• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০১৯

 

সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে পিছিয়ে পড়ছে দেশ

নিউজ আপলোড : ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৭ মার্চ ২০১৯

সংবাদ :
  • ফয়েজ আহমেদ তুষার
image

মায়ানমার ও ভারতের পদ্ধতি অনুসরণ করলে এক বছরের মধ্যে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান শুরু সম্ভব-বিশেষজ্ঞদের অভিমত

প্রতিবেশী দুই দেশ মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও নিজ সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে কোন সাফল্য অর্জন করতে পারেনি বাংলাদেশ। অথচ মিয়ানমার ও ভারত নিজ নিজ সমুদ্রসীমায় অনুসন্ধান শুরু করে ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ গ্যাসের সন্ধান পেয়েছে। এর মধ্যে মিয়ানমার বাংলাদেশের সীমানা-সংলগ্ন একাধিক ব্লকেও গ্যাস পেয়েছে এবং উত্তোলন করছে। উভয় দেশই অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছে।

আন্তর্জাতিক আদালতে মামলার মাধ্যমে মিয়ানমার ও ভারতের কাছ থেকে প্রায় এক লাখ ১৮ হাজার বর্গকিলোমিটার সমুদ্র অঞ্চল বুঝে পায় বাংলাদেশ। প্রায় সাত বছর আগে ২০১২ সালের ১৪ মার্চ মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি হয়। প্রায় সাড়ে চার বছর আগে ২০১৪ সালের ৭ জুলাই ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি হয়। সমুদ্রসীমা নিষ্পত্তির পর বাংলাদেশ নিজ অঞ্চলের ব্লক পুনর্বিন্যাস করে ২৬টি ব্লকে ভাগ করলেও এখন পর্যন্ত মাত্র তিনটি ব্লকে কার্যক্রম শুরু করেছে, বাকি ২৩টি ব্লক অলস পড়ে আছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের নামে যে ‘মাল্টি-ক্লায়েন্ট সার্ভে’ করছে, এই সার্ভের ফাঁদেই আটকা পড়ে আছে। মিয়ানমার ও ভারত এ ধরনের সার্ভে ছাড়াই সরসারি অনুসন্ধানে নেমে সফলতা পেয়েছে। বাংলাদেশ এতদিন ধরে মাল্টি-ক্লায়েন্ট সার্ভের পেছনেই দৌড়ালেও অপ্রয়োজনীয় সার্ভেটি এখন পর্যন্ত শুরু করতে পারেনি। বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের ভেতরে ও বাইরে বৈশ্বিক জ্বালানি রাজনীতির শিকার কতিপয় পেশাজীবী ও বিশেষজ্ঞ সরকারের নীতি নির্ধারকদের এমন ধারণা দিচ্ছেন যে ‘মাল্টি-ক্লায়েন্ট সার্ভে’ না করে সমুদ্রে জ্বালানি অনুসন্ধানে যাওয়া বৃথা। জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার যেদিন মাল্টি-ক্লায়েন্ট সার্ভে করার বিষয়টি চূড়ান্ত করবে, সেদিন থেকে এর সব আনুসঙ্গিকতা শেষ করতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে। এরপর যে কোম্পানিকে দিয়ে সার্ভে করাবে, তারা নিজ খরচে সার্ভে করবে ঠিকই, তবে অন্তত ১৫ বছর প্রাপ্ত সব তথ্যের মালিকানা থাকবে তাদের হাতে। এমনকি রাষ্ট্রায়াত্ব তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলাও সেই তথ্য না কিনে ব্যবহার করতে পারবে না। যে কোম্পানি সার্ভে করবে তারা আগ্রহী বিদেশি কোম্পানির কাছে প্রাপ্ত তথ্য বিক্রি করবে। সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে কোন কোম্পানি সম্ভাবনাময় মনে করলে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় আসতে পারে। যদি কোন কোম্পানি আসে, সরকারের সঙ্গে তাদের সমঝোতা এবং তারপর চুক্তি অনুযায়ী কাজ শুরু করতে লাগবে আরও অন্তত ৫ বছর। অর্থাৎ সরকার আজ মাল্টি-ক্লায়েন্ট সার্ভের সিদ্ধান্ত নিয়ে তার বাস্তবায়ন শুরু করলেও জ্বালানি অনুসন্ধানের বাস্তব কাজ শুরু হবে এখন থেকে অন্তত ৭ বছর পর।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মিয়ানমার ও ভারতের পদ্ধতি অনুসরণ করলে এক বছরের মধ্যে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান শুরু করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে মিয়ানমার বঙ্গোপসাগরে তাদের ২০টি ব্লকে ১৩টি আন্তর্জাতিক কোম্পানির মাধ্যমে উৎপাদন অংশীদারিত্ব চুক্তি (পিএসসি) করে এ- ফোর, ফাইভ, সিক্স, সেভেন, নাইন; এডি- থ্রি, ফাইভ, সেভেন, ইলেভেন; এম- ইলেভেন, টুয়েল্ভ্্, থার্টিন, ফর্টিন ব্লকে টু-ডি এবং ত্রি-ডি সার্ভে ও কূপ খননের মাধ্যমে ৪টি গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কার করে। ২০১৬ এবং ২০১৭ সালে সুয়ে (এ-সিক্স) গ্যাস ফিল্ড-জি ২টি উন্নয়ন কূপে নতুন ৪৮০০ মিটার গ্যাসের স্তর আবিষ্কার করেছে। এই আবিষ্কার বাংলাদেশের অগভীর, গভীর এবং সমুদ্র তীরবর্তী এলাকার হাইড্রোকার্বন অনুসন্ধান ও প্রাপ্তিকে আরও সম্ভাবনাময় করেছে। প্রায় তিন দশক আগে এগারো বছরে (১৯৮৯-২০০০) মিয়ানমার বঙ্গোপসাগরে ১০টি ব্লক ৯টি বিদেশি কোম্পানিকে পিএসসি’র মাধ্যমে প্রদান করে এবং ২টি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে । ২০১৩ সালে মায়ানমার ৩০টি অফশোর ব্লকে হাইড্রোকার্বন অনুসন্ধান ও উৎপাদন কার্যক্রমের পদক্ষেপ গ্রহণ করে ৪টি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে। মায়ানমার এই প্রক্রিয়াকে আরও বেগবান করেছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, দেশের সাগরে ২৬টি ব্লক রয়েছে। কিন্তু কাজ হচ্ছে মাত্র তিনটি ব্লকে। সরকার উদ্যোগী হলে সাগরে আরও বেশি পরিমাণ গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। মিয়ানমার তাদের সমুদ্র অঞ্চলে যেভাবে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করেছে এবং করে যাচ্ছে, সে তুলনায় বাংলাদেশ যথেষ্ট পেছনে পড়ে রয়েছে। বেশি দামের গ্যাস আমদানি না করে দেশের গ্যাস উত্তোলনে সরকারকে আরও মনোযোগী হওয়া দরকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের সমুদ্রসীমাও তেল-গ্যাসের জন্য অপার সম্ভাবনাময়। তারা জানান, প্রায় পাঁচ দশক আগে (১৯৬৯-১৯৭৬) জাপানি ঠিকাদার প্রাকলা, জার্মান কোম্পানি এবং মায়ানমার অয়েল করপোরেশন কর্তৃক বঙ্গোপসাগরে সিসমিক সার্ভে এবং অনুসন্ধান কূপ খনন করে। এর ধারাবাহিকতায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনায় ১৯৭৪ সালে ৮টি বিদেশি কোম্পানির মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে ৩১ হাজার লাইন কিলোমিটার ভূকম্পন জরিপ এবং ৭টি অনুসন্ধান কূপ খনন করিয়ে ১টি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে বাংলাদেশ। সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে সমুদ্র থেকে তেল-গ্যাস আহরণে বাংলাদেশের ভিন্ন চিত্র হতো।

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগর ও তার তীরবর্তী এলাকার প্ল্যাটফর্ম সীমার মধ্যে ইতিমধ্যে দেশের সাতটি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। এগুলো হলো অনশোর এলাকায় শাহবাজপুর, ভোলা উত্তর, বেগমগঞ্জ, সুন্দলপুর, ফেনী ও অফশোর ওয়েল কুতুবদিয়া এবং সাঙ্গু। সব গ্যাসক্ষেত্রই পললভূমিতে আবিষ্কৃত। এসব কূপের গ্যাস কমপোজিশন অ্যান্ড রিজার্ভিয়র প্রেসার এবং টেম্পারেচার প্রায় একই রকম। বরিশাল (মুলাদি), ভোলা, নোয়াখালী (বেগমগঞ্জ, সুন্দলপুর), হাতিয়া, সন্দীপ, চট্টগ্রাম (সাঙ্গু, কুতুবদিয়া)-সহ দক্ষিণাংশে হাইড্রোকার্বন জমা হওয়ার নিদর্শন প্রমাণিত হয়েছে। ভূতাত্ত্বিক দৃষ্টিতে এই অঞ্চলের হাইড্রোকার্বন অনুসন্ধান খুব নিরাপদ এবং নিশ্চিত। টেকটনিক মুভমেন্টের কারণে বাংলার এই অঞ্চলগুলো উঁচু ও নিচু হয়ে গেছে যা বেঙ্গল বেসিনের আওতাভুক্ত ।

ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে বাংলাদেশের পাহাড়ি, দ্বীপ, সমুদ্র ও সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় একই সময়ে গ্যাস জেনারেশন হয়েছে। টেকটনিক্যাল কারণে চট্টগ্রাম পাহাড়ি অঞ্চল থ্রাস্ট ও চ্যুতির জন্য উপরে উঠেছে এবং হাইড্রোকার্বনযুক্ত ফরমেশনে ফাটল সৃষ্টির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ভূপৃষ্ঠে গ্যাস নির্গত হতে দেখা যায়। তাই এটি নিরাপদ এবং সুরক্ষিত নয়। অপরদিকে, বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত অফশোর, দ্বীপ এবং নিকটবর্তী এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে বিশাল সেডিমেন্টস (প্রায় ১৯ কিলোমিটার) জমা হয়েছে যা গ্যাসের আধারকে সুরক্ষিত করেছে এবং হাইড্রোকার্বন উপস্থিতির জন্য এই ধরনের গ্যাস আধারের পুরুত্ব সঠিক।

উল্লেখ্য, অগভীর সমুদ্র এবং দ্বীপ এলাকার চেয়ে গভীর সমুদ্রের পানির গভীরতা চারশ’ থেকে এক হাজার মিটারের বেশি হওয়ায় হাইড্রোকার্বনের আধার নিরাপদ থাকার সম্ভাবনা অনেক বেশি। ভূতাত্ত্বিক এবং ভূপদার্থিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে মায়ানমার এবং বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় হাইড্রোকার্বন প্রাপ্তির বৈশিষ্ট্য এক ও অভিন্ন। অন্যদিকে, বঙ্গোপসাগর এবং বাংলাদেশের হাতিয়া ট্রফের (চ্যানেল) এর খননকৃত সব কূপেই গ্যাস পরিলক্ষিত হয় যার আশি ভাগ আবিষ্কৃত বাণিজ্যিক গ্যাস, বিশ বাগ কূপ খননকালীন গ্যাস পরিলক্ষিত। তবে ভূতাত্ত্বিক জটিলতার কারণে সঠিকভাবে কূপ পরীক্ষণ করা যায়নি। এখন জরুরি ভিত্তিতে এইসব কাজের উদ্যোগ নেয়া দরকার।

আমিত্ত্বও একটি বড় সমস্যা : দুদক চেয়ারম্যান

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, বাংলাদেশের অনেক সমস্যার মধ্যে আমিত্ত্বও একটি বড় সমস্যায় পরিণত হয়েছে।

বিজিবি’র সকল ইউনিটে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বিপুল উৎসাহ, উদ্দীপনা ও যথাযোগ্য

১৮ জনকে ওএসডি এবং ২৬ জনকে পদায়নের মাধ্যমে শিক্ষা প্রশাসনে রদবদল

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

শিক্ষা প্রশাসনে বড় রদবদল করেছে সরকার। ১৮ জনকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) এবং ২৬ জনকে নতুন পদে পদায়ন করা হয়েছে।

sangbad ad

সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের তত্ত্বাবধানে নারী শান্তি ও নিরাপত্তা শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

মিরপুর সেনানিবাসস্থ ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড এন্ড স্টাফ কলেজে (ডিএসসিএসসি) নারী

বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বাড়ানো হবে-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানিয়েছেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা আরও

আইএমইডিকে শক্তিশালী করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকল্পের তদারকি নিশ্চিত করতে বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যয়ন

সেনাবাহিনী প্রধানের সাথে ভারতীয় ইষ্টার্ণ কমান্ড এর জিওসি-ইন-সি’র সাক্ষাৎ

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

বাংলাদেশ সফররত ভারতীয় ইষ্টার্ণ কমান্ড এর জিওসি-ইন-সি লেফটেন্যান্ট জেনারেল মনোজ

লোটে শেরিং আসছেন

কুটনৈতিক বার্তা পরিবেশক

image

ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং আগামী এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে ঢাকা সফরে আসছেন। প্রধানমন্ত্রী

অস্ট্রেলিয়া ভ্রমনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সতর্কবার্তা

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

নিউ জিল্যান্ডে ভ্রমণ সতর্কতা জারির পর এবার অস্ট্রেলিয়ার ক্ষেত্রেও একই সতর্কতা জারি

sangbad ad