• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯

 

আগুন আগুন

জিয়াউদ্দীন আহমেদ

নিউজ আপলোড : ঢাকা , রোববার, ০৭ এপ্রিল ২০১৯

ত্রিশ-চল্লিশ বছর পূর্বে গ্রামের কোথাও আগুন লাগলে আমরা ‘আগুন আগুন’ বলে চিৎকার করতাম; এ চিৎকার শুনে সবাই দৌড়ে এসে সাধ্যমতো বালতি ও কলসি ভর্তি পানি ঢেলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করতেন। বিগত কয়েক দিন ধরে ঢাকা শহরে প্রায় প্রতিদিন আগুনে ঘর পোড়ার সংবাদ পাচ্ছি। বঙ্গবন্ধুর আমলে পাটের গুদামে এভাবেই ঘন ঘন আগুন লাগত; অনেকের ধারণা ছিল, সংঘবদ্ধ একটি চক্র পাটের গুদামে আগুন দিয়ে সদ্য স্বাধীন দেশের সরকারকে বিপদে ফেলার চেষ্টা করছে। আজ নওগাঁয় আগুন লাগার সংবাদ শুনে আমার স্ত্রীরও এমন একটি ধারণা জন্মেছে। ফেসবুকে নাকি ইতোমধ্যে বলাবলি শুরু হয়ে গেছে যে, বর্তমান সরকারের প্রতি সৃষ্টিকর্তা নারাজ বলে এমন দুর্যোগ নেমে আসছে। এমনি একটি ঘটনা ঘটেছিল খালেদা জিয়ার আমলে; তার ক্ষমতায় আসার পরপর প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘনঘটায় ধর্মান্ধরা বলাবলি শুরু করে দিল যে, ‘মহিলা প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় আল্লাহর গজব নেমেছে।’ তখন মাহমুদুর রহমান মান্না একটি কলাম লিখে উল্লেখ করেছিলেন যে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে নারী প্রধানমন্ত্রিত্বের কোন সম্পর্ক নেই। সম্প্রতি ফেসবুকে দেখলাম, সৌদি আরবের পবিত্র স্থানগুলোতে আগুনে বহুবার বহু লোক মারা গেছেন।

বনানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউয়ের ২৩ তলা বিশিষ্ট এফআর (ফারুক-রূপায়ন) টাওয়ারে অতি সম্প্রতি আগুনে ২৬ জন নিহত ও অর্ধশত লোক আহত হয়েছেন। প্রাণ বাঁচানোর তাগিদ যে কত গভীর তা ওই দিনের টাওয়ারে আগুনের লেলিহান শিখার পাশাপাশি টাওয়ার থেকে মানুষের বেরোনোর অসাধ্য প্রচেষ্টার চিত্র যারা দেখেননি তাদের পক্ষে কল্পনা করাও কঠিন। টাওয়ারে অবস্থানকারী সবাই জানতেন এত উঁচু তলা থেকে লাফ দিলে নিশ্চিত মৃত্যু; তবুও আগুনের তাপে দগ্ধ হয়ে মরার চেয়ে লাফ দিয়ে যদি হাত-পা ভেঙেও বেঁচে যাই- এ প্রত্যাশায় অনেকে লাফ দিয়েছেন। রশি, বিদ্যুতের তার ধরে যারা নামার চেষ্টা করেছিলেন তাদের অধিকাংশ মাঝ রাস্তায় হাত ফসকে পড়ে আহত-নিহত হয়েছেন। কয়েকজন জানালার কার্নিশে দাঁড়িয়ে বাঁচানোর জন্য চিৎকার করেছেন, কেউ কেউ ফোনে নিকটজনকে উদ্ধারে এগিয়ে আসতে আহ্বান করেছেন, কেউ কেউ মা, বাবা, ভাই, বোন, স্ত্রী, সন্তানের কাছ থেকে চির বিদায় নেয়ার জন্য ফোন করেছেন, কেউ কেউ ফোনে তার অবস্থান জানিয়ে উদ্ধারকর্মীকে জানানোর জন্য নিকটজনকে অবহিত করেছেন, ভবনের বিভিন্ন তলা থেকে বাঁচার আকুতি জানিয়ে অনেকে হাত নাড়িয়েছেন, আবার কেউ ফেসবুকে জীবনের শেষ স্ট্যাটাস দিয়ে বন্ধুদের কাঁদিয়েছেন, আর যারা কিচ্ছু করার সুযোগ পাননি তারা নিশ্চিত মৃত্যুর কোলে নিজেকে অসহায়ভাবে সমর্পণ করেছেন। অন্যদিকে ভবনের অসহায়, নিরপরাধ মানুষগুলোর জীবন ভিক্ষা চেয়ে নিচের জনতার অনেকে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করেছেন।

দমকল বাহিনীর ১৭টি ইউনিট চার ঘণ্টাব্যাপী কাজ করে আগুন আয়ত্তে আনতে সক্ষম হয়। কিছুক্ষণ পর দমকল বাহিনীর সঙ্গে যোগ দেয় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী। সাধারণ জনতা ভিড় করে একদিকে যেমন দমকল বাহিনী ও অ্যাম্বুলেন্সের গমনাগমনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে তেমনি এ জনতা দমকল বাহিনীকে নানাভাবে সহায়তাও করেছে। ঘটনাস্থলে কিছু স্বেচ্ছাসেবক ও আশেপাশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এসে কাজে যোগ দিয়েছে। অশ্রুসিক্ত আবেগময় পরিবেশে ফায়ার সার্ভিসের পানির পাইপের ফাটা অংশকে পলিথিন পেঁচিয়ে তার ওপর বসে সর্বশক্তি দিয়ে পানি আটকে রাখার প্রাণপণ চেষ্টা করেছে বস্তির পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র নাঈম।

এফআর টাওয়ারে আগুন নেভানো ও উদ্ধার অভিযান নিয়ে নানা অভিযোগ উত্থাপিত হচ্ছে। প্রথম অভিযোগ হচ্ছে, প্রায় পৌনে ১ ঘণ্টা পর আগুন নেভানোর কার্যক্রম শুরু করা। এ ব্যাপারে ফায়ার সার্ভিস বলছে যে, তারা সংবাদ পেয়েছে আগুন লাগার ৩০ মিনিট পর। অন্যদিকে চলাচলে দমকল বাহিনীর গাড়ি অগ্রাধিকার পেলেও দ্রুত দৌড়ানোর জন্য রাস্তা খালি না থাকলে অর্থাৎ যানজটের কারণে এ অগ্রাধিকার প্রয়োজনের সময় কোন কাজে আসে না। যত তড়িঘড়ি করা হোক না কেন, ফায়ার সার্ভিসের লোক আসতে একটু বিলম্ব হবেই এবং এজন্য প্রতিটি ভবনে আগুনের বিস্তৃতি রোধে কিছুক্ষণ যুদ্ধ করার জন্য নিজস্ব ফায়ার ফাইটিং ক্যাপাসিটি থাকা বাঞ্চনীয়। দ্বিতীয় অভিযোগ হচ্ছে, ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের বারবার পানি ফুরিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু এটা হওয়ার কথা নয়। এত উঁচু একটি ভবনে পানির রিজার্ভার থাকবে না- এটা বিশ্বাসযাগ্য নয়। এছাড়াও ভবনের চারপাশে ফায়ার হাইড্রেন্ট পয়েন্ট চিহ্নিত করে রাখার কথা, যেখান থেকে হোস পাইপের মাধ্যমে সহজে পানি সরবরাহ সম্ভব। তৃতীয় অভিযোগ হচ্ছে, মৃত্যু পথযাত্রী মানুষগুলোর হাহাকার রাস্তায় দন্ডায়মান মানুষদের বেদনার্ত করলেও তাদের উদ্ধারের প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি দমকল বাহিনীর ছিল না। দমকল বাহিনীর কাছে যে মই ছিল তার উচ্চতা ছিল ১৬ তলা পর্যন্ত। কিন্তু পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় পানি ছিটানোর জন্য ব্যবহৃত সরঞ্জাম মানুষ উদ্ধারের কাজে লাগানো সম্ভব ছিল না। চতুর্থ অভিযোগ হচ্ছে, লাফ দেয়া মানুষগুলোকে বাঁচানোর জন্য মাটিতে বায়ুভর্তি ম্যাট্রেস না রাখা। এ বিষয়ে দমকল বাহিনীর বক্তব্য হচ্ছে, ষষ্ঠ তলার বেশি উঁচু থেকে লাফ দিলে ম্যাট্রেস মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না, এক্ষেত্রে তাই ম্যাট্রেস পাতা হলে সবাই লাফ দেয়ার চেষ্টা করতেন এবং এতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যেত। ফায়ার সার্ভিসের লোকেরা বলছেন, বিল্ডিং কোড অনুযায়ী এফআর ভবনে ফায়ার ফাইটিংয়ের সরঞ্জামাদি পর্যাপ্ত ছিল না। অবশ্য থাকলেও যে কোন কাজে লাগত তা মনে হয় না। বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সে নাকি আগুন নেভানোর স্বয়ংক্রিয় সরঞ্জামাদি ছিল, কিন্তু আগুন নেভানোর জন্য ওইসব সরঞ্জামাদি কোন কাজ করেনি। আগুন লাগার পর পঙ্গু সহকর্মীর আকুতি ভ্রƒক্ষেপ না করে তাকে আগুনের গোলার মধ্যে রেখে যেখানে সবাই জান নিয়ে বাঁচার চেষ্টা করেছে সেখানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আগুন নেভানোর সরঞ্জামাদি ব্যবহার করার মতো হিম্মতওয়ালা লোক থাকার কথা নয়। এছাড়া আগুন নেভানোর সরঞ্জামাদি শুধু দেয়ালে টাঙ্গিয়ে রাখা হয়, এগুলোর ব্যবহারের কলাকৌশল ভবনবাসীদের শেখানোর কোন কার্যক্রম কোথাও নেয়া হয় বলে আমার জানা নেই। আগুন নেভানোর সরঞ্জামাদি ব্যবহারের বিল্ডিং কোড অনুযায়ী বহুতলা ভবনে জরুরি নির্গমনের বিকল্প সিঁড়ি থাকা অপরিহার্য। এফআর টাওয়ারে লোহার একটি সরু সিঁড়ি থাকলেও তা বিভিন্ন তলায় তালাবদ্ধ ছিল। তদুপরি এ বিকল্প সিঁড়িটি মূল সিঁড়ির সন্নিকটে ছিল বলে দুটিই আগুন ও ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ছিল। এ ভবনে ফায়ার ডোর ছিল না বলে সহজে আগুন দরজা ভেদ করে অন্যত্র ছড়িয়ে পড়েছে। ভবনটিতে কোন ফায়ার অ্যালার্ম সিস্টেম না থাকায় অনেকেই আগুন লাগার বিষয়টি তাৎক্ষণিক জানতে পারেননি।

এফআর ভবনে আগুন লাগার পর জনসাধারণ ‘বিল্ডিং কোড’ নামে দুটি শব্দের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন। ঢাকা শহরে ৬৪ ভাগ ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড মানা হয়নি বলে রাজউক থেকে বলা হয়েছে; তাহলে কি এ কোড নির্ধারণ সঠিক হয়নি? রাজউক বলছে, ভবনটির অনুমোদন ১৮ তলা পর্যন্ত হলেও সেটি করা হয়েছে ২৩ তলা। অন্যদিকে এফআর টাওয়ারের মালিকপক্ষ রাজউকের কাছে আরেকটি নকশা পেশ করে ২০০৫ সালে ২৩ তলা নির্মাণের অনুমোদন নিয়েছে মর্মে উল্লেখ করেছে; এ ব্যাপারে রাজউক বলছে যে, দাখিল করা নকশার সঙ্গে সংরক্ষিত নকশার কোন মিল নেই। ২০০৫ সালে পেশ করা নকশার সঙ্গে নথিতে সংরক্ষিত নকশার মিল না থাকা সত্ত্বেও বিগত ১৪ বছর রাজউক কেন চুপ করে ছিল সে ব্যাপারে প্রশ্ন তুলেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক। বিল্ডিং কোড সম্পর্কে ভবনের মালিক পক্ষ বলছে, ১৯৯৬ সালে অনুমোদন নেয়ার সময় বিল্ডিং কোডে এত নিয়ম-কানুন ছিল না, তখন যেসব নিয়ম-কানুন ছিল তা মানা হয়েছে। পরে ২০০৮ সালে নির্ধারিত বিল্ডিং কোডের শর্ত মোতাবেক ফায়ার এক্সিটসহ সম্ভব অন্যান্য ব্যবস্থাদিও সংযোজন করা হয়েছে।

নকশায় রাজউকের অনুমোদনের পর ভবনটি তদনুযায়ী নির্মাণ করা হচ্ছে কিনা তা দেখার জন্য রাজউকের পরিদর্শক রয়েছে; এ ব্যাপারে রাজউককে দোষারোপ করা হলে বিএসটিআইর মতো বলা হয়, পর্যাপ্ত পরিদর্শক নেই। সবার ধারণা, ঢাকা শহরে ৬৪ শতাংশ ভবন নির্মাণে বিচ্যুতি হয়েছে শুধু পরিদর্শকের পরিদর্শন করার কারণেই, অনেক পরিদর্শক স্বপ্রণোদিত হয়ে নির্মাণে বিচ্যুতি ঘটাতে নির্মাতাকে প্ররোচিত করেছে বলে জানা যায়। যত বেশি উঁচু ভবন তত বেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে অনুমোদনের জন্য দৌড়াতে হয়; ১৫টি প্রতিষ্ঠান হতে অনুমোদন সংগ্রহ করা চাট্টিখানি কথা নয়। এজন্য অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণের প্রবণতা বেশি। সম্প্রতি সংশোধন করে ৪টি প্রতিষ্ঠান থেকে অনুমোদন নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা সবাই জানি, ঢাকা শহরে এমন কতগুলো গলি আছে যেগুলো দিয়ে দু’জন লোক পাশাপাশি হাঁটতে পারে না। এমন গলির ধারে পাঁচ বা ছয় তলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন রাজউক দিয়েছে। এসব বাড়িতে কেউ মারা গেলে মৃতদেহ বহনের খাটটা নিয়ে বের হতে পারবে না। ঢাকা শহরে নাকি ৫০টি খাল ছিল, এ খালগুলো কখন কিভাবে ভরাট হয়ে গেল, এ খালের ওপর রাজউকের অনুমোদিত বাড়ি-ঘর কিভাবে নির্মিত হলো তা কেউ জানে না; সব অতীতের দোষ। কবর থেকে তুলে কারও বিচার করা সম্ভব নয়Ñ এটা সবাই জানে। রাজউকের সুনাম কোন কালেই ছিল না, এখনও নেই। কোন প্রতিষ্ঠানে কড়াকড়ি বেশি হলে দুর্নীতির রেট বেড়ে যায়। কিছু প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী, কর্মকর্তারা বেপরোয়া, এরা কোন নালিশ, অভিযোগের পাত্তা দেন না, এদের কথাবার্তা শুনলে মনে হয়- সব লোক, সব সিস্টেম তাদের বশীভূত। দুদকের চেয়ারম্যান একটি মূল্যবান কথা বলেছেন, ‘কেন যেন মনে হয় অনিয়মকে সবাই নিয়মে পরিণত করছে। বনানীর এ বিয়োগান্ত ঘটনা এসব অনিয়মের পরিণতি।’ দুদক চেয়ারম্যানকে বলব, বিদ্যমান নিয়মগুলোও পর্যালোচনা করা দরকার; কারণ যত বেশি নিয়ম বানানো হবে দুর্নীতি তত বেশি বাড়বে।

বর্তমান সরকারের আমলে আমরা আকাশে স্যাটেলাইট পাঠিয়েছি, সাগরে ডুবোজাহাজ নামিয়েছি, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের সাহস দেখিয়েছি, হাতির খোরাকের মতো ব্যয়বহুল পদ্মা সেতু নিজের পয়সায় তৈরি করছি, আধুনিক প্রযুক্তির মেট্রোরেল বানাচ্ছি। এছাড়াও বর্তমান সরকারের আমলে উৎপাদনে অভাবনীয় সাফল্যের উৎকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে, বাংলাদেশ পৃথিবীর ২শ’টি দেশের মধ্যে পাট উৎপাদনে দ্বিতীয়, মাছ ও সবজি উৎপাদনে তৃতীয় এবং ধান উৎপাদনে চতুর্থ, আম উৎপাদনে সপ্তম, আলু ও পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম, খাদ্যশস্য উৎপাদনে দশম; অথচ ২৩ তলা ভবনের চূড়ায় পৌঁছানোর একটি মই কিনতে পারলাম না। ৪৫ বছর আগে ঢাকায় এসে শুনেছি, প্রয়োজনানুযায়ী পানি শোধন করে ঢাকাবাসীর চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না, ৪৫ বছর পর আজও একই কথা শুনি। আমার মেজ ভাই মহিউদ্দিন আহম্মদের একটি কলামে পড়েছিলাম, একটি শিশু নর্দমায় পড়ে গেলে শত চেষ্টায় খুঁজে না পেয়ে ইতালির সরকার প্রধান টিভিতে জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে নিজেদের অক্ষমতায় দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন।

আরএফ ভবনে অগ্নিকান্ডে ২৬ জন মারা যাওয়ার পর রাজউক ২৪টি টিম গঠন করে নকশাবহির্ভূত ভবনগুলো চিহ্নিত করার জন্য নেমেছে। কিন্তু অনুমোদিত নকশার অতিরিক্ত অংশ ভাঙার উদ্যোগ নেয়া হলে হাজার হাজার ভবনের অতিরিক্ত অংশ ছাড়াও দুই তিন ফুট রাস্তার পাশের সব ভবন ভাঙতে হবে। জধহমং ভবন ভাঙতে গিয়ে বহু শ্রমিকের প্রাণ গেছে, হাজার হাজার ভবনের অতিরিক্ত অংশ বা গোটা ভবন ভাঙতে প্রাণহানি হবে না- এই নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবে বলে মনে হয় না। রাস্তার ধারে ধারে এসব ভবন ভাঙার সময় ট্রাফিক জ্যাম হবে। শুধু ভবন মালিক নয়, এসব অনিয়মের দায় রাজউককেও নিতে হবে। এক্ষেত্রে তাই আগুন নির্বাপণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় সংশোধন এবং নকশাবহির্ভূত অংশের জন্য জরিমানা বা ফি আদায় করে অনুমোদনবহির্ভূত অংশের অনুমোদন দিয়ে নিয়মিত করার বিষয়টি রাজউক বিবেচনা করতে পারে।

[লেখক : বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক]

zeauddinahmed@gmail.com

দৈনিক সংবাদ : ৭ এপ্রিল ২০১৯, রোববার, ৬ এর পাতায় প্রকাশিত

বাজেটের চাপের মধ্যেই থেকে গেল মধ্যবিত্ত

প্রতি বছরই রাষ্ট্র পরিচালনা ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে বাজেট ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে উন্নত দেশের স্বপ্ন সোপানে। আর এ স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্য নিয়ে প্রতি বছরই বড় হচ্ছে বাজেটের আকার। বাস্তবায়ন হচ্ছে,

রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নিয়ে বিদেশে প্রথম পা

১৮ সালেই বার্সেলোনা ভ্রমণের পর রাষ্ট্রীয় কাজে একবার জাপানও গিয়েছিলাম।

ডিজিটাল বিপ্লবীদের দেশে

২০১৯ সালের স্পেনের বার্সিলোনায় আয়োজিত বিশ্ব মোবাইল কংগ্রেসের ৮ নাম্বার হলে আমাদের এক টুকরো বাংলাদেশ-রিভ সিস্টেমের

sangbad ad

কৃষকের ধান ক্রয় নাকি চাল রফতানি?

গত সপ্তাহে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের টক-শোতে একজন সরকারি অর্থনীতিবিদের কথা শুনছিলাম। সরকারি বলছি এ কারণে যে তিনি

আসন্ন বাজেট : উন্নয়ন ও পাবনা

২০১৯-২০২০ সালের বাজেট আসন্ন জুনের অধিবেশনে পাস করা হবে এবং জুলাই থেকে তা কার্যকরী হওয়ার কথা। এ কথা ভাবাই যায়, খসড়া বাজেট প্রণয়ন কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে এবং এখন হয়তো তার ঝাড়াই-বাছাই চলছে।

নাটকের নাম ‘আমি’

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সাহিত্য অঙ্গনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বিকশিত শিল্প হচ্ছে নাটক। টিকিট করে নাটক দেখা শুরু হয় স্বাধীনতা

অনেক নাটকীয়তার পরে অবশেষে শপথ

রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশকিছু ওলোট-পালটের ঘটনা ঘটছে। শিগগিরই আরও কিছু ঘটবে বলে মনে হচ্ছে। মারাত্মকভাবে হতাশায় নিমজ্জিত দলগুলোতেই

প্রবৃদ্ধিকে টেকসই করতে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে হবে

image

চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের দেশজ উৎপাদন জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৮.১৩ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে সরকার। অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল মঙ্গলবার

বিধ্বংসী আত্মঘাতী বোমা

ইস্টার সানডেতে শ্রীলঙ্কার তিনটি গির্জা, তিনটি অভিজাত হোটেল ও দুটি জনবহুল স্থানে সিরিজ বোমা হামলায় এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে

sangbad ad