• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯

 

বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও শেখ হাসিনা

মোহাম্মদ শাহজাহান

নিউজ আপলোড : ঢাকা , মঙ্গলবার, ১১ জুন ২০১৯

১১ জুন বাঙালি জাতির জীবনে একটি রেড লেটার ডে। আজ থেকে ১১ বছর আগে ২০০৮ সালের এই দিনে (১১ জুন) সেনাসমর্থিত অবৈধ ফখরুদ্দীন সরকার শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছিল। একজন বিখ্যাত ব্যক্তি বলেছেন, History repeats itself অর্থাৎ ‘ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হয়।’ বাংলাদেশে আবারও ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হলো। পাকিস্তানের কথিত লৌহমানব প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান পথের কাঁটা শেখ মুজিবকে ফাঁসি দিয়ে আজীবন প্রেসিডেন্ট থাকতে চেয়েছিলেন। সেই লক্ষ্যে আইয়ুব খান বাঙালির প্রিয় নেতা শেখ মুজিবকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় ফাঁসি দেয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন। মুজিবের মুক্তির দাবিতে প্রবল গণআন্দোলন শুরু হলে আইয়ুব খান শেখ মুজিবকে প্যারোলে জেল থেকে মুক্তি দিয়ে গোলটেবিল বৈঠকে নিয়ে বিপদ থেকে উদ্ধার পেতে চেয়েছিল। প্যারোল প্রত্যাখ্যান করেন মুজিব। অবশেষে সদলবলে শেখ মুজিবকে ১৯৬৯-এর ২২ ফেব্রুয়ারি মুক্তি দিয়ে ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বাড়িতে পৌঁছে দেয়। চার দশক পর ২০০৮ সালের ১১ জুন মুজিবকন্যাকে মুক্তি দিয়ে সেই বাড়িতে সেই দুপুরবেলা পৌঁছে দেয় ক্ষমতাসীন ফখরুদ্দীন সরকার। এভাবে মাত্র চার দশকের ব্যবধানে পিতা-কন্যার জীবনে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হলো। আসলে এই বাংলার ইতিহাস তো পিতা-কন্যারই ইতিহাস। মাত্র ১১ মাস আগে শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করে সেনাসমর্থিত অসাংবিধানিক সরকার শেরে বাংলানগরে একটি ভবনকে সাব-জেল বানিয়ে আটক রাখে। শেখ হাসিনার মুক্তির সঙ্গে সঙ্গে গণতন্ত্রও মুক্তি পেলো। ক্ষমতাসীনরা শেখ হাসিনাকে দেশের বাইরে রেখে ৫/৭ বছর ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিল। মুজিবকন্যা এতে রাজি হননি। তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বদেশে ফিরে আসেন। সে সময় মিথ্যা মামলা দিয়ে অন্যায়ভাবে আদালতে টানা-হ্যাঁচরা করে শেখ হাসিনাকে অপমান করা হয়। দেশের স্বার্থেÑ গণতন্ত্রের স্বার্থে মুজিবকন্যা সব নির্যাতন-অপমান সহ্য করে জেলের জীবনই বেছে নেন। অবশেষে ক্ষমতাসীনরা শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা ছেড়ে পশ্চাদপসরণ করেন। পিতা-কন্যার মধ্যে কি অদ্ভুত মিল। পিতা শেখ মুজিব দু-দু’বার ফাঁসির মঞ্চে গিয়েও স্বৈরশাসকের সঙ্গে আপস করেননি। মুজিবের লক্ষ্য ছিল স্বাধীনতা। জীবন দেবেনÑ কিন্তু আপস করবেন না। এভাবেই তার রাজনৈতিক জীবনে ১২ বছর জেলে থেকে, দু’বার ফাঁসির মঞ্চে গিয়ে মুজিব দেশ স্বাধীন করেছেন। আর সুযোগ্য মুজিবের সুযোগ্য কন্যা দেশের স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে বারবার জেল-জুলুমকেই বেছে নিয়েছেন।

শেখ হাসিনার মুক্তির প্রত্যাশায় সাবজেলের আশপাশে কয়েকদিন ধরেই হাজার হাজার মানুষ ভিড় করছিল। দুপুরে বিশেষ কারাগার থেকে তিনি বের হন। হাজার হাজার উল্লসিত নেতাকর্মী শেখ হাসিনার গাড়ির সঙ্গে বঙ্গবন্ধু ভবনে আসেন। দীর্ঘ ১১ মাস পর প্রিয় নেত্রীকে কাছে পেয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ অগণিত নেতাকর্মীর মধ্যে উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা যায়। উৎসবমুখর জনতায় পরিবেষ্টিত শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু ভবন থেকে যান সুধা সদনে।

১০ মাস ২৫ দিন কারাবন্দী থাকার পর অনেকটা বীরের বেশেই মুক্ত হলেন শেখ হাসিনা। ১ বছর আগে ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই শেখ হাসিনা গ্রেফতার হন। এরপর আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর বিরুদ্ধে ডজন খানেকের মতো মামলা দেয়া হয়। বিচারের জন্য আদালতে আনা-নেয়ার নামে টানা-হেঁচড়া শুরু করে। কানের ও চোখের পুরনো অসুখ বাড়তে থাকল। জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে প্রকাশ্য দিবালোকে গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। হামলায় আইভি রহমানসহ প্রায় ২৪ জন নেতাকর্মী নিহত এবং কয়েকজন আহত ও পঙ্গু হন। অলৌকিকভাবে শেখ হাসিনা বেঁচে গেলেও কানের শ্রবণশক্তি অনেকটা লোপ পায়। যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে তিনি কানের চিকিৎসা করান। কারাবন্দী অবস্থায় কানের ও চোখের সমস্যা ব্যাপক আকার ধারণ করে। চিকিৎসকগণ কারাবন্দী নেত্রীর বিদেশে গিয়ে চিকিৎসার সুপারিশ করেন। কারণ তার কানের চিকিৎসার কোন ব্যবস্থা বাংলাদেশে নেই। শেখ হাসিনা চিকিৎসার জন্য বাইরে যেতে চাইলেও কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কর্ণপাত করেনি। একপর্যায়ে শেখ হাসিনার একটি কান ও একটি চোখ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়। এমন খবরও ওই সময় প্রকাশিত হয় যে, সহসা বিদেশে কানের চিকিৎসা করা না হলে তিনি শ্রবণ প্রতিবন্ধী হয়ে যাবেন।

কান ও চোখের সমস্যা ছাড়াও কারাগারে নিঃসঙ্গ শেখ হাসিনার আরও কয়েকটি শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। বিভিন্ন সময়ে আদালতে মামলার হাজিরাদানকালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। কখনও কখনও আদালত থেকে অসুস্থ নেত্রীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। ঢাকায় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য কয়েকবার ভর্তি করা হলেও চিকিৎসকগণ সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, শেখ হাসিনার কানের কোন চিকিৎসা বাংলাদেশে নেই। ১১ জানুয়ারির পর থেকে বাংলাদেশে রাজনীতি ও রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে বিভিন্নমুখী অপতৎপরতা শুরু হয়। সরকারসহ বিভিন্ন মহল দেশের দুরবস্থার জন্য রাজনীতি ও রাজনীতিকদের দায়ী করতে থাকে। মাইনাস-টু ফর্মুলার নামে দেশের রাজনীতি থেকে দুই শীর্ষ নেত্রীকে নির্বাসনে ঠেলে দেয়ার পাঁয়তারা শুরু হয়। মাইনাস-টু ফর্মুলার কথা বলা হলেও আসলে মূল টার্গেট ছিল শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ।

৭০ বছরের ইতিহাসে বারবার ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে আওয়ামী লীগ এবং এই দলের নেতৃবৃন্দ। অথচ এই দেশ- এই জাতির সবকিছুর অর্জনের মূলে রয়েছে আওয়ামী লীগ। সেই পাকিস্তান আমল থেকে যখনই দলটির ক্ষমতায় যাওয়ার সময় এসেছে, তখনই ষড়যন্ত্র হয়েছে। ’৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে এবং ’৭০-এর পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় যেতে দেয়া হয়নি। ’৮৬ সালের নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগকে স্বৈরশাসক এরশাদ মিডিয়া ক্যু’র মাধ্যমে পরাজিত দেখায়। ২০০১-এর নির্বাচনেও ষড়যন্ত্রের শিকার হয় আওয়ামী লীগ। দেশ স্বাধীন হওয়ার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। জাতির পিতাকে হত্যার তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে জেলখানার নিরাপদ কক্ষে যুদ্ধকালীন সরকারে নেতৃত্বদানকারী অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, মন্ত্রী এম মনসুর আলী ও এএইচএম কামারুজ্জামানকে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় নেতাদের হত্যার ২১ বছর পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। কিছু ভুলত্রুটি সত্ত্বেও বাংলাদেশের স্বাধীনতার চার দশকে শেখ হাসিনার প্রথম টার্মের শাসনকাল অনেকটা স্বর্ণযুগ হিসেবে বিবেচিত। ৫টি বছর নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল। চিরায়ত ঘাটতির বাংলাদেশ খাদ্যে শুধু স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়নি, খাদ্যে উদ্বৃত্তও হয়ে যায়। সমগ্র বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বৃদ্ধি পায়। এতকিছুর পরেও ২০০১ সালে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় যেতে দেয়নি। ২০০১-২০০৬, খালেদা জিয়া-নিজামী-মান্নান ভূঁইয়াদের নেতৃত্বে ৫ বছরের চারদলীয় জোট সরকারের আমলে দেশটাকে রীতিমতো লুট করা হয়। এমন কোন নির্যাতন হয়রানি, কু-কর্ম নেই, যা তারা করেনি।

জোটের ৫ বছরের দুঃশাসন, কুশাসন ও অপশাসনের পর ২০০৭ সালে মোটামুটি নিরপেক্ষ নির্বাচন হলেও বিপুল ভোটাধিক্যে ক্ষমতায় আসতো শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোট। শুধু শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতার বাইরে রাখার জন্যই খালেদা জিয়া-নিজামী-মান্নান ভূঁইয়ারা সংবিধান লঙ্ঘন করে দলীয় রাষ্ট্রপতি প্রফেসর ড. ইয়াজউদ্দিনকে প্রধান উপদেষ্টা বানিয়ে তার কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। অন্যায় ও অসংবিধানিকভাবে প্রধান উপদেষ্টার পদ দখলকারী প্রফেসর ইয়াজউদ্দিন ২০০৭-এর ২২ জানুয়ারির একতরফা, অগণতান্ত্রিক ও অগ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে খালেদা জিয়া-নিজামীদের পুনরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার ষড়যন্ত্র করেন। এ সময় খালেদা-নিজামী-ইয়াজউদ্দিন গং ও তাদের অনুসারী-সহচরগণ ছাড়া সমগ্র জাতি ২২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য অগ্রহণযোগ্য নির্বাচনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট গঠিত হয়। ড. কামাল, ডা. বি চৌধুরী, জেনারেল এরশাদ, কর্নেল অলি আহমদরাও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোটে শামিল হন। খালেদা-নিজামীদের প্ররোচনায় নির্বাচনের নামে প্রফেসর ইয়াজউদ্দিন দেশকে গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যান। ওই পরিস্থিতিতে প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে ড. ইয়াজউদ্দিন অপসারিত হন। দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। ক্ষমতায় আসলো ফখরুদ্দীন সরকার। নাটের গুরু ড. ইয়াজউদ্দিন এবং তার দোসর খালেদা জিয়া-নিজামীদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হওয়ায় জাতি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। অসাংবিধানিক হওয়া সত্ত্বেও ফখরুদ্দীন সরকারকে জনগণ বিপুলভাবে অভিনন্দন জানায়। কিন্তু গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়ার জন্য দায়ী ড. ইয়াজউদ্দিন রাষ্ট্রপতি হিসেবে ক্ষমতার পাদপীঠেই রয়ে গেলেন। অথচ দেশ ও জাতিকে বিপর্যয়ের পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য ড. ইয়াজউদ্দিনের বিরুদ্ধেই সর্বপ্রথম ব্যবস্থা নেয়া উচিত ছিল। কেন এমন হলো, পরবর্তীতে ঐতিহাসিকরা একদিন তা নিশ্চয়ই খুঁজে বের করবেন।

ফখরুদ্দীন সরকার ক্ষমতায় এসে শুরুতে সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়। বেশ কয়েকটি গণমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করায় সরকার বলতে গেলে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা পেয়ে যায়। মানুষ স্বাভাবিকভাবেই আশা করেছিল, ৫ বছরের জোট আমলের সীমাহীন লুটপাট, নির্যাতন, হয়রানি, গ্রেফতার, অপশাসন, কুশাসনের জন্য দায়ী ওই সরকার পরিচালনাকারী নেতা-নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, মতিউর রহমান নিজামী, তারেক রহমান ও মান্নান ভূঁইয়াদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অসাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দীন আহম্মেদকে প্রধান উপদেষ্টা বানানোর মূল লক্ষ্যই ছিলো পুনরায় অন্যায়ভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করা। কারণ, জোটের ৫ বছরে তাদের নেতাকর্মীরা যত লুটপাট ও অপকর্ম করেছে, তা ’৭৫ থেকে ’৯০-এর স্বৈরশাসনামলকেও হার মানিয়েছে। জোট সরকারের পর্বতসম লুটপাট ও নির্যাতনের খবরাখবর ১১ জানুয়ারির পর পত্রপত্রিকায় এদেশের মানুষ কিছুটা হলেও জানতে পেরেছে। কারও কারও মতে, শুধু তারেক রহমান, মামুন, ফালু, হারিছ, বাবর, পিন্টু চক্র যত টাকা লুটপাট করেছেন, স্বৈরশাসক জে. এরশাদের আমলেও এতো টাকা লুণ্ঠিত হয়নি। দুর্নীতির খবর ব্যাপকভাবে ফাঁস হতে থাকলে ২০০৭-এর ৭ মার্চ তারেক রহমান গ্রেফতার হন। এরপর বিএনপি ও আওয়ামী লীগের আরও অনেকে গ্রেফতার হন। জোট সরকার আমলের সাবেক মন্ত্রী-এমপি ও দলীয় নেতাদের মধ্যে সম্মানজনক ব্যতিক্রম ছাড়া প্রায় সবাই লুটপাটের জন্য কম বেশি দায়ী।

৫ বছরের দুঃশাসন-কুশাসনের জন্য দায়ী বেগম জিয়া-মতিউর রহমান নিজামী-মান্নান ভূঁইয়াকে সর্বাগ্রে গ্রেফতার না করে আন্দোলনের নেত্রী শেখ হাসিনাকে ২০০৭-এর ১৬ জুলাই গ্রেফতার করা হয়। অথচ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আন্দোলন না হলে মহা দুর্নীতিবাজ জোট সরকার ২২ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে আবারও ক্ষমতা দখল করতো। ক্ষমতা দখল করে নতুন উদ্যমে তারা আবার লুটপাট শুরু করতেন এবং এমনিভাবে বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রের পর্যায়ে নিয়ে যেতেন। জননেত্রী হাসিনার গ্রেফতার দেশ-বিদেশের মানুষকে জানিয়ে দিল, ১১ জানুয়ারির পরবর্তী ফখরুদ্দীন সরকার কাদের স্বার্থ সার্ভ করতে ক্ষমতায় এসেছে। তীব্র সমালোচনার মুখে হাসিনা গ্রেফতারের ৪৫ দিন পর ৩ সেপ্টেম্বর জোট নেত্রী বেগম জিয়াকে গ্রেফতার করতে সরকার বলতে গেলে বাধ্য হয়। পর্যবেক্ষক মহলের মতে, দেশকে বিপর্যয়ের পথে ঠেলে দেয়ার জন্য দায়ী জোটের চার শীর্ষ নেতাকে সর্বপ্রথম আইনের আওতায় নেয়াই ছিল নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের প্রথম কাজ। তা না করে যার নেতৃত্বে আন্দোলনের কারণে ফখরুদ্দীন সরকারের ক্ষমতায় আসার পথ প্রশস্ত হলো, সেই নেত্রী শেখ হাসিনাকে সর্বপ্রথম গ্রেফতার করে সমগ্র জাতিকে একটি খারাপ মেসেজই দেয়া হয়।

এরপর শেখ হাসিনাকে মাইনাস করার সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। তিনি তার মহান পিতা আমাদের স্বাধীনতার জনক বঙ্গবন্ধু মুজিবের মতোই মাথা উঁচু করে জেল থেকে বের হয়ে আসেন। দস্তখত দিয়ে বা রাজনীতি না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শর্তের বেড়াজালে জননেত্রী মুক্ত হচ্ছেন বলে এতদিন যারা গুজব রটান, তাদের মুখে চুনকালি পড়ে। দেশের লাখো কোটি মানুষ নেত্রীর নিঃশর্ত মুক্তিকে স্বাগত জানান। বিভিন্ন কারণে ফখরুদ্দীন সরকারের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা ধীরে ধীরে শূন্যের কোঠায় পৌঁছে যায়। এই সরকারের প্রধান কাজ ছিল সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে দেশকে গণতন্ত্রের পথে নিয়ে যাওয়া। আওয়ামী লীগ নেত্রীর মুক্তির মাধ্যমে দেশকে গণতন্ত্রের পথে উত্তরণের দরজা খুলে যায়। নেত্রী বের হয়েই দলীয় কার্যকরী কমিটি ও প্রেসিডিয়ামের সঙ্গে বৈঠক করেন। চার উপদেষ্টা সুধা সদনে গিয়ে নেত্রী ও অন্য নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। প্রধান উপদেষ্টাও টেলিফোনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

জামিনে মুক্তি পেয়ে শেখ হাসিনা চিকিৎসার জন্য বিদেশে যান। এরপর খালেদা জিয়াসহ অন্য নেতাদের মুক্তি দেয়া হয়। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত স্মরণকালের অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনে বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ী হয়ে শেখ হাসিনা সরকার গঠন করেন। এরপর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি এবং ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনেও শেখ হাসিনার জোট বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। এর আগে সামরিক স্বৈরাচারের পতনের পর ১৯৯১ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সিংহভাগ কৃতিত্বও শেখ হাসিনার। ১৯৯৬ সালে একদলীয় নির্বাচনে বেগম জিয়া রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে নেন। মাত্র এক মাসের আন্দোলনে খালেদা সরকারের পতন ঘটাতে সক্ষম হন বঙ্গবন্ধুকন্যা। এমনিভাবে শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে শুধু পুনরুদ্ধার করেননি, এদেশের বন্দি গণতন্ত্রকেও বারবার সচল করেছেন।

৮ জুন ২০১৯

[লেখক : সাপ্তাহিক বাংলাবার্তা সম্পাদক]

bandhu.ch77@yahoo.com

দৈনিক সংবাদ : ১১ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার, ৭ এর পাতায় প্রকাশিত

সংস্কৃতির মূলধারা সঙ্কুচিত হচ্ছে

দেশে সংস্কৃতিচর্চার সুযোগ দিন দিন কমছে। সরকারি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে পেশাদারি, জবাবদিহি ও আন্তরিকতার অভাব। সংস্কৃতি

সাত দশকে আওয়ামী লীগের অর্জন ও ব্যর্থতা

২৩ জুন ২০১৯ আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। আওয়ামী লীগ এ উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন দল। রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী

জিয়া-মঞ্জুর হত্যা এবং এরশাদের রাষ্ট্রক্ষমতা দখল

ইংরেজিতে একটি কথা আছে, ‘বেটার লেট দ্যান নেভার’ অর্থাৎ একেবারে না হওয়ার চেয়ে বিলম্বে হওয়াটা ভালো। বিলম্বে হলেও বিচার

sangbad ad

চিনি শিল্পে সংকট ও উত্তরণ

সময় মতো আখ বিক্রির টাকা না পেয়ে ক্ষোভে-দুঃখে জমি থেকে আখ উপড়ে ফেলেছেন জয়পুরহাট চিনি কলের কৃষক। আখের বদলে আবাদ

চুকনগর গণহত্যা দিবস : গণহত্যার সাক্ষ্য বহন করে চলেছে চুকনগরের মাটি

image

২৬ মার্চ ১৯৭১ সালে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন স্বাধীনতা ঘোষণা করেন, তখনও ঢাকাসহ কয়েকটি

জাহানারা ইমাম নিরলস যুদ্ধ করেছেন যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে

দিল মনোয়ারা মনু

image

আমাদের দেশে যখন মুক্তিযোদ্ধারা সূর্যরশ্মির মতো ছড়িয়ে পড়েন সবখানে, মুক্তিযুদ্ধে যখন হয়ে ওঠেন এক অবিনশ্বর আকাশ, যেখানে

জঙ্গিদের পরবর্তী লক্ষ্য কোন দেশ!

রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশকিছু ওলোট-পালটের ঘটনা ঘটছে। শিগগিরই আরও কিছু ঘটবে বলে মনে হচ্ছে। মারাত্মকভাবে হতাশায় নিমজ্জিত দলগুলোতেই

এক বাগানের ফুল

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিধ্বস্ত জাপান নতুন যুগে পদার্পণ করতে চলেছে। আড়ম্বরের সঙ্গে আয়োজন করা হচ্ছে- জাপানের ভাবী সম্রাট নারুহিতো

প্রাচীন বাংলার ইতিহাস জাতিরাষ্ট্রের মাপকাঠিতে আটকে রাখা যায় না

image

প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের মন মাতানো গান ‘আমি বাংলায় গান গাই, আমি বাংলার গান গাই...’ নানা জনের মুখে মুখে ফেরে। ‘বাংলা’

sangbad ad