• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯

 

বাবা কিছু করতে পারছিলেন না যখন সন্তানকে বাস চাপা দিচ্ছিল!

নিউজ আপলোড : ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ ২০১৯

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
image

বাবা কিছু করতে পারছিলে না যখন সন্তানকে বাস চাপা দিচ্ছিল!

‘সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে’ ‘পুলিশ ট্রাফিক সপ্তাহ পালনের মধ্যে রাস্তা পার হতে গিয়ে বেপরোয়া গতির দুই বাসের চাপায় পিস্ট হয়ে মর্মান্তিকাবে মৃত্যু হয়েছে আবরার আহেমেদ চৌধুরী নামে এক শিক্ষার্থীর। নিহত শিক্ষার্থী আবরার বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) আন্তর্জাতিক বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। ১৯ মার্চ মঙ্গলবার রাজধানীর প্রগতি স্বরণীতে ফ্লাইওভারের কাছে পথচারীদের পারা পারে জেব্রা ক্রসিং দিয়ে রাস্তা পার হতে গিয়ে সুপ্রভাত পরিবহনের দুই বাসের অসুস্থ প্রতিযোগিতায় এ শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অবরুদ্ধ করা হয় সড়ক। পুলিশ ঘাতক সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাসের চালক সিরাজুল ইসলামকে আটক করলেও অণ্য চালককে আটক করতে পারেনি। পাশাপাশি একটি বাস আটক করা হয়।

এদিকে সহপাঠির মৃত্যুর ঘটনায় আন্দোলণরত শিক্ষার্থীদের অবরোধের মধ্যে সুপ্রভাত পরিবহনের এক বাসের চালক ইচ্ছে করেই বাসে আগুন লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের উপর দোষ চাপানোর সময় ধরা পড়ে। কিন্তু তাকে পুলিশের দেওয়ার সময় চালক পালিয়ে যায়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ঠেকাতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলেও রাস্তা অবরোধ করে প্রতিবাদ জানিয়ে নিরাপদ সড়ক এবং আবরারের মৃত্যুর ঘটনায় বিচার দাবী করে ৮ দফা দাবী তুলেছে শিক্ষার্থীরা। দিনভর আন্দোলন শেষে আজ ফের ৮ দফা বাস্তবায়নের দাবী জানিয়ে কর্মসূচী পালনের ঘোষনা দিয়ে সড়ক ছাড়ে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা রাস্তা ছাড়লে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। মঙ্গলবার বিইউপিতে জানাযা শেষে আবরারকে বনানীতে সামরিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভাটারা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। জব্দ করা বাসটির রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে।

বিইউপির অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ জাহাঙ্গীর কবীর চৌধুরী সংবাদকে জানান, আবরার আহমেদ চৌধুরীর বাবা আরিফ আহমেদ চৌধুরী সেনাবাহিনীর সাবেক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল। মায়ের নাম ফরিদা ফাতেমী। দুই ভাইয়ের মধ্যে আবরার বড় সন্তান ছিলো আরিফ-ফাতেমী দম্পতির। আবরার, বাবা আরিফ আহমেদ চৌধুরীর সঙ্গেই বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে বেরিয়ে ছিলো। বাবা ওকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে উঠিয়ে দেওয়ার জন্য এসেছিলো। বাবার সামনেই আবরার রাস্তা জেব্রা ক্রসিং দিয়ে রাস্তা পার হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে উঠার জন্য হেটে আসছিলো। এমন সময় গুলিস্তান থেকে ছেড়ে আসা সুপ্রভাত পরিবহনের বাসটি ওকে চাপা দেয়। ওর বাবা দেখছে তার ছেলেকে কিভাবে বাস চাপা দিচ্ছে। কিন্তু তিনি কিছু করতে পারছেন না। বাবার চোখের সামনেই আবরারের মর্মান্তিক মৃত্যুর হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আবরারের মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক শিক্ষক, ছাত্রছাত্রীরা মর্মাহত। এভাবে চালকের বেপরোয়া আচরনে একটি মেধাবী প্রাণ অকালে ঝড়ে গেলো এটা কোনভাবেই মানা যাচ্ছে না। মঙ্গলবার বাদ জোহর আবরারের জানাজা তার প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাকে বনানীর সামরিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, নিহত আবরার আহমেদ চৌধুরীর মৃত্যুর ঘটনায় আবরারের বাবা সেনাবাহিনীর সাবেক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আরিফ আহমেদ চৌধুরীর বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মঙ্গলবার বিকেলে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আটক চালককে মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে আনা হবে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আবরার সকালে তার বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন। সকাল ৭ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস আসলে নিয়ম মেনে পথচারীদের পারাপারের জন্য জেব্র ক্রসিং দিয়ে রাস্তা পার হয়ে বাসে উঠতে যাচ্ছিলেন । ঠিক সে সময়ে তার পেছনে আসা সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাস তাকে ধাক্কা দেয়। আবরার ছিঁটকে মাটিতে পড়ে গিয়ে পিসে যাচ্ছিলেন। ভয়ানক সে দৃশ্য দেখে আবরারের বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসটিতে থাকা সহপাঠিরা তাকে বাঁচানোর জন্য চিৎকার করতে থাকে। কিন্তু ঘাতক চালক তাদের কথায় কোনো কর্ণপাতই করেনি। বাসটির স্টিয়ার কষে দিয়ে পিসে দেন আবরারকে। ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। আবরারের সহপাঠিরা তার মৃত্যুর দৃশ্য দেখে হতবম্ভ হয়ে যান। ঘটনার পরপরই ঘাতক বাস চালক সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে বাস চালক সিরাজুল ইসলামকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। আবরারের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার সহপাঠিরা বসুন্ধরা আবাসিক গেট এলাকায় জড়ো হতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা সেখানে রাস্তায় বসে পড়ে এবং অবরোধ করে সহপাঠির মৃত্যুতে চালকের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি ও নিরাপদ সড়ক দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে। এসময় রামপুরা-উত্তরা সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

আবরাবের সহপাঠিরা বলেন, গত বছরের ২৯ জুলাই শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থী বাসচাপায় নিহত হওয়ার পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছিল রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা। সেসময় শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবির পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর কাজও করে। সেই আন্দোলন চলাকালে ২ আগস্ট আবরার তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিরাপদ সড়ক চাই লিখে স্টাটাস দিয়েছিল বলে জানায় তার সহপাঠিরা। সেই আন্দোলনে সক্রিয় থেকে নিরাপদ সড়কের দাবি জানিয়েছিলেন নিহত আবরার। তবে আবরারের বন্ধু ও পরিচিতজনদের প্রশ্ন, যে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আবরার আন্দোলন করেছে, কথা বলেছে, সেই সড়কেই তার প্রাণ গেল তাহলে সড়ক কতটুকু নিরাপদ হয়েছে?

বিইউপির শিক্ষার্থী ও আবরারের বন্ধু নাজমুস সাকিব বলেন, আবরারও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে সক্রিয় ছিল। সবার জন্য সে নিরাপদ সড়ক চেয়েছিল। কিন্তু দিনের শেষে কী পেলাম? আমার বন্ধু আজ সড়কেই মারা গেলো। আবরারের সহপাঠী জোনায়েদ বলেন, সড়ককে নিরাপদ করার জন্য আমাদের যে আশ্বাস দেয়া হয়েছিল তার কোনোটাই বাস্তবায়ন করা হয়নি। সেটা প্রমাণিত হলো বন্ধু আবরারের মৃত্যুর মধ্যদিয়ে।

জ্রেবা ক্রসিং দিয়ে নিয়ম মেনে রাস্তা পার হওয়ার সময় যেভাবে আবরারকে চাপা দিয়ে মারা হয়ঃ

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটায় বিইউপিতে ক্লাস ছিল আবরারের। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার । ক্লাসে যাওয়ার জন্য সকাল সাড়ে সাতটার দিকে নর্দ্দায় যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা বিইউপির বাসে উঠতে যাচ্ছিলেন তিনি। বাসে উঠতে ট্রাফিক নিয়মে পথচারীদের জন্য পারাপারের জন্য জেব্রা ক্রসিং দিয়ে রাস্তা পার হচ্চিলেন তিনি। এ সময় উল্টো দিক থেকে সু প্রভাত পরিবহনের দুটি বাস রেশারেশি করে ফাকা সড়কে বাস চালিয়ে আসছিলেন বেপরোয়া গগিতে। জেব্রা ক্রসিং দিয়ে শিক্ষার্থী আবরার রাস্তা পার হওয়ার দৃশ্য দেখলেও চালকরা বাসের গতি নিয়ন্ত্রন করেননি। একটি বাস আবরারকে জোড়ে ধাক্কা দেয়। এতে রাস্তার উপর ছিটকে পড়েন আবরার। আরেকটি বাস এসে চাকায় উঠিয়ে দেন আবরারের শরীরে। এ দৃশ্য দেখে সহপাঠিরা চিৎকার করে বাস থামাতে বললেও বাসটি থামেনি। বরং চাকার নিচে পড়ে যাওয়া আবরারকে বাসটি কয়েকগজ টেনে হিচড়ে নিয়ে যায়। আবরারকে পিস্ট করে বাসটি পালিয়ে যায়। সহপাঠিরা তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করেন। পরে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বিকেলে বিইউপিতে আবরারের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।পরে সেখান থেকে বনানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে আবরারকে দাফন করা হয়।

সড়ক অবরোধ করে বাস চালকের শাস্তি দাবী এবং নিরাপদ সড়কের দাবীতে শিক্ষার্থীদের ৮ দফাঃ

এদিকে বাসের ধাক্কায় সহপাঠী আবরার হোসেন চৌধুরীর মৃত্যুর ঘটনায় আটদফা দাবি নিয়ে গুলশান থানায় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থীরা। পরে তারা আট দফা দাবি বাস্তায়নের করতে বলেন। তাদের আটদফা দাবির মধ্যে রয়েছে, ১. পরিবহন সেক্টরকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে হবে এবং প্রতিমাসে বাসচালকের লাইসেন্সসহ সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেক করতে হবে। ২. আটক হওয়া চালক ও সম্পৃক্ত সকলকে দ্রুততম সময়ে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনতে হবে। ৩. আজ (মঙ্গলবার) থেকেই ফিটনেসবিহীন বাস ও লাইসেন্সবিহীন চালককে দ্রুততম সময়ে অপসারণ করতে হবে। ৪. ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় সকল স্থানে আন্ডার পাস, স্পিড ব্রেকার ও ফুট ওভার ব্রিজ নির্মাণ করতে হবে। ৫. চলমান আইনের পরিবর্তন করে সড়কে হত্যার সঙ্গে জড়িত সকলকে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনতে হবে। ৬. দায়িত্ব অবহেলাকারী প্রশাসন ও ট্রাফিক পুলিশকে স্থায়ীভাবে অপসারণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ৭. প্রতিযোগিতামূলক গাড়ি চলাচল বন্ধ করে নির্দিষ্ট স্থানে বাসস্টপ এবং যাত্রী ছাউনী করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এবং ৮. ছাত্রদের হাফপাস অথবা আলাদা বাস সার্ভিস চালু করতে হবে।

বিইউপির শিক্ষার্থী মাশরুর রাব্বি ইনান বলেন, ‘আমরা আটদফা দাবি দিয়েছি। দাবি না মানা পযন্ত আমরা রাজপথ থেকে সরব না। সুন্দরভাবে আমাদের অবস্থান কমর্সূচি চলছে। সড়কে একের পর এক ঘটনা ঘটছে। কত মায়ের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হচ্ছে কিন্তু কারও টনক নড়ছে না। এভাবে চলতে পারে না। আমাদের কমর্সূচি চলমান থাকবে৷

উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন,সড়কে যতোগুলো সমস্যা আছে সেগুলো শিক্ষার্থীদের নিয়ে সমাধান করা হবে। খুব শিগগির ছয়-সাতটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রাজধানীর বাস চলাচল একটি পদ্ধতির আওতায় আনা হবে। আজ থেকে সুপ্রভাত পরিবহনের কোনো বাস রাস্তায় চলতে দেয়া হবে না।

দিনভর বিক্ষোভের পর আজ ফের সড়ক অবরোধের ঘোষনা দিয়ে রাস্তা ছাড়ল শিক্ষার্থীরাঃ

বাসচাপায় সহপাঠীর মৃত্যুর প্রতিবাদে দিনভর বিক্ষোভের পর সন্ধ্যায় সড়ক থেকে সরে গেছেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থীরা। আজ ফের কর্মসূচী পালন করার ঘোষনা দিয়ে কর্মসূচি শেষ করা হয়। এদিকে শিক্ষার্থীদের অন্দোলনে একত্মতা জানিয়েছে জাবালে নুর পরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নব নির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর। এদিকে শিক্ষার্থীদের অবরোধ উঠিয়ে নেওয়ায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার পর রাপুরা, বাড্ডা, কুড়িল বিশ্বরোধ এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয় । মঙ্গলবার শিক্ষার্থীদের অবরোধের মধ্যে বিকাল পৌনে ৫টার দিকে সেখানে গিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নূর। ‘শান্তিপূর্ণ’ আন্দোলনে আঘাত করা হলে ‘দাতভাঙা’ জবাব দেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন তিনি। এরপর সন্ধ্যার ৬টার কিছুক্ষণ আগে এদিনের মতো বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষ করার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীদের পক্ষে শিক্ষার্থী মাইশা নূর সাংবাদিকদের বলেন, সন্ধ্যা ৬টায় তারা সড়ক অবরোধ উঠিয়ে নিয়েছেন। আজ বুধবার সকাল ৮টায় আবার সড়কে অবস্থান নেবেন। সহপাঠীদের বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার গেইটে আসার আহ্বান জানান তিনি। সেখান থেকে তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী শুরু হবে ৮ দফা বাস্তবায়নের জন্য। মাঈশানুর বলেন, মেয়র আতিকুল ইসলাস আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন আগামীকাল সকালে বসুন্ধরা গেটের সামনে একটি ফুটওভারব্রিজ তৈরি করে দেবেন। দুর্ঘটনায় নিহত আবরারের বাবা ফুটওভারব্রিজটি উদ্বোধন করবেন। ‘নিরাপদ সড়কের দাবিতে চলা এই আন্দোলনকে কেউ রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে দেখবেন না। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই আজকের মতো আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছে। আগামী কাল সকাল থেকে আবারও আমরা রাস্তায় নামবো। বাসচাপায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের মৃত্যুর প্রতিবাদে সারা দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের আহ্বান জানাচ্ছি। “এটা কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন নয়। এখানে রাজনৈতিক উপস্থিতির কোনো প্রতিফলন আমরা দেখতে চাই না।

সুপ্রভাত পরিবহনের রেজিস্ট্রেশন বাতিলঃ

বিইউপি ছাত্র আবরারের মৃত্যর ঘটনায় সংশ্লিস্ট বাসের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করেছে বিআরটিএ। বিআরটিএর সহকারি পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) মোঃ রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ তথ্য জানানো হয়।এতে বলা হয়, মঙ্গলবার সকাল ৭ টার সময় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন প্রগতি সরণী এলাকায় ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৪১৩৫ নং বাসটি বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস এর একজন শিক্ষার্থী চাপা দিলে তাৎক্ষনিকভাবে শিক্ষর্থীটি মৃত্যুবরণ করেন। নিহত শিক্ষার্থীর নাম আবরার আহমেদ চৌধুরী। তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালে (বিইউপি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। এ ঘটনার ফলে উক্ত এলাকায় শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে রাস্তা অবরোধ করে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে। যার প্রভাবে সমগ্র ঢাকা মহানগরীর স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হয়। বর্ণিত দুর্ঘটনাজনিত কারণে মোটরযান অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ এর ৪৩ ধারা মোতাবেক ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৪১৩৫ নং বাসের রেজিস্ট্রেশন সাময়িকভাবে বাতিল করা হলো।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীনের বক্তব্য ইতিবাচক

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ঢাকা ও বেইজিং সম্মত হয়েছে। গত শুক্রবার চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের সঙ্গে

সঞ্চয়পত্রের মুনাফার উৎসে কর বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রত্যাহার করুন

প্রস্তাবিত বাজেটে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মায়ানমারের ওপর কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখতে হবে

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে সব দেশ সম্মত হলেও মায়ানমারের সাড়া পাওয়া যাচ্ছে

sangbad ad

ইরান-মার্কিন বিরোধেও কি বাংলাদেশ জড়িত থাকবে

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে লেখা এক চিঠিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বহুতল ভবনের ঝুঁকি দায় নিতে হবে রাজউককে

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আওতাধীন অঞ্চলগুলোতে ১০ তলার বেশি এক হাজার ৮১৮টি বহুতল ভবনের বেশিরভাগেই ত্রুটি

সমাজ ও ব্যক্তির জন্য সৃষ্টি হচ্ছে ভয়াবহ সংকট

দেশে সংস্কৃতিচর্চার সুযোগ দিন দিন কমছে। সরকারি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে পেশাদারি, জবাবদিহি ও আন্তরিকতার অভাব। সংস্কৃতি

দেশের বাঁধগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে সংস্কারের লক্ষ্যে মনিটরিং করুন

ঘূর্ণিঝড় ফণী বাংলাদেশ অতিক্রম করে গেছে। ভারতের ওড়িশা উপকূলে আঘাত হানার পর পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে ঘূর্ণিঝড়।

পরিবহন সেক্টরকে মাফিয়ামুক্ত করুন

সাত দফা দাবিতে পরিবহন শ্রমিকদের ডাকা ধর্মঘটে গত সোমবার দিনভর দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত

জঙ্গিবাদের হুমকি মোকাবিলায় ঐক্য গড়ে তুলুন

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে হামলার পরিকল্পনা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার

sangbad ad