• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০

 

চিঠিপত্র : প্লাস্টিক বর্জ্য ও আমাদের করণীয়

নিউজ আপলোড : ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়

প্লাস্টিক বর্জ্য ও

আমাদের করণীয়

২০০২ সালে প্রজ্ঞাপন জারি করে দেশে একটি আইন প্রনয়ণ করা হয়েছিল। আইনটিতে বলা আছে, খাদ্যদ্রব্য বা অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত সব ধরনের পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার, উৎপাদন, বাজারজাতকরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইনটি প্রণয়নের পর বেশ কিছুদিন দেশের মানুষ অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে পলিথিনের পরিবর্তে কাপড় বা চটের ব্যাগ ব্যবহার করে।

কিন্তু কাপড় বা চটের ব্যাগের অপ্রতুলতা, আইনের যথার্থ প্রয়োগ নিশ্চিতে উদাসীনতা এবং আইন মেনে চলার ব্যাপারে দেশের জনগণের অলসতার কারণে পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে। শুধু পলিথিন ব্যাগ নয়, প্লাস্টিকজাত বিভিন্ন পণ্যের ব্যবহার ক্রমবর্ধমান রয়েছে। ব্যবহারের ঊর্ধ্বগতি প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপাদনের প্রধান নিয়ামক। পরিবেশ বিজ্ঞানীদের এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ৩০০ ধরনের ৭৩ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য বঙ্গোপসাগরে পতিত হচ্ছে। প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ বর্তমানে নবম স্থানে অবস্থান করছে। অন্য এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০২৫ সাল নাগাদ দেশে প্রতিদিন গড়ে ১ লাখ ৪০ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপাদিত হবে।

এই বিশাল পরিমাণ বর্জ্য পরিবেশে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করছে- প্লাস্টিক অপচনশীল হওয়ায় তা মাটির সঙ্গে মিশে বছরের পর বছর সেখান অবস্থান করে মাটির উর্বরতা কমায়। ফলে ফসল উৎপাদনের হার বহুলাংশে হ্রাস পায়। এটি থেকে মিথেন গ্যাস বের হয় যা গ্রিন হাউজ ইফেক্ট ঘটাতে সক্ষম। মাইক্রোপ্লাস্টিক আমাদের খাদ্য শৃঙ্খলে প্রবেশ করে আমাদের দেহে নানাবিধ সমস্যার সৃষ্টি করে। এছাড়াও, নদীতে বা সাগরে দীর্ঘদিন অবস্থান করে সেখানকার প্রাণিকূলের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বিঘ্ন ঘটানো, নর্দমায় আটকে থেকে পানি নিষ্কাশন প্রক্রিয়া ব্যাহত করার মাধ্যমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টিসহ আরো বহু সমস্যা সূচনায় বিরাট ভূমিকা রাখে।

সাম্প্রতিককালে, সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকের ব্যবহার বেড়ে গেছে অনেকগুণ। সারা দেশে বছরে প্রায় ৭৩ হাজার টন সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপাদিত হচ্ছে। পাশাপাশি, চলমান করোনা মহামারীর কারণে ব্যবহৃত সার্জিক্যাল মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজারের বোতল, হ্যান্ড গ্লাভস যত্রতত্র ফেলে দেয়ায় এই প্লাস্টিক দূষণে ভিন্ন মাত্রা যোগ হয়েছে। সর্বোপরি, বর্তমান সময়ে প্লাস্টিক দূষণ একটি বিরাট সমস্যা। আধুনিক সভ্যতা যেন প্লাস্টিক সভ্যতা। এটি একটি মহামারীর আকার ধারণ করছে।

প্লাস্টিক দূষণের এই মহামারী থেকে বাঁচতে প্রয়োজন সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনাসহ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা। সবার আগে দেশের সাধারণ জনগণকে সচেতন হতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার এর পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোকে নানাবিধ কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকের ব্যবহার যথাসম্ভব কমিয়ে আনতে হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নত ব্যবস্থা থাকতে হবে। রিসাইক্লিং প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত পণ্যগুলোকে পুনঃব্যবহারযোগ্য করে তুলতে হবে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে, আইন মানার ব্যাপারে সবাইকে উৎসাহিত করতে হবে। যেসব দেশে রিসাইক্লিং ব্যবস্থা উন্নত সেসব দেশে প্লাস্টিক বর্জ্য রপ্তানির ব্যবস্থা করা যেতে পারে। পাটের উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের আগ্রহ প্রদান করা ও পাটের তৈরি ব্যাগের ব্যবহার বৃদ্ধি করা। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্লাস্টিক থেকে তেল উৎপাদন প্রকল্প চালু করা যেতে পারে। এখনই সময় প্লাস্টিক দূষণ নামক মহামারী থেকে অনন্য সুন্দর মাতৃভূমি তথা গোটা পৃথিবীকে রক্ষা করার।

রাজন হোসেন

চিঠিপত্র : গাইবান্ধায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় চাই

গাইবান্ধা একটি অবহেলিত জেলা। এই জেলার বেশিরভাগ লোকজন কৃষির উপর নির্ভরশীল।

চিঠিপত্র : পারিবারিক সহিংসতা রোধে চাই সচেতনতা

পারিবারিক সহিংসতা রোধে চাই সচেতনতা পরিবার হলো পৃথিবীর প্রাচীনতম প্রতিষ্ঠান। যেখানে প্রাচীনকাল থেকে

চিঠিপত্র : আর্সেনিক এক নীরব ঘাতক

আর্সেনিক এক নীরব ঘাতক পানির অপর নাম জীবন। গ্রামাঞ্চলে বাড়ির পাশের নলকূপের পানি

sangbad ad

চিঠিপত্র :শীতে কী হবে ছিন্নমূল মানুষের?

শীতকাল কারো জন্য সুখকর ও আশীর্বাদ হলেও অনেকের জন্য অভিশাপ। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও বস্তিতে বসবাসরত মানুষের জন্য শীত ভয়াবহ অভিশাপ।

চিঠিপত্র :অ্যাসাইনমেন্ট পেপারের দাম বৃদ্ধি রোধ করতে হবে

কোভিড১৯ এর প্রার্দুভাবে মার্চের ১৬ তারিখ থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়।

চিঠিপত্র : ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নজর দিন

ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নজর দিন বর্তমান যুগ তথ্য ও প্রযুক্তির যুগ। এই যুগে এসে মানুষ

চিঠিপত্র : ইঁদুর নিধনে কার্যকর ব্যবস্থা নিন

ইঁদুর একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর প্রাণী। ছোট এ প্রাণীটির ক্ষতির ব্যাপকতা হিসাব করা খুবই কঠিন।

চিঠিপত্র : কেমন বাংলাদেশ চাই

কেমন বাংলাদেশ চাই সময়ের বদলের সঙ্গে সঙ্গে দেশের অবকাঠামোর পরিবর্তন হয়েছে। উন্নতির পথে

চিঠিপত্র : রাস্তাটির সংস্কার হচ্ছে না কেন?

১৯৮৮ সালের বন্যাতেও যে রংপুর মহানগরী পানিতে ডুবে যায়নি, সেই রংপুর নগরী এবারের বন্যায় পানিতে তালিয়ে ছিল বেশ কয়েকদিন।

sangbad ad