• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৯

 

ক্রাইস্টচার্চ, মসজিদ এবং শান্তির বার্তা

মিথুশিলাক মুরমু

নিউজ আপলোড : ঢাকা , রোববার, ২৪ মার্চ ২০১৯

image

কার্ডিনাল এবং ঢাকার আর্চবিশপ প্যাট্রিক ডি. রোজারিও সিএসসি নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরের মসজিদে হামলায় নিহত ও আহতদের সমবেদনা এবং নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের খ্রিস্টীয় বিশ্বাসীর পক্ষে দৈনিক পত্র-পত্রিকায় প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে খ্রিস্টবিশ্বাসীদের অবস্থান তুলে ধরে উল্লেখ করেছেন,‘নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ নগরীর দুটি মসজিদে গত শক্রবার নামাজরত অবস্থায় সংঘটিত সন্ত্রাসী, নৃশংস ও ঘৃণ্য হামলার ঘটনায় আমরা বাংলাদেশের খ্রিস্টান সমাজ গভীরভাবে মর্মাহত এবং উক্ত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এ ধরনের জঘন্য ঘটনা আমরা কোনভাবেই সমর্থন করি না। সন্ত্রাসী এই অমানুষিক হামলায়, বাংলাদেশের নাগরিকসহ যারা নিহত হয়েছেন, তাদের জন্য আমরা গভীরভাবে শোকাভিভূত এবং তাদের আত্মার কল্যাণের জন্য প্রার্থনা করছি। নিহতদের প্রিয়জন এবং যারা মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন, তাদের সবার নিকট আমাদের সমবেদনা ও একাত্মতা প্রকাশ করছি এবং আহতদের জন্য সর্বশক্তিমানের নিকট প্রার্থনা করছি যেন অতি দ্রুত তারা সুস্থ হয়ে ওঠেন। ঈশ্বর যেন এরূপ মর্মান্তিক ঘটনা থেকে মানবসমাজকে মুক্ত রাখেন; এবং যারা জগতে শান্তি, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের জন্য অবিরাম প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, সর্বশক্তিমান যেন তাদের শান্তিদান করেন।’ অন্যদিকে ইক্যুমিনিক্যাল প্রটেস্ট্যান্ট চার্চের অন্যতম সংগঠন ‘জাতীয় চার্চ পরিষদ’ উল্লেখ করেছেন- ‘...This is a manifestation of the inferiority of religion manipulation and exploitation of the situation by some precise extremist and fanatic groups/individuals for self benefits/retaliation. This deplorable and mischievous activities is getting worsen despicably and become so inevitable which effortlessly causing immense agonies and sufferings for religious Communities all around the world. But we also like to thank God as our loving cricketers from Bangladesh team narrowly escaped this deadly attacks because they were there for Friday prayers but just warned not to go inside as the shooting unfolded…we stand strongly and protest this awful incident and as the follower of Jesus Christ, we would like to shwo our deep concern and empathize to all the victims who are afflicted by this awful attack. We want to raise our voice for the establishment of peach, harmony and fraternity in the world so that concerned authorities should take necessary measure in future so people can dwell here in a tranquil environment with love and peach.’ ইভানজেলিক্যাল চার্চ সংগঠনগুলোর কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান ‘ন্যাশনাল খ্রিস্টিয়ান ফেলোসিপ অফ বাংলাদেশ’ (এনসিএফবি)-এর সাধারণ সম্পাদক রেভা. মার্থা দাস ঘটনার দিন থেকে প্রতিদিনই প্রাতঃকালীন প্রার্থনা সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করছেন। প্রার্থনায় ঘটনার শিকার ভাইবোনদের আত্মীয়-স্বজন, নিকটজন, প্রিয়জনেরা যেন স্বর্গীয় ঈশ্বরের ভালোবাসার পরশ উপলব্ধি করতে পারেন, হৃদয়ে শান্তি এবং শোককে শক্তিতে রূপান্তর করার ক্ষমতা দেন। স্বজন হারানোর মনোব্যথা, বোঝা ও কষ্ট লাঘবে নিশ্চয়ই তিনি মানববেশে আমাদের পাশে দাঁড়াবেন। যারা এহেন ধর্মান্ধমূলক, উগ্রতা এবং সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে দিতে সক্রিয় ঈশ্বর যেন তাদেরকেও সুমতি দেন। পবিত্র বাইবেলে বর্ণিত সৌলকে তিনি সাধু পৌলে পরিণত করেছিলেন। স্রষ্টার অবয়বে সৃষ্ট প্রতিটি মানুষই যাতে তাদের সর্বোচ্চ মেধা, জ্ঞান, বিচক্ষণতা ও পারদর্শিতা মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে আগ্রহী হয়, সেই বিষয়েও প্রার্থনা তুলে ধরা হয়।

ক্রাইস্টচার্চ নগরীতে যীশুখ্রিস্টকে যেন ক্রুশারোপিত করা হলো। নিউজিল্যান্ডের শান্তির শহরটি মুহূর্তের মধ্যেই আতঙ্কের নগরীতে পরিণত হয়েছিল। জুমার নামাজের সময়কালে আল-নূর মসজিদে স্বয়ংক্রিয় বন্দুক নিয়ে প্রথম হালমা চালায় অস্ট্রেলীয় যুবক ব্রেনটেন ট্যারান্ড (২৮)। দুই মসজিদে হামলায় ৫০ জন নিহত ও আরও কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছেন। বাংলাদেশের ৫ জন নাগরিক হামলার শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন। আমরা মনে করি, ব্রেনটেন ট্যারান্ড অস্ট্রেলীয় হলেও একজন সত্যিকার খ্রিস্ট বিশ্বাসী কি না- যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। কেননা খ্রিস্টিয়ান বাবা-মার সন্তান হলেই খ্রিস্টানুসারী কিংবা খ্রিস্টিয়ান দেশে জন্মগ্রহণ বা দেশে বসবাস করলেই খ্রিস্টের আদর্শের ধারক-বাহক বা খ্রিস্ট ধর্মের একনিষ্ঠ ভক্ত বলা যায় না। কেন এ সময়কালকে বেছে নিলেন? মার্চের ৬ তারিখ থেকে গোটা বিশ্বের খ্রিস্ট বিশ্বাসীরা প্রায়শ্চিত্তকালীন সময় অতিক্রান্ত করছেন, এটির সমাপ্তি হবে এপ্রিল ২০ তারিখ গুডফ্রাইডে’র পরবর্তী শনিবারে। প্রভু যীশুখ্রিস্টকে ক্রুশারোপণের পূর্বে রোমান সৈন্যরা যীশুকে ধরার জন্য গেৎশিমানী বাগানে যান এবং সেখানে শিষ্য পিতর একজনকে আঘাত করলে তার কান বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রভু যীশুখ্রিস্ট শরীর থেকে বিচ্ছন্ন কানটি সঙ্গে সঙ্গে জোড়া দিয়েছিলেন। তিনি শিষ্যের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন- ‘যে সব লোক খড়গ ধারণ করে, তাহারা খড়গ দ্বারা বিনষ্ট হইবে।’ ঘাতক ব্রেনটেন ট্যারান্ড ভালোবাসার বরপুত্র যীশুখ্রিস্টকে পুনর্বার ক্রুশারোপিত করে রক্ত ঝরিয়েছেন। খ্রিস্টের আদর্শের পরিপন্থি কাজ করে উগ্রবাদিতাকে, ধর্মান্ধতাকে, বর্ণবাদকে উসকে দিয়েছেন।

খ্রিস্ট বিশ্বাসী একজন নাগরিক খ্রিস্টের আদর্শ মেনে চলার অর্থ হচ্ছে জাগতিকভাবে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে খুবই সতর্কভাবে প্রাধান্য প্রদান করবেন। নিজের ব্যক্তি জীবনে সেটি প্রয়োগ করবেন এবং অন্যকেও দেশের সুনাগরিক হতে উদ্বুদ্ধ করবেন।

খ্রিস্টিয়ান নাগরিক রাষ্ট্রের শাসননীতিসমূহের অনুগত, কেননা সে ঈশ্বরের অভিষিক্ত।

ক. খ্রিস্ট বিশ্বাসী মাতৃভূমিকে ভালোবাসবে।

খ. নিজ, প্রতিবেশী ও সামগ্রিক দেশের উন্নয়নের জন্য সচেষ্ট থাকবে।

গ. প্রতিবেশীদের ধর্মকে অশ্রদ্ধা করবেন না বা সমালোচনা থেকে সতর্ক-বিরত থাকবেন।

ঘ. রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক কার্যসূচিতে অংশায়ন নিশ্চিত করার চেষ্টা করবেন।

ঙ. সরকারি কোনো দায়িত্ব গ্রহণে অত্যন্ত নিরপেক্ষ, নীতিবান এবং সুনাম অক্ষুণœ রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করবেন।

খ্রিস্টিয়ান নাগরিক রাষ্ট্রের আইন মানিয়া চলে, কেননা সে যিশুখ্রিস্টের আদেশ পালন করে এবং অন্যকেও আইন-কানুন মানিয়া চলতে উদ্বুদ্ধ করে।

ক. জন্মভূমির মঙ্গলের জন্য সর্বদা প্রার্থনা করবে।

খ. দেশের অপকারমূলক কর্মকান্ডে জড়িত হবে না। যেমন- ঘুষ আদান-প্রদান।

খ. সরকার কর্তৃক আরোপিত কর যথা সময়ে পরিশোধ করবেন। ফাঁকি দেয়ার মনোভাব পোষণ করবেন না।

খ্রিস্টিয়ান নাগরিক সবার সহিত শান্তিপূর্ণভাবে বাস করিতে চায়।

খ্রিস্টিয়ান নাগরিক মন্দের প্রতিশোধে কাহারও অনিষ্ট করে না বরং প্রতিশোধের ভার ঈশ্বরের হাতে দিয়ে উত্তম, সৎ ব্যবহারের দ্বারা মন্দাকে পরাজিত করে।

ক. দেশের মূল্যবান সম্পদ বিনষ্ট করবে না। নিজস্ব সম্পদের তুল্য সবকিছু দেখাশোনা করবেন।

খ. নাগরিক অধিকার ভোট সত্যিকারের দেশপ্রেমিককে প্রদান করবে, যাতে করে এলাকা ও দেশ উন্নতি লাভ করতে সমর্থ হয়।

গ. অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি ন্যায় আচরণ করবেন, সম্মান করবেন এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলবেন।

খ্রিস্টিয়ান নাগরিকের ঈশ্বরের সঙ্গে যোগাযোগ আছে। সে সব মানুষের জন্য ও রাষ্ট্রনায়কদের জন্য প্রার্থনা করিয়া শান্তিশৃঙ্খলা ও ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখার জন্য মধ্যস্থতা করে।

খ্রিস্টিয়ান নাগরিক পরিবর্তিত এক নতুন খাঁটি মানুষ। সে যিশুখ্রিস্টের প্রকৃত রূপ প্রকাশ করে, খ্রিস্টের ছাপ তাহাতে আছে। এইরূপ নাগিরক সব রাষ্ট্রে অতি বিরল।

প্রভু যীশুখ্রিস্ট তার অনুসারীদের বলেছেন- তোমরা জগতের আলো, তোমরা পৃথিবীর লবণ। যারা খ্রিস্টের অনুসারী রয়েছে, আমরা যেন নিজ পরিবার, সমাজ, দেশকে আলোকিত করতে পারি, সমাজকে স্বাদযুক্ত এবং পরিবারকে আদর্শ পরিবার হিসেবে গড়ে তুলতে পারি। সত্যিকারভাবে একজন খ্রিস্টিয়ান নাগরিক হিসেবে আমরা যেন নিজেদের তুলে ধরতে পারি। ‘তদ্রুপ তোমাদের দীপ্তি মনুষ্যদের সাক্ষাতে উজ্জ্বল হউক, যেন তাহারা তোমাদের সৎক্রিয়া দেখিয়া তোমাদের স্বর্গস্থ পিতার গৌরব করে।’

দৈনিক সংবাদ : ২৪ মার্চ ২০১৯, রোববার, ৭ এর পাতায় প্রকাশিত

শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই গড়ে তুলব বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা

বাঙালির অবিসংবাদিক নেতা ও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখন পাকিস্তানের অন্ধকার কারাগারে।

মুজিবনগর সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্ব

image

১৭ এপ্রিল বাঙালি জাতির ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন। ১৯৭১-এর এ দিনে কুষ্টিয়ার মেহেরপুরের আম্রকাননে একাত্তরে যুদ্ধ পরিচালনাকারী

মাদক আসছেই

জাতীয় দৈনিক পত্রিকা সূত্রে জানা যায়, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের পরও ঝিনাইদহের মহেশপুর ও চুয়াডাঙ্গার জীবননগর

sangbad ad

চৈত্রসংক্রান্তি : আদি-অন্তের সুলুকসন্ধান

‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা’। ‘চৈত্রসংক্রান্তি’- বাংলা বছরের শেষ মাস চৈত্রের শেষ দিন, ঋতুরাজ বসন্তেরও

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি নির্বাচিত হওয়ার সেই দিনটি

image

বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনটি বাঙালি জাতির জন্য বরাবরই আনন্দের দিন। ১৫ বছর আগের এ দিনটি সমগ্র বিশ্বের সব বাঙালির জন্য

‘এখনও সারেঙ্গিটা বাজছে’

কেমন যেন অধরা, ছিপছিপে শরীরে এক স্বতঃস্ফূর্ত স্বভাব তার। তার গতির সঙ্গে কেউ এঁটে উঠতে পারে না, সবাইকে দূরে ফেলে ছুটে যাওয়াতেই

খেলাপিদের সুবিধা এবং টাইম ভ্যালু

সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রী দেশের ঋণখেলাপিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ঘোষণা করেছেন। মাননীয় মন্ত্রিমহোদয়ের ঘোষণা থেকে জানা যায়

ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থা; এখন পর্যন্ত গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এক অনন্য উদাহরণ

২০১৮ ও ২০১৯ সাল দক্ষিণ এশিয়ায় গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়কাল পার করছে। নেপালের ২০১৭ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর

মুক্তির কোন বয়স নেই

‘স্বাধীনতার বয়স ৪৮ বছর, আমার বয়স ৪৩ বছর। কিন্তু মুক্তির কোন বয়স নেই, কারণ

sangbad ad