• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

 

২৫ লক্ষ খাদ্য প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনবিহীন রেখে নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও টেকসই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব কি?

নিউজ আপলোড : ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৭

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের “জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ খাদ্য” শ্লোগান সকলের মনকাড়ে। শ্লোগানের মর্মার্থ বুঝা জনগণ আশ্বস্থ হয়, স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলে এবার কিছু হচ্ছে বলে। যারা মর্মার্থ বুঝেনা - ঐ মাত্রার স্বাস্থ্য-সচেতনতা, স্বাস্থ্য-শিক্ষা জ্ঞানের যাদের অভাব, তাঁরাও জানতে চায়, জানার জন্য আগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন করে নিরাপদ খাদ্য মানে কী? ইহার ব্যবস্থাপনাটা কেমন? শ্লোগান এমন এক ধরণের শব্দগুচ্ছ যা মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে, কৌতুহলী করে এবং উদ্দিষ্ট কাজে জনগোষ্ঠীকে সক্রিয় অংশগ্রহণ করাতে ভূমিকা রাখে। সুতরাং কর্তৃপক্ষের মৌলবার্তা হিসেবে এই শব্দ চয়ন স্বার্থক। কিন্তু নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনার কাজ ও নিরাপদ খাদ্যপ্রাপ্তির অধিকার নিয়ে দেশের জনগণের তেতো অভিজ্ঞতা রয়েছে!

জনগণের জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে মহাখালীর INSTITUTE OF PUBLIC HEALTH নামের জনগুরুত্বপূর্ণ সরকারী প্রতিষ্ঠানটির জন্ম হয়েছিল জনগোষ্ঠীর জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার উদ্দেশ্যে নিয়ে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু সরকারের সময়ে প্রতিষ্ঠানটি যুগোপযোগি ও আধুনিকায়ন করা হয়। ১৯৭৫ সালের শোকাবহ ট্র্যাজেডির পর চিকিৎসা সেবা বাণিজ্য ও ইহার সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার হীন মানসিকতায় প্রতিষ্ঠানটিকে মৌলিক লক্ষ্য-উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যূত করা হয়। খাদ্য-স্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্য-পরিবেশ উন্নয়নের কার্যকর জনবল “পাবলিক এনালিস্ট” ও “স্যানিটারী ইন্সপেক্টর” এর পদসংখ্যা জন অনুপাতে বাড়ানো হয়নি। জনগোষ্ঠীর স্যানিটেশন ব্যবস্থার মানন্নোয়ন ও ভোক্তার স্বাস্থ্যকর নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তির নিশ্চয়তা বিধানে কার্যকর ভূমিকা পালনকারী স্যানিটারী ইন্সপেক্টরের কাজ প্রয়োজনীয় মাত্রায় তদারকী হয়নি, আধুনিকায়নও হয়নি। গুরুত্বহীনভাবে উপস্থাপন করা হয় এই এক ঝাঁক দক্ষ স্বাস্থ্য-জনবলকে। ভেজাল ও জনস্বাস্থ্যের জন্যে ক্ষতিকর খাদ্যদ্রব্যে বাজার সয়লাব হলেও প্রতিষ্ঠানটি দায়বদ্ধ হয়নি। ডিজিএইচএস এর নিয়ন্ত্রণাধীন এই সংস্থাটিকে ধীরে ধীরে কৃত্রিমভাবে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানে পরিনত করা হয়। ফলশ্রুতিতে, পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণসহ প্রায় একই উদ্দেশ্য সাধনের নিমিত্তে ১৯৮৫ সালে সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে সৃষ্টি করা হয় বিএসটিআই, খাদ্যেভেজাল নিয়ন্ত্রণের জন্যে গঠিত হয় ১৯৯৩ সালে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ভোক্তা, বিএসটিআই ও ডিজিএইচএস এর জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান - রাস্ট্র নিয়ন্ত্রিত এই তিন সংস্থা জনগণের অধিকার সংরক্ষণে প্রত্যাশা অনুযায়ী সফল হতে পারেনি।

খাদ্যভেজালের দরুন হুমকির মুখে পড়া জনস্বাস্থ্য ও মানব স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিজ্ঞান সম্মত গাইড-লাইন্স রয়েছে। দুনিয়ার প্রায় সকল দেশের জনস্বাস্থ্যের নীতি-নির্ধারক, কর্মী এফএও/ডব্লিউএইচও’র যৌথ প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। দেশের নীতি নির্ধারকদের কাছে উক্ত নির্দেশনাটি উপেক্ষিত, জাতীয় স্বাস্থ্য নীতিও উপেক্ষিত! সার্বিক স্বাস্থ্য-ব্যবস্থাপনার অন্তরালে রয়েছে চিকিৎসা সেবা বাণিজ্যের রমরমা বাজার ও তার মুনাফা! এটা সর্ষের মধ্যে ভূত ঢোকার মত অবস্থা! তাই এখানে, রোগের সরকারী-বেসরকারী চিকিৎসা সেবায় সরকারকে যে পরিমাণে মনোযোগী করা হয়; রোগ-প্রতিরোধের স্বাস্থ্য সেবায় তারচেয়ে অধিক পরিমাণে অমনোযোগী রাখা হয়! রোগের প্রতিরোধ তথা খাদ্যভেজাল নিয়ন্ত্রণ কর্মে আইপিএইচ এর মত রাস্ট্রীয় সংস্থার চরম উদাসীনতায় খাদ্যমাধ্যমে সৃষ্ট-রোগের চিকিৎসা করাতে যেয়ে কত লক্ষ পরিবার সর্বশ্রান্ত হয়েছেন - এর হিসাব কি সরকারের হাতে আছে? এই জাতির বড় দূর্ভাগ্য হলো, সরকারী কোন সংস্থার ব্যর্থতার কার্যকারণ সূত্র বিচার-বিশ্লেষণ করার সময়টুকুও সরকারের দায়িত্ববানদের হাতে নেই!

জনগণের খাদ্য-স্বাস্থ্য উন্নয়ন, নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা কার্যকর পদ্ধতিতে পরিচালনা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের নিমিত্তে ২০১৪ সালে গঠিত হয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। নিরাপদ খাদ্য আইন- ২০১৩ অনুসরণ করে পরিচালিত হচ্ছে নবগঠিত স্বতন্ত্র এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। প্রতিষ্ঠানটি ইতিপূর্বে তাদের কার্যক্রম জোরদার করার নিমিত্তে ডিজিএইচএস-সহ বিভিন্ন সংস্থার সাথে মতবিনিময় করেছেন। আইপিএইচ এ প্রতিষ্ঠিত ফুড ল্যাবরেটরির একটি অংশকে “জাতীয় নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষার” ঘোষনা দিয়েছেন। ডিজিএইচএস এর নিয়ন্ত্রণাধীন মাঠ-পর্যায়ে খাদ্যভেজাল পরিদর্শন কাজে নিয়োজিত জনবলের (স্যানিটারী ইন্সপেক্টর) এক-চতুর্থাংশকে (১৪৩ জন) “নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক” পদে কাজের দায়িত্ব দিয়েছেন। আংশিক দায়িত্ব প্রদানের কাজটি আইনের সাথে সাংঘর্ষিক এবং শুভ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির অন্তরায়, যা বর্তমান সময়ে এসে কর্তৃপক্ষ অনুধাবন করতে সক্ষম হয়েছেন। কাজের ডুপলিক্যাসি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠছে। বিএফএসএ-কে খাদ্যভেজাল নিয়ন্ত্রণের মত জনগুরুত্বপূর্ণ কাজের মৌলিক জনবল (নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক) বাড়ানোর বিপরীতে কমানোর ভুল-পরামর্শ যারা দিয়েছেন; তাঁরা প্রশাসন পরিচালনায় জনকল্যাণ ও মানবিক আচরণের নীতিতে বিশ^াসী নয়! দেশের (প্রায়) ২৫ লাখ ছোট-বড় খাদ্য উৎপাদন ও বিতরণের স্থাপনাকে নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনার পরিদর্শন, নিবন্ধন ও তদারকির আওতাধীন করতে ৫ হাজার নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শকের প্রয়োজন। কর্তৃপক্ষের তদরূপ কাজের পূর্বাভিজ্ঞতার অভাব-হেতু খাদ্যভেজাল পরিদর্শন কাজের উপযুক্ত দক্ষ ২২’শ জনবলকে একসাথে কাজে লাগাতে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। পরিদর্শন কাজের জনবল কমে যাওয়াতে বিগত ২ বছরে খাদ্য মাধ্যমে সৃষ্ট-রোগ ও রোগীর পরিমাণ বাড়ছে। ইহাতে লাভ হচ্ছে চিকিৎসা ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের! ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে নিরীহ জনগণ!

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের বর্তমান অবস্থান দোদূল্যমান। সাংগঠনিক অর্গানোগ্রাম তৈরী, বিশেষত: কর্তৃপক্ষের অধীনে বিভিন্ন ধরণের জনবল সৃষ্টি ও তাদের কাজে লাগানোর পরিকল্পার ক্ষেত্রে ‘ঘোড়া আগে না গাড়ী আগে’র মত বিভ্রান্তিকর অবস্থা! অন্যদিকে দায়িত্ব প্রদানকৃত নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শকেরা সরাসরি রিপোর্ট-রিটার্ন না করায় খাদ্যভেজালের তথ্য-উপাত্ত ও পরিসংখ্যান বিষয়ে কর্তৃপক্ষ রয়েছে অন্ধকারে। নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শকদেও উপর কখনো বিএফএসএ, কখনো ডিজিএইচএস/আইপিএইচ এর ফরমান জারীতে অহেতুক দ্বৈত শাসনের আমলাতান্ত্রিক জঠিলতার সৃষ্টি হয়েছে। রাস্ট্রের বেতনভূক জনবলের একটি অংশ (১৪৩ জন স্যানিটারী ইন্সপেক্টর) কাজ করার অনুমতি পেয়েও উর্ধ¦তন কর্তৃপক্ষের দ্বৈত নির্দেশনাজনিত জঠিলতায় পড়েছেন, অন্য অংশ (৪১৮ জন স্যানিটারী ইন্সপেক্টর) আইন সম্মতভাবে কাজ করার অনুমতি না-থাকায় হাত গুঠিয়ে বসে আসেন এবং কাজের উপযোগী সনদ প্রাপ্ত বড় একটি সংখ্যা (প্রায় ১৬০০ স্যানিটারী ইন্সপেক্টরশীপ সনদ প্রাপ্ত) কাজে লাগবেন কি না এই আশংকার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন! স্যানিটারী ইন্সপেক্টরশীপ নামের দক্ষ সরকারী জনবল নিয়ে চরম অব্যবস্থাপনার নজির সৃষ্টি হয়েছে! এই ত্রিশংকু অবস্থা থেকে পরিত্রানের উপায় কী?

যে কোন প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনের মৌলিক কর্মী বাহিনী থাকে। এটাই সাংগঠনিক নিয়ম ও কাজের পদ্ধতি। বাংলআদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের খাদ্যভেজাল নিয়ন্ত্রন কাজের মৌলিক জনবল “নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক” এর সম্ভাব্য পদের সংখ্যা নির্দিষ্টায়িত না-করে, অন্যান্য পদ সৃজনে অধিক মনোযোগী রয়েছেন। অন্যদিকে, ডিজিএইচএস কর্তৃক সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য তৈরীকৃত দক্ষ জনবলের সংখ্যা গোপন রাখা হয়েছে। উভয় কর্তৃপক্ষের অনাকাংখিত এই প্রবনতা নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা তরাম্বিত করণের অন্তরায়, জনগোষ্ঠীর খাদ্য-স্বাস্থ্য উন্নয়নেরও অন্তরায়! সংকট উত্তরণে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ স্বাধীনতা সেনিটারিয়ান পরিষদের নেতাদের মতবিনিময়ের প্রয়োজন রয়েছে। খাদ্যভেজাল নিয়ন্ত্রণ করে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন করতে হলে সর্বাগ্রে প্রয়োজন দেশের ২৫ লক্ষ খাদ্য স্থাপনা পরিদর্শনের আওতাধীন করা। ভেজাল খাদ্যের ক্ষতিকর দিকগুলো জনগনকে অবহিত করা। এই কাজে ৫ হাজার নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শকের বিকল্প কি?

লেখক: স্বাস্থ্য প্রযুক্তিবিদ এম. খছরু চৌধুরী, প্রধান উপদেষ্টা, স্বাধীনতা সেনিটারিয়ান পরিষদ (স্বাসেপ) কেন্দ্রীয় কমিটি।

পরীক্ষামূলক সম্প্রচার

বাংলাদেশে ফার্মেসি শিক্ষা: বর্তমান অবস্থা এবং করণীয়

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেসর ড. আবদুল জব্বারের হাত ধরে ঢাকা

sangbad ad
sangbad ad