• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

 

নির্বাচনী বাজেটে বড় ঘাটতি

৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা

নিউজ আপলোড : ঢাকা , শুক্রবার, ০৮ জুন ২০১৮

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
image

চলতি বছর ২০১৮ এর শেষে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তাই ভোটারদের খুশি করতে বাজেটে উল্লেখযোগ্য কোন খাতে কর না বাড়িয়ে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে কর কমানোর প্রস্তাব দিয়ে বৃহস্পতিবার (৭ জুন) জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের এযাবৎকালের বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ আগামীর পথে এগিয়ে নেয়ার স্বপ্ন সামনে রেখে ভোটের বছরে ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ’ শিরোনামে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট জাতীয় সংসদের সামনে উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী। নতুন অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত এই ব্যয় বিদায়ী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের ২৫ এবং মূল বাজেটের চেয়ে ১৬ শতাংশ বেশি। এবার প্রস্তাবিত মূল বাজেটের যে আকার ধরা হয়েছে তা বাংলাদেশের মোট জিডিপির ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ। গতবছর প্রস্তাবিত বাজেট ছিল জিডিপির ১৮ শতাংশ। প্রায় পৌনে পাঁচ লাখ কোটি টাকার এই বাজেটের মধ্যে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা; যার ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা যাবে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি)। আর অনুন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৮২ হাজার ৪১৫ কোটি টাকা, যা বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত অনুন্নয়ন বাজেটের চেয়ে ৩৪ শতাংশ বেশি। বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে কর হিসেবে দুই লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা আদায় করা যাবে বলে আশা করছেন মুহিত। সে হিসাবে এবারের বাজেটে সামগ্রিক ঘাটতি ধরা হচ্ছে ১ লাখ ২৫ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা। যা জিডিপির ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। এ বাজেট চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের মূল বাজেটের চেয়ে ৬৪ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা বেশি। অবশ্য সংশোধিত বাজেট (২০১৭-১৮) চলতি বছর ৩ লাখ ৭১ হাজার কোটি টাকা করা হয়। সে হিসাবে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ৯৩ হাজার ৭৮ কোটি টাকা বেশি। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের আকার ছিল ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা।

বৃহস্পতিবার স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদে এই বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী মুহিত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের টানা দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ বাজেট উপস্থাপনা শুরু হয় দেশের অর্থনীতিতে গত ১০ বছরের সাফল্যের একটি মাল্টিমিডিয়া প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে।

ভোটারদের খুশি করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী এবার বাজেটের আকার খুব বেশি বড় করেননি। কোন নিত্যপণ্যে নতুন কর আরোপ করেননি বা সহজে আদায়যোগ্য এমন কোন খাতেও করের মাত্রা বাড়াননি। ফলে বিরাট বাজেটে অনিশ্চিত সম্ভাবনার ওপর ভর করে প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তা বাস্তবায়নই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। অর্থমন্ত্রী এবার করের বোঝা না চাপিয়ে বড় বাজেটের আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে গিয়ে ঘাটতিকেই বেছে নিয়েছেন। বাজেটের এক-চতুর্থাংশই ঘাটতি থেকে মেটানো হবে। এই অর্থ আসবে বৈদেশিক অনুদান ও ঋণ থেকে।

প্রস্তাবিত বাজেটে ভ্যাট স্তর ৯টি থেকে কমিয়ে ৫টি স্তরে করা হয়েছে। যা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ২ থেকে ৩ স্তরে নামিয়ে আনা হবে। পাশাপাশি আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য করপোরেট কর হার কমানো হয়েছে। বাজেটে দেশীয় শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করতে বেশ কিছু সুবিধা প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে তা শুধুমাত্র ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য করা হয়েছে। এক্ষেত্রে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় দুই ধরনের ব্যাংক বীমা প্রতিষ্ঠানের করহারই আড়াই শতাংশ কমেছে। এছাড়া মোবাইল ফোন অপারেটর, উৎপাদনশীল প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর হার চলতি বছরেটাই অপরিবর্তীত থাকছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ৫ দশমিক ৬ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি বাজারমূল্যে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের মূল বাজেটে জিডিপির আকার ধরা হয়েছিল ২২ লাখ ২৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা কিছুটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ লাখ ৩৮ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকায়। চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের ভিতরে যে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হয়েছে তার মোট আর্থিক মূল্য এটি। প্রস্তাবিত বাজেটে জিডিপির আকার বাড়িয়ে ২৫ লাখ ৩৭ হাজার ৮৪৯ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী বাজেটে দেশি-বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় হবে ৫১ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা। এডিপির পর ঋণের সুদ পরিশোধই সরকারের ব্যয়ের সবচেয়ে বড় খাত। অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নেয়া ঋণের সুদ বাবদ ব্যয় করতে হবে ৪৮ হাজার ৩৭৭ কোটি টাকা, বৈদেশিক ঋণের সুদ দিতে হবে ২ হাজার ৯৬৩ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ ধরা হয়েছিল ৩৯ হাজার ৫১৩ কোটি; বিদেশি ঋণের সুদ এক হাজার ৯৪৬ কোটি টাকা। আসন্ন বাজেটে সরকারের পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে দুই লাখ ৫১ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা। চলতি বছরের মূল বাজেটে এর পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৯ হাজার ১৪২ কোটি টাকা। এটি সংশোধিত বাজেটে কমিয়ে এক লাখ ৯৩ হাজার ৮২৮ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, সরকারি মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি কর্মচারীদের দেয়া ঋণ পরিশোধে বরাদ্দ থাকছে ৩০ হাজার ৭৪৭ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে এটি ছিল ২৪ হাজার ৮৭১ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেটে ১৬ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা।

প্রস্তাবিত বাজেটে তামাকপণ্য ও মোবাইল অপারেটর ছাড়া অন্য সবার ক্ষেত্রে করপোরেট কর ৩৭ দশমিক ৫০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। অপরিবর্তীত রয়েছে ব্যক্তিগত করের আয়সীমা। দ্রুত দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে বাড়ানো হয়েছে সামাজিক সুরক্ষার আওতা। একই সঙ্গে বাজেটকে জনমুখী করতে নতুন বিষয় আনা হয়েছে। এর মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বৈদেশিক কোন ইস্যুর বিপরীতে এমন বরাদ্দ এবারই প্রথম যুক্ত হচ্ছে। আর অর্থনেতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সবার কাছে পৌঁছে দিতে ও বৈষম্য কমাতে বিদ্যমান সরকারি পেনশন কার্যক্রমের বাইরে বেসরকারি পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত সব কর্মজীবী মানুষের জন্য সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া ভোটারদের বড় অংশই বাস করে গ্রামে। এ কারণে এবার গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে।

অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তব্যে বলেন, আগামী অর্থবছরের বাজেটে আঞ্চলিক সমতা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং গুণগত ব্যয়ের বিষয়কে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। এ খাতে ব্যয়কে আমরা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে এ খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে মানবসম্পদ (শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য) খাতে ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ, সার্বিক কৃষি খাতে ২১ দশমিক ৮ শতাঙশ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ, যোগাযোগ খাতে ২৬ দশমিক ৩ শতাংশ একং অন্যান্য খাতে ১০ দশমিক ৮ শতাংশ বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাজের অনুযায়ী তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো- সামাজিক অবকাঠামো, ভৌত অবকাঠামো ও সাধারণ সেবা খাত। সামাজিক অবকাঠামো খাতে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ২৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এর মধ্যে মানবসম্পদ খাতে ২৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ। ভৌত অবকাঠামো খাতে ৩০ দশমিক ৯৯ শতাংশ। যার মধ্যে কৃষি ও পল্লী উন্নয়নে ১২ দশমিক ৬৮ শতাংশ, যোগাযোগ খাতে ১১.৪৩ শতাংশ এবং বিদ্যুৎখাতে ৫.৩৬ শতাংশ। সাধারণ সেবা খাতে ২৫.৩০ শতাংশ, পিপিপি বিভিন্ন শিল্পে আর্থিক সহায়তা, ভর্তুকি, রাষ্টায়ত্ত্ব, বাণিজ্যিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের জন্য ৪.৭৮ শতাংশ ও সুদ পরিশোধ বাবদ ১১.০৫ শতাংশ, নিট ঋণদানে এবং অন্যান্য খাতে প্রস্তাব করা হয়েছে ০.৫৪ শতাংশ।

জিডিপি ৭ দশমিক ৮ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য ৫ দশমিক ৬ শতাংশ : কয়েক বছর ধরে দেশে কর্মসংস্থান কাক্সিক্ষত হারে না বাড়লেও উচ্চতর প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে বলে মনে করে সরকার। এজন্য চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের মূল বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে বলে আশা করছেন অর্থমন্ত্রী। আর নির্বাচনের পর অর্থৎ ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের সম্ভাবনা দেখছে সরকার। এর জন্য বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি খাতের বিনিয়োগকে আরও চাঙা করার পরিকল্পনা করছে সরকার। এদিকে চলতি অর্থবছরের মূল্যস্ফীতি প্রাক্কলন করা হয়েছিল ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। প্রস্তাবিত নতুন বাজেটে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। আগামী বছরে সব ধরনের দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছে সরকার।

বাজেটে আয়ের খাত : বরাবরের মতো এবারও প্রস্তাবিত বাজেটে আয়ের প্রধান উৎস ধরা হয়েছে রাজস্ব খাতকে। বিশাল ব্যয়ের বাজেটের অর্থের সংস্থান করা হবে অভ্যন্তরীণভাবেই। বাজেটে মোট আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। ফলে এনবিআরের রাজস্বের টার্গেট ধরা হচ্ছে ২ লাখ ৯৬ হজার ২০১ কোটি টাকা। চলতি বছর এ লক্ষ্য ধরা হয়েছিল ২ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা। যদিও সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা করা হয়। চলতি বছর এনবিআর লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবে বলে জানানো হয়েছে। এর বাইরে কর ছাড়া আয় ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা। এনবিআরবহির্ভূত আয় ধরা হচ্ছে ৯ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা। আর আগামী বছর আশা করা হচ্ছে বৈদেশিক অনুদান আসবে ৪ হাজার ৫১ কোটি টাকা। বিশাল পরিমাণ এ রাজস্ব আদায়ে এনবিআরের সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে দেশের ২০০ উপজেলায় কর অফিস স্থাপন করা হয়েছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে বাকি সব উপজেলায় কর অফিস স্থাপন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এ বাজেট বাস্তবায়নে একদিকে বিশাল অঙ্কের রাজস্ব আদায় করতে হবে সরকারকে, অন্যদিকে করকাঠামোয় খুব একটা পরিবর্তন আনছে না সরকার। মনে করা হচ্ছে, এনবিআরের যে সক্ষমতা রয়েছে তার মাধ্যমেই বিশাল এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।

ব্যয়ের খাত : নির্বাচন সামনে রেখে গ্রামীণ রাস্তাঘাট সংস্কারসহ মেগা প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি আনতে চায় সরকার। এজন্য প্রস্তাবিত বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আর স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল থেকে ৭ হাজার ৮৬৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা খরচের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। সে হিসেবে আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) আকার ১ লাখ ৮০ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা। যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ২৪ হাজার ৯৪৫ কোটি টাকা বা (১৬ দশমিক ২৮ শতাংশ) বেশি। মোট এডিপির মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা, বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল থেকে ৭ হাজার ৮৬৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা খরচের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের মূল এডিপির আকার ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। এটি জিডিপির ৬ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল এক লাখ ১৭ হাজার ২৭ কোটি টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৯১ হাজার কোটি টাকা। সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বাজেট ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বরাদ্দ রাখা হয় ৭৫ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৫ শতাংশের সমান। কিন্তু শেষ বাজেটে এডিপিতে বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে জিডিপির প্রায় সাত শতাংশ। টাকার অঙ্কে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের তুলনায় ১৩৭ শতাংশ বেশি। এর বাইরে এডিপিবহির্ভূত বিশেষ প্রকল্পে ৪ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা, কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচিতে ১ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা, অন্যান্য স্কিমে ৩২৭ কোটি টাকাসহ উন্নয়ন কর্মকান্ডে মোট ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হচ্ছে নতুন বাজেটে। এছাড়া বাজেটে সরকারের পরিচালন ব্যয় ধরা হচ্ছে ২ লাখ ৫১ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা। চলতি বছরের মূল বাজেটে এর পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৯ হাজার ১৪২ কোটি টাকা, যা সংশোধিত বাজেটে কমিয়ে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৮২৮ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। এদিকে নতুন বাজেটে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, সরকারি মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি কর্মচারীদের দেয়া ঋণ পরিশোধে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ৩০ হাজার ৭৪৭ কোটি টাকা।

বাজেটে ঘাটতি : সার্বিকভাবে বাজেটে ঘাটতি দাঁড়াবে একলাখ ২৫ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা। যা জিডিপির ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। ঘাটতি অর্থয়নে বৈদেশিক সূত্র থেকে ৫৪ হাজার ৬৭ কোটি টাকা (জিডিপির ২ দশমিক ১ শতাংশ) এবং অভ্যন্তরীণ সূত্র হতে ৭১ হাজার ২২৬ কোটি টাকা (জিডিপির ২ দশমিক ৮ শতাংশ) সংগ্রহ করা হবে। বাজেটের এই বিশাল আকারের ঘাটতি অর্থায়ন করতে সরকার ব্যাংক খাতকে বেছে নিয়েছে প্রধান ঘাটতি অর্থায়নকারী হিসেবে। এজন্য ব্যাংক থেকে ৪২ হাজার ২৯ কোটি টাকা ঋণ(জিডিপির ১.৭ শাতাংশ) এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য ব্যাংকবহির্ভূত ঋণ নেয়া হবে ২৯ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা। অবশ্য চলতি বাজেটে ২৮ হাজার কোটি টাকার ঋণ নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু সংশোধিত বাজেটে তা ১৯ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়। অবশ্য এখন পর্যন্ত ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি নিতে হয়নি সরকারকে; যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছিল ১ লাখ ১২ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা, সংশোধিত বাজেটে তা সামান্য কমিয়ে ১ লাখ ১২ হাজার ৪১ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই এ ঘাটতির পরিমাণ জিডিপির ৫ শতাংশ।

করকাঠামো : ব্যয়ের সিংহভাগ আসবে আয়কর, মূল্য সংযোজন কর ও আমদানি শুল্ক থেকে। এই তিন খাত থেকে এনবিআরের মাধ্যমে দুই লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা আদায় করতে হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জনগণের ওপর বাড়তি কর, ভ্যাট আরোপ করতে চায়নি সরকার। ফলে প্রস্তাবিত বাজেটের করকাঠামোয় খুব একটা পরিবর্তন আনা হয়নি। শুধু ব্যবসায়ীদের দাবি গ্রাহ্য করে করপোরেট করহার ৩৭ দশমিক ৫০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। তবে তামাকপণ্য ও মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য হবে না। পাশাপাশি ব্যক্তিগত করের আয়সীমাও থাকবে আগের মতোই। রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে ভ্যাটকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তবে কিছু বিলাস পণ্যে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হচ্ছে। ভ্যাটের স্তর নয় থেকে পাঁচে নামিয়ে আনা হয়েছে। এতে কিছু পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে সামান্য হারে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাড়ছে। কিন্তু বাজেটে নতুন কর বসছে না। ফলে কীভাবে বিশাল এই বাজেট বাস্তবায়ন হবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদরা।

বাড়ছে সামাজিক সুরক্ষার আওতা : জাতীয় নির্বাচনের আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নতুন করে ১১ লাখ মানুষকে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে যোগ করা হবে। পরের দুই বছরে আরও প্রায় ৪০ লাখ মানুষ এ কর্মসূচির আওতায় আসবে। বর্তমানে এ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে ৭৫ লাখেরও বেশি দরিদ্র মানুষ। সে হিসাবে আগামী অর্থবছর উপকারভোগীর সংখ্যা দাঁড়াবে ৮৬ লাখে। আর সারা দেশে বর্তমানে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ৩ কোটির ওপরে। এই দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে আর্থিক সুবিধা দিতে এ খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে ১০ শতাংশ হারে। আগামী বছর এ কর্মসূচির আওতায় সব ধরনের উপকারভোগীর সংখ্যাও বাড়ানো হচ্ছে অন্তত ১০ শতাংশ হারে। একই হারে বাড়বে ভাতার পরিমাণও। এ কর্মসূচির উপকারভোগীদের হয়রানি রোধে সব ধরনের কার্যক্রম অনলাইন ডাটাবেজের মাধ্যমে করারও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ভোটার তুষ্টিতে বাজেটে বিশেষ দৃষ্টি দেয়া হচ্ছে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রতি। সামাজিক নিরাপত্তা খাতকে গুরুত্ব দিয়ে বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা-ভোগীদের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে। হিজড়া, দলিত, হরিজন ও বেদে, চা শ্রমিকসহ সমাজের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বাজেটে দ্বিগুণ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এবারই প্রথম মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিজয় দিবস ভাতা ৫ হাজার এবং নববর্ষ ভাতা ২ হাজার টাকা দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে। এছাড়াও অস্বচ্ছল যুদ্ধাহত এবং অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা বা তাদের পরিবারের জন্য ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

বাজেটে এডিপিতে ১০ প্রকল্পেই গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এগুলো হলো; পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্প, পদ্মা রেলসেতু সংযোগ প্রকল্প, চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে ঘুমধুম পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প, ঢাকা মাস র্যা পিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প (এমআরটি), পায়রা বন্দর নির্মাণ প্রকল্প, গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ প্রকল্প, মাতারবাড়ী আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড পাওয়ার প্রকল্প, মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রকল্প বা রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প ও এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প। পদ্মাসেতুর বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে এবার সেতু বিভাগে ৯ হাজার ১১২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হবে। অন্যদিকে মেট্রোরেলকে আরও দৃশ্যমান করতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে নতুন এডিপিতে থাকছে ২০ হাজার ৮১৭ কোটি টাকার বরাদ্দ। পদ্মাসেতুর রেল সংযোগ প্রকল্প নিয়ে চীনের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। এতে ব্যয় হবে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২১ হাজার ৩৬ কোটি টাকা। এ জন্য নতুন এডিপিতে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ থাকছে ১১ হাজার ১৫৪ কোটি টাকা। এদিকে কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল নির্মাণের জন্য ২২ হাজার ৮৮৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের জন্য। নতুন এডিপিতে মোট প্রকল্প সংখ্যা হবে ১ হাজার ৪৫১টি।

সংসদের ২২তম অধিবেশন সমাপ্ত

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

দশম জাতীয় সংসদের ২২তম অধিবেশন বৃহস্পতিবার (২০ সেপ্টেম্বর) শেষ হয়েছে। স্পিকার ড. শিরীন

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন সেনাবাহিনী প্রধান

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বৃহস্পতিবার (২০ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজারের

উদ্বেগের মধ্যেই ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল পাস

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ব্যাপক সমালোচিত ৫৭ ধারাসহ কয়েকটি ধারা বাতিল করে বহুল

sangbad ad

সাংবাদিকতা পেশাকে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে ব্যবহারে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংবাদিকতা পেশাকে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে

ছয় কোম্পানির ছয় রঙের বাস চলবে

মাহমুদ আকাশ

image

ছাত্রছাত্রীদের ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের পর রাজধানী ঢাকার গণপরিবহন

মাতৃমৃত্যু রোধে সকলকে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান স্পিকারের

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী মাতৃমৃত্যু রোধে সকলকে আন্তরিকভাবে কাজ করার

৮০০০ টাকা নুন্যতম মজুরি শ্রমিক অসন্তোষের সুযোগ দেখছেন না প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের জন্য আট হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা নিয়ে অসন্তোষের

কঙ্গোয় শান্তি মিশনে মেডেল প্যারেড পরিদর্শন বিমানবাহিনী প্রধানের

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন এলাকা ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোতে বিমানবাহিনী

শান্তি-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা একটি দেশের উন্নয়নের পূর্বশর্ত : প্রধানমন্ত্রী

image

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকা এবং আইন-শৃঙ্খলা

sangbad ad