• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১

 

সময় কাগজের চিঠিকে মূল্যহীন করেছে

এমএ কবীর

নিউজ আপলোড : ঢাকা , শুক্রবার, ০৫ মার্চ ২০২১

আইন অমান্য করায় নারীর কাছে জরিমানার পরিবর্তে চুমু নিয়ে বিপাকে পড়েন পেরুর এক পুলিশ। সাময়িক বরখাস্তও করা হয় তাকে। ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়- পেরুর রাজধানী লিমায় এক নারী করোনায় আরোপ করা বিধি অমান্য করেন। পুলিশ তার কাছে গেলে ওই নারী জরিমানার পরিবর্তে চুমু দেয়ার প্রস্তাব দেন। পুলিশও এতে রাজি হয়।

কিন্তু বিধি বাম। ভিডিও ফুটেজে তাদের ওই কীর্তি ধরা পড়ে। পরে সেই ফুটেজ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের হাতে পৌঁছলে এটি নিয়ে হইচই শুরু হয়। স্থানীয় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ইবিরো রদ্রিগেজ বলেন, ‘আমাদের মেয়র লুইস মোলিনা ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ওই নারী সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি আইন অমান্য করেছেন। এরপর পুলিশ মাস্ক খুলে নারীকে চুমু খেয়েছেন। এ ধরনের কাজ খুবই গুরুতর।’

করোনায় বেশ ঝুঁকিতে রয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরু। এখন পর্যন্ত দেশটিতে ৪৪ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। শিক্ষিত তরুণ আগামী সুশীল সমাজের কর্ণধার, তাদের দ্বারা যখন মানবিক অবমাননার সৃষ্টি হয় তা অতি লজ্জার। স্কুল, কলেজ, বিশ^বিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র এবং আমাদের শিক্ষিত উচ্চবিত্তরা যখন পাঁচ টাকার কারণে দরিদ্রতায় জর্জরিত, দুই বেলা খেতে না পাওয়া রিকশাওয়ালাকে চড়-থাপ্পড় মারে তখন মানবিক অবমাননা ঘটে। মাটি কাটার কাজে নিয়োজিত পুরুষকে তিনশ’ টাকা ও একই ভার বহনকারী নারীকে দুইশ’ টাকা প্রদান করা যেন মানবিক চরম অবমাননাকে স্পষ্ট করে। অন্ধ ভিক্ষুককে পাঁচ টাকা না দিয়ে যখন দামি রেস্টুরেন্টে গিয়ে ভালো খাবার খেয়ে পাঁচশ’ টাকার সঙ্গে পঞ্চাশ টাকা বখশিশ দিয়ে আসি তখন বোঝা যায়, মানবিকতা কোথায় গিয়ে ঠেকেছে। দুই হাজার টাকা বেতন দিয়ে ঘরের মেঝে থেকে শুরু করে রান্নাবান্না, জুতো, টয়লেট পরিষ্কার করানো বুয়ার কথা কেউ চিন্তা করে না। তার অসুস্থতা, অসুবিধাকে না মেনে তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চলে। পঞ্চাশ হাজার টাকা বেতনের সরকারি কর্মকর্তা হয়েও বুয়ার অর্ধেক সময় কাজ করতে আমরা নারাজ।

রিকশাওয়ালার ওপর চড়াও হওয়া, আধিপত্য তথা নিম্নশ্রেণীর ওপর অত্যাচার ও শোষণকে প্রকাশ করে। সমান পরিশ্রমের পরেও ঠিকাদারের নারীদের একশ’ টাকা কম দেয়াটাও মানবিক অবমাননা ও বিকৃত মনোভাবের প্রকাশ।

শিক্ষিত ও অঢেল অর্থের মালিক হলেই তাদের মধ্যে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিলক্ষিত হয় না। মানবিকতা, বিবেকবোধ যার মধ্যে জাগ্রত হয়, মানুষের দুঃখ-শোকে যে কাতর হয়, যার মধ্যে সহমর্মিতা বিরাজ করে সে কখনো অমানবিক ও হত্যাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারে না।

চোখ বন্ধ করে বুকের ওপর হাত রাখলে একটা ডাক শুনতে পাওয়া যায়। সেটা আর কিছুই নয়, সেটা প্রাণের ব্যাকুলতা, মনের টান। হয়তো সেটাই আহ্বান। যতক্ষণ পৃথিবীতে এ আহ্বান আছে ততক্ষণ বুঝতে হবে পৃথিবীর কেউ না কেউ পেছনে দাঁড়িয়ে সবার অজ্ঞাতেই মানুষের নতুন করে বেঁচে উঠার বীজ বুনে যাচ্ছে।

তারা নিজেরা কখনো জানতেও পারে না সেই বীজ একদিন বড় একটা বৃক্ষে পরিণত হবে। যে বৃক্ষের ভেঙে পড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই, দমে যাবার কোনো ফুরসত নেই। বৃক্ষটি মাটিকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে উপরে উঠার মতো অসীমশক্তি তার মধ্যে গড়ে তুলেছে। যে মানুষ নিভৃতে এ কাজটি করে চলেছে সে হয়তো কখনো জানতেও পারবে না, যে বৃক্ষের ছায়ার নিচে দাঁড়িয়ে সে তীব্র রোদের সাথে লড়াই করে চলেছে সেই বৃক্ষটার জন্ম তার হাত ধরেই।

‘রানার’ কবিতাটার কথাই ধরুন। এটা কবিতা না জীবনের গভীরে লুকিয়ে থাকা অমোঘ সত্য, তা সেটার ভেতরে ঢুকেই বের করে আনা সম্ভব। সুকান্ত বলেছেন-

রানার ছুটেছে তাই ঝুম্?ঝুম্ ঘণ্টা বাজছে রাতে/রানার চলেছে খবরের বোঝা হাতে,/রানার চলেছে, রানার!/রাত্রির পথে পথে চলে কোনো নিষেধ জানে না মানার।/দিগন্ত থেকে দিগন্তে ছোটে রানার-/কাজ নিয়েছে সে নতুন খবর আনার।

যে রানার একটুকরো মূল্যহীন কাগজে কালো অক্ষরের চিঠির বোঝার ভার কাঁধে বয়ে নিয়ে চলে সে হয়তো নিজেও জানে না সে অনেক মানুষের জীবন বদলের স্বপ্ন বুনে চলেছে। মুঠো মুঠো করে, তিল তিল করে, এক বেকার ছেলের চাকরি পাওয়ার সাফল্যের চিঠিটা নিয়ে আসে রানার। সন্তানের চিঠি পাওয়ার জন্য মায়ের দীর্ঘ ব্যাকুলতায় আনন্দ অশ্রু এনে দেয় রানার। প্রিয়ার চিঠি পাবে বলে এক জীবন সঙ্গীর বসে থাকা ভালোবাসার বিষন্ন চোখ অলৌকিক আনন্দে চিকচিক করে উঠে রানারের কাঁধের চিঠিতে।

প্রিয়জন হারানোর দুঃস্বপ্নটা রানারের চিঠির ঝুলিতে কঠিন এক কষ্টের সুর তোলে। সুখ, দুঃখ, আনন্দ, বেদনার মহাকাব্য হয়ে উঠে চিঠিগুলো। কখনো আবার চিঠিগুলো ইতিহাস হয়। রানার, কি আছে তার, কিছুই নেই। মানুষ তাকে তাচ্ছিল্য করে, অবহেলা করে, বঞ্চিত করে, শোষণ করে।

রানার তো মহামূল্যবান, সে তা নিজে জানে না, নিজে বোঝে না। মানুষের চোখে রানার তো মূল্যহীন। কত মানুষের জীবন বদলে দেয়, কত মানুষের স্বপ্ন গড়ে দেয়। নিজের অজান্তেই রানার মহানায়ক হয়ে উঠে। মানুষের পোড়া চোখ আর বিবর্ণ কপাল তা বোঝার ক্ষমতা রাখে না। সময়ও রানারকে বুঝতে পারেনি। প্রযুক্তির ধোঁয়া তুলে ‘সময়’ কাগজের চিঠিকে মূল্যহীন করেছে। তবে নীরবে নিভৃতে তার না চেনা মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ আজও মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে।

সাহিত্যিক বুদ্ধদেব বসু সুকান্তকে বলেছেন এমন করে- ‘গর্কির মতো তার চেহারাই যেন চিরাচরিতের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। কানে একটু কম শোনে, কথা বেশি বলে না, দেখামাত্র প্রেমে পড়ার মতো কিছু নয়, কিন্তু হাসিটা মধুর, ঠোঁট দু’টি সরল।’ বুদ্ধদেব বসু সুকান্তের বিষয়ে আরো বলেছেন- ‘যে চিলকে সে ব্যঙ্গ করেছিল, সে জানতো না সে নিজেই সেই চিল; লোভী নয়, দস্যু নয়, গর্বিত নিঃসঙ্গ আকাশচারী, স্খলিত হয়ে পড়ল ফুটপাতের ভিড়ে, আর উড়তে পারল না, অথবা সময় পেল না। কবি হবার জন্যই জন্মেছিল সুকান্ত, কবি হতে পারার আগে তার মৃত্যু হলো।’

শেষের কথাটা খুবই মর্মস্পর্শী। ‘কবি হবার জন্যই জন্মেছিল সুকান্ত, কবি হতে পারার আগে তার মৃত্যু হলো।’

জীবনবোধের কথা, শেকড়ের খুব গভীরের কথা। কবি হতে পারেননি হয়তোবা সুকান্ত, তবে তিনি কবিদের কবি হয়েছেন। কবিতা লিখেছেন দু’হাত খুলে। নিজের বিশ^াসকে নিজের আবেগের সাথে মিলিয়েছেন মহানন্দে। হয়তোবা কবি হতে চাননি তিনি। মানুষের কঠিন জীবনের কথা বলতে চেয়েছেন। মানুষের নগ্ন মুখটাকে আঁস্তাকুড়ে ছুড়ে ফেলে শুভবোধের ভাবনায় নিজেকে যুক্ত করতে চেয়েছেন। এভাবেই নিজের অজান্তেই তিনি ক্ষণজন্মা কবি হয়েছেন।

ছাড়পত্র লিখেছিলেন তিনি। যক্ষা রোগের সাথে লড়তে লড়তে মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি পৃথিবী থেকে ছাড়পত্র নেন। মৃত্যুর আগে যে তিনি অনেককিছু আমাদের দিয়েছেন তা হয়তো তিনি বুঝে উঠতে পারেননি। তার মৃত্যু আমাদের জানিয়ে দিল আমরা কী হারিয়েছি; যা হারিয়েছি তা ছিল মহাজীবন, যেমনটা তিনি নিজে ভেবেছেন-

হে মহাজীবন, আর এ কাব্য নয়/এবার কঠিন, কঠোর গদ্যে আনো,/পদ-লালিত্য ঝঙ্কার মুছে যাক/গদ্যের কড়া হাতুড়িকে আজ হানো!/প্রয়োজন নেই কবিতার স্নিগ্ধতা/কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি,/ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়/পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।

একটা পুরাতন নৌকাকে ভালো করে রং করার জন্য একজন রংমিস্ত্রিকে নিয়োজিত করা হলো। রংমিস্ত্রি নৌকায় রং করতে করতে লক্ষ্য করলেন নৌকার তলায় একটা ছোট ফুটো রয়েছে। রংমিস্ত্রি তার দায়িত্ব অনুযায়ী নৌকাটি সুচারুভাবে রং করার পর এর নিচে থাকা ফুটোটাকে মেরামত করে সেটির ওপরে রং লাগানোর পর মজুরি নিয়ে চলে গেলেন। ঠিক এর পরদিন নৌকার মালিক রংমিস্ত্রির বাড়িতে এলেন, তাকে বড় অংকের একটা চেক দিতে চাইলেন। রংমিস্ত্রি অনেকটা অবাক হয়ে বললেন, আমি তো গতকাল আমার প্রাপ্য মজুরি পেয়েছি। তবে এই বাড়তি অনেক টাকার চেক আবার কেন আমাকে দিচ্ছেন?

নৌকার মালিক উত্তরে বললেন, আমি খুব বেশি দিচ্ছি না বরং অনেক কম দিচ্ছি। আপনি আমার জন্য যা করেছেন তা টাকার অংকেও দেয়া সম্ভব নয়। কথাটা শুনে রংমিস্ত্রি আবার অবাক হয়ে বললেন, আমি তো আপনার কোনো কথাই বুঝতে পারছি না। আমি আপনার কী এমন উপকার করলাম, যার জন্য আপনি আরও বাড়তি টাকা দিতে চাইছেন।

নৌকার মালিক বললেন, খুব ব্যস্ততার কারণে আমি আপনাকে বলতে ভুলে গিয়েছিলাম নৌকার নিচে একটা ফুটো আছে। অথচ আপনি নিজ দায়িত্বে সেটি মেরামত করে দিয়েছেন। রংমিস্ত্রি বললেন, আরে ওটাতো সামান্য একটা ফুটো, সেজন্য এত টাকার চেকের কী প্রয়োজন? নৌকার মালিক বললেন, না সেটা সামান্য নয়। আমি কাজ থেকে ফিরে এসে দেখি ঘাটে আমার নৌকা নেই। রং শুকানোর পরপরই আমার দুই ছেলে নদীতে নৌকা ভ্রমণে বের হয়েছে। নৌকার তলানিতে যে ফুটো আছে তারা তা জানতো না। বুঝতেই পারছেন, আমি কতটা দুশ্চিন্তায় পড়েছিলাম। সন্ধ্যা হবার পরও ছেলেরা নৌকা নিয়ে ফিরছে না দেখে আমার অস্থিরতা বেড়েই চলছিল। ছেলেদের ফেরার আশায় দীর্ঘক্ষণ নদীর দিকে মুখ চেয়ে বসেছিলাম। কোনো নৌকা ঘাটে ভিড়লেই মনে হচ্ছিল, এই বুঝি আমার ছেলেরা ফিরেছে। অস্থিরতায় ছটফট করতে করতে আপনার বাসায় এসে দেখি আপনিও বাড়িতে নেই। এরপর আবার নদীর ঘাটে ফিরে আসি। হঠাৎ দেখি, আমার ছেলেরা নৌকা নিয়ে ফিরছে। আমার আদরের ধন দুটো ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরি। ওরাও বুঝে উঠতে পারছিল না কী এমন ঘটনা ঘটেছে। এরপর নৌকা পরীক্ষা করে দেখি, আপনি নৌকার নিচে থাকা ফুটো সবার অজান্তে মেরামত করেছেন। আপাতদৃষ্টিতে কাজটি অতি সামান্য মনে হলেও এই সামান্য কাজটি যদি আপনি না করতেন তবে আমার আদরের সন্তানরা আজ নৌকা ডুবিতে মারা যেত। আল্লাহর রহমত ও আপনার দায়িত্ববোধে তারা আজ বেঁচে ফিরেছে।

‘জীবনের ঘাটে ঘাটে এরকম কত রংমিস্ত্রি আছে। যারা নিজেও হয়তো জানে না, নীরবে নিভৃতে নৌকার ছিদ্রগুলো বন্ধ করে দিয়ে কত মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে।

চোখ বন্ধ করে বুকের ওপর হাত রাখলে একটা ডাক শুনতে পাওয়া যায়... আহ্বান। যতক্ষণ পৃথিবীতে এই আহ্বান আছে ততক্ষণ বুঝতে হবে পৃথিবীর কেউ না কেউ কারো সামান্য সহযোগিতা পেয়ে পুরো একটা নতুন জীবন নিয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছে।’

আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে লোকসকল! যদি তোমরা পুনরুত্থানের ব্যাপারে সন্দিগ্ধ হও, তবে ভেবে দেখ- আমি তোমাদের মৃত্তিকা থেকে সৃষ্টি করেছি। এরপর বীর্য থেকে, এরপর জমাট রক্ত থেকে, এরপর পূর্ণাকৃতিবিশিষ্ট ও অপূর্ণাকৃতিবিশিষ্ট মাংসপিন্ড থেকে, তোমাদের কাছে ব্যক্ত করার জন্য। আর আমি এক নির্দিষ্টকালের জন্য মাতৃগর্ভে যা ইচ্ছা রেখে দেই, এরপর আমি তোমাদের শিশু অবস্থায় বের করি; এভাবে যেন তোমরা যৌবনে পদার্পণ কর। তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ মৃত্যুমুখে পতিত হয় এবং তোমাদের মধ্যে কাউকে নিষ্কর্মা বয়স পর্যন্ত পৌঁছানো হয়, যাতে সে জানার পর জ্ঞাত বিষয় সম্পর্কে সজ্ঞান থাকে না। তুমি জমিনকে বিশুষ্ক-মৃত দেখতে পাও, অতঃপর আমি যখন তাতে বৃষ্টি বর্ষণ করি, তখন তা সতেজ ও স্ফীত হয়ে যায় এবং সর্বপ্রকার সুদৃশ্য উদ্ভিদ উৎপন্ন করে। এগুলো এ কারণে যে, আল্লাহ সত্য এবং তিনি মৃতকে জীবিত করেন এবং তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান এবং এ কারণে যে, কেয়ামত অবশ্যম্ভাবী, এতে সন্দেহ নেই এবং এ কারণে যে, কবরে যারা আছে, আল্লাহ তাদের পুনরুত্থিত করবেন।’ (সূরা হজ : ৫-৭)

একটা ছোট পিঁপড়া ও তার মতো অসংখ্য পতঙ্গ নিজেদের অজান্তে পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষা করে চললেও তারা তা কখনো জানতে পারে না। শ্রমিক মাথার ঘাম পায়ে ফেলে আধুনিক সভ্যতা গড়ে তুললেও সে জানে না এই পৃথিবী বদলানোর কাজটা তার মাধ্যমেই ঘটে চলেছে। একজন শীর্ণকায় কৃষক সারাজীবন প্রাণের তাগিদে ফসল ফলায় কিন্তু সে কখনো জানতে পারে না মানুষের মুখের অন্নের সংস্থান তার মাধ্যমেই হয়। মা তার সন্তানের পরম যত্নে মানুষ করে তুললেও প্রতিদানে মা সন্তানদের কাছে কী পাবে তা কখনো ভেবে দেখে না। স্বার্থের পৃথিবী। স্বার্থের খেলা। সে খেলায় কেউ হারে, কেউ জিতে। নিভৃতে কাজ করে যাওয়া মানুষটা আমৃত্যু তার দায়িত্বটা দায়িত্ব ভেবে জীবনের অতিরিক্ত মূল্য দিয়ে যায়। সেটা হয়তো সে বোঝে কিন্তু বুঝতে চায় না। হয়তো এটাই মানুষের জীবন।

[লেখক : সাংবাদিক, ঝিনাইদহ]

trynew70@gmail.com

দুই কুকুরের কামড়া-কামড়ি তত্ত্ব

’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে দেশের ভেতরে কয়েকটি অঞ্চলে বামপন্থিদের নেতৃত্বে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল।

একটি মানবিক বিপর্যয়ের দলিল

ভাষাজ্ঞান মানুষকে তথ্য পরিষ্কার করে বুঝতে ও আত্মস্থ করতে সাহায্য করে।

অদ্ভুত লকডাউনে দেশ

দেশে লকডাউন চলছে। কিন্তু কোন জায়গাই এখন আর লক নেই। পুরোটাই আনলক!

sangbad ad

মুক্তিযুদ্ধে চিরুলিয়া-বিষ্ণুপুর

’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে দেশের অভ্যন্তরে কয়েকটি অঞ্চলে বামপন্থিদের নেতৃত্বে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল।

‘হিট শকে’ বিপর্যস্ত কৃষক

image

একদিকে বাংলাদেশে করোনাভাইরাস মহামারী, অন্যদিকে প্রলম্বিত বন্যার কারণে চালের উৎপাদনে ১৫ থেকে ২০ লাখ টনের যে ঘাটতি দেখা দিয়েছে

হেফাজত, সঙ্গীতাঙ্গন, গ্রন্থাগার এবং আগুন

image

হেফাজতে ইসলামের সমর্থকরা হরতালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা পরিষদ কার্যালয়, পৌরসভা কার্যালয়, পৌর মিলনায়তন, রেলস্টেশন ইত্যাদিতে

হেফাজতের আন্দোলন মোদিবিরোধী না মুক্তিযুদ্ধবিরোধী?

image

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের প্রতিবাদে হেফাজত দেশজুড়ে নারকীয় তান্ডব চালায়।

সড়ক দুর্ঘটনা : থামাতে হবে এ হত্যাযজ্ঞ

নিসচার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, গত ২০২০ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে প্রায় ৫ হাজার মানুষ।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় করণীয়

image

লকডাউনের পথে হাঁটছে বিশ্ব। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও এশিয়ার দেশগুলোতে আবার করোনায় মৃত্যুর আক্রান্ত বেড়েছে।

sangbad ad