• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , রোববার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২০

 

পাট শিল্পের সম্ভাবনা

তামান্না শারমিন তিথি

নিউজ আপলোড : ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০

পাটকে সোনালি আঁশ বলা হয়। পাট বাংলার ঐতিহ্য। এই শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের এক সফল ইতিহাস এবং মিশে আছে আমাদের নিজস্বতা। এদেশের অর্থনীতিতে বহু বছর ধরে স্বমহিমায় উজ্জ্বল ছিল পাট শিল্প।

বর্তমানে পুরো পৃথিবীতে চলছে কোভিড-১৯ এর এক অদৃশ্য ধ্বংসযজ্ঞ। এই মহামারীর আঘাতে প্রায় তছনছ পুরো পৃথিবীর অর্থনীতি। করোনাভাইরাসের কারণে আমাদের পোশাক, বস্ত্র, চামড়া শিল্পসহ সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর রপ্তানি আয়ে যখন ধস নেমেছে তখনই আমাদের পাট রপ্তানিতে লাগে উন্নয়নের ছোঁয়া। ২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশ পাট ও পাটজাত পণ্য থেকে ১৯৫.৪ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে যা পূর্ববর্তী বছরের এই সময়ের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি এবং লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ১ শতাংশ বেশি। অথচ একই সময়ে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করে আয় করেছে ১৫ কোটি ৪৭ লাখ ডলার যা গত অর্থবছরের এই সময়ের চেয়ে ১৬.৫৪ শতাংশ কম। যার মাধ্যমে চামড়া শিল্পকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় অবস্থান এখন পাট শিল্পের দখলে। আবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এর তথ্যমতে বাংলাদেশ চলতি অর্থবছর ২০২০-২১ এর প্রথম মাস তথা জুলাইয়ে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে ৩৯১ কোটি ডলার আয় করেছে যার মাঝে ১০ কোটি ৩৫ লাখ ১০ হাজার ডলার এসেছে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি থেকে।

পাট বরাবরই বাংলাদেশের একটি সম্ভাবনাময় খাত। কালের বিবর্তনে আধুনিকতার পরশে তার গৌরব অনেকটা মলিন হয়ে গেছে। প্লাস্টিক, পলিথিনের ব্যাপক ব্যবহার মাটি, প্রাণী, উদ্ভিদের চরম ক্ষতি করছে। বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ১ ট্রিলিয়ন পলিথিন ব্যবহার করা হয় যা পরিবেশ দূষণের অন্যতম প্রধান কারণ। তাই বর্তমানে পরিবেশ সচেতনতার জন্য আবারও এই সম্ভাবনাময় পাট শিল্পের পুনর্জাগরণ শুরু হয়েছে। কাঁচা পাট, সোনালি আঁশ, পাটকাঠি, পাটজাত পণ্য সবই একেকটা সম্ভাবনার হাতছানি। পাট থেকে তৈরি জুট জিওটেক্সটাইল বাঁধ নির্মাণ, ভূমিক্ষয় রোধ, পাহাড় ধস রোধে ব্যবহৃত হয়। আমাদের দেশের উন্নত পাট এখন বিশ্বের অনেক দেশে গাড়ি নির্মাণ, কম্পিউটারের বডি, উড়োজাহাজের পার্টস তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। তাছাড়া ইনস্যুলেশন, ইলেকট্রনিক্স, মেরিন ও স্পোর্টস শিল্পেও বহির্বিশ্বে বেশ পরিচিত বাংলাদেশের পাট। পাটকাঠি থেকে তৈরি চারকোল খুবই উচ্চমূল্যের যা দিয়ে আতশবাতি, কার্বন পেপার, ওয়াটার পিউরিফিকেশন প্লান্ট, ফটোকপিয়ার মেশিনের কালি, মোবাইল ফোনের ব্যাটারিসহ নানান জিনিস তৈরি করা হয়। আবার এই অ্যাকটিভেটেড চারকোল থেকে অনেক প্রসাধন সামগ্রীও তৈরি করা যায়।

পরিবেশবান্ধব ও যথাযথ উপযোগিতার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা খাদ্যশস্য মোড়কীকরণে পাটের থলে ও বস্তা ব্যবহারের সুপারিশ করেছে। বর্তমান বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ৫০০ বিলিয়ন পাটের ব্যাগের চাহিদা রয়েছে। পরিবেশ সচেতনতার জন্য এই চাহিদা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম দুইমাসেই প্রায় দুই কোটি ৭ লাখ ৪০ হাজার ডলারের পাটের বস্তা, চট ও থলে রপ্তানি হয়েছে। তাই এই দিকটাতে সচেতন দৃষ্টি দেওয়া হলে তা আমাদের অর্থনীতিতে বড় ধরনের অবদান রাখতে পারে। আবার পাট দিয়ে তৈরি শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, লুঙ্গি, ফতুয়া, পাঞ্জবি, শোপিস, ওয়ালমেট, নকশিকাঁথা, পাপোশ, জুতা, শিকা, সুতাসহ নানান পাটজাত পণ্য যেমন আকর্ষণীয় তেমন পরিবেশবান্ধবও। ২০২০-২১ অর্থবছরে পাট ও পাটজাত পন্য রপ্তানি থেকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১১৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার যা আমাদের অর্থনীতির উজ্জ্বল দিক নির্দেশ করে। খাদ্য হিসেবে পাটের উপযোগিতাই সবিশেষ উল্লেখযোগ্য। কচি অবস্থায় পাটের পাতা আমাদের দেশে বেশ উপাদেয় শাক হিসেবে পরিচিত। শুকনো পাট পাতা অর্গানিক চা উৎপাদনও শুরু হয়ে গেছে। এবারের ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় এই পানীয় মানুষের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে। বিশ্ববাজারে তার পরিচিতি তুলে ধরতে পারলে তা চায়ের বিকল্প সারা পৃথিবীতে জনপ্রিয়তা লাভ করতে পারে।

আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে পাট শিল্পের সম্পর্ক খুব ঘনিষ্ঠ। এই শিল্প আমাদের অর্থনীতির চাকার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। এদেশের লক্ষ লক্ষ কৃষকের অবলম্বন এই পাট। কর্মসংস্থান, অর্থ উপার্জন, দারিদ্র্য বিমোচন, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন সর্বোপরি এই দেশের ঐতিহ্য ও নিজস্বতা রক্ষায় পাট শিল্পের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। আধুনিকতার পদতলে নিষ্পেষিত যখন পুরো পৃথিবী, দূষণের ফলে বিশ্ব পরিবেশ যখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে, তখন পাট শিল্পের যথাযথ ব্যবহার আমাদের বাঁচাতে পারে অদূর ভবিষ্যতের অনেক ভয়াবহতা থেকে। এ শিল্প আমাদের গর্ব, আমাদের অহংকার। এ শিল্প বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের পরিচায়ক। সরকারের সজাগ দৃষ্টি ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করতে হবে আমাদের এই শিল্পকে এবং ফিরিয়ে আনতে হবে আমাদের গৌরবান্বিত ঐতিহ্য, নিজস্বতার ধারক এই পাট শিল্পকে।

স্কুলে ভর্তি লটারি প্রক্রিয়া হোক স্বচ্ছ

image

করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে সরকার এবার ভর্তি পরীক্ষা ছাড়াই শিক্ষার্থীকে নতুন বিদ্যালয়ে ভর্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

অর্থনীতিতে প্রান্তিক নারীর অবদানকে স্বীকৃতি দিতে হবে

আদিকাল থেকেই নারী কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। পৃথিবীতে শস্য উৎপাদনের জন্য নারীর হাত দিয়েই রোপিত হয়েছিল প্রথম বীজ।

শিক্ষাক্ষেত্রে অচল অবস্থার অবসান ঘটুক

করোনার কারণে ৮ মাসের বেশি সময় ধরে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। এই বন্ধের মধ্যে অনলাইনে বেশির ভাগ বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা চললেও সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শুধু অনলাইনের ক্লাস চলছে।

sangbad ad

আমার বাবা সনদবিহীন এক মুক্তিযোদ্ধা

ছোটবেলা থেকেই বাবার মুখে শুনতাম বাবা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন, ছাত্র রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত ছিলেন।

অসহায় বস্তিবাসীর পাশে দাঁড়ান

image

রাজধানীর মহাখালীতে সাততলা বস্তিতে আগুনে পুড়ে গেছে বহু ঘর ও বস্তিবাসীর স্বপ্নের আবাসস্থল।

অনলাইন ক্লাস প্রসঙ্গে

মহামারী করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে শিক্ষাখাতের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দেশে অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এটা শিক্ষার্থীদের কাছে আশীর্বাদস্বরূপ।

শীতার্তদের সহায়তায় এগিয়ে আসুন

image

ষড়ঋতুর পালাবদল আর প্রকৃতির মনভুলানো রূপলাবণ্য ধারণ করে আমাদের জন্মভূমি পৃথিবীর সব দেশ থেকে আলাদা হয়ে আছে।

নৌপথে অনিয়ম বন্ধ করুন

নদীপথে স্বল্প খরচ ও স্বল্প সময়ে এক স্থান থেকে অন্যত্র যাওয়া যায়। বালাশীঘাট থেকে জামালপুর যেতে সহজ ও স্বল্প খরচের একমাত্র পথ হলো ইঞ্জিনচালিত নৌকা।

ভোলায় বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি মেডিকেল কলেজ চাই

বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের প্রত্যন্ত অঞ্চল দ্বীপজেলা ভোলা। আয়তনে ৩,৪০৩.৪৮ বর্গ কিমি. এই দ্বীপে বসবাসকারী মোট লোকসংখ্যা ২০,৩৭,২০১ জন। ৭টি উপজেলা, ৯টি থানা, ৫টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই জেলার মানুষের শিক্ষার হার ৪৭%।