• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০

 

করোনাকালে সামাজিক দূরত্ব

এমআর খায়রুল উমাম

নিউজ আপলোড : ঢাকা , শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০

আজ থেকে ২৫/৩০ বছর আগের কথা। শহরের অনেকের প্রিয় শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি, বাড়ির দ্বিতীয় তলায় থাকতেন। তার বাড়িতে কোন অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র দিতে গেলে দোতলা থেকে একটা বালতি নামিয়ে দেয়া হতো এবং তাতে পত্রটি দিয়ে আসতে হতো। শহরে এটা আলোচনার বিষয় ছিল, নবীনরা সাধারণত এ দায়িত্বই নিতে চাইত না। স্নেহবৎসল অমায়িক মানুষটির বাড়ির এহেন ব্যবহারে অনেকে পীড়িত হলেও তার সান্নিধ্য প্রাপ্তির প্রত্যাশায় কোন ঘাটতি দেখা যায়নি। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের আর এক কর্মচারী। চাকরি শেষে রাজনীতিতে যোগদান। যথারীতি জাতীয় নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পেয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রিত্ব পেয়ে যান। আমাদের শীর্ষ সরকারি কর্মচারীরা সাধারণত জনগণের সঙ্গে বিশাল দূরত্ব রেখেই চলে। সাধারণত জনগণের সাহস হয়নি কোনদিন এদের স্পর্শ করে দেখে। কিন্তু জনগণের প্রতিনিধিরা তো মানুষের স্পর্শ এড়িয়ে চলতে পারে না। চলতি পথে মানুষের হাতের সঙ্গে হাত মেলাতেই হয়। এই জনপ্রতিনিধি তাই হাত মেলানোর সময় পকেটে থাকা ডেটল দিয়ে হাত পরিষ্কার করে নিতেন। ২৫/৩০ বছর আগে যা ছিল আলোচনার বিষয় আজ কিন্তু করোনাকালে বিশ্বাস করতে ইচ্ছা করছে এটা অগ্রসরমান ব্যক্তির শিক্ষার ফসল, ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়ার ফসল।

১০০ বছর পরপর বিশ্বে মহামারীর তান্ডব দেখা যায়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর সোয়ান ফ্লু কোটি কোটি মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছিল। এখন করোনাভাইরাস সারা বিশ্বে তান্ডব চালাচ্ছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নে মৃত্যুর মিছিল অতীতের মতো না হলেও মহামারীর প্রকোপকে দুর্বল ভাবার কোন কারণ নেই। করোনাভাইরাস প্রবল প্রতাপে সারা বিশ্বে তান্ডব চালিয়ে যাচ্ছে। মুক্তির পথ খোঁজার টিকা আবিষ্কারে যে যার মতো প্রচেষ্টারত। বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করে চলা, মাস্ক ব্যবহার, সময়ন্ডঅসময়ে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া চলমান। অপ্রয়োজনে বাড়ির বাইরে না আসা, যত্রতত্র কফন্ডথুথু না ফেলা, সবকিছুর যৌথ ব্যবহার পরিহার করা, সবচাইতে কঠিন বিষয় হাতকে নাকন্ডমুখন্ডচোখের অস্তিত্ব ভুলিয়ে দেয়া। এসব ব্যবস্থা ও প্রতিরোধের মধ্যে সামাজিক মানুষকে অসামাজিক করার প্রক্রিয়া পাকাপোক্ত হয়েছে। এমনকি ধর্মভীরু মানুষদের শেষ আশ্রয়স্থল উপাসনালয়গুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সামাজিকতার ন্যূনতম কোন সুযোগ রাখা হয়নি। অতীতে যেখানে ১/২ জন মানুষকে সমাজের উচ্চতর অবস্থানে থাকার পরও অসামাজিক মনে হতো সে অসামাজিকতা আজ করোনার প্রভাবে বিশ্বব্যাপী রূপধারণ করেছে। বৈষম্যহীন অসামাজিকতার এই প্রতিযোগিতায় দেশের মানুষ ৬/৭ মাস পার করে দিয়েছে। মানুষ মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

বিশ্বব্যপী করোনাভাইরাসে জীবন লন্ডভন্ড। জীবন বাঁচানোর সংগ্রামে মানুষকে গৃহবন্দি করা হয়েছে। জীবনন্ডজীবিকার তাগিদ গৌন হয়ে পড়েছে। অখন্ড অবসর। শুধু বায়োলজিক্যাল ও সোশ্যাল রিলেশনগুলো রক্ষায় উভয়পক্ষের তাড়া। এতেই সময়ের বেশি কিছুটা খারাপ কাটে না। কিন্তু এ অবস্থা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘ হওয়ার কারণে সম্পর্কগুলো হালকা হয়ে যাচ্ছে। এতে করে সামাজিক প্রতিরোধগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে। শাসক শ্রেণী সাধারণ মানুষের এ দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে লোকসানের অজুহাতে ২৫টা পাটকল বন্ধ করে দিয়েছে এবং এখন আবার নতুন করে চিনিকল বন্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণ করছে। একদিকে চলছে জীবনন্ডজীবিকা রক্ষার নামে প্রণোদনার সহযোগিতা আর বিপরীতে হাজার হাজার শ্রমিকের মুখের অন্ন কেড়ে নেয়ার প্রতিযোগিতা। অদূর ভবিষ্যতে চিনিকল বন্ধ করে দেয়া হবে তাতে কোন দ্বিধা থাকার কথা নয়। দেশে উৎপাদিত এক কেজি চিনির মূল্য ৮৮ টাকা হলেও বাজারে ৬০ টাকায় বিক্রি করা যাচ্ছে না। বিদেশ থেকে চিনি আমদানি করে কয়েক দফা লাভের পর ৬০ টাকা দরে বিক্রি হলেও দেশি চিনি অবিক্রিত থেকে যায়। দায়িত্বপ্রাপ্তরা কারণ অনুসন্ধানে ন্যূনতম কোন উদ্যোগ এ পর্যন্ত গ্রহণ করেনি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় প্রতিদিন একটা করে সোনার ডিম নিয়ে ভাগ্য পরিবর্তনে মন্থরগতি কারও সহ্য হচ্ছে না। চাহিবামাত্র হাঁসের পেট কেটে একবারে সব ডিমের মালিক হওয়ার প্রচেষ্টা। সে প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই লোকসানের অজুহাতে একটার পর একটা দেউটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে। জনকল্যাণের নামে শাসক শ্রেণীর এ এক উত্তম প্রক্রিয়া। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতিকে অস্বীকার করা। সস্তা শ্রমের দেশে লোকসানের অজুহাত। এ অজুহাতের পেছনে আকাশ ছোঁয়া দুর্নীতিকে গুপ্ত রেখে লুপ্ত করার চাইতে উৎসাহিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ভাগ্য পরিবর্তনের চিত্র বিষয়টিকে স্পষ্ট করে।

কয়েকদিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদী মানববন্ধনের ছবি দেখলাম। এক রাজনৈতিক জোট রাষ্ট্রায়ত্ত ২৫টি জুটমিল বন্ধ করায় প্রতিবাদ জানাচ্ছে। ছবি দেখার পর মনে হলো একটা রাজনৈতিক জোট ২৫ জুটমিল বন্ধের প্রতিবাদে ২৫ জন মানুষকে অংশগ্রহণ করাতে পারেনি। মানুষের সঙ্গে মানুষের সামাজিক যোগাযোগের দুর্বলতা এর একমাত্র কারণ না হলেও বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে অন্যতম প্রধান কারণ বলাই যায়। শারীরিক দূরত্বকে সামাজিক দূরত্ব বলে আজ অনাহারি অনিরক্ষর মানুষদের পরস্পরের থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে। তাই তো আগামীতে জীবনন্ডজীবিকা অনিশ্চিত জেনেও মানুষ প্রতিবাদহীন থেকে যাচ্ছে। বিবেকী প্রতিবাদ পথ হারিয়ে ফেলেছে, কর্তব্য প্রদর্শনের প্রতিবাদ সর্বত্র। রাজনৈতিক আদর্শে বিভক্তি পরিবেশকে আরও কঠিন করে তুলেছে। মানুষ সবকিছুর বিনিময়ে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নিজের পরিবার পরিজনদের আগামী অভিজাত জীবন গড়ায় নিয়োজিত। প্রতিবাদ সীমিত হয়ে পড়েছে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদানের মধ্যে। মনের স্পন্দনহীন এ প্রতিবাদে শাসকরা নড়ে না। পাটকল বন্ধে নড়েনি, করোনায় স্বাস্থ্যসেবা নড়েনি। তেমনি চিনিকল বন্ধে নড়বে না। জনকল্যাণের নামে উন্নয়ন ও অগ্রগতির জয়যাত্রা চলছে এবং চলবে।

করোনাকালে সামাজিক দূরত্ব রক্ষায় সবচাইতে ক্ষতিগ্রস্ত দিন এনে দিন খাওয়া মানুষেরা। রিকশায় যাত্রী নেই, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের খরিদ্দার নেই, শ্রমবিক্রির হাটে মানুষ নেই, পরিবহন ও নির্মাণ শ্রমিকদের কাজ নেই, হকার আর মুটেরা বেকার, গৃহকর্মী ছুটিতে। এই মানুষগুলো নিজেদের শ্রমে নিজ পরিবারের অন্ন সংস্থান করে থাকে। হাত পেতে সাহায্য সহজে গ্রহণ করতে চায় না। তাই এ মানুষগুলো সঞ্চয় বলতে যা কিছু ছিল তা শেষ করে ইতোমধ্যে স্থাবর সম্পদে হাত দিয়ে ফেলেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা আগামী শীতে করোনার প্রদুর্ভাব বৃদ্ধি পেতে পারে। আজকে বুভুক্ষু মানুষগুলোর জন্য শাসক শ্রেণীর সহায়তার যে বেহাল দশা তাতে আগামী শীতে কি কঠিন অবস্থার সৃষ্টি হবে তা অনুমান করতে ভয় লাগে। দেশের সিংহভাগ মানুষ যখন মানবেতর থেকে মানবেতর জীবনের দিকে রকেটের গতিতে এগিয়ে চলেছে, জীবন রক্ষা কঠিন হয়ে পড়েছে তখনও আমাদের প্রবৃদ্ধি বাড়ছে, বাড়ছে মাথাপিছু আয়। উন্নয়ন ও অগ্রগতির জোয়ার সর্বব্যাপী।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থেকে বিশ্ব আগামী কত দিনে মুক্তি পাবে জানা নেই। ভাইরাসের টিকা প্রাপ্তির আশ্বাসে অনেকে আশাবাদী হলেও গিনিপিগ হিসেবে পরীক্ষার জন্য আমরা যে অনেকের কাছ থেকে টিকা পাব, তাতে সন্দেহ নেই। বলা যায় উন্নত বিশ্বের চাইতে অনেক আগেই ভাইরাসের টিকা আমরা পাব। এতে করে সংশ্লিষ্ট অনেকে আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে যাবে। কিন্তু আজ ২/৩ কোটি পরিবারের জীবন রক্ষা না করা হলে টিকার পরীক্ষা কাদের ওপর করা হবে? এখনও পর্যন্ত সহায়তার প্রকৃত অবস্থা যা তাতে মানুষের জীবন প্রদীপ নিভু নিভু। আগামী শীতে যদি করোনার প্রকোপ বাড়ে তাহলে যে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে সেটা আপাতত চিন্তা করতে চাই না। তবে আজ সামাজিক দূরত্ব রক্ষা এবং মাস্ক পরার স্বাস্থ্যবিধি ভেঙে মানুষ দলে দলে বের হয়ে পড়ছে কারণ করোনাভাইরাসের চাইতে ক্ষুধার অন্নের চাহিদা বেশি। সাধারণ মানুষ সেই অন্নের সন্ধানে ছুটছে। কোন শঙ্কা, কোন বিধিনিষেধ বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে না।

দেশটা কি মগের মুল্লুক

বিদেশে টাকা পাচার হচ্ছে এ কথাটি বহু বছর ধরে শুনছি। আমাদের দেশের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা যে বিদেশে পাচার হচ্ছে তা আদালতে প্রমাণও হয়েছে।

দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা

দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা। সংক্ষেপে আরপি সাহা। একজন সংগ্রামী, আত্মপ্রত্যয়ী মানবসেবক।

করোনাকালীন শহীদ মিলন দিবস পালন

image

২০২০ সালের ২৭ নভেম্বর সারাবিশ্ব যখন করোনা মহামারীর ভয়াল গ্রাসে বিপর্যস্ত, হঠাৎ করে ২০১৩-১৪ সালের ন্যায় ঢাকা শহরে আবারও অগ্নিসন্ত্রাস, করোনার আঘাতে বাংলাদেশে ১০৫ জন চিকিৎসকসহ প্রায় সাড়ে হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে, তেমনি সময়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বিএমএ এর তৎকালীন যুগ্ম-সম্পাদক শহীদ ডা. সামসুল আলম মিলনের শাহাদাতবার্ষিকী পালিত হচ্ছে।

sangbad ad

ম্রো পল্লী এবং পাঁচতারা হোটেল

আমাদের সবার ভেতরেই প্রকৃতির জন্য এক ধরনের ভালোবাসা আছে। আমরা সবাই মনে মনে স্বপ্ন দেখি আমরা কোন একদিন একটা গহীন গ্রামে ফিরে যাব।

তিতুমীর : ব্রিটিশবিরোধী প্রথম বাঙালি শহীদ

image

মীর নিশার আলি, যিনি তিতুমীর নামে সবার কাছে পরিচিত। ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সফল কৃষকরা প্রতিরোধ গড়বার ক্ষেত্রে যাকে আদিপুরুষ বলে মর্যাদা দেয়া হয়, তার জন্ম আজকের উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার চাঁদপুর গ্রামে। সেটি বসিরহাট মহকুমার একটি গ্রাম।

লবণাক্ত ও খরাপ্রবণ অঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি ডাল চাষে সাফল্য

বাংলাদেশের মোট স্থলভাগের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই উপকূলীয়; যার আয়তন প্রায় ৮৭ হাজার ২১১ বর্গকিলোমিটার এবং এ উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ৫৩ শতাংশই লবণাক্ত।

আর্মেনিয়া-আজারবাইজানের যুদ্ধ

নাগোর্নো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজানের পুরাতন দ্বন্দ্বই গত সেপ্টেম্বরের যুদ্ধে পর্যবসিত হয়।

সাদা মনের মানুষ আলী জাহাঙ্গীর

সবকালে সব সমাজে কিছু ভালো মানুষ থাকেন যারা নামে-দামে খুব বিখ্যাত কেউ নন কিন্তু গুণে-মানে নীরবে-নিভৃতে সমাজের আলোকশিখা হয়ে দীপ্যমান থাকেন।

সাদা মনের মানুষ আলী জাহাঙ্গীর

সালাম জুবায়ের

সবকালে সব সমাজে কিছু ভালো মানুষ থাকেন যারা নামে দামে খুব বিখ্যাত

sangbad ad