• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৯

 

আমজনতার অর্থনীতি

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান

ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ

নিউজ আপলোড : ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯

image

মহান রাষ্ট্রনায়ক, স্থিতধি রাজনীতিবিদ, প্রখ্যাত জননেতা, ভাষাসৈনিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং দেশিকোত্তম ব্যক্তিত্ব, বাংলাদেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি প্রয়াত মো. জিল্লুর রহমান (৯ মার্চ ১৯২৯-২০ মার্চ ২০১৩) ছিলেন এ ভূখন্ডের এমন একজন ক্ষণজন্মা পুরুষ, যিনি ছিলেন আপন মহিমায় ভাস্বর। অমায়িক ব্যবহার, স্বল্পভাষী এবং সদালাপি। দেশ ও জাতির সংকটময় মুহূর্তে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে, দৃঢ়তার সঙ্গে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করার ও রাখার ব্যাপারে অয়োময় প্রত্যয়ের অধিকারী ছিলেন তিনি।

সেদিনের সে মাহেন্দ্রক্ষণের কথা মনে পড়ছে। বঙ্গভবনে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ তারিখে দেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেয়ার পর রাষ্ট্রপতির আসন গ্রহণ করার আগের মুহূর্তে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান অচল পাহাড়ের মতো বুকটান করে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তখন বিনম্র শ্রদ্ধায় এবং সুশীল আচরণে সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে সবাই বাধ্য হয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন। এভাবে নবনিযুক্ত রাষ্ট্রপ্রধান সবার সম্মান ও সমীহ অর্জন করেন। অর্থাৎ অত্যন্ত অমায়িক ব্যবহারের ঋজু প্রকৃতির মানুষটি রাষ্ট্রপ্রধানের পদকে দীপ্ত ও দৃঢ়চিত্ত সম্মান প্রদর্শনের দ্বারা ঐক্যবদ্ধ প্রেরণায় প্রলুব্ধকরণের পক্ষে ছিলেন।

মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্র বিধৌত কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজারের ভাটি থেকে উঠে আসা মো. জিল্লুর রহমান তার দলের সাধারণ একজন সদস্য হতে দেশের এক নম্বর ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন। তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন, ১৯৬২ সালের আইয়ুববিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, এমনকি পরিণত বয়সে ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী ও নেতা ছিলেন। তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত আস্থাভাজন ছিলেন; ছিলেন দলের বর্তমান সভানেত্রীরও। ওয়ান-ইলেভেনের পর সংকটকালীন দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে কোমলে-কঠোরে অবস্থান গ্রহণের দ্বারা তিনি সময়ের সাহসী নেতৃত্বে আসীন হন। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দুই-দুইবার (১৯৭২-৭৫ এবং ১৯৯৬-২০০১) সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন সবচাইতে গুরুত্ববহ সময়ে। তিনি বঙ্গবন্ধু (১৭ মার্চ ১৯১৯Ñ১৫ আগস্ট ১৯৭৫) এবং জিয়াউর রহমান (১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬Ñ৩০ মে ১৯৮১) সালের পর বাংলাদেশের তৃতীয় রাষ্ট্রপতি, যিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকালে মৃত্যুবরণ করেন।

২০০১ সালের কথা, তিনি তখন স্থানীয় সরকার ও সমবায় বিভাগের মন্ত্রী। হোটেল পূর্বাণীতে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতির ওপর একটি সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে এসেছিলেন। বিনিয়োগ বোর্ডে বৈদেশিক বিনিয়োগ উইংয়ের পরিচালক হিসেবে আমি ওই সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করি। কিভাবে সে সময় দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে সে সংক্রান্ত তথ্য পরিসংখ্যানসহ বক্তব্য উপস্থাপনের পর মঞ্চে বসার সময় আমাকে সহাস্য ধন্যবাদ জানিয়ে ছিলেন এবং সেমিনার শেষে চলে যাওয়ার সময় পরম স্নেহে আমার পিঠে হাত রেখে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। আমাকে ব্যক্তিগতভাবে মনে রেখেছিলেন। পরবর্তীকালে যে কোন অনুষ্ঠান কিংবা বঙ্গভবনে জাতীয় দিবসগুলোতে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যখনই দেখা হয়েছে সব সময়ই ব্যক্তিগত কুশলাদি জানতে চেয়েছেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে দায়িত্ব পালনের পর আমার স্বয়ম্ভর বাংলাদেশের প্রত্যাশায় ‘আমার এনবিআরের দিনগুলি’ নামে একটি বই বের হয় মওলা ব্রাদার্স থেকে। তাকে বইটি দিতে গেলাম বঙ্গভবনে। খুব খুশি হলেন এবং সেখানে উপস্থিত তার সচিব, সামরিক সচিব, প্রেস সচিব সবার সামনে আমাকে উপলক্ষ করে বললেন, ‘উনি আমার একজন প্রিয় ব্যক্তি।’ তিনি এ কথাও বললেন, রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান থাকার সময় আমার উদ্যোগ ও প্রয়াস তিনি অবহিত হতেন, আমার বক্তব্য তিনি মনোযোগ দিয়ে শুনতেন এবং তার ভালো লাগত। আমার বইটি সময়ের দলিল হয়ে থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করলেন এবং আমাকে বিশেষভাবে অভিনন্দন জানালেন। এরপর বঙ্গভবনে প্রতিবার বিভিন্ন জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানাদিতে গিয়ে তার সঙ্গে সালাম বিনিময় ও সাক্ষাতকালে তিনি আমার ও আমার স্ত্রীর সঙ্গে কিছু কথা বলতেনই। এটি তার সহজাত মহানুভবতা এবং আমাদের মতো নগন্য সুশীল সেবকদের আত্মবিশ্বাস ও মর্যাদার মহান অভিষেক।

রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান এবং তার স্ত্রী মরহুমা আইভি রহমান (৭ জুলাই ১৯৩৬-২৪ আগস্ট ২০০৪) শিক্ষাবিদ ও সুফী সাধক খান বাহাদুর আহ্ছানউল্লার (১৮৭৩-১৯৬৫) অনুরক্ত ভক্ত ছিলেন। তারা উভয়ে নলতা শরীফ সফরও করেছিলেন। ঢাকা আহছানিয়া মিশন থেকে প্রকাশিত ‘খান বাহাদুর আহছানউল্লাহ স্মারক গ্রন্থ’ (২০০২)-এ তাদের দুজনের দুটি লেখাও সংযোজিত হয়েছে। বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক। আমি যখন সোসাইটির ট্রেজারার তখন খান বাহাদুর আহ্ছানউল্লার শিক্ষা ও সমাজ চিন্তার ওপর একটি গবেষণা কর্মের দায়িত্ব পাই। তিনি এটা জেনে খুব খুশি হয়েছিলেন এবং নিষ্ঠার সঙ্গে এ মহান শিক্ষাবিদ ও সাধক ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন দিক যাতে তুলে ধরতে পারি সেজন্য ইতিহাসের ছাত্র প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান আমাকে বিশেষ পরামর্শ দিয়েছিলেন। এশিয়াটিক সোসাইটি থেকে গবেষণাকর্মটি বই আকারে প্রকাশিত হয়েছে এটি তিনি জেনেছিলেন। বইটি তার করকমলে পৌঁছাতে যাব এমন সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ২০ মার্চ ২০১৩ তারিখে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন।

জনাব জিল্লুর রহমান ১৯২৯ সালের ৯ মার্চ কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মেহের আলী মিয়া ছিলেন প্রখ্যাত আইনজীবী ও তৎকালীন ময়মনসিংহ লোকাল বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং জেলা বোর্ডের সদস্য।

তার শিক্ষাজীবন শুরু হয় ময়মনসিংহ জেলা শহরে। ১৯৪৫ সালে ভৈরব কে বি হাইস্কুল থেকে তিনি ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। তারপর ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ থেকে আইএ এবং ১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে অনার্সসহ এমএ ও এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন।

১৯৪৬ সাল। ভারতজুড়ে ব্রিটিশ খেদাও আন্দোলন জোরদার হয়ে উঠেছে। বৃহত্তর সিলেট ছিল তখন আসাম প্রদেশভুক্ত। মুসলিম লীগের ছাত্র সংগঠন অলইন্ডিয়া মুসলিম ছাত্রলীগের (দেশ ভাগের পর বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ সংগঠনটি বিলুপ্ত হয়) নেতা শেখ মুজিবুর রহমান সিলেট মুসলিম লীগ নেতা মওলানা ভাসানীর সঙ্গে গণভোটে পাকিস্তানের পক্ষে জনমত তৈরিতে প্রচারণায় ব্যস্ত। ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের ছাত্র জিল্লুর রহমান এ গণভোটে প্রচারণার কাজ করতে গিয়ে সান্নিধ্যে আসেন শেখ মুজিবের। তারপর থেকে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত যুক্ত ছিলেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী দিনগুলোর ক্লান্তিহীন কর্মী ছিলেন বাংলাদেশের বর্ষীয়ান এই রাজনীতিক। একজন আওয়ামী লীগার হিসেবে রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন দেয়া হলেও রাজনীতির ভেতরের বাইরের সবার কাছে তিনি ছিলেন অভিভাবক।

১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষার দাবিতে ছাত্রদের চার বছর ধরে চলমান আন্দোলনের সময় দলীয় সিদ্ধান্তে ছাত্রলীগ নেতা জিল্লুর রহমান অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন এ আন্দোলনে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় এক ছাত্র সমাবেশে জিল্লুর রহমান সভাপতিত্ব করেন। সেখানেই গ্রহণ করা হয় ২১ ফেব্রুয়ারির গণপরিষদ ঘেরাও কর্মসূচি। ঢাকায় তখন গণপরিষদের অধিবেশন চলছিল। নুরুল আমিনের সরকার এ কর্মসূচি বানচালের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি করে। ২০ ফেব্রুয়ারিতে ফজলুল হক ও ঢাকা হলের পুকুরপাড়ে যে ১১ জন নেতার নেতৃত্বে ২১ ফেব্রুয়ারির ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, সেখানে জিল্লুর রহমান অন্যতম নেতা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। পরের দিন ২১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছাত্রদের নিয়ে এ ছাত্রনেতারা তৈরি করেন ইতিহাস। ভাষার দাবিতে জীবন দেয় বাঙালি।

ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার অপরাধে জিল্লুর রহমান সেই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার হন এবং একই সঙ্গে তার মাস্টার্স ডিগ্রি কেড়ে নেয়া হয়। কিন্তু প্রবল আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পুনরায় তার মাস্টার ডিগ্রি ফিরিয়ে দেয়।

১৯৫৩ সালে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফজলুল হক হল ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৫৪ সাল। ঐতিহাসিক সেই গণপরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের পক্ষে জিল্লুর রহমান বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে কাজ করে বিজয় ছিনিয়ে আনেন। একই সময়ে তখন তিনি ছিলেন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রধান। ১৯৫৬ সালে তিনি কিশোরগঞ্জ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নির্বাচিত হন। ষাটের দশকে তিনি ঢাকা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ সময়েই তিনি আইভি রহমানের সঙ্গে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন। বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভানেত্রী এবং জাতীয় মহিলা সংস্থার সাবেক চেয়ারপারসন আইভি রহমান গ্রেনেড হামলায় মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মহিলা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আইভি রহমান মারা গেলে তা বড় আঘাত হয়ে আসে জিল্লুর রহমানের জীবনে। তবু সেসব সামলে নিয়ে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে ১/১১ পরবর্তী সময়ে আবার হাল ধরেন আওয়ামী লীগের। ১৯৬২ সালের সামরিক শাসনবিরোধী শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানসহ প্রতিটি গণআন্দোলনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পাশে থেকে তিনি অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭০ সালে তিনি বিপুল ভোটে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য (এমএনএ) নির্বাচিত হন।

মো. জিল্লুর রহমান ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। মুজিবনগর সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারক ছিলেন তিনি। যুক্ত ছিলেন মুজিবনগর সরকার পরিচালিত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের পরিচালনা এবং জয় বাংলা পত্রিকার প্রকাশনার সঙ্গে। সেই সময় পাকিস্তান সরকার তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল করে তাকে ২০ বছর কারাদন্ড প্রদান করেছিল এবং তার সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছিল।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে তিনি বাংলাদেশ গণপরিষদের সদস্য হিসেবে সংবিধান প্রণয়নে অংশ নেন। ১৯৭৩ ও ১৯৮৬ সালে তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ সালে ৭ম জাতীয় সংসদে তিনি পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে ২০০১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করেন মহান জাতীয় সংসদের উপনেতা হিসেবে। ২০০১ সালে ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশে জরুরি আইন জারির পর ওই বছরের ১৬ জুলাই রাতে দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা গ্রেফতার হলে তিনি অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে দল পরিচালনা করেন। দীর্ঘ ১১ মাস শেখ হাসিনার জেলজীবন এবং চিকিৎসার জন্য আরও প্রায় ৬ মাস দেশের বাইরে অবস্থানকালে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. জিল্লুর রহমান দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখেন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল অবদান রাখেন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অবিস্মরণীয় বিজয় লাভ করে। ওই নির্বাচনে তিনি ৬ষ্ঠ বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পূর্ব পর্যন্ত তিনি নবম জাতীয় সংসদের সংসদ উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৯ সালে বাংলাদেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে জিল্লুর রহমান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন এবং ওই বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি শপথের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

[লেখক : সরকারের সাবেক সচিব, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান]

দৈনিক সংবাদ : ২১ মার্চ ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ৬ এর পাতায় প্রকাশিত

ডিজিটাল বিপ্লবীদের দেশে

২০১৯ সালের বিশ্ব মোবাইল কংগ্রেসে ৮ নাম্বার হলে আমাদের এক টুকরো বাংলাদেশ দেখতে রিভ সিস্টেম দেখতে যাবার পথে হঠাৎ একটি বাক্য দেখে

দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজন জাতীয় বিল্ডিং কোডের যথাযথ বাস্তবায়ন

অগ্নিদুর্ঘটনা পিছু ছাড়ছে না রাজধানী ঢাকার। মাত্র ৩৭ দিনের ব্যবধানে রাজধানী ঢাকায় ঘটল আরেকটি বিভীষিকাময় আগ্নিকান্ড। গত ২০

রাজনীতিকে নোংরামির পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার দক্ষ এ দুই খেলোয়াড়

রাজনীতিতে সর্বকালেই দুষ্টু গ্রহণের আবির্ভাব হয়েছে। তারা রাজনীতির মতো সুন্দর ও সম্ভাবনাময় অঙ্গনকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, নোংরা করেছে।

sangbad ad

গড়ে তুলুন ডিজিটাল স্কুল

image

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিগত দশকের সবচেয়ে যুগান্তকারী স্লোগানটি হলো ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’। স্লোগান হিসেবে এটি যত বেশি আলোচিত

আগুন আগুন

ত্রিশ-চল্লিশ বছর পূর্বে গ্রামের কোথাও আগুন লাগলে আমরা ‘আগুন আগুন’ বলে চিৎকার করতাম; এ চিৎকার শুনে সবাই দৌড়ে এসে

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বদলি ও পদায়ন নিয়মের মধ্যে আনুন

বদলি ও পদায়ন নিয়ে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে থাকা কর্মকর্তাদের বদলি না করা, অনিয়মে

সড়কপথে হত্যালীলা নিত্যদিন প্রতিদিন!

‘নিরাপদ সড়ক চাই’ দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন গড়ে তুলল তাদের দুই সতীর্থের আকস্মিক ও নির্মম হত্যার প্রতিবাদে। আকস্মিকভাবে

আরও ভালো হবে পঞ্চম শ্রেণী থেকে পাবলিক পরীক্ষাটা তুলে দিলে

শিশু শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে পরীক্ষার চাপ কমানোর কথা চলে আসছিল বেশ আগে থেকেই। এবার সে চাপ কমে গেল। তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত আর

ডিজিটাল সংযুক্তি ও জীবনধারা

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা বিভিন্নভাবে আলোচিত হয়েছে। প্রধানত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য তিনটি কৌশলের কথা বলা হয়ে থাকে।

sangbad ad