• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯

 

অনলবর্ষী মার্চ : বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ডাক

অধ্যাপক জহুরুল আলম

নিউজ আপলোড : ঢাকা , রোববার, ০৩ মার্চ ২০১৯

একাত্তরের মার্চ বাঙালির জীবনে এল অনলবর্ষী হয়ে। এ মাসের ঘটনাপ্রবাহ ছিল দ্রুত পরিবর্তনশীল ও বৈচিত্র্যময়। পাকিস্তানের সঙ্গে ২৩ বছরের অশুভ তথাকথিত ভ্রাতৃত্বের গাঁটছড়ার রূপকথা একাত্তরের মার্চে এসে থমকে দাঁড়িয়ে যায় এক পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে। কারণ বাঙালিদের পাকিস্তানি ‘ভাইয়েরা’ ক্ষমতা ও সম্পদের সমানাধিকারের প্রশ্নে কোন সমঝোতা কখনও করেনি বা করার কোন ইচ্ছাও তাদের কখনও ছিল না। আর তাই পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী হয়েও আমরা বাঙালিরা কোনদিন পাকিস্তান নামক রষ্ট্রের ক্ষমতার বা সম্পদের সমান অংশীদার হতে পারিনি। তাই মার্চে যখন ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রশ্নটি বাস্তবতার সম্মুখীন হলো, তখন পাকিস্তানিদের ভ্রাতৃত্ববোধের সংজ্ঞা আগের সবগুলো বছরের মতোই কুৎসিতভাবে প্রকাশিত হলো।

সত্তরের ডিসেম্বরের পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের ফলশ্রুতিতে বিজয়ী দলের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরই ছিল নিয়মতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক পদ্ধতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ। ইয়াহিয়া খান পাকিস্তানের ক্ষমতা দখল করার পর এ অঙ্গীকার করে আসছিল ধারাবাহিকভাবে, যেমনটি করেছিল বন্দুকের নল ঠেকিয়ে ও প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলকারী তার পূর্বসূরিরা। কিন্তু পাকিস্তানের ইতিহাসে কখনোই বাঙালিকে ক্ষমতার মসনদে অধিষ্ঠিত হতে দেয়া হয়নি বা দিলেও তা নানা উসিলায় কেড়ে নেয়া হয়েছে। সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তিই ঘটানোর ছক কষে ভুট্টোর সঙ্গে আলোচনা করে ইয়াহিয়া ৩ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পরিষদ অধিবেশন অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্থগিত করে। ইয়াহিয়া-ভুট্টো চক্র এ সাধারণ বিষয়টি অনুধাবনে ব্যর্থ হয় যে পঞ্চাশের দশকের পূর্ববাংলা ততদিনে পরিণত হয়েছে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে একটি সুসংগঠিত জাতীয়তাবাদী চেতনাসমৃদ্ধ শক্তিতে, যার অগ্রভাগে রয়েছে প্রজ্ঞাবান, দূরদর্শী ও পঞ্চাশের দশকের তুলনায় আরও অনেক বেশি সাহসী, আধুনিক ও আপসহীন নেতৃত্ব। বাঙালির হাতে তখন প্রস্তুত মুক্তির সনদ ছয় দফা, যা পুরোপুরি বাস্তবায়নে বঙ্গবন্ধু ছিলেন জাতির কাছে অঙ্গীকারাবদ্ধ। আর বাঙালির এ নেতা তার অঙ্গীকার থেকে কখনও বিচ্যুত হননি। বস্তুতঃপক্ষে, নির্বাচনে জয়লাভ করার পর থেকেই আওয়ামী লীগ ৬ দফা ভিত্তিক সংবিধান প্রনয়ণে সর্বশক্তি নিয়োগ করে ও ১৯৭১-এর ফেব্রুয়ারি মাসেই একটি খসড়া শাসনতন্ত্র ইয়াহিয়াকে পাঠিয়ে দেয়, যা নিয়ে ইয়াহিয়া ভুট্টোর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে ও যার প্রেক্ষিতেই ইয়াহিয়া-ভুট্টো যৌথ সিদ্ধান্তে জাতীয় পরিষদ অধিবেশন পিছিয়ে দেয়া হয়। এটা ছিল পাকিস্তানের একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রতি চরমতম অবজ্ঞা ও ধৃষ্টতার বহির্প্রকাশ ও বাংলার জনগণের সঙ্গে চরমতম বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।

ইয়াহিয়ার জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিতের ঘোষণা সারা বাংলায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ল। সব স্তরের মানুষ নেমে আসে ঢাকাসহ বাংলার সব শহর নগরের রাস্তায়। এমন কি বাংলার শান্ত গ্রামগুলোও যেন পরিণত হয় তপ্ত অঙ্গারে। ‘জয় বাংলা’, ’বীর বাঙালি অস্ত্র ধর বাংলাদেশ স্বাধীন কর’, ‘তোমার আমার ঠিকানা : পদ্মা-মেঘনা-যমুনা’, ‘তোমার নেতা, আমার নেতা : শেখ মুজিব শেখ মুজিব’, সেøাগানে মুখরিত হয়ে ওঠে সারা বাংলার পথ-ঘাট। সেদিনই বঙ্গবন্ধু সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে দেশের মানুষকে এ পাকিস্তানি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান, সেই সঙ্গে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ৬ দিনের কর্মসূচি দেন, যার মধ্যে ছিল ২ মার্চ ঢাকায় পূর্ণ হরতাল ও পরদিন দেশব্যাপী হরতাল। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ঘোষণা দেন ৭ মার্চের রেসকোর্স ময়দানের জনসভার, যেখানে তিনি পরবর্তী কর্মসূচি দেবেন বলে জানান।

ছাত্রলীগ, অন্যান্য ছাত্র সংগঠন ও ডাকসুর নেতৃত্বে ত্বরিত গতিতে গড়ে ওঠা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সবুজ জমিনে লাল-সূর্যের মাঝে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে। আ স ম রব, তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা ও বঙ্গবন্ধুর বিশ্বাসভাজন ও অনুগত সৈনিক বাংলাদেশের মানচিত্র অঙ্কিত পতাকা যখন উত্তোলন করেন তখন জনতা জয়বাংলা ধ্বনিতে মুখরিত করে তোলে আকাশ বাতাস। আজ দুঃখ পাই যখন দেখি এরা দল বেঁধে পদচুম্বন করছে সেসব মানুষের যাদের কোন নাম-নিশানা ছিল না বাঙালির সেসব গর্বের, ত্যাগ ও অর্জনের দিনগুলোতে। বিভ্রান্তি ও লোভ এদের দিয়ে পদলেহন করাল সেই সব নরঘাতক-বিশ্বাসঘাতকদের ও তাদের চেলা-চামু-াদের যারা সেই উত্তাল সংগ্রামের দিনগুলোতে পাকিস্তানিদের পদলেহনে ব্যস্ত ছিল, যারা এ দেশের মানুষকে হত্যা-নির্যাতন করে গেছে চিরকাল।

সেদিন জনতা সেনা টহল ও কারফিউয়ের কোন তোয়াক্কা না করে নগরীর সব রাজপথ প্লাবিত করে বন্যার স্রোতধারার মতো মিছিল করে বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বরের বাসস্থান ও বিশ্ববিদ্যালয় অভিমুখে ধাবিত হতে থাকে। ২ মার্চ পাকিস্তানিদের গুলিবর্ষণে বহু লোক হতাহত হন। বঙ্গবন্ধু এর প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য অসহযোগ আন্দোলন ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাসভবন হয়ে ওঠে সব রাজনৈতিক ও সরকারি কর্মকা-ের কেন্দ্রবিন্দু। অসহযোগ আন্দোলনের ফলে পাকিস্তানিদের কর্মকা- সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে শুধু সেনাছাউনিভিত্তিক। রেডিও, টেলিভিশন, পত্রিকা, অফিস-আদালত, কালেক্টরিয়েট, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, এমন কি পুলিশ বাহিনীও অসহযোগ আন্দোলনে সাড়া দেয়। ফলে পূর্ব পাকিস্তানে বেসামরিক প্রশাসন, ব্যাংক, বীমা, রেল, বিমান, পোস্টাল সার্ভিসসহ সব কিছু স্থবির হয়ে পড়ে। ইয়াহিয়া খান ‘বেলুচিস্তানের কসাই’ টিক্কা খানকে পূর্বপাকিস্তানের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়। কিন্তু হাইকোর্ট বঙ্গবন্ধুর অসহযোগ আন্দোলনের প্রেক্ষিতে টিক্কা খানকে শপথ গ্রহণ করানো থেকে বিরত থাকে। এ পরিস্থিতিতে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পাকিস্তানের সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে ঢাকায় নিয়ে আসতে হয় টিক্কা খানকে শপথ গ্রহণ করানোর জন্য। বিষয়টির গুরুত্ব এখানেই যে বঙ্গবন্ধু ঘোষিত অসহযোগ আন্দোলনের ব্যাপকতা এতখানিই ছিল যে সর্বোচ্চ আদালতও এর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছিল। সারা পূর্ব পাকিস্তানের শাসন ব্যবস্থা পরিচালিত হতে থাকে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনা মাফিক। ব্রিটিশ ভারতে মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের চেয়েও এ আন্দোলনের কর্মকান্ডভিত্তিক পরিসর ছিল ব্যাপক। এর বাস্তব প্রভাবও ছিল সূদুরপ্রসারী। প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের ব্যাপক গণসমর্থনপুষ্ট আন্দোলন একমাত্র ১৯১৭ সালের রাশিয়ার সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব ছাড়া আর কোন আন্দোলনের ছিল বলে ইাতহাস সাক্ষ্য দেয় না।

পরদিন, মার্চের ৩ তারিখ ছাত্র-জনতার ঢল নামে পল্টন ময়দানে। সেখানে বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতিতে ছাত্রলীগ নেতা শাহজাহান সিরাজ পাঠ করেন স্বাধীনতার ইশতেহার। এ গৌরবগাথা যার জীবনের সম্পদ হয়ে ছিল তিনিও একসময় বিভ্রান্তির রাজনীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত হয়ে তাবেদারি করে বেড়াতে লাগলেন স্বাধীনতাবিরোধী ও গণহত্যাকারী পাকিস্তানি অনুচরদের। একটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন কত মর্মান্তিক হতে পারে তার জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে রইলেন এ গতিশীল ও মেধাবী ছাত্রনেতা।

বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ৩ মার্চ শোকদিবস হিসেবে পালিত হয় পাকিস্তানি বর্বরদের গুলিতে শহীদ বীরদের স্মরণে। এদিন বঙ্গবন্ধুর বাসভবন আগের মতোই সব রাজনৈতিক কর্মকা-ের কেন্দ্র হয়ে রইল। বঙ্গবন্ধু মার্চের শুরু থেকেই, অর্থাৎ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন পিছিয়ে দেয়ার দিন থেকেই মোটামুটি বুঝতে পেরেছিলেন সেই অমোঘ সত্যটি যে শান্তিপূর্ণ পন্থায় ক্ষমতা হস্তান্তর হওয়ার কোন সম্ভাবনা আর নেই। পাকিস্তানিরা বাঙালিদেরকে পাকিস্তানের নেতৃত্ব প্রদান কখনোই করবে না। এজন্য প্রয়োজনে তাকে হত্যা করতেও ওরা দ্বিধাবোধ করবে না। এমন ধারণা থেকে তখন থেকেই তিনি চলমান সংগ্রামকে আরও এগিয়ে নিয়ে দেশকে স্বাধীন করার জন্য নেতৃত্বে¡র ধারাবাহিকতা সৃষ্টি করে যান। তিনি মার্চের ৩ তারিখে ঘোষণা করেন যে বাঙালির স্বাধীনতার সংগ্রাম যেন তার অবর্তমানে থেমে না থাকে। তিনি ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগের যৌথ সভায় এদিন ঘোষণা করেন যে তিনি না থাকলেও তার সহকর্মীরা যেন এ সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে বাংলাদেশকে স্বাধীনতার পথে ধাবিত করে। তিনি বলেন যে, এক নেতৃত্বকে হত্যা করলে যেন পরবর্তী নেতৃত্ব সামনে চলে আসে দেশকে স্বাধীনতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেয়ার জন্য। যে কোন মূল্যে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম এগিয়ে নিয়ে যেতে তিনি রাজনীতিবিদ, ছাত্র, জনতা, সবাইকে আহ্বান জানান।

অপরদিকে পাকিস্তানিরা পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের আন্দোলনকে দমানোর জন্য সাগর ও আকাশপথে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সেনা ও অস্ত্র আমদানি করে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করতে থাকে। এম.ভি. সোয়াত নামক জাহাজ ঠিক সে সময়ই অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙ্গর করে। এ খবর বন্দরের শ্রমিক মারফত প্রকাশিত হওয়ার পর হাজার হাজার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বন্দর ঘেরাও করে ও পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে সংঘাতে লিপ্ত হয়। চট্টগ্রামের ইপিআর বাহিনী, যার কমান্ডিং অফিসার হিসেবে তখন দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন ক্যাপ্টেন রফিক (পরে মেজর, সেক্টর কমান্ডার ও বীর উত্তম), প্রতিবাদরত জনতার ওপর গুলিবর্ষণ করতে অস্বীকার করে। এটাই ছিল পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে বাঙালি সেনাদের প্রথম বিদ্রোহ। ক্যাপ্টেন রফিক পরবর্তীতে চট্টগ্রামের সার্বিক যুদ্ধের সূচনা করেন। সেই সূচনালগ্নে তিনি জিয়াউর রহমানকে তার সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। কিন্তু জিয়া তখন নিজেকে পাকিস্তানি বেতনভুক সেনা উল্লেখ করে সে আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে। ২৫ মার্চের অনেক আগেই বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনা ও রূপরেখা অনুযায়ী তৎকালীন মেজর শফিউল্লাহ, মেজর খালেদ মোশাররফ ও ক্যাপ্টেন রফিকসহ বহু বাঙালি সেনা অফিসার ও কর্মকর্তা বিদ্রোহ করেন। সে হিসেবে জিয়া ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে দেরিতে আগত আগন্তুক। আরও গভীর বিশ্লেষণ এটাই বলে যে জিয়া পাকিস্তানিদের ‘প্ল্যান বি’ অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে পাকিস্তানের স্বার্থ রক্ষার জন্য। জিয়ার মুক্তিযুদ্ধকালীন কর্মকা- ও পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ে তার সংশ্লিষ্টতা ও ক্ষমতা দখলের পর পাকিস্তানপন্থি ও গণহত্যাকারীদের রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনা, সংবিধান সংশোধন করে রাষ্ট্রের চরিত্র বদলে দেয়া, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুরস্কৃত করা, গণহত্যার বিচার বন্ধ করা ও বিচারাধীন ১৭ হাজার আসামিকে মুক্তি প্রদান, মুক্তিযোদ্ধা সেনাদের ও অফিসারদের হত্যা করাসহ অসংখ্য কর্মকা- এ যুক্তিকে সমর্থন করে।

উত্তাল মার্চের গণআন্দোলন বেগবান হয়ে এদেশে অবস্থিত পাকিস্তানি সামরিক এস্টাবলিস্টমেন্টকে কোণঠাসা করে ফেলে। কারন কারফিউ দিয়ে বা গুলি করেও ক্ষুব্ধ জনতার রোষানল প্রশমিত হওয়ার কোন আভাস পরিলক্ষিত হচ্ছিল না। সেনাবাহিনীর তরফ থেকে বঙ্গবন্ধুকে স্বাধীনতা ঘোষণা না করার আবেদন জানানো হতে থাকে। একই সঙ্গে ভারি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রস্তুত থাকে পাক সেনাবাহিনী। পাকিস্তানি মেজর সিদ্দিক সালেকের বই থেকে জানা যায় যে পূর্ব পাকিস্তানের জিওসি বঙ্গবন্ধুকে একথা বলেও সতর্ক করে যে পাকিস্তানের ঐক্যের বিরুদ্ধে কোন কথা ৭ মার্চের ভাষণে উচ্চারিত হলে এ দেশের সবকিছু মাটিতে এমনভাবে মিশিয়ে দেয়া হবে যে এখানে শাসন করার বা শাসিত হওয়ার মতো কেউ আর জীবিত থাকবে না। কিন্তু এ গর্জনে বাঙালির নেতা কর্ণপাত করেননি। তাই বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠে ৭ মার্চ সুস্পষ্টভাবে উচ্চারিত হয়েছে স্বাধীনতার মন্ত্র, যুদ্ধের মন্ত্র, শত্রুকে প্রতিরোধ করার, ভাতে, পানিতে মারার কৌশল, গ্রামে গ্রামে, পাড়ায়-মহল্লায় প্রতিরোধের দুর্গ ও মুক্তিবাহিনী গড়ে তোলার মন্ত্র। উচ্চারিত হয়েছে পাকিস্তানিদের সঙ্গে সহযোগিতা না করার আহ্বান। উচ্চারিত হয়েছে সেই অমোঘ মৃত্যুঞ্জয়ী বাণী ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী প্রতিটি বাঙালি সেই ভাষণের অর্থ বুঝতে পেরেছিল এবং সেই নির্দেশানুযায়ী ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে ছিনিয়ে আনে বাংলার স্বাধীনতা।
তারিখ : ৩ মার্চ ২০১৯

দৈনিক সংবাদ : ৩ মার্চ ২০১৯, রোববার, ৭ এর পাতায় প্রকাশিত

চুকনগর গণহত্যা দিবস : গণহত্যার সাক্ষ্য বহন করে চলেছে চুকনগরের মাটি

image

২৬ মার্চ ১৯৭১ সালে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন স্বাধীনতা ঘোষণা করেন, তখনও ঢাকাসহ কয়েকটি

জাহানারা ইমাম নিরলস যুদ্ধ করেছেন যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে

দিল মনোয়ারা মনু

image

আমাদের দেশে যখন মুক্তিযোদ্ধারা সূর্যরশ্মির মতো ছড়িয়ে পড়েন সবখানে, মুক্তিযুদ্ধে যখন হয়ে ওঠেন এক অবিনশ্বর আকাশ, যেখানে

জঙ্গিদের পরবর্তী লক্ষ্য কোন দেশ!

রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশকিছু ওলোট-পালটের ঘটনা ঘটছে। শিগগিরই আরও কিছু ঘটবে বলে মনে হচ্ছে। মারাত্মকভাবে হতাশায় নিমজ্জিত দলগুলোতেই

sangbad ad

এক বাগানের ফুল

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিধ্বস্ত জাপান নতুন যুগে পদার্পণ করতে চলেছে। আড়ম্বরের সঙ্গে আয়োজন করা হচ্ছে- জাপানের ভাবী সম্রাট নারুহিতো

প্রাচীন বাংলার ইতিহাস জাতিরাষ্ট্রের মাপকাঠিতে আটকে রাখা যায় না

image

প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের মন মাতানো গান ‘আমি বাংলায় গান গাই, আমি বাংলার গান গাই...’ নানা জনের মুখে মুখে ফেরে। ‘বাংলা’

বোরো ধানের ব্লাস্ট রোগ : কারণ ও প্রতিকার

ব্লাস্ট ধানের একটি ছত্রাকজনিত মারাত্মক ক্ষতিকারক রোগ। পাইরিকুলারিয়া ওরাইজি (Pyriculria Orayzai) নামক

শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই গড়ে তুলব বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা

বাঙালির অবিসংবাদিক নেতা ও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখন পাকিস্তানের অন্ধকার কারাগারে।

মুজিবনগর সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্ব

image

১৭ এপ্রিল বাঙালি জাতির ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন। ১৯৭১-এর এ দিনে কুষ্টিয়ার মেহেরপুরের আম্রকাননে একাত্তরে যুদ্ধ পরিচালনাকারী

মাদক আসছেই

জাতীয় দৈনিক পত্রিকা সূত্রে জানা যায়, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের পরও ঝিনাইদহের মহেশপুর ও চুয়াডাঙ্গার জীবননগর

sangbad ad