• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , রোববার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২০

 

জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং কতিপয় সুপারিশ

অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান

নিউজ আপলোড : ঢাকা , বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর পরই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত স্বাধীন দেশ গড়ার পাশাপাশি দেশের মানুষের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু ভেবেছিলেন, একটি সুখী-সমৃদ্ধ দেশ গড়তে হলে চাই একটি স্বাস্থ্যবান জাতি। এ জন্য তিনি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে যেমন গুরুত্ব দিয়েছিলেন তেমনি গ্রহণ করেছিলেন সময়োপযোগী পদক্ষেপ। মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের সব ক্ষেত্রে একটি শক্ত নীতিমালা, পরিকল্পনা, অবকাঠামো রেখে গেছেন যার উপরে গড়ে উঠেছে আজকের বিশ্বনন্দিত অনেক কার্যক্রম। বঙ্গবন্ধুর ভাবনা-পরিকল্পনার মধ্যে স্পষ্টত গণমুখী স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বাস্তবায়নই লক্ষ্য ছিল যেখানে দুঃখী মানুষের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। তিনি ‘রোগের চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম (Prevention is better than cure)’ ধারণা থেকেই গড়ে তুলেছিলেন গ্রামীণ স্বাস্থ্য কাঠামোসহ নানাবিধ পরিকল্পনা।

১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের আমলে ‘জাতীয় স্বাস্থ্য নীতি’ বিষয়টা সামনে চলে আসে। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠা এদেশের চিকিৎসকদের জাতীয় সংগঠন ‘বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)’ শুরু থেকেই দেশে একটি গণমুখী স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য দাবি-লড়াই-আন্দোলন করে আসছে। এ দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও মেডিকেল শিক্ষার উন্নয়নে বিএমএর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ১৯৯০-তে চিকিৎসকদের প্রানের দাবি ২৩ দফা বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন চলছিল। এ দাবিতে চিকিৎসকদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোন বিষয় ছিল না, ছিল গণমুখী স্বাস্থ্যব্যবস্থা বাস্তবায়নে নীতিমালা প্রণয়ন, প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ, অবকাঠামো সংস্কার, বাজেট, মেডিকেল শিক্ষা সংস্কারসহ নানা অতীব জরুরি বিষয়। ৯০ এর জানুয়ারি থেকেই আভাস পাওয়া যাচ্ছিল যে, এরশাদ সরকার একটা স্বাস্থ্যনীতি নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে। ৪ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণে জেনারেল এরশাদ চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে জাতির সামনে অন্যায়ভাবে হেয় করে বক্তৃতা দিলেন। এতে চিকিৎসক সমাজ স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ হলেন। ডা. মাজেদ-ডা. জালালের নেতৃত্বাধীন বিএমএ তখন একদিকে কর্মসূচি দিলেন এবং অন্যদিকে দেশব্যাপী চিকিৎসকদের সংগঠিত করার জন্য সাংগঠনিক সফরে বের হলেন। ইতোমধ্যে অনেকটাই পরিষ্কার এরশাদের গণবিরোধী স্বাস্থ্যনীতি। বিএমএ’র নেতৃত্বে গোটা দেশের চিকিৎসকরা নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ঐক্যবদ্ধ।

২৫ জুলাই রাষ্ট্রপতি এরশাদ বেতার ও টেলিভিশন ভাষনে এদেশের চিকিৎসকদের চূড়ান্ত সমালোচনা-অবমাননা করে জাতির সামনে জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি ঘোষণা করলেন। এ নীতিতে বিএমএ বা চিকিৎসকসহ কোন মহলেরই কোন মতামত নেয়া হয়নি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সে স্বাস্থ্যনীতি ছিল একেবারে অবাস্তব। বিএমএ, সব রাজনৈতিক দল তা প্রত্যাখ্যান করে। ২৭ জুলাই ছিল বিএমএর পূর্বঘোষিত শহীদ মিনারে জাতীয় চিকিৎসক মহাসমাবেশ এবং বিকেলে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিশেষ সাধারণ সভা। সেখান থেকে ‘গণবিরোধী স্বাস্থ্যনীতি বাতিল ও ২৩ দফা দাবি বাস্তবায়ন’-এর জন্য চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। চিকিৎসকদের গণপদত্যাগ, কর্মবিরতি, গণসংযোগ, সভা-সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে দেশের চিকিৎসক সমাজ বিএমএর নেতৃত্বে ইস্পাতদৃঢ় ঐক্য গড়ে তুলে।

অবশেষে ১৪ আগস্ট চিকিৎসকদের তুমুল আন্দোলনের মুখে সরকারের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমেদ স্বাক্ষরিত একটি প্রেসনোট বিএমএর নিকট প্রেরণ করা হয় যার পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনের কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করা হয়। প্রেস নোটের বক্তব্য ছিল ‘সরকারের প্রস্তাবিত জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি ১৯৯০-এর রূপরেখা নিয়ে যে উদ্ভূত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তার একটি অবসান হওয়া প্রয়োজন। মহামান্য রাষ্ট্রপতি এরই মধ্যে ৫ আগস্ট ১৯৯০ ইং চিকিৎসক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি নতুন স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। উক্ত আহ্বানের প্রেক্ষিতে সরকার দেশের জনগণের কল্যাণে একটি সর্বজনস্বীকৃত নতুন স্বাস্থ্যনীতি বিএমএ এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত পেশাজীবী ও অন্যান্য জনপ্রতিনিধিমূলক সংগঠন ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও মতামত বিনিময়ের মাধ্যমে প্রণয়ন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে। এই উদ্দেশে সরকার একটি কমিটি গঠন করিবে।’ বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী স্বাক্ষরিত প্রেসনোট সম্ভবত এই একটিই।

বিএমএ আন্দোলন স্থগিত করার কিছুদিন পর সরকার পুনরায় একই স্বাস্থ্যনীতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে। চিকিৎসকরা স্বাস্থ্যনীতির বিরুদ্ধে ছিল না, বিএমএ চেয়েছিল সবার গ্রহণযোগ্য, সংশ্লিষ্ট সবার মতামতের ভিত্তিতে বাংলাদেশের জন্য উপযোগী একটি স্বাস্থ্যনীতি। বিএমএকে সরকারের চুক্তি ভঙ্গ করার কারণে আবার আন্দোলনে নামতে বাধ্য করা হলো। চিকিৎসকদের এ আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছিলেন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৫ দল, বেগম জিয়ার নেতৃত্বে ৭ দল এবং বাম জোটের ৫ দল। দেশে তখন চলছিল স্বৈরাচারবিরোধী জাতীয় আন্দোলন আর অন্যদিকে বিএমএর নেতৃত্বে চিকিৎসকদের গণবিরোধী স্বাস্থ্যনীতি বাতিল এবং ২৩ দফা দাবি বাস্তবায়নের আন্দোলন। ২৭ নভেম্বর ছিল বিএমএর দেশব্যাপী কর্মসূচি। তৎকালীন পিজি হাসপাতালে কেন্দ্রীয়ভাবে আয়োজিত সভায় যাওয়ার পথে ডা. মিলন টিএসসিসহ চত্বরে শহীদ হন।

ডা. মিলনের মৃত্যু এরশাদের পতন ত্বরান্বিত করে এবং ৬ ডিসেম্বর ৯ বছরের স্বৈরশাসনের পতন হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর পরই গণবিরোধী স্বাস্থ্যনীতি বাতিল ঘোষণা করে। ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর বেগম খালেদা জিয়া সরকার গঠন করেন কিন্তু স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়নে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেননি।

১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেই জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ১২/১২/৯৬ তারিখে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং- হাস-১/স্বানী-২/৯৫/১১৭ সূত্র মোতাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সভাপতি করে ২৬ সদস্যের ‘জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন কমিটি’ গঠন করা হয়। এতে তৎকালীন বিরোধীদলীয় উপনেতা অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীসহ দেশের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫(ক) এবং অনুচ্ছেদ ১৮(১) অনুযায়ী জণগনের পুষ্টির উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতি সাধনের লক্ষসহ স্বাস্থ্য নীতিতে ১৫টি লক্ষ্য, ১০টি মূলনীতি এবং ৩২টি কর্মকৌশল নির্ধারণ করা হয়। ২০০০ সালে জাতীয় স্বাস্থ্য নীতি সর্বস্তরের জনগণের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত করে মহান জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের মাধ্যমে অনুমোদিত হয়। এতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও মেডিকেল শিক্ষার উন্নয়নের সব দিক নির্দেশনা বিদ্যমান। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর ২০১১ সালে এ স্বাস্থ্যনীতি হালনাগাদ করা হয়। এ স্বাস্থ্যনীতি অনুসরন করে চললে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধিকাংশ সমস্যাই সমাধান হয়ে যাবে।

বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য খাতে জনবল, অবকাঠামো, কর্মবিন্যাস এবং পরিকল্পনা দুর্বল বলা যাবে না। বিগত ১২ বছরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে দৃশ্যমান উন্নয়ন, আধুনিকায়ন এবং সম্প্রসারণ করেছেন। এখন এ খাতের প্রধান দুর্বলতা হচ্ছে সময়োপযোগী স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার অভাব। করোনাকালীন সময়ে যা প্রকটভাবে দৃশ্যমান হয়েছে, সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এক শ্রেণীর কর্মকর্তা-ব্যবসায়ীর অমানবিক দুর্নীতি যাদের কাছে মানুষের জীবনের কোন মূল্যই নেই। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা একটি জরুরি বিষয়- যেখানে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয় দ্রুত, বাস্তবায়ন করতে হয় ত্বরিত, ধীরগতি বা গাফিলতির কোন সুযোগ নেই।

করোনাকালীন সময়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর সমন্বয়হীনতা, সিদ্ধান্তহীনতা, অনিয়ম, দুর্নীতি এবং সর্বোপরি অব্যবস্থাপনার বেড়াজালে ঘুরপাক খেয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপে এবং কিছু প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনেকটা স্বাভাবিক গতি পেয়েছে। আসন্ন শীতে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাবার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সবাইকে সতর্ক হতে হবে যাতে বড় ধরনের সংকট না হয়।

কোভিড-১৯ একটি সংক্রামক রোগ যা ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাপী ভয়ানক মহামারী আকার ধারণ করেছে। সংক্রমণ এবং মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সারা বিশ্ব প্রস্তুতি নিচ্ছে শীতে সংক্রমণ বৃদ্ধির মোকাবিলা করার জন্য। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশেও সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রস্তুতি নেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। করোনা প্রতিরোধে নেতৃত্ব দিতে হবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের মাধ্যমে চিকিৎসকদের। অবশ্যই সহযোগিতা লাগবে অন্যান্য মন্ত্রণালয়গুলো।

কি করতে হবে- সেটা সংশ্লিষ্ট মহলের জানা আছে। প্রয়োজন সঠিক নেতৃত্বের মাধ্যমে সমন্বিতভাবে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে মোকাবিলা করা। বিগত আট মাসে অভিজ্ঞতার ভান্ডার সমৃদ্ধ। এরপরেও দেশের বাস্তব কিছু সীমাবদ্ধতা থাকবে। করোনা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার যে দুর্বলতা উন্মোচন করেছে, করোনা প্রতিরোধের মাধ্যমেই তার জরুরি সংস্কার এখন সময়ের দাবি। এ জন্য কিছু সুপারিশ সংক্ষেপে পেশ করছি-

১) স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং কঠোর নিয়ন্ত্রণ : একটি স্বাস্থ্য কমিশন গঠনের মাধ্যমে অবকাঠামো এবং কর্মচারীদের দায়িত্ব পুনর্গঠন করতে হবে। যেখানে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি কাজের নিবিড় পর্যবেক্ষণ, মনিটরিং এবং ফলোআপ থাকতে হবে।

২) স্বাস্থ্য জনশক্তি পরিকল্পনা : জনসংখ্যা অনুপাতে চিকিৎসক-নার্স-টেকনোলজিস্ট-কর্মচারীদের একটি দীর্ঘমেয়াদি জনশক্তি পরিকল্পনা থাকতে হবে।

৩) বাজেট: প্রয়োজনীয় বাজেট (জাতীয় বাজেটের ন্যূনতম ১০%) বরাদ্দ এবং এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

৪) নিয়োগ ও বদলি নীতিমালা : চিকিৎসকদের ক্যারিয়ার প্ল্যানিংসহ একটি গ্রহণযোগ্য বদলি-পদোন্নতি কার্যকর নীতিমালা থাকতে হবে যেখানে সবার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। বদলির কাজ ও তদবির নিয়েই মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরকে বেশি সময় ব্যস্ত থাকতে হয়।

৫) মেডিকেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বায়ত্তশাসন : স্বায়ত্তশাসনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রমাণ করেছে শিক্ষা ও সেবার মান কীভাবে উন্নয়ন করা যায়। সে কারণে দেশের প্রতিটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও প্রতিষ্ঠানের স্বায়ত্তশাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

৬) বিএমডিসিকে কার্যকর ও শক্তিশালী করতে হবে।

৭) বেসরকারি কলেজ, হাসপাতাল ও ক্লিনিক পরিচালনা : বেসরকারি খাতকে গুরুত্ব ও সহযোগিতা প্রদানের মাধ্যমে সরকারের নীতিমালা হালনাগাদ করে নিবিড় পর্যবেক্ষণে আনতে হবে যাতে নীতিমালা বাস্তবায়ন হয়।

৮) নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে: প্রতিটি চিকিৎসা ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

৯) স্বাস্থ্য প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণ : কেন্দ্র থেকে আর প্রশাসন গোটা দেশে নিয়ন্ত্রণ বাস্তবসম্মত নয়। তাই, গতিশীল করতে হলে বিভিন্ন অঞ্চলভিত্তিক প্রশাসনিক এবং আর্থিক ক্ষমতা প্রদান করে প্রশাসন পুনর্বিন্যাস জরুরি।

১০) রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রশাসন : প্রশাসনকে তার আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী কাজ করতে দিতে হবে। চেইন অব কমান্ড কার্যকর থাকতে হবে। অন্যায় প্রভাব থেকে প্রশাসনকে মুক্ত রাখতে হবে।

১১) মেডিকেল ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) : শক্তিশালী এমআইএস গড়ে তুলতে হবে এবং অবাধ তথ্য প্রবাহের সুযোগ থাকতে হবে যা গবেষণা ও নীতি-নির্ধারণে ব্যবহার উপযোগী হয়।

১২) অভ্যর্থনা ও তথ্যকেন্দ্র : প্রতিটি হাসপাতালে অভ্যর্থনা ও তথ্যকেন্দ্র থাকতে হবে।

বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা এবং বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার উন্নত বাংলাদেশ গড়তে হলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার সংস্কার জরুরিভাবে করতে হবে। এবং এ কাজটি শুধু জননেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষেই সম্ভব।

বঙ্গবন্ধু কন্যার জাতীয় স্বাস্থ্যনীতির ওপর ভিত্তি করে তারই সরকারের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সংস্কারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে একটি সার্বজনীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড় উঠবে এটিই দেশবাসীর প্রত্যাশা।

[লেখক : সাবেক উপাচার্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়]

sangbad ad