• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২০

 

ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি

এম আর খায়রুল উমাম

নিউজ আপলোড : ঢাকা , শনিবার, ২০ জুন ২০২০

কথায় আছে কালি কলম মন লেখে তিনজন। তিনটির সমন্বয় না হলে লেখা হবে না। বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। ঘরবন্দি হয়ে আপাত মুক্তির আশায় দিন গুনছে মানুষ। সামাজিক মানুষ অসামাজিক হবার প্রতিযোগিতায় রত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অখণ্ড অবসরে মনটাও স্থবির হয়ে পড়ায় লেখা এগিয়ে নেয়াটা কঠিন হয়ে পড়ছে। গান শুনে, বই পড়ে আর টেলিফোনে সামাজিক যোগাযোগ রক্ষার চেষ্টায় দিন পার করার কসরত চলছে। দিনে দিনে সময় যত অনিশ্চিত হচ্ছে মন ততটাই অস্থির হয়ে পড়ছে। পারিপার্শ্বিক পরিবেশ, হতদরিদ্র-দরিদ্র ও মধ্যবিত্তের জীবন সংগ্রাম, সাধারণ অর্থনীতি, পরিবর্তিত বিশ্ব ভাবনা অস্থির মনকে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণহীন করে তুলছে। এখন অনিয়ন্ত্রিত মনকে কিছুটা মুক্তি দিতে ছাদ বাগান সহায়ক। আর কিছুটা সহায়ক অতীত খোঁজা।

কয়েকদিন আগে বাসার পুরোনো অব্যবহৃত জিনিসপত্র রাখার ঘরে একটুকরা পত্রিকা পেলাম। যার পুরোটা পাঠযোগ্য নেই। অংশবিশেষে নজর পড়তে আগ্রহ সৃষ্টি হলো। প্রথম সংস্করণ থেকে টানা ২০-২২ বছর ভোরের কাগজের পাঠক থাকার কারণে ধারণা করি টুকরোটা এ পত্রিকার অংশ। শিরোনাম নেই, লেখকের পুরো নাম নেই, কোন তারিখের পত্রিকা তাও নেই। তবে লেখার পাশে হাতে লেখা ১৯৯৫ সালের নভেম্বর মাসের একটা তারিখ। এতে ধারণা করি পত্রিকার অংশটা ১৯৯৫ সালের হবে এবং লেখকের নামের শাহ এ এম ... পড়তে পেরেছি। এখানেও ধারণা করি লেখক সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হতে পারেন। ভুল হলে ক্ষমাপ্রার্থী। তবে লেখক নিজের বৈচিত্র্যময় জীবনের অভিজ্ঞতায় রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজের বিভিন্ন বিষয় সাবলীল ভাষায় প্রকাশ করে পাঠকের মন জয় করেছিলেন। তাই ধারণা করতে সাহস পাই। তবে ধারণা ভুল ঠিকের সঙ্গে বিষয়টার অবতারণায় কোন সমস্যা নাই। আমরা যে ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বহন করে চলেছি তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ নেই।

তিনি লিখেছেন, ‘সব দলেই এসব অপরাধী মস্তানদের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। এমন সহজ পন্থায় এমন বিপুল পরিমাণ অর্থ এতো সহজে আর কোন পেশায় কেউ উপার্জন করতে পারে না। পিস্তল দেখিয়ে চাইলেই হাজার হাজার টাকা পকেট চলে আসে-এমন পেশার দুর্বার আকর্ষণ বহু তরুণকে এ অপরাধী জীবনের দিকে প্রলুব্ধ করছে।

সবাই কিন্তু এতো সহজে এবং নিরাপদে চাঁদাবাজি করতে পারে না। বিরোধী দলের সঙ্গে যুক্ত ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের পুলিশ রেহাই দেয় না। সন্ত্রাসী কার্যকলাপের জন্য তাদের ধরাই উচিত কিন্তু তাদের বিনা কারণে গ্রেপ্তার করা হয় বলেও বহু অভিযোগ আছে। অর্থাৎ বিরোধী ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের পক্ষে ব্যাপকভাবে সন্ত্রাসে লিপ্ত হওয়া শক্ত। কারণ পুলিশ সর্বশক্তি নিয়ে তাদের পেছনে ধাওয়া করছে এবং কারণে অকারণে তাদের হয়রানি করছে। কিন্তু সরকারি সাহায্যপুষ্ট ছাত্রদলের সদস্যদের জন্য এসব বাধা নিষেধ নেই। প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাদের রীতিমতো সমীহ করে চলেন। ...। সরকারের প্রশয় না পেলে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের অতি বাড় হতো না। ... সরকার নিশ্চয়ই দেখতে পাচ্ছেন যে, তাদের ছাত্রকর্মীদের মধ্যে অনেকের আর্থিক শ্রীবৃদ্ধি রীতিমতো সামাজিক ঈর্ষার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু তারা এ বিষয়ে নির্বিকার। যে সব তরুণের রিকশাতে চলা-ফেরার সামর্থ্য ছিল না, সন্ত্রাসের বদৌলতে তারা আজ পাজেরো জিপ হাঁকিয়ে বেড়াচ্ছে। সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির দুর্বার আকর্ষণের রহস্য এখানেই নিহিত রয়েছে।’

উপরের অংশটা যদি ভোরের কাগজের না হয়ে থাকে বা প্রবন্ধটা শাহ এএমএস কিবরিয়ার না হয় তাতে প্রাসঙ্গিকতায় কোন ঘাটতি হবে বলে মনে করি না। গত ২৫ বছরে কয়েকবার সরকার পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের ঐতিহ্য থেকে আমরা বিচ্যুত হইনি। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শুধু মুখের পরিবর্তন এসেছে। পথ, পদ্ধতি ও প্রক্রিয়ার শ্রীবৃদ্ধি ঘটেছে। সংশ্লিষ্টরা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নিজেদের শক্তিশালী করেছে। তারা আরও দানবীয় হয়েছে, আরও খোলামেলা হয়েছে। নীতি-নৈতিকতা বহু আগেই জানালা দিয়ে পালিয়ে গিয়েছে। যে সামান্য লাজলজ্জা অবশিষ্ট ছিল এখন তাও নেই বরং দিনে দিনে নির্লজ্জতার সিংহদরজা খুলে দেয়া হচ্ছে।

রাজনীতির চশমা পরা চোখে হয়তো দেশ ও জাতির সমস্যা চোখে পড়ে কিন্তু তা সামগ্রিক বিবেচনায় থাকে না। সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি সমস্যা কিবরিয়া সাহেবদের সরকারের সময় সমভাবে চলমান ছিল শুধু নয়, তা ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করেছিল। দলীয় প্রধানের নির্দেশ পর্যন্ত মানতে দেখা যায়নি। সরকার সংশ্লিষ্ট অনেকের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় বিষয়টা চলমান থাকলেও রাজনীতির চশমা পরা ব্যক্তিরা নিরবে থেকে নিজেদের সমর্থন দিয়ে গিয়েছেন। জাতির দুর্ভাগ্য তার সুসন্তানরা পদ পদবির লোভে জীবনের অর্জন বিসর্জনে যে কোন কুণ্ঠাবোধ করে না তার সাক্ষী হয়ে থাকল। দেশে বিদেশে যোগ্যতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা একজন মানুষ কতটা নির্বিকারভাবে শেয়ার ধসের মাধ্যমে শতসহস্র সাধারণ মানুষকে পথে বসিয়ে দিল। সাবেক অর্থমন্ত্রীকে নিয়ে আলোচনা করার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা নিয়ে নয়, পাঠ অযোগ্য পত্রিকার অংশ বিশেষ থেকে বর্তমান পর্যন্ত ঐতিহ্য বোঝাতেই উনার নাম এসে গিয়েছে। সে সময়কাল থেকে আজ পর্যন্ত একটু খোলা দৃষ্টি নিয়ে বিশ্লেষণ করলে যে কেউ শতসহস্র নাম জাতির সামনে হাজির করতে পারবেন।

এখানে কোনভাবেই ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ নয়। ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা রক্ষার মানসিকতাটাই খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিছু ব্যক্তি বিশেষের মধ্যে ২৫ বছর আগে যে উৎকণ্ঠা ছিল, আজ সময়ের পরিবর্তনে সে উৎকণ্ঠা দেখা যায় না। সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি মহামারি আকার ধারণ করলেও তা ‘অতীতের সরকার থেকে প্রাপ্ত’ এবং ‘অনুপ্রবেশকারীরা ঘটিয়ে চলেছে’ বলে দায়িত্ব শেষ করা হয়। মাঝে মাঝে সাধারণ মানুষের চোখে পড়ার জন্য সাময়িক বহিষ্কার বা কোন কোন সময় গ্রেফতারের মতো শাস্তি দেখা যায়। তবে সাধারণ বিচারে এ শাস্তি একেবারে কম না। কারণ দেশে পদ পদবি প্রাপ্তির মোহে মানুষের ছুটে চলা বিবেচনায় সাময়িক পদ হারানোকে ছোট করে দেখার সুযোগ নাই। এর সঙ্গে আরও আছে আইনের শাসন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং অন্যায় যেই করুক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে- এ ধরনের উক্তি। যদিও বহিষ্কৃতদের সবাই আইনের আওতায় আসে না।

দেশের সর্বত্র এখন হাততালি পাওয়ার প্রবণতা বিরাজ করছে। সবাই হাততালি পেতে চায়। সত্য প্রকাশে হাততালি পাওয়ার সম্ভাবনা কম। তাই মিথ্যা বলার প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। যে যত সুন্দর করে মিথ্যা কথা বলতে পারছে সেই বেশি হাততালি পাচ্ছে। সস্তা হাততালি পেতে এর চাইতে সহজ কোন পথ নেই। মিথ্যা বলে হাততালি পেতে পেতে আমরা সত্য কথা বলতেই ভুলে গিয়েছি। সত্য আর মিথ্যার পার্থক্য করতে পারছি না। অথচ একটা সত্যকে লুকাতে একশটা মিথ্যার আশ্রয় নিয়েও রক্ষা পাওয়া যায় না। দেশের মানুষ আজও অন্তত কিছু মানুষের কাছে সত্য প্রত্যাশা করে। তারা বিশ্বাস করতে চায় দেশের সর্বত্র মিথ্যার বেসাতি চললেও এসব মানুষগুলো সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত হয় না, হবে না। সাধারণ মানুষের এ বিশ্বাসও হারিয়ে যেতে বসেছে।

মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো আগামী দিনগুলো সাধারণ জনগণের জন্য খুব কঠিন হয়ে পড়ছে। রাজনীতি থেকে শুরু করে সর্বস্তরের পেশাজীবীদের মোসাহেবীর প্রতিযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে কিনা ভেবে দেখা দরকার। অথচ আগামী প্রজন্মের জন্য বিষয়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কথা। যদিও আজকের ডিজিটাল যুগে অতীতটাকে খুব সহজেই নিজেদের মতো করে বিনির্মাণ করা যায়। কিন্তু স্মরণে রাখা প্রয়োজন আজকের ক্ষমতাই শেষ কথা নয়। দেশ ও জাতির কল্যাণে সত্যকে সামনে আনা প্রয়োজন, স্বীকার করা প্রয়োজন। কারণ সত্য চিরকালই সত্য। সত্য প্রকাশের জন্য সময় বা কালের প্রয়োজন হয় না।

লকডাউনে মানসিক দুশ্চিন্তা

করোনার দুর্বিষহ ও ভয়াবহ অবস্থায় পাশের বাসায় কান্নার শব্দ শুনলাম; একজন ধমক দিয়ে বলছে, ‘চুপ, শব্দ করে কাঁদবি না’।

করোনা সংক্রমণ রোধে জনগণই নিয়ামক

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

দফায় দফায় সাধারণ ছুটির মেয়াদ বাড়িয়ে ৬৬ দিন পর দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল করে তুলতে ৩১ মে শুধুমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

যুক্তরাষ্ট্রে জর্জ ফ্লয়েড থেকে বাংলাদেশে নিখিল তালুকদার হত্যা

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপলিসে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের পর মে মাসের ২৬ তারিখ থেকে আন্দোলন শুরু হয়, এখনও তা চলছে। শ্বেতাঙ্গ

sangbad ad

স্বপ্নের দেশ, দুঃস্বপ্নের দেশ

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

করোনার এ দুঃসময়ে খবর মানেই মন খারাপ করা খবর, সংবাদ মানেই দুঃসংবাদ। তার মাঝেই হঠাৎ করে সারা পৃথিবী থেকে একটা খবর নির্মল

ক্ষমার অযোগ্য বর্বরতা

বরগুনায় রিফাত নামের এক যুবককে নয়ন বন্ডের নেতৃত্বে এক দল সন্ত্রাসী প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

বাজেটের চাপের মধ্যেই থেকে গেল মধ্যবিত্ত

প্রতি বছরই রাষ্ট্র পরিচালনা ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে বাজেট ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে উন্নত দেশের স্বপ্ন সোপানে। আর এ স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্য নিয়ে প্রতি বছরই বড় হচ্ছে বাজেটের আকার। বাস্তবায়ন হচ্ছে,

রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নিয়ে বিদেশে প্রথম পা

১৮ সালেই বার্সেলোনা ভ্রমণের পর রাষ্ট্রীয় কাজে একবার জাপানও গিয়েছিলাম।

ডিজিটাল বিপ্লবীদের দেশে

২০১৯ সালের স্পেনের বার্সিলোনায় আয়োজিত বিশ্ব মোবাইল কংগ্রেসের ৮ নাম্বার হলে আমাদের এক টুকরো বাংলাদেশ-রিভ সিস্টেমের

কৃষকের ধান ক্রয় নাকি চাল রফতানি?

গত সপ্তাহে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের টক-শোতে একজন সরকারি অর্থনীতিবিদের কথা শুনছিলাম। সরকারি বলছি এ কারণে যে তিনি

sangbad ad