• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯

 

ডিজিটাল সংযুক্তি ও জীবনধারা

মোস্তাফা জব্বার

নিউজ আপলোড : ঢাকা , মঙ্গলবার, ০২ এপ্রিল ২০১৯

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা বিভিন্নভাবে আলোচিত হয়েছে। প্রধানত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য তিনটি কৌশলের কথা বলা হয়ে থাকে। সেগুলো হলো- ডিজিটাল সরকার, ডিজিটাল শিক্ষা এবং শিল্প-ব্যবসা ও বাণিজ্যের ডিজিটাল রূপান্তর। এ তিনটির সঙ্গে সংযুক্তিকে প্রধান উপজীব্য বিষয় হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। যদি বলা হয় যে সংযুক্তিসহ এ তিনটি কৌশল দিয়েই ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রাথমিক কাজ অনেকটাই সামনে যাবে তবে ভুল হবে না। কিন্তু ডিজিটাল বাংলাদেশের একটি অসাধারণ অর্জনের জায়গা আছে। আজকের বাংলাদেশের অসাধারণ অগ্রগতি হওয়ার পরও আমাদের একটি বিষয় নিশ্চয়ই বিবেচনায় আনা দরকার যে, এ রাষ্ট্রটির জন্মের অঙ্গীকার নিয়েই দেশটাকে গড়ে তুলতে হবে। অনেকেই ভুলে গেছেন যে আমাদের সংবিধানের মূল বিষয় হচ্ছে এ দেশটি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতিতে জন্ম নিয়েছে। এ রাষ্ট্রটি পাকিস্তানের সঙ্গে রাগ করে জন্ম নেয়নি এবং এটি আরও একটি ইসলামিক রিপাবলিক নয়। সংবিধানের এ মূল বিষয় রাষ্ট্রে, সমাজে, ব্যক্তিতে ও জীবনধারায় প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। সেজন্যই আমি খুব স্পষ্ট করেই এটি বলতে চাই যে- শুধু সরকার, শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ডিজিটাল রূপান্তর এ দেশটিকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় রূপান্তর করবে না। এজন্য একটি সাংস্কৃতিক বিপ্লব সংঘটনের প্রয়োজন হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে যেমন করে রাষ্ট্রকে তার জন্মের ঠিকানায় স্থাপন করতে চেয়েছিলেন এবং একটি সমাজতান্ত্রিক, ধর্ম নিরপেক্ষ ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রচলন করতে চেয়েছিলেন। আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার সময় মনে রাখতে হবে যে সংবিধানের মূল নীতি এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণ করতে হলে ডিজিটাল রূপান্তরেও তার আদর্শ বাস্তবায়ন করতে হবে। আমাদের সম্ভবত এটি খুব বেশি করে মনে রাখতে হবে যে ডিজিটাল প্রযুক্তি বাংলা ভাষা প্রয়োগের ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশের ভাষাভিত্তিক চরিত্রটাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ডিজিটাল রূপান্তরের নামে বাংলা ভাষাকে নির্বাসন দেয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে রোমান হরফকে বাংলা লেখার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে ডিজিটাল বৈষম্য বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাকে কোন ভাবে অস্বীকার করা যাবে না। এ বৈষম্য পুরুষ-নারীতে, নগর-গ্রামে, ধনী-গরিবে, শিশু-যুবকে বা আরও নানা ভাবে দেখা দিতে পারে। এমনকি এরই মাঝে ডিজিটাল বৈষম্য তৈরি হওয়ার প্রেক্ষিতে সেটি প্রতিরোধ করার প্রচেষ্টার পাশাপাশি ডিজিটাল বৈষম্য যাতে না হয় সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। জাতিসংঘের এসডিজি লক্ষ্যমাত্রার ১০ নাম্বার কৌশলের দিকে তাকালেও এটি বোঝা যাবে যে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে হলে শ্রেণীবৈষম্য রাখা যাবে না। বঙ্গবন্ধু সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার যে লক্ষ্য স্থির করেছিলেন তাকে ডিজিটাল যুগের উপযোগী করে প্রয়োগ করতে হবে। আমরা সামগ্রিক বিবেচনায় এ চতুর্থ কৌশলটির জন্য সংক্ষেপে কয়েকটি কর্ম পরিকল্পনার বিষয় উল্লেখ করতে পারি।

কৌশল ৪ : ডিজিটাল সংযুক্তি : আমরা যখনই ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলব, যখনই চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রশ্ন আসবে কিংবা আমরা জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বা ডিজিটাল অর্থনীতির কথা বলব তখনও প্রয়োজন পড়বে ডিজিটাল সংযুক্তি।

ক) ঘরে ঘরে ডিজিটাল সংযুক্তি : দেশের প্রতিটি ঘরকে-প্রতিটি মানুষকে সর্বোচ্চ গতির ডিজিটাল সংযুক্তি প্রদান করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য-সরকারি অফিস-শিক্ষাসহ সবাইকে সংযুক্তির আওতায় আনতে হবে। বস্তুত দেশের ইন্টারনেট ব্যবহারে সক্ষম প্রতিটি নাগরিকের জন্য কমপক্ষে ১ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ সুলভ হতে হবে। দেশের প্রতি ইঞ্চি মাটিতে এ গতি নিরবচ্ছিন্নভাবে যাতে পাওয়া যায় তার ব্যবস্থা করতে হবে। ভয়েস ও ডাটা উভয় ক্ষেত্রে এ সংযুক্তি থাকতে হবে।

খ) দ্রুতগতির তারের সংযোগ : ডিজিটাল সংযুক্তির ক্ষেত্রে এতদিন যা ভাবা হতো যে রেডিও লিঙ্ক দিয়ে যোগাযোগ স্থাপন করা যাবে তার বদলে দ্রুতগতির ফাইবার অপটিকস কানেকশন স্থাপন করতে হবে। এই নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে যে ৫জি প্রযুক্তি এসে গেছে। দেশকে ৫জি প্রযুক্তিতে সম্পৃক্ত করতে হবে।

একই সঙ্গে দেশের সব সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা-উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ, সরকারি অফিস-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজারসহ শহরের প্রধান প্রধান পাবলিক প্লেস, বড় বড় হাটবাজার ইত্যাদি স্থানে ওয়াইফাই ব্যবস্থা চালু করতে হবে। অন্যদিকে রেডিও-টিভিসহ বিনোদন ও সাংস্কৃতিক কর্মকা- সব ব্যবস্থা ইন্টারনেটে-মোবাইলে প্রাপ্য হতে হবে। প্রচলিত পদ্ধতির ব্যবসা-বাণিজ্য, অফিস-আদালত-শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি অনলাইন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। বলা যেতে পারে এটি হবে ইন্টারনেট সভ্যতা। দ্রুত গতির ৫জি মোবাইল প্রযুক্তিসহ সব ধরনের দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড সংযোগ দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য সহজলভ্য করতে হবে।

গ) সমন্বিত সংযুক্তি : ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য ডিজিটাল সংযুক্তিই শুধু গুরুত্বপূর্ণ নয়, সেই সংযোগ সমন্বিতভাবে প্রতিষ্ঠিত কিনা সেটিও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে মোবাইলের সব প্রজন্ম চালু রাখতে হবে। অন্যদিকে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগও প্রদান করতে হবে।

ঘ) মাতৃভাষায় দেশীয় উপাত্ত : ডিজিটাল সংযুক্তির অবকাঠামোগত বিষয়টির বাইরেও খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হচ্ছে ইন্টারনেটে মাতৃভাষা বাংলায় আমাদের নিজেদের জীবন যাপনের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত উপাত্ত আপলোড করে থাকা।

ঙ) নিরাপদ ইন্টারনেট : বিশ্ব যত ডিজিটাল হচ্ছে ডিজিটাল নিরাপত্তার অভাব তত বাড়ছে। রাষ্ট্রীয় জীবন থেকে ব্যক্তি জীবন পর্যন্ত সর্বত্রই আমরা ডিজিটাল হামলার শিকার হচ্ছি। সামনের যুদ্ধগুলোই ডিজিটাল যুদ্ধ হবে বলে মনে করা হয়। রাষ্ট্র ও জনগণকে এ ডিজিটাল দুনিয়াতে নিরাপদ থাকতে হবে। এজন্য সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

চ) শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে ইন্টারনেট : ডিজিটাল বাংলাদেশ বা ডিজিটাল শিল্প বিপ্লব কিংবা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের বাহন হচ্ছে ইন্টারনেট বা সংযুক্তি। এ যুগের উপযোগী মানব সম্পদ গড়ে তোলার জন্য তাদের হাতে বই খাতা কলম তুলে দেয়ার মতোই ইন্টারনেট তুলে দিতে হবে। আমি নিজে মনে করি এ কাজটি রাষ্ট্র নিজে করবে ও শিক্ষার্থীরা বিণামূল্যে নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবে।

কৌশল ৫ : ডিজিটাল জীবনধারা ও জন্মের ঠিকানায় রাষ্ট্রকাঠামো গড়ে তোলা : ২০২১ সাল পর্যন্ত সময়কালে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হবে ডিজিটাল জীবনধারা গড়ে তোলা। দেশের সব নাগরিককে ডিজিটাল যন্ত্র-প্রযুক্তি দিয়ে এমনভাবে শক্তিশালী করতে হবে এবং তার চারপাশে এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে যাতে তার জীবনধারাটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল হয়ে যায়।

আমি এ কৌশলের জন্যও ছয়টি কর্ম পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করছি।

ক) ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-কল-কারখানা, কৃষি, স্বাস্থ্য সেবা, আইন-আদালত, সালিস, সরকারি সেবা, হাট-বাজার, জলমহাল, ভূমি ব্যবস্থাপনাসহ জীবনের সামগ্রিক কর্মকা- ডিজিটাল করতে হবে। জনগণ যেন এসব সেবা তার হাতের নাগালে ডিজিটাল পদ্ধতিতে পায় তার ব্যবস্থা করতে হবে।

খ) মেধাশিল্প ও সেবা খাতকে প্রাধান্য দিয়ে শিল্পনীতি তৈরি করতে হবে। দেশের সব প্রান্তে জ্ঞানভিত্তিক শিল্প-ব্যবসা বাণিজ্যকে এভাবে বিকশিত করতে হবে যাতে জনগণ জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে সরাসরি অংশ নিতে পারে এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে পারে। মেধাস্বত্ব সংরক্ষণকে একটি সেবাকেন্দ্রে একীভূত করতে হবে।

গ) দেশের সব আইনকে জ্ঞানভিত্তিক সমাজের উপযোগী করতে হবে। মেধা সংরক্ষণ ও এর পরিচর্যার পাশাপাশি সৃজনশীলতাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

ঘ) ডিজিটাল বৈষম্যসহ সমাজে বিরাজমান সব বৈষম্য দূর করতে হবে এবং রাষ্ট্রকে অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থানসহ জীবনের ন্যূনতম চাহিদা পূরণের সব ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

ঙ) ডিজিটাল বিশ্বের ডিজিটাল জীবনধারার সবচেড়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ডিজিটাল নিরাপত্তা। আমরা ডিজিটাল যুগে আর্থিক লেনদেন করি ফাইন্যান্সিয়াল সেবায়। ব্যাঙ্কিং করি ইন্টারনেটে। বন্ধুত্ব করি সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে। বিনোদন থেকে ব্যক্তিগত যোগাযোগ করি ইন্টারনেটে। গণমাধ্যম বলতে এখন সবচেয়ে বড় প্রক্রিয়াটি ইন্টারনেটকে বোঝায়। একদিকে অশ্লীলতা, নোংরামি, গুজব, অপপ্রচার, মানহানি অন্যদিকে ডিজিটাল জীবনধারা। দিন দিন যখন ডিজিটাল জীবনধারা সম্প্রসারিত হচ্ছে ডিজিটাল অপরাধের মাত্রাও তার চাইতে বেশি হারে বাড়ছে। আমরা সম্প্রতি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন তৈরি করেছি। আইনের আওতায় বিধিমালা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সি গড়ে তোলা হচ্ছে। এ আইনের সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্যসহ ডাটা প্রটেকশনের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। ডিজিটাল অপরাধ মনিটরিং, তদন্ত ও বিচারের জন্যও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

চ) বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামোকে তার জন্মের অঙ্গীকারে স্থাপন করার জন্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার পাশাপাশি দেশকে জঙ্গিবাদ, ধর্মান্ধতা, সন্ত্রাস ইত্যাদির হাত থেকে রক্ষা করতে হবে এবং একাত্তরের ঘোষণা অনুযায়ী দেশের নীতি ও আদর্শকে গড়ে তুলতে হবে।

ডিজিটাল যুগের সমাজতন্ত্র : মনে রাখা দরকার যে, আমরা যেমন গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদের অঙ্গীকার করেছি তেমনি সমাজতন্ত্রের প্রত্যয়ও ঘোষণা করেছি। আমাদের সংবিধানে এখনও সমাজতন্ত্র বিরাজ করে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সমাজের বৈষম্য দূরীকরণ ও সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার জন্য দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন। দুর্ভাগ্যবশত আমরা জাতির পিতার সেই ধারণাটিকে নীরবতার সঙ্গে অতিক্রম করছি। আমি মনে করি, বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লবের আহ্বান কার্যকর করাও আমাদের দায়িত্ব। সমাজতন্ত্র কার্ল মার্কস যে রূপে ব্যাখ্যা করেছেন সেটি এখন আর বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। তিনি প্রথম শিল্পযুগের শ্রমিক শ্রেণী, তার উৎপাদন ব্যবস্থা এবং শ্রেণী বিন্যাসের কথা উল্লেখ করে তার বৈষম্য ও করণীয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। লেনিন বা মা সেতুং সেই পথেই সমাজতন্ত্র বা কমিউনিজমকে ব্যাখ্যা করেছেন। কিন্তু আজকের দিনে যেমন করে শিল্প কলকারখানার রূপ বদলেছে, যেমনি বদলেছে উৎপাদন ব্যবস্থা তেমনি বদলেছে মালিক শ্রমিক সম্পর্ক। এমনকি শ্রমিকের সংজ্ঞাও এখন বদলানো দরকার। তৃতীয় শিল্প বিপ্লব পর্যন্ত কায়িক শ্রমের প্রাধান্য ছিল। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের পুরোধা হবে ডিজিটাল শিল্প এবং শ্রমিকের প্রাধান্য হবে মেধাভিত্তিক। ফলে মার্কস যেভাবে শ্রম-শিল্প জগতকে ব্যাখ্যা করেছেন তার নবায়ন দরকার। অন্যদিকে তৃতীয় শিল্প বিপ্লবের পর সারা বিশ্বে পুঁজিবাদের একচেটিয়া উত্থান, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন, পূর্ব ইউরোপ টুকরো হয়ে যাওয়া এবং আফ্রো এশিয়া লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মুক্তি সংগ্রামকে পুঁজিবাদী আদলে বদলে দেয়ার ফলে বিশ্বে বস্তুত সমাজতন্ত্রের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে। এজন্য সমাজতান্ত্রিক ধ্যান-ধারণাকে ডিজিটাল শিল্পযুগের উপযোগী রূপান্তর করতে হবে।

আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে দেশটা ২০০৮ সালে ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ হলো কিনা তার পরিমাপক কিন্তু দেশের জনগণের ডিজিটাল জীবনধারা দিয়েই দেখতে হবে। ফলে এ কৌশলটির দিকে তাকিয়েই আমরা অনুভব করব কতটা পথ হেঁটেছি আমরা। অন্যদিকে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলাটাই আমাদের ঘোষিত জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

সার্বিক বিবেচনায় ডিজিটাল বাংলাদেশ বা জ্ঞানভিত্তিক সমাজ শুধু প্রযুক্তির প্রয়োগ নয়, এটি বস্তুত একটি রাজনৈতিক-আর্থ-সামাজিক আন্দোলন। ডিজিটাল বিপ্লবের চূড়ান্ত লক্ষ্য একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ। ধর্মভিত্তিক জঙ্গি রাষ্ট্র গড়ে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়া যায় না। বরং ডিজিটাল বাংলাদেশ আন্দোলনটি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রবহমান ধারারই অংশ। এ ধারার দুই প্রান্তে যে দুই ধারার মানুষেরা অবস্থান করছে তার একটি সমীকরণ করা প্রয়োজন। খুব স্পষ্ট করে এটি বলা দরকার যে, এ রেখার একদিকে রয়েছে একাত্তরের পরাজিত শক্তি এবং অন্যদিকে রয়েছে একাত্তরের বিজয়ীরা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে লড়াইয়ের এই মাত্রাটি জনগণের মাঝে তেমনভাবে স্পষ্ট করা সম্ভব হয়নি। সারা বিশ্বে এখন মৌলবাদের প্রবণতা ও ধর্মান্ধতার বিস্তার ঘটছে। মুসলিম উগ্রবাদের পাশাপাশি হিন্দু-খ্রিস্টান মৌলবাদও সারা দুনিয়াতে দৃশ্যমান। বাংলাদেশ অত্যন্ত সক্ষমতার সঙ্গে ২০০৯ থেকে মৌলবাদকে মোকাবিলা করতে পেরেছে। ১৩ সালে ভয়ংকরভাবে জেগে ওঠা মৌলবাদ বা বিভিন্ন সময়ের জঙ্গি হামলাকে আমাদের সরকার অত্যন্ত সক্ষমতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে।

নিবন্ধটি শেষ করার আগে একটি প্রত্যয়ের বিষয় আমি এখানে উল্লেখ করতে চাই। আমরা যে অবস্থাতেই থাকি না কেন সারা দেশে দ্রুতগতির ফাইবার অপটিকস এবং মোবাইল ব্রডব্যান্ড পৌঁছাতে হবে। ২১ সালের মাঝেই এটি শতভাগ সম্পন্ন করতে হবে। অন্যদিকে ২১ সালে বাংলাদেশে ৫জি প্রচলন করতে হবে। আমাদের পরের পরিকল্পনাটি হবে হবে ৫জি নির্ভর। বস্তুত একুশ সালের পরের ডিজিটাল বাংলাদেশের মূল ভিত্তি হবে ৫জি।

ঢাকা, সর্বশেষ আপডেট ৩০ মার্চ ১৯।

[লেখক : তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, কলামিস্ট, দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাস-এর চেয়ারম্যান, সাংবাদিক, বিজয় কিবোর্ড ও সফটওয়্যারের জনক ]

দৈনিক সংবাদ : ২ এপ্রিল ২০১৯, মঙ্গলবার, ৬ এর পাতায় প্রকাশিত

আসন্ন বাজেট : উন্নয়ন ও পাবনা

২০১৯-২০২০ সালের বাজেট আসন্ন জুনের অধিবেশনে পাস করা হবে এবং জুলাই থেকে তা কার্যকরী হওয়ার কথা। এ কথা ভাবাই যায়, খসড়া বাজেট প্রণয়ন কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে এবং এখন হয়তো তার ঝাড়াই-বাছাই চলছে।

নাটকের নাম ‘আমি’

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সাহিত্য অঙ্গনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বিকশিত শিল্প হচ্ছে নাটক। টিকিট করে নাটক দেখা শুরু হয় স্বাধীনতা

অনেক নাটকীয়তার পরে অবশেষে শপথ

রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশকিছু ওলোট-পালটের ঘটনা ঘটছে। শিগগিরই আরও কিছু ঘটবে বলে মনে হচ্ছে। মারাত্মকভাবে হতাশায় নিমজ্জিত দলগুলোতেই

sangbad ad

প্রবৃদ্ধিকে টেকসই করতে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে হবে

image

চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের দেশজ উৎপাদন জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৮.১৩ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে সরকার। অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল মঙ্গলবার

বিধ্বংসী আত্মঘাতী বোমা

ইস্টার সানডেতে শ্রীলঙ্কার তিনটি গির্জা, তিনটি অভিজাত হোটেল ও দুটি জনবহুল স্থানে সিরিজ বোমা হামলায় এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে

হতাশায় নিমজ্জিত সরকারবিরোধী দল এ অবস্থা চিরস্থায়ী হতে পারে না

রাজনীতির সঙ্গেই ‘উত্থান-পতন’ শব্দটা জড়িত। একটার থেকে অন্যটা আলাদা করা যায় না। রাজনীতিকদের জীবনেও

ডিজিটাল বিপ্লবীদের দেশে

২০১৯ সালের বিশ্ব মোবাইল কংগ্রেসে ৮ নাম্বার হলে আমাদের এক টুকরো বাংলাদেশ দেখতে রিভ সিস্টেম দেখতে যাবার পথে হঠাৎ একটি বাক্য দেখে

দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজন জাতীয় বিল্ডিং কোডের যথাযথ বাস্তবায়ন

অগ্নিদুর্ঘটনা পিছু ছাড়ছে না রাজধানী ঢাকার। মাত্র ৩৭ দিনের ব্যবধানে রাজধানী ঢাকায় ঘটল আরেকটি বিভীষিকাময় আগ্নিকান্ড। গত ২০

রাজনীতিকে নোংরামির পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার দক্ষ এ দুই খেলোয়াড়

রাজনীতিতে সর্বকালেই দুষ্টু গ্রহণের আবির্ভাব হয়েছে। তারা রাজনীতির মতো সুন্দর ও সম্ভাবনাময় অঙ্গনকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, নোংরা করেছে।

sangbad ad