• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০১৯

 

কাশ্মীর আঘাত প্রত্যাঘাত : সমাধান পলাতক

রণেশ মৈত্র

নিউজ আপলোড : ঢাকা , সোমবার, ০৪ মার্চ ২০১৯

প্রায় দু’সপ্তাহ হলো মৃত্যুকূপ কাশ্মীর পুনরায় ধ্বংস্তূপে পরিণত হলো। বিগত ১০ ফেব্রুয়ারি যে মর্মান্তিক ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল জম্মুর নিকটবর্তী পুলওয়ামায়, ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক বিশাল কনভয়ে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ৪৫ জন ভারতীয় সেনাকে হত্যা করা হলো। তার বদলা নিতে ২৬ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে বালাকোট এলাকায় ১০টি জঙ্গি ঘাঁটিতে একযোগে আক্রমণ চালাল ভারতীয় বিমানবাহিনী ১০টি জেট বিমান নিয়ে। জানা যায়, ভারতীয় বিমানবাহিনী রাতে অতর্কিত বিমান হামলা চালানো কালে ১০০০ কেজি বোমা নিক্ষেপ করে। এ দৃশ্য ভিডিওতে ধারণ করে ভারতীয় একটি টেলিভিশন চ্যানেলে দেখানো হচ্ছিল, যা দেখে এর প্রতিআক্রমণ যে কত ভয়াবহ ধরনের তা অনুমান করা গেল।

সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে দৃশ্যত শান্ত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় চলমান ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিশাল কনভয়ের ওপর দিবাভাগে যে আত্মঘাতী হামলা চালিয়ে প্রায় অর্ধশত জওয়ান ও অফিসারের মৃত্যু ঘটানো হয়েছিল এবং অর্ধশতাধিক জওয়ানকে আহত করা হয়েছিল বিগত ১৪ ফেব্রুয়ারিতে তখনই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছিলেন, ‘বদলা লেঙ্গে কোইকো ছোড়েঙ্গে নেহি’। অর্থাৎ অবশ্যই এর প্রতিশোধ নেয়া হবে কাউকেই ছাড়া হবে না।

ভারতের রাজনৈতিক মহল এবং সে দেশের সংবাদ মাধ্যম তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানায়, ১৪ ফেব্রুয়ারি আক্রমণের দুই দিন আগে পাকিস্তানের জঙ্গি বাহিনী জয়েশ-ই-মহম্মদ ভারতের সেনাবাহিনীকে প্রবল আক্রমণের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল কিন্তু ভারতীয় সেনাবাহিনী সম্ভবত ওই হুঁশিয়ারিকে তেমন গুরুত্ব দেয়নি। কিন্তু পুলওয়ামায় ওই নির্মম হত্যালীলার পরও ‘জয়েশ-ই-মহম্মদ’ ওই হত্যালীলার দায় স্বীকার করেছে।

জয়েশ-ই-মহম্মদ একটি পাকিস্তানি জঙ্গিবাহিনী, যারা সশস্ত্র। তাদের জন্ম আইএসআই’র গর্ভে ও তাদের চিরকালের লালন-পালনকারী হলো পাকিস্তান সেনাবাহিনী। একথা বলে তারা পরোক্ষভাবে জানান দিলেন পাকিস্তান সরকার এ মর্মান্তিক ঘটনার দায় স্বীকার না করে পারে না।

এ ধরনের ক্রমাবনতিশীল অবস্থায় পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী ক্রিকেটার ইমরান খান নিজে থেকেই হুঁশিয়ারি দিলেন, ‘ভারত যদি পাকিস্তান আক্রমণ করে তবে তারা বসে থাকবেন না। সামরিক বাহিনীকেও নির্দেশ দিলেন প্রস্তুত থাকতে; যাতে দ্রুতই প্রত্যাঘাত হানা যায়।’ তিনি আরও বললেন, পাকিস্তান আদৌ পুলওয়ামা ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় তবে তার সম্পৃক্ত থাকার কোন তথ্য থাকলে এবং পাকিস্তানকে সেগুলো সরবরাহ করলে পাকিস্তান সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দ্বিধাবোধ করবে না। ভারতের নানা মহল তখন উল্লেখ করে জয়েশ-ই-মহম্মদ পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর দ্বারা লালিত, পাকিস্তানের মাটিতে বসেই তারা পুওলয়ামার মতো ভয়াবহ হত্যালীলা ঘটিয়েছে। তারা পাকিস্তানের মাটিতেই প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত। সেখানে তারা মিছিল করে জয়োল্লাস করেছে। এর চাইতে বড় প্রমাণ আর কী হতে পারে? এরপর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আর কোন কিছু না বলে চুপচাপ থেকেছেন। অপরদিকে ভারতজুড়ে কাশ্মীরিরা হামলার স্বীকার হয়েছেন, নির্দোষ হয়েও হামলার হুমকির মধ্যে পড়েছিল সারা ভারতে কাশ্মীরিরা, কোথাও কোথাও তাদের ওপর হামলাও হয়েছে।

এরই মধ্যে ২৬ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে (ভারতীয় সময় রাত ৩টা ৩০ মিনিট) ভারতীয় বিমানবাহিনীর ১২টি জেটবিমান উড়ে গিয়ে ২১ মিনিটের এক অভিযান শেষে ফিরে আসে নিরাপদে। এতে তারা ১০০০ কেজি বোমা নিক্ষেপ করে তিনটি এলাকায় (বালাকোট, চকেটি ও মুজাফফরাবাদ) অবস্থিত দশটি জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবিরে। ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রদত্ত তথ্যমতে, ২০০-৩০০ জঙ্গি এ অভিযানে নিহত হয়েছে। বিস্তারিত তথ্য এ নিবন্ধ লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। প্রশিক্ষণ শিবিরগুলো পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ভারত সীমান্তে অবস্থিত।

ভারতীয় বিমানবাহিনীর ১২টি জেটই সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ রেখা দৃশ্যত অতিক্রম করে ২১ মিনিটের অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বোমা নিক্ষেপ করে অত্যন্ত নিরাপদে আবার সীমান্ত পেরিয়ে নিজেদের ঘাঁটিতে ফিরে আসে। ভারতের প্রদত্ত প্রাথমিক হিসাবে ২০০-৩০০ জঙ্গি ওই অভিযানে নিহত হয়েছে।

পুলওয়ামা হত্যালীলার পরে নতুন করে পাকিস্তানবিরোধী উগ্র হাওয়া বইতে শুরু করে ভারতজুড়ে। পাল্টা আঘাতের দাবিও উঠতে থাকে। পরিস্থিতি দেখে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলে ওঠেন- ‘আমরা জানি শীঘ্রই ভারতের লোকসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে এবং ওই আবহের পরিণতিতে বর্তমান সরকারি দল ভোটে জয়ী হয়ে আসতে চাইছে।

পাকিস্তান এমনিতেই উগ্র জঙ্গি আবাদের এবং চর্চার দেশ। জন্ম থেকেই দেশটি সামরিক বাহিনীর আঙ্গুলি হেলানেই পরিচালিত। মাঝে মধ্যে সে দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও তার ফলাফল নিয়ন্ত্রণ করে অলক্ষ্যে থেকে পাকিস্তানি জেনারেলরা। কে হারবে কে জিতবে তাও নির্ধারণ করে দেয়ার মালিকও জেনারেলরাই। তাই তারা যে ভারতীয় প্রত্যাঘাতকে চুপচাপ হজম করে যাবে তা খুব একটা আশা করা যায় না; বিশেষ করে আমেরিকা, চীন, সৌদি আরব তাদের পক্ষে থাকায় এবং আমেরিকার (সিআইএ) অর্থে ও মদদে সৃষ্ট ওই দেশি জঙ্গিবাহিনী তাদের অপ্রকাশ্য মদদেই টিকে আছে।

ফলে ভারতের এ অভিযানের মাধ্যমেই ভারত-পাকিস্তানের কাশ্মীর নিয়ে বহু যুগ আগে ১৯৪৮ সাল থেকে উত্থাপিত দাবিরও পরিসমাপ্তি ঘটবে তা আশা করা দুরূহ। কারণ পাকিস্তান যেহেতু সেনাবাহিনীনির্ভর একটি রাষ্ট্র, সেখানে জনগণের সার্বভৌমত্বের ন্যূনতম স্বীকৃতিও নেই; সেখানে স্বাভাবতই উগ্রবাদ মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। আর এক্ষেত্রে তো রাষ্ট্রীয় উদ্যোগেই পাকিস্তান জঙ্গি ও জঙ্গিবাদের চাষাবাদে লিপ্ত।

পাকিস্তানের অন্যতম বৃহৎ প্রদেশ বেলুচিস্তানের কোটি কোটি মানুষও বাংলাদেশের মতো পাকিস্তানি স্বৈরসেনা শাসনে অতিষ্ঠ হয়ে কয়েক বছর হলো ‘স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন’ করছেন। হয়তো কোন না কোন সময় তারা আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণা করে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চাইবেন। ফলে একদিকে সেটা যেমন সুখবর হবে, তেমনই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ও সামরিক বাহিনীর কর্তাব্যক্তিরা আরও শঙ্কিত ও ক্ষিপ্ত হয়ে বেলুচিস্তান ও কাশ্মীরে জঙ্গি আক্রমণে লিপ্ত হবে এমন আশঙ্কাও অবাস্তব নয়।

যা হোক, এভাবে আঘাত-পাল্টা আঘাত, শত-শত হাজার-হাজার ভারতীয়-পাকিস্তানির শুধু মৃত্যু ডেকে আনতে পারে তাই নয়, এর ফলে গোটা উপমহাদেশে নতুন করে ঘৃণা, বিদ্বেষ ও শত্রুতামূলক পরিবেশের সৃষ্টি হবে। সাম্প্রদায়িক হানাহানির আশঙ্কাও সমগ্র উপমহাদেশে তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠবে; যেমন তা ঘটেই চলেছে ১৯৪৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত।

আমরা এ সংকটের বেদনাদায়ক ইতিহাস হয়তো অনেকেই ভুলে গিয়ে থাকতে পারি। তাই সংক্ষেপে অতীত চারণ এ নিবন্ধের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে মনে করছি।

১৯৪৭ সালে সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হয় দেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠার ঘোষিত লক্ষ্য নিয়ে। এ ব্যাপারে ইংরেজ, মুসলিম লীগ, কংগ্রেস একটি চুক্তিতে আবদ্ধ হলো। সেই অনুযায়ী ভারতের পশ্চিমের ৪টি মুসলিম অধ্যুষিত প্রদেশ, সিন্ধু-পাঞ্জাব-ফেলুচিস্তান; উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ ও পূর্ব বাংলা মুসলিম অধ্যুষিত হিসেবে পাকিস্তানে পরিণত হয়। তবে সমগ্র অখন্ড বাংলা পাকিস্তান হয়নি, হলো শুধু পূর্ববাংলা (অধুনা বাংলাদেশ)। পশ্চিম বাংলা ভারতের একটি প্রদেশে পরিণত হলো কোন যুক্তিতে তা দুর্বোধ্য কিন্তু তাই হলো। আবার দেখা যায়, পশ্চিম বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার অধিকাংশ মানুষ মুসলিম হলেও জেলাটি ভারতের অংশভুক্ত তেমনই আবার খুলনা জেলার তৎকালীন বাসিন্দাদের সিংহভাগ হিন্দু সম্প্রদায়ভুক্ত হলেও জেলাটি পড়ল পাকিস্তানের ভাগে। এগুলোর মাজেজা খুঁজে পাওয়া যাবে না।

আরও আশ্চর্যের বিষয় ছিল কাশ্মীর, হায়দরাবাদসহ পাঁচটি অঞ্চল রাজা-বাদশাহর শাসনে থাকাবস্থায় দেশ বিভাগকালে ওই শাসনে অঞ্চলগুলো শাসকেরা যে দেশে যেতে চাইবেন ভারত বা পাকিস্তানে- তারা সেই দেশের অধিভুক্ত হবেন। অর্থাৎ তখন নির্ধারিত হলো না কোন রাজ্য কোন দেশের অন্তর্ভুক্ত হবে। কাশ্মীর হয়ে গেল ব্যতিক্রম। অন্য অঞ্চলগুলোর যেভাবেই হোক সমাধান হয়েছে কয়েক বছরের মধ্যেই। হয়নি কাশ্মীরের ভাগ্য নির্ধারণ। কিন্তু সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে কেউ উঠতে পারেনি। জোর-জবরদস্তিও চলেছে।

কাশ্মীরের রাজা ছিলেন হিন্দু সম্প্রদায়ভুক্ত। রাজা সিদ্ধান্ত নিলেন কাশ্মীর ভারতে অংশীভূত হবে কিন্তু অধিকাংশ মুসলিম বাদ সাধলেন। তারা চাইলেন পাকিস্তানের সঙ্গে যেতে। পাকিস্তান তার ফলে দাবি করে বসল কাশ্মীর পাকিস্তানের অবিচ্ছেদ্য অংশ (integral part)। লাগল দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে মরণপণ যুদ্ধ। অবশেষে পাকিস্তান বেশ খানিকটা দখল করে নিল যাকে বলা হয় পাক-অধিকৃত কাশ্মীর। অপর অংশ থাকল ভারতের সঙ্গে। বিভক্ত হলো বিশ্বের অত্যন্ত আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র কাশ্মীর, যার প্রাকৃতিক দৃশ্যও ছিল অবর্ণনীয়ভাবে আকর্ষণীয়। প্রতি বছর রক্ত ঝরছে। শুধুই কি কাশ্মীর? না তা সত্য নয় আদৌ। কাশ্মীর গেল, কাশ্মীর চাই বলে পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশে অসংখ্যবার দাঙ্গা হয়েছে তার শিকার হয়েছে হিন্দু-মুসলমান সবাই। হিন্দুরা দেশত্যাগী হতেও বাধ্য হয়েছে; পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার নারী পুরুষ আসতেন এ পর্যটন রাজ্যে। বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎস ছিল রাজ্যটি।

সেই সুন্দর কাশ্মীর আজ বহু বছর মানুষের ভয়াল মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে। এ যাবত কত লক্ষ মানুষ যে প্রাণ হারালেন, তার কোন হিসাব নেই। ভয়ে এমনকি ভারতের অপরাপর রাজ্যের মানুষও অনেক সময় পর্যটনের লক্ষ্যে, দেখতে, বেড়াতে, স্বাস্থ্য উদ্ধার করতে, অবসর কাটাতে কাশ্মীর ভ্রমণের কথা মনে ঠাঁইও নেন না। ‘রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয় উলু খাগড়ায় প্রাণ যায়।’ এ মৃত্যুর যেন শেষ নেই। সীমা-পরিসীমা কিছু নেই।

বিরোধটি একাধিকবার জাতিসংঘের আলোচনায় স্থান পেয়েছে। জাতিসংঘ বহু তর্ক-বিতর্কের পর গণভোটের পরামর্শ দিলেও ভারত তাতে সম্মত হয়নি। ফলে একাধিকবার কাশ্মীর বিরোধকে কেন্দ্র করে উভয় দেশের মধ্যে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে।

বস্তুত বিরোধটিকে কেন্দ্র করে মনস্তাত্ত্বিকভাবে উপমহাদেশজুড়ে ঘটেছে এক অনাকাক্সিক্ষত সাম্প্রদায়িক বিভাজন। হিন্দুরা সর্বত্র মোটামুটিভাবে কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলেই মনে করেন তেমনই আবার মুসলিম সম্প্রদায় সাধারণভাবে পাকিস্তানের কাশ্মীর ভুক্তিতেই সমাধান দেখতে চান। তবে এ ভাবনাটা আজ আর তাদের মধ্যে তেমন নেই। কারণ স্পষ্টতই দেখা যাচ্ছে পাকিস্তান একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। পাকিস্তানের সর্বাঙ্গে সন্ত্রাস ও সামরিক বাহিনীর নির্যাতন, প্রাণহানি, ধর্ষণ, অত্যাচার আর নির্যাতন। উন্নয়নের বার্তা, মানুষের মৌলিক অধিকার, গণতন্ত্র, জনগণের সার্বভৌমত্ব পাকিস্তানের ক্ষেত্রে হনুজ দূর অস্ত। তাই যে নিরাপত্তা পাকিস্তানের চারটি মূল প্রদেশের মানুষেরই নেই সেখানে কাশ্মীর পুরোপুরি যুক্ত হলে তাদেরও নিরাপত্তা সংশয়াচ্ছন্ন থাকবে। আর এজন্য প্রয়োজন সাম্প্রদায়িক নয় গণতান্ত্রিক অসাম্প্রদায়িক দায়িত্বশীল, মানববান্ধব চেতনার বিস্তার কিন্তু তারও বাস্তবে কোন সম্ভাবনা আজও পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

কাশ্মীরের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন; আজকের ভীতিকর কাশ্মীর এক মুহূর্তও আর নয়। কয়েকটি প্রজন্ম এই দীর্ঘ ৭২টি বছর ধরে, কি পাকিস্তান অধিকৃত অঞ্চলে কি ভারতের অংশীভূত এলাকায় রাতের ঘুম হারাম করে আতঙ্কে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছে সম্পূর্ণ নিরপরাধ হওয়া সত্ত্বেও। তাদের শিক্ষাজীবন, সামাজিক জীবন, আর উপার্জনের জন্য শান্তিপূর্ণ অনুকূল পরিবেশ সব কিছুই হারিয়ে তাদের এ অনিশ্চিত যাত্রার অবসান ত্বরান্বিত করতে মানবিক বিশ্বকে এগিয়ে আসতে হবে। দ্রুতই এবং কালক্ষেপণ না করে। ফিরে আসুক ভারতের বুকে অসাম্প্রদায়িক কাশ্মীর সমস্যার স্থায়ী সমাধানে এগিয়ে আসুক, তা যেন আর পলাতক না থাকে।

[লেখক : সভাপতিমন্ডলীর সদস্য, ঐক্য ন্যাপ]
raneshmaitra@gmail.com
সাংবাদিকতায় একুশে পদকপ্রাপ্ত

দৈনিক সংবাদ : ৪ মার্চ ২০১৯, সোমবার, ৬ এর পাতায় প্রকাশিত

রাষ্ট্রভাষার প্রয়োগ হচ্ছে না

বাংলাদেশে বাংলা ভাষা-সাহিত্য ও বাংলা হরফ নিয়ে প্রচুর মাতামাতি থাকলেও আসলে বাংলাদেশে বাংলার সেই মর্যাদা নেই যেটির সাংবিধানিক

উপাসনালয়ে জঙ্গি-আক্রমণ

কয়েক দিন আগে নিউজিল্যান্ডের দুটি মসজিদে এক শ্বেতাঙ্গ জঙ্গির সন্ত্রাসী হামলায় ৫০ জন মুসলমান মারা গেছেন। জুমার নামাজে মুসল্লিদের ওপর এমন

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান

image

মহান রাষ্ট্রনায়ক, স্থিতধি রাজনীতিবিদ, প্রখ্যাত জননেতা, ভাষাসৈনিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং দেশিকোত্তম ব্যক্তিত্ব, বাংলাদেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি

sangbad ad

‘বাংলাদেশের গণহত্যা-রাজনীতি ও প্রতিহিংসার ইতিহাস’- পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ

বাংলাদেশে গণহত্যা কার্যক্রম অপারেশন সার্চলাইটের অধীনে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে পূর্ব

মুজিব : ভাষারাষ্ট্রের পিতা

image

মুজিব তোমাকে শততম জন্মদিনের শুভেচ্ছা। বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম বাঙালি, বিশ্বের একমাত্র বাংলা ভাষার রাষ্ট্রের পিতা, বাংলা ভাষার আন্দোলনের জনক, চার

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা

গ্যাস লাভজনক অবস্থায় দফায় দফায় দাম বাড়নো হচ্ছে। গত ২০১৭ সালে গ্যাসের দাম বাড়ানো

মানসম্মত শিক্ষার চ্যালেঞ্জগুলো

বাংলাদেশ দিন দিন উন্নত হচ্ছে এবং বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। কিন্তু একইসঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষার মানে

মফস্বলের সাংবাদিকরা গৃহবন্দী

বর্তমানে সাংবাদিকতা এক কঠিন অবস্থার ভেতর দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। রাষ্ট্রের ৪র্থ স্তম্ভ বলে

রাজধানীর বায়ুদূষণ : আমাদের বিবেক জাগ্রত হোক

বিভিন্ন দেশের বাতাসের মান নিয়ে গবেষণা করে আসছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার। সম্প্রতি বৈশ্বিক বায়ুমান প্রতিবেদন ২০১৮

sangbad ad