• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮

 

ছয় বছরেও শিক্ষা আইন চূড়ান্ত হয়নি

খসড়ায় অসামঞ্জস্য বৈপরীত্য, শিক্ষাবিদদের মতামত উপেক্ষিত

নিউজ আপলোড : ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২১ জুন ২০১৮

সংবাদ :
  • রাকিব উদ্দিন
image

দীর্ঘ ছয় বছরেও শিক্ষা আইন চূড়ান্ত করতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গোঁজামিল দিয়ে গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে এই আইনের খসড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হলে ক্ষোভ প্রকাশ করে সেটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শিক্ষা আইনের খসড়ায় ব্যাপক অসামঞ্জস্য, বৈপরীত্য ও বিদ্যমান বিভিন্ন আইনের সঙ্গে অসঙ্গতি থাকায় আবারও এটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ফেরত পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এর ফলে সরকারের বর্তমান মেয়াদে শিক্ষা আইন আলোর মুখ দেখছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মূলত খসড়া প্রণয়নে দূরদর্শিতার অভাব, শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিদ্যমান বিভিন্ন আইনের ধারা বিবেচনায় না নেয়া, শিক্ষাবিদদের মতামত উপেক্ষা করা ও খসড়া প্রণয়নকারীদের গাফিলতির কারণেই ছয় বছরের বেশি সময়েও শিক্ষা আইনের খসড়া চূড়ান্ত করতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এছাড়া খসড়া প্রণয়নে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এড়িয়ে যাওয়ায় খসড়ায় অপরিপক্বতা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। ‘বাংলাদেশ বাধ্যতামূলক প্রাথমিক আইন, ১৯৯০’ থাকলেও এই আইনের কিছু ধারা শিক্ষা আইনে রাখা ও না রাখা নিয়ে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন অভিমত রয়েছে বলে জানা গেছে।

‘জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০’র আলোকেই ‘শিক্ষা আইন, ২০১১’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ২০১২ সালে শিক্ষা আইনের প্রথম খসড়া তৈরি করা হয়। পরে সংযোজন-বিয়োজন শেষে ২০১৩ সালের ৫ আগস্ট জনমত যাচাইয়ের জন্য এই খসড়া মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। পরবর্তীতে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ দিয়ে সেটি ফেরত পাঠানো হয়। এক পর্যায়ে নোট-গাইড বই ব্যবসায়ীদের আন্দোলন, কওমি মাদ্রাসার মালিকদের হুমকিসহ নানা বিতর্ক দেখা দিলে এই আইন প্রণয়নের কাজ থমকে যায়। পরে আবারও এই খসড়া মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য পাঠানো হলে এতে নানা রকম অসঙ্গতি থাকায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠানো হয়। সর্বশেষ গত বছর খসড়া আইন ফের মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দিয়েও কয়েক দিনের মধ্যে তা তুলে নেয়া হয়। এরপর কর্মকর্তা পর্যায়ে কাজ শেষে খসড়া আইনটি চূড়ান্ত করা হয়।

এ বিষয়ে ‘জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০’ প্রণয়ন কমিটির সদস্য প্রবীণ শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহম্মেদ শিক্ষা আইন প্রণয়ন পিছিয়ে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে সংবাদকে বলেন, একটি মন্ত্রণালয়ে বারবার সচিব বদল হচ্ছে। আইন সম্পর্কে তাদের দৃষ্টিভঙ্গিও পাল্টাচ্ছে। সবকিছু সচিবদের ওপর ছেড়ে দিলে তো রাজনৈতিক অঙ্গীকার পূরণ হবে না। শিক্ষা আইন একটি রাজনৈতিক অঙ্গীকারের বিষয়। তিনি বলেন, আমরা চেয়েছিলাম একটি সমন্বিত শিক্ষা আইন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষাসহ অন্যান্য যেসব মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিষয় রয়েছে সব একত্র করে একটি আইন চেয়েছিলাম। দুভার্গ্যবশত গত ছয় বছরেও সেটি সম্ভব হয়নি। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘খসড়া আইনে বেসরকারি শিক্ষকদের জন্য জেল-জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু সরকারি শিক্ষকদের অপরাধের জন্য শাস্তির বিধান নেই। এটা কী করে হয়?’

জানা গেছে, মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য গত বছর সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে ‘শিক্ষা আইন’র খসড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরপর গত ১২ সেপ্টেম্বর শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসাইন সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আগামী সপ্তাহের মন্ত্রিসভায় শিক্ষা আইনের খসড়া উত্থাপন করা হতে পারে। প্রায় ছয় বছর ধরে নতুন শিক্ষা আইন নিয়ে কাজ চলছে। আইনের অভাবে আমরা অনেক কিছু করতে পারি না।’

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, খসড়া আইনটিকে মন্ত্রিসভায় তোলার লক্ষ্যে গত ২৬ এপ্রিল তৃতীয় দফা বৈঠকে বসেন ‘আইনের খসড়া পরীক্ষায় গঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি’। খসড়াটির বিভিন্ন ধারা-উপধারা পর্যালোচনা করে সন্তুষ্ট হতে পারেননি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি। কমিটির পর্যবেক্ষণে শিক্ষা আইনের খসড়ায় নানা রকম ত্রুটি, পরস্পরবিরোধী তথ্য তুলে ধরা এবং ভাষাগত সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি বিদ্যমান বিভিন্ন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ধারা-উপধারার প্রমাণ পাওয়া যায়। এজন্য খসড়াটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে সংবাদকে বলেন, ‘শিক্ষা আইনের খসড়ায় বেশ কয়েকটি অসঙ্গতি ও বিদ্যমান কয়েকটি আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ধারা-উপধারা রয়েছে। এজন্য আইনের খসড়াটি মন্ত্রিসভা থেকে যেন ফেরত না আসে সেজন্য তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাশাপাশি কিছু পর্যবেক্ষণ দেয়া হয়েছে।’

বিভিন্ন আইনের খসড়ায় ভাষাগত উৎকর্ষ সাধন, বিষয়গত যথার্থতা পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট অন্য আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য ও সঙ্গতি আনতে গত বছরের ১৪ মে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। কোনো আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের আগে এই কমিটি তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মতামত দেবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে (আইন) আহ্বায়ক করে আট সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব অথবা সিনিয়র সহকারী সচিব (আইন) এই কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি কয়েকটি পর্যবেক্ষণ দিয়ে শিক্ষা আইনের খসড়াটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এর আলোকেই শিক্ষা সচিব পুরো খসড়াটি নিয়ে কাজ করতে নিজ মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। খসড়াটি ঠিকমত প্রণয়ন না হওয়ায় এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো ফেরত আসে শিক্ষা আইনের খসড়া।

এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের আইন শাখা থেকে গত ৭ জুন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালকের এ সংক্রান্ত কিছু তথ্য চাওয়া হয়। যুগ্মসচিব (আইন) মু. ফজলুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রস্তাবিত ‘শিক্ষা আইন ২০১৮’ প্রণয়নের জন্য একটি খসড়া আইন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রেরণ করা হলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ নিম্নরূপ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। (ক) বিদ্যমান আইনের বিধান ও প্রস্তাবিত খসড়া আইনের বিধানসমূহের সামঞ্জস্য/অসামঞ্জস্য পর্যবেক্ষণ ও যাচাইক্রমে উদ্যোগী মন্ত্রণালয় খসড়াটি পুনর্বিন্যাস করবে।’

এই নির্দেশনার প্রেক্ষিতে ‘বর্তমানে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে কী কী আইন/বিধি/প্রবিধানমালা বিদ্যমান আছে তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আইন শাখায় প্রেরণপূর্বক কোনো মতামত থাকলে তা প্রদান করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’ এই ধরনের নির্দেশনা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সকল অধিদফতর, সংস্থা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

শিক্ষা আইনের খসড়া নিয়ে কাজ করছেন- এমন একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংবাদকে বলেন, খসড়া আইনে নোট-গাইড বই নিষিদ্ধ করে বিভিন্ন ধরনের শাস্তির কথা বলা হয়েছে। আসলে বিদ্যমান আইনেই নোট-গাইড বই নিষিদ্ধ রয়েছে। তাহলে নতুন আইনে এই ধরনের ধারা সংযোজনের প্রয়োজন রয়েছে কিনা সেটা প্রশ্নসাপেক্ষ। এছাড়া কোচিং বাণিজ্য ও কোচিং সেন্টার পরিচালনার কার্যক্রমও বিদ্যমান একটি আইনে নিষিদ্ধ রয়েছে। এই বিষয়টিকে আবার নতুন একটি আইনে রাখার প্রয়োজন রয়েছে কিনা সেটাও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা জানান, প্রস্তাবিত আইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন আইন, বিধি, প্রবিধান, রীতি পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া প্রস্তাবিত আইন বা সংশোধনীর বিষয়ে উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত বা পর্যবেক্ষণ (যদি থাকে), আইন প্রণয়ন বা সংশোধনের উদ্দেশ্য ও এর সম্ভাব্য প্রভাব এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক আইন, চুক্তি, কনভেশন, সমঝোতা স্মারক, সিদ্ধান্ত, প্রটোকল খতিয়ে দেখার নির্দেশনা দিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ‘নোট ও গাইড নিষিদ্ধকরণ এবং পাবলিক পরীক্ষা অপরাধ আইন থাকা সত্ত্বেও এগুলোর শাস্তির ধারাগুলো প্রস্তাবিত শিক্ষা আইনে রাখা হয়েছে। এসব ধারা শিক্ষা আইনে রাখতে হলে পুরনো দুটি আইন সংশোধন করতে হবে। এজন্য এ দুটি ধারা আদৌ শিক্ষা আইনে রাখার প্রয়োজন রয়েছে কিনা তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।’

শিক্ষকদের উন্নয়নে সরকার সব করছে : শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

শিক্ষকদের কল্যাণে এবং তাদের জীবনমান ও পেশাগত উন্নয়নে সরকার সব ধরনের

ভোটের ৭-১০দিন আগে সেনা মোতায়েন : ইসি সচিব

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাত থেকে দশদিন আগেই সেনাবাহিনী ও বিজিবি

আর বাকী ৪৪ দিন

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর ৪৪ দিন বাকী। ভোট হবে আগামী ৩০ ডিসেম্বর, রোববার

sangbad ad

আরও চারটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় জাতীয়করন

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

জাতীয়করণ হয়েছে আরও চারটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এ নিয়ে বর্তমানে দেশে সরকারি মাধ্যমিক

সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার নির্দেশ সিইসির

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষ

কোন অনুকম্পা নয় রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশের সংবিধান : স্পিকার

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের সংবিধান বিশ্বে অনন্য। জাতির

দুদক ৫ বছরে দুর্নীতিবাজদের ২৭৪ কোটি ২৭ লাখ টাকা বাজেয়াপ্ত ও জরিমানা করেছে

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

দুর্নীতি দমন কমিশন ৫ বছরে দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত দুর্নীতিবাজদের কাছ থেকে

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাধা শিশুশ্রম

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন করতে হলে দেশ থেকে শিশুশ্রম মুক্ত করতে হবে। শিশু

৩০ ডিসেম্বরের পর ভোট পেছানোর সুযোগ নেই : সিইসি

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

নির্বাচন আরও পেছানোর দাবি নাকচ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা বলেছেন

sangbad ad