• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯

 

পাকিস্তানের বৈষম্যের রাজনীতি ও বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম

অধ্যাপক জহুরুল আলম

নিউজ আপলোড : ঢাকা , রোববার, ১০ মার্চ ২০১৯

বাংলার মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের শুরু হয় ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে, যার সূচনা হয় বায়ান্নর অনেক আগে। কিন্তু বাঙালি জাতির প্রতি বিমাতাসূলভ আচরণ শুধু ভাষাভিত্তিক বৈষম্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিটি ক্ষেত্রেই পাকিস্তানের প্রদেশ হিসেবে ও নাগরিক হিসেবে এ দেশ ও এ দেশের মানুষ সমগ্র ২৩ বৎসরই অচিন্তনীয় বৈষম্যের শিকার হয়ে অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দশায় নিমজ্জিত হতে থাকে। সব ধরনের বৈষম্যের মধ্যে সবচাইতে বিধ্বংসী রূপ পরিগ্রহ করে অর্থনৈতিক বিভেদের রাজনীতি, যা বহুলাংশে নির্ধারণ করে অন্য সব বৈষম্যের গতি-প্রকৃতি ও গভীরতা। বস্তুতপক্ষে অর্থনীতি যেমন রাজনীতি ও সাংস্কৃতির বিকাশের ভিত্তিমূল হিসেবে কাজ করে, ঠিক সেভাবেই অর্থনৈতিক অনগ্রসরতা একটি জাতিকে সব দিক থেকেই পিছিয়ে দেয়ার নিয়ামক হিসেবে আবির্ভূত হয়। বাঙালি জাতিকে শোষণের জাঁতাকলে পিষ্ট করার জন্য তাই পাকিস্তানিরা এ জাতিকে অর্থনৈতিকভাবে একটি পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীতে রূপান্তরিত করার সব কৌশল ধারাবাহিকভাবে প্রয়োগ করে যেতে থাকে।

পূর্ববাংলায় সূচিত ও ক্রমবর্ধমান সামাজিক ও রাজনৈতিক অসন্তোষ ও বিক্ষোভের কারণ হিসেবে প্রকট অর্থনৈতিক বৈষম্যের রাজনীতি একটি প্রধান উপাদান হিসেবে কাজ করেছে। পাকিস্তানি শাসকেরা তথাকথিত ইসলামী ভ্রাতৃত্ববোধের স্লোগান ও ভাবাবেগকে পুঁজি করে এ বৈষম্যের চর্চা করে গেছে বছরের পর বছর ধরে। এর অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য ছিলÑ এ দেশকে ও দেশের মানুষকে পশ্চিম পাকিস্তানের উপনিবেশ হিসেবে রেখে চিরকালের জন্য তাদের শোষণ ও শাসন চালিয়ে যাওয়া। পাকিস্তানের সৃষ্টিলগ্নে, অর্থাৎ ১৯৪৭ সালে বাংলার মানুষের মাথাপিছু গড় আয় (per capita income) ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের প্রদেশগুলোর গড় মাথাপিছু আয়ের সমান বা বেশি, যা ১৯৫৯-৬০ সালে কমে দাঁড়ায় ২৮৭ রুপিতে। এর বিপরীতে পশ্চিম পাকিস্তানে মাথাপিছু আয়ের ঊর্ধ্বমুখী ধারা এ সূচককে নিয়ে যায় ৩৩৮ রুপিতে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭০ সালনাগাদ পশ্চিম পাকিস্তানের মানুষের গড় মাথাপিছু আয় ১৯৫৯-৬০ সালের তুলনায় বৃদ্ধি পায় শতকরা ৫৯ ভাগ আর পূর্ববাংলায় এ সূচক একই সময়ে তার বৃদ্ধি ঘটে শতকরা মাত্র ১৫ ভাগ। ১৯৭০ সালে পূর্ববাংলার ৩৩১ রুপির বিপরীতে পশ্চিম পাকিস্তানে মাথাপিছু আয় দাঁড়ায় ৫৩৭ রুপিতে।

অনেক পাকিস্তানি ও এ দেশের পাকিস্তানপন্থিদের বিভিন্নভাবে বলতে শোনা যায় যে, ঐতিহাসিকভাবেই পাকিস্তানের পূর্ব অংশ অর্থাৎ পূর্বপাকিস্তান ছিল অনুন্নত, যা সত্যের অপলাপ বৈ অন্য কিছু নয়। এ অঞ্চলের মানুষের গড় মাথাপিছু আয় এমন কি ব্রিটিশ শাসনের প্রাক্কালে অর্থাৎ ১৭৫৭ সালে ব্রিটেনের চেয়ে বেশি ছিল। পরবর্তীতে তা ব্রিটেনের তুলনায় অনেক কমে আসে ঔপনিবেশিক শোষণের ফলশ্রুতিতে। পশ্চিম পাকিস্তানের আয়ের অন্যতম উৎস ছিল পূর্বপাকিস্তান থেকে রফতানিকৃত পাট, পাটজাত দ্রব্য ও চা থেকে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রা, যা প্রথমে জমা হতো পশ্চিম পাকিস্তানে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় কোষাগারে। পরে তা পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের মর্জিমাফিক বণ্টিত হতো দুই প্রদেশে। পাকিস্তানের জন্মের পর থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে পাকিস্তানের বৈদেশিক বাণিজ্য আয়ের শতকরা ৭০ ভাগ পাওয়া যেত পূর্বপাকিস্তানের রফতানি দ্রব্য থেকে। এছাড়া পাকিস্তানের বৈষম্যের রাজনীতির অন্যতম নিয়ামক হিসেবে কাজ করে এর বৈষম্যমূলক শুল্ক আহরণ পদ্ধতি, যা সাজানো হয়েছিল এমনভাবে; যাতে পূর্ব পাকিস্তানের প্রাপ্য শুল্ক পশ্চিম পাকিস্তানের কোষাগারে জমা হতো। ফলশ্রুতিতে পূর্ববাংলা অভ্যন্তরীণ শুল্কের ন্যায্য হিস্যা থেকে বছরের পর বছর বঞ্চিত হতে থাকে, যা এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিশাল বাধা হিসেবে আবির্ভূত হয়।

বাজেট বণ্টনের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের নীতিও ছিল পুরোপুরি বৈষম্যমূলক। পূর্ব পাকিস্তান সব সময়ই পশ্চিম পাকিস্তানের চেয়ে কম অর্থ বা সম্পদ বরাদ্দ পেত। বিশ্বব্যাংকের মতানুযায়ী পূর্ব পাকিস্তান থেকে স্থানান্তরিত অর্থ এবং এ অঞ্চলের বৈদেশিক মুদ্রার উদ্বৃত্ত সবসময়ই পশ্চিম পাকিস্তানের আমদানি ও উন্নয়নে ব্যয় করা হতো। পশ্চিম পাকিস্তান সবসময়ই যৌথ ভান্ডার (common fund) বা কেন্দ্রীয় বরাদ্দের বড় অংশটি পেত, যদিও পাকিস্তানের সংখ্যাগুরু নাগরিক এ দেশের পূর্বাঞ্চলেই বসবাস করত। তাদের এ বৈষম্যমূলক আচরণের সঙ্গে পাকিস্তানিরা কীভাবে ইসলামী ভ্রাতৃত্ববোধকে সংযুক্ত করত তা পূর্বাঞ্চলের মানুষের বোধগম্য ছিল না। ফলত বৈষম্যের শিকার পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের মধ্যে অসন্তোষ ও পশ্চিম পাকিস্তানিদের প্রতি অবিশ্বাস ও ঘৃণা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে লাগল।

সারণি ২ : পাকিস্তানের বাজেট বণ্টনে বৈষম্য (১৯৫০-১৯৭০, মিলিয়ন রূপী)

http://thesangbad.net/images/2019/March/10Mar19/news/upload.jpg

সূত্র : Reports of the Advisory Panels for the Fourth Five Year Plan 1970–75, Vol. I, Planning Commission of Pakistan.

১৯৫০ থেকে ১৯৭০ সাল নাগাদ পাকিস্তানের পাঁচটি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার বিশ্লেষণে দেখা যায় যে পূর্ব পাকিস্তানে বাজেট বরাদ্দের পরিমাণ সর্বদাই মোট বাজেটের এক তৃতীয়াংশের চেয়েও কম ছিল। ১৯৫৫-৬০ সালের বরাদ্দ ছিল একচতুর্থাংশের চেয়েও কম, শতকরা মাত্র ২৪ ভাগ। ১৯৫০ থেকে ১৯৭০, এই ২০ বছরে পাকিস্তানের মোট বাজেট ব্যয় ১৫৯,২৭০ মিলিয়ন রূপীর ১১৩,৩৪০ মিলিয়ন রূপী (৭১.১৬%) খরচ করা হয় পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নে। পশ্চিম পাকিস্তানের মরুময় অঞ্চলগুলোতে বড় বড় সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন হতে থাকে পূর্বপাকিস্তানের কৃষক-শ্রমিকের টাকায়। অপরদিকে পূর্ব পাকিস্তানের উর্বর ভূমি রূপান্তরিত হতে থাকে মরুভূমিতে। ক্ষুধা, দারিদ্র্য, শিশুমৃত্যু, রোগ-বালাই, দুর্ভিক্ষ, বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়ে দাঁড়ায় এ অঞ্চলের জনগণের নিত্যসঙ্গী। পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী সুপরিকল্পিতভাবে এ দেশকে আরও বেশি দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিতে থাকে যাতে করে একদিকে যেমন পাকিস্তানের এ অংশের নামে বেশি বিদেশি সাহায্য নিয়ে আসা সম্ভব হয় ও তা নানা কৌশলে পশ্চিম পাকিস্তানের স্বার্থে ব্যয় করা যায়, তেমনি অপরদিকে এদেশের মানুষ, অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সর্বোপরি জীবন ব্যবস্থাকে প্রান্তিকতার শেষ সীমানায় ঠেলে দিয়ে এ দেশকে বহু যুগ, বহু শতাব্দী ঔপনিবেশিক শাসনের জাঁতাকলে পিষ্ট করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করা যায়।

প্রবল বৈষম্যের শিকার পূর্ব পাকিস্তানের মাথাপিছু গড় আয় বৃদ্ধির সূচক ১৯৬০-৬৫ সালে কমে দাঁড়ায় মাত্র ২.৬%। একই সূচক পশ্চিম পাকিস্তানের ক্ষেত্রে ছিল ৪.৪%। এই বৈষম্য ও নিম্ন প্রবৃদ্ধি ছিল সেনাশাসক আইয়ুব খানের তথাকথিত ‘উন্নয়নের দশক’ বা ‘Decade of Progress’ এর মধ্য লগ্নে। এ সময় আইয়ুব খানের এ দেশীয় মোসাহেব মোনায়েম খান, সবুর খান, ফজলুল কাদের গং এ দেশেই ঘটা করে নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘উন্নয়নের দশক’ পালন করছিল, আর বাংলার ছাত্র-জনতা সংগঠিত হচ্ছিল বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন জোরদার করার লক্ষ্যে। বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগ কাজ করে যাচ্ছিল বাঙালির মুক্তির সনদ ‘ছয় দফা’ প্রণয়নে। পরের বছরই, অর্থাৎ ১৯৬৬ সালেই বঙ্গবন্ধু তার ঐতিহাসিক ‘ছয় দফা’ আন্দোলন শুরু করেন, যা সারা বাংলায় অভুতপূর্ব সাড়া জাগায়। এর ওপর ভিত্তি করে দানা বাঁধতে থাকে ১১ দফার ছাত্র আন্দোলন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবর্তিত হয় সংগ্রামের অগ্নিভূমিতে। আইয়ুব খান আন্দোলন প্রশমিত করার লক্ষ্যে তথাকথিত ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামল’র প্রধান আসামি হিসেবে শেখ মুজিবকে ও আসামি হিসেবে এ দেশের সামরিক-বেসামরিক প্রশাসনের আরও অনেককে কারাগারে নিক্ষেপ করে।

সারণি ৩ : পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের বাৎসরিক রাজস্ব আয় ও ব্যয়ের সম্পর্ক

http://thesangbad.net/images/2019/March/10Mar19/news/upload2.jpg

সূত্র : University of Oxford. Discussion Paper in Economic and Social History. No. 63, July 2006.

সবচেয়ে উদ্বেগজনক ছিল রাজস্ব আয় পূর্ব পাকিস্তান থেকে সরিয়ে নিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানে ব্যবহার করার বিষয়টি। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৬ সালের একটি প্রবন্ধে দেখনো হয়েছে যে ১৯৪৭-৪৮ থেকে ১৯৫৪ নাগাদ বছরগুলোর কোনটিতেই পূর্ব পাকিস্তান থেকে আহরিত রাজস্বের শতভাগ এখানে ব্যয় করা হয়নি। ১৯৫১-৫২ সালে পূর্ব পাকিস্তানে আহরিত রাজস্বের মাত্র ০.৪৩ ভাগ এদেশে ব্যয় করা হয়। পক্ষান্তরে পশ্চিম পাকিস্তানে এ বছরগুলোতে সবসময়ই রাজস্ব আয়ের চেয়ে অনেক বেশি ব্যয় করা হতো। ১৯৪৯-৫০ সালে পশ্চিম পাকিস্তানে এ ব্যয় সেখানকার রাজস্ব আয়ের ২২৩% বা দ্বিগুণেরও বেশি ছিল। সে বছরই পূর্বপাকিস্তানে তা ছিল এ প্রদেশের রাজস্ব আয়ের মাত্র ৭.৯৯%, আর ১৯৫৩-৫৪ সালে ২.৩৩%! ১৯৪৭ থেকে ১৯৫৪ সাল নাগাদ পূর্ব পাকিস্তানের নিজস্ব রাজস্ব আয়ের মাত্র ২৬% খরচ করা হয় এ দেশের বিভিন্ন খাতে। বাকি ৭৪% আয় পাচার করা হয় পশ্চিম পাকিস্তানে। এই সময়সীমায় পশ্চিম পাকিস্তানে সেখানে আহরিত রাজস্ব আয়ের দেড়গুণ বেশি খরচ করা হয় পূর্ব পাকিস্তান থেকে সম্পদ পাচার করে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায় যে রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রে এমন কিছু পদ্ধতিগত বৈষম্য সৃষ্টি করা হয় যাতে করে পূর্ব পাকিস্তানের প্রাপ্য বাণিজ্য ও বৈদেশিক বাণিজ্য সম্পর্কিত শুল্ক অবধারিতভাবে পশ্চিপাকিস্তানের কোষাগারে জমা হতো ও তা পশ্চিম পাকিস্তানের আয় হিসাবে দেখানো হতো। ফলত: একদিকে পশ্চিম পাকিস্তানের রাজস্ব আয়ের বেশিরভাগ ছিল পূর্ব পাকিস্তানের প্রাপ্য রাজস্ব, অপরদিকে সেই অন্যায্যভাবে বর্ধিত (Inflated) আয়ের দেড় থেকে দ্বিগুণ পশ্চিম পাকিস্তানে ধারাবাহিকভাবে ব্যবহৃত হতো পূর্বপাকিস্তান থেকে বাড়তি সম্পদ স্থানান্তরিত করে।

সম্পদ আহরণ ও ব্যবহারেরর এ বৈষম্য ও সম্পদ সরিয়ে নেওয়ার ধারা পূর্ব পাকিস্তানের মানুষকে নিঃস্বতা ও অসহায়ত্বের বেড়াজালে আবদ্ধ করতে থাকে। যথেচ্ছ অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক বৈষম্যের শিকার হয়ে এ দেশের মানুষের শিক্ষার হার যা পাকিস্তান সৃষ্টি লগ্নে ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের চেয়ে বেশি তা দ্রুত কমতে থাকে। ১৯৫১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে শিক্ষার হার ছিল মোট জনসংখ্যার শতকরা ১৮.৮ ভাগ। বিপরীতে পশ্চিম পাকিস্তানে এই হার ছিল শতকরা ৭.৬ ভাগ। বৈষম্যের রাজনীতির ফলে শিক্ষার হারের বৃদ্ধিতে দুই প্রদেশে পরিলক্ষিত হয় সম্পূর্ণ ভিন্নমুখী প্রবণতা। পূর্ব পাকিস্তানে পরবর্তী ১০ বৎসরে এ সূচক বৃদ্ধি পায় মাত্র ১০.৫৬ ভাগ; পক্ষান্তরে পশ্চিম পাকিস্তানে তা বৃদ্ধি পায় প্রায় ৯০ শতাংশ।

ব্যাপক ও নির্বিচার অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য পূর্বপাকিস্তানের সামাজিক সূচকগুলোতে বিরূপ প্রভাব ফেলতে থাকে ও এই অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্যানিটেসন, ক্ষমতায়ন, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নসহ সব খাত পিছিয়ে পড়তে থাকে। অন্যায্য সম্পদ আহরণ ও বণ্টন প্রক্রিয়া এ প্রদেশে সম্পদের অপ্রতুলতার সৃষ্টি করে। সেই সঙ্গে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য কোন প্রকার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা না থাকায় এ প্রদেশের বাসিন্দারা শিক্ষা, সমতা, ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অবর্ণনীয় সমস্যার সম্মুখীন হতে থাকে।

সামগ্রিকভাবে এ বিষয়টি এমনভাবে বিশ্লেষণ করা যায় যে পাকিস্তানের বৈষম্যের রাজনীতির ফলে বাংলার মানুষ অব্যাহত শোষণের শিকার হয়। এই শোষণ প্রক্রিয়া সুপরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হয় এ দেশের সম্পদ ধারাবাহিকভাবে পশ্চিম পাকিস্তানে পাচারের উদ্দেশ্যে এবং এই বাংলাকে পশ্চিম পাকিস্তানের সদ্যজাত বুর্জোয়া শ্রেণীর উত্থানের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসাবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে। পাকিস্তানের শাসকবর্গের ও উঠতি বুর্জোয়া শ্রেণীর জন্য পূর্ব বাংলা একটি উপ-উপনিবেশ ছাড়া আর কিছুই ছিল না, যেখান থেকে নির্বিঘ্নে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সেখানে নেওয়া যাবে ও যে অঞ্চল পশ্চিম পাকিস্তানের পণ্য বিক্রয়ের একটি বাজার হিসেবে বজায় থাকবে। এছাড়া এখানকার অন্যান্য সম্পদ প্রয়োজনানুযায়ী পাকিস্তানে নিরবচ্ছিন্নভাবে পাচার করা যাবে। পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের ইসলামী ভ্রাতৃত্ববোধের কল্পকাহিনী মূলত: ছিল সে দেশের শাসক ও এলিট শ্রেণীর ধোঁকাবাজির রাজনীতির হাতিয়ার।

দৈনিক সংবাদ : ১০ মার্চ ২০১৯, রোববার, ৭ এর পাতায় প্রকাশিত

চুকনগর গণহত্যা দিবস : গণহত্যার সাক্ষ্য বহন করে চলেছে চুকনগরের মাটি

image

২৬ মার্চ ১৯৭১ সালে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন স্বাধীনতা ঘোষণা করেন, তখনও ঢাকাসহ কয়েকটি

জাহানারা ইমাম নিরলস যুদ্ধ করেছেন যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে

দিল মনোয়ারা মনু

image

আমাদের দেশে যখন মুক্তিযোদ্ধারা সূর্যরশ্মির মতো ছড়িয়ে পড়েন সবখানে, মুক্তিযুদ্ধে যখন হয়ে ওঠেন এক অবিনশ্বর আকাশ, যেখানে

জঙ্গিদের পরবর্তী লক্ষ্য কোন দেশ!

রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশকিছু ওলোট-পালটের ঘটনা ঘটছে। শিগগিরই আরও কিছু ঘটবে বলে মনে হচ্ছে। মারাত্মকভাবে হতাশায় নিমজ্জিত দলগুলোতেই

sangbad ad

এক বাগানের ফুল

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিধ্বস্ত জাপান নতুন যুগে পদার্পণ করতে চলেছে। আড়ম্বরের সঙ্গে আয়োজন করা হচ্ছে- জাপানের ভাবী সম্রাট নারুহিতো

প্রাচীন বাংলার ইতিহাস জাতিরাষ্ট্রের মাপকাঠিতে আটকে রাখা যায় না

image

প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের মন মাতানো গান ‘আমি বাংলায় গান গাই, আমি বাংলার গান গাই...’ নানা জনের মুখে মুখে ফেরে। ‘বাংলা’

বোরো ধানের ব্লাস্ট রোগ : কারণ ও প্রতিকার

ব্লাস্ট ধানের একটি ছত্রাকজনিত মারাত্মক ক্ষতিকারক রোগ। পাইরিকুলারিয়া ওরাইজি (Pyriculria Orayzai) নামক

শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই গড়ে তুলব বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা

বাঙালির অবিসংবাদিক নেতা ও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখন পাকিস্তানের অন্ধকার কারাগারে।

মুজিবনগর সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্ব

image

১৭ এপ্রিল বাঙালি জাতির ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন। ১৯৭১-এর এ দিনে কুষ্টিয়ার মেহেরপুরের আম্রকাননে একাত্তরে যুদ্ধ পরিচালনাকারী

মাদক আসছেই

জাতীয় দৈনিক পত্রিকা সূত্রে জানা যায়, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের পরও ঝিনাইদহের মহেশপুর ও চুয়াডাঙ্গার জীবননগর

sangbad ad