• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯

 

আটচল্লিশ বছরেও হলো না মুক্তিযোদ্ধার সঠিক তালিকা

নিউজ আপলোড : ঢাকা , সোমবার, ০২ ডিসেম্বর ২০১৯

সংবাদ :
  • ইমদাদুল হাসান রাতুল
image

মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা লাভের পর ৪৮ বছর পেরিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু জাতির বীর সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারিত হয়নি। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে কিংবা কমেছে তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত ৫ তালিকায় সচিব থেকে সাধারণ মানুষ যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়নি এমন অনেকে ভুয়া সনদপত্র নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ে সরকারের সুযোগ সুবিধা নিচ্ছে। বয়স ও সংজ্ঞাসহ নানা কারণে বেশ কয়েকবার চেষ্টার পরও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করতে পারেনি সরকার। এতদিনেও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা চূড়ান্ত না হওয়ার বিষয়টি জাতির জন্য লজ্জাজনক বলে মনে করছেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধ সংশ্লিষ্ট বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তারা বলছেন, সৎ সাহসের অভাব ও রাজনৈতিক কারণে ঝুলে আছে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়নের বিষয়টি। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সঠিক তালিকা আদৌ প্রকাশিত হবে কিনা, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন তারা। তবে তাদের একান্ত আকাক্সক্ষা সঠিক ও যথার্থ তালিকা প্রণয়ন করে মুক্তিযোদ্ধা তালিকা নিয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তি নিরসন করা হোক।

এদিকে, আশার বাণী দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী বলছেন, আসন্ন বিজয় দিবসে মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করা হবে।

বিভিন্ন সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধা তালিকা প্রকাশ করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনটি শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি। বারবারই এই তালিকায় পরিবর্তন এসেছে। বর্তমান সরকার প্রায় ১১ বছর ধরে ক্ষমতায় আছে। এই সরকারও প্রকৃত তালিকা প্রকাশ করতে পারেনি। কেননা প্রকাশিত একবারের তালিকায় খোদ সচিবদের ভুয়া সনদ নেয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সরকার হিসেবে পরিচিত বর্তমান সরকার তালিকা প্রকাশ করতে না পারায় হতাশ মুক্তিযোদ্ধারা।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মতিয়ার রহমান সংবাদকে বলেন, সর্বশেষ এক লাখ ৯০ হাজার জন মুক্তিযোদ্ধার জন্য ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদির টাকা বরাদ্ধ করা হয়েছে। সেই হিসেবে এটাই বর্তমান মুক্তিযোদ্ধার তালিকা। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছিলেন গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা দুই লাখ ৩৫ হাজার ৪৬৭ জন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপসচিব বলেন, ‘এদের অনেকের নামে অভিযোগ রয়েছে। অনেকেই ভাতা নেন না। আবার অনেকেই বিদেশে থাকেন।’

তথ্যমতে, মুক্তিযোদ্ধা ট্রাস্ট প্রণীত তালিকায় ভারতে ট্রেনিংপ্রাপ্ত সাধারণ মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল ৬৯ হাজার ৫০৯ জন। এরশাদের শাসনামলে ’৯৬ সালে প্রণীত প্রথম সম্মিলিত তালিকায় মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা এক লাখ দুই হাজার ৪৫৮ জন। ১৯৯৩-৯৪ সালে বিএনপি সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের নির্বাচনের জন্য প্রণীত তালিকায় মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা প্রায় ৮৮ হাজার। ১৯৯৭-২০০০ সালে প্রণীত মুক্তিযোদ্ধা সংসদের লাল বই তালিকায় মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা এক লাখ ৫৪ হাজার। ২০০২ সালে জোট সরকারের গঠিত জাতীয় কমিটির অনুমোদিত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল দুই লাখ ১০ হাজার ৫৮১ জন। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ২০০৯ সালে তালিকা সংশোধন শুরু করে ২০১২ সালে দুই লাখ ৯ হাজার জনের নাম দিয়ে একটি তালিকা প্রকাশ করে। পরে বিভিন্ন সময়ে সচিব ও সরকারি কর্মকর্তাদের ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ পাওয়ায় আবারও তালিকা হালনাগাদের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ২০১৪ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত আবারও গেজেটভুক্তির আবেদন করতে বলা হয়। তালিকাভুক্তির জন্য আবেদন করেন এক লাখ ৩৬ হাজার। ২০১৪ সালের ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে তালিকা প্রকাশের কথা বলেছিলেন মন্ত্রী। তা না হওয়ায় ২০১৫ সালের স¦াধীনতা দিবসে তা প্রকাশের কথা বলেন মন্ত্রী। কিন্তু আইনি জটিলতার কারণে চলতি বছরের বিজয় দিবসেও তা সম্ভব হয়নি।

মুক্তিযোদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধ জাদঘরের ট্রাস্টি ডা. সারোয়ার আলী সংবাদকে বলেন, স্বাধীনতার ৪৮ বছরে ৫টি তালিকা হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই অমুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধা হয়েছে। সুযোগ-সুবিধার জন্য দুর্নীতি করে সচিবকেও সনদ নিতে দেখা গেছে। অনেকেই ভাতার জন্য ভুয়া সনদ নিয়েছেন। আসলে পুরো বিষয়টি বেশ বিরক্তিকর। এত দিনেও তালিকা করতে না পারা সত্যিই জাতির জন্য বেশ লজ্জাকর।

সাবেক সেনা প্রধান লে. জে. (অব) হারুন-অর-রশীদ সংবাদকে বলেন, ‘সৎ উদ্দেশ্য নেই বলেই দীর্ঘদিনেও তালিকা চূড়ান্ত হচ্ছে না। সৎ সাহস থাকলে এতোদিনে ঠিকই তালিকা হতো। সংজ্ঞা এখনও নির্ধারণ হয়নি। পুরো বিষয়টা নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে।’

সেক্টর কমান্ডার ফোরামের চেয়ারম্যান মে. জে. (অব) কেএম শফিউল্লাহ সংবাদকে বলেন, তালিকা বেশ কয়েকবার হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই পরিবর্তন হচ্ছে। এখন সময় এসছে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের। যেভাবেই হোক মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা প্রণয়ন করা অত্যন্ত জরুরি।

মুক্তিযুদ্ধ গবেষক মেজর (অব) সামছুল আরেফিন সংবাদকে বলেন, মুক্তিযোদ্ধার তালিকা করার আগে এর সংজ্ঞা নির্ধারণ করতে হবে। সশস্ত্র ও সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা এক নয়। অনেকেই আবার রাজনৈতিকভাবে মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতা করেছেন। স্বাধীনতা সংগ্রাম ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ দুটি ভিন্ন বিষয়। তাই সরকারকে আগে নির্ধারণ করতে হবে কাকে মুক্তিযোদ্ধা বানাবেন, কাকে সহযোগী বানাবেন। কিংবা সবাইকেই কি মুক্তিযোদ্ধা বানাবেন কিনা।

তিনি বলেন, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার তালিকা তো বেশ কয়েকবার প্রকাশিত হলো। কিন্তু কোনটিই টিকল না। এই তালিকা আদৌ প্রকাশ হবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ তো রয়েছেই। তবে সঙ্গা নির্ধারণ করতে পারলে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রকাশ কঠিন হবে না বলেই মনে করেন তিনি।

প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রকাশ বেশ কষ্টসাধ্য বলে মনে করেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির। তিনি সংবাদকে বলেন, ’৭৫ পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিন স্বাধীনতার বিরোধী শক্তিরা ক্ষমতায় ছিল। তারা এই তালিকায় অনেক রাজাকারদের স্থান দিয়েছে। বর্তমান সময়েও অনেক রাজাকার এই তালিকায় ডুকেছে। তাই যাচাই-বাচাই শেষে নির্ভুল তালিকা করা বেশ কষ্টসাধ্য। তিনি বলেন, ‘মনে করেন তালিকা চূড়ান্ত করা হলো এবং মুক্তিযোদ্ধা অন্তর্ভুক্তি বন্ধ করে দিল। কিন্তু কোন এক মুক্তিযোদ্ধা বিদেশে রয়েছেন এবং তিনি তালিকাভুক্ত হননি, কিছুদিন পর এসে তিনি যখন তালিকাভুক্ত হতে চাইবেন তখন কি হবে।’

বেশ কয়েকবার চেষ্টার পরও মুক্তিযোদ্ধার তালিকা চূড়ান্ত করতে পারেননি দীর্ঘদিন ধরে একই দায়িত্ব পালন করা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। ইতিপূর্বে সংবাদকে একাধিকবার দ্রুতই তালিকা প্রকাশ করার কথা জানিয়েছিলেন মন্ত্রী। এবারও একই কথা বললেন, চেষ্টা চলছে, দ্রুতই হবে। তিনি এবারও আশা প্রকাশ করে বলেন , আসন্ন বিজয় দিবসের মধ্যেই এই তালিকা প্রকাশ হবে। তালিকা প্রকাশে বিলম্বেও কারন হিসেবে আইনি, সঙ্গা ও যাচাই-বাছাই কমিটির বিষয়টিও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তালিকায় সচিবসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ ভুয়া সনদ নিয়েছেন। তাদের সনদ বাতিলও হয়েছে। কিন্তু সনদ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত তারা বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা নিয়েছে। এ বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তাদের দেয়া বেতন-ভাতা ফেরত নেয়া হয়নি। কিংবা এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

দুটি লক্ষ্য-রাজাকার মুক্ত বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা : একান্ত সাক্ষাৎকারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

আমাদের সামনে দুটি লক্ষ্য- রাজাকার মুক্ত বাংলাদেশ গড়া। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করা।

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে : মৎস ও প্রাণীসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান খসরু বলেছেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ

ইইডি’র ত্রিমুখী দ্বন্ধে বাধাঁগ্রস্থ ২ ডজন প্রকল্প

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

প্রকৌশলী, কর্মকর্তা এবং ঠিকাদারদের দ্বন্ধে স্থবির হয়ে পরছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর (ইইডি)। প্রধান প্রকৌশলীর (অতিরিক্ত দায়িত্ব)

sangbad ad

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে তুরস্ক বাংলাদেশের পাশে থাকবে : স্পিকারকে তুরস্কের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাতে বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত দেভরিম ওজতুর্ক বলেছেন, ঐতিহাসিকভাবে

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এখন দিনে সরকারি আর রাতে বেসরকারি চরিত্র ধারণ করেছে

প্রতিনিধি, ঢাবি

image

দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সান্ধ্যকালীন কোর্সে ভর্তি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে রাষ্ট্রপতি ও ঢাকা

উগ্রবাদীরা যাতে বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করতে না পারে সেজন্য সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান স্পিকারের

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উগ্রবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। উগ্রবাদীরা

বিজয় দিবসের পর থেকে ‘বাংলাদেশ সচিবালয়’ ঘিরে ‘নিরব এলাকায়’ পরিণত হচ্ছে

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

বিজয় দিবসের পরদিন ১৭ ডিসেম্বর থেকে ‘বাংলাদেশ সচিবালয়’ ঘিরে পল্টন

বিজয় দিবসের পর থেকে ‘বাংলাদেশ সচিবালয়’ এলাকা ‘নিরব এলাকায়’ পরিণত হচ্ছে

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

বিজয় দিবসের পরদিন ১৭ ডিসেম্বর থেকে ‘বাংলাদেশ সচিবালয়’ ঘিরে পল্টন

এনার্জি বাংলার নতুন কলেবরে অনলাইন পোর্টাল এবং বের করা হচ্ছে প্রিন্ট ভার্সন

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

বিদ্যুৎ-জ্বালানি বিষয়ক অনলাইন পোর্টাল ‘এনার্জি বাংলা’ নতুন কলেবরে বাজারে এসেছে। অনলাইনের পাশাপাশি পাক্ষিক এনার্জি বাংলার ‘প্রিন্ট ভার্সন’

sangbad ad