• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭

 

মিন অং লাইং, কয়েকজন শীর্ষ জেনারেল ও সশস্ত্র বৌদ্ধ নেতাদের বিরুদ্ধে ‘টার্গেট নিষেধাজ্ঞা’

নিউজ আপলোড : ঢাকা , সোমবার, ০৯ অক্টোবর ২০১৭

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
image

মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানে রোহিঙ্গাদের নিধন ঘটনায় দেশটির সেনাবাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ মিন অং লাইংসহ তার নেতৃত্বে আরও বেশ কয়েকজন শীর্ষ জেনারেলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপের বিবেচনা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগে জড়িত বৌদ্ধ সশস্ত্র গ্রুপগুলোর নেতাদের বিরুদ্ধেও ‘টার্গেট নিষেধাজ্ঞা’ আরোপের বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সংশ্লিষ্টদের সম্পত্তি ব্যবহারে বিধিনিষেধ, যুক্তরাষ্ট্রে সংশ্লিষ্টদের ভ্রমণ ও তাদের সঙ্গে মার্কিনিদের ব্যবসায়িক লেনদেন নিষেধাজ্ঞাসহ নানা বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপ হতে পারে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওয়াশিংটন, ইয়াঙ্গুন ও ইউরোপে দায়িত্বরত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বরাত দিয়ে গত রোববার রাতে এই খবর দিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটি। এখনও কোন কিছুই সিদ্ধান্ত না হলেও এ সংক্রান্ত অনেক বিষয়ই আলোচনা হচ্ছে বলে জানায় সংবাদমাধ্যমটি। তবে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ভারত ও চীনের উদ্যোগী হওয়ার পরামর্শ আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের।

এ বিষয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন সংবাদকে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের নিধনের ঘটনায় মায়ানমারের বিরুদ্ধে অবরোধ ও দেশটির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগটি ভালো। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে এর মাধ্যমে দেশের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে। তবে আমার মনে হয় শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন চাপ দিলে হবে না। এর জন্য কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে ভারত ও চীনকে দিয়ে চাপ দিতে হবে। কিন্তু এরা দেবে না। তাই রোহিঙ্গা সংকট সহজে সমাধান হবে কিনা আমার সন্দেহ আছে। তবে এর জন্য আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখতে হবে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে সক্রিয় এই আলোচনায় উঠে এসেছে, কিভাবে রাখাইন থেকে রোহিঙ্গা মুসলিমদের নাটকীয়ভাবে বিতাড়িত করার ঘটনায় পশ্চিমা নীতি-নির্ধারকদের পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করছে। আলোচনায় রাখাইনে ত্রাণ সহায়তা বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। এই সংকটের দায় আন্তর্জাতিকভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মায়ানমারের নেত্রী অং সান সুচির ওপর চাপানো হলেও কিছু পশ্চিমা কূটনীতিক এর আড়ালের চিত্রও দেখছেন। তারা মনে করেন, সামরিক বাহিনীর সংশোধিত সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের ক্ষমতা সুচির বদলে কার্যত সশস্ত্র বাহিনীর হাতেই রয়েছে। পুরো অভিযানটিই তাদের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছে। আগামী ১৬ অক্টোবর রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনায় বসবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পরিষদ। যদিও সেই আলোচনার পর মায়ানমার সেনাবাহিনীর ওপর শীঘ্রই কোন নিষেধাজ্ঞা আসবে কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত নন কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে ডেনমার্কের উন্নয়ন সহযোগী মন্ত্রী আলা তোরনায়েস জানান, কোপেনহেগেন রোহিঙ্গা সংকটকে আলোচ্য ধরে কাজ করছে। ডেনমার্ক চাইছে মায়ানমার সেনাবাহিনীর ওপর আরও চাপ বাড়াতে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের মায়ানমার সংক্রান্ত বিষয়ে ওয়াশিংটনভিত্তিক দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, মায়ানমার সেনাবাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ মিন অং লাইংসহ তার নেতৃত্বে আরও বেশ কয়েকজন শীর্ষ জেনারেল এবং রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগে জড়িত বৌদ্ধ সশস্ত্র গ্রুপগুলোর নেতাদের বিরুদ্ধে ‘টার্গেট নিষেধাজ্ঞা’ আরোপের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের বিবেচনাধীন। ওই কর্মকর্তাদ্বয় জানান, এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সংশ্লিষ্টদের সম্পত্তি ব্যবহারে বিধিনিষেধ, যুক্তরাষ্ট্রে সংশ্লিষ্টদের ভ্রমণ ও তাদের সঙ্গে মার্কিনিদের ব্যবসায়িক লেনদেন নিষেধাজ্ঞাসহ নানা কড়াকড়ি আরোপ হতে পারে। এ বিষয়ে ইউরোপের বিভিন্ন মিত্র দেশ জাপান, দক্ষিণ এশিয়ার মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সতর্কভাবে এগোচ্ছে ওয়াশিংটন।

ইয়াঙ্গুনে দায়িত্বরত একজন জ্যেষ্ঠ ইউরোপিয়ান কূটনীতিক বলেন, সংকট মোকাবেলায় তাদের কার্যক্রম সমন্বয় করছে পশ্চিমা দেশগুলো। পশ্চিমারা এ বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছেছে যে, সংকট তৈরির জন্য দায়ী সেনাবাহিনী, বিশেষত বাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ লাইংকে ‘শাস্তিমূলক টার্গেট পদক্ষেপে’র মুখোমুখি হওয়া প্রয়োজন। পশ্চিমা কূটনীতিকরা বলছেন, প্রথমেই মায়ানমারের ওপর প্রতীকী শাস্তি আরোপ করা হবে। যেমন গত বছর ব্রাসেলস, বার্লিন, ভিয়েনাসহ পশ্চিমা দেশগুলো ভ্রমণে যাওয়া দেশটির সেনাপ্রধানের পরবর্তী ইউরোপ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি হবে। যেন তারা সংকট সমাধানে আলোচনায় বসে। তারপর অগ্রগতি না দেখা গেলে পরবর্তী বিবেচনায় যাবে পশ্চিমা মিত্ররা।

সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সরকারি স্থাপনায় হামলার অজুহাতে ২৫ আগস্ট থেকে মায়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইনে পুরোপুরি রোহিঙ্গা-শুদ্ধি অভিযান শুরু করে। এতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে। অত্যাচার-নিপীড়ন করে দেশান্তরী হতে বাধ্য করা হয়েছে অর্ধ মিলিয়ন বা পাঁচ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে। জাতিসংঘ এই অভিযানকে উল্লেখ করেছে ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞ’ হিসেবে। ২৫ আগস্ট মায়ানমারের কয়েকটি নিরাপত্তা চেকপোস্টে আরসার দাবিকৃত হামলার পর জোরদার হয় সেনাবাহিনীর কথিত ক্লিয়ারেন্স অপারেশন। এরপর থেকেই মিলতে থাকে বেসামরিক নিধনযজ্ঞের আলামত। নারী ও কন্যা শিশুদের বিরুদ্ধে চালানো হয়েছে অমানুষিক যৌন নিপীড়ন। তবে এসব তথ্য পেতে রাখাইনে অবাধ প্রবেশাধিকার দেয়া হয়নি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, ইইউ, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, কানাডা ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনসহ বিশ্বের সোচ্চার মানুষ এই সহিংসতা বন্ধে বারবার দাবি জানালেও তাতে কর্ণপাত করেনি মায়ানমার। তাই দেশটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা ভাবছে পশ্চিমা বিশ্ব। এরই মধ্যে মায়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনেছে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আর অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালই একই অভিযোগ এনেছে। সংস্থাগুলো স্যাটেলাইট ইমেজ আর ভিডিওচিত্রে মায়ানমার সেনাবাহিনীর অপকর্মের নজির তুলে এনেছে।

রয়টার্স তাদের অনুসন্ধানে জানিয়েছে, এমন অবস্থায় মায়ানমারের সেনাবাহিনীকেই রাখাইনের জাতিগত নিধন পরিকল্পনার মূল অনুঘটক হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের পরিকল্পনা নিয়েছে পশ্চিমা দেশগুলো। সেই পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওয়াশিংটন, ইয়াঙ্গুন ও ইউরোপের কয়েকজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কূটনীতিককে উদ্ধৃত করে রয়টার্স বলছে, কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকগুলো পথের মধ্যে সামরিক কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ব্যাপারেই একমত হয়েছেন তারা। রয়টার্স জানিয়েছে, এ বিষয়ে এখনও কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ওয়াশিংটন ও ব্রাসেলস এজন্য আরও কিছুদিন সময় নিতে পারে।

২৫ আগস্ট নিরাপত্তা বাহিনীর চেকপোস্টে বিদ্রোহীদের হামলার পর ক্লিয়ারেন্স অপারেশন জোরদার করে মায়ানমারের সেনাবাহিনী। ওই সহিংসতায় এ পর্যন্ত ৫ লাখ ১৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। পূর্বের চার লাখের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সবমিলে প্রায় ৯ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী এখন বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। নতুন করে সেনা অভিযান জোরদার হওয়ায় আরও ৩ লাখ রোহিঙ্গার বাংলাদেশে প্রবেশের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে জাতিসংঘ। রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা ১২ লাখে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা জানিয়েছিলেন তিনি। বাংলাদেশ এবং জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার জন্য মানবিক সহায়তা নিশ্চিতে হিমশিম খাচ্ছে। এমন অবস্থায় রাখাইনে সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সহায়তা বাড়ানোরও আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

পরীক্ষামূলক সম্প্রচার

বুদ্ধিজীবী হত্যা মামলা যেভাবে ধামাচাপা পড়ে

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পাকিস্তানি

৪৬ বছরেও বুদ্ধিজীবী হত্যার সরকারি তদন্ত হয়নি

ওয়ালিদ খান ও মাহমুদুল হাসান

image

স্বাধীনতার ৪৬ বছর পেরিয়ে গেলেও রাষ্ট্রীয়ভাবে বুদ্ধিজীবী হত্যার কোন তদন্ত করা হয়নি। তবে

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ। এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর

sangbad ad

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাতি গঠনে শিক্ষক সমাজের প্রতি স্পিকারের আহ্বান

image

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তরুণ প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। আর

বাংলাদেশে ফরাসি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের আহ্বান

image

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ফরাসি বিনিয়োগের বিপুল সুযোগ রয়েছে উল্লেখ

জাতি-ধর্ম নেই সন্ত্রাসীই সন্ত্রাসের ধর্ম

image

বাংলাদেশ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরোটলারেন্স নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে গতরাতে নিউইয়র্কে

কৃষিবান্ধব নীতির কারণে কৃষিতে অনেক সাফল্য এসেছে : কৃষিমন্ত্রী

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

শ্রমিক সংকট সমাধানে এবং কৃষি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণের বিকল্প

প্যারিসের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর দুবাই ত্যাগ

বাসস

image

রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফ্রান্সে ওয়ান প্লানেট সামিট-এ অংশগ্রহণের জন্য তিনদিনের সরকারি সফরে

পদ্মা সেতু আট মাস পিছিয়ে

মাহমুদ আকাশ

image

ডিসেম্বরেও বসছে না পদ্মা সেতুর দ্বিতীয় স্প্যান। পিছিয়ে আছে নদী শাসনের কাজ। এখনও চূড়ান্ত হয়নি ১৪ পিলারের নকশা। মূল সেতু, নদী শাসন, সংযোগ সড়ক ও

sangbad ad