• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৯ জুন ২০১৮

 

গাজীপুরের পূবাইলে গণহত্যা দিবস পালিত হয় কিন্তু শহীদের মর্যাদা নেই

নিউজ আপলোড : ঢাকা , বুধবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

১৯৭১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর গাজীপুর সদরের কয়েকটি গ্রামে নির্বিচারে গণহত্যা চালায় পাক বাহিনী ও তার দোসররা।

জানা যায়, ১৯৭১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সকালে গাজীপুর সদরের বড়াদল, হাড়িবারির টেক, ছোট কয়ের ও সোড়ল গ্রামে ঢুকে পাক-বাহিনী নির্বিচারে নির্দয় ও নির্মম ভাবে গুলি করে ১৩ জনকে হত্যা করে। এরা হলো, সোড়ল গ্রামের আঃ মান্নান মোল্লা ও নৃপেন্দ্র চন্দ্র দাস, ছোট কয়ের গ্রামের বজলুর রহমান মোল্লা, রোমান মোল্লা, মো. আওলাদ হোসেন ভূঁইয়া ও ক্ষেত্রমোহন মিস্ত্রি, বড়াদল গ্রামের শেখ মো. সিদ্দিক, দুদু মোল্লা ও মোজাফফর হোসেন, ঢাকা উত্তর খানের ইয়াজ উদ্দিন এজু, কুমিল্লার ধনু মিয়া, হারবাইদ গ্রামের সিদ্দিকুর রহমান এবং হাড়িবারির টেক গ্রামের রহম আলি ভূইয়া। ’৭১ এর লোমহর্ষক এই হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিতে গিয়ে শহীদ আঃ মান্নানের ছেলে সিরাজ মোল্লা ব্যথাতুর হৃদয়ে সংবাদকে জানান, তখন তার বয়স মাত্র ৭/৮ বছর। বাবাকে হত্যার পর যখন দাফনের জন্যে লাশ বাড়িতে আনা হয় তখন আবার পাক সেনারা গুলি করতে শুরু করে। ওই অবস্থায় তখন লাশ ফেলে সবাই বাড়ি থেকে পালাতে শুরু করি। ভারাক্রান্ত হৃদয়ে তিনি আরও বলেন, সেই সময় বাবার লাশটিও আমরা ঠিকমত দাফন করতে পারিনি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৪৬ বছর পেরিয়ে গেলেও অদ্যাবধি কিছুই পাইনি, আর পাব বলেও আশা নেই। তবে তিনি ক্ষোভের সঙ্গে সরকারের প্রতি দাবি জানান, আর কিছু না হোক, অন্তত শহীদ পরিবার হিসেবে যেন সরকার আমাদের স্বীকৃতি দেয়, যাতে আমরা কিছুটা হলেও মর্যাদা নিয়ে থাকতে পারি। একই গ্রামের শহীদ নৃপেন্দ্র দাসের ছেলে নিখিল চন্দ্র জানান, অনেক দেন দরবার করে ’৯৬ সালে ৫ হাজার টাকা পেয়েছিলাম। এরপর আর কিছুই পাইনি। তিনি রাগ ক্ষোভ ও দুঃখের সঙ্গে জানান, মুক্তিযোদ্ধারা কিছু হলেও সম্মান নিয়ে বেঁচে আছে। কিন্তু পাক-বাহিনী যেভাবে আমাদের বাড়িতে ঢুকে বাবাকে গুলি করে হত্যা করেছে, সে হিসেব করলে আমরাও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের চেয়ে কম নই। এত ক্ষতিগ্রস্তের পরও আমাদের কোন দুঃখ থাকতো না, যদি শহীদ পরিবারের মর্যাদা পেতাম। একই দুঃখের বোঝা কাধে নিয়ে অতীতের স্মৃতিচারণ করলেন বড়াদল গ্রামের শহীদ শেখ মো. সিদ্দিকের বড় ছেলে শেখ মো. হাফিজুল ইসলাম। তিনি জানান, ১৯৭১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর আমার বাবাসহ আরও ৬ জনকে পাক সেনারা বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে আসে। তারপর পাশের হাড়িবারির টেক গ্রামের শশী মোহন সাহার বাতান বাড়ির একটি মাটির ঘরের ভিতর আটক করে ওই ৬ জনকে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে পাক হায়েনার দল। বাবার সঙ্গে সেদিন হত্যা করা হয় আমাদের বাড়ির ইয়াজ উদ্দিন এজু ও ধনু মিয়া নামের দু’জনকে। পরে অনেক কষ্টে বাবার লাশটি আনতে পারলেও আর কারো লাশ নিতে পারেনি তাদের স্বজনেরা। মর্মন্তুদ এই ঘটনার ৪৬ বছর পেরিয়ে গেলেও একবার মাত্র ২ হাজার টাকা পেয়েছিলাম। এরপর আর কিছু পাইনি। তবে অর্থের দিক দিয়ে না হলেও শহীদ পরিবার হিসেবে স্বীকৃতি না পাওয়ার ব্যথা আজও তাকে পিছু টানে। পাক সেনারা ওই ৬ জনকে ধরে এনে হত্যা করার প্রত্যক্ষদর্শী হাড়িবারির টেক গ্রামের হাজী ফজলুল হক সরকার সংবাদকে জানান, ওই দিন আমারও একই পরিনতি হতো। ৬ জনকে ধরে নিয়ে যাবার দৃশ্য আমি খানিক দূরে থেকে দেখে তাৎক্ষণিক বিলের পানিতে নেমে কচুরি পানা মাথায় দিয়ে লুকিয়ে থাকি। ব্রাশ ফায়ারের শব্দ যখন কানে এলো তখন আমি ৪/৫ ঘণ্টা ওই অবস্থায়ই লুকিয়ে থেকে আল্লাহর নাম নিতে থাকি। হাড়িবারির টেক গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদ ভূইয়া জানান, তার চাচা ডাকপিয়ন রহম আলিকে ওই দিনই পাক সেনারা তার বাড়িতে গিয়ে হত্যা করে। তিনি তখন নরসিংদী পোস্ট অফিসে কর্মরত ছিলেন। ছেলের লাশ কাধে নেয়ার ব্যথা যে কি মর্মন্তুদ এমন ঘটনার বর্ননা দিতে গিয়ে ভেজা কন্ঠে বললেন, ছোট কয়ের গ্রামের হাজী মো. লুৎফর রহমান মোল্লাহ। সেদিন পাক-বাহিনী যখন গ্রামে ঢুকল তখন তারা নিরাপদ স্থানে যাবার জন্যে সবে মাত্র নৌকায় উঠেছিল। এসময় পাকসেনারা তাদের দেখে এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। সেই গুলিতে তার ছেলে রোমান মোল্লাহ ঘটনাস্থলেই মারা যায় এবং ভাই বজলুর রহমান মোল্লাহ মারাত্মক আহত হয়। শুধু তাই নয়, পাকসেনারা বাড়িতে উঠে পরিবারের সবাইকে লাইনে দাঁড় করিয়ে গুলি ছুড়তে উদ্ধত হলে সবাই উচ্চ স্বরে কলেমা পড়তে শুরু করি। এ সময় একজন পাকসেনার কন্ঠে ভেসে উঠে, ‘সাচ্চা মুসলমান হায়’ কথাটা বলে সবাইকে ছেড়ে দেয়। পরে মারাত্মক আহত অবস্থায় তার ভাইকে চিকিৎসার জন্যে কালীগঞ্জের নাগরি মিশনে পাঠালে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। ওই অবস্থায় মৃতের মরদেহ বাড়িতে আনতে না পেরে কালীগঞ্জের পাঞ্জোরা গ্রামেই তাকে দাফন করেন। শহীদ বজলুর রহমানের স্ত্রী ফাতেমা বিবি বলেন, পাকসেনারা আমার স্বামী ও ভাশুর পোলা রোমানকে গুলি করে বাড়ির সবাইকে লাইনে দাঁড় করায়। আমরা সবাই তখন আল্লাহর নাম স্মরন করে কলেমা পড়তে থাকি এবং আমি পাক সৈন্যের পায়ে ধরি। তখন একজন সৈন্য আমাকে বলে, ‘রুপাইয়া দে-টাকা দে’ বলে আমার নাক ফুল ও গলার চেইন টেনে খুলে নেয়। তখন আমার নাক দিয়ে অঝরে রক্ত ঝড়ছিল। এসময় বাঁশি বেজে উঠলে তারা দৌড়ে চলে যায়। অতীতের সেই লোমহর্ষক গণহত্যার দৃশ্য মনে হলে কান্না আসে। এরপর স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা আমার নিকট থেকে ১টা স্ট্যাম্পে সব কিছু লিখে নিলেও আজ পর্যন্ত কিছুই পাইনি।

একই গ্রামের শহীদ আওলাদ হোসেনের ছোট ভাই আজাহার জানায়, এত বছরে তারা কিছুই পায়নি এবং তাদের নিকট কখনো কেউ আসেনি। এ গ্রামেরই আরেক শহীদ ক্ষেত্র মোহন মিস্ত্রি। তার বড় ছেলে সুবল মিস্ত্রি জানায়, নৌকা দিয়ে পাকসেনারা এসে নিজের চোখের সামনেই তার বাবাকে গুলি করে হত্যা করে। সেই ৪৬ বছর আগে কে যেন একবার এসে নাম ঠিকানা নিয়ে গেছিল ২/৩ হাজার টাকা দিবে বলে। কিন্তু তা আর পাইনি। একখন্ড জমির ওপর একটি ভিটে বাড়ি ছাড়া আর কিছুই তাদের অবশিষ্ট নেই। ভূমিহীন হিসেবেই চলছে তাদের দিনাতিপাত।

ক্ষতিগ্রস্ত নিঃস্ব ও নিষ্পেষিত এই পরিবারগুলোর বাড়িতে যেন আজও স্বজন হারানোর বিয়োগ ব্যথার সুর প্রবহমান।

প্রস্তুত আ’লীগ অপ্রস্তুত বিএনপি

ফয়েজ আহমেদ তুষার ও অমিত হালদার

image

চলতি বছরের (২০১৮) ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে কাজ

আজিজ আহমেদ’কে সেনাপ্রধান পদে নিয়োগ

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

বিজিবির সাবেক মহাপরিচালক আজিজ আহমেদ সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তাকে...

মানুষের নিরাপত্তা দেয়া বড় ইবাদত-ডিএমপি কমিশনার

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

নিজেরা ঈদের নামাজ না পড়ে সাধারণ মানুষের নামাজের নিরাপত্তা দেয়াও বড় ইবাদত বলে মন্তব্য

sangbad ad

স্থায়ী ঠিকানা পেল ১০০ ভিক্ষুক

সিএসএম তপন, কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী)

image

পুনর্বাসিত ১০০ জন ভিক্ষুকের মুখে ফুটেছে হাসি। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ঘর পেয়ে আনন্দে

স্পিকারের সঙ্গে সংসদের কর্মকর্তাদের ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সঙ্গে সোমবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনে ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়

শপথ নিলেন বাগেরহাটের সংসদ সদস্য হাবিবুন নাহার

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মংলা) আসন থেকে উপ-নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হাবিবুন নাহার শপথ নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৪ জুন)

প্রস্তাবিত বাজেট উন্নত দেশ গঠনের পথে এগিয়ে নেবে

সংসদ বার্তা পরিবেশক

image

সংসদে সরকারি দলের সদস্যরা বলেছেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বাংলাদেশকে উন্নত

বিমানবাহিনী প্রধান মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাতের দায়িত্ব গ্রহণ

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

নবনিযুক্ত বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত মঙ্গলবার

মাদকের গডফাদারদের ধরতে নতুন আইন হচ্ছে

সংসদ বার্তা পরিবেশক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, মাদক ব্যবসায় পৃষ্ঠপোষকতাকারী ও

sangbad ad