• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , বুধবার, ২৭ মার্চ ২০১৯

 

জিতল ইমরান খান!

জিয়াউদ্দীন আহমেদ

নিউজ আপলোড : ঢাকা , রবিবার, ১০ মার্চ ২০১৯

ভারত শাসিত জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় প্রায় ৩৫০ কেজি বিস্ফোরক ভর্তি গাড়ির হামলায় দেশটির সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের ৪০ জন সদস্য নিহত হওয়ার পর পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসী সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদ এ হামলার দায় স্বীকার করে। ভারতীয় নিরাপত্তারক্ষীর হাতে নিগৃহীত হয়ে প্রতিশোধ গ্রহণের লক্ষ্য নিয়ে ২০১৮ সনে এ সংগঠনে যোগ দেয়া আদিল আহমাদ নামে এক যুবক আত্মঘাতী এ হামলা চালিয়েছে। আত্মঘাতী হামলায় এমনভাবে ভারতীয় রিজার্ভ পুলিশ নিহত হওয়ার পর ভারতের কট্টরপন্থিদের মধ্যে বিরাজমান চরম উত্তেজনা উপশমে মোদি সরকার এ হত্যাকান্ডের প্রতিশোধ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। এ হামলায় পেছনে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের ইন্ধন ছিল বলেও ভারতীয় সেনাদের অভিযোগ রয়েছে। ভারতের অধিকাংশ লোকের প্রত্যাশা ছিল, এ হামলার পাল্টা বদলা নিক ভারতীয় সেনা। তাদের সেই বাসনা পূর্ণ করতে ভারতের বিমানবাহিনী পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরে জইশ-ই-মোহাম্মদের জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয়ার দাবি করছে। বিভক্ত কাশ্মীরের ‘লাইন অব কন্ট্রোল’ অতিক্রম করে পাকিস্তান সীমানার ৮০ কিলোমিটার ভেতরে পাহাড়ি এলাকায় জইশ-ই-মোহাম্মদের প্রশিক্ষণ শিবিরে ২১ মিনিটের এ বিমান হামলায় সন্ত্রাসীদের ৩০০ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে বলে ভারত দাবি করছে। কয়েকটি জঙ্গি ঘাঁটির ওপর প্রায় এক হাজার কেজি বোমা বর্ষণ করা হয়েছে বলেও ভারত দাবি করছে। অন্যদিকে পাকিস্তান বলেছে, তারা ভারতীয় হামলা ঠেকিয়ে দিয়েছে; ভারতীয় বিমানগুলো পাকিস্তানি বিমানের তাড়া খেয়ে বিরান ভূমিতে তাদের বোমাগুলো ফেলে পালিয়ে বেঁচেছে। তবে ওই অঞ্চলটি পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী ঘেরাও দিয়ে রেখেছে বলে ভারত বা পাকিস্তান কারও কথার সত্যতা প্রমাণ করা যাচ্ছে না। স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যে এলাকায় বিমান হামলা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে সে এলাকাতেই জইশ-ই-মোহাম্মদের মাদরাসাসহ অনেকগুলো ভবন সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে, ভবনগুলোতে গুলির কোন চিহ্ন দৃশ্যমান নয়। জঙ্গিগোষ্ঠীর এমন আরেকটি আক্রমণের প্রতিশোধ নিতে ২০১৬ সনেও ভারত পাকিস্তানের মাটিতে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালিয়েছিল; পাকিস্তান ওই সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের কোন প্রতিশোধ নেয়নি।

কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে ভারত আর পাকিস্তানের মধ্যে ১৯৪৭ এবং ১৯৬৫ সনে দুবার যুদ্ধ হয়েছে। ‘ইন্ডিয়ান ইনডিপেন্ডেন্স অ্যাক্ট’ অনুসারে কাশ্মীর তাদের ইচ্ছে অনুযায়ী ভারত অথবা পাকিস্তান যে কোন রাষ্ট্রেই যোগ দিতে পারত। কিন্তু এক্ষেত্রে একটি মারাত্মক সমস্যা দেখা দেয়,- কাশ্মীরের তৎকালীন হিন্দু মহারাজা চাইছিলেন স্বাধীন থাকতে অথবা ভারতের সঙ্গে যোগ দিতে; কিন্তু কাশ্মীরের ৬০ শতাংশ মুসলমান চেয়েছিল পাকিস্তানের সঙ্গে যোগ দিতে। মহারাজার এমন হাবভাবে পাকিস্তানের পাশতুন উপজাতীয়রা ১৯৪৭ সনে দেশ ভাগের দুই মাসের মধ্যে কাশ্মীর আক্রমণ করে বসে; মহারাজা হরি সিং ভারতের সহায়তা চাইলে ভারত থেকে বলা হয় যে, কাশ্মীর যতক্ষণ পর্যন্ত ভারতে যোগ না দেবে ততক্ষণ ভারত কোনভাবেই সেনা মোতায়েন করতে পারবে না। এ অবস্থায় মহারাজা ভারতে যোগ দেন এবং ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। ভারতের সামরিক সহায়তা আসতে আসতেই পাকিস্তানি সেনাদের সহায়তায় উপজাতীয়রা কাশ্মীরের একটি অংশ দখল করে নেয়। ভারত জাতিসংঘে বিষয়টি উত্থাপন করে; জাতিসংঘের মধ্যস্থায় কাশ্মীরে যুদ্ধবিরতি বলবত হয়। জাতিসংঘের তরফ থেকে দুইপক্ষের সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হলেও পাকিস্তান সেনা প্রত্যাহার করতে অস্বীকার করে। তখন থেকেই কাশ্মীর কার্যত পাকিস্তান ও ভারত নিয়ন্ত্রিত দুই অংশে ভাগ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ১৯৬৫ এবং ১৯৭১ সনের যুদ্ধে পাকিস্তান কাশ্মীর ফ্রন্টে তাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করেছিল যাতে ভারত কোনভাবেই কাশ্মীরে এগুতে না পারে। ওই দুটি যুদ্ধে প্রচলিত অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল বলে কোন দেশই খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনি।

পুলওয়ামার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও তারা প্রায় সর্বাত্মক যুদ্ধের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। তবে ১৯৯৯ সনেও কারগিল সংকটে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বল্পস্থায়ী একটি ছোটখাট যুদ্ধ হয়েছে। একই বছর আবার ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী বাসে করে পাকিস্তানের লাহোরে গিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তিও করেন। ২০০১ সনে শ্রীনগরে কাশ্মীর বিধানসভায় একটি ভয়াবহ হামলায় ৩৮ জন, একই বছর দিল্লিতে ভারতের সংসদ ভবনে সশস্ত্র হামলায় ১৪ জন এবং ২০০৭ সনে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চলাচলকারী সমঝোতা এক্সপ্রেস ট্রেনে বোমা হামলায় ৬৮ জন নিহত হন। ২০০৮ সনে মুম্বাইয়ের প্রধান রেলওয়ে স্টেশন, বিলাসবহুল একটি হোটেল এবং একটি ইহুদি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে প্রায় ৬০ ঘণ্টা ধরে চলা জঙ্গি হামলায় ১৬৬ জন নিহত হন। নরেন্দ্র মোদি নির্বাচনে জয়লাভ করার পর পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ অতিথি হিসেবে দিল্লিতে নরেন্দ্র মোদির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। ভারতও পাকিস্তানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার ব্যাপারে আগ্রহ দেখায়। কিন্তু কিছুদিন পর পাঞ্জাবের পাঠানকোটে ভারতীয় বিমান ঘাঁটিতে যে আক্রমণ হয় তার জন্য পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোকে ভারত দায়ী করে। ২০১৬ সনে পাঠানকোটে ভারতের বিমানঘাঁটিতে চারদিন ধরে চলা হামলায় সাতজন ভারতীয় সেনা এবং একই বছর ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের উরি সেনা ঘাঁটিতে জঙ্গি হামলায় ১৯ জন সেনা সদস্য নিহত হয়। এ সব হামলার পেছনে লস্কর-ই-তাইবা, জইশ-ই-মোহাম্মদ প্রভৃতি পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠীর হাত রয়েছে বলে ভারত অভিযোগ করে যাচ্ছে। শেখ আবদুল্লাহ যতদিন কাশ্মীর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন ততদিন এ রাজ্যে কিছুটা শান্তি বিরাজ করছিল। শেখ আবদুল্লাহর পর রাজ্যটিতে বিক্ষিপ্ত সহিংসতা আর বন্ধ হয়নি। শুধু ২০১৮ সনেই নিরাপত্তা বাহিনী, বেসামরিক লোক ও প্রতিপক্ষ জেহাদি মিলে নিহত হয় প্রায় ৫০০ জন। ভারতের অভিযোগ হচ্ছে, পাকিস্তান তাদের ভূমিতে প্রশিক্ষণ শিবির তৈরি করে সেখান থেকে কাশ্মীরে সন্ত্রাসী যোদ্ধাদের পাঠাচ্ছে; তবে পাকিস্তান তা বরাবরই অস্বীকার করে যাচ্ছে।

পাকিস্তানের বালাকোটে ভারতের চালানো বিমান হামলাকে কেন্দ্র করে ভারত আর পাকিস্তান যেন পুরোপুরি সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে না পড়ে সে জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও তৎপর রয়েছে। বালাকোটে ভারতীয় বিমানবাহিনীর আক্রমণের পর ভারত যে বক্তব্য দিয়েছে তাতেও স্পষ্ট হয় যে, ভারতও যুদ্ধ চায় না; ভারত থেকে বলা হয়েছে যে, বালাকোটে জইশ-ই-মোহাম্মদের ঘাঁটিতে যে আক্রমণ হয়েছে ভারত তার জবাবে এ আক্রমণ চালিয়েছেÑ এটা পাকিস্তান বা পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে কোন হামলা নয়। এ কথার অর্থ হচ্ছে, ভারতও যুদ্ধ চায় না। তবুও পাকিস্তান আর ভারতের সম্পর্ক উন্নয়নের সব উদ্যোগ বহুদিন আর নেয়া হবে বলে মনে হয় না। ভারতীয় সেনাবাহিনী কাশ্মীরের মাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ঘোষণা করেছে, কাশ্মীরের কোন সশস্ত্র যুবক সশস্ত্র সংগ্রামে জড়িত হলে বা হাতে বন্দুক তুলে নিলে তাকে দেখামাত্র হত্যা করা হবে। বিশ্ববাসী এদের জঙ্গি বললেও কাশ্মীরি মুসলমানেরা এদের সংগ্রামী যোদ্ধা মনে করে এবং এ যুদ্ধে একবার জড়িয়ে গেলে সেখান থেকে স্নেহ, ভয় কিছু দিয়েই ফেরত আনা যায় না।

এখন দুটো দেশের হাতেই পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। ভৌগলিক অবস্থান, অর্থনৈতিক সামর্থ্য, শিল্পের বিকাশ প্রাকৃতিক সম্পদের পরিমাণ, সৈন্য সংখ্যা, অস্ত্রের পরিমাণ ও এর কর্মক্ষমতা ইত্যাদি বিচারে ভারত যে পাকিস্তানের চেয়ে অনেক এগিয়ে তা সহজে অনুমেয়। পাকিস্তানের সৈন্য সংখ্যার চেয়ে ভারতের সৈন্য সংখ্যা প্রায় পাঁচগুণ বেশি। প্রতিরক্ষা খাতে পাকিস্তান যে পরিমাণ বাজেট বরাদ্দ করে তার কয়েকগুণ বেশি বরাদ্দ করে ভারত। পাকিস্তানের যতগুলো যুদ্ধ বিমান রয়েছে তার দ্বিগুণ বিমান রয়েছে ভারতের হাতে। ভারত এবং পাকিস্তান উভয় দেশই স্বল্প এবং দূর পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি ও তাদের উন্নয়ন করে যাচ্ছে। পারমাণবিক অস্ত্রের সঠিক সংখ্যা কখনও কোন দেশ প্রকাশ করে না এবং এই গোপনীয়তা ভেদ করাও সহজসাধ্য নয়; তবুও পরমাণু অস্ত্রের ক্ষেত্রে ভারতের তুলনায় পাকিস্তান কিছুটা এগিয়ে রয়েছে বলে মনে করা হয়। পারমাণবিক শক্তি সম্পন্ন সাবরেমিরন উভয় দেশের কাছেই রয়েছে। বালাকোটে ভারতীয় বিমানের আক্রমণ ও বন্দী পাইলটকে মুক্তি দেয়ার পর ভারতের একটি ডুবোজাহাজের পাকিস্তানি জলসীমায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা অত্যাধুনিক রণকৌশলে প্রতিহত করার দাবি করেছে পাকিস্তান। ভারত পাকিস্তানের এমন দাবি নাকচ করে দিয়েছে। যুদ্ধে পর্যুদস্ত হলে যে কোন দেশ প্রচলিত অস্ত্র বাদ দিয়ে পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করবে। পারমাণবিক অস্ত্রে কে বেশি শক্তিমান তা খুব বেশি গুরুত্ব বহন করে না। একটি ছোটাকারের পারমাণবিক বোমার ধ্বংস ক্ষমতা সহ্য করার শক্তিও মানব জাতির নেই; বোমার তাৎক্ষণিক ধ্বংসযজ্ঞের চেয়ে পরবর্তীতে যে ধ্বংসলীলা চলতে থাকে তা কয়েক প্রজন্মকে পঙ্গু বানিয়ে দেয়।

প্রত্যক্ষ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আগ্রহ কোন পক্ষেরই নেই। যুদ্ধ এড়িয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ভূমিকা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ভারতও এখন আর যুদ্ধে না জড়িয়ে কূটনৈতিকভাবে পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ইমরান খানের সমঝোতামূলক বিবৃতি বারবার প্রচারিত হওয়ায় মোদি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনি। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের উপস্থিতিতেই ভারত সরকারের কাশ্মীর নীতির কঠোর সমালোচনা করে একটি প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে মুসলিম দেশগুলোর বৃহত্তর সংগঠন ওআইসি। এক্ষেত্রেও রাজনীতি হয়েছে; মুসলিম দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এই সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে যোগ দেয়ার অনুমতি দিয়ে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সংঘবদ্ধ হয়ে প্রতিহত করার আহ্বান জানানোর সুযোগ করে দেয়ায় পাকিস্তান এর প্রতিবাদে তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ওই সম্মেলনে প্রেরণই করেনি। অন্যদিকে ভারতের সমালোচনা করে ওআইসির গৃহীত প্রস্তাবের নিন্দা জানিয়ে ভারত উল্লেখ করেছে যে, কাশ্মীর ইস্যু একান্তই ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কাশ্মীর বিরোধকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলার কারণ হচ্ছে, কাশ্মীরকে ভারত তাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করে থাকে; এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করার প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে, ১৯৭২ সনে সম্পাদিত সিমলা চুক্তি। এ চুক্তির কারণে কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে পাকিস্তান এখন আর আন্তর্জাতিক দরবারে অভিযোগ উত্থাপনের সুযোগ পাবে না। সিমলা চুক্তির মাধ্যমে উভয় দেশ এ মর্মে সম্মত হয়েছে যে, পারস্পরিক বিরোধসমূহের শান্তিপূর্ণ সমাধান করা হবে দ্বিপক্ষীয় আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে।

এত সংঘাত আর মৃত্যুর মধ্যেও আশার আলো রয়েছে; সব মানুষ ভোটে জেতার জন্য যুদ্ধ চায় না। যে পুলওয়ামায় বিস্ফোরকের আঘাতে ৪০ জন ভারতীয় রিজার্ভ পুলিশ মারা গেছেন তার সন্নিকটে কাশ্মীরি মুসলিমদের উদ্যোগে জামিয়া মসজিদের পাশে শুধু একটি হিন্দু পরিবারের ব্যবহারের জন্য আশি বছরের পুরনো একটি মন্দির পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে। মন্দির সংস্কার তত্ত্বাবধানকারী মহাম্মদ মকবুল বলেন, ‘আমরা আমাদের প্রতিবেশীদের একা অনুভব করতে দিতে চাই না’। এমন কিছু লোক সব দেশে সব সম্প্রদায়ের মধ্যে আছে বলেই মোদি ও ইমরান খান ধর্মের নামে ভোটে জয়লাভ করে উগ্র জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধদের প্ররোচনায় যুদ্ধ বাধাতে ভয় করেন।

বালাকোটে জইশ-ই-মোহাম্মদের ঘাঁটিতে আক্রমণ করে মোদি ভারতের রাজনীতি ও আসন্ন নির্বাচনে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছেন বলে ভারতে মমতা ব্যানার্জিসহ অনেক রাজনীতিবিদ জোরেশোরে বলে যাচ্ছেন। পাকিস্তানের মাটিতে ভারতীয় বিমানের আক্রমণের পর মোদির জনপ্রিয়তা বেড়ে যাওয়ার সংবাদও বিভিন্ন পত্রিকায় প্রচার করা হয়েছিল; কিন্তু পরেরদিন যখন প্রকাশ পেল যে, পাকিস্তান ভারতের দুটি বিমান ভূপাতিত করে একজন ভারতীয় পাইলটকে বন্দী করেছে তখনি মোদির শ্রেষ্ঠত্বের অহংবোধ ধূলিসাৎ হয়ে যায়। পাকিস্তানের হাতে বন্দী পাইলটকে নিয়ে ভোটের রাজনীতি করার সুযোগও ইমরান খান মোদিকে আর দেননি। বিনা শর্তে পাইলটকে মুক্তি দিয়ে ইমরান খান সারা বিশ্বের প্রশংসা কুড়িয়ে নিলেন। বন্দী পাইলট অভিনন্দন বর্তমানকে মুক্তি দেয়ার একটি সিদ্ধান্তই ইমরান খানকে রাতারাতি হিরো বানিয়ে দিল। অন্যদিকে মোদিকে ভারতের অভ্যন্তরেও নানা সমালোচনার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ হচ্ছে, মোদি আসন্ন লোকসভার নির্বাচনে জেতার জন্য যুদ্ধ যুদ্ধ উত্তেজনা সৃষ্টির অপকৌশল করছেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি প্রধানমন্ত্রী মোদিকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘রাজনীতির প্রয়োজনে আর একটা নির্বাচন জেতার জন্য যুদ্ধ আমরা চাই না। আমরা শান্তি চাই’। অন্যদিকে যুদ্ধ এড়িয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের তৎপরতার প্রশংসা করা হয় ওআইসি’র পক্ষ থেকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইমরান খানের পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে। ইমরান খানের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ভারতেরই অনেক রাজনীতিবিদও। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকেও তাকে অভিনন্দন জানানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে ইমরান খান তার দেশের সশস্ত্র জঙ্গি গ্রুপগুলোর সদস্যদের পাকড়া করা শুরু করে দিয়েছেন। যুদ্ধ বাধলে পারমাণবিক বোমার আঘাতে ভারত, পাকিস্তান উভয় দেশের পরাজয় ছিল অবশ্যাম্ভাবী; যুদ্ধ না বাধায় মনে হচ্ছে, বিজয়ী হয়েছেন ইমরান খান।

[লেখক : বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক]
zeauddinahmed@gmail.com

দৈনিক সংবাদ : ১০ মার্চ ২০১৯, রোববার, ৬ এর পাতায় প্রকাশিত

রাষ্ট্রভাষার প্রয়োগ হচ্ছে না

বাংলাদেশে বাংলা ভাষা-সাহিত্য ও বাংলা হরফ নিয়ে প্রচুর মাতামাতি থাকলেও আসলে বাংলাদেশে বাংলার সেই মর্যাদা নেই যেটির সাংবিধানিক

উপাসনালয়ে জঙ্গি-আক্রমণ

কয়েক দিন আগে নিউজিল্যান্ডের দুটি মসজিদে এক শ্বেতাঙ্গ জঙ্গির সন্ত্রাসী হামলায় ৫০ জন মুসলমান মারা গেছেন। জুমার নামাজে মুসল্লিদের ওপর এমন

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান

image

মহান রাষ্ট্রনায়ক, স্থিতধি রাজনীতিবিদ, প্রখ্যাত জননেতা, ভাষাসৈনিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং দেশিকোত্তম ব্যক্তিত্ব, বাংলাদেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি

sangbad ad

‘বাংলাদেশের গণহত্যা-রাজনীতি ও প্রতিহিংসার ইতিহাস’- পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ

বাংলাদেশে গণহত্যা কার্যক্রম অপারেশন সার্চলাইটের অধীনে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে পূর্ব

মুজিব : ভাষারাষ্ট্রের পিতা

image

মুজিব তোমাকে শততম জন্মদিনের শুভেচ্ছা। বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম বাঙালি, বিশ্বের একমাত্র বাংলা ভাষার রাষ্ট্রের পিতা, বাংলা ভাষার আন্দোলনের জনক, চার

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা

গ্যাস লাভজনক অবস্থায় দফায় দফায় দাম বাড়নো হচ্ছে। গত ২০১৭ সালে গ্যাসের দাম বাড়ানো

মানসম্মত শিক্ষার চ্যালেঞ্জগুলো

বাংলাদেশ দিন দিন উন্নত হচ্ছে এবং বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। কিন্তু একইসঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষার মানে

মফস্বলের সাংবাদিকরা গৃহবন্দী

বর্তমানে সাংবাদিকতা এক কঠিন অবস্থার ভেতর দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। রাষ্ট্রের ৪র্থ স্তম্ভ বলে

রাজধানীর বায়ুদূষণ : আমাদের বিবেক জাগ্রত হোক

বিভিন্ন দেশের বাতাসের মান নিয়ে গবেষণা করে আসছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার। সম্প্রতি বৈশ্বিক বায়ুমান প্রতিবেদন ২০১৮

sangbad ad