকারবিরোধী আন্দোলনে ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমে জড়িত থাকার কারণে, পেট্রলবোমায় মানুষ পুড়িয়ে মারার ঘটনা অবলোকন করে সাধারণ জনগণের মনেও জামায়াতে ইসলামের কর্মীদের প্রতি বিতৃষ্ণা জন্মেছে। দৃশ্যমান এসব ঘটনার কুশলিবসহ সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া সরকারের জন্য সহজতর হয়ে যায়। ফলে আন্দোলন বা নির্বাচনে বিরোধী কোন দলের সক্রিয় হওয়া সম্ভবও ছিল না।

সাম্প্রতিক সময়ে নানা ইস্যুতে জোটের প্রধান দুই শরিক বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামের মধ্যে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলে মনে হয়। কিন্তু এমন কোন দূরত্বের কথা কোন দল প্রকাশ্যে স্বীকার করছে না। আওয়ামী লীগের বিবৃতিতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামের ভাঙ্গনের কথা শোনা যায়। বিএনপি’র শীর্ষস্থানীয় নেতারাও তাদের সাংগঠনিক কাঠামোতে পরিবর্তন আনার আবশ্যকতার কথা বলেছেন। জামায়াতে ইসলাম থেকে ব্যারিস্টার রাজ্জাক ছাড়াও আরেকজন নেতা পদত্যাগ করেছেন। সাংগঠনিক কাঠামোর ভেতরে আলোচনা না করে এই দলটির ভুল স্বীকারপূর্বক ক্ষমা চাওয়ার অপরিহার্যতাবিষয়ক মতামত বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ করায় জামায়াতে ইসলাম ইতোমধ্যে তাদের একজন নেতাকে বহিষ্কারও করেছে; বহিষ্কৃৃত নেতাও বিবৃতি দিয়ে তা সবাইকে জানাচ্ছেন। তবে এমন পদত্যাগ, বহিষ্কার সব দলেই কম-বেশি হয়- এগুলো দিয়ে একটি রাজনৈতিক দলের ভঙ্গুরতা প্রমাণ করা ঠিক হবে বলে মনে হয় না।

ধর্মভিত্তিক কোন দল গণতন্ত্রে বিশ্বাস করার কথা নয়। ধর্মভিত্তিক দলগুলো ধর্মীয় অনুশাসন মোতাবেক রাষ্ট্র পরিচালনা করবে- এমনতর ঘোষণা তাদের স্ব স্ব গঠনতন্ত্রে উল্লেখ করা আছে। কোন একটি ধর্মভিত্তিক দল ক্ষমতায় গেলে তারা একই ধর্মের অন্য তরিকার লোকদেরও ভিন্নমত পোষণ করে আলাদা দল গঠন করতে দেবে না। যেসব দেশে শাসন ব্যবস্থায় ধর্মকে অনুসরণ করা হয় সেসব দেশে একদলীয় শাসন পরিলক্ষিত হয়, বহু দলীয় গণতন্ত্র নেই। সমাজতন্ত্র বা সাম্যবাদের মতো একদলীয় শাসনের বাইরে গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র বহুদলীয় গণতন্ত্রের অনুমতি থাকলে কোন একটি দল মানুষের তৈরি আইনকানুন নিয়ে প্রচারণা চালানোর অধিকার পাবে- কিন্তু এ স্বাধীনতা কোন ধর্ম অনুমোদন করে না। এই সীমাবদ্ধতার কথা ধর্মভিত্তিক দলগুলো জানে; তারা পাশ্চাত্যের গণতন্ত্রের সুযোগ নিয়ে ক্ষমতায় গিয়েই একদলীয় শাসন কায়েম করবে, অন্য দলগুলোকে নিষিদ্ধ করবে। জামায়াতে ইসলামও গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না; তাদের মতে গণতন্ত্র হচ্ছে বিষাক্ত দুধের মাখনের মতো। গণতন্ত্রের মাধ্যমে কোন সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া ইসলাম অনুযায়ী হারাম বলে মাওলানা মওদুদী তার ‘রাসায়েল ও মাসায়েল’ বইতে উল্লেখ করেছেন। যারা বহু দলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার দিয়ে রাজনৈতিক দল করার সুযোগ দেয়ার যথার্থতা নিয়ে বিদগ্ধজনদের মধ্যে মতভেদ আছে। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায়ও বিভিন্ন কারণে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা হয়। আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের ভেতরে পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত দলকে নিষিদ্ধ করার জন্য বিভিন্ন দেশের চাপও থাকে। বাংলাদেশেও ধর্মভিত্তিক কয়েকটি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

‘জামায়াতে ইসলাম হিন্দ’ নামে এ দলটি গঠিত হয় ১৯৪১ সনে; দলের প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ আবুল আলা মওদুদী। এই দলটি পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার তীব্র বিরোধিতা করেছে বলে বহু লেখকের লেখায় লক্ষ্য করেছি। আর যারা পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন তাদের মওদুদী সাহেব খাঁটি মুসলমান বলে স্বীকারই করেননি। পাকিস্তান হওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তানে না এলেও মওদুদী তার দলের প্রধান কার্যালয় কিন্তু পাকিস্তান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লাহোরে স্থানান্তর করেন। ১৯৫৪ সনে গোলাম আযম জামায়াতে ইসলামে যোগ দেন; গোলাম আযমের মধ্যেও এমন পরস্পরবিরোধী কার্যক্রম লক্ষ্য করা যায়। ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী গোলাম আযম পরবর্তীতে ১৯৭০ সনে পশ্চিম পাকিস্তানে তাকে দেয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেছেন যে, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে তার অংশ নেয়া মারাত্মক ভুল ছিল এবং সে জন্য তিনি দুঃখিত। মওদুদী একজন সুপরিচিত লেখক; তার রচিত বহু গ্রন্থ রয়েছে। ধর্ম নিয়ে তার মতামত ও ব্যাখ্যা মতভেদের সৃষ্টি করেছে। তার লেখা ‘কাদিয়ানী সমস্যা’ বইটিতে কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম প্রমাণের চেষ্টা করেছেন। ১৯৫৩ সনে মওদুদী কাদিয়ানীদের অমুসলিম ফতোয়া দিলে তাদের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশ্যান ঘোষণা করে মুসলমানগণ জেহাদ আরম্ভ করে দেয়। জেহাদ ঘোষণায় সৃষ্ট সাম্পদায়িক দাঙ্গায় করাচিতে কয়েক হাজার কাদিয়ানী মারা যায়। বিচারে মাওলানা মওদুদী দোষী প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করে। তবে কিছু মুসলিম দেশের সুপারিশ ও চাপে পরবর্তীতে মৃত্যুদন্ড প্রত্যাহার করে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়া হয়; কিন্তু কিছুদিনের ভেতর যাবজ্জীবন কারাদন্ডও প্রত্যাহার করা হয়।

শুধু বাংলাদেশ আমলে নয়, পাকিস্তান আমলেও জামায়াতে ইসলামকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এখনও অনেকে এ দলটিকে নিষিদ্ধ করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছে। আওয়ামী লীগের সমর্থক বুদ্ধিজীবীগণ এ ব্যাপারে সোচ্চার। কিন্তু আদর্শভিত্তিক একটি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করে সে দলের কর্মী ও সমর্থকদের মনোভাবে পরিবর্তন আনা কোনভাবেই সম্ভব হয় না। জামায়াতে ইসলাম নিষিদ্ধ করা হলেও তার কর্মীদের আওয়ামী বিরোধী মনোভাবের পরিবর্তন আনা যাবে বলে মনে হয় না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্র শিবিরের অস্তিত্ব নেই বলে কী এই সংগঠনের ছাত্ররা ছাত্রলীগের সমর্থক? পাকিস্তান আমলে কমিউনিস্টদের রাজনীতি করার অধিকার ছিল না বলে কি কমিউনিস্টদের অস্তিত্ব ছিল না? একটি রাজনৈতিক দলের ‘নাম’ বাজেয়াপ্ত করা গেলেও সেই দলের কর্মীদের রাজনীতি করার অধিকার ক্ষুণ্ন করা যাবে না। তারা আবার নতুন নামে সংগঠিত হবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, নামে কাউকে চেনা যায় না- ‘মৃত্যুঞ্জয়’ নামে ডাকলে কেউ মৃত্যুকে জয় করতে পারে না অথবা ‘মরণ’ নাম হলে কেউ যখন তখন মরে যায় না। নতুন নামে সংগঠিত না হতে পারলেও এরা নিশ্চয়ই আওয়ামী রাজনীতি এড়িয়ে চলবে। এ রাজনৈতিক দলটির প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মওদুদীর ধর্মীয় মতাবাদ ও ব্যাখ্যা অন্যান্য ধর্মবেত্তাদের পছন্দ নয় বলে তারা জামায়াতে ইসলামের ঘোরবিরোধী; পরিলক্ষিত হয়েছে জামায়াতে ইসলাম যে জোটে থাকে ধর্মের অন্য তরিকার লোকেরা তার বিপক্ষে ভোট দেয়। জামায়াতে ইসলামীর বিএনপির সঙ্গে জোট বাঁধার কারণে জামায়াতের বিরোধী মুসলমানেরা সাধারণত বিএনপির বিপক্ষে ভোট দিয়ে থাকে; জামায়াতে ইসলাম নিষিদ্ধ হলে জামায়াতে ইসলামের কট্টরবিরোধীদের কমন প্রতিপক্ষ বলে আর কিছু থাকবে না, ভোটের যে বেনিফিট আওয়ামী লীগ এখন ভোগ করছে তা বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। দ্বিতীয়ত জামায়াতে ইসলামের অস্তিত্ব না থাকলে অন্য তরিকার লোকেরা দুর্দমনীয় হয়ে উঠতে পারে, তখন তাদের কমন শত্রু হবে গণতান্ত্রিক শক্তি ও শাসকেরা।

২০১৩ সনে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ এবং একে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে এ দলের সদস্যরা হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি আক্রোশমূলক নির্যাতন, বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডে পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিল। একাত্তরে সংঘটিত ইতিহাসের বৃহত্তম গণহত্যার জন্য দলটা জাতির কাছে ক্ষমা চায়নি বলে অনেকে বক্তৃতা, বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এই দলের এক সময়ের আমির গোলাম আযম ‘পূর্ব পাকিস্তান উদ্ধার কমিটি’ও গঠন করেছিলেন এবং একাত্তরে তাদের ভূমিকার জন্য অনুতপ্ত নন বলে জানিয়ে দেন। মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানে শোচনীয় পরাজয়ের পর গোলাম আযম পশ্চিম পাকিস্তানে পালিয়ে যান এবং জামায়াতে ইসলাম নিষিদ্ধ হয়। দল নিষিদ্ধ হলেও গোলাম আযম পশ্চিম পাকিস্তানে গিয়ে বসে থাকেননি, তিনি মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোতে সফর করে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দেয়ার জন্য মুসলিম দেশগুলোকে প্রভাবিত করতে থাকেন। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর ক্ষমতার রদবদল হলে ১৯৭৯ সনে বিএনপির আমলে ‘জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ’ গঠিত হয়, জনসম্মুখে দল নিয়ে তারা হাজির হতে থাকে, বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করে, মন্ত্রী হয়, গাড়িতে পতাকা লাগায়। আশ্চার্য বিষয় হচ্ছে, মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত কাদের মোল্লা ১৯৮২ সনে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়। জনগণের কাছে বিএনপির জনপ্রিয়তা থাকায় বিএনপির সঙ্গে জোট বেঁধে জামায়াতে ইসলাম দ্রুত সংগঠিত হতে থাকে। বিএনপির বদান্যতা এবং আওয়ামী লীগের নিষ্ক্রিয়তায় সৃষ্ট জামায়াতে অপ্রতিরোধ্য গতি থামিয়ে দেয় জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গঠিত ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। জাহানারা ইমামের এ গণসংযোগে নব প্রজন্ম একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকা সম্পর্কে জানার ব্যাপারে কৌতূহলি হয়ে উঠে এবং জামায়াতে ইসলাম কোণঠাসা হয়ে পড়ে।

এই দলটির ক্যাডারভিত্তিক কর্মীরা সংঘবদ্ধ থাকলেও কর্মীর বাইরে জনভিত্তি কম; ২০০১ সনে বিএনপির সঙ্গে জোট করে ১৮টি সিটে জয়লাভ করলেও ২০০৮ সনে আলাদা নির্বাচন করে মাত্র ৩টি সিটে জয়লাভ করতে সমর্থ হয়। একাত্তরে ভূমিকার জন্য জামায়াতের অধিকাংশ নেতার বিচারে মৃত্যুদন্ড ও যাবজ্জীবন কারাদন্ড হওয়ার কারণে দলটি প্রায় নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে জামায়াতের আর্থিক প্রতিষ্ঠাগুলো হাতছাড়া হয়ে যাওয়াতে চরম বিপর্যয়কর অবস্থায় পড়ে গেছে দলটি। এ দলটি নিষিদ্ধ হলে জামায়াতের শূন্যস্থানে নিশ্চয়ই গণতান্ত্রিক শক্তির অভ্যুদয় হবে না, জাগরণ হবে আরেকটি বা একাধিক ভিন্ন তরিকার ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের। এ মতাদর্শের লোকগুলো ব্যক্তিগত জীবন থেকে যখন ধর্মকে রাষ্ট্রীয় জীবনে প্রোথিত করতে যায় তখনি শুরু হয় একচেটিয়া শাসনের বাকরুদ্ধ যাতনা। অন্য কট্টরপন্থি গোষ্ঠীগুলোও বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা এবং অসাম্প্রদায়িক গণতন্ত্রের জন্য হুমকি। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে এরা মাঝে মাঝে সশস্ত্র জিহাদের হুমকি দিয়ে থাকে।

[লেখক : বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক]
zeauddinahmed@gmail.com

দৈনিক সংবাদ : ৩ মার্চ ২০১৯, রোববার, ৬ এর পাতায় প্রকাশিত

রাষ্ট্রভাষার প্রয়োগ হচ্ছে না

বাংলাদেশে বাংলা ভাষা-সাহিত্য ও বাংলা হরফ নিয়ে প্রচুর মাতামাতি থাকলেও আসলে বাংলাদেশে বাংলার সেই মর্যাদা নেই যেটির সাংবিধানিক

উপাসনালয়ে জঙ্গি-আক্রমণ

কয়েক দিন আগে নিউজিল্যান্ডের দুটি মসজিদে এক শ্বেতাঙ্গ জঙ্গির সন্ত্রাসী হামলায় ৫০ জন মুসলমান মারা গেছেন। জুমার নামাজে মুসল্লিদের ওপর এমন

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান

image

মহান রাষ্ট্রনায়ক, স্থিতধি রাজনীতিবিদ, প্রখ্যাত জননেতা, ভাষাসৈনিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং দেশিকোত্তম ব্যক্তিত্ব, বাংলাদেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি

sangbad ad

‘বাংলাদেশের গণহত্যা-রাজনীতি ও প্রতিহিংসার ইতিহাস’- পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ

বাংলাদেশে গণহত্যা কার্যক্রম অপারেশন সার্চলাইটের অধীনে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে পূর্ব

মুজিব : ভাষারাষ্ট্রের পিতা

image

মুজিব তোমাকে শততম জন্মদিনের শুভেচ্ছা। বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম বাঙালি, বিশ্বের একমাত্র বাংলা ভাষার রাষ্ট্রের পিতা, বাংলা ভাষার আন্দোলনের জনক, চার

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা

গ্যাস লাভজনক অবস্থায় দফায় দফায় দাম বাড়নো হচ্ছে। গত ২০১৭ সালে গ্যাসের দাম বাড়ানো

মানসম্মত শিক্ষার চ্যালেঞ্জগুলো

বাংলাদেশ দিন দিন উন্নত হচ্ছে এবং বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। কিন্তু একইসঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষার মানে

মফস্বলের সাংবাদিকরা গৃহবন্দী

বর্তমানে সাংবাদিকতা এক কঠিন অবস্থার ভেতর দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। রাষ্ট্রের ৪র্থ স্তম্ভ বলে

রাজধানীর বায়ুদূষণ : আমাদের বিবেক জাগ্রত হোক

বিভিন্ন দেশের বাতাসের মান নিয়ে গবেষণা করে আসছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার। সম্প্রতি বৈশ্বিক বায়ুমান প্রতিবেদন ২০১৮

sangbad ad