• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

 

সিটিং সার্ভিসের নামে গণপরিবহনে নৈরাজ্য থামছে না

নিউজ আপলোড : ঢাকা , শুক্রবার, ০৯ মার্চ ২০১৮

সংবাদ :
  • মাহমুদ আকাশ
image

রাজধানীতে গণপরিবহনে সিটিং সার্ভিসের নামে নৈরাজ্য বন্ধ হচ্ছে না। বিভিন্ন রুটে লোকাল বাসে সিটিং সার্ভিসের স্টিকার লাগিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। ১০ টাকার ভাড়া নেয়া হচ্ছে ৩০-৫০ টাকা। সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ঢাকা মহানগরীতে চলাচলরত বাস ভাড়া প্রতি কিলোমিটার ১ দশমিক ৭০ টাকা ও মিনিবাস ভাড়া প্রতি কিলোমিটার ১ দশমিক ৬০ টাকা। সর্বনিম্ন ভাড়া ৩ কিলোমিটার পর্যন্ত বড় বাসে ৭ টাকা, মিনিবাসে ৫ টাকা নির্ধারিত থাকলেও বাস মালিকরা তা মানছে না। সিটিং, কম স্টপেজ, গেটলক, স্পেশাল, কাউন্টার সার্ভিসসহ নানা নামে গণপরিবহন পরিচালনা করছে বাস মালিকরা। এসব বাসে উঠলেই যাত্রীদের সর্বনিম্ন ১০ টাকা ভাড়া দিতে হচ্ছে। এই নিয়ে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে যাত্রীরা জানায়। তবে সিটিং সার্ভিসের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য গত বছর এপ্রিলে একটি কমিটি গঠন করে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এই কমিটি ১৫ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেয়ার কথা কিন্তু ১০ মাস অতিক্রম হলেও কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ।

এ বিষয়ে বিআরটিএ সচিব মো. শওকত আলী সংবাদকে বলেন, সিটিং সার্ভিসের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য বিআরটিএ’র এক কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে কমিটি থেকে সিদ্ধান্ত বিষয়ে এখনও কিছু জানানো হয়নি। এছাড়া কমিটির সঙ্গে আমি যুক্ত নেই। তাই এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না। তবে রাজধানীতে কোন রুটে সিটিং সার্ভিসের নামে ভাড়া আদায়ে নৈরাজ্য করলে লিখিতভাবে অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা গেছে, সম্প্রতি রাজধানীর বেশিরভাগ লোকাল সার্ভিসেই শোভা পাচ্ছে ‘সিটিং সার্ভিস’ স্টিকার। সিটিং তকমা লাগিয়ে প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করলেও সেবার মানে কোন পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ যাত্রীদের। বরং সিটিংয়ের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা করে প্রতিনিয়তই কাটা হচ্ছে যাত্রীদের পকেট। এর মধ্যে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী-গাবতলী রুটে চলাচল করে বিরতিহীন ৮ নাম্বার পরিবহন, আজিমপুর-গাজীপুরের ২৭ নাম্বার পরিবহন, সায়েদাবাদ-গাজীপুরের বলাকা পরিবহন, যাত্রাবাড়ী-মোহাম্মদপুর রুটের মেসকাত পরিবহন, গুলিস্তান-গাজীপুরের ৩ নাম্বার পরিবহনসহ একাধিক লোকাল বাস এখন সিটিং সার্ভিসের নামে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া কিছু পরিবহন সিটিং সার্ভিসের নামে দ্বিগুণ চারগুণ ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ করেন যাত্রীরা। এর মধ্যে সদরঘাট-গাজীপুরের সুপ্রভাত পরিবহন, মতিঝিল-আবদুল্লাপুর পর্যন্ত শতাব্দী পরিবহন, মিরপুর রুটের লাব্বাইক পরিবহন, বেস্টওয়ে পরিবহন, শিখর, শিকড়, খাজাবাবাসহ বিভিন্ন পরিবহন যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। বিভিন্ন স্থানে চেকারের মাধ্যমে বাসে সিট খালি আছে কিনা অথবা কেউ দাঁড়িয়ে আছে কিনা তা চেক করা হয়। কিন্তু চেকার চলে যাওয়ার পরে বাসে দাঁড়িয়ে যাত্রী উঠানো হয়। এ নিয়ে প্রতিনিয়ত বাসের কন্ডাকটরের সঙ্গে যাত্রীদের বাগ্্বিত-ার ঘটনা ঘটছে বলে যাত্রীরা জানান।

এ বিষয়ে যাত্রাবাড়ী এলাকায় সারোয়ার নামের এক যাত্রী বলেন, আগে ৮ নাম্বার বাসে যাত্রাবাড়ী থেকে পুরানা পল্টনের ভাড়া ছিল ৫ টাকা। এখন গাড়ি উঠলেই ১০ টাকা দিতে হচ্ছে। পুরানা পল্টন থেকে ইত্তেফাক মোড়ের ভাড়া আগে ৫ টাকা নেয়া হলেও এখনও ১০ টাকা নেয়া হচ্ছে। এছাড়া যাত্রাবাড়ী থেকে ফার্মগেটের ভাড়া আগে ছিল ১৫ টাকা এখন নেয়া হচ্ছে ২০-৩০ টাকা। সরকারি ভাড়ার নীতিমালা কেউ মানছে না।

বনানী এলাকায় কাওসার নামের এক যাত্রী বলেন, আজিমপুর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত ২৭ নাম্বার লোকাল বাসে এখন ভিআইপি স্টিকার লাগানো হয়েছে। সামনে পেছনে লেখা রয়েছে কাউন্টার সার্ভিস। সার্ভিসটির কলাবাগান কাউন্টারের খানিকটা দূরে দাঁড়িয়ে থামানোর ইশারা করতেই ভেতর থেকে কন্ডাকটরের প্রশ্ন কই যাবেন? বনানী যাওয়ার কথা শুনে তিনি বলেন, ৩০ টাকা ভাড়া। এই ভাড়াতেই রাজি হয়ে বাসে ওঠার পর গন্তব্যের পথে আরও কয়েকবার গাড়ি থামিয়ে যাত্রী উঠানো হলো। কারণ জানতে চাইলে কন্ডাকটর মামুন বলেন, সিট খালি আছে তাই দু’একজন যাত্রী নেই। দাঁড়িয়ে একজনও যাবে না। কিন্তু এটা কাউন্টার সার্ভিস প্রশ্ন করতেই তিনি বলেন, বুঝেনই তো মামা, আমাদেরও চলতে হইবো। সাধারণত কলাবাগান থেকে বনানী পর্যন্ত এ বাসে সর্বোচ্চ ১৫ টাকা ভাড়া হলেও ভিআইপি তকমা লাগানোর পর তা দাঁড়িয়েছে ৩০ টাকায়।

আজিমপুর এলাকায় পাভেল নামের এক যাত্রী বলেন, একটু স্বস্তির আশায় এ বাসে উঠি। ভাড়া দ্বিগুণ আবার কোনও ক্ষেত্রে তারও বেশি। তারপরেও মাঝেমধ্যে দাঁড়িয়ে লোক নেয়া, যেখানে-সেখানে থামানো তো আছেই। সবকিছুই তাদের ইচ্ছামতো, আমরা তাদের কাছে জিম্মি। বাড়তি ভাড়ার ব্যাপারে মামুন জানান, সমিতি থেকে যে ভাড়া নির্ধারিত করে দিয়েছে তারা সেই অনুযায়ী ভাড়া নিচ্ছেন।

আবদুল্লাহপুর থেকে গুলিস্তানগামী ৩ নাম্বার বাসে লাগানো হয়েছে ‘স্পেশাল সার্ভিস’ ও ‘কম স্টপেজ’ স্টিকার। সিটিং সার্ভিসে উঠে প্রথমেই সিট পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ করেন যাত্রীরা। সাইফুল ইসলাম নামের এক যাত্রী বলেন, হঠাৎ করেই এসব লোকাল সার্ভিসে সিটিং তকমা লাগানো হয়েছে। কিছু গাড়ির উপরে রং করা হলেও অনেক গাড়ি অবিকল আগের মতোই। গাড়ির ভেতরের সিট আর সেবার মান কিছুই বদলায়নি। পার্থক্য হচ্ছে, আগে একেবারে চাপিয়ে চাপিয়ে যাত্রী উঠাতো আর এখন সেই চাপানোটা নেই। তবে প্রায় সবসময় দাঁড় করিয়ে যাত্রী নেয়া হয়। মাঝখান থেকে দ্বিগুণের বেশি ভাড়া দিতে হয় আমাদের।

শান্তিনগর মোড়ে বশির নামের এক যাত্রী বলেন, রাজধানীতে গণপরিবহনের ভোগান্তি নতুন কিছু নয়। প্রতিবছরই সরকার ও বিআরটিএ’র উদাসীনতায় নগরবাসীকে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হয়। সিটিং সার্ভিসের নামে বাড়তি ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য বন্ধে সরকার উদ্যোগ নেয়ায় আমরা খুশি হয়েছিলাম, কিন্তু সিদ্ধান্ত স্থগিত করে এতদিন পরও তার সুরাহা না করায় আমরা হতাশ। বরাবরের মতো তাই পরিবহনগুলোর ‘সিটিং সার্ভিস’র নামে ‘চিটিং সার্ভিসে’ অতিষ্ঠ যাত্রীরা।

এদিকে রাজধানীতে সিটিং সার্ভিস, গেটলক, বিরতিহীন বিভিন্ন নামে ৯৬ শতাংশ বাস-মিনিবাস সরকার নির্ধারিত হারে ভাড়া আদায় করছে না বলে অভিযোগ করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। ঢাকা মহানগরীর যাত্রীরা বাস-মিনিবাসে সিটিং সার্ভিসের নৈরাজ্যের শিকার হচ্ছে। একই দূরত্বে একেক বাসে একেক হারে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। আবার সিটিং সার্ভিস গাড়ীর গায়ে লিখে সরকার নিধার্রিত ভাড়ার দিগুণ, তিনগুণ কোন কোন ক্ষেত্রে ৫ গুণ পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া আদায় করার পাশাপাশি বাদুড়ঝোলা করে যাত্রীও বহন করা হচ্ছে। ভাড়া নৈরাজ্য ও পিকআওয়ারে দরজা বন্ধ করে বাসচলাচলের কারণে মাঝপথের যাত্রীরা রোধবৃষ্টিতে ভিজে পুড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে যাত্রীরা গাড়ি পায় না।

এ বিষয়ে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক সংবাদকে বলেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়ায়, নির্ধারিত স্টপেজ অনুযায়ী সিটিং সার্ভিস বাস চালাতে হবে, সিটিং সার্ভিসে মালিকদের মর্জিমতো ভাড়া আদায় ও স্টপেজ নির্ধারণ করা যাবে না, মালিকগণ চালকদের কাছে দৈনিক চুক্তিতে বাস ইজারা দেয়া যাবে না, প্রতিটি সিটিং সার্ভিসের বাসের আসন থাকবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, প্রতিটি সিটিং সার্ভিস বাসে নিবন্ধনে অনুমোদিত আসনের অতিরিক্ত আসন থাকতে পারবে না, প্রতিটি সিটিং সার্ভিস বাসে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী যাত্রীর ও অসুস্থ যাত্রীদের উঠানামায় অগ্রাধিকারসহ যাত্রী কল্যাণ সমিতির ১২ দফা সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সংসদের ২২তম অধিবেশন সমাপ্ত

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

দশম জাতীয় সংসদের ২২তম অধিবেশন বৃহস্পতিবার (২০ সেপ্টেম্বর) শেষ হয়েছে। স্পিকার ড. শিরীন

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন সেনাবাহিনী প্রধান

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বৃহস্পতিবার (২০ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজারের

উদ্বেগের মধ্যেই ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল পাস

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ব্যাপক সমালোচিত ৫৭ ধারাসহ কয়েকটি ধারা বাতিল করে বহুল

sangbad ad

সাংবাদিকতা পেশাকে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে ব্যবহারে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংবাদিকতা পেশাকে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে

ছয় কোম্পানির ছয় রঙের বাস চলবে

মাহমুদ আকাশ

image

ছাত্রছাত্রীদের ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের পর রাজধানী ঢাকার গণপরিবহন

মাতৃমৃত্যু রোধে সকলকে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান স্পিকারের

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী মাতৃমৃত্যু রোধে সকলকে আন্তরিকভাবে কাজ করার

৮০০০ টাকা নুন্যতম মজুরি শ্রমিক অসন্তোষের সুযোগ দেখছেন না প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের জন্য আট হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা নিয়ে অসন্তোষের

কঙ্গোয় শান্তি মিশনে মেডেল প্যারেড পরিদর্শন বিমানবাহিনী প্রধানের

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন এলাকা ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোতে বিমানবাহিনী

শান্তি-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা একটি দেশের উন্নয়নের পূর্বশর্ত : প্রধানমন্ত্রী

image

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকা এবং আইন-শৃঙ্খলা

sangbad ad