• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১

 

রিপোর্টার হিসেবে কাভার করতে গিয়েছিলাম ৭ মার্চের ভাষণ

মুনীরুজ্জামান

নিউজ আপলোড : ঢাকা , শনিবার, ০৬ মার্চ ২০২১

একাত্তরে সাত মার্চ তখন সাপ্তাহিক একতার রিপোর্টার হিসেবে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের প্রোগ্রাম কাভার করতে গিয়েছিলাম। যে স্মৃতি অনন্য ও ঐতিহাসিক। ৭ মার্চ বেলা ২টা বাজার বেশ আগেই রেসকোর্সে মাঠের এক কোনায় দাঁড়ালাম, কাছেই ছিলেন সাংবাদিক বন্ধু মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু, মুজিবর মিজান। সেদিনের ঢাকা ছিল উত্তাল, রাস্তায় নেমে এসেছেন সব পেশার মানুষ। রেসকোর্স মাঠের অবস্থা বর্ণনা করা কঠিন। সৈয়দ শামসুল হকের ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ নাটকের কয়েকটা ডায়ালগ মনে পড়ছে, ‘মানু আসতিছে বানের লাহান, (‘বান’ মানে বন্যা) মানু আসতে আছে গিরাম থিকা...মানু আসতে আছে অমুক জিলা থিকা...।’ এই যে বর্ণনা,

চারদিক থেকে মানুষ আসছে। সেটা যদি কেউ চোখ বন্ধ করে দৃশ্যটা ভাবে, তাহলে বুঝতে পারবে সেদিন কেমন জনসমাগম হয়েছিল। রিকশাওয়ালা, ছাত্র-শ্রমিক এসেছে, লগি-বৈঠা নিয়ে মানুষ, সিভিল ড্রেসে পুলিশও এসেছে, ব্যবসায়ী, ব্যাংকার, কালো কোট পরে উকিল, প্রশাসনের কর্মকর্তারাও এসেছে, তাদের অনেককে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনতাম। ৭ মার্চের ভাষণ শুনতে সব পেশার মানুষ, নারী-পুরুষ এমনই বানের মতো মানুষ সবদিক থেকে এসে জড়ো হয়েছে রেসকোর্স মাঠে এবং আশপাশে। একদিকে রাজনৈতিক কর্মী, অন্যদিকে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে সেদিন মাঠে ছিলাম। বঙ্গবন্ধু কিছুটা দেরিতে এলেন, প্রায় ২৩ মিনিট ভাষণ দিলেন। ভাষণের প্রতিটি লাইন নিয়ে ১০ পৃষ্ঠা করে লেখা যায়। ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা দিয়েছেন। এটা যদি কেউ উপলব্ধি করতে না পারে, তাহলে সে বাংলাদেশ চেনেনি, বঙ্গবন্ধু চিনতে পারেনি, মুক্তিযুদ্ধকে জানেনি- কিছুই জানেনি, কিছুই চেনেনি। বাংলাদেশের মানুষের সেই সাতচল্লিশ সাল থেকে সংগ্রাম সম্পর্কেও জানে না। কারণ ৭ মার্চের ভাষণে বাংলাদেশ কেমন, ভবিষ্যতে কীভাবে পরিচালিত হবে- এর সম্পূর্ণ রূপকল্প তিনি সেদিন দিয়েছিলেন তার ভাষণে। আমরা যারা রাজনৈতিক কর্মী ছিলাম, তারা তো বটেই, সাধারণ মানুষও করণীয় বুঝেছিল সেদিন ভাষণ শুনে। বঙ্গবন্ধুর সেদিনের ভাষণটি অনন্য সম্পদ, যা আজ ইতিহাস ও বাঙালির অহংকার। এই ভাষণের আরেকটি বড় দিক হলো, ভাষণের আরেক জায়গায় তিনি বলেছেন, ‘এই বাংলায় বাঙালি, নন-বাঙালি, হিন্দু-মুসলিম সবাই আমাদের ভাই।’ তার মানে- এই বাংলা হবে একটা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ। বাংলাদেশ, এখানে জাতি, ধর্ম ও বর্ণের ভেদাভেদ থাকবে না। সুতরাং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ কেমন হবে, তা তিনি পরিষ্কার বলে গেছেন এবং সেইভাবে দেশ পরিচালিত হবে, তা তিনি স্পষ্ট করেছেন সবার কাছে। একটা ভাষণে গোটা জাতির অতীত ইতিহাস, বর্তমান করণীয়, ভবিষ্যৎ রূপরেখার চিত্র পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টি নেই। তার ভাষণে রাজনীতি, অর্থনীতি বাণিজ্য-ব্যবসা, সংস্কৃতি, দর্শন, আকাঙ্খা- সবই আছে। এসব যদি ব্যাখ্যা করা না যায়, তাহলে বোঝা যাবে না তিনি কী চেয়েছেন, তার আকাঙ্খা ও দূরদৃষ্টি কতটা বিস্তৃত ছিল।

প্রকৃতপক্ষে ৭ মার্চের ভাষণের পর মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। ভাবতে পারিনি তিনি এমন ভাষণ দেবেন। তবে রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ দেখে বুঝতে পারছিলাম একটা যুদ্ধ হয়তো হবে। যুদ্ধে যাওয়ার জন্য গোপনে আগে থেকেই প্রস্ততি চলছিল আমাদের। একজন রাজনৈতিক কর্মী হওয়ায় মানসিকভাবে তৈরিও হচ্ছিলাম। ২৫ মার্চ পাকিস্তান আর্মি পূর্ব বাংলাকে আক্রমণ করে, গণহত্যা চালায়। ২৬ মার্চ থেকে আমরা আমাদের স্বাধীনতাকে কার্যত গ্রহণ করতে শুরু করলাম সশস্ত্র লড়াইয়ের মাধ্যমে। এর আগে ৩ মার্চ থেকেই একরকম বঙ্গবন্ধুর শাসনে দেশ চলছিল বলা যায়। কারণ তিনি তো নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হওয়া দলের প্রধান নেতা, তিনি ক্ষমতা পেয়েছেন জনগণের রায়ে। পাকিস্তান সরকার যদি সেদিন স্বাভাবিক নিয়মে ক্ষমতা হস্তান্তর করত, তাহলে তো বঙ্গবন্ধুর শাসনই বহাল থাকত।

[লেখক : প্রয়াত সাংবাদিক, সর্বশেষ সংবাদ-এর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন]

দুই কুকুরের কামড়া-কামড়ি তত্ত্ব

’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে দেশের ভেতরে কয়েকটি অঞ্চলে বামপন্থিদের নেতৃত্বে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল।

একটি মানবিক বিপর্যয়ের দলিল

ভাষাজ্ঞান মানুষকে তথ্য পরিষ্কার করে বুঝতে ও আত্মস্থ করতে সাহায্য করে।

অদ্ভুত লকডাউনে দেশ

দেশে লকডাউন চলছে। কিন্তু কোন জায়গাই এখন আর লক নেই। পুরোটাই আনলক!

sangbad ad

মুক্তিযুদ্ধে চিরুলিয়া-বিষ্ণুপুর

’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে দেশের অভ্যন্তরে কয়েকটি অঞ্চলে বামপন্থিদের নেতৃত্বে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল।

‘হিট শকে’ বিপর্যস্ত কৃষক

image

একদিকে বাংলাদেশে করোনাভাইরাস মহামারী, অন্যদিকে প্রলম্বিত বন্যার কারণে চালের উৎপাদনে ১৫ থেকে ২০ লাখ টনের যে ঘাটতি দেখা দিয়েছে

হেফাজত, সঙ্গীতাঙ্গন, গ্রন্থাগার এবং আগুন

image

হেফাজতে ইসলামের সমর্থকরা হরতালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা পরিষদ কার্যালয়, পৌরসভা কার্যালয়, পৌর মিলনায়তন, রেলস্টেশন ইত্যাদিতে

হেফাজতের আন্দোলন মোদিবিরোধী না মুক্তিযুদ্ধবিরোধী?

image

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের প্রতিবাদে হেফাজত দেশজুড়ে নারকীয় তান্ডব চালায়।

সড়ক দুর্ঘটনা : থামাতে হবে এ হত্যাযজ্ঞ

নিসচার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, গত ২০২০ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে প্রায় ৫ হাজার মানুষ।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় করণীয়

image

লকডাউনের পথে হাঁটছে বিশ্ব। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও এশিয়ার দেশগুলোতে আবার করোনায় মৃত্যুর আক্রান্ত বেড়েছে।

sangbad ad