• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , রোববার, ১৯ মে ২০১৯

 

জলিল ভাইয়ের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি

মোহাম্মদ শাহজাহান

নিউজ আপলোড : ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

image

৬ মার্চ আওয়ামী লীগের সাবেক সফল সাধারণ সম্পাদক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক মন্ত্রী, সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য জাতীয় নেতা আবদুল জলিলের ৬৯তম মৃত্যুবার্ষিকী। দেশ ও জাতির এক কঠিন সময়ে জননেতা আবদুল জলিল প্রায় ৬ বছর দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর এতটাই বিশ্বস্ত এবং আস্থাভাজন ছিলেন যে, কখনও কখনও মনে হতো জলিল ভাই নিজের জীবনের মতোই তার নেত্রীকে ভালোবাসেন ও শ্রদ্ধা করেন। আনুগত্যের পরীক্ষায় তার কোন তুলনা হয় না। কিন্তু চক্রান্তকারীরা জীবনের শেষ দিনগুলোতে এ ত্যাগী ও নিষ্ঠাবান নেতাকে স্বস্তিতে থাকতে দেয়নি। তিনি ছিলেন একজন ফুলটাইম রাজনীতিবিদ। তার ফোন ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকত। তার মধ্যে কোন অহংবোধ ছিল না। দলের যে কোন পর্যায়ের নেতা বা কর্মী যে কোন সময় তার সঙ্গে দেখা করতে পারতেন। দেশের যে কোন প্রান্তের একজন কর্মী টেলিফোনে তার সঙ্গে কথা বলতে পারতেন। জলিল ভাইয়ের মধ্যে এমন সব রাজনৈতিক গুণাবলী ছিল, যা সচরাচর দেখা যায় না। আমাদের দেশে একদলের রাজনীতিবিদের সঙ্গে অন্য দলের নেতার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নেই বললেই চলে। আওয়ামী লীগের প্রথম সারির নেতাদের মধ্যে জিল্লুর রহমান, আবদুর রাজ্জাক ও আবদুল জলিল ছিলেন ব্যতিক্রম। এ তিন নেতা আমাদের দেশের ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সহিংস রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্যেও অন্য দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সদ্ভাব বজায় ও সুসম্পর্ক রক্ষা করে চলেছেন।

আওয়ামী লীগের প্রয়াত শক্তিমান নেতা আবদুর রাজ্জাক ও আবদুল জলিল দু’জনই ছিলেন সতীর্থ। দু’জনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একই ক্লাসে পড়াশোনা করেছেন। তারা দু’জন ছিলেন হরিহর আত্মা। দু’জনই ছিলেন একই দলের প্রভাবশালী নেতা। দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়ার জন্য তাদের মধ্যে কোন প্রতিযোগিতা ছিল না। দু’জনই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতিম-লীর সদস্য ছিলেন। দু’জনই আজ প্রয়াত। তবে মৃত্যুর পূর্বে জলিল ভাই তার বন্ধু আবদুর রাজ্জাকের চিকিৎসার জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। জীবনের শেষ দিকে ২০১১ সালে আবদুর রাজ্জাক গুরুতরভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। লন্ডনে তার চিকিৎসা হয়। দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনের একটি হাসপাতালে ভর্তি থেকে তার চিকিৎসা চলছিল। ওই চিকিৎসা ছিল বেশ ব্যয়বহুল। আবদুর রাজ্জাকের দল ওই সময় রাষ্ট্রক্ষমতায়। যদ্দুর জানি, রাষ্ট্র বা সরকার থেকে জননেতার চিকিৎসার জন্য কোন টাকা-পয়সা দেয়া হয়নি। আবদুর রাজ্জাকের চিকিৎসার ওই গুরুতর অর্থ সংকটকালে জননেতা আবদুল জলিল নীরবে বসে থাকতে পারেননি। মার্কেন্টাইল ব্যাংক থেকে একটি বিরাট অ্যামাউন্টের টাকা রাজ্জাক ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য দেয়া হয়। আমার সম্পাদনায় প্রকাশিত আবদুর রাজ্জাক স্মারক গ্রন্থের জন্য রাজ্জাক ভাইয়ের ওপর সাক্ষাৎকার নিতে জলিল ভাইয়ের বাসায় গিয়েছিলাম। সাক্ষাৎকার কালে চিকিৎসার জন্য এত টাকা কিভাবে দিলেন জানতে চাইলে দরদভরা কণ্ঠে জলিল ভাই জানান, ‘রাজ্জাক আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু, দেশ ও জাতির একজন বরেণ্য নেতা। আমার ব্যাংকের পরিচালকদের অনুরোধ করেছি। তারা আমার অনুরোধ রক্ষা করে ২ কোটি টাকা দিয়েছেন। আমি বন্ধু হিসেবে বন্ধুর প্রতি দায়িত্ব পালন করেছি মাত্র।’ এমন দরদি নেতাই ছিলেন আবদুল জলিল।

এটা সবাই স্বীকার করবেন জননেতা আবদুল জলিল ছিলেন তার নেত্রীর শতভাগ অনুগত এবং আস্থাভাজন নেতা। নেত্রীর প্রতি আনুগত্যের প্রমাণও তিনি দিয়েছেন। ওয়ান-ইলেভেনের পর তৎকালীন সেনাসমর্থিত ফখরুদ্দীন সরকার শুরুতে বেশ কয়েকটি জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ নিয়ে তুমুল জনপ্রিয়তা লাভ করে। কিছুদিন পর ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার লালসায় রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। মাইনাস-টুর মাধ্যমে আসলে শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখাই ছিল ওদের মূল লক্ষ্য। বিএনপি নেতারা খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে সাইফুর রহমান ও মেজর হাফিজের নেতৃত্বে পাল্টা বিএনপিও গঠন করে। কিন্তু ওই সময় আওয়ামী লীগের ছোট-বড় কিছু নেতা নির্যাতন ও চাপের মুখে নতি স্বীকার করলেও সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল এবং হাজারও নেতাকর্মী নেত্রীর প্রতি অবিচল আস্থার পরিচয় দেন। আওয়ামী লীগ নেত্রীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের সেই দিনগুলোতে জলিল ভাই প্রায় প্রতিদিন তার নেত্রীর স্বপক্ষে জোরালো বক্তব্য দিয়েছেন। কোনোভাবেই কাবু করতে না পেরে ২০০৭ এর ২৮ মে জলিল ভাইকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তার ওপর চলে নিষ্ঠুর মানসিক নির্যাতন। পরে জলিল ভাই বলেছেন, দু’জন সরকারি কর্মকর্তা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাসপাতালে জিজ্ঞাসাবাদের নামে তাকে রাতে ঘুমাতে দেননি। নির্যাতনের মুখেও তিনি অনড় ও অটল থাকেন। একপর্যায়ে তার স্ত্রী, পুত্র ও কন্যাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে গ্রেফতারের হুমকি দেয়া হয়। স্ত্রী, পুত্র ও কন্যাদের গ্রেফতার ও নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষার জন্যই হয়তো অসুস্থ জলিল ভাই নেত্রীর বিরুদ্ধে কথা বলতে বাধ্য হয়েছিলেন। এরপর জলিল ভাইয়ের দেয়া জবানবন্দি সংবলিত সিডি পরিকল্পিতভাবে সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়া হয়। জলিল ভাই যদি নেত্রীর বিরুদ্ধে কথা বলতে রাজি হতেন, তাহলে তো আরও অনেক নেতার মতো তিনি গ্রেফতারই হতেন না।

একজন জনদরদি জাতীয় নেতার যতগুলো গুণ থাকা দরকার, এর প্রায় সবগুলোই সদ্য প্রয়াত এই নেতার মধ্যে ছিল। তৃণমূল থেকে উঠে এসে তিনি জাতীয় নেতা হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন দেশপ্রেমিক, সৎ, অমায়িক, পরিশ্রমী, নির্লোভ, নীতিবান, ধৈর্যশীল, ভদ্র, বিনয়ী, নিরহংকার, উদার, দয়ালু, সাহসী, দলের জন্য নিবেদিত, নেত্রীর বিশ্বস্ত একজন ফুলটাইম রাজনীতিবিদ।

একেবারে তৃণমূল থেকে উঠে আসা আবদুল জলিল ১৯৩৯ সালের ২১ জানুয়ারি নওগাঁ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। স্কুলে পড়ার সময় ১৯৫৪ সালে তিনি ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৬০ সালে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তারা দু’জন ছিলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ১৯৬৩ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৬৪ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। নওগাঁর বনেদি পরিবারের সন্তান আবদুল জলিল ষাটের দশকের শেষ দিকে বার-এট-ল পড়তে লন্ডন যান। সত্তরের নির্বাচনের আগে বাঙালি জাতির মহান নেতা শেখ মুজিব বৃটেন সফর করেন। সে সময় অন্যান্য ছাত্রদের সঙ্গে আবদুল জলিলও দেখা করেন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে। বঙ্গবন্ধু ছাত্রদের বলেন, ‘আমি যখন ডাকব, তখন তোরা দেশে চলে আসবি।’ নির্বাচনের পর স্বাধীনতা যুদ্ধের দামামা বেজে উঠলে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তিনি স্বদেশ ফিরে আসেন। স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে ভারত চলে যান। সে সময় সারা বাংলার উত্তরাঞ্চলের মুজিব বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর মুক্তিযোদ্ধাদের রিক্রুটের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বার-এট-ল কোর্স সম্পন্ন করতে তার আর লন্ডন যাওয়া হয়নি। এর প্রধান কারণ বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। হ্যামিলনের বংশীবাদক মহান মুজিবের স্নেহ ও ভালোবাসার কারণে জলিল ভাইয়ের মতো বাংলার অনেক তরুণ-যুবকের জীবনের গতিই বদলে গেছে। আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, শুধু বঙ্গবন্ধুর আদর, স্নেহ, সোহাগ ও ভালোবাসার কারণে এ দেশের হাজারও ছাত্র, যুবক ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ করেছে।

১৯৭৩ সালে মাত্র ৩৪ বছর বয়সে নওগাঁ থেকে আবদুল জলিল সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিশেষ পরিস্থিতিতে কিছু সময়ের জন্য ১৯৭৫ সালে জাতীয় দল বাকশাল গঠিত হলে আবদুল জলিল নওগাঁর গভর্নর নিযুক্ত হন। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর স্বৈরশাসক জিয়া আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকে গ্রেফতার করে। আবদুর রাজ্জাক, আবদুল জলিল, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদসহ শত শত নেতা বিনা বিচারে প্রায় চার বছর কারাগারে থাকার পর মুক্তি লাভ করেন। ১৯৮৬ সালে এবং ২০০৭ সালে আরো দু’বার তাকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রায় ৬০ বছরের বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে আবদুল জলিল ফুলটাইম আওয়ামী লীগের জন্য কাজ করে গেছেন। তিনি ১৯৭৩, ১৯৮৬, ২০০১ এবং ২০০৮ সালে চারবার সংসদ সদস্য এবং ১৯৮৪ ও ১৯৮৬ সালে দু’বার নওগাঁ পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে দল ক্ষমতায় এলে কিছুদিন পর টেকনোক্র্যাট কোটায় তিনি মন্ত্রী হন। বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি সফলতাও দেখান। যোগ্যতা ও মেধার কারণে বহুবার তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ অলংকৃত করেন। তিনি নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছাড়ারও আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী কমিটির সদস্য, আন্তর্জাতিক সম্পাদক, ৩ বার যুগ্ম সম্পাদক, দুই টার্মে সভাপতিম-লীর সদস্য এবং দলের সংকটময় মুহূর্তে প্রায় ৬ বছর সাধারণ সম্পাদকের গুরুদায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬ সালের সংসদ নির্বাচনের পর তিনি আওয়ামী লীগ সংসদীয় দলের চিফ হুইপ নির্বাচিত হন। তাছাড়া তিনি ১৪ দলীয় জোটের সমন্বয়কের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেন।

২০০১ সালের অক্টোবরে জামায়াত-বিএনপি জোট ক্ষমতায় আসার পর দেশ ও দলের কঠিনতম সময়ে ২০০২-এর ডিসেম্বরে দলীয় কাউন্সিলে আবদুল জলিল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। জোট আমলের সেই কঠিনতম দুঃসময়ে জলিল ভাই দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দক্ষতা ও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখেন।

জলিল ভাইয়ের ছয় দশকের রাজনৈতিক জীবন এবং তার অসাধারণ মানবিক গুণাবলী নিয়ে একটি কলামে কিছুই লেখা সম্ভব নয়। আবদুল জলিলের অমর কীর্তি তার প্রতিষ্ঠিত মার্কেন্টাইল ব্যাংক। দল প্রথমবার ক্ষমতায় এলে তিনি মার্কেন্টাইল ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি তার ব্যাংককে একটি মানবিক ব্যাংক হিসেবে গড়ে তোলেন। প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি ছিলেন ব্যাংক পরিবারের সবারর অভিভাবক। যে কোনো পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী তার সমস্যার কথা তাদের প্রিয় চেয়ারম্যানকে জানাতে পারতেন। তিনি সবার কথা শুনেছেন এবং সমস্যাগুলো যদ্দুর সম্ভব সমাধান করেছেন।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে আবদুল জলিল দল ও জাতির জন্য জীবন উৎসর্গ করে গেছেন। দলের সভানেত্রীর খুবই আস্থাভাজন ছিলেন তিনি। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, ২০০৮ সালে কারাগার থেকে মুক্তি লাভের পর তিনি আর দলীয় দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাননি। মাঝে মধ্যে বলতেন, ‘আমি জানি নাÑ আমার কি অপরাধ।’ জলিল ভাই এখন সব চাওয়া পাওয়ার ঊর্ধ্বে। তিনি দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য মানুষ ছিলেন। মৃত্যুর পর ৫টি জানাজায় মানুষের ঢল নামে। দেশের বিভক্ত রাজনৈতিক পরিবেশেও সব দলের নেতারা প্রয়াত আবদুল জলিলের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধী দলীয় নেতাসহ আরো অনেকে প্রয়াত নেতার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। তার জানাজায় অংশ নিয়ে বিএনপি নেতারা আবদুল জলিলকে সৎ, নির্লোভ, দেশপ্রেমিক ও গণমানুষের নেতা হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, ‘তিনি ছিলেন আপাদমস্তক রাজনীতিবিদ। দেশ ও দলের প্রতি তার ছিল অসাধারণ কমিটমেন্ট। তার কাছ থেকে শেখার মতো অনেক কিছু ছিল।’

জননেতা তোফায়েল আহমেদ এবং সাংবাদিক ওবায়দুল কবিরের মন্তব্য দিয়েই আজকের লেখার ইতি টানতে চাই। তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ জলিল ভাইকে অনেক দিয়েছে। তিনিও আওয়ামী লীগকে অনেক দিয়েছেন। তবে শেষ জীবনে তিনি মানসিকভাবে কিছুটা দুঃখ-কষ্টে ছিলেন। নেত্রীর আস্থাভাজন হিসেবে আওয়ামী লীগকে তিনি সুসংগঠিত করেছেন। তিনি ছিলেন গণমানুষের নেতা, জননেতা এবং জাতীয় নেতা। তার মৃত্যু জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।’ ওবায়দুল কবির ‘আবদুল জলিলÑ আকাশের মতো উদার রাজনীতিক’ শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে লিখেছেনÑ ‘আজ আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি, বাংলাদেশের দুই দলের সব রাজনৈতিক নেতা থেকে জলিল ভাই ছিলেন একটু আলাদা। আনুগত্যে তিনি ছিলেন সবার থেকে এগিয়ে। উদারতায় আকাশ ছোঁয়া। সততা, স্পষ্টবাদিতা এবং নিষ্ঠা ছিল তার নেতৃত্বের অলংকার। কঠোর পরিশ্রমী ও কর্মী নিবেদিত এমন নেতা এই দেশে হাতেগোনা। বুকে বাইপাস অপারেশন ও পেসমেকার, কিডনি ও লিভারের সমস্যা নিয়েও তিনি যতটা পরিশ্রম করতেনÑ তা ছিল অকল্পনীয়।’ জলিল ভাইয়ের মতো জনগণের নেতাদের মৃত্যু নেই। সবশেষে সর্বমহলে সৎ ও গ্রহণযোগ্য মানুষ হিসেবে সুপরিচিত একজন মহান দেশপ্রেমিক জাতীয় নেতা সুপ্রিয় জলিল ভাইয়ের প্রতি হৃদয়ের প্রাণঢালা শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করছি।

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
[লেখক : সাপ্তাহিক বাংলাবার্তা সম্পাদক]
bandhu.ch77@yahoo.com

দৈনিক সংবাদ : মঙ্গলবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৭ এর পাতায় প্রকাশিত

জাহানারা ইমাম নিরলস যুদ্ধ করেছেন যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে

দিল মনোয়ারা মনু

image

আমাদের দেশে যখন মুক্তিযোদ্ধারা সূর্যরশ্মির মতো ছড়িয়ে পড়েন সবখানে, মুক্তিযুদ্ধে যখন হয়ে ওঠেন এক অবিনশ্বর আকাশ, যেখানে

জঙ্গিদের পরবর্তী লক্ষ্য কোন দেশ!

রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশকিছু ওলোট-পালটের ঘটনা ঘটছে। শিগগিরই আরও কিছু ঘটবে বলে মনে হচ্ছে। মারাত্মকভাবে হতাশায় নিমজ্জিত দলগুলোতেই

এক বাগানের ফুল

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিধ্বস্ত জাপান নতুন যুগে পদার্পণ করতে চলেছে। আড়ম্বরের সঙ্গে আয়োজন করা হচ্ছে- জাপানের ভাবী সম্রাট নারুহিতো

sangbad ad

প্রাচীন বাংলার ইতিহাস জাতিরাষ্ট্রের মাপকাঠিতে আটকে রাখা যায় না

image

প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের মন মাতানো গান ‘আমি বাংলায় গান গাই, আমি বাংলার গান গাই...’ নানা জনের মুখে মুখে ফেরে। ‘বাংলা’

বোরো ধানের ব্লাস্ট রোগ : কারণ ও প্রতিকার

ব্লাস্ট ধানের একটি ছত্রাকজনিত মারাত্মক ক্ষতিকারক রোগ। পাইরিকুলারিয়া ওরাইজি (Pyriculria Orayzai) নামক

শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই গড়ে তুলব বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা

বাঙালির অবিসংবাদিক নেতা ও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখন পাকিস্তানের অন্ধকার কারাগারে।

মুজিবনগর সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্ব

image

১৭ এপ্রিল বাঙালি জাতির ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন। ১৯৭১-এর এ দিনে কুষ্টিয়ার মেহেরপুরের আম্রকাননে একাত্তরে যুদ্ধ পরিচালনাকারী

মাদক আসছেই

জাতীয় দৈনিক পত্রিকা সূত্রে জানা যায়, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের পরও ঝিনাইদহের মহেশপুর ও চুয়াডাঙ্গার জীবননগর

চৈত্রসংক্রান্তি : আদি-অন্তের সুলুকসন্ধান

‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা’। ‘চৈত্রসংক্রান্তি’- বাংলা বছরের শেষ মাস চৈত্রের শেষ দিন, ঋতুরাজ বসন্তেরও

sangbad ad