• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

 

নন্দিত নেতা জিল্লুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি

মোহাম্মদ শাহজাহান

নিউজ আপলোড : ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯

image

২০ মার্চ ছিল প্রয়াত রাষ্ট্রপতি, আওয়ামী লীগের প্রথম সারির নেতা সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য রাজনীতিবিদ জিল্লুর রহমানের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৩ সালের এ দিনে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮৪ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ... রাজিউন)। এটা ঠিক, পরিণত বয়সেই তিনি এ নশ্বর পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিয়েছেন। কিন্তু দেশ ও জাতির বিভিন্ন সংকটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী এ ব্যক্তিত্বের মৃত্যু সর্বস্তরের মানুষকে শোকাহত করে। ২০০৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তিনি দেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। প্রায় ৬ দশক ধরে তিনি স্বাধীনতাযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। তবে দলীয় রাজনীতির সংকীর্ণ গন্ডিতে নিজেকে কখনও সীমাবদ্ধ করে রাখেননি এ মহৎপ্রাণ মানুষটি। দলের নীতি-আদর্শ এবং নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্যে তার কোন জুড়ি নেই। রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গবন্ধুকন্যা দুজনেরই আস্থা অর্জন করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু তাকে তিনবার এবং শেখ হাসিনা দুইবার দলের সাধারণ সম্পাদক নিযুক্ত করেন। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক জিল্লুর রহমান তার নির্বাচনী এলাকা থেকে ৬ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

৬০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে পদ-পদবির জন্য কোন তদবির যেমন তিনি করেননি, আবার কোন ধরনের দলীয় কোন্দলেও জড়িত হননি। সমগ্র জীবনেই তিনি বহুবার দলীয় ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামী লীগের মতো ঐতিহ্যবাহী এবং কোন্দলপূর্ণ দলের বারবার সাধারণ সম্পাদক ও দলের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডিয়ামের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। তিনি মন্ত্রী, জাতীয় সংসদের উপনেতা এবং সর্বশেষ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। চার বছরের বেশি সময় রাষ্ট্রপতির গুরুদায়িত্ব পালনকালে নিজেকে কখনো দলীয় সংকীর্ণতার মধ্যে আবদ্ধ রাখেননি। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত দক্ষতা, যোগ্যতা এবং সুনামের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করে গেছেন। সেই ছাত্রজীবন থেকে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তিনি ছিলেন নির্লোভ ও অমায়িক। তিনি অত্যন্ত সাদাসিধা জীবনযাপন করেছেন। তার মধ্যে সামান্যতম অহংবোধ ছিল না। রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর একটি পত্রিকার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি অকপটে বলে ফেলেনÑ ‘দেশের রাষ্ট্রপতি হবো, জীবনে তা কোনদিন কল্পনাও করিনি।’ গ্রেনেড হামলায় এ বৃদ্ধ বয়সে প্রিয়তম স্ত্রীকে হারিয়েও তিনি ভেঙে পড়েননি। সদালাপী, সজ্জন, দেশপ্রেমিক, নির্বিবোধ, নীতিবান, নীতিনিষ্ঠ, সহজ-সরল, কোমলপ্রাণ এ মানুষটি সব দলের কাছে ছিলেন গ্রহণযোগ্য।

ব্যক্তিগত শ্রদ্ধার ক্ষেত্রে জিল্লুর রহমানের অবস্থান এতটাই উচ্চ ছিল যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও তার আহ্বানকে না বলতে পারেননি। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান যখন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের বৈঠক আহ্বান করেন, তখন সহকর্মীদের নিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী সেই বৈঠকে যোগদান করেন। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন সম্মান ও শ্রদ্ধা বিরলই বলা যায়। বর্তমান বাংলাদেশেও দ্বিতীয় এমন রাজনৈতিক নেতা নেই, যিনি দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে গ্রহণযোগ।

জিল্লুর রহমানের রাজনীতির মূল লক্ষ্য ছিল জনকল্যাণ। জাগতিক লোভ তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। তিনি শুধু সৎ ছিলেন না, অসম সাহসীও ছিলেন। রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রী ছাড়াও ক্ষমতার পাদপীঠেই ছিলেন। কিন্তু অনিয়ম ও দুর্নীতি তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। ওয়ান-ইলেভেনের পর ক্ষমতা দখলকারীরা মাইনাস-টু এর নামে মূলত শেখ হাসিনাকেই রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে চেয়েছিল। ফখরুদ্দীন-মইনউদ্দিন চক্র ওই সময় ব্যক্তিগত সফরে দেশের বাইরে থাকা শেখ হাসিনাকে বিদেশে রাখতে প্রাণপণ চেষ্টা করেন। এক রকম যুদ্ধ করে জননেত্রী স্বদেশে ফিরে আসেন। কোন চাপের কাছে নতি স্বীকার করেননি। গ্রেফতার হন বঙ্গবন্ধুকন্যা। নেত্রী দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দিয়ে যান জিল্লুর রহমানকে। এরপর ফখরুদ্দীন চক্র আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার চক্রান্ত করে। বিএনপির নেতারা দলীয় প্রধান থেকে খালেদা জিয়াকে সরিয়ে সাইফুর রহমান ও মেজর (অব.) হাফিজের নেতৃত্বে বিএনপির নতুন কমিটি গঠন করে। এরপর শুরু হয় আওয়ামী লীগ ভাঙার চক্রান্ত। আওয়ামী লীগের প্রথম সারির নেতারা প্রায় সবাই ভয়-ভীতির মুখে চুপ হয়ে যান। সাধারণ সম্পাদক জলিল ভাই সরব থাকলেন। জিল্লুর রহমান ও জলিল ভাই সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেই নেত্রীর পক্ষে কথা বলতে থাকেন। ওই সময় বেশ কিছু মহিলা নেত্রী, মাঝারি পর্যায়ের নেতারা এবং একদল আইনজীবী শেখ হাসিনার পক্ষে বীরোচিত ভূমিকা পালন করেন।

কাবু করতে না পেরে ২০০৭-এর ২৮ মে আবদুল জলিলকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের আগ পর্যন্ত তিনি নেত্রীর পক্ষে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেন। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এরপর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। সাধারণ সম্পাদকসহ সারা দেশে আওয়ামী লীগের ছোট বড় বহু নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। প্রিয়তমা স্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যুর পর দুর্বল ও রোগ জর্জরিত শরীর নিয়ে ৭৮ বছরের বৃদ্ধ জিল্লুর রহমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে যা করেছেন, তাকে ঐতিহাসিক বললেও কম বলা হবে। ভদ্র, বিনয়ী, মৃদুভাষী, দুর্বল শরীরের জিল্লুর রহমান রাতারাতি যেন ‘লৌহ মানবে’ পরিণত হয়ে গেলেন। সেনা তাঁবেদার সরকারের রক্তচক্ষু অগ্রাহ্য করে ঠান্ডা মাথায় আওয়ামী লীগকে মনজিলে মকসুদে পৌঁছাতে সক্ষম হন তিনি। শত চক্রান্ত করেও মইনউদ্দিন চক্র আওয়ামী লীগকে বিভক্ত করতে পারেনি। আওয়ামী লীগকে জিল্লুর রহমান ঐক্যবদ্ধ রাখতে সমর্থ হন।

ক্ষমতা দখলের ১৬/১৭ মাসের মাথায় সেনাসমর্থিত সরকার সংলাপে বসার প্রস্তাব দেয়। সংলাপে আওয়ামী লীগ যাবে কি-না এ ব্যাপারে সারা দেশের জেলার নেতাদের নিয়ে একটি বৈঠক হয়। ২৬ মে ২০০৮ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ওই সভা হয়। আওয়ামী লীগের সব জেলা শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে আমিও উপস্থিত ছিলাম। সভানেত্রীর আসন খালি ছিল। ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে ওই বৈঠক শুরু হয়। আমার স্পষ্ট মনে আছে, বৈঠকে একটা সেøাগানই ছিলÑ ঘড় ঐধংরহধ- ঘড় ফরধষড়মঁব. ঘড় ঐধংরহধ হড় বষবপঃরড়হ. অর্থাৎ শেখ হাসিনা ছাড়া আওয়ামী লীগ সংলাপেও যাবে নাÑ নির্বাচনেই যাবে না। দলের সারা দেশের জেলার নেতারা একবাক্যে দলীয় সভানেত্রীর মুক্তি দাবি করে বলেন, নেত্রী মুক্ত হলেই সংলাপ ও নির্বাচনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবেন। জেলার নেতারা দলের চুপসে যাওয়া নেতাদের তীব্র সমালোচনা করে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং জিল্লুর রহমানের দূরদর্শিতা, সাহস, অনমনীয়তা ও আপসহীনতার কাছে ফখরুদ্দীন চক্রের চক্রান্ত ব্যর্থ হয়। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনের মাধ্যমে ইয়াজউদ্দিন-ফখরুদ্দীন ও মইনউদ্দিনরা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে সম্মানজনক পলায়নের পথ বেছে নিয়েছিলেন। ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ’৬৬-এর ৬ দফা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধসহ বাঙালি জাতির সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্বের প্রথম সারিতে ছিলেন এ জিল্লুর রহমান।

১৯২৯ সালের ৯ মার্চ, বর্তমান কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরবে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫৪ সালে এমএ ও এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৫৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফজলুল হক হল ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক আমতলায় ১৯৫২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারির ঐতিহাসিক ছাত্র সমাবেশে তিনি সভাপতিত্ব করেন। ঐ সভায় ২১ ফেব্রুয়ারির কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে ফজলুল হক হল ও ঢাকা হলের মধ্যবর্তী পুকুর পাড়ে যে ১১ ছাত্রনেতার নেতৃত্বে ২১ ফেব্রুয়ারির ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, জিল্লুর রহমান তাদের অন্যতম ছিলেন। ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্বের পুরোভাগে থাকার কারণে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত হন এবং তার মাস্টার্স ডিগ্রির ফল স্থগিত রাখা হয়। প্রবল ছাত্র আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার মাস্টার্স ডিগ্রি ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছিল।

১৯৫৪ সালের ঐতিহাসিক যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে তিনি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তরুণ বয়সেই তিনি পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হন। তিনি ছিলেন কিশোরগঞ্জ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। ষাটের দশকেই ঢাকা জেলা বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এডভোকেট জিল্লুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর একান্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত হিসেবে বাষট্টি, ছেষট্টে, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানসহ প্রত্যেকটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে নেতৃত্ব দেন।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে তাজউদ্দীন আহমেদের স্থলে সাধারণ সম্পাদক হন জিল্লুর রহমান।

১৯৭৫ সালে বিশেষ পরিস্থিতিতে দেশের সব রাজনৈতিক দল নিয়ে বঙ্গবন্ধু জাতীয় দল বাকশাল গঠন করেন। নতুন দলের ৩ সম্পাদকের জ্যেষ্ঠ সম্পাদক করা হয় জিল্লুর রহমানকে। আওয়ামী লীগের ৬ দশকের ইতিহাসে একমাত্র জিল্লুর রহমানই চারবার (বাকশালের সম্পাদকসহ ৫ বার) সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ঘাতক সরকার অন্য নেতাদের সঙ্গে জিল্লুর রহমানকেও গ্রেফতার করে। যদ্দুর জানা যায়, জিল্লুর রহমান এবং তোফায়েল আহমদকে বঙ্গভবনে ঘাতক সর্দার ও অবৈধ রাষ্ট্রপতি খোন্দকার মোশতাকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘাতকদের হুমকির মুখেও এই দু’নেতা খুনি সরকারের প্রতি আনুগত্য পোষণ করেননি।

সাড়ে তিন বছর জেলে থেকে ১৯৭৮ সালে অন্য নেতাদের সঙ্গে জিল্লুর রহমানও মুক্তি লাভ করেন। ১৯৭৭, ১৯৭৮ ও ১৯৮১ সালে দলীয় কাউন্সিলে নেতৃত্ব নিয়ে চরম কোন্দলের সময় এই নেতা কোন উপদলে যাননি। নিজে নেতৃত্ব না চেয়ে যদ্দুর সম্ভব কোন্দল মিটিয়ে দল ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা করেছেন। তার চেয়ে জুনিয়রদের নেতৃত্বে লো-প্রোফাইলে থেকে দলের কাজ করে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। ১৯৯২ এবং ১৯৯৭ সালে দলীয় কাউন্সিলে তিনি আবারও পর পর দু’বার সর্বসম্মতিক্রমে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী হন। একই সঙ্গে ৫ বছর সংসদ উপনেতার দায়িত্বও পালন করেন। ২০০৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সংসদ উপনেতার দায়িত্ব পালন করেন।

রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মতো ভদ্র, বিনয়ী, মিতভাষী, শান্তিপ্রিয়, সৎ, সহজ-সরল, প্রচারবিমুখ, পরমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, চরিত্রবান, আদর্শবান, নীতিবান, নিরহংকার, নির্লোভ, দৃঢ়চেতা, দেশপ্রেমিক ও অজাতশত্রু রাজনীতিবিদ বাংলাদেশে দ্বিতীয়জন খুঁজে পাওয়া যাবে কি? দলের আদর্শ ও নেতৃত্বের প্রতি প্রশ্নাতীতভাবে অনুগত এমন নেতা এদেশের ইতিহাসে আর কোনদিন হয়তো জন্মগ্রহণ করবেন না।

রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের অসাধারণ এ অর্জন এমনিতে হয়নি। এর জন্য তিনি সীমাহীন ত্যাগ স্বীকার করেছেন, জেলে গিয়েছেন বহুবার। এমনকি খালেদা-তারেকের দুঃশাসনকালে জীবনের শেষ বয়সে প্রিয়তমা স্ত্রী আইভি রহমানের মর্মান্তিক মৃত্যু শোকও সহ্য করতে হয়েছে। তার চরিত্রের অতুলনীয় বৈশিষ্ট্য হলো, এত বড় বিপর্যয়ও তাকে প্রতিহিংসাপরায়ণ করে তোলেনি। আর এ জন্যই আজীবন আদর্শের রাজনীতিতে অবিচল থাকা সত্ত্বেও তার কোন শত্রু ছিল না। সব গণতান্ত্রিক সমাজ এমন বিরল চরিত্রের নেতাকে নিয়ে গর্ব করতে পারে।

[লেখক : সাপ্তাহিক বাংলাবার্তা সম্পাদক]

bandhu.ch77@yahoo.com

দৈনিক সংবাদ : ২১ মার্চ ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ৭ এর পাতায় প্রকাশিত

আমার বন্ধু শামিম কবির

image

সেই সোমবারে সকাল ১০টার পরও ঘুমাচ্ছিলাম। বহু বছর আগে অবসর নেয়ার পর থেকেই বেলা পর্যন্ত ঘুমানোর অভ্যাস আমার। টেলিফোনটার

সংস্কৃতির মূলধারা সঙ্কুচিত হচ্ছে

দেশে সংস্কৃতিচর্চার সুযোগ দিন দিন কমছে। সরকারি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে পেশাদারি, জবাবদিহি ও আন্তরিকতার অভাব। সংস্কৃতি

সাত দশকে আওয়ামী লীগের অর্জন ও ব্যর্থতা

২৩ জুন ২০১৯ আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। আওয়ামী লীগ এ উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন দল। রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী

sangbad ad

বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও শেখ হাসিনা

১১ জুন বাঙালি জাতির জীবনে একটি রেড লেটার ডে। আজ থেকে ১১ বছর আগে ২০০৮ সালের এই দিনে (১১ জুন) সেনাসমর্থিত

জিয়া-মঞ্জুর হত্যা এবং এরশাদের রাষ্ট্রক্ষমতা দখল

ইংরেজিতে একটি কথা আছে, ‘বেটার লেট দ্যান নেভার’ অর্থাৎ একেবারে না হওয়ার চেয়ে বিলম্বে হওয়াটা ভালো। বিলম্বে হলেও বিচার

চিনি শিল্পে সংকট ও উত্তরণ

সময় মতো আখ বিক্রির টাকা না পেয়ে ক্ষোভে-দুঃখে জমি থেকে আখ উপড়ে ফেলেছেন জয়পুরহাট চিনি কলের কৃষক। আখের বদলে আবাদ

চুকনগর গণহত্যা দিবস : গণহত্যার সাক্ষ্য বহন করে চলেছে চুকনগরের মাটি

image

২৬ মার্চ ১৯৭১ সালে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন স্বাধীনতা ঘোষণা করেন, তখনও ঢাকাসহ কয়েকটি

জাহানারা ইমাম নিরলস যুদ্ধ করেছেন যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে

দিল মনোয়ারা মনু

image

আমাদের দেশে যখন মুক্তিযোদ্ধারা সূর্যরশ্মির মতো ছড়িয়ে পড়েন সবখানে, মুক্তিযুদ্ধে যখন হয়ে ওঠেন এক অবিনশ্বর আকাশ, যেখানে

জঙ্গিদের পরবর্তী লক্ষ্য কোন দেশ!

রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশকিছু ওলোট-পালটের ঘটনা ঘটছে। শিগগিরই আরও কিছু ঘটবে বলে মনে হচ্ছে। মারাত্মকভাবে হতাশায় নিমজ্জিত দলগুলোতেই

sangbad ad