• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭

 

গাজীপুরের পূবাইলে গণহত্যা দিবস পালিত হয় কিন্তু শহীদের মর্যাদা নেই

নিউজ আপলোড : ঢাকা , বুধবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

১৯৭১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর গাজীপুর সদরের কয়েকটি গ্রামে নির্বিচারে গণহত্যা চালায় পাক বাহিনী ও তার দোসররা।

জানা যায়, ১৯৭১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সকালে গাজীপুর সদরের বড়াদল, হাড়িবারির টেক, ছোট কয়ের ও সোড়ল গ্রামে ঢুকে পাক-বাহিনী নির্বিচারে নির্দয় ও নির্মম ভাবে গুলি করে ১৩ জনকে হত্যা করে। এরা হলো, সোড়ল গ্রামের আঃ মান্নান মোল্লা ও নৃপেন্দ্র চন্দ্র দাস, ছোট কয়ের গ্রামের বজলুর রহমান মোল্লা, রোমান মোল্লা, মো. আওলাদ হোসেন ভূঁইয়া ও ক্ষেত্রমোহন মিস্ত্রি, বড়াদল গ্রামের শেখ মো. সিদ্দিক, দুদু মোল্লা ও মোজাফফর হোসেন, ঢাকা উত্তর খানের ইয়াজ উদ্দিন এজু, কুমিল্লার ধনু মিয়া, হারবাইদ গ্রামের সিদ্দিকুর রহমান এবং হাড়িবারির টেক গ্রামের রহম আলি ভূইয়া। ’৭১ এর লোমহর্ষক এই হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিতে গিয়ে শহীদ আঃ মান্নানের ছেলে সিরাজ মোল্লা ব্যথাতুর হৃদয়ে সংবাদকে জানান, তখন তার বয়স মাত্র ৭/৮ বছর। বাবাকে হত্যার পর যখন দাফনের জন্যে লাশ বাড়িতে আনা হয় তখন আবার পাক সেনারা গুলি করতে শুরু করে। ওই অবস্থায় তখন লাশ ফেলে সবাই বাড়ি থেকে পালাতে শুরু করি। ভারাক্রান্ত হৃদয়ে তিনি আরও বলেন, সেই সময় বাবার লাশটিও আমরা ঠিকমত দাফন করতে পারিনি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৪৬ বছর পেরিয়ে গেলেও অদ্যাবধি কিছুই পাইনি, আর পাব বলেও আশা নেই। তবে তিনি ক্ষোভের সঙ্গে সরকারের প্রতি দাবি জানান, আর কিছু না হোক, অন্তত শহীদ পরিবার হিসেবে যেন সরকার আমাদের স্বীকৃতি দেয়, যাতে আমরা কিছুটা হলেও মর্যাদা নিয়ে থাকতে পারি। একই গ্রামের শহীদ নৃপেন্দ্র দাসের ছেলে নিখিল চন্দ্র জানান, অনেক দেন দরবার করে ’৯৬ সালে ৫ হাজার টাকা পেয়েছিলাম। এরপর আর কিছুই পাইনি। তিনি রাগ ক্ষোভ ও দুঃখের সঙ্গে জানান, মুক্তিযোদ্ধারা কিছু হলেও সম্মান নিয়ে বেঁচে আছে। কিন্তু পাক-বাহিনী যেভাবে আমাদের বাড়িতে ঢুকে বাবাকে গুলি করে হত্যা করেছে, সে হিসেব করলে আমরাও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের চেয়ে কম নই। এত ক্ষতিগ্রস্তের পরও আমাদের কোন দুঃখ থাকতো না, যদি শহীদ পরিবারের মর্যাদা পেতাম। একই দুঃখের বোঝা কাধে নিয়ে অতীতের স্মৃতিচারণ করলেন বড়াদল গ্রামের শহীদ শেখ মো. সিদ্দিকের বড় ছেলে শেখ মো. হাফিজুল ইসলাম। তিনি জানান, ১৯৭১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর আমার বাবাসহ আরও ৬ জনকে পাক সেনারা বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে আসে। তারপর পাশের হাড়িবারির টেক গ্রামের শশী মোহন সাহার বাতান বাড়ির একটি মাটির ঘরের ভিতর আটক করে ওই ৬ জনকে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে পাক হায়েনার দল। বাবার সঙ্গে সেদিন হত্যা করা হয় আমাদের বাড়ির ইয়াজ উদ্দিন এজু ও ধনু মিয়া নামের দু’জনকে। পরে অনেক কষ্টে বাবার লাশটি আনতে পারলেও আর কারো লাশ নিতে পারেনি তাদের স্বজনেরা। মর্মন্তুদ এই ঘটনার ৪৬ বছর পেরিয়ে গেলেও একবার মাত্র ২ হাজার টাকা পেয়েছিলাম। এরপর আর কিছু পাইনি। তবে অর্থের দিক দিয়ে না হলেও শহীদ পরিবার হিসেবে স্বীকৃতি না পাওয়ার ব্যথা আজও তাকে পিছু টানে। পাক সেনারা ওই ৬ জনকে ধরে এনে হত্যা করার প্রত্যক্ষদর্শী হাড়িবারির টেক গ্রামের হাজী ফজলুল হক সরকার সংবাদকে জানান, ওই দিন আমারও একই পরিনতি হতো। ৬ জনকে ধরে নিয়ে যাবার দৃশ্য আমি খানিক দূরে থেকে দেখে তাৎক্ষণিক বিলের পানিতে নেমে কচুরি পানা মাথায় দিয়ে লুকিয়ে থাকি। ব্রাশ ফায়ারের শব্দ যখন কানে এলো তখন আমি ৪/৫ ঘণ্টা ওই অবস্থায়ই লুকিয়ে থেকে আল্লাহর নাম নিতে থাকি। হাড়িবারির টেক গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদ ভূইয়া জানান, তার চাচা ডাকপিয়ন রহম আলিকে ওই দিনই পাক সেনারা তার বাড়িতে গিয়ে হত্যা করে। তিনি তখন নরসিংদী পোস্ট অফিসে কর্মরত ছিলেন। ছেলের লাশ কাধে নেয়ার ব্যথা যে কি মর্মন্তুদ এমন ঘটনার বর্ননা দিতে গিয়ে ভেজা কন্ঠে বললেন, ছোট কয়ের গ্রামের হাজী মো. লুৎফর রহমান মোল্লাহ। সেদিন পাক-বাহিনী যখন গ্রামে ঢুকল তখন তারা নিরাপদ স্থানে যাবার জন্যে সবে মাত্র নৌকায় উঠেছিল। এসময় পাকসেনারা তাদের দেখে এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। সেই গুলিতে তার ছেলে রোমান মোল্লাহ ঘটনাস্থলেই মারা যায় এবং ভাই বজলুর রহমান মোল্লাহ মারাত্মক আহত হয়। শুধু তাই নয়, পাকসেনারা বাড়িতে উঠে পরিবারের সবাইকে লাইনে দাঁড় করিয়ে গুলি ছুড়তে উদ্ধত হলে সবাই উচ্চ স্বরে কলেমা পড়তে শুরু করি। এ সময় একজন পাকসেনার কন্ঠে ভেসে উঠে, ‘সাচ্চা মুসলমান হায়’ কথাটা বলে সবাইকে ছেড়ে দেয়। পরে মারাত্মক আহত অবস্থায় তার ভাইকে চিকিৎসার জন্যে কালীগঞ্জের নাগরি মিশনে পাঠালে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। ওই অবস্থায় মৃতের মরদেহ বাড়িতে আনতে না পেরে কালীগঞ্জের পাঞ্জোরা গ্রামেই তাকে দাফন করেন। শহীদ বজলুর রহমানের স্ত্রী ফাতেমা বিবি বলেন, পাকসেনারা আমার স্বামী ও ভাশুর পোলা রোমানকে গুলি করে বাড়ির সবাইকে লাইনে দাঁড় করায়। আমরা সবাই তখন আল্লাহর নাম স্মরন করে কলেমা পড়তে থাকি এবং আমি পাক সৈন্যের পায়ে ধরি। তখন একজন সৈন্য আমাকে বলে, ‘রুপাইয়া দে-টাকা দে’ বলে আমার নাক ফুল ও গলার চেইন টেনে খুলে নেয়। তখন আমার নাক দিয়ে অঝরে রক্ত ঝড়ছিল। এসময় বাঁশি বেজে উঠলে তারা দৌড়ে চলে যায়। অতীতের সেই লোমহর্ষক গণহত্যার দৃশ্য মনে হলে কান্না আসে। এরপর স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা আমার নিকট থেকে ১টা স্ট্যাম্পে সব কিছু লিখে নিলেও আজ পর্যন্ত কিছুই পাইনি।

একই গ্রামের শহীদ আওলাদ হোসেনের ছোট ভাই আজাহার জানায়, এত বছরে তারা কিছুই পায়নি এবং তাদের নিকট কখনো কেউ আসেনি। এ গ্রামেরই আরেক শহীদ ক্ষেত্র মোহন মিস্ত্রি। তার বড় ছেলে সুবল মিস্ত্রি জানায়, নৌকা দিয়ে পাকসেনারা এসে নিজের চোখের সামনেই তার বাবাকে গুলি করে হত্যা করে। সেই ৪৬ বছর আগে কে যেন একবার এসে নাম ঠিকানা নিয়ে গেছিল ২/৩ হাজার টাকা দিবে বলে। কিন্তু তা আর পাইনি। একখন্ড জমির ওপর একটি ভিটে বাড়ি ছাড়া আর কিছুই তাদের অবশিষ্ট নেই। ভূমিহীন হিসেবেই চলছে তাদের দিনাতিপাত।

ক্ষতিগ্রস্ত নিঃস্ব ও নিষ্পেষিত এই পরিবারগুলোর বাড়িতে যেন আজও স্বজন হারানোর বিয়োগ ব্যথার সুর প্রবহমান।

পরীক্ষামূলক সম্প্রচার

আগামী নভেম্বরে সিপিএ সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হতে পারে

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

সিপিএ চেয়ারপারসন ও জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, ঢাকায়

পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের চেয়ে কম

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

পরমাণু বিদ্যুৎ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ কিরিল কোমারভ বলেছেন, বিভিন্ন

জেন্ডার সমংবেদনশীল সমাজ গড়ার আহ্বান জানিয়ে আইনের সংস্কারের দাবি

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

নারীর প্রতি সহিংস ও বৈষম্যপূর্ণ সমাজ থেকে বের হয়ে এসে একটি জেন্ডার সংবেদনশীল

sangbad ad

ইসির সংলাপ জোটগত নির্বাচন বাতিলের দাবি

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) চলমান সংলাপে

চীন সফরে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনা হবে : ওবায়দুল কাদের

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

ভোটার তালিকা হালনাগাদে রোহিঙ্গাপ্রবণ ৪ জেলায় ইসির কঠোর নজরদারি

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

ভোটার তালিকা হালনাগাদে রোহিঙ্গাপ্রবণ ৪ জেলার ৩২ উপজেলা কঠোর নজরদারিতে রাখতে সংশ্লিষ্টদের

মানবাধিকারের প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নবীন পুলিশ সদস্যদের সততা, পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার

প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীতে ৬টি প্রকল্প উদ্বোধন ও ১৬টির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৭শ’ কোটি টাকা ব্যয়সম্বলিত ৬টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন

নির্বাচনে ধূমপান নিয়ন্ত্রণে নির্দেশনা দিতে পারে ইসি -শ্রম প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

যে কোন পর্যায়ের নির্বাচন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে জাতীয় সংসদ

sangbad ad