• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯

 

শুদ্ধি অভিযান চলবে : দল পরিবার সবার প্রতিই কঠোর শেখ হাসিনা

নিউজ আপলোড : ঢাকা , বুধবার, ০২ অক্টোবর ২০১৯

সংবাদ :
  • ফয়েজ আহমেদ তুষার
image

দুর্নীতিবিরোধী শুদ্ধি অভিযান চলমান রাখার ঘোষণা দিয়ে এবার ‘দল এবং পরিবারের সদস্য’দের প্রতিও কঠোর অবস্থানে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ প্রতিষ্ঠা তথা দ্রুততম সময়ে উন্নত দেশ গড়ার যে লক্ষ্য নিয়ে তিনি কাজ করছেন, তা বাস্তবায়নে দুর্নীতিকে প্রধান অন্তরায় হিসেবে দেখছেন তিনি। তাই দেশ ও জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়নের স্বার্থে দলমত-নির্বিশেষে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয় মেয়াদে দাপটের সঙ্গে সরকার পরিচালনা করছে। বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিও কোন ‘চ্যালেঞ্জ’ তৈরি করার মতো অবস্থানে নেই। দেশে চলমান বহুমুখী উন্নয়ন কর্মসূচি বিশ্বব্যাপী প্রসংশিত হচ্ছে। তবে সম্প্রতি আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ ক্ষমতাসীনদের সহযোগী বিভিন্ন সংগঠনের কতিপয় নেতা নানা দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় দলের ভেতর-বাইরে সমালোচনা শুরু হয়। জনগণের মধ্যেও চাপা ক্ষোভ তৈরি হয়। দলীয় এসব নেতাকর্মীর অযাচিত কর্মকাণ্ডে সরকারের ‘উন্নয়নযজ্ঞ’ প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার পাশপাশি দলে ভাবমূর্তিও সংকটে পড়ে।

দুর্নীতিবাজদের ‘উইপোকা’র সঙ্গে তুলনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দুর্নীতিবাজ উইপোকারা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নকালে অর্থ লুটে নিচ্ছে। দেশের উন্নয়নের জন্য জনগণের কষ্টার্জিত অর্থের প্রতিটি পয়সার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতের জন্য আমাদের ওইসব উইপোকাকে আটক করতে হবে। আমরা জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত রাখব। এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকলে দল-পরিবার নির্বিশেষে কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। দেশের দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন পূরণ করতে চাই।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্য সংবাদকে বলেন, নেত্রীর কাছে দুর্নীতিবাজদের তালিকা আছে। নিজ দলের নেতাদের তিনি আকার-ইঙ্গিতে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তবে অনেকেই শুধরাননি। এবার যেহেতু ঘোষণা দিয়েছেন, ‘দল-পরিবার কাউকে ছাড় নয়’, সেহেতু কেউ এবার ছাড় পাবে না। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেকে বিসর্জন দিতে প্রস্তুত। তিনি দেশে যে বহুমুখী উন্নয়ন শুরু করেছেন, ‘দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার’কে এর প্রধান প্রতিবন্ধকতা মনে করছেন।

চলমান ‘শুদ্ধি অভিযান’ আলোচনায় আসে গত মাসে গণভবনে ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে পদচ্যুত করার মধ্য দিয়ে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় একাধিক নেতার বলেন, ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের পদচ্যুত করার ‘নজিরবিহীন’ এ ঘটনা ওইসব নেতার জন্য ‘কড়া বার্তা’- যারা এতদিন নিজেদের ‘আইনের ঊর্ধ্বে’ মনে করে নানা অপর্কর্মে জড়িত ছিলেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের পদচ্যুত করার এ ঘটনাকে ‘নজিরবিহীন’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দুর্নীতি, অপকর্ম করে কেউ ছাড় পাবে না। শুদ্ধি অভিযানের মধ্য দিয়ে দলমত নির্বিশেষ সবাইকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। এর কয়েকদিন পর থেকে ‘ক্যাসিনো’ ও জুয়া ব্যবসা, মাদক, দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগে ‘একের পর এক’ ঢাকা মহানগর যুবলীগ নেতাদের গ্রেফতার শুরু হয়। একসঙ্গে সারাদেশেও শুরু হয় এই ‘শুদ্ধি অভিযান’। গ্রেফতার হন যুবলীগ নেতা ও প্রভাবশালী ঠিকাদার গোলাম কিবরিয়া শামীম, নগর যুবলীগ নেতা খালেদ, ফিরোজ, মমিনুল হক প্রমুখ।

একই অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে সমালোচনায় থাকা আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী বিভিন্ন সংগঠনের কয়েক নেতা সম্প্রতি তাদের জনসংযোগ কমিয়ে দেন। গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান ঢাকা মহানগর যুবলীগ সভাপতি ও ক্ষমতাসীনদের এ সময়ের অত্যন্ত প্রভাবশালী নগর নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। ব্যাপক সমালোচনায় থেকেও গ্রেফতার না হওয়ায় ‘সম্্রাট’কে নিয়ে ‘একের পর এক’ সাংবাদিকদের প্রশ্নের সম্মুখীন হন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অস্পষ্ট উত্তর এবং ওবায়দুল কাদেরের ‘সারপ্রাইজ’ বা ‘গরম খবর’-এর জন্য অপেক্ষা করার অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে চলমান শুদ্ধি অভিযানের সাফল্য নিয়ে জনমনেও প্রশ্ন জাগে।

শুদ্ধি অভিযান নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২ অক্টোবর বুধবারের বক্তব্য আবারও জনমনে আশা জাগিয়েছে। দেশের প্রথম কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু ১-এর মাধ্যমে দেশীয় সব টেলিভিশন চ্যানেলের বাণিজ্যিক ট্রান্সমিশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট বলেছেন, দলেরই হোক আর পরিবারের কেউ হোক- দুর্নীতি, অনিয়ম, অপরাধ করে থাকলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কে এক গণসংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দুর্নীতিবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। দুর্নীতির বিচার করতে আর ‘ওয়ান ইলেভেন’-এর প্রয়োজন হবে না। এ জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। দুর্নীতির কারণে সমাজে বৈষম্যের সৃষ্টি হচ্ছে, অরাজকতা সৃষ্টি হচ্ছে। একশ্রেণীর লোক ‘আঙুল ফুলে কলাগাছ’ হয়ে যাচ্ছে আর সৎ ব্যক্তিত্ব, তাদের পরিবার, সন্তানরা বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছে। সমাজে এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে অভিযান সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘স্পোর্টসকে প্রমোট’ করার জন্য আমরা নানা সুবিধা দিয়েছি। কিন্তু এসব সুবিধা ব্যবহার করে তারা যে ‘ক্যাসিনো’ নিয়ে আসবে, ভাবতেও পারিনি। এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়। তাই পদক্ষেপ নিয়েছি। এখন ‘কেঁচো খুঁড়তে সাপ’ বের হয়ে আসছে। আরও কী বের হয় দেখুন। অপেক্ষা করুন। একবার যখন ধরেছি, তখন অভিযান অব্যাহত থাকবে। দুর্নীতিবাজ ও অসৎ ব্যক্তি আমার দলের হলেও ছাড় নেই। কার আয় কত, কীভাবে জীবনযাপন করে- সেটি খুঁজে বের করতে হবে। দেশের উন্নয়নে যে পরিমাণ অর্থ খরচ হচ্ছে, তা সঠিকভাবে ব্যয় হলে দেশ অনেক দূর এগিয়ে যেত। দেশের এই অবস্থায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে এমন একটি আঘাত প্রয়োজন ছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, এই অভিযানে কোন কোন ব্যক্তি অখুশি, অসন্তুষ্ট। তবে বিচার করতে গেলে প্রথমে নিজের ঘর থেকেই বিচার শুরু করতে হয়।

গত মাসে গণভবনে এক বৈঠকেও দল এবং সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাদের বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, আমার একার ইমেজ দিয়ে কি দেশ চলবে? সবার সম্মিলিত ভাবমূর্তি দিয়ে দল ও দেশ চালাতে হবে। কাজেই আমি কাউকে ছাড় দেব না। আমি সবার খবরই রাখি। ছাত্রলীগই হোক আর আওয়ামী লীগই হোক, কঠোরহস্তে এসব মোকাবিলা করা হবে। তিনি বলেন, অনেক এলাকায় স্থানীয় নেতাদের মত উপেক্ষা করে একচেটিয়া কমিটি গঠনের অভিযোগ রয়েছে। কমিটিতে ভিন্ন আদর্শের লোকজন পদ পাচ্ছে। আওয়ামী লীগ ‘ক্যাডার পলিটিক্স’-এ বিশ্বাস করে না। অথচ আওয়ামী লীগের ব্যানারে ক্যাডাররা প্রকাশ্যে অস্ত্র মহড়া করে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। এসব বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, তা না হলে যেভাবে জঙ্গি দমন, সন্ত্রাস দমন, মাদক দমন করা হয়েছে- সেভাবেই ক্যাডার দমন করা হবে। কে কোন দলের ক্যাডার, সেটি দেখা হবে না।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা সংবাদকে জানান, তাদের নেত্রী শেখ হাসিনা দলের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে ওই নেতাদের ‘লাগাম টেনে ধরবেন’- যারা চাঁদাবাজি ও কমিশন বাণিজ্যে নিজেদের ‘আদ্যপান্ত’ জড়িয়ে ফেলেছেন। দ্রুতই এসব ‘রাঘববোয়াল’কে আইনের আওতায় আনা হবে। রাঘববোয়ালদের কোন তালিকা করা হয়েছে কিনা প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় এক নেতা বলেন, তালিকা আছে কিনা, তা জানি না। তবে এতটুকু বুঝি, কোন নেতাই নিশ্চিত বলতে পারবেন না যে, তিনি ‘নজরদারি’তে নেই।

বিদ্যুৎ খাতে বড় বিনিয়োগে সৌদির আকুয়া পাওয়ার

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস)-ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে সৌদি আরব। দুই থেকে আড়াই বিলিয়ন

বাসা-বাড়িতে গ্যাস সংযোগ দেয়া বন্ধ শুধু কাগজে-কলমে

ফয়েজ আহমেদ তুষার

image

বাসা-বাড়িতে রান্নায় বৈধভাবে নতুন গ্যাস সংযোগ দেয়া বন্ধ থাকলেও অবৈধ গ্যাস সংযোগ নেয়া বন্ধ নেই। রাজধানীসহ আশপাশের

ভূলতা ফ্লাইওভারসহ কয়েকটি প্রকল্প উদ্বোধন

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

সড়ক দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যানবাহন চালক, পথচারিসহ সবাইকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, সবাইকে

sangbad ad

অর্থ পাচার রোধে দুদক ও বিএফআইইউর মধ্যে চুক্তি

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান সংক্রান্ত

সমতাভিত্তিক বিশ্ব গড়তে আইপিইউ সদস্যভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর প্রতি স্পিকারের আহ্বান

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সমতাভিত্তিক বিশ্ব গড়তে আইপিইউ সদস্যভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ১৫ অক্টোবর

সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান গণমাধ্যম কর্মীদের সব ধরনের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে সব কাজে সংবাদ কর্মীদের সহযোগিতা

খাদ্য উৎপাদন ও প্রাপ্যতা বাড়াতে কাজ করছে সরকার : খাদ্যমন্ত্রী

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, ‘বিশ্ব খাদ্য দিবসের উদ্দেশ্য হলো ক্ষুধা, অপুষ্টি ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তোলা

স্বাধীনতার পর ৪৮ বছরে শিক্ষাঙ্গনে ২৫৩ জনের মৃত্যু

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

স্বাধীনতার পর গত ৪৮ বছরে সারাদেশের ক্যাম্পাসে ছাত্র সংগঠনগুলোর সহিংসতায় ২৫৩ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে

নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ বিশ্বে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত : সার্বিয়ার স্পিকার

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

সার্বিয়া পার্লামেন্টের স্পিকার ও ১৪১তম আইপিইউ সম্মেলনের প্রেসিডেন্ট মাজা গজকোভিচ বলেছেন, বাংলাদেশ নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে

sangbad ad