• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯

 

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আট সংকট নিরসনে ছয় প্রস্তাব : বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক

নিউজ আপলোড : ঢাকা , শনিবার, ০৪ মে ২০১৯

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, ঢাবি
image

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দলীয় রাজনীতি শিক্ষাগত মানের ওপরে প্রভুত্ব করছে এবং অল্প কয়েকটি বাদ দিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কেবল সনদ বিক্রির ভবনে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক’। ৪ মে শনিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। সেখানে শিক্ষকরা এ মন্তব্য করেন। সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কেমন বিশ্ববিদ্যালয় চাই : উচ্চশিক্ষা, নীতিমালা, কাঠামো’-শীর্ষক কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়। কনভেনশন থেকে বর্তমানে দেশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চলমান সরকারি কর্তৃত্ব, স্বায়ত্তশাসনের অপব্যবহার, সনদ বাণিজ্যসহ ৮টি সংকট চিহ্নিত করা হয়। এসব সংকট নিরসনে সংবাদ সম্মেলন করে ৬টি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ফাহমিদুল হক এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সামিনা লুৎফা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক আনু মোহাম্মদ, নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সাঈদ ফেরদৌস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক রুশাদ ফরিদী, উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষক কাজী মারুফুল ইসলাম, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক গীতি আরা নাসরীন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক তানজীমউদ্দিন খান প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে সামিনা লুৎফা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সার্বিক মানের অবনমন ঘটেছে বলে একটি ধারণা ধীরে ধীরে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দলীয় রাজনীতি শিক্ষাগত মানের ওপরে প্রভুত্ব করছে। অল্প কয়েকটি বাদ দিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কেবল সনদ বিক্রির ভবনে পরিণত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কনভেনশনের আয়োজন করে শিক্ষক নেটওয়ার্ক। এ সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চলমান আটটি সংকট তুলে ধরেন। এগুলো হলো- সরকারি কর্তৃত্ব; ইউজিসির কৌশলপত্রের কারণে সান্ধ্যকোর্স, বৈকালিক কোর্স, বিশেষ প্রোগ্রাম চালু; স্বায়ত্তশাসনের অপব্যবহার; শিক্ষায় জিডিপির তুলনায় কম বরাদ্দ ও গবেষণায় তহবিল বরাদ্দ না থাকা; অ-স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত; শিক্ষক নিয়োগে দলীয় বিবেচনায় ভোটার বৃদ্ধির প্রবণতা; ছাত্ররাজনীতির নামে শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণ এবং মুনাফামুখী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কারণে মান অর্জনে ব্যর্থ হওয়া।

একই সঙ্গে সমস্যা সমাধানে ছয়টি প্রস্তাবও তুলে ধরেন সামিনা লুৎফা। প্রস্তাবের প্রথম দফায় বলা হয়েছে- বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকটগুলো রাষ্ট্রব্যবস্থার সংকটের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই রাষ্ট্রব্যবস্থার সংকটগুলোর সমাধান হওয়া দরকার। সরকারগুলো বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বাস করে না, নিজ স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করে। এটা বন্ধ হওয়া দরকার। আজকের জন্য এমন আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় চাই যা চিন্তার স্বাধীনতা, প্রশ্ন করার পরিসর এবং বিশ্লেষণের বিস্তার নিয়ে তৈরি হবে। সরকারকে এক্ষেত্রে উদার হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজের মতো চলতে দিতে হবে। উন্নয়নের ধারায় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে শিক্ষা খাত ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করতে হবে। ‘ইউজিসির কৌশলপত্র ও নয়া উদারবাদী নীতি’র বিষয় উল্লেখ করে দ্বিতীয় প্রস্তাবে বলা হয়েছে- নব্য উদারবাদী মতাদর্শের আলোকে বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিশ্বব্যাংক প্রণীত বাণিজ্যিকীকরণের নীতি থেকে সরে আসতে হবে। উন্নয়নশীল দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী উচ্চশিক্ষাকে দরিদ্র মানুষদের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। নৈশ বা সান্ধ্যকোর্সগুলোকে ধীরে ধীরে তুলে নিতে হবে। বছর বছর ছাত্রছাত্রীদের বেতন বাড়ানো বন্ধ করতে হবে। ‘বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার আইন ও নীতি’-শীর্ষক প্রস্তাবে বলা হয়েছে- তিয়াত্তরের আদেশের অপব্যবহার রোধে কিছু সংস্কার প্রয়োজন। সিন্ডিকেটে নির্বাচিত ৬ জনের বাইরে যেসব শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডেপুটেশনে বাইরে গিয়েছেন তাদের আবার সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে সিন্ডিকেটে মনোনয়ন দেয়া বন্ধ করতে হবে। সিনেট নির্বাচনে নির্বাচিত ৩৫ জন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের বাইরে রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েটদের নির্বাচনে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের আর কোন শিক্ষক নির্বাচন করতে পারবেন না। যারা প্রশাসনের নানা পদে রয়েছেন, তাদের শিক্ষক সমিতির নির্বাচন করা থেকে বিরত রাখতে হবে। তিয়াত্তরের আদেশের আওতামুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য তিয়াত্তরের আদেশের আদর্শের আলোকে আইন ও নীতি চূড়ান্ত করতে হবে। স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্থানীয় প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের সব ক্ষমতা উপাচার্যের হাতে না রেখে, কিছু ক্ষমতা বিভাজন করতে হবে। চতুর্থ প্রস্তাবে ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়’ সম্বন্ধে বলা হয়েছে- বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সমধর্মী ভাবা বন্ধ করতে হবে, কারণ এগুলো তো হোমোজেনাস না। ভালো, দক্ষ, বয়স্ক শিক্ষকদের ধরে রাখার ব্যবস্থা করা দরকার, পূর্ণকালীন শিক্ষকদের সংখ্যা বাড়াতে হবে। শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য দূর করা জরুরি। শিক্ষকদের অধিকার নিয়ে কথা বলার জায়গা দরকার। মালিকদের একচেটিয়া ক্ষমতার হাত থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য রাষ্ট্রের মনোযোগ দরকার। পিএইচডি ও এমফিল ডিগ্রির অনুমতি দেয়া দরকার। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নিজেদের গ্র্যাজুয়েটদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগে দিতে পারে। শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে পাবলিক-প্রাইভেটের একটা যোগসূত্র করা দরকার শিক্ষার্থীরা যেন পাবলিক-প্রাইভেটে আদান-প্রদান করতে পারে। বাংলায় পাঠদানের ক্ষেত্রে হীনমন্যতাবোধ থেকে মুক্তি দরকার। ‘পাঠদান ও গবেষণা’র প্রস্তাবে বলা হয়েছে- পাঠদানের মতো ন্যূনতম কাজটিতে শিক্ষকদের জবাবদিহিতার পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে। শিক্ষকদের কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করতে হবে। পাঠদান শিক্ষকের প্রথম কাজ, দ্বিতীয় কাজ গবেষণা। ভালো ভালো শিক্ষক ভালো গবেষক নাও হতে পারেন, উল্টোটাও ঘটতে পারে। শিক্ষকের আগ্রহ ও সামর্থ্য অনুযায়ী লোড বণ্টনের ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেতে পারে এবং তাদের স্বীকৃতি ও প্রমোশনের আলোকে গবেষণার জন্য সরকারকে প্রচুর বরাদ্দ দিতে হবে। গবেষণার অনুদান প্রাপ্তিতে দলগত পরিচয়ের প্রাধান্য বন্ধ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প-িতদের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ ও আদান প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি ধরার সফটওয়্যার সব বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতে হবে। দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সার্বক্ষণিক পিএইচডি-এমফিল ডিগ্রি চালু করা। ছয় নম্বর প্রস্তাবে ‘ভর্তি নিয়োগে ও প্রশাসন’ বিষয়ে বলা হয়েছে- ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি ধাপে ধাপে পরিবর্তন করতে হবে। প্রশ্নের ধরন পাল্টাতে হবে আগে, সম্পূর্ণ এমসিকিউভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা থেকে সরে এসে, এপ্টিচ্যুড টেস্টে যেতে হবে। প্রথম বর্ষ থেকে সবাইকে হলে সিট দিয়ে দিতে হবে। প্রভাষক পদে নিয়োগে বিশ্বের অন্যান্য দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করে এ বিষয়ে নিয়োগ পদ্ধতি নির্ধারণ করতে হবে। দলগত ও আঞ্চলিক বিবেচনায় শিক্ষক নিয়োগ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ও বিভাগে পাস করা শিক্ষার্থীদের ওই বিভাগে চাকরি দেয়ার প্রবণতা বদলাতে হবে।

ঈদে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে, বৈধ লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো যাবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ঈদ উপলক্ষে সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ব্লক রেইড

তরুণ প্রজন্মকে তথ্য-প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ হয়ে গড়ে ওঠার আহবান স্পীকারের

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব

প্রধানমন্ত্রীকে ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনে আমন্ত্রণ সৌদি বাদশাহর

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ চলতি রমজানের শেষ

sangbad ad

হৃদরোগের জন্য স্বতন্ত্র শক্তিশালী উপাদান ট্রান্স ফ্যাট’র ঝুঁকি থেকে রক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পিছিয়ে

যোবায়ের মুরাদ

image

বাংলাদেশে প্রতিবছর হৃদরোগে মারা যায় ২ লাখ ৭৭ হাজারের বেশি মানুষ। যা দেশের মোট মৃত্যুর এক-তৃতীয়াংশ। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন

হাওয়াই যাচ্ছেন সেনাবাহিনী প্রধান

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ১৭ মে শুক্রবার ইউএস আর্মি প্যাসিফিক কমান্ডার জেনারেল রবার্ট বি ব্রাউন এর আমন্ত্রণে পাঁচ

খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণার আহ্বান

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

নানা আলোচনা আর সমালোচনার পর অবশেষে বিএসটিআইয়ের মানের পরীক্ষায় নিম্নমানের বিভিন্ন কোম্পানির ৫২টি খাদ্যপণ্য বিক্রি বন্ধের নির্দেশ

প্লাষ্টিক পন্যের জন্য হুমকির মুখে জলজপ্রানী : হাবিবুন নাহার

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার বলেছেন, সব জলজ প্রাণী আজকে হুমকির মুখে পড়েছে প্লাস্টিক পণ্যের

ক্ষমতার সঙ্গে যারা যুক্ত তারাই আইন ভাঙছেন

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো.মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, আমাদের দেশের মহাসড়কগুলো আন্তর্জাতিক মানের নয়। এসব

কঙ্গোতে আইজিপির মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও আইজিপির শোক

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

কঙ্গোতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) রৌশন আরা বেগমের মৃত্যুতে গভীর শোক

sangbad ad