• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৯

 

উন্নয়নে অংশীদারিত্ব বাড়াতে নারীর গৃহস্থালি কাজের মূল্যায়ন জরুরি

এএম মোতাহের হোসেন

নিউজ আপলোড : ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০১৯

ভর্তিযুদ্ধে উত্তীর্ণ হয়ে জারিন তাসনিম সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। আনন্দের খবরটা নিকটাত্মীয় এক বড় ভাইয়ের বউকে টেলিফোনে জানালাম। খুশির খবর পেয়ে তিনিও খুশি হলেন। তবে তিনি ধন্যবান জানালেন জারিনের আম্মুকে এবং আরও বললেন এ কৃতিত্বের সবচেয়ে বড় অংশীদার জারিনের আম্মু। টেলিফোনিক আলাপনে তার মন্তব্য হেসে উড়িয়ে দিলাম এবং কৃতিত্বের অংশীদার নিজেকে জানান দিলাম।

ভাবির এ মন্তব্যটি মনে বেশ দাগ কাটল। জীবনের এ ব্যস্ততায় জারিনের মায়ের অবদানের বিষয়ে ভাবার সুযোগ হয়ে ওঠেনি। জারিনের মা একজন গৃহিণী। চাকরি না করে শুধু গৃহস্থালি কাজকর্মে সময় কাটে তার। তবে এবার ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে মা-মেয়ের পরিশ্রম বেশ চোখে পড়েছে। এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ গোল্ডেল এ+ পাওয়ার চেয়েও জারিনকে ভর্তির জন্য অনেক বেশি পড়ালেখা করতে হয়েছে। সারা দিন বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে দৌড়াদৌড়ি আর রাত ২-৩টা পর্যন্ত লেখাপড়া, হোমওয়ার্ক আর প্রাত্যহিক পরীক্ষা, একাধিক কোচিং অনুসরণ করা সবমিলে চরম ব্যস্ততা আর পরিশ্রমের মধ্যে মা-মেয়ের বিগত চার মাস অতিবাহিত হয়েছে।

গৃহিণী জারিনের মায়ের প্রাত্যহিক কাজের মধ্যে চাকরিজীবী স্বামীর সকালের চা, নাস্তা, ছেলের টিফিন ক্যারিয়ার সাজানো, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছেলেকে সকালের নাস্তা করিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো ইত্যাদি তো আছেই। এরপর মেয়েকে নাস্তা মুখে তুলে দিয়ে খাওয়ানো, দুপুরের টিফিন বক্স তৈরিসহ সারা দিনের প্রস্তুতি নিয়ে বাসা ত্যাগ করে বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের বারান্দায় অথবা অভিভাবক বিশ্রামস্থলে বসে শেষে মেয়েকে নিয়ে সন্ধ্যায় বা রাতে বাসায় ফেরা। বাসায় ফিরে সবার রাতের খাবার তৈরির কাজে লেগে যাওয়া। রাতের খাবারের পর সবাই ঘুমাতে গেলেও জারিনের মায়ের দায়িত্ব হলো রাত জেগে পড়ুয়া মেয়েকে সঙ্গ দেয়া। তাছাড়া মেহমান সামলানোসহ গৃহস্থালির অন্যান্য কাজ করার পরও সামাজিকতা রক্ষা করা তো আছেই। এতকিছুর পরও একজন নারীর তেমন কোনো মূল্যায়ন হয় না, বরং পুরুষ সদস্যের বদ্ধমূল ধারণা, যেহেতু তার উপার্জনের ওপর পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা নির্ভরশীল, তাই সংসারে সব অবদানই একমাত্র তার।

একজন নারী তার জীবনের অধিক সময় গৃহস্থালি কাজে ব্যয় করলেও তার কোনো স্বীকৃতি নেই। ফলে সংসারে তার মর্যাদা কম। নানা কারণে এসব নারী নির্যাতনের শিকার হয়। নারীর গৃহস্থালি সেবামূলক কাজের মূল্যায়ন হওয়া প্রয়োজন। এ মূল্যায়নের জন্য রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, পারিবারিক দায়বদ্ধতা এবং সচেতনতা জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশের প্রান্তিক নারীরা আর্থ-সামাজিকভাবে সবচেয়ে বেশি অবহেলার শিকার। বস্তিবাসী শিশুদের মধ্যেও ছেলে ও মেয়ে শিশুদের তীব্র বৈষম্য রয়েছে। মেয়েদের অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্কুলে যেতে দেয়া হয় না। বাংলাদেশের সর্বত্র নারীদের অংশগ্রহণ বাড়লেও বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা এখনও বিদ্যমান। কর্মক্ষেত্রে এখনও নারীর পেশার বৈষম্য তীব্রভাবে বিরাজমান। নারীদের কর্ম-পরিবেশও এখনও সমমাত্রায় উন্নত এবং আশানুরূপ হয়নি। সমাজের উচ্চস্তরে সামজিক প্রতিবন্ধকতা কিছুটা দূর হলেও প্রান্তিক পর্যায়ে এর ব্যাপকতা রয়ে গেছে। যেসব নারী কর্মক্ষেত্রে রয়েছেন, তাদের অনেক সময় বিবাহজনিত এবং সন্তান লালন পালনের কারণে কাজ ছেড়ে দিতে হয়। উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত সবক্ষেত্রে এ সমস্যা বিরাজমান। নারীদের আরও উন্নয়ন ও এতে অংশগ্রহণ এখনও একটি বড় বাধা।

সমাজের সর্বত্র আগের তুলনায় নারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। দেশের অর্থনীতিতে নারীরা অনেক ভূমিকা রাখলেও সে তুলনায় তাদের স্বীকৃতি কম। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত নারীদের অনেকই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলেও অভিভাবকত্ব আইনে নারীরা অভিভাবক নন। অভিভাবক পুরুষ কিন্তু সন্তান লালন পালনের দায়িত্ব নারীদের। সমাজে নারীদের ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখা হয়, যদিও বর্তমানে সবক্ষেত্রেই নারীদের অংশগ্রহণ অনেক বেড়েছে। তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ পর্যায়ে তাদের অংশগ্রহণ অনেক কম। একটি দেশের উন্নয়ন তার সমগ্র মানবসম্পদের ওপর নির্ভরশীল। মানবসম্পদ বলতে শুধু পুরুষদের বোঝায় না, নারীরাও মানবসম্পদের অংশ। তাই নারীদের বাদ রেখে প্রকৃত এবং টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে দ্রুত ধাবমান। এ উন্নয়নকে টেকসই করতে প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ আরও বৃদ্ধি করতে হবে। এ বছরেরর আন্তর্জাতিক নারী দিবসের মূল প্রতিপাদ্য হলোÑ ‘গ্রামীণ নারীর উন্নয়ন’। শহর এলাকায় শিক্ষার ও অর্থনৈতিক সচ্ছলতার হার বেশি। সেই তুলনায় গ্রামীণ নারীরা পিছিয়ে রয়েছে। শহরের তুলনায় গ্রামীণ নারীরা অগ্রগতির পথে বেশি প্রতিবন্ধকতার শিকার। শহরে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হলে খুব কম বাবা-মাই অখুশি হন, কিন্তু গ্রামে এখনও অনেক বাবা-মা কন্যাসন্তান হলে অখুশি হন, মাকে দোষারোপ করেন। দৃষ্টিভঙ্গির দিক থেকে গ্রামীণ এলাকা এখনও অনেক পিছিয়ে।

মেয়ে এবং ছেলে শিশুর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। সবার জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থানের পূর্ণ ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য নারীকে কিছু বাড়তি সুবিধা দিতে হবে। দীর্ঘদিনের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক কাঠামোর কারণে পুরুষরা নারীদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে সত্য কিন্তু পুরুষদের অগ্রগতি এবং অবদানের পেছনে নারীদের অবদান অনস্বীকার্য।

একটি মেয়ে যখন কিশোরী বয়সে পা রাখে, তখন থেকে তার বিশেষ যতেœর প্রয়োজন হয়। শুধু মেয়েটির জন্যই নয়, আগামী প্রজন্মের সুরক্ষার জন্য মেয়েটির বিশেষ যতেœর প্রয়োজন। নারীদের উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে হলে জন্মলগ্ন থেকে নারীদের প্রতি মনোযোগী হওয়া আবশ্যক।

সিদ্ধান্ত গ্রহণ পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ না থাকলে নারীর পরিচ্ছন্ন এবং টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হয়। তাই বর্তমান সরকার তৃণমূল পর্যায় থেকে নারীর রাজনৈতিক সমতায়নের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে বিনামূল্যে বই বিতরণ, অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি দেয়ার কারণে বিদ্যালয়ে মেয়েদের সংখ্যা বেড়েছে। নারীদের প্রতিটি ক্ষেত্রে পুরুষের সমান অংশগ্রহণে সক্ষম করে গড়ে তুলতে পারলে একটি উন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ খুব বেশি দূরের নয়।

আমাদের সমাজে এখনও নারীর প্রতি পরিপূর্ণ ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে ওঠেনি। গ্রামে নারী গৃহস্থালি, কৃষি ও পশুপালনের মতো উৎপাদনশীল কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত থাকলেও তার স্বীকৃতি নেই। শহর অঞ্চলেও নারীর গৃহস্থালি কাজের কোনো মূল্যায়ন নেই। সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার অনেকগুলো নারীবান্ধব আইন করেছে। যার ফলে নারীর ক্ষমতায়ন এবং অগ্রগতি নিশ্চিত হয়েছে। সকলে সমন্বিতভাবে কাজ করলে সর্বত্র নারীর অংশগ্রহণ ও উন্নয়ন সম্ভব হবে এবং দেশের সার্বিক টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হবেই।

(শিশু ও নারী উন্নয়নে সচেতনতামূলক যোগাযোগ কার্যক্রম ফিচার)

দৈনিক সংবাদ : ২৬ মার্চ ২০১৯, মঙ্গলবার, ৭ এর পাতায় প্রকাশিত

শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই গড়ে তুলব বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা

বাঙালির অবিসংবাদিক নেতা ও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখন পাকিস্তানের অন্ধকার কারাগারে।

মুজিবনগর সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্ব

image

১৭ এপ্রিল বাঙালি জাতির ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন। ১৯৭১-এর এ দিনে কুষ্টিয়ার মেহেরপুরের আম্রকাননে একাত্তরে যুদ্ধ পরিচালনাকারী

মাদক আসছেই

জাতীয় দৈনিক পত্রিকা সূত্রে জানা যায়, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের পরও ঝিনাইদহের মহেশপুর ও চুয়াডাঙ্গার জীবননগর

sangbad ad

চৈত্রসংক্রান্তি : আদি-অন্তের সুলুকসন্ধান

‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা’। ‘চৈত্রসংক্রান্তি’- বাংলা বছরের শেষ মাস চৈত্রের শেষ দিন, ঋতুরাজ বসন্তেরও

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি নির্বাচিত হওয়ার সেই দিনটি

image

বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনটি বাঙালি জাতির জন্য বরাবরই আনন্দের দিন। ১৫ বছর আগের এ দিনটি সমগ্র বিশ্বের সব বাঙালির জন্য

‘এখনও সারেঙ্গিটা বাজছে’

কেমন যেন অধরা, ছিপছিপে শরীরে এক স্বতঃস্ফূর্ত স্বভাব তার। তার গতির সঙ্গে কেউ এঁটে উঠতে পারে না, সবাইকে দূরে ফেলে ছুটে যাওয়াতেই

খেলাপিদের সুবিধা এবং টাইম ভ্যালু

সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রী দেশের ঋণখেলাপিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ঘোষণা করেছেন। মাননীয় মন্ত্রিমহোদয়ের ঘোষণা থেকে জানা যায়

ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থা; এখন পর্যন্ত গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এক অনন্য উদাহরণ

২০১৮ ও ২০১৯ সাল দক্ষিণ এশিয়ায় গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়কাল পার করছে। নেপালের ২০১৭ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর

মুক্তির কোন বয়স নেই

‘স্বাধীনতার বয়স ৪৮ বছর, আমার বয়স ৪৩ বছর। কিন্তু মুক্তির কোন বয়স নেই, কারণ

sangbad ad