• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯

 

রিপোর্টারের সাত কাহন

পাকিস্তানকে ‘শিক্ষা’ দেয়ার এখনই সময়

সালাম জুবায়ের

নিউজ আপলোড : ঢাকা , বুধবার, ১৩ মার্চ ২০১৯

উগ্র ইসলামি জঙ্গি গ্রুপ গঠন করে তাদের অর্থ-অস্ত্র দিয়ে ভারতে প্রবেশ করিয়ে কাশ্মীরে অমানবিক সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে পাকিস্তান অবারও প্রমাণ করল- তারা কিছুতেই সন্ত্রাসী কর্মকান্ড থেকে সরে আসবে না। অনেকটা বাংলা প্রবাদবাক্যের মতো- ‘কয়লা ধুলে ময়লা যায় না’। পাকিস্তান একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র- একথায় কারও দ্বিমত নেই। এ উপমহাদেশে, বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পাকিস্তান একটি চরম সন্ত্রাসী রাষ্ট্র পাশাপাশি ব্যর্থ রাষ্ট্র্রও। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ পাকিস্তানকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবেই বিবেচনা করে এবং পারতপক্ষে পাকিস্তানের সঙ্গে কোন সম্পর্কে জড়াতে চায় না। পাকিস্তানে কোন ভদ্র দেশ ক্রিকেট টিমও পাঠাতে চায় না, কোন আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করা হলে সেখানে অংশ নিতে আগ্রহ দেখায় না। এ প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের জন্য অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হয়ে তার অস্তিত্বের চরম সংকটকাল অতিক্রম করছে। পাকিস্তানে রাষ্ট্র পরিচালনা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রশাসনের নৈতিক অবক্ষয় এতটাই হয়েছে যে, এ রাষ্ট্রের কাছ থেকে ভালো কাজ, কথা ও আচরণ আশা করা বাতুলতা ছাড়া আর কিছুই নয়। এসব কথা মাথায় রেখেই এখন পাকিস্তান সম্পর্কে মন্তব্য বা মূল্যায়ন করতে হবে। পাকিস্তানের সাম্প্রতিক কর্মকান্ড বিশ্লেষণ করে অনেকেই পাকিস্তানকে এখন এশিয়ায়, বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কূটনীতি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি ভীতিকর রাষ্ট্র এবং দুষ্টক্ষত মনে করেন। যদিও পাকিস্তান সম্পর্কে একথাগুলো নতুন কোন আবিষ্কার নয়, অনেক দিন ধরেই। বিশেষ করে ১৯৪৭-এর দেশ বিভাগের পর থেকেই এ রাষ্ট্র এ অঞ্চলে বিষফোড়া হিসেবে বিষ ছড়িয়ে যাচ্ছে। তবে এখন, যখন ভারত, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ শান্তির অন্বেষায় ব্যাকুল হয়ে সবার কাছে সহযোগিতার প্রত্যাশায় হাত বাড়িয়েছে, তখনও পাকিস্তান দুষ্টক্ষত হয়ে থাকার চরিত্র বদলাতে চেষ্টা করছে না বরং আগের চেয়ে তীব্র আক্রোশে এই অঞ্চলে শান্তি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির সব অর্জন ও আকাঙ্খাকে দুমরে মুচড়ে দিচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে অকার্যকর রাষ্ট্র হিসেবে আত্মমর্যাদা বিসর্জন দিয়ে শান্তি, প্রগতি ও গণতন্ত্রের পথে আগুয়ান ভারত, বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী এবং আশাপাশের দেশগুলোর মানুষের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিকে ধ্বংস করার মরণ খেলায় বিভোর।

একাধিক অপকর্মের কারণে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পাকিস্তান চরম সমালোচনার মুখে পড়েছে। সম্প্রতি পাকিস্তান যে চরম অমানবিক কাজটি করেছে তা ক্ষমার অযোগ্য। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের মাটিতে লালিত-পালিত জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদ’র জঙ্গিরা কাশ্মীরের পুলওয়ামায় একটি আধাসামরিক বাহিনীর ওপর আত্মঘাতী বোমা হামলা চালায়। এতে আধা সামরিক বাহিনীর ৪৪ জওয়ান নিহত হন। গত ৩০ বছরের মধ্যে এটাই ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী জঙ্গি হামলা। এভাবে ভারতের অভ্যন্তরে সৈন্যদের উপর চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিরা যে অমানবিক কাজ করেছে তার নিন্দা জানিয়েছে বিশ্বের সব দেশের শান্তিপ্রিয়, গণতন্ত্রমনা বিবেকবান মানুষ। এভাবে সামরিক বাহিনীর নিরীহ সদস্যদের উপর কাপুরুষোচিত হামলা করে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিরা আসলে কী উদ্দেশ্য সাধন করতে চায় তা কারও কাছেই পরিষ্কার নয়। পরিষ্কার নয় এ কারণে যে, এভাবে চোরাগোপ্তা হামলা করে কোন দেশে অশান্তি সৃষ্টি করা যায়, কিন্তু সেই দেশকে কাবু করে ফেলা কোনভাবেই সম্ভব নয়। এসব সন্ত্রাসী হামলা করে মানুষকে ভয় দেখিয়ে কোন কিছুই লাভ করা যেমন সম্ভব নয়, তেমনি কোন অর্জনও হয় না। বরং ঘৃণা আর প্রতিহিংসা জাগায়। পরিণামে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যেমন তেমনি হামলাকারী দেশের সাধারণ মানুষের জীবনে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ আর অশান্তি। এই অশান্তি দেশ থেকে দেশে ছড়িয়ে পড়ারও আশঙ্কা থাকে। অর্থাৎ এক দেশ অন্য দেশে জঙ্গী হামলা করে নিজেরা শান্তিতে বসবাস করার স্বপ্ন সফল হতে পারে না। পাল্টা হামলার শিকার হওয়ারও ঝুঁকি থেকে যায়। কিন্তু এ ঝুঁকির কথা জেনে এবং নিজেরা দীর্ঘদিন এর খেসারত দিলেও পাকিস্তান এসব থেকে অতীতে কোন শিক্ষা নেয়নি, এখনও নিচ্ছে না। তারা একের পর এক জঙ্গি হামলায় প্রত্যক্ষ ইন্ধন দিয়েই আসছে। কাশ্মীরে সাম্প্রতিক হামলা তারই প্রমাণ।

কাশ্মীরের পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলা চালিয়ে হত্যাকান্ডের পর চরম বেকায়দায় পড়েছে পাকিস্তান। জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার জন্য পাকিস্তানকে একঘরে করার দাবি উঠে ভারতসহ একাধিক দেশের বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে। এ অবস্থা টের পেয়ে পাকিস্তান অনেক কায়দা-কৌশল করে এ জঙ্গি হামলার কোন দায়-দায়িত্ব নিতে চায়নি। পুলওয়ামায় হামলাকারী জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদ পাকিস্তানভিত্তিক সংগঠন নয় বলে নিজেদের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করতে চেষ্টা করে। কাশ্মীরে জঙ্গি হামলা চালিয়ে আধাসামরিক বাহিনীর ৪৪ সদস্যকে হত্যার পর পাকিস্তান প্রথমে অস্বীকার করেছিল যে, কারা সেই হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান জানে না। কিন্তু তাদের ‘হাটে হাড়ি ভেঙে’ দেয় জইশ-ই-মোহাম্মদ নিজেই। কাশ্মীরে হামলার পর তারা জোর গলায় অনেকটা বীরের মতো দায় স্বীকার করে বলেছে, তারাই কাশ্মীরে হামলা করেছে। এছাড়াও বিভিন্ন সংগঠন বিভিন্নভাবে তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরার পর পাকিস্তানের মুখে চুনকালি পড়ে। তারা পরোক্ষ স্বীকার করতে বাধ্য হয় যে, জইশ-ই-মোহাম্মদ পাকিস্তানেই জন্ম নিয়েছে এবং বেড়ে উঠেছে। পাকিস্তানের বালাকোটে জইশ-ই-মোহাম্মদের প্রশিক্ষণ শিবির এবং তাদের আবাসিক ক্যাম্প রয়েছে তা ইতোমধ্যে পরিষ্কার হয়ে গেছে। তবে এ জইশ-ই-মোহাম্মদের ব্যাপারে ‘কফিনে শেষ পেরেক’টি মেরেছেন পাকিস্তানের সাবেক সামরিক শাসক ও প্রেসিডেন্ট জেনারেল পারভেজ মোশারফ। তিনি টিভিতে সাক্ষাৎকার দিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি প্রেসিডেন্ট থাকার সময় সেনাবাহিনী অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে জইশ-ই-মোহাম্মদকে দিয়ে ভারতের ভিতরে একাধিক সন্ত্রাসী হামলা করার অনুমোদন নিয়েছেন। পারভেজ মোশারফের কাছ থেকে এসব কথা বেরিয়ে আসার পর পাকিস্তান আর মুখ খুলে কিছু বলতে সাহস করেনি। কিছু বললেই তা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। পরে ‘কেঁচো খুঁরতে গিয়ে সাপ বেরিয়ে আসা’র মতো অবস্থা সৃষ্টি হয়ে যেতে পারে।

পাকিস্তানের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা নানাভাবে প্রমাণ করা যায়। বিশ্বের বিভিন্ন মিডিয়ার খবর অনুযায়ী এ কথা এখন দিনের আলোর মতো সত্য যে, ভারতের বিরুদ্ধে ছায়াযুদ্ধে জইশ-ই-মোহাম্মদের মতো গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করছে পাকিস্তান। যদিও পাকিস্তান সব সময়ই জইশ-ই-মোহাম্মদের অস্তিত্ব এবং এই সংগঠনের জন্ম এবং লালনভূমি পাকিস্তান সে তথ্য অস্বীকার করে এসেছে। কিন্তু পাকিস্তান যে সত্য গোপন করে মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছ তাও দিনের আলোর মতো সবার সামনে প্রতিভাত হয়েছে। পাকিস্তানে যদি জইশ-ই-মোহাম্মদের অস্তিত্ব না থাকে তবে পাকিস্তান কেন কাশ্মীরের পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার দুই সপ্তাহের মধ্যে জইশ-ই-মোহাম্মদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে? কেন পাকিস্তান ঘোষণা করেছে যে, তারা জইশ-ই-মোহাম্মদের লোকজনকে ধরপাকড় শুরু করেছে? কাশ্মীরে আধাসামরিক বাহিনীর গাড়িবহরে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলার পর নয়াদিল্লির সঙ্গে বিরাজমান উত্তেজনার মধ্যেই ৪০ জনেরও বেশি সন্দেহভাজন জঙ্গিকে আটক করার কথা জানিয়েছে পাকিস্তান। আটককৃতদের মধ্যে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই-মোহাম্মদের প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ আজহারের ভাই ও ছেলেও আছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। জঙ্গিদমনে তীব্র আন্তর্জাতিক চাপে থাকা পাকিস্তান জানিয়েছে, ‘দমনমূলক কর্মসূচির’ অংশ হিসেবে তারা ৪৪ জন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আজম সুলেমান খান বলেছেন, তদন্ত কর্মকর্তারা যদি আটককৃতদের বিরুদ্ধে কোন প্রমাণ পান তাহলেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। কাশ্মীরে গত মাসের হামলার পর পাকিস্তানি তদন্ত সংস্থাকে ভারত যাদের নাম দিয়েছিল, আটককৃতদের মধ্যে তাদের কয়েকজনও আছে বলে জানা গেছে। পাকিস্তানের জইশ-ই-মোহাম্মদ বিরোধী অভিযান প্রমাণ করে পাকিস্তানের মাটিতে জইশ-ই-মোহাম্মদ’র অস্তিত্ব নেই বলে পাকিস্তান যে বিবৃতি দিয়েছিল তা সর্বৈভ মিথ্যা এবং পাকিস্তান অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ভারতের বিরুদ্ধে জইশ-ই-মোহাম্মদকে ব্যবহার করেছে। অবশ্য সমালোচকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক চাপ প্রশমনের লক্ষ্যেই পাকিস্তান জইশ-ই-মোহাম্মদের কথা স্বীকার এবং সে জঙ্গি সংগঠনের নেতা-কর্মীদের কয়েকজনকে আটক করেছে। ভারত ও জাতিসংঘের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যও পাকিস্তানভিত্তিক এ সশস্ত্র সংগঠনটিকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবেই বিবেচনা করে থাকে। কিন্তু পাকিস্তান এ সংগঠনকে তাদের সন্ত্রাসী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজে লাগায় বলেই এই সংগঠনের অস্তিত্ব এবং এটি যে পাকিস্তানে লালিত-পালিত তা স্বীকার করতে চায় না।

বিগত দিনগুলোতে বিশ্বের সব দেশই পাকিস্তানের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা নিয়ে কম-বেশি সরব হয়েছে। পাকিস্তানের গ্রাম-গঞ্জ-শহরে স্থায়ী জঙ্গি তৎপরতা রয়েছে। ধারাবাহিক জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী তৎপরতা চালিয়ে সন্ত্রাসী দেশ হিসেবে পাকিস্তানের খ্যাতি এখন বিশ্বজোড়া। পাকিস্তান গত কয়েক বছর ধরে নিকৃষ্ট যে কাজটি করছে তা হলো ভারতে জঙ্গিবাদ ও জঙ্গি তৎপরতা রপ্তানি করা। বাংলাদেশেও পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই সন্ত্রাস ও জঙ্গি তৎপরতা জাগিয়ে তুলতে এমন কোন কাজ নেই যা তারা করেনি। বছরের পর বছর ধরে এটা করতে গিয়ে পাকিস্তান এই অঞ্চলের আতঙ্ক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এ গন্ডি থেকে বের হওয়ার অনেকে পথ বাতলে দিয়েছে বিভিন্ন দেশ, সংস্থা ও ব্যক্তি। কিন্তু পাকিস্তানের শাসকরা তাতে কান দিচ্ছে না। অনেকটা ‘চোর না শোনে ধর্মের কাহিনি’র মতো অবস্থা।

পাকিস্তানের অপকর্মের ফিরিস্তি অনেক লম্বা। এই অপকর্ম পাকিস্তান করে আসছে সেই জন্মের সময় থেকেই। ১৯৪৭ সালে ১৪ আগস্ট দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে সৃষ্টি হয় পাকিস্তান। তখন থেকেই পাকিস্তান বিপথে যাত্রা করে, যুগে যুগে চরম অপকর্ম করে, রাষ্ট্র হিসেবে তার ভদ্র ও শালিন ভাবমূর্তি বিসর্জন দেয়। আর পাকিস্তানের নানা অপকর্মের শিকার সবচেয়ে বেশি হয়েছে ভারত ও বাংলাদেশ। পাকিস্তানের শাসকরা কতটা খারাপ আর বর্বরতার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ দুটিÑ একটি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে গণহত্যা চালানো এবং আরেকটি সন্ত্রাসী তৎপরতার মাধ্যমে এ উপমহাদেশের সব দেশের শান্তিময় পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা। একাত্তরে বাংলাদেশে ৩০ লাখ মানুষ হত্যা করেছে পাকিস্তান। ভারতের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বাংলাদেশের মানুষ যুদ্ধ করে পাকিস্তানের ৯৩ হাজার সৈন্যকে পরাজিত করে ছিনিয়ে এনেছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। একাত্তরে চরমভাবে পরাজিত হলেও পাকিস্তান কোন শিক্ষা নেয়নি। মুক্তিযুদ্ধের দুই যুগ পর বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধের বিচারকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান একের পর এক ষড়যন্ত্র করেই যাচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষ পাকিস্তানের এসব অপকর্মকে কখনোই মেনে নেয়নি। বাংলাদেশের গণতন্ত্রমনা মানুষ, মুক্তিযোদ্ধা থেকে শুরু করে সব শ্রেণী-পেশার মানুষ পাকিস্তানকে এতটাই ঘৃণার চোখে দেখ যে, তারা পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সব সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবি জানায়।

ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের অপকর্ম আরও অনেক বেশি। ভারতকে শান্তিতে থাকতে দিতে চায় না পাকিস্তান। এজন্য যত ধরনের অপকর্ম করা যায় তার সবই করেছে পাকিস্তান। অন্তত গত ২০ বছরের একটি সংক্ষিপ্ত হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় প্রতিবছরই পাকিস্তান কোন কোন ভাবে ভারতের বিরুদ্ধে অপকর্ম করেছে।

ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের যত অপকর্ম তার বেশ কিছু সীমান্ত সংক্রান্ত। কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণ রেখার দুই পাশে দুই দেশের সেনাবাহিনী সতর্ক দৃষ্টি রাখে একে অপরের প্রতি। কিন্তু পাকিস্তানি সেনারা প্রায়ই সেখানে অস্ত্র বিরতি লঙ্ঘন করে। এক হিসেবে দেখা গেছে; পাকিস্তানি সেনারা ২০১৫ সালে ১৫২ বার, ২০১৭ সালে ৮৬০ বার এবং ২০১৮ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে ৩৫১ বার নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এর আগে পাকিস্তান বেশ কয়েকবার প্রশিক্ষিত জঙ্গি পাঠিয়ে ভারতের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি হামলা চালিয়েছে। ২০০১ সালের ১৩ ডিসেম্বর ভারতীয় পার্লামেন্টে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালায় জঙ্গিরা। ওই হামলায় ৫ হামলাকারীসহ ১৩ জন নিহত হয়। ওই হামলা করেছিল জঙ্গিগোষ্ঠী ‘লস্কর ই-তৈয়বা’ এবং ‘জয়শ-ই-মোহম্মদ’। ২০০৮ সালে জঙ্গি হামলা হয়েছিল মুম্বাইয়ে।

শুধু বড় বড় কয়েকটি অপকর্ম বিবেচনায় নিয়ে একথা সহজেই বলা যায় যে, ভারত অনেক ধৈর্য্য ধরেছে। পাকিস্তান বিগত দিনগুলোতে যত অপকর্ম করেছে ভারতের বিরুদ্ধে তার প্রতিটি অপকর্মের জন্যই পাকিস্তানকে ‘উচিত শিক্ষা’ দেয়া উচিত ছিল। সে উচিত শিক্ষা কী বা কেমন হতে পারে তা নিয়ে হয়তো বিতর্ক হতে পারে। কিন্তু উচিত শিক্ষা এখন পাকিস্তানের নিতান্তই পাওনা হয়ে গেছে। শুধু ভারতের বিরুদ্ধেই নয় বাংলাদেশের বিরুদ্ধেও যত অপকর্ম পাকিস্তান করেছে তার জন্য একই কথা প্রযোজ্য।

দৈনিক সংবাদ : ১৩ মার্চ ২০১৯, বুধবার, ৭ এর পাতায় প্রকাশিত

চুকনগর গণহত্যা দিবস : গণহত্যার সাক্ষ্য বহন করে চলেছে চুকনগরের মাটি

image

২৬ মার্চ ১৯৭১ সালে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন স্বাধীনতা ঘোষণা করেন, তখনও ঢাকাসহ কয়েকটি

জাহানারা ইমাম নিরলস যুদ্ধ করেছেন যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে

দিল মনোয়ারা মনু

image

আমাদের দেশে যখন মুক্তিযোদ্ধারা সূর্যরশ্মির মতো ছড়িয়ে পড়েন সবখানে, মুক্তিযুদ্ধে যখন হয়ে ওঠেন এক অবিনশ্বর আকাশ, যেখানে

জঙ্গিদের পরবর্তী লক্ষ্য কোন দেশ!

রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশকিছু ওলোট-পালটের ঘটনা ঘটছে। শিগগিরই আরও কিছু ঘটবে বলে মনে হচ্ছে। মারাত্মকভাবে হতাশায় নিমজ্জিত দলগুলোতেই

sangbad ad

এক বাগানের ফুল

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিধ্বস্ত জাপান নতুন যুগে পদার্পণ করতে চলেছে। আড়ম্বরের সঙ্গে আয়োজন করা হচ্ছে- জাপানের ভাবী সম্রাট নারুহিতো

প্রাচীন বাংলার ইতিহাস জাতিরাষ্ট্রের মাপকাঠিতে আটকে রাখা যায় না

image

প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের মন মাতানো গান ‘আমি বাংলায় গান গাই, আমি বাংলার গান গাই...’ নানা জনের মুখে মুখে ফেরে। ‘বাংলা’

বোরো ধানের ব্লাস্ট রোগ : কারণ ও প্রতিকার

ব্লাস্ট ধানের একটি ছত্রাকজনিত মারাত্মক ক্ষতিকারক রোগ। পাইরিকুলারিয়া ওরাইজি (Pyriculria Orayzai) নামক

শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই গড়ে তুলব বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা

বাঙালির অবিসংবাদিক নেতা ও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখন পাকিস্তানের অন্ধকার কারাগারে।

মুজিবনগর সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্ব

image

১৭ এপ্রিল বাঙালি জাতির ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন। ১৯৭১-এর এ দিনে কুষ্টিয়ার মেহেরপুরের আম্রকাননে একাত্তরে যুদ্ধ পরিচালনাকারী

মাদক আসছেই

জাতীয় দৈনিক পত্রিকা সূত্রে জানা যায়, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের পরও ঝিনাইদহের মহেশপুর ও চুয়াডাঙ্গার জীবননগর

sangbad ad