• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০

 

নিলাম তত্ত্বে অর্থনীতির নোবেল

শঙ্কর প্রসাদ দে

নিউজ আপলোড : ঢাকা , শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২০

image

ধরুন বহুকাল আগে একটি গরুর জন্য একজন পাঁচটা ছাগল দিতে চেয়েছিল। আরেকজন এসে বলল সে ছয়টি দেবে। দ্রব্য বিনিময় প্রথায়ও নিলাম ছিল। স্বর্ণমুদ্রা, রৌপ্যমুদ্রা ও টাকা প্রচলনের পর থেকে অদ্যাবধি সর্বনিম্ন মূল্য থেকে নিলাম হাঁকা হয় উপরের দিকে। ইতিহাসে বহু রাজ্য নিলামে উঠেছিল। দিল্লির সম্রাটরা নবাবীগুলোকে পত্তন দিত নিলামের ভিত্তিতে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা দখলের পর থেকে নিলামে ধাক্কা লাগে। কোম্পানি অনেকটা গায়ের জোরে নামমাত্র মূল্যে বাংলার কর আদায়ের সনদ নিয়েছে দিল্লি থেকে। তারা মহারাজ নন্দকুমারকে খাজনা আদায়ের জন্য উপপত্তন দিয়েছিল। অবশ্য ওই ব্রিটিশরাই নন্দকুমারকে প্রকাশ্য ফাঁসিতে ঝুলিয়েছিল। মূল বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল খাজনা আদায়কে কেন্দ্র করে। সে এক অন্য ইতিহাস। কর্ণওয়ালিশ বাংলায় খাজনা আদায়ের জন্য নিলামের এক অভিনব পদ্ধতি প্রয়োগ করেন। নিলামের মাধ্যমে খাজনা আদায়ের নিমিত্তে তিনি সর্বোচ্চ করদাতাদের জমিদারি বন্দোবস্তি দেন। ১৭৯৩ সালে প্রবর্তিত এই পদ্ধতিই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নামে খ্যাত।

পত্রিকার পাতা উল্টালেই আমরা অনেক নিলাম বিজ্ঞপ্তি দেখি। শুরু হয় নিম্ন থেকে উপরের দিকে দাম উঠার পালা। এই পদ্ধতিতে সমস্যা হলো ক্রেতাদের মধ্যে এক ধরনের বোঝাপড়া হয়। একটি ন্যূনতম মূল্যের বাইরে অন্যরা দাম হাঁকে না। অনেক সময় নিলাম দাতা একটি ন্যূনতম দাম ঠিক করে নিলাম ক্রেতাদের আহ্বান জানান। অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে নিলাম বিক্রেতা তথ্যের অভাবে যে ন্যূনতম দাম হেঁকেছেন, তা প্রকৃত বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক নিচে বা অনেক উপরে মার্কিন অর্থনীতিতে এ সমস্যার মুখোমুখি হয়ে আমেরিকান সরকার রাজস্ব হারাচ্ছিল। সেটি দু’দিক থেকে, বিশেষত; ডিজিটাল নেটওয়ার্ক বিভিন্ন রাজ্যে কম মূল্যে বিক্রি হচ্ছিল। ফলে মার্কিন সরকার যেমন দাম পাচ্ছিল কম, তেমনি কর আদায়ও স্বাভাবিকভাবে হচ্ছিল অনেক কম।

এই অবস্থা তাত্ত্বিক, গাণিতিক ও বাস্তবতার নিরিখে পর্যবেক্ষণ করেন, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক রবার্ট উইলসন এবং তার ছাত্র পল মিলগ্রোম, এই দু’শিক্ষক ক্লিনটন প্রশাসনকে পরামর্শ দিলেন, সব রাজ্যের ডিজিটাল নিলাম কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকার জন্য। মার্কিন সরকার দেখলো, পরামর্শ মন্দ নয়। এক রাজ্যে এক দর হাঁকিয়ে সরকারকে ঠকানোর কৌশল ব্যর্থ হয়ে গেল। এবার খবর নেয়া হলো কোম্পানিগুলো কর দেয় কত? দেখা গেল, ইচ্ছেমাফিক বিক্রয় দেখিয়ে একেক কোম্পানি একেক অঙ্কের কর দিয়েছে। যদি কেন্দ্রীয়ভাবে একই দরে নিলাম বিক্রি হতো তবে একেক জন একেক অঙ্কে কর দিয়ে, যে বিশাল অঙ্কের কর ফাঁকি দিয়েছে তা সম্ভব হতো না।’ প্রয়োগ করা হলো কেন্দ্রীয় নিলাম পদ্ধতি। এটিই বিখ্যাত ‘নিলাম তত্ত্ব এবং উন্নয়ন পদ্ধতি’। এই পদ্ধতি প্রয়োগে মার্কিন অর্থনীতিতে যে উন্নয়ন ঘটেছে তার স্বীকৃতিস্বরূপ উইলসন ও মিলগ্রোমকে ২০২০ সালের অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হলো।

অর্থনীতির ছাত্র হিসেবে বলতে পারি এখন এই নিলাম তত্ত্ব বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা পাবে। এতদিন ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ করে নিলাম ঢাকার পদ্ধতি পরিবর্তিত হয়ে যাবে। অবাক হবো না, যদি দেখি বিজ্ঞাপনে লেখা আছে নিলাম বিক্রেতা ব্যাংক বা অন প্রতিষ্ঠান একটি সম্পত্তি বিক্রির জন্য সর্বোচ্চ দাম নির্ধারণ করে দিল এক কোটি টাকা। অর্থাৎ এর নিচে হলে ওই সম্পত্তি বিক্রি করা হবে না। এতে করে কম দামে কেনার জন্য কয়েকজন ক্রেতা মিলে ব্যাংক, আদালত ও অন্যবিধ প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীর সঙ্গে যোগসাজশ করে কমমূল্যে সম্পত্তি হাতিয়ে নেয়ার সুযোগ অনেকটাই কমে যাবে। এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে এই সর্বোচ্চ দাম নির্ধারণ নিলাম বিক্রেতা নির্ধারণ করবে কি ভাবে। এখানে নিলাম তত্ত্বের বাহাদুরি। নিলাম বিক্রেতাকে সম্পত্তি বা পণ্যের সর্বোচ্চ বাজারদর মুক্ত বাজার লেনদেন থেকে নির্ধারণ করার জন্য নিকট অতীতের ক্রয়মূল্য বা বাজার মূল্য এবং এর সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে নিলাম ক্রেতার ক্রয় আচরণ। এই ক্রয় আচরণ নির্ধারণের জন্য যে গাণিতিক মডেল উইলসন এবং মিলগ্রোম উদ্ভাবন করেছেন, সেটির নাম নিলাম তত্ত্ব। এই তত্ত্বের গাণিতিক বৈশিষ্ট্য হলো ক্রেতা মূল্যের ওপর যে কর পরিশোধ করতে বাধ্য তা অগ্রিম ধার্য করা হয়। ফলে পরবর্তীকে কর ফাঁকি দেবার সুযোগ থাকে না।

আমাদের মতো অর্থনীতির দেশগুলোতে ভ্যাট আকারে বা ক্রয়ের ওপর ক্রেতাকে কর দিতে হয়। টাকাটা কোত্থেকে পেল অর্থাৎ টাকার উৎস এবং ওই টাকার উপর কর দেয়া আছে কিনা তা দেখাতে হয়। কালো টাকার ওপর কর দিয়ে অনেকেই টাকাকে সাদা করেন। এক্ষেত্রে ফাঁকিটা হলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিলাম ক্রেতা যে টাকাটা দিয়ে সম্পত্তিটি কিনল সে টাকার ওপর কর না দিয়ে পার পেয়ে যায়। অর্থনীতিতে এ শুভঙ্করের ফাঁকিটা দীর্ঘদিনের এবং পৃথিবীর প্রায় সব দেশে এটি বিদ্যমান আছে।

নতুন এই নিলাম তত্ত্বের বৈশিষ্ট্যই হলো বিক্রয়মূল্যের ভেতর করকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ফলে একটি নিলাম বিক্রয় মানে সরকার নির্ধারিত একটি অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে পেয়ে যায়। এটি সরকারের কোষাগারের জন্য যেমন ভালো দিক তেমনি সাধারণ নাগরিকগণ ওই কর থেকে স্বাভাবিকভাবে উপকৃত হন। নাগরিকের জীবন মান উন্নয়নের জন্য নিলাম তত্ত্বের কারণে গত দু’দশক ধরে নিলাম বিক্রয় থেকে যে রাজস্ব ও কর আদায় হয়েছে তা মার্কিন অর্থনীতিকে বর্তমান অবস্থায় চাঙ্গা রাখতে ভূমিকা রেখেছে।

পৃথিবীব্যাপী পণ্য, সম্পত্তি ও সেবার নিলাম বিক্রয়ের পরিধি যেমন বাড়বে তেমনি বিক্রয় পদ্ধতিরও পরিবর্তন হবে। যেমন ধরুন আমাদের দেশে ব্যাংকের প্রত্যেকটি শাখা পৃথক পৃথকভাবে নিলাম বিক্রয় দরপত্র আহ্বান করে। নিলাম তত্ত্ব প্রয়োগ করে প্রয়োজনে কয়েকশ’ নিলাম প্রস্তাবকে একত্রিত করে কেন্দ্রীয়ভাবে দরপত্র আহ্বান করা হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে প্রত্যেকটি সম্পত্তির পৃথক পৃথক মূল্য নির্ধারণপূর্বক চলমান বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা যাবে। যোগ করা হবে প্রদেয় কর। লাভের অঙ্ক যে নতুন পদ্ধতিতে অনেক বেড়ে যাবে তাতে সন্দেহ থাকার কথা নয়।

বাংলাদেশের টেরিস্টরিয়াল নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট নেটওয়ার্কসহ বহুবিধ রাষ্ট্রীয় সেবা ও পণ্য বিক্রয় হয় মূলত কেন্দ্রীয় সমন্বয়হীন অবস্থায়। প্রত্যেকটা সরকারি দফতর নিজ নিজ সুবিধা মতো এসব নিলামগুলো ডেকে থাকেন। এতে মূল যে ক্ষতি তা ইচ্ছে মাফিক নিলাম বিক্রয় দরপত্রের ফলশ্রুতি মাত্র। মোবাইল নেটওয়ার্কিং ও ইন্টারনেট নেটওয়ার্কে যে বিশাল বাজার তা অদূর ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে মর্মে আশা করা যায়। খবর নিলে দেখা যাবে, একটি কোম্পানির কাছে এক লাখ মোবাইল কানেকশন বিক্রি করা হয়েছে। অথচ মোবাইল কল করে দেখবেন, ভেসে আসা কণ্ঠ বলছে ‘এ মুহূর্তে মোবাইল সংযোগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না’ এর অর্থ হলো, এক লাখ কানেকশন কিনে বিক্রি করেছে তিন লাখ কানেকশন। অতিরিক্ত দুই লাখের জন্য কোন অর্থ ও কর সরকার পেল না। নোবেল পুরস্কারজয়ী ‘নিলাম তত্ত্ব’ প্রয়োগ করলে এ সমস্যার মৌলিক সমাধান সম্ভব।

উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতির বড় ফাঁকি হলো, প্রদর্শিতের চেয়ে অপ্রদর্শিত আয়ের বা অর্থের পরিমাণ বেশি। এই অপ্রদর্শিত অর্থকে করের আওতায় আনার ক্ষেত্রে উইলসন ও মিলগ্রোমের নিলাম তত্ত্ব বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে। এই পদ্ধতিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিপুল পরিমাণ কালোটাকা সাদা হবে ফলে প্রচলিত নিলাম বিক্রয় পদ্ধতির ত্রুটিগুলো সংশোধিত হয়ে অর্থনীতিকে গতিশীল করবে অধিকতর গ্রহণযোগ্য পন্থায়।

[লেখক : আইনজীবী, কলামিস্ট]

spdey2011@gmail.com

শিশুশিক্ষার সাতকাহন

পৃথিবীতে এখনও প্রতিনিয়ত তান্ডব চালাচ্ছে করোনাভাইরাস। কোভিড-১৯ ভাইরাসের কারণে সারা বিশ্বে আজ মহামারী দেখা দিয়েছে।

ঐক্যের শিক্ষায় শ্রীশ্রী দুর্গাপূজা

image

বিশ্ববরেণ্য দার্শনিক ড. মহানামব্রত ব্রহ্মচারীজী বলেছেন- ‘ঈশ্বরের সহিত সম্বন্ধ পাতাইবার যত প্রকার উপায় মানুষ আবিষ্কার করিয়াছে, তন্মধ্যে পূজাই সর্বশ্রেষ্ঠ।’ তাই তো, ঋতুর রানী শরৎ এলেই মা আসছেন, মনে রব ওঠে যায়।

দুর্গাপূজার ইতিকথা ও বাংলায় দুর্গোৎসবের প্রচলন

ঢাকে কাঠি পড়বে, বাজবে শঙ্খ, মন্ডপ মন্ডপে ধুপের সুগন্ধি, ভক্তকুলের আরাধনা আর ধনুচি নাচে মেতে উঠবে সব সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। দুর্গাপূজা বলে কথা।

sangbad ad

দুর্গাপূজার ইতিকথা ও বাংলায় দুর্গোৎসবের প্রচলন

সংবাদ অনলাইন ডেস্ক

ঢাকে কাঠি পড়বে, বাজবে শঙ্খ, মন্ডপ মন্ডপে ধুপের সুগন্ধি, ভক্তকুলের আরাধনা আর ধনুচি নাচে মেতে উঠবে সব সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। দুর্গাপূজা বলে কথা। ষষ্ঠী থেকে দশমী চলবে দেবী বন্দনা।

আল্লাহর দুনিয়ায় জমির অভাব নেই

সুপ্রিমকোর্টের রায়ের ভিত্তিতে ভারতের অযোধ্যায় ৫০০ বছরের পুরনো বাবরি মসজিদের জায়গায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি রামমন্দির নির্মাণের সূচনা করেছেন।

দেবীর আগমনে মঙ্গলের প্রত্যাশা

image

ঋতু বদলের ধারাবাহিকতায় বিদায় নিয়েছে শরৎকাল। তবে শরৎ আভায় ছেয়ে আছে মহাকাল।

করোনাকালে সামাজিক দূরত্ব

আজ থেকে ২৫/৩০ বছর আগের কথা। শহরের অনেকের প্রিয় শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি, বাড়ির দ্বিতীয় তলায় থাকতেন।

প্রয়োজন নির্মল বায়ু

মানুষ, উদ্ভিদ এবং জীবজন্ত সবকিছুর বেঁচে থাকার জন্য সুস্থ পরিবেশ প্রয়োজন।

একাত্তরের বিভীষিকা এবং করোনা

করোনা তার ভয়ঙ্কর চেহারা নিয়ে তার আগমনীর অষ্টম মাস পার করছে।

sangbad ad