• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০

 

করোনাকাল : প্রারম্ভিক শৈশব ও শিশুর পরিচর্যা

শরীফুল্লাহ মুক্তি

নিউজ আপলোড : ঢাকা , শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২০

বর্তমানে আমরা কঠিন সময় পার করছি। করোনাভাইরাসের কারণে সারা বিশ্বে আজ মহামারী দেখা দিয়েছে। আমরা সবাই এখন আতঙ্কগ্রস্ত ও দিশেহারা। দিন দিন যেন সময় কঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছে। করোনাজনিত এই সংকটকালে আমরা না পারছি আমাদের শিশুদের স্বাস্থ্যের প্রতি যথাযথ নজর দিতে, না পারছি লেখাপড়ার দায়িত্বটা সঠিকভাবে পালন করতে। বিগত ১৭ মার্চ ২০২০ খ্রি. হতে আমাদের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো বন্ধ আছে। এ অবস্থায় বর্তমানে বিদ্যালয়সমূহ কোমলমতি শিশুদের শিখনে প্রত্যক্ষ কোন ভূমিকা রাখতে পারছে না। ফলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হতে চলেছে- যা কোনভাবে কাম্য নয়। বিদ্যালয়গামী শিশুর পড়ালেখা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তেমনি হুমকির মুখে পড়েছে অনেক শিশুর প্রারম্ভিক শৈশবকালও। অনাকাক্সিক্ষত এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তাই আমাদের বিকল্প পথ খুঁজতে হচ্ছে।

শিশুরা আমাদের ভবিষ্যৎ। একটি শিশু পরবর্তী জীবনে সুস্থ-সবল, বুদ্ধিমান, উৎসাহী ও আগ্রহী হওয়ার ক্ষেত্রে এবং পারিবারিক, সামাজিক ও কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন কাজ করার জন্য দক্ষ হয়ে উঠতে যে মজবুত ভিত্তির প্রয়োজন, তা প্রধানত মাতৃগর্ভ থেকে শুরু হয়ে জীবনের প্রথম আট বছর বয়সের মধ্যেই ঘটে থাকে। এই সময়টাকে বলা হয় ‘শিশুর প্রারম্ভিক শৈশবকাল’। শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশ একসঙ্গে ঠিকভাবে হতে থাকলে সত্যিকার অর্থে শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটে। যেহেতু মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থা থেকে আট বছর বয়সের মধ্যেই শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশের ভিত্তি তৈরি হয় সেহেতু এই সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় সে যা শেখে এবং যেভাবে শেখে তার ওপরই গড়ে ওঠে তার ভবিষ্যৎ বুদ্ধিমত্তা ও ব্যক্তিত্ব, গড়ে ওঠে তার নৈতিক, আবেগিক ও সামাজিক আচরণ। তাই শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে শিশুর স্বাস্থ্যের প্রতি যেমন লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন তেমনি শিশুর সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের পারস্পরিক উদ্দীপনামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা অত্যাবশ্যক। বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে আমাদের দেশে শিশুর প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশের (ইসিসিডি) সমন্বিত নীতিমালা-২০১৩ তৈরি ও অনুমোদন করা হয়েছে। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে বর্তমানে আমাদের কোমলমতি শিশুর প্রারম্ভিক বৃদ্ধি ও বিকাশ অনেকাংশে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা আমাদের সন্তানদের বৃদ্ধি ও বিকাশে যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারছি না। হুমকির মুখে পড়েছে গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্যসেবাও।

প্রারম্ভিক শৈশব শিশুর জীবনের একটি বিশেষ কাল যার ওপর ভিত্তি করে একটি শিশুর পরবর্তী জীবন গঠনের ভিত তৈরি হয়। ইসিসিডি পলিসি-২০১৩ অনুযায়ী এ কাল/পর্ব প্রধানত মাতৃগর্ভের ভ্রুণাবস্থা থেকে আট বছর পর্যন্ত বিস্তৃত। এই সময়েই একটি শিশুর জীবনব্যাপী শারীরিক বৃদ্ধি, মানসিক বিকাশ ও শিখনের ভিত্তি রচিত হয়, পাশাপাশি মস্তিষ্কের বিকাশ ঘটে যা মানসিক বিকাশ ও শিখনের জন্য একান্তই প্রয়োজন। ভ্রুণাবস্থা থেকে পাঁচ বছর জীবনব্যাপী শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশের ভিত্তি গঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং ছয় বছর থেকে আট বছর প্রাথমিক শিক্ষায় সহজ ও সাবলীল উত্তরণের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সে কারণে একজন মানুষের জীবনে প্রারম্ভিক শৈশব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু গর্ভাবস্থা থেকে প্রারম্ভিক শিশুকাল শুরু হয় তাই মায়ের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

মায়ের গর্ভে থাকার সময় থেকে আট বছর পর্যন্ত একটি শিশুর শরীর ও মনের যে পরিবর্তন ঘটে সেটাই হলো ‘শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশ’ (Early Childhood Development)। শারীরিক বৃদ্ধি হলো ক্রমান্বয়ে ওজন ও উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়া এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আকারের পরিবর্তন ও পরিবর্ধন হওয়া। আর মানসিক বিকাশ হলো- শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ব্যবহার করতে পারা, ভাষা, চিন্তা-চেতনা, বুদ্ধি, মেধা, বোধশক্তি, অনুভূতি ও ভাবের আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে ক্রমশ অধিক সক্ষমতা অর্জন করা এবং দক্ষ হয়ে ওঠা। আর মস্তিষ্কের বিকাশ হলো- শরীরের যে সব অঙ্গ আমাদের মানসিক কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণ করে সেই সব অঙ্গের বিকাশ।

মস্তিষ্কের বিকাশ হলো মস্তিষ্কের কোষ বা নিউরনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং নিউরনগুলোর মধ্যে একটির সঙ্গে আরেকটির বা একাধিক নিউরনের সংযোগ বৃদ্ধি এবং অন্তজাল তৈরি (neuron connection and network formation)। এ বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আমাদের জানা জরুরি। যেমন- মস্তিষ্কের নিউরনের সংখ্যা বৃদ্ধির অতি গুরুত্বপূর্ণ সময় হলো মায়ের গর্ভে থাকাকালীন অবস্থা। জন্মানোর পূর্বে নিউরনের সংখ্যা অবিশ্বাস্য দ্রুত হারে বৃদ্ধি পায় মাতৃগর্ভে। জন্মের পর নিউরনের সংখ্যা বৃদ্ধি হয় না বলেই চলে। নিউরনের সংযোগ বৃদ্ধি এবং অন্তজাল তৈরির সময় হলো জন্মের পর। জন্মের সময় হাজার হাজার কোটি নিউরন থাকে। প্রতিটি নিউরনের অন্য ১৫০০০টি নিউরনের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সক্ষমতা থাকে। সংযোগ বৃদ্ধি এবং অন্তজাল তৈরি ছাড়া মস্তিষ্ক কাজ করতে পারে না। ৮০%-৯০% সংযোগ স্থাপিত হয় জন্ম থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে। এর মধ্যে অধিক সংখ্যক সংযোগ ঘটে প্রথম তিন বছর বয়সের মধ্যে। নিউরনের সংযোগ বৃদ্ধি এবং অন্তজাল তৈরির পূর্বশর্ত হলো নিউরনগুলোর উদ্দীপ্তকরণ (stimulation)। শিশুর সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করা বা করার সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়া নিউরনগুলোর উদ্দীপ্ত করার (stimulation) একমাত্র উপায়। মস্তিষ্কের এক এক অংশ এক এক ধরনের কাজ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে তাই মস্তিষ্কের সব অংশের নিউরনগুলোকেই উদ্দীপ্ত করা প্রয়োজন। শিশু যাতে তার পাঁচটি ইন্দ্রিয়ই বিভিন্নভাবে ব্যবহার করার সুযোগ পায় এমনভাবে মিথস্ক্রিয়া করলেই মস্তিষ্কের সব অংশের নিউরন উদ্দীপ্ত হয়ে সার্বিকভাবে নিউরনের মধ্যে সংযোগ স্থাপন এবং অন্তজাল সৃষ্টি হয়। পাঁচ বছর বয়সের পর নিউরনের সংযোগ স্থাপন করার সক্ষমতা লোপ পায়। তাই নিউরনের সংযোগ স্থাপন ঘটাবার সর্বোৎকৃষ্ট সুযোগ হলো জন্ম থেকে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত। এ সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলে তা চিরকালের জন্য হারিয়ে যায়। এটি হলো ‘ব্যবহার কর, না হলে হারিয়ে ফেলবে’ (use it or lose it) প্রক্রিয়া। বার বার মিথস্ক্রিয়া ও পরিবেশ থেকে বিভিন্ন উদ্দীপনা নিউরনের সংযোগ বৃদ্ধি এবং অন্তজাল তৈরির প্রধান নিয়ামক। বিভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতাই অপেক্ষাকৃত কমবয়স্ক মস্তিষ্কের বিকাশের ক্ষেত্রে প্রভাব রাখে। এ ক্ষেত্রে পরম আদর-যত্ন সহকারে পরিচর্যার (nurturing care- নার্চারিং কেয়ার) মাধ্যমে শিশুকে লালন-পালন করার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু নেই।

শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশ একটি চলমান প্রক্রিয়া। তাই প্রারম্ভিক শিশুকালে সেবা-যত্ন একটানা বা লাগাতার চালিয়ে যেতে হবে। এ ক্ষেত্রে কিছু বিষয়কে অগ্রাধিকার দিতে হবে। যেমন- ছেলে ও মেয়ে শিশুকে একইভাবে দেখা, শিশুর জন্য নিরাপদ, সুরক্ষিত ও সহায়ক পরিবেশ তৈরি, জন্ম থেকে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত বয়স অনুযায়ী প্রতিদিন/বারে বারে পরিচর্যা করতে হবে, বিভিন্নভাবে শিশু যেন তার ৫টি ইন্দ্রিয় ( দেখা, শোনা, স্পর্শ, ঘ্রাণ, স্বাদ) ব্যবহার করতে পারে সে সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে।

নার্চারিং কেয়ার বা পরম আদর-যত্ন সহকারে পরিচর্যার উপাদানগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন- সুস্বাস্থ্য (Good Health), পর্যাপ্ত পুষ্টি (Adequate Nutrition), সংবেদনশীল যত্ন (Responsive Caregiving) প্রারম্ভিক শিখনের সুযোগ (Opportunities for Early Learning), নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ((Security and Safety)।

সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতের ক্ষেত্রে সেবাসমূহ : সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতের ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে সেগুলো হলো- গর্ভকালীন, প্রসবকালীন ও প্রসব-পরবর্তী যত্ন, মা ও শিশুর টিকাদান, জন্মকালীন স্বল্প-ওজন বা প্রিটার্ম জন্ম প্রতিরোধ, নবজাতক শিশুর প্রয়োজনীয় সেবা এবং স্বল্প-ওজন নিয়ে জন্ম নেয়া শিশুর বিশেষ সেবা নিশ্চিত, রোগাক্রান্ত ও অসুস্থ অবস্থায় শিশুর সমন্বিত চিকিৎসা, প্রাথমিক অবস্থায়ই শিশুর শারীরিক প্রতিবন্ধিতা শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা প্রদান, মানসিকভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সেবা প্রদান, যত্নকারীর মানসিক সুস্বাস্থ্যের জন্য সহায়তা নিশ্চিত, পরিবার-পরিকল্পনা ইত্যাদি।

পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিতের ক্ষেত্রে সেবাসমূহ : পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিত করা শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেমন- গর্ভবতী মায়ের প্রসবপূর্ব ও প্রসব পরবর্তী পুষ্টি নিশ্চিত করা, জন্মের পর পরই শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু করে ৫ মাস পর্যন্ত শুধু মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো এবং ৬ মাসের পরও বুকের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যেতে সহায়তা করা, ৬ মাস বয়স থেকে শিশুকে বাড়তি/সম্পূরক খাবার (মাতৃদুগ্ধ/বাদাম বা দানাজাতীয় খাবার/দুগ্ধজাতীয় খাবার/মাছ-মাংস-ডিমজাতীয় খাবার/ শাকসবজি ও ফলমূল জাতীয় খাবার) দেয়া ও ক্রমে ক্রমে ১ বছর বয়স থেকে পারিবারিক খাবার খেতে সহায়তা করা, প্রয়োজনে মা ও শিশুকে সম্পূরক অনুপুষ্টি (Micronutrient Supplementation) প্রদান, শিশুর ওজন ও উচ্চতা মনিটরিং করা ও অপুষ্টি থাকলে চিকিৎসার জন্য রেফার করা, মাঝারি ও মারাত্মক ধরনের অপুষ্টি এবং মাত্রাধিক ওজন/স্থূলতা থাকলে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, শিশুকে কৃমির বড়ি ও সম্পূরক ভিটামিন (ভিটামিন-এ) খাওয়ানো, অসুস্থ ও রোগাক্রান্ত শিশুকে যথোপযুক্ত খাবার খাওয়াতে সাহায্য করা। মনে রাখতে হবে প্রধান খাদ্যদ্রব্যে বাড়তি পুষ্টি ও অনুপুষ্টি মিশ্রণ ইত্যাদি শিশুর পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিতের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সংবেদনশীল যত্ন নিশ্চিতের ক্ষেত্রে সেবাসমূহ : জন্মের পর পরই শিশুকে মায়ের বুকে এমনভাবে জড়িয়ে ধরা বা আদর করা যাতে মায়ের ত্বকের সঙ্গে শিশুর ত্বক স্পর্শ করে, স্বল্প-ওজন নিয়ে জন্ম নেয়া শিশুকে ক্যাঙ্গারু পদ্ধতিতে যত্ন নেয়া, মা ও নবজাত বা কমবয়সী শিশুকে একই কক্ষে রাখা এবং শিশু যখনই চাইবে তখনই খাওয়ানো, সংবেদনশীলভাবে শিশুকে খাওয়ানো, যত্নকারীর এমন কাজ করা যা শিশুকে তার সঙ্গে খেলতে ও ভাবের আদান-প্রদান বা কথাবার্তা বলতে উৎসাহিত করে, শিশুর ইশারা বা ইঙ্গিত অনুযায়ী স্পর্শকাতর ও সংবেদনশীলতার সঙ্গে যত্নকারীর কাজ করা, যত্নকারীর মানসিক সুস্বাস্থ্যের জন্য সহায়তা করা, বাবা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যের শিশুর সেবা-যত্ন নিতে উৎসাহিত ও সম্পৃক্ত করা, শিশুর সেবা-যত্ন করার ক্ষেত্রে পরিবার, সমাজ ও ধর্মীয় নেতাদের সহযোগিতা প্রদানের মতো বিষয়গুলো শিশুর যথাযথ বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য খুবই জরুরি।

প্রারম্ভিক শিখনের সুযোগ নিশ্চিতের ক্ষেত্রে সেবাসমূহ : শিশুর শিখনের ভিত্তি রচনার জন্য এ সময় আমাদের বেশ কিছু দিকে লক্ষ রাখতে হবে। যেমন- প্রারম্ভিক শিখনের সুযোগগুলো সম্পর্কে তথ্য, উপদেশ ও সহযোগিতা প্রদান, গৃহকাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন বস্তু/ বাড়িতে বা ঘরে বানানো খেলনার মাধ্যমে শেখার সুযোগ তৈরি করা, শিশুর সঙ্গে বয়স অনুযায়ী খেলা, গান/ছড়া/বই পড়ে শুনানো ও গল্প বলা, কাজগুলো কিভাবে করতে হবে সে ব্যাপারে যত্নকারীকে সহযোগিতা দেয়া। ভ্রাম্যমাণ খেলনা, বই ভাগাভাগি ও বইয়ের লাইব্রেরির ব্যবস্থা করা, মানসম্মত দিবা-যত্ন কেন্দ্র (ডে-কেয়ার সেন্টার) থেকে শিশুর সেবা প্রদান এবং প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ করে দেয়া, শিশুর প্রতিদিনের সেবা-যত্নের সময় স্থানীয় ভাষা ব্যবহার করাও প্রারম্ভিক শিখনের সুযোগ নিশ্চিতের ক্ষেত্রে আবশ্যক।

নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে সেবাসমূহ : সরকার কর্তৃক নির্ধারিত প্রতিষ্ঠান থেকে জন্ম নিবন্ধন করা, নিরাপদ পানি সরবরাহ (আর্সেনিকমুক্ত টিউবওয়েলের পানি/ফুটন্ত পানি/বোতলজাত পানি/ঝরনার পানি/বৃষ্টির পানি) ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করা, ঘর-কর্মক্ষেত্র-কমিউনিটি সর্বত্র স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং চর্চা করা, ঘরের ভেতরে এবং বাইরে বায়ুদুষণ কমানো ও প্রতিরোধ করা, রাসায়নিক ঝুঁকিমুক্ত নির্মল ও বিশুদ্ধ পরিবেশ গড়ে তোলা, গ্রামে ও শহরে নিরাপদ পারিবারিক পরিবেশ গড়ে তোলা, বাইরে নিরাপদ খেলার স্থানের ব্যবস্থা করা, নিকটজন/ঘনিষ্ঠজন কর্তৃক ও পারিবারিকভাবে সংঘটিত সহিংসতা প্রতিরোধ এবং যথাযথ সেবার ব্যবস্থা করা, নগদ টাকা বা দ্রব্য প্রদান, সামাজিক বীমার মতো নানা ধরনের সামাজিক সুরক্ষামূলক সেবা, প্রাতিষ্ঠানিক সেবার (যেমন- এতিমখানা) চেয়ে পরিবারিক ও ফস্টার/দত্তক সেবা প্রদানের জন্য সহযোগিতা করা ইত্যাদি দিকের প্রতি খেয়াল রেখে শিশুর নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

শিশুদের সঙ্গে যোগাযোগ ও মিথস্ক্রিয়া (Communication and Interaction) করার ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ দিকের প্রতি যত্নবান হতে হবে। এগুলো মেনে চললেই শিশুরা আগ্রহী ও উৎসাহিত হয়ে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে। আগ্রহী ও উৎসাহিত হয়ে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ শিশুর সার্বিক বিকাশকে ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই ধরনের বেশ কিছু নিয়মনীতি যত্নকারীদের অনুসরণ করা বিশেষ প্রয়োজন। যেমন- শিশুকে সময় দিতে হবে ও শিশুর সঙ্গে নির্ভরযোগ্য সম্পর্ক তৈরি করতে হবে, শিশুর সঙ্গে কথা বলতে হবে ও শিশুর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে, শিশুর ইশারা-ইঙ্গিত-অনুভূতি বুঝতে হবে ও শিশুর ভাবাবেগকে মূল্য দিতে হবে, শিশুকে প্রচুর পরিমাণে খেলনাসামগ্রী দিতে হবে ও খেলার সাথী হতে হবে, প্রতিটি শিশু যে আলাদা তা মনে রাখতে হবে ও শিশুর পছন্দকে প্রাধান্য দিতে হবে, শিশুকে শারীরিক শাস্তি বা ভয়ভীতি না দেখিয়ে বুঝিয়ে-শুনিয়ে বিভিন্ন নিয়মনীতি, মূল্যবোধ ও তার সীমাবদ্ধতা শিখতে সাহায্য করতে হবে, শিশুকে নিজে নিজে কাজ করার জন্য উৎসাহিত করতে হবে ও তার কাজের প্রসংশা করতে হবে, শিশুকে আনন্দঘন-নিরাপদ-সহায়ক পরিবেশ দিতে হবে, ছেলেমেয়ের প্রতি সমান আচরণ প্রদর্শন করতে হবে।

বিদ্যমান অবস্থার পরিপেক্ষিতে আমাদের দেশের জন্য বেশ কিছু কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। তবে তেমন ব্যাপকভাবে নয়। এগুলো আরও জোরদার করা দরকার। পাশাপাশি আরও বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। যেমন- প্রাতিষ্ঠানিক কেন্দ্রের মাধ্যমে মা ও শিশু-স্বাস্থ্য নিশ্চিত, কর্মজীবী মায়েদের শিশুদের জন্য শিশু দিবা-যত্ন নিশ্চিত, ৩-৫ বৎসর বয়সী শিশুদের প্রারম্ভিক শিখন, ৫-৬ বৎসর বয়সী শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা প্রদান করা, বিদ্যমান স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেবার সঙ্গে প্রারম্ভিক মানসিক বিকাশ ও শিখনের সেবা/তথ্যাদি সম্পৃক্ত করা, একইভাবে প্রারম্ভিক মানসিক বিকাশ ও শিখনের সেবার সঙ্গে স্বাস্থ্য/পুষ্টি বিষয়ক সেবা/তথ্যাদি সম্পৃক্ত করা, ইসিসিডি প্রমোট করার জন্য প্রিন্ট-ইলেকট্রনিক-সোশাল মিডিয়ার ব্যাপক ব্যবহার, প্যারেন্টিং এডুকেশনের মাধ্যমে পারিবারিক পর্যায়ে শিশুদের বয়স অনুযায়ী পরম আদর-যত্ন সহকারে পরিচর্যা (nurturing care-নার্চারিং কেয়ার) প্রদানে উৎসাহিত করা।

বাংলাদেশে সরাসরি শিশুকে সেবা-যত্ন প্রদানের ক্ষেত্রে পরিবারের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে জন্ম থেকে ৫ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুরা মূলত পরিবারেই বড় হয়। যেসব শিশুরা প্রারম্ভিক শিখন/প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা/দিবা-যত্নের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কেন্দ্রে যায় তারাও অধিকাংশ সময় পারিবারিক পরিবেশেই থাকে। বাবা-মা ছাড়াও পরিবারের অন্যান্য ঘনিষ্ঠ সদস্যগণ (যেমন- বড় ভাই-বোন দাদা-দাদি, নানা-নানি), অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশী, যত্নকারী/শিক্ষক (ডে-কেয়ার সেন্টার, শিশু বিকাশ কেন্দ্র, প্রাক-শিখন কেন্দ্র, প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়), স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা প্রদানকারী (যেমন- চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ, পরিবার-কল্যাণ পরিদর্শিকা, স্বাস্থ্য-সহকারী, পরিবার-কল্যাণ সহকারী, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ধাত্রী) শিশুবান্ধব পরিবেশে ইসিসিডি কার্যক্রম/সেবাসমূহ নিশ্চিতকরণের জন্য মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে। যাবতীয় সেবা প্রদানের নিমিত্তে প্রয়োজনীয় নীতি/কৌশল/পরিকল্পনা প্রণয়ন, ব্যবস্থার সংস্থান ও দ্রব্যাদির সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে।

বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জসমূহ : বিশ্ব-মহামারী করোনায় সবকিছু যেন থমকে গেছে। মা ও শিশুর স্বাস্থ্য-পুষ্টি অনেকটাই ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। বর্তমানে এটা উত্তরণ করা আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যান্য চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বিদ্যমান সেবা প্রদানের সুযোগ-সুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবহার না করা। ফলে গর্ভ/প্রসবকালীন/প্রসব পরবর্তী সেবা গ্রহণের হার নিম্ন এবং মাতৃমৃত্যু, জন্মকালীন সময় শিশুর ওজন কম থাকা, শিশুর অপুষ্টি, নিউমোনিয়া ও অন্যান্য রোগে আক্রান্ত শিশু মৃত্যুর হার উচ্চ পর্যায়ে। সুবিধাবঞ্চিত বা দুর্গম এলাকায় (যেমন- শহুরে বস্তি, চা বাগান, হাওর, দূরবর্তী দ্বীপ, পার্বত্য চট্টগ্রাম, অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কমিউনিটি) বসবাসকারী শিশুদের জন্য সেবা প্রদানের অপ্রতুল সুযোগ-সুবিধা, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা প্রদানের সুযোগ-সুবিধা সীমিত আকারে থাকা, ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রারম্ভিক উদ্দীপনা ও শিখনের সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করার জন্য কম বিনিয়োগ, প্রত্যাশিত মানসম্মত সেবা দানের ঘাটতি, ইসিসিডি সেবা প্রদানের জন্য প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল প্রশিক্ষিত/যোগ্যতাসম্পন্ন লোকবলও ইসিসিডি বাস্তবায়নে আমাদের বড় বাধা। এছাড়াও বিভিন্ন সেক্টরের বিদ্যমান সেবা প্রদানের সুযোগ-সুবিধা/প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ব্যবহার করে এক সেক্টরের সঙ্গে আরেক সেক্টরের কাজ করার সুযোগের পরিপূর্ণ ব্যবহার না করা, সরকারি, বেসরকারি, প্রাইভেট/ব্যক্তি-মালিকানাধীন সেবা প্রদানকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয়/সহযোগিতার ঘাটতি, ইসিসিডি প্রোমোট করার জন্য প্রিন্ট-ইলেকট্রনিক-সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সীমিত ব্যবহার এবং মা-বাবা, অভিভাবক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডারদের ইসিসিডি বিষয়ে সীমিত আকারের সচেতনতা ইত্যাদি ইসিসিডি বাস্তবায়নে আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। শিশুর শিক্ষাগত সাফল্যের জন্য অভিভাবকরা খুব বেশি যত্নশীল হলেও অধিকাংশই জানেন না যে, উদ্দীপনা ও নিরাপত্তার অভাব শিশুর শিখনে ব্যাপকভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। আমাদের প্রতি চারটি শিশুর মধ্যে তিনটি শিশু মানসিক নির্যাতন এবং প্রতি তিনটি শিশুর মধ্যে দুটি শিশু শারীরিক নির্যাতন ভোগ করছে।

উত্তরণের সম্ভাব্য উপায়: পরম আদর-যত্ন সহকারে পরিচর্যার (nurturing care- নার্চারিং কেয়ার) মাধ্যমে শিশুকে লালন-পালন করার বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে সরকার আরও ব্যাপকভাবে প্রচার চালাতে পারে; যেমন করে ডাইরিয়া ও পোলিও নিয়ে করা হয়েছে। এইভাবে প্রচার করলে মানুষ সচেতন হবে এবং শিশু পরিচর্যার মান বাড়বে। বর্তমান করোনা মহামারীর সময়ে কিভাবে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য-পুষ্টি নিশ্চিতসহ ইসিসিডি কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা যায় তার জন্য নতুন করে পরিকল্পনা করতে হবে। সরকারের একার পক্ষে এই ক্ষেত্রে কাজ করা সম্ভব নয়। তাই সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগেও সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে। যে সকল প্রতিষ্ঠান বা বিদ্যালয় ইসিসিডি নিয়ে কাজ করে সে সব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকট থাকলে তাদের জন্য অর্থের ব্যবস্থা করতে পারলে প্রতিষ্ঠানগুলো আরও ভালোভাবে শিশুদের জন্য কাজ করে যেতে পারবে। তাছাড়া বিদ্যমান সেবা প্রদানে সুযোগ-সুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এক ধরনের সেবা প্রদান না করে একাধিক সেবা প্রদানের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ (যেমন- EPI+), সুবিধাবঞ্চিত বা দুর্গম এলাকায় বসবাসকারী শিশুদের ইসিসিডি কার্যক্রমের আওতায় নিয়ে আসার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে বিনিয়োগ ও সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা প্রদানের পরিধি বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে বিনিয়োগ ও সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা, পারিবারিক পর্যায়ে মা-বাবা ও অন্যান্য যত্নকারী যাতে শিশুর বয়স অনুযায়ী সঠিক সেবা-যত্ন দিয়ে লালন-পালন করে ও বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা থেকে অধিক পরিমাণে সেবা গ্রহণ করে সেজন্য প্যারেন্টিং এডুকেশনের ব্যাপক সম্প্রসারণ করা, ইসিসিডি কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও টেকসই করার জন্য বেসরকারি সংস্থা/প্রতিষ্ঠান, প্রাইভেট সেক্টর ও বিভিন্ন ধরনের যোগাযোগ (যেমন- প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও সামাজিক) মাধ্যমকে যুক্ত/সম্পৃক্ত করা, ইসিসিডি প্রোমোট করার জন্য ব্যাপকভাবে এডভোকেসি ও সামাজিক মোবিলাইজেশন কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন, জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সেবাদানকারীদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা, নতুনভাবে উদ্ভুত/আবির্ভূত ক্ষতিকর পরিস্থিতির বিস্তার রোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা ইত্যাদি দিকে নজর দেয়া প্রয়োজন। তিন বছরের কম বয়সী শিশুদের বাবা-মা ও তাদের সেবাদাতারা শিশুর স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিয়ে নিমগ্ন থাকে, কিন্তু শিশুর যথাযথ বিকাশ নিশ্চিতেও তাদের জরুরি ভিত্তিতে ভাবতে হবে। তিন বছরের বেশি শিশুদের ক্ষেত্রে খেলাধুলা, শিক্ষা, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যের যত্ন নিলেই হবে না, পাশাপাশি নির্যাতন থেকে সুরক্ষা, পয়ঃনিষ্কাশন ও হাইজিনের মতো বিষয়গুলোকেও গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যদিকে কর্মজীবী বাবা-মা কাজে যাওয়ার সময় ছোট শিশুরা যথাযথ সেবা থেকে যেন বঞ্চিত না হয় সে দিকটাও লক্ষ্য রাখতে হবে।

আমাদের দেশ বিশ্বের অন্যতম একটি জনবহুল দেশ। আর এ রকম একটি দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে রূপান্তর করা জরুরি। কিন্তু আমাদের দেশের অধিকাংশ অভিভাবকই অসচেতন এবং দারিদ্রসীমার নিচে বাস করে। শিশুর সঠিক যত্ন ও প্রতিপালন সম্পর্কে তাদের জ্ঞান এখনও বেশ সীমিত- বিশেষ করে প্রারম্ভিক শৈশবকালীন। বিশ্ব-মহামারী করোনার জন্য চিকিৎসাসেবা অনেকটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝুঁকিতে আছে গর্ভবতী মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা। অধিকাংশ গর্ভবতী মা ও শিশু নানা ধরনের অসুখ ও অপুষ্টিতে ভুগছেন। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে শিশুর স্বাভাবিক প্রারম্ভিক শৈশবকালীন বৃদ্ধি ও বিকাশ। একটি দক্ষ জনগোষ্ঠী পেতে হলে প্রতিটি শিশুর জীবনের প্রারম্ভে বৃদ্ধি, বিকাশ ও আজীবন শিখনের শক্ত ভিত্তি রচনা করা খুবই প্রয়োজন। আর এ ভিত্তি রচনা করার অন্যতম উপায় হলো শিশুর নিরাপদ জন্ম, সুন্দর স্বাস্থ্য, সঠিকভাবে বেড়ে ওঠাসহ প্রারম্ভিক বিকাশ নিশ্চিত করা। আর তা নিশ্চিত করতে হলে এ খাতে বিনিয়োগ এবং নজরদারি আরও বাড়াতে হবে। মনে রাখতে হবে এটাই মানবসম্পদ উন্নয়নের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ, যা একটি দেশকে টেকসই উন্নয়নের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

[লেখক : প্রাবন্ধিক, শিক্ষা-গবেষক ও ইন্সট্রাক্টর, উপজেলা রিসোর্স সেন্টার (ইউআরসি)]

ahmsharifullah@yahoo.com

অনলাইন ক্লাস

করোনার সংক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় সারা বিশ্বের মতো আমরাও আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করছি।

নির্বাচনকে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে

করোনা মহামারীর মধ্যেই ২০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার জেলা-উপজেলা পরিষদের দুই শতাধিক নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল

শিশুশিক্ষার সাতকাহন

পৃথিবীতে এখনও প্রতিনিয়ত তান্ডব চালাচ্ছে করোনাভাইরাস। কোভিড-১৯ ভাইরাসের কারণে সারা বিশ্বে আজ মহামারী দেখা দিয়েছে।

sangbad ad

ঐক্যের শিক্ষায় শ্রীশ্রী দুর্গাপূজা

image

বিশ্ববরেণ্য দার্শনিক ড. মহানামব্রত ব্রহ্মচারীজী বলেছেন- ‘ঈশ্বরের সহিত সম্বন্ধ পাতাইবার যত প্রকার উপায় মানুষ আবিষ্কার করিয়াছে, তন্মধ্যে পূজাই সর্বশ্রেষ্ঠ।’ তাই তো, ঋতুর রানী শরৎ এলেই মা আসছেন, মনে রব ওঠে যায়।

দুর্গাপূজার ইতিকথা ও বাংলায় দুর্গোৎসবের প্রচলন

ঢাকে কাঠি পড়বে, বাজবে শঙ্খ, মন্ডপ মন্ডপে ধুপের সুগন্ধি, ভক্তকুলের আরাধনা আর ধনুচি নাচে মেতে উঠবে সব সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। দুর্গাপূজা বলে কথা।

দুর্গাপূজার ইতিকথা ও বাংলায় দুর্গোৎসবের প্রচলন

সংবাদ অনলাইন ডেস্ক

ঢাকে কাঠি পড়বে, বাজবে শঙ্খ, মন্ডপ মন্ডপে ধুপের সুগন্ধি, ভক্তকুলের আরাধনা আর ধনুচি নাচে মেতে উঠবে সব সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। দুর্গাপূজা বলে কথা। ষষ্ঠী থেকে দশমী চলবে দেবী বন্দনা।

আল্লাহর দুনিয়ায় জমির অভাব নেই

সুপ্রিমকোর্টের রায়ের ভিত্তিতে ভারতের অযোধ্যায় ৫০০ বছরের পুরনো বাবরি মসজিদের জায়গায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি রামমন্দির নির্মাণের সূচনা করেছেন।

দেবীর আগমনে মঙ্গলের প্রত্যাশা

image

ঋতু বদলের ধারাবাহিকতায় বিদায় নিয়েছে শরৎকাল। তবে শরৎ আভায় ছেয়ে আছে মহাকাল।

করোনাকালে সামাজিক দূরত্ব

আজ থেকে ২৫/৩০ বছর আগের কথা। শহরের অনেকের প্রিয় শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি, বাড়ির দ্বিতীয় তলায় থাকতেন।

sangbad ad