• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯

 

বহুতল ভবনের ঝুঁকি দায় নিতে হবে রাজউককে

নিউজ আপলোড : ঢাকা , শনিবার, ২৫ মে ২০১৯

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আওতাধীন অঞ্চলগুলোতে ১০ তলার বেশি এক হাজার ৮১৮টি বহুতল ভবনের বেশিরভাগেই ত্রুটি পাওয়া গেছে। ভবনগুলোতে মোট পাঁচ ধরনের ত্রুটি পাওয়া গেছে। এগুলো হলো নকশা ছাড়া নির্মাণ, নকশায় ব্যত্যয়, অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা না থাকা, জরুরি সিঁড়ির অপ্রতুলতা ও আবাসিক অনুমোদন নিয়ে বাণিজ্যিক ব্যবহার। এর মধ্যে জরুরি সিঁড়ির অপ্রতুলতা রয়েছে প্রায় ৭১ শতাংশ ভবনে। যথাযথ ও প্রয়োজনীয় জরুরি সিঁড়ি নেই এক হাজার ২৮৭টি ভবনে। এছাড়া নকশা না নিয়ে বা লঙ্ঘন করে নির্মিত ভবনের সংখ্যা ৪৭৮। রাজউককে নকশা দেখাতে পারেননি ৪৭৫টি ভবনের মালিক। এর মধ্যে ৪৪টি ভবন রয়েছে সরকারি মালিকানায়। নকশার অনুমোদন না নিয়ে বহুতল ভবন নির্মাণকারীদের মধ্যে সিটি করপোরেশন, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও পৌরসভার নামও রয়েছে। গত বুধবার প্রকাশ করা রাজউকের একটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের শিকার বনানীর এফআর টাওয়ার নিয়ে অনিয়মের জন্য দায়ী রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সাবেক চেয়ারম্যান, দুজন সদস্য, প্রধান প্রকৌশলী ও নগর পরিকল্পনাবিদসহ ৫১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী।

কোথাও আগুন লাগলে বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি হলেই সাময়িকভাবে সতর্ক হওয়ার চেষ্টা করা হয়। বাস্তবতা হচ্ছে, ভবন নির্মাণের সময়ে কেউই নিয়মকানুন মানেন না। বনানীতে অগ্নিকান্ডের পর বহুতল ভবনে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে জোরালোভাবে আলোচনা হচ্ছে। সামনে আসছে রাজধানীতে অবৈধ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের অবস্থান নিয়েও। একটু অনুসন্ধানী দৃষ্টিতে তাকালেই স্পষ্ট দেখা যায়, রাজধানীতে যেন বহুতল ভবন নির্মাণের ধুম পড়েছে। কিন্তু এর কোনটি নিয়ম মেনে আর কোনটি নিয়ম ভেঙে উঠছে তা সাদা চোখে বোঝার উপায় নেই।

রাজধানী ঢাকার অধিকাংশ বহুতল ভবনে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। নেই ঠিকঠাক জরুরি নির্গমন ব্যবস্থাও। ভবন নির্মাণ ও সম্প্রসারণে নিয়ম না মানা, অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা না মানার ফলে বারবার মানুষের জীবন বিপন্ন হচ্ছে। অগ্নিকান্ডের ফলে প্রাণহানি, আহত হওয়ার ঘটনা ও সম্পদের ক্ষতি বাড়ছে। সুউচ্চ ভবনগুলো পরিণত হয়েছে মৃত্যুফাঁদে! আর এসব অপকর্ম সাধিত হচ্ছে রাজউকের দৃষ্টিসীমার ভেতরেই।

রাজধানীতে যে কোনো স্থাপনা নির্মাণের মূল তদারকির দায়িত্বে রয়েছে রাজউক কর্তৃপক্ষ। নির্দি¦ধায় বলা যায় এ ক্ষেত্রে রাজউক চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে আসছে। অনিয়ম রোধে কোন ধরনের পদক্ষেপ নেয়নি, কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি। বরং চোখ বন্ধ করে থেকেছে, অনিয়মে সম্পৃক্ত হয়েছে রাজউকের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। বিষয়টি সমগ্র জাতির জন্যই চরম লজ্জার এবং দুর্ভাগ্যের।

দেশে নিরাপদ ভবন বা ঝুঁকিমুক্ত অট্টালিকা নির্মাণের জন্য যথোপযুক্ত আইন রয়েছে। ১৯৫২ সালে প্রণীত এই আইনের আওতায় পরবর্তীকালে তৈরি করা হয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালা। কিন্তু এসব আছে শুধু নথিপত্রে। আইনটি বাস্তবায়নের কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এমনকি এসব আইন ও বিধিবিধান বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্রের তরফে সমন্বিত কোন ব্যবস্থা যেমন নেই, তেমনি তদারকির জন্যও নেই কোন কর্তৃপক্ষ।

আমরা লক্ষ্য করি, ভবন ধস, অগ্নিকান্ডের মতো দুর্ঘটনা ঘটলেই শুধু সংশ্লিষ্টরা নড়েচড়ে বসেন, কিছুদিন কর্মতৎপরতা বেড়ে যায়। অথচ রাজধানীকে বাসযোগ্য রাখতে অবৈধভাবে, কোড না মেনে, অনিয়ম করে স্থাপনা নির্মাণ রোধ করতে হবে। আর এক্ষেত্রে সবার আগে জরুরি হল রাজনৈতিক সদিচ্ছা। অর্থাৎ সরকার যদি সত্যিকার অর্থেই অবস্থায় পরিবর্তন চায়, তবেই রাজউক জবাবদিহিতার আওতায় আসবে, দুর্নীতিমুক্ত এবং ন্যায়নিষ্ঠ হবে, ভবন নির্মাণের ত্রুটির কারণে নিরীহ মানুষের প্রাণ বিসর্জিত হবে না।

ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, নির্মাণ প্রকল্প শনাক্ত করে অনিয়মকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। অনিয়ম করে বানানো প্রতিটি ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এ বিষয়ে কাউকে ছাড় দেয়া চলবে না। ভবনের পরিকল্পনা, নকশা প্রণয়ন, স্ট্রাকচারাল ডিজাইন ও নির্মাণকাজের সঙ্গে জড়িত সব পরিকল্পনাবিদ, স্থপতি ও প্রকৌশলীর দায়বদ্ধতা নিশ্চিতকরণে প্রয়োজন হলে আইনি সংস্কার করতে হবে। সেবার মান উন্নত করে রাজউককে জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে। বর্তমানে সেবাপ্রত্যাশীদের যে অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্বের শিকার হতে হয় তা দূর করতে হবে। এ জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীলতা বাড়াতে এবং আরও গতিশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

দৈনিক সংবাদ : ২৫ মে ২০১৯, শনিবার, ৬ এর পাতায় প্রকাশিত

সঞ্চয়পত্রের মুনাফার উৎসে কর বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রত্যাহার করুন

প্রস্তাবিত বাজেটে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মায়ানমারের ওপর কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখতে হবে

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে সব দেশ সম্মত হলেও মায়ানমারের সাড়া পাওয়া যাচ্ছে

ইরান-মার্কিন বিরোধেও কি বাংলাদেশ জড়িত থাকবে

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে লেখা এক চিঠিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

sangbad ad

সমাজ ও ব্যক্তির জন্য সৃষ্টি হচ্ছে ভয়াবহ সংকট

দেশে সংস্কৃতিচর্চার সুযোগ দিন দিন কমছে। সরকারি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে পেশাদারি, জবাবদিহি ও আন্তরিকতার অভাব। সংস্কৃতি

দেশের বাঁধগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে সংস্কারের লক্ষ্যে মনিটরিং করুন

ঘূর্ণিঝড় ফণী বাংলাদেশ অতিক্রম করে গেছে। ভারতের ওড়িশা উপকূলে আঘাত হানার পর পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে ঘূর্ণিঝড়।

পরিবহন সেক্টরকে মাফিয়ামুক্ত করুন

সাত দফা দাবিতে পরিবহন শ্রমিকদের ডাকা ধর্মঘটে গত সোমবার দিনভর দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত

জঙ্গিবাদের হুমকি মোকাবিলায় ঐক্য গড়ে তুলুন

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে হামলার পরিকল্পনা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার

গণধর্ষণ মামলার চার্জশিট প্রশ্নবিদ্ধ পুলিশের ভূমিকা

সুবর্ণচরে গণধর্ষণের শিকার নারীর অভিযোগ ছিল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজের পছন্দের প্রতীকে ভোট দেয়ায় তার ওপর নির্যাতন হয়েছে

বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থা ত্রুটিমুক্ত করতে হবে

চাহিদার চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও বিদ্যুৎ বিভাগ মানসম্মত বিতরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে না পারায়

sangbad ad