• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১

 

স্বাধীনতার ক্ষতচিহ্ন

মেঘনা গুহঠাকুরতা

নিউজ আপলোড : ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৫ মার্চ ২০২১

image

১৯৭১-এর জানুয়ারিতে আমি হলিক্রস স্কুলে দশম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হই। আমরা তখন বাস করি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকায়। আমার বাবা জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা তখন জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ। বেশি দিন হয়নি আমরা এই বাড়িতে এসেছি।

২৫ মার্চের রাতে আমি যে ঘরে ঘুমুতে গেলাম সে ঘরেই বাবা টেবিলে পরীক্ষার খাতা দেখতে বসলেন। আমার একটু তন্দ্রা আসতে না আসতেই বিকট আওয়াজে ঘুম ভেঙে গেল। চেয়ে দেখলাম বাবা ও মা এদিক ওদিক ছুটছেন এবং আমাকে মাঝের ঘরের (যে ঘরটি রাস্তা থেকে দূরে) মাটিতে গিয়ে শুয়ে থাকতে বলছেন।

গোলাগুলির আওয়াজ ক্রমেই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠলো। মনে হলো যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। বলা বাহুল্য প্রতিরাতে কিছু না কিছু গোলাগুলির আওয়াজ পেতাম কয়েক সপ্তাহ ধরে। সে রাতের আওয়াজটা অনেক বেশি মনে হয়েছিল। আমরা অনুমান করছিলাম যে এটা বুঝি তখন ঢাকায় অবস্থিত জুলফিকার আলী ভুট্টোর প্রতি ছাত্রদের প্রীতি উপহার।

কিন্তু ব্যাপারটা যে তার চেয়ে অনেক গুরুতর তা বুঝতে পারলাম যখন মা আমার ও বাবার নিষেধাজ্ঞা না শুনেই আমার ঘরের জানালা দিয়ে রাস্তার দিকে উঁকি দিয়ে দেখলো, সমস্ত গোলাগুলি হচ্ছে জগন্নাথ হলকে ঘিরে-আর একটি মিলিটারি জিপ আমাদের গেটে এসে হাজির। সঙ্গে সঙ্গে জোয়ানগুলি বন্যার স্রোতের বেগে আমাদের ৩৪নং বিল্ডিংয়ের সব তলায় উঠে গেল। আর প্রতিটি ফ্ল্যাটে জোরে লাথি মারতে লাগলো।

মাকে আমরা জোর করে জানালা থেকে ফিরিয়ে আনলাম। তখন বোধ হয় একজন সৈন্য আমাদের জানালার জাল বেয়নেট দিয়ে ছিড়ে পর্দা উঠিয়ে দেখে নিয়েছে যে আমাদের ঘরে লোকজন আছে। তার ঠিক পরেই আমাদের পেছনের বাগানের গেট দিয়ে হাজির হয় তারা। রান্না ঘরের দরজায় জোর আঘাত হচ্ছে। স্বর্ণ মাসি যে আমাদের সঙ্গে আমার জন্মের আগে থেকেই আছেন এবং রান্নাবাড়ার কাজ করতেন, গেট খুলতেই তাকে ধাক্কা দিয়ে বাগানে ফেলে দেয়। সেখান থেকে দৌড় দিয়ে সে চলে যায় ড্রাইভারদের কোয়ার্টারে। আমাদের গাড়ির ড্রাইভার গোপাল তার ঘর থেকে সৈন্যদের দেখেছিল আর চিৎকার করছিল যাতে আমরা দরজা না খুলি। কিন্তু তার গলায় স্বর গোলাগুলি ও বোমার শব্দে হারিয়ে যায়।

মিলিটারিদের ঘরে চলে আসতে দেখে বাবা আমাকে ড্রইং রুমে গিয়ে শুয়ে থাকত বললেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখি যে সামনের দরজায় জোয়ানরা এত বিকট ভাবে লাথি দিচ্ছে যে, সেখানে থাকার যো নেই। মা চেষ্টা করেও দরজা খুলতে পারেনি কেননা দরজা ধাক্কা দিতে দিতে ওরা জাম করে ফেলেছে।

এমন সময় দুটি জোয়ানকে নিয়ে একটি অফিসার প্রবেশ করল। আমার মা আলনা থেকে আমার বাবাকে পাঞ্জাবি হাতে তুলে দিয়ে বলল, ‘তামাকে নিশ্চয়ই এরেস্ট করতে এসেছে।’ বাবা পাঞ্জাবি হাতে নিয়ে নিথরভাবে দাঁড়িয়ে রইলো। মা সৈন্যদের সামনে গেল। ওরা বলল, ‘প্রফেসার সাব হ্যায়?’ মা বলল ‘হ্যায়।’ ওরা বললো ‘উনকো লে যায়েগা’ বলে বাবার দিকে অগ্রসর হলো। মা পিছে পিছে যেতে যেতে বলল, ‘কাহা লে যায়েগা?’ অফিসার কেবল বলল ‘লে যায়েগা।’ আর বাবার হাত ধরল। বাবা কেবল বলল ‘Why।’

আমরা সবাই ভাবলাম arrest করতে এসেছে। Cantonment– এ নিয়ে যাবে হয়তো। এখন কিছু না বলে বন্ধুবান্ধবকে জানালে কিছু একটা করতে পারবে।

বাবাকে ওরা পেছনের গেট দিয়ে নিয়ে গেল। সামনের দরজা জাম দেখে, অফিসারটি চিৎকার করে বলল “ইয়াকুব মাত ভাঙো, হাম ইধার হ্যায়।” দরজা ধাক্কানো থেমে গেল। এক জোয়ান একটানে দরজা খুলে দিল।

বাবাকে নিয়ে যাবার পরেই আমি টেলিফোনের দিকে দৌড় দিলাম। কিন্তু ৎবপবরাবৎ উঠিয়ে দেখি telephone dead। এই কথা মাকে বলতে গিয়েছি, অমনি আমাদের চার তলার বাসিন্দা statistic বিভাগের অধ্যাপক মনিরুজ্জামানসহ তার ছেলে এবং ছেলের বয়সী আরও ২ জন যুবককে টেনে হিঁচড়ে সিঁড়ি দিয়ে নামাচ্ছে। আর ওদিকে মিসেস মনিরুজ্জামান ধরে রাখবার চেষ্টা করছে।

আমাদের মাথার মধ্যে ছিল Arrest। কেননা এই arrest কেই আমার বাবা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আশঙ্কা করছিলেন। তাই মিসেস মনিরুজ্জামানকে বুঝালাম যে হয়তো arrest করতে এসেছে, আমার বাবাকেও নিয়ে গেছে, তাই এখন বাধা দেবেন না, পরে একটা ব্যবস্থা হবে। কিন্তু এটা বলতে না বলতে মনে হলো কাছেই কোথায় যেন গোলাগুলি হচ্ছে।

দুই সেকেন্ড পরেই আবার সেই অফিসার দুটি জোয়ানসহ পেছনের দরজা দিয়ে হাজির। আমাদের কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে ঘর তল্লাশি করতে শুরু করল। বাথরুম দেখলো, এমন কি আমার বিছানায় টানানো মশারিও তুলে দেখলো। তারপর জিজ্ঞেস করলো “মুজিবুর রহমান কাহা রহতা হ্যায়?” আমার মুখ দিয়ে ইংরেজি বের হ’লো ‘We donÔt know him’ অমনি সে রেগে উঠে ধমক দিল। ‘What do you mean, you donÕt know him !’

তারপর সৈন্যদের ইশারা করে আবার চলে যাবার উপক্রম করলো। মা জিজ্ঞেস করতে চাইলো ‘প্রফেসারকে’ কোথায় নিয়ে গেছে, কিন্তু প্রত্যুত্তরে কেবল পাল্টা জিজ্ঞেস করল ‘আওর তোস লাড়কা হ্যায়?’ মা আমাকে দেখিয়ে বলল যে আমার একটি মেয়ে। আমার দিকে তাকিয়ে আমাদের বের হতে নিষেধ করলো। তারপর চলে গেল।

আমরা দিশেহারা হয়ে পেছনে যাবার চেষ্টা করতেই তখন বিকট চারটা গুলির আওয়াজ ও আর্তনাদ কানে ভেসে আসল। মা সামনের দরজার দিকে এগুতেই চিৎকার করে ছিটকে পড়লো। আমি পরমুহূর্তে উঁকি দিতেই আমার শরীর কন্ঠ ভেদ করে এমন শব্দ বের হলো যে সেটা নিজের বলে চিনলাম না। এই দৃশ্য সামনে দেখতে হবে তা আমার কল্পনার বাইরে ছিল। দেখলাম অধ্যাপক মনিরুজ্জামান ও তিনটি ছেলে তাদের নিজেদের রক্তে গড়াগড়ি খাচ্ছে, দু’জন গোঁঙাচ্ছে! মিসেস মনিরুজ্জামান দিশেহারা কিন্তু পানি খাইয়ে যাচ্ছে আর মাকে দেখে বললেন, ‘এই দিদি আপনি না বললেন ধৎৎবংঃ করবে তাহলে গুলি করল কেন?’

এমন সময় আমার স্বর্ণ মাসি ফিরে এল। কি করব কাকে খবর দেব, এটা ভাবতে না ভাবতেই মিসেস মনিরুজ্জামান এসে খবর দিল মাকে ‘দিদি আপনার সাহেবকেও তো গুলি করেছে, উনি পানি চাইলেন, আমি পানি দিয়ে এসেছি, উনি আপনাদের দু’জনকে ডাকছেন!’

আমাদের মাথায় যেন বাজ পড়লো। তার মানে হত্যাই ছিল ওদের মূল উদ্দেশ্য। ইতিমধ্যে খোকনও এসেছে, আমরা সবাই ছুটে গেলাম সামনের পড়সঢ়ড়ঁহফ-এ সেখানে আমাদের সামনের বারান্দার বাইরেই বাবা পড়েছিলেন। সৈন্যরা তখন সবাই চলে গেছে।

বাবার সম্পূর্ণ জ্ঞান ছিল। ভারি গলায় বললেন, ‘আমাকে আমার নাম জিজ্ঞেস করেছে, তারপর ধর্ম। আমি হিন্দু বলতেই গুলি করার অর্ডার দিয়েছে। গুলি আমার ঘাড় ও কোমরে লেগেছে। আমি আমার পা নাড়াতে পারছি না; শরীর প্যারালাইসিস হয়ে গেছে।’

ইতিমধ্যে আরও সাহায্যের হাত পাওয়া গেছে। আমাদের ও পাশের দোতালায় থাকতেন রাজ্জাক স্যার (জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক)। উনি, উনার ভাইয়ের ছেলে আর গোপাল ধরাধরি করে বাবাকে আমাদের ঘরে নিয়ে গেল। নিয়ে যেতে হলো তাদের মনিরুজ্জামান ও তিনজন যুবকের তাজা রক্তের উপর দিয়ে!

কিন্তু বাবাকে ঘরে এনেও তো নিস্তার নেই। রাস্তার ওপারেই হাসপাতাল কিন্তু কারফিউ আর গোলাগুলির জন্য হাসপাতালে নেয়ার প্রশ্নই উঠে না। নরক কাকে বলে আমি ’৭১-এর ২৫ মার্চের রাত ও ২৬ এর দিন ও রাতগুলোতে জেনেছিলাম। নরক হচ্চে অসহায়ত্ব, ভয়। সুচিকিৎসার অভাবে প্রিয়জন ক্রমেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে, এটা জেনেও কিছু করা যাচ্ছে না এই বোধ আমাকে দিনের পর দিন, বছরের পর বছর পীড়া দিয়েছে। এক ধরনের অপরাধবোধের শিকার হয়েছিলাম অনেকদিন। কিন্তু সেই মুহূর্তে এই অসহায়ত্বের চাইতেও আরও বিপদজ্জনক সম্ভাবনা ছিল। সেটা হচ্ছে যখন জানলাম সামরিক বাহিনী ফিরে এসে নাকি বাবাকে আবার নিয়ে যাবে আমাদের কাছ থেকে। আর এবার নিলে তো রক্ষা নেই।

ইতিমধ্যে গোপাল ফিরেছে, জঙ্গল থেকে, যেখানে সে লুকিয়েছিল। আমরা একটা বুদ্ধি করলাম। এবার যদি ওরা আসে তাহলে বলব আমরা খ্রিস্টান, আর গোপালকে গোঁফ কামিয়ে ঘোমটা দিয়ে শাড়ি পড়িয়ে রাখব। এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা যাচাই করার সময় তখন ছিল না।

২৬ এর সকালে যখন আমাদের কম্পাউন্ডে মিলিটারির বুটের আওয়াজ পাওয়া গেল, তখন আমরা সেভাবেই প্রস্তুতি নিলাম। একটা যীশু খ্রিস্টের ছবি মা আমাকে হাতে তুলে দিল আর বলল, ‘দোলা তুই তো প্রার্থনা করিস, তুই কর।’

আসলে আমাদের বাসায় ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান তেমন পালন হতো না। বাবা ছিলেন মানবতাবাদী এবং মাও তাই। এসময় আমিই ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে গেলে আনন্দ পেতাম, অবশ্য সেটা কোন বিশেষ ধর্মের নয়। আমি মামার বাড়িতে পূজা পার্বণ উপলক্ষে মামীমাকে পূজার ফুল তুলে দিয়ে, কিংবা ধূপ ধূনা দিয়ে যেমন আত্মতৃপ্তি পেতাম তেমনি আনন্দ পেতাম বিলেতের স্কুলে যীশু খ্রিস্টের জন্ম উপলক্ষে Christmas Carol গেয়ে কিংবা বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে ঈদের দিনে বড়দের সালাম জানিয়ে। তাই হয়তো প্রার্থনার ভারটা মা আমার উপরেই ছেড়ে দিয়েছিলেন।

আমি সেদিন কি প্রার্থনা করেছিলাম আমার মনে নেই তবে এটা সত্য যে সৈন্যরা আর আমাদের বাড়িতে ঢুকেনি। তারা মনিরুজ্জামান ও তিনজন ছেলের লাশ তার পরিবার থেকে কেড়ে নিয়ে মাটি দিয়েছে জগন্নাথ হলের গণকবরে।

২৭-এর সকালে কারফিউ ভাঙ্গার পরে বাবাকে হাসপাতাল নিয়ে যাবার ব্যবস্থা করা গেল। তাও রাস্তার কিছু সাধারণ মানুষের সাহায্যে। হাসপাতালে গিয়ে কিছু ৎবষরবভ পেলাম বটে কিন্তু তখন হাসপাতালের নারকীয় অবস্থা। ডাক্তার নার্স ছুটে পালাচ্ছে, ওষুধপত্র কিছু পাওয়া যাচ্ছে না। আর এদিকে আহত আর লাশের ভিড় জমছে- কেউ নিয়ে আসছে রিকশা করে কেউ ঠেলাগাড়ি করে ও আহত কেউ নিজেই এসে First Aid চাইছে।

রক্তের দুর্গন্ধ ছড়িয়ে রয়েছে হাসপাতালের ওয়ার্ডে ও করিডোরে। এর মধ্যে কেউ খবর পেয়ে, কেউ খবর না পেয়ে দেখা করতে আসছেন। চেনা জানা বন্ধুরা। আমি আর মা কিন্তু কাপড়-চোপড় নিয়ে হাজির। জবভঁমবব-র বাস্তবতা আমাদের জন্য অপরিচিত কিছু নয়। দাঙ্গার সময় ছিলাম।

তাই হাসপাতালে আশ্রয় নেয়াটাই আমরা ভালো মনে করলাম। কেননা যুদ্ধের সময় হাসপাতালই সবচেয়ে নিরাপদ স্থান। কিন্তু এটা তো ঠিক যুদ্ধ না। সেটা বুঝতে পারলাম সেদিন রাতে যখন সারা হাসপাতাল কাঁপতে শুরু করলো ডিনামাইটের আওয়াজে। এবারের টার্গেট হচ্ছে হাসপাতালের পাশে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। এভাবেই ওরা বিদ্রোহের আগুন নিভাবে!

পরের দিন বন্ধু আবদুল গণি হাজারী এসে যখন আমাকে তাদের সঙ্গে নিয়ে যেতে চাইল। তখন মা রাজি হলো। হাসপাতালে তেমন থাকার যায়গা ছিল না। একজন ডাক্তার তার ইবফ ছেড়ে দিয়েছিল। সেখানে আমি আর স্বর্ণ মাসি থাকতাম। কিন্তু এই কয়েকদিনে যে অস্বাভাবিক পরিবেশে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম, তাতে হাজারী সাহেবদের বাসার স্বাভাবিক পরিবেশই আমার কাছে অস্বাভাবিক ঠেকলো।

ওরা আমাদের franquiliser দিয়ে ঘুম পাড়াতে চেষ্টা করলো। কিন্তু সারা রাত আমি ফবষরৎরঁস-এ ভুগলাম। আমার মনের মধ্যে কেবল ঘুরছে বাবার জন্য বরফ লাগবে, ওষুধ লাগবে, X-ray plate, লাগবে, Saline লাগবে। কিন্তু ৩০ মার্চের সকালে যখন হাসপাতালে পৌঁছুলাম তখন এগুলি কিছুই লাগেনি। বাবা আর নেই।

আমার কান্না সেদিন কেউই থামাতে পারেনি। মা, আমার শিক্ষক, ডাক্তার, বন্ধু বান্ধব। শুধু পেরেছিল একজন নার্স। সম্পূর্ণ অচেনা, অপরিচিত নার্স। সে আমাকে বুকে জড়িয়ে কেবল বলেছিল ‘তুমি কেঁদে কি করবে, সারা দেশে তোমার বাবার মতো কত মানুষকে মেরেছে ওরা। সারা দেশটাই তো আজকে কাঁদছে।’ কথাগুলো সরল হলেও এর সত্যতা আমার বুঁকে বিঁধলো। আমার শোক তখন আর নেহাতই আমার ব্যক্তিগত শোক হয়ে থাকলো না।

সাইবার দুনিয়া নিরাপদ তো?

সম্প্রতি সংবাদ মাধ্যমে দেখলাম ফেইসবুক ব্যবহারকারী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪২ জন শিক্ষক-শিক্ষার্থীর তথ্য ফাঁস হয়েছে। এই সংবাদ দেখে একজন ফেইসবুক ব্যবহারকারী হিসেবে

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিবনগর সরকার

image

মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর একটি সাংবিধানিক সরকার প্রতিষ্ঠার বিষয়টি সামনে আসে। এই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে তৎকালীন কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা গ্রামের এক নিভৃত আমবাগানে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল ঘটে এক ঐতিহাসিক ঘটনা। এর মাঝে যুদ্ধ দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে দেশের আনাচে কানাচে।

স্বাধীনতার ক্ষতচিহ্ন

image

১৯৭১-এর জানুয়ারিতে আমি হলিক্রস স্কুলে দশম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হই। আমরা তখন বাস

sangbad ad

বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ

image

বাঙালি জীবনের একটি চিরকালীন আর্কেটাইপ আছে। আর তা হলে অসাম্প্রদায়িকতা। হাজার

বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল : বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রূপরেখা

image

এবারে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল দিবস পালিত হচ্ছে মুজিববর্ষের মহাক্ষণে। এ মহান নেতার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের প্রধান পাথেয় ছিল তার

আমার বন্ধু শামিম কবির

image

সেই সোমবারে সকাল ১০টার পরও ঘুমাচ্ছিলাম। বহু বছর আগে অবসর নেয়ার পর থেকেই বেলা পর্যন্ত ঘুমানোর অভ্যাস আমার। টেলিফোনটার

সংস্কৃতির মূলধারা সঙ্কুচিত হচ্ছে

দেশে সংস্কৃতিচর্চার সুযোগ দিন দিন কমছে। সরকারি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে পেশাদারি, জবাবদিহি ও আন্তরিকতার অভাব। সংস্কৃতি

সাত দশকে আওয়ামী লীগের অর্জন ও ব্যর্থতা

২৩ জুন ২০১৯ আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। আওয়ামী লীগ এ উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন দল। রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী

বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও শেখ হাসিনা

১১ জুন বাঙালি জাতির জীবনে একটি রেড লেটার ডে। আজ থেকে ১১ বছর আগে ২০০৮ সালের এই দিনে (১১ জুন) সেনাসমর্থিত

sangbad ad