• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

 

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে তরুণ প্রজন্ম মুক্তিযোদ্ধা হতে পারে

মাহফুজা খানম

নিউজ আপলোড : ঢাকা , শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০

image

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার জীবদ্দশায় কৃষক, শ্রমিক থেকে শুরু করে দেশের সব শ্রেণী পেশার মানুষকে বুক ভরা ভালোবাসা দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেছিলেন ‘পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। এক ভাগে শোষক শ্রেণী, আরেক ভাগে শোষিত। আমি শোষিতের দলে।’ দেশের মানুষকে তিনি কতটা ভালোবাসতেন তাও তিনি স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমার সবচেয়ে বড় শক্তি আমি দেশের মানুষকে ভালোবাসি, আর আমার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হচ্ছে আমি তাদের খুব বেশি ভালোবাসি।’ বাংলাদেশের মানুষকে ভালোবেসে তিনি গৌরববোধ করতেন। বাংলাদেশের মানুষও বঙ্গবন্ধুকে ভীষণ ভালোবাসতেন। তার প্রমাণও বাংলাদেশের মানুষ দিয়েছে।

আজ ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তাকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল। এই দিনে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর শ্রদ্ধা-ভালোবাসা জানাবে।

বঙ্গবন্ধু ব্রিটিশ ভারতে ফরিদপুরের টুঙ্গীপাড়ায় ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মে ছিলেন। টুঙ্গীপাড়ায় কৈশোর অতিক্রম করে কলকাতায় পড়তে যান তিনি। সেখানে তিনি বিট্রিশবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। পাকিস্তানের পক্ষে একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন বঙ্গবন্ধু। আন্দোলনের মধ্যদিয়ে ১৯৪৭ সালে ১৪ আগস্ট পাক-ভারত উপমহাদেশ বিভক্ত হয়। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের পক্ষ নিলেও পাকিস্তানের কায়েদে আজম ১৯৪৮ সালে ঢাকায় এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’ ঘোষণা দেয়ার পর রাজনৈতিকভাবে বন্ধবন্ধু বড় ধাক্কা খেলেন। এই ধাক্কাই তার মধ্যে নতুন চিন্তা-চেতনা জন্ম নেয়। যা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ভেতর দিয়ে এদেশের মানুষের মধ্যে বিরাট পরিবর্তন ঘটে। এরপর নানা আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যদিয়ে তিনি বাংলাদেশকে স্বাধীন করেন।

১৯৬২ সালে যখন ইডেন গার্লস কলেজে পড়ি তখন পাকিস্তানি শাসন, শোষণ ও শিক্ষা সংকোচন নীতির (শরিফ কমিশনের) বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। ওই সময়ে বঙ্গবন্ধু শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন। ১৯৬৬ সালে আমি ডাকসুর ভিপি ছিলাম। আমি ভিপি থাকাকালে বঙ্গবন্ধু ৬ দফা দাবি ঘোষণা দেন। আন্দোলন শুরু হয়ে যায়। ৬ দফা দাবি নিয়ে আমি পূর্ব পাকিস্তানের টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত অনেক জনসভা করেছি। জনসভার ভেতর দিয়ে মানুষের মনোভাব বুঝার চেষ্টা করেছি। পূর্ব পাকিস্তানের সব মানুষ স্বাধীন স্বার্বভৌম বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেনÑ এমন আভাস পাই। আমি বিভিন্ন অঞ্চলে জনসভা করেছি, জনসভায় মানুষের উপস্থিতি কেমন, জনসভায় কি বলেছি-সবকিছু বঙ্গবন্ধু জানতে চাইতেন।

৬ দফা ঘোষণার পর পরই প্রকৃতপক্ষে স্বাধীনতা সংগ্রামের সূচনা হয়ে যায়। মানুষ বুঝতে পারলেন ৬ দফাই হচ্ছে বাঙালির মুক্তির সনদ। তখন বঙ্গবন্ধুকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হলো। এই মামলায় পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসি দেয়ার পরিকল্পনা করেছিল। ’৬৯-এর গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে তৎকালীন পাকিস্তানের আইয়ুব সরকার নিঃশর্তভাবে বাধ্য হয়েছিল বঙ্গবন্ধুকে ছেড়ে দিতে। পরবর্তীতে ’৭০-এর নির্বাচন হলো সেখানে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে নির্বাচিত হয়। পশ্চিম পাকিস্তান ক্ষমতা হস্তান্তরনে নানা তালবাহান করে।

১৯৭১ সালে ৭ মার্চ বন্ধবন্ধু ঐতিহাসিক ভাষণ দিলেন। সেই ভাষণের মধ্যদিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের আকাক্সক্ষা প্রতিফলিত হলো। ভাষণে আমাদের বঞ্চনার কথা বলেছেন, অধিকারের কথা বলেছেন। আর বলেছেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম’। আমরা ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রলীগের সব ছাত্র-ছাত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মহড়া শুরু করে দেই। পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী ২৫ মার্চ গণহত্যা শুরু করে। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা করলে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। ১৯৭১ সালে ১৬ ডিসেম্বরে মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে আমরা একটা স্বাধীন বাংলাদেশ পেলাম।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর আন্তর্জাতিক চাপের কারণে পাকিস্তান বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হলো। বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালে ১০ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন। যুদ্ধবিধস্ত বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ার সংগ্রাম শুরু করলেন। সোনার বাংলাকে নতুন করে সাজাতে চাইলেন। রবীন্দ্রনাথের সেই সোনার বাংলা সংগীত আমাদের সংবিধানে সংযোজন করলেন। সংবিধানে চারটি মূলনীতি গণতন্ত্র, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয় হলো। বঙ্গবন্ধু সংবিধানের এই চার মূলনীতিকে ধারণ করে এগোতে চেষ্টা করলেন। কিন্তু আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি আমেরিকা, চীন ও পাকিস্তান নতুন করে বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলো। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো। বঙ্গবন্ধু হত্যার আড়াই মাসের মাথায় ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে হত্যা করা হয় জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এএইচএম কামারুজ্জামান ও এম মনসুর আলীকে। হত্যাকারীরা বিদেশে গিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, তারা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারকে হত্যা করেছে।

কিন্তু আমরা দেখতে পেলাম বঙ্গবন্ধু হত্যার পর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে হত্যাকারীদের বিদেশে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেন, বিদেশে দূতাবাসে চাকরি দিয়েছেন, ইনডেমনিটি আইন করে হত্যাকারীদের বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করেছেন। জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ১৯ বছর বাংলাদেশকে পাকিস্তানের ধারায় ফিরিয়ে নিতে কাজ করেছিল সামরিক শাসকরা। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ আবার সরকার গঠন করে। ১৯৯৬ সালের পরবর্তীতে ফের যারা ক্ষমতায় আসে তারা দেশকে পিছিয়ে নিয়ে গেল। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ফের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার করতে আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ ’৭১-এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আওতায় আনলেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে রায় কার্যকর করলেন। এতে আদালত ১০ জনের ফাঁসির রায় দেয় ৫ জনের ফাঁসি হয়েছে। আর বাকিরা বিদেশে পালিয়ে আছে।

ইতিহাস ঘেটে বিভিন্নভাবে গবেষণা করে দেখা গেছে, বঙ্গবন্ধু সপরিবারে হত্যার পেছনে বিরাট চক্র ছিল। এই চক্র বের করতে একটা জাতীয় কমিশন গঠন করা উচিত। এখন বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশের আত্ম-সামাজিকের বিরাট পরিবর্তন ঘটেছে। সংবিধানের যে চারটি মূলনীতি আছে, সেই মূলনীতি বাস্তবায়ন হলে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন স্বার্থক হবে। আর যারা তরুণ প্রজন্ম তারা মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি, তাদের মুক্তিযুদ্ধ করার বা মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার আর সুযোগ হবে না। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর আদর্শ রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতির বাস্তবায়নে তরুণ প্রজন্ম মুক্তিযোদ্ধা হতে পারে বলে আমি মনে করি।

# অধ্যাপক মাহফুজা খানম শিক্ষাবিদ, নারী নেত্রী, সমাজসেবী, মুক্তিযোদ্ধা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম এবং একমাত্র নারী ভিপি।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১ অক্টোবর থেকে সিঙ্গাপুর যাবে

সংবাদ অনলাইন ডেস্ক

image

বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্স ১ অক্টোবর থেকে ঢাকা-সিঙ্গাপুর-ঢাকা রুটে আবারও ফ্লাইট চালু

বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতা দেনা-পাওনার ঊর্ধ্বে -রীভা গাঙ্গুলি

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় বিদায়ী হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশ বলেছেন, ভারত ও বাংলাদেশ উন্নয়ন অংশীদার এবং এই সহযোগিতা নিছক দেনা-পাওনার ঊর্ধ্বে, যা বিশ্বাস ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে রচিত।

আকামা-ভিসা থাকলে সবাই সৌদি যেতে পারবেন -পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

যাদের আকামা, ভিসা আছে, দেশে এসেছেন ছুটিতে, তাদের সবাই সৌদি আরব যেতে পারবেন, কোন জটিলতা হবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন।

sangbad ad

প্রধানমন্ত্রী আজ জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (ইউএনজিএ)-র ৭৫ তম অধিবেশনে

‘নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে বরাদ্দ শত কোটি’

জেলা বার্তা পরিবেশক, টাঙ্গাইল

পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেছেন, নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য বর্তমান সরকার বাজেটে এক শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে।

করোনা মোকাবেলায় পুরো বিশ্বকে এক হয়ে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবেলায় পুরো বিশ্বকে এক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

শিমুলিয়া ঘাটে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে যাত্রীরা

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

শিমুলিয়া ঘাট ব্যবহারকারী যাত্রীরা নাব্য সঙ্কটে ফেরি চলচল বিঘœ হওয়ায় সীমাহীন দুর্ভোগ

স্মারক ডাকটিকেট প্রকাশ করা হলো জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর বাংলায় ভাষণের ৪৬ বছর পূর্তিতে

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

ডাক অধিদপ্তর ১০ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাকটিকেট প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের সাধারণ

করোনা একদিনে আরও ২১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৩৮৩

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একদিনে আরও ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন রোগী