• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০

 

মৃত্যুদন্ড কি ধর্ষণ কমাতে পারবে?

অনিল মো. মোমিন

নিউজ আপলোড : ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২০

image

করোনা মহামারীর সঙ্গে এদেশে আরেকটি মহামারী যুক্ত হয়েছে; যার নাম ধর্ষণ মহামারী। তবে বিশ্বজুড়ে করোনার প্রতিষেধক হিসেবে ভ্যাকসিন আবিষ্কারের তোড়জোড় পুরোদমে চললেও ধর্ষণ মহামারী রোধে কোন কার্যকর ভ্যাকসিন নেই, আবিষ্কার করার উদ্যোগও নেই। ফলাফল স্বরূপ জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে অর্থাৎ ২৭৩ দিনে দেশে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৯৭৫ জন নারী; যা প্রতিদিনের গড়ে দাঁড়ায় ৩.৫২ জনে। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৪৩ জনকে।

ধর্ষণবিরোধী চলমান আন্দোলনে সর্বত্র থেকে রব উঠে ধর্ষকদের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদন্ড প্রদান করতে হবে। যেটা বিদ্যমান আইনে কেবল ধর্ষিতার মৃত্যু হলে প্রয়োগ করা হয়। কেউ কেউ আবার ক্রসফায়ার কিংবা জনসমক্ষে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যার কথাও বলছেন। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বিচার বহির্ভূত হত্যা কিংবা মৃত্যুদন্ডকে সমর্থন করে না। গণদাবির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ‘ধর্ষকের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদন্ড করে’ আইন সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছে। প্রশ্ন হলো মৃত্যুদন্ড কি ধর্ষণ রোধ করতে কার্যকর পন্থা?

ধর্ষণের মতো ভয়ংকর মহামারী রোধে কঠিনতম শাস্তির বিকল্প নেই। বর্তমান আইনেও যাবজ্জীবনসহ ধর্ষিতার মৃত্যু হলে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদন্ড রয়েছে। আমাদের ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ ধারা অনুসারে বর্তমানে ধর্ষণের সাজা উল্লেখ আছে-

(১) যদি কোন পুরুষ কোন নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন, তাহলে তিনি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডনীয় হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদন্ডেও দন্ডনীয় হবেন।

(২) যদি কোন ব্যক্তি কর্তৃক ধর্ষণ বা ওই ধর্ষণ পরবর্তী তার অন্যবিধ কার্যকলাপের ফলে ধর্ষিতা নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে, তা হলে ওই ব্যক্তি মৃত্যুদন্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডনীয় হবেন এবং এর অতিরিক্ত অন্যুন এক লাখ টাকা অর্থদন্ডেও দন্ডনীয় হবেন।

(৩) যদি একাধিক ব্যক্তি দলবদ্ধভাবে কোন নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন এবং ধর্ষণের ফলে উক্ত নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে বা তিনি আহত হন, তা হলে ঐ দলের প্রত্যেক ব্যক্তি মৃত্যুদন্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডনীয় হবেন এবং এর অতিরিক্ত অন্যুন এক লক্ষ টাকা অর্থদন্ডেও দন্ডনীয় হবেন।

(৪) যদি কোন ব্যক্তি কোন নারী বা শিশুকে-

(ক) ধর্ষণ করে মৃত্যু ঘটানোর বা আহত করার চেষ্টা করেন, তাহলে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডনীয় হইবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদন্ডেও দন্ডনীয় হবেন;

(খ) ধর্ষণের চেষ্টা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি অনধিক দশ বত্সর কিন্তু অন্যুন পাঁচ বত্সর সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডনীয় হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদন্ডেও দন্ডনীয় হবেন।

এছাড়া ধর্ষণ বন্ধে হাইকোর্টের ছয়টি নির্দেশনা রয়েছে। এগুলো হলো ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করা, মুলতুবি ছাড়া মামলার শুনানি গ্রহণ, ধার্য তারিখে সাক্ষীর উপস্থিতি ও তার নিরাপত্তা নিশ্চিতে মনিটরিং কমিটি গঠন, সাক্ষী হাজিরে ব্যর্থ হলে মনিটরিং কমিটিকে জবাবদিহি করা, সমন পাওয়ার পর অফিসিয়াল সাক্ষী (ম্যাজিস্ট্রেট/পুলিশ/ডাক্তার ও অন্য বিশেষজ্ঞগণ) সন্তোষজনক কারণ ব্যতিরেকে সাক্ষ্য প্রদানে হাজির না হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি বেতন বন্ধের আদেশ দিতে ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের বলা হয়।

উল্লেখিত শাস্তি কিংবা পদক্ষেপগুলো কি ধর্ষণ প্রতিরোধে কার্যকরী না? বিদ্যমান আইন ও হাইকোর্টের নির্দেশনা যথার্থ অনুসরণ করলে তা নিঃসন্দেহে ধর্ষণ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবু কেন মানুষ মৃত্যুদন্ড চায়? মূলত একদিকে ধর্ষকের বিরুদ্ধে বিচারহীনতার দীর্ঘ ইতিহাস অন্যদিকে দেশজুড়ে ক্রমাগত ধর্ষণের খবরে সাধারণ মানুষের মনে যে হতাশা আর ধর্ষকের প্রতি ক্ষোভ ঘনীভূত হয়েছে, তার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ধর্ষকদের মৃত্যুদন্ড চান।

এটা সত্য যে এখন গণদাবির মুখে নতুন করে ধর্ষণে মৃত্যুদন্ড নিশ্চিতে উদ্যোগ নেয়ায় চলমান আন্দোলন প্রশমিত হবে। ধর্ষকদের মনে কিছু টা বাড়তি ভীতি তৈরি হবে। তবে ধর্ষণ থেমে যাবে কিংবা প্রতিরোধে মূখ্য ভূমিকা রাখবে এমনটা ভাবার অবকাশ নেই। বরং ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদন্ড কার্যকর হলে ধর্ষিতাদের মৃত্যুর আশঙ্কা বেড়ে যাবে। ধর্ষক তার অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার পর যখন হুঁশ ফিলে পাবে তখন ভাববে আমার তো ফাঁসি হবে মেয়েটাকে আর বাঁচিয়ে রেখে লাভ কি! এছাড়া আইনটির যথেষ্ট অপপ্রয়োগ হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। প্রেমঘটিত সম্পর্কে থেকে অনেকেই স্বপ্রণোদিত হয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। আবার প্রেম বিচ্ছেদ হলে পরে সেটা ধর্ষণ মামলা হয়। এভাবে প্রতিপক্ষ কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য এই আইনকে ব্যবহার করতে পারে।

ধর্ষণ প্রতিরোধে এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি হলো ধর্ষণের মামলাগুলো দ্রুতবিচার নিশ্চিত করা। মৃত্যুদন্ডের তুলনায় বেশি প্রয়োজন নির্যাতিত নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা কমিয়ে আনা এবং রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে থেকে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া। দেখা যায় ধর্ষণের কোন কোন মামলা ১০-১২ বছর ধরে সমাধান হয় না। বিচারের দীর্ঘসূত্রতায় ক্ষমতার প্রভাব পড়ে বিচারজুড়ে। এভাবে বিচার ব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা কমেছে। আবার অনেক ধর্ষিতা ধর্ষকদের ক্ষমতার ভয়ে মুখও খোলে না। কেউ কেউ খুললে বিচার তো পায়ই না তার সঙ্গে ধর্ষকদের হুমকি-ধমকি আর সমাজের বাঁকা দৃষ্টি বরাদ্দ থাকে। ক্ষমতার কাছাকাছি থাকায় অনেক ধর্ষক আবার প্রভাব খাটিয়ে মামলার এজাহার থেকে নিজের নামও সরিয়ে নেয়। ফলে ভুক্তভোগীরা এখন অভিযোগ জানাতেই লজ্জাবোধ করে। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের ঘটনাটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার মাসখানেক আগের। অথচ এটি ভাইরাল হওয়ার আগে থানায় কোন মামলা হয়নি। এর মানে হলো আইনের প্রতি অনাস্থায় গৃহবধূ অভিযোগ জানাননি কিংবা অভিযোগ জানাতে সাহস পাননি। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে কোন ঘটনায় চারদিকে হইচই শুরু না হলে প্রশাসনের টনক নড়ে না। গত দুই বছরে নোয়াখালীতে ১৯২টি ধর্ষণের মামলা হলেও এখনো পর্যন্ত একটা মামলাও নিষ্পত্তি হয়নি।

বিচারহীনতার অপসংস্কৃতি আর ক্ষমতার দুর্বৃত্তায়নের কাছে কোন শাস্তিই কার্যকর না। তাই এখান থেকে আগে বেরিয়ে আসার পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি আইনের ফাঁকফোকর ঠিক করতে হবে। এর সঙ্গে পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করে মূল্যবোধ জাগাতে হবে। ফিরিয়ে আনতে হবে পারিবারিক ও সামাজিক অনুশাসনও। সবার সম্মিলিত সদিচ্ছায় দূর হোক ধর্ষণ মহামারী।

পাট শিল্পের সম্ভাবনা

পাটকে সোনালি আঁশ বলা হয়। পাট বাংলার ঐতিহ্য। এই শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের এক সফল ইতিহাস এবং মিশে আছে আমাদের নিজস্বতা। এদেশের অর্থনীতিতে বহু বছর ধরে স্বমহিমায় উজ্জ্বল ছিল পাট শিল্প।

পলিব্যাগ ও প্লাস্টিক ব্যবহারে সচেতন হোন

তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে সবকিছু আমাদের হাতের নাগালে থাকলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা সত্যই খুবই অসহায়।

বাসের রুট বিভ্রান্তির অবসান হোক

বর্তমান সময়ের একটি অন্যতম প্রধান সমস্যা বাসের রুট বিভ্রান্তি। অধিকাংশ দূরবর্তী রুটের বাস গুলোতে গন্তব্যের পরিবর্তে অন্য স্থানের নাম উল্লেখ থাকে, উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে, রাজশাহী হতে রংপুর দূরপাল্লার বাস, অধিকাংশ রাজশাহী হতে বগুড়াগামী বাস গুলোতে ‘রাজশাহী হতে বগুড়া উল্লেখ না করে ‘রাজশাহী-বগুড়া-রংপুর’ উল্লেখ থাকে

sangbad ad

জাল সনদে চাকরি আসল সনদে বেকার

শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। মানুষ শিক্ষা অর্জন করে যদি দেশ ও সমাজের কাজে না আসতে পারে তাহলে সে শিক্ষার কি মূল্য।

আসুন রাস্তা পারাপারে সতর্ক হই

image

প্রায় দিনই সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে অনেক মানুষ। সড়ক দুর্ঘটনার বিভিন্ন কারণের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে রাস্তা পারাপার।

মোবাইল কোম্পানির অফারের বিরক্তিকর এসএমএস প্রসঙ্গে

প্রতি মুহূর্তে মোবাইল অপারেটর গুলো নানা অফারের খুদে বার্তা পাঠাচ্ছে।

চালের বাজারে কারসাজি বন্ধ করুন

image

চাল আমাদের অপরিহার্য নিত্যপ্রয়োজনীয় একটি পণ্য। আমাদের বলা হয়ে থাকে-‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ কিন্তু এ চাল যখন জনগণের ক্রয়ক্ষমতার ঊর্ধ্বে চলে যায় তখন বেঁচে থাকাটা, জীবনধারণ করাটা প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে দাঁড়ায়।

বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়াদের উপায় কী?

করোনা মহামারীর কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ বাংলাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ১৭ মার্চ যে ছুটির ঘোষণা দেয়া হয়েছিল দিন, সপ্তাহ, মাসের গন্ডি পেরিয়ে আজ তা বছর ছুঁইছুঁই। কর্মক্ষেত্র চালু হলেও আগের মতোই বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

মা ইলিশ রক্ষায় দরকার কঠোর নজরদারি ও সচেতনতা

image

জাতীয় মাছ ইলিশ রক্ষায় ১৪ অক্টোবর (বুধবার), ২০২০ থেকে ৪ নভেম্বর, ২০২০ পর্যন্ত প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ধরা বন্ধ থাকবে।