• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০১৯

 

‘জয় বাংলা’ মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান বীর বাঙালির স্লোগান

অধ্যাপক জহুরুল আলম

নিউজ আপলোড : ঢাকা , শনিবার, ০২ মার্চ ২০১৯

কোন আদর্শে শুধু বিশ্বাস রাখা নয় একে ধারণ করে আরও সামনে এগিয়ে যাওয়াই হচ্ছে সে আদর্শের প্রতি বিশ্বস্ত থাকার পরিচায়ক। এ ধরনের অটল বিশ্বস্ততার উদাহরণ পৃথিবীতে বিরল নয়। তবে তার চেয়ে অনেকগুন বেশি সে ধরনের মানুষ যারা শেষাবধি ব্যক্তি বা গোষ্ঠীস্বার্থে সেই আদর্শকে জলাঞ্জলি দিয়ে উল্টো পথের যাত্রী হয়েছে। এর অতি সরল কারণ হচ্ছে এ যে এদের অধিকাংশই পারিপার্শ্বিকতার প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে অথবা আখেরে কোন কাক্সিক্ষত সুযোগ লাভের সন্ধানে সে সব আদর্শের প্রতি বিশ্বস্ততা প্রদর্শন করেছিল। তাই সময়মতো তাদের সে আদর্শ হতে সরে আসতে কোন অসুবিধা হয়নি।

এর বাইরে আরেকটি শ্রেণী আছে, যে শ্রেণী আদৌ সেই আদর্শে বিশ্বাস কখনোই রাখেনি। এরা এ আদর্শিক সংগ্রামের অংশ হয় সেই আদর্শের শত্রু হিসেবে শত্রুর গুপ্তচর হিসেবে। এদের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে সময় ও সুযোগানুযায়ী সেই আদর্শ বা আদর্শের সাফল্যগুলোকে নস্যাৎ করে শত্রুর উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা। এই শ্রেণীর গুপ্তচরের দল শত্রুর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে ঢুকে পড়ে বা এর কাছাকাছি স্বীয় অবস্থান সৃষ্টি করে নেয়। তারপর এরা নিজেদের ভাবাদর্শের আরও অনেক মানুষদের জন্য ভালো অবস্থানের সৃষ্টি করে ক্ষমতার রন্ধ্রে রন্ধ্রে এবং ঘুণে পোকার মতো রাষ্ট্র বা সমাজের অভ্যন্তরে সৃষ্টি করে অসংখ্য বিধ্বংশী ফাটল। ফলত: অন্তিমে মহান আদর্শভিত্তিক সব সাফল্য হয় নস্যাৎ হয়ে যায়, নতুবা হুমকির ভেতর পড়ে যায়। এরাই হচ্ছে সেই অতি পরিচিত গুপ্তচরের দল। গুপ্তচরবৃত্তি বা বংঢ়রড়হধমব যুদ্ধের একা অতি প্রাচীন ও অতি প্রচলিত কৌশল। এ কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে গুপ্তচরদের শত্রুপক্ষের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়ে থাকে যাতে করে এরা উপযুক্ত সময়ে শত্রুপক্ষকে আদর্শগতভাবে পরাস্ত করে নিজেদের আয়ত্তে নিয়ে আসতে পারে বা সেখানে নিজেদের প্রভুত্ত্ব পুনপ্রতিষ্ঠিত করতে পারে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই বা তারও অনেক আগে থেকেই পাকিস্তানি বংঢ়রড়হধমব বা গুপ্তচরচক্র বাঙালির সব সংগ্রামের ও মুক্তিযুদ্ধের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে ছিল এবং ঘটনা পরম্পরায় এরা সেখানে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়, যার নেতিবাচক প্রভাবগুলো মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় থেকে শুরু করে পরবর্তী আড়াই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিদ্যমান থেকে দেশকে পাকিস্তানি ধারায় ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। আমরা আমাদের জাতির অধিকার আদায়ের আন্দোলন, সংগ্রাম, যুদ্ধসহ প্রায় সব গর্বের অর্জনগুলো সম্পর্কে পড়েছিলাম অজ্ঞতার অমানিশায়, আর আমাদের চোখের সামনে আমরা বেড়ে উঠতে দেখেছি একটি অজ্ঞ প্রজন্ম, যে প্রজন্ম এখন মধ্য বয়সের দ্বারপ্রান্ত থেকে প্রায় শেষ পর্যায়ে উপনীত। এরা না জানে দেশের প্রকৃত ইতিহাস, না জানে জয় বাংলার বিজয়গাঁথা। এরা জানে ‘ড্রামতত্ত্ব’ ও হঠাৎ করে যুদ্ধ শুরুর হওয়ার কল্প কাহিনী।

অথচ জয় বাংলা শুধু একটি সেøাগান নয়, এটি একটি আদর্শের নাম। সেøাগান সাময়িক। পরিস্থিতি অনুযায়ী ও মানুষের চাহিদা অনুযায়ী তা প্রস্তুত হয়। কিন্তু আদর্শ চিরঞ্জীব। জয় বাংলা শব্দটি যখন নজরুল ব্যবহার করেন তিনিও ভাবেননি, একদিন এ শব্দটি এক মহামানবের মাধ্যমে এক মহান জাতিকে কেমন করে নতুন জীবনের পথ দেখাবে, কেমনে করে এটি একটি জাতির মুক্তির মন্ত্রে রূপান্তরিত হবে, কেমন করে, কত গভীরভাবে এ শব্দ মৃত্যুকে জয় করার মন্ত্রে পরিণত হবে।

জয় বাংলা বাঙালির সেøাগান, একটি জাতির সেøাগান। যারা বিভেদ, মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করে, যারা বাংলাকে ঘৃণা করে বিজাতীয় রাজনীতি, ভাষা ও কৃষ্টিকে বাংলার মানুষের ওপর চাপিয়ে দিতে চায়, যারা মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্রকেই অস্বীকার করে তাদের গাত্রদাহ হয় এই সেøাগান শুনলে, ঠিক যেমনটি হতো পাকিস্তানিদের। মুক্তিযুদ্ধের সময় যে সব মুক্তিযোদ্ধাকে বন্দি করা হতো তাদের ওপর আমৃত্যু পাশবিক অত্যাচার চালানো হতো শুধু জিন্দাবাদ বলানোর প্রচেষ্টায়। কিন্তু হাজারো মুক্তিযোদ্ধা জয়বাংলা সেøাগানে আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছে, ঘৃণা ভরে বিজাতীয় সেøাগানকে প্রত্যাখ্যান করে, সে কি শুধু একটি সেøাগানকে উচ্চারণ করার জন্য না আরও বেশি কিছু, যার জন্য তারা জীবন দিতে প্রস্তুত ছিল। ‘জয় বাংলা’ ছিল এমনই এক উজ্জীবনী নিনাদ যা শত্রুর বন্দুকের নলকেও অবজ্ঞা করেছে হেলাভরে।

জয় বাংলার মাহাত্ম্য এখানেই যে এটি বাংলার রাজনীতিতে আসন গেড়েছে এমন একটি সময়ে যখন জাতি স্বাধীনতার দ্বারপ্রান্তে। সব পথ পরিক্রমা শেষে আসন্ন যুদ্ধের সেøাগান হিসেবে, বাঙালির অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এই সেøাগান। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের পর মুক্ত হন বাংলার স্বাধীনতা সনদ ৬ দফা নিয়ে সামনে এগিয়ে চলা শেখ মুজিব। ১৯৬৯ সালের ২৪ জানুয়ারি গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০ ফেব্রুয়ারি ছাত্র-জনতা পাকিস্তানিদের বাধ্য করে বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে। এ উপলক্ষে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ২৩ ফেব্রুয়ারি রেসকোর্সে আয়োজন করে ছাত্র-জনতার বিশাল গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠান, যেখানে বাংলার জনতা তাদের মহান নেতাকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করে। এ গণসংবর্ধনার আয়োজক ছিল ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। যাদের নেতৃত্বে সংগঠিত হয়েছিল ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান।

সেই বিশাল সমাবেশে বাংলার ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে ডাকসুর সহসভাপতি ও ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম নেতা তোফায়েল আহমেদ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্ত শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন। এ ঐতিহাসিক মুহূর্তে উপস্থিত লাখো জনতার কণ্ঠে বারবার ধ্বনিত হতে থাকে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। বাংলার আকাশে বাতাসে যেন ছড়িয়ে দিল সেদিনের এই আয়োজন এ বার্তা যে জনগণের নেতা আবির্ভূত তার সব শক্তি, বুদ্ধি, সাহস ও প্রজ্ঞা নিয়ে জনগণকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে চিরতরে মুক্তি দেয়ার জন্য। তাই জয় বাংলা-মুজিব-মুক্তিযুদ্ধ আর স্বাধীনতা সে মুহূর্ত থেকে হয়ে গেল সমার্থক, একে অপরের পরিপূরক। পরবর্তী ইতিহাস যুদ্ধের ইতিহাস। কিন্তু বীর বাঙালি তখন থেকেই নিজের করে নিয়েছে আসন্ন যুদ্ধের মন্ত্র: ‘জয় বাংলা’, যুদ্ধের নেতা: বঙ্গবন্ধু, যুদ্ধের ফসল: স্বাধীনতা ভিন্ন আর কিছু নয়।

জয় বাংলা এসেছে বাংলার মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় বিজাতীয় জিন্দাবাদকে প্রত্যাখ্যান করে। ঠিক তেমনিভাবে যেমন করে বাংলার স্বাধীনতা এসেছে অবৈজ্ঞানিক-উদ্ভট সাম্প্রদায়িক দ্বিজাতিতত্ত্বকে প্রত্যাখ্যান করে, পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের অঙ্গীভূত থেকে সব অবিচার, অত্যাচার, শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্তি লাভের প্রবল বাসনা থেকে। তাই জয় বাংলা যখন আমাদের সব বাঙালির-এ দেশের সব মানুষের প্রাণের কথা বলে, গর্বের ও সাফল্যের গান গায়, জিন্দাবাদ ধ্বনি তখন টেনে নিয়ে আসে পুতি গন্ধময় পাকিস্তানি প্রেতাত্মাদের উল্লাস, বাঙালির অপমান অর হতাশার গ্লানি, আর শোষণ ও বঞ্চনার অতীতকে। আর তাই এ দেশে জয় বাংলা ও জিন্দাবাদ একসঙ্গে চলতে পারে না।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের পর জিয়াউর রহমান-মোশতাক গং এই বাংলায় পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টয় ব্যাপৃত হয় ধিকৃত ও প্রত্যাখ্যাত জিন্দাবাদের রাজনীতি। এদের এ ষড়যন্ত্রে এরা সঙ্গে পায় অন্ধকার গহ্বর থেকে একে একে বেরিয়ে আসা স্বাধীনতাবিরোধী, গণহত্যাকারী রাজাকার, আলবদর-আলশামস, জামায়াত ও উগ্র বামপন্থি শক্তিগুলোকে। এই তথাকথিত উগ্র বামেরা তখনও স্বাধীন বাংলাদেশের পরিবর্তে নিজেদের পূর্ব পাকিস্তানের তথা পাকিস্তানের দল হিসেবে প্রচার করত। এরা রাজাকারদের ও গণহত্যাকারীদের সঙ্গে মিলে মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস শুধু নয়, তার আগে ও পরে প্রকাশ্যে ও গোপনে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে গেছে অবিরত। এর সঙ্গে যুক্ত হয় বিভ্রান্ত বাম শক্তি, যারা মার্কসবাদের প্রাথমিক ধারণাগুলো সম্পর্কেও ছিল অনগত। এদের কাঁধে সওয়ার হয়ে পাকিস্তানি দালালের দল নির্বাসিত করে বাঙালির রণনিনাদ: ‘জয় বাংলা’, রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করে বিজাতীয় ‘জিন্দাবাদ’। দেশের সংবিধানকে ছিন্নভিন্ন করে একে একটি পাকিস্তানি দলিলে পরিবর্তিত করা হয়, এমন কি দেশের জাতীয় সংগীত পরিবর্তন করার উদ্যোগ নেয়া হয়। দেশকে পাকিস্তানি আদলে বাংলাস্তান নাম দেয়ার পাঁয়তারা শুরু করে জিয়া- মোশতাক গং।

চতুর জিয়া-মোশতাক ও পাকিস্তানি ভাবধারাপুষ্ট এদেশীয় দালাল শ্রেণী, জামায়াত, গণহত্যাকারী চক্র ও বিদেশি চক্রান্তকারীরা অচিরেই হৃদয়ঙ্গম করতে সক্ষম হয় যে বাংলার লাখো মানুষের রক্ত ও অশ্রুর সাগরে দাঁড়িয়ে থাকা স্বাধীনতার স্তম্ভগুলোকে প্রকাশ্যে ধ্বংশ করার যে কোন পদক্ষেপ প্রকারান্তরে তাদেরই চিরতরে ধ্বংশের পথে নিয়ে যাবে, কারণ স্বাধীন বাংলার মানুষ তা কখনোই মেনে নেবে না। তাই অতি চতুরতার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হতে থাকে। বঙ্গবন্ধুর নাম চিরতরে মুছে ফেলার জন্য ইতিহাসের চরমতম বিকৃতিগুলো ঘটানো হতে থাকে। বাংলাদেশ বেতারকে পাকিস্তানি কায়দায় রেডিও বাংলাদেশ নাম দিয়ে সেখান থেকে বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুবিরোধী প্রচারণা চালানো হতে থাকে। ২১ ফেব্রুয়ারিতে ঘটা করে পাকিস্তানি কাওয়ালি প্রচারিত হতে থাকে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মানসিকতাকে পাকিস্তানি ভাবধারায় গঠিত করার প্রয়াসে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে স্কুলের পাঠ্যপুস্তকগুলোতে চরমভাবে বিকৃত করা হয়। তাই দেখা যায় অদ্যাবধি জিয়া-এরশাদ-খালেদা আমলের প্রজন্ম এখনও চরমভাবে বিকৃত ইতিহাস প্রভাবিত ও এদের মধ্যে অধিকাংশই বিভ্রান্ত মতবাদে বিশ্বাসী। এদের অধিকাংশই মুক্তিযুদ্ধবিরোধী প্রজন্ম হিসেবে গড়ে উঠেছে ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির অন্যতম ভোটব্যাংক হিসাবে এখনও বিদ্যমান। আজ এদের অনেকেই রাষ্ট্রের নীতি-নীর্ধারণী পর্যায়ে আছে, যা দেশের অগ্রগতি ও অব্যাহত শান্তির জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনকও বটে। তাই দেখা যায় যে সরকারের অনেক গলমুখী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয় না আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে। অনেক চিহ্নিত ইতিহাস বিকৃতকারীকে কোন ধরনের শাস্তি দেয়া যাচ্ছে না। কারণ, এদের সমর্থনে এগিয়ে আসছে এদেরই সহযোগী ‘সাথী’রা। মূলত এ সব স্বাধীনতাবিরোধী চক্র সুকৌশলে বর্তমান সরকারকে হেয়প্রতিপন্ন করে যাচ্ছে অনবরত তাদের প্রভাব প্রতিপত্তি ব্যবহার করে। এদের মুখেই সবচেয়ে বেশি শোনা যায় জয় বাংলা, আর অন্তরে এরা নিয়ে বসে আছে জিন্দাবাদ। এরা এখনও অপেক্ষা করছে সুবিধাজনক সুযোগের। তাই এই সরকার ২০০৮ সালের বিপুল বিজয়ের পর ক্ষমতা হাতে নেয়ার দুই মাসের মধ্যেই ঘটানো হয় পিলখানার নারকীয় হত্যাযজ্ঞ। এটা ছিল দেশে অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রবর্তনের ষড়যন্ত্রের অংশ। দেশের দুটি সসস্ত্র বাহিনীকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উচ্ছেদ করার পরিকল্পিত প্রচেষ্টা। এর পরের বছরগুলোতে ধারাবাহিকভাবে নানা রূপে, নানা ছদ্মবেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের এ সরকারকে হটানোর বহুবিধ পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। কিন্তু দেশের জনগণই ঢাল হয়ে রক্ষা করে যায় শেখ হাসিনার সরকারকে। বঙ্গবন্ধুকন্যা পিতার মতোই প্রগাঢ় শক্তি, বুদ্ধিমত্তা, ধৈর্য ও সাহসিকতার সঙ্গে দর্শকব্যাপী প্রবল সংগ্রামের মাধ্যমে জয় বাংলার এ সূতিকাগারকে আজ পৌঁছে দিয়েছে এক অনন্য উচ্চতায় আর সেই সঙ্গে নিজেও অবস্থান করছেন এমন একপর্যায়ে যেখানে অদ্যাবধি বঙ্গবন্ধু ব্যতিত আর কেউই যাওয়ার কথা চিন্তাও করেনি।

স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রতিটি দেশপ্রেমিক নাগরিকের দায়িত্ব জয় বাংলা সেøাগানকে ধারণ করে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এটাই হবে লাখো শহীদদের প্রতি প্রকৃত ভালোবাসা ও সম্মান জানানোর এবং মুক্তিযুদ্ধের নামাবলী পড়ে থাকা রাজাকারদের মোনাফেকির সবচাইতে বড় শাস্তি। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে মাননীয় হাইকোর্ট কর্তৃক রুল জারী করা হয়েছে এই মর্মে যে কেন জয় বাংলাকে বাংলাদেশের জাতীয় সেøাগান হিসেবে ঘোষণা করা হবে না। আমাদের মতো প্রতিটি বাঙালির মনের অভিব্যক্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে সর্বোচ্চ আদালতের এ রুলিংয়ের মাধ্যমে। যে স্লোগান দিয়ে লাখো মুক্তিযোদ্ধা মৃত্যু ভয়কে তুচ্ছ করে দেশমাতৃকাকে শত্রুমুক্ত করার জন্য পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাস্ত করেছে, যে বাণী বক্ষে ধারণ করে বিপুল রণনিনাদে আকাশ বাতাস কাঁপিয়েছে সারা বাংলার মুক্তিকামী জনতা, যে বজ্রনিনাদ ধ্বনিত হয়েছে বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতার কণ্ঠে তার প্রতিটি ভাষণে, দেশে ও বিদেশে, এমন কি জাতিসংঘে, যে কথামালা বক্ষে ধারণ করে বাংলার রাজপথ, মাঠ, ঘাট প্রান্তরে প্রাণ দিয়েছে লাখো মানুষ, যে কথাগুচ্ছ আজও বুকে নিয়ে মাটির নিচে শুয়ে আছেন লাখো শহীদ, সেই বাণী আজ এ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির জয় জয়কারের দিনে আর পারে না থাকতে অবহেলিত এ দেশে। জয় বাংলা অচিরেই বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় স্লোগানের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হোক, স্বাধীনতার মাসে এটাই দেশবাসীর আকাক্সক্ষা।

[লেখক : সভাপতি, গভর্নেন্স অ্যান্ড রাইটসসেন্টার (জিআরসি)

zalam111@yahoo.com

দৈনিক সংবাদ : ২ মার্চ ২০১৯, শনিবার, ৭ এর পাতায় প্রকাশিত

উন্নয়নে অংশীদারিত্ব বাড়াতে নারীর গৃহস্থালি কাজের মূল্যায়ন জরুরি

ভর্তিযুদ্ধে উত্তীর্ণ হয়ে জারিন তাসনিম সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। আনন্দের খবরটা নিকটাত্মীয় এক বড় ভাইয়ের বউকে

ক্রাইস্টচার্চ, মসজিদ এবং শান্তির বার্তা

image

কার্ডিনাল এবং ঢাকার আর্চবিশপ প্যাট্রিক ডি. রোজারিও সিএসসি নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরের মসজিদে হামলায় নিহত ও আহতদের সমবেদনা

নন্দিত নেতা জিল্লুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি

image

২০ মার্চ ছিল প্রয়াত রাষ্ট্রপতি, আওয়ামী লীগের প্রথম সারির নেতা সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য রাজনীতিবিদ জিল্লুর রহমানের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৩ সালের এ দিনে

sangbad ad

শিশুকেন্দ্রিক শিক্ষায় সুফল

অনেক শিক্ষাবিদ ও মনস্তত্ত্ববিদ মনে করেন, শিশুদের শেখার ধরনের পার্থক্যের ওপর ভিত্তি

‘শ্বেত শ্রেষ্ঠত্ববাদী সন্ত্রাসী’

পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ভালোবাসা সেটাই, যে অপরকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেই প্রাণ উৎসর্গ করেন। তেমনিই একজন হুসনে আরা! নিউজিল্যান্ডের

ফিরে আসুক পাটের সোনালি অতীত

একসময় পাট ছিল আমাদের একমাত্র রফতানি পণ্য। কিন্তু বিদেশি চক্রান্ত ও সুদক্ষ পরিচালনা

স্মৃতির পাতায় জাতির জনক

image

এবারের ১৭ মার্চ মহান নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মদিন। জাতি প্রতি বছর এ দিনটি যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালন করে। ২০২০ সালে পালিত হবে জাতির জনকের শততম জন্মবার্ষিকী। প্রতি বছর এ দিনটি যখন

হতাশ উপকূল অঞ্চলের চাষিরা

image

লবণ উৎপাদনের ভরা মৌসুমে লবণ বিক্রি করে উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না উপকূলীয় অঞ্চলের অসহায় লবণ চাষিরা। লবণের ন্যায্যমূল্য

পাকিস্তানকে ‘শিক্ষা’ দেয়ার এখনই সময়

উগ্র ইসলামি জঙ্গি গ্রুপ গঠন করে তাদের অর্থ-অস্ত্র দিয়ে ভারতে প্রবেশ করিয়ে কাশ্মীরে

sangbad ad