• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , সোমবার, ২১ আগস্ট ২০১৭

 

বিশ্বজিৎ হত্যাকারীদের ৮ জনের মধ্যে মাত্র ২ জনের ফাঁসির রায় বহাল

নিউজ আপলোড : ঢাকা , রবিবার, ০৬ আগস্ট ২০১৭

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
image

পুরান ঢাকায় কাপড়ের দোকানের দর্জি বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ৮ আসামির মধ্যে দু’জনের ফাঁসির রায় বহাল রেখেছে উচ্চ আদালত। ফাঁসির সাজা পাওয়া ৮ জনের মধ্যে ফাঁসির পরিবর্তে ৪ জনের যাবজ্জীবন এবং দু’জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। অন্যদিকে যাবজ্জীবন পাওয়া ১৩ আসামির মধ্যে আপিল করে খালাস পেয়েছেন দু’জন। ফাঁসির দণ্ডাদেশ পাওয়া দু’জন হলেন- রফিকুল ইসলাম শাকিল ও রাজন তালুকদার। বিশ্বজিৎ হত্যা মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের ওপর বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। তবে আগের রায়ে যাবজ্জীবন পাওয়া ১৩ জনের মধ্যে ১১ জন এখনও পলাতক রয়েছে।

রায় ঘোষণার পর পর্যবেক্ষণে বিশ্বজিৎ হত্যা মামলায় দায়ের করা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সঠিক ছিল না উল্লেখ করে আদালত বলেছেন, সেখানে ধারণ করা ভিডিও ফুটেজের সঙ্গে ময়নাতদন্তের কোন মিল নেই। আদালত এই মামলায় টিভি ফুটেজ, স্টিল ফটোগ্রাফ পেপার কাটিংয়ের মতো জিনিসগুলোকে দালিলিক প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। মামলার তদন্তে কোন গাফিলতি ছিল কিনা এবং ময়নাতদন্তে কোন গাফিলতি ছিল না কিনা তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের আইজি এবং স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালককে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এদিকে রায়ের পর বিশ্বজিতের বাবা অনন্ত কুমার দাস বলেন, ‘আমরা কী যে দুঃখ পেয়েছি, তা বলার মতো না। আটজন মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামির মধ্যে দু’জন খালাস পেল! তা কী করে হয়,’ প্রশ্ন রেখেছেন তার ভাই উত্তম কুমার দাস।

এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করা ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নজিবুর রহমান রায়ের পর সাংবাদিকদের বলেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত তারা পূর্ণাঙ্গ রায় দেখার পর নেবেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পলাতক যে ১১ আসামির বিষয়ে হাইকোর্ট রায়ে কোন মন্তব্য করেনি, গ্রেফতার হলে বা আত্মসমর্পণ করলে তাদের বিষয়ে পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।

২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর সকালে পথচারী বিশ্বজিৎ দাসকে বাহাদুর শাহ পার্কের কাছে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২০১৩ সালের ৫ মার্চ ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বিশ্বজিৎ হত্যা মামলায় ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর রায় দেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪। ২১ আসামির মধ্যে ৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। আসামিদের সবাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন। ২০১৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের করা আপিল শুনানির জন্য পেপারবুক প্রস্তুত হয়। ২১ আসামির মধ্যে আটজন কারাগারে এবং বাকিরা পলাতক। বিশ্বজিৎ হত্যা মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। পরে শুনানি শুরু হয়। আগের দেয়া রায়ে রফিকুল ইসলাম শাকিল, মাহফুজুর রহমান নাহিদ, এমদাদুল হক এমদাদ, জিএম রাশেদুজ্জামান শাওন, সাইফুল ইসলাম, কাইয়ুম মিঞা, রাজন তালুকদার ও মীর নূরে আলম লিমনকে ফাঁসির সাজা দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে শেষ দু’জন পলাতক রয়েছেন। আর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া ১৩ জন হলো- গোলাম মোস্তফা, এএইচএম কিবরিয়া, ইউনুস আলী, তারিক বিন জোহর তমাল, আলাউদ্দিন, ওবায়দুর কাদের তাহসিন, ইমরান হোসেন, আজিজুর রহমান, আল-আমিন, রফিকুল ইসলাম, মনিরুল হক পাভেল, কামরুল হাসান ও মোশাররফ হোসেন। এদের মধ্যে মোস্তফা ও কিবরিয়া ছাড়া বাকি ১১ জন পলাতক। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক। এছাড়া বেআইনি সমাবেশের আরেকটি ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই ১৩ জনকে ছয় মাস করে কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। গ্রেফতারের দিন থেকে তাদের দণ্ড কার্যকর শুরু হওয়ার কথা বলা হয়েছিল।

হাইকোর্টের রায়ে খালাসপ্রাপ্ত সাইফুল, কাইয়ুম এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শাকিলের আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণ হয়নি বলেই আদালত সাইফুল ও কাইয়ুমকে খালাস দিয়েছে। এ মামলায় চাক্ষুস কোন সাক্ষী নেই। ভিডিও ফুটেজের ওপর ভিত্তি করে সাজা দেয়া হয়েছে। রফিকুল ইসলাম শাকিল সেদিন বিশ্বজিৎকে ধাওয়া করেছিলেন। তিনি এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।

খালাস পাওয়া মোস্তফার আইনজীবী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম সবুজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিচারিক আদালত অন্য এক অভিযুক্তের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে যাবজ্জীবন দিয়েছিল। হাইকোর্টে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হয়নি। ফলে তাকে খালাস দেয়া হয়েছে, আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি।

তদন্তে ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে গাফিলতি ছিল! হাইকোর্টের রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ‘বর্তমানে ছাত্রনেতারা হলের রুম পর্যন্ত ভাড়া দেয়। তারা দলীয় স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে। রায়ে বলা হয়, ‘এটা পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড না হলেও আসামিদের সম্মিলিত হামলার ফলেই বিশ্বজিতের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে ‘গাফিলতির’ কারণে নিম্ন আদালতের দেয়া সাজা হাইকোর্টে এসে কমে গেছে। সুরতহাল ও ময়নাতদন্তে আঘাতের যে বর্ণনা দেয়া হয়েছে, তার সঙ্গে আসামিদের জবানবন্দি ও সাক্ষীদের বর্ণনার মিল পায়নি আদালত।

বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার রায় ঘোষণাকালে আদালত বলেন, নিঃসন্দেহে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। টিভি ফুটেজ, স্টিল ফটো, পেপার কাটিং ও সাক্ষ্য প্রমাণগুলো প্রত্যক্ষ সাক্ষীর জবানবন্দি থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে যে রিকশাওয়ালা বিশ্বজিৎকে হাসপাতালে নিয়েছিলেন তার কথা উল্লেখ করে আদালত বলেন, হত্যার মুহূর্তে বিশ্বজিৎ ছিল ‘ডিফেন্সলেস আনপ্রোটেকটেড’ এবং তাকে দিনের আলোতে খুন করা হয়। হত্যা দৃশ্যের ভিডিও ফুটেজের সঙ্গে সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের মিল না থাকায় সুরতহালের সঙ্গে সূত্রাপুর থানার সংশ্লিষ্ট এসআই জাহিদুর রহমানের দায়িত্বে অবহেলা ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের আইজিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ময়নাতদন্তের সঙ্গে সম্পৃক্ত ডাক্তারের দায়িত্বে অবহেলা ছিল কিনা তাও খতিয়ে দেখতে স্বাস্থ্যসচিব ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আদালত এবিষয়ে ফলোআপ করতে আইনজীবী মনজিল মোরসেদকে দায়িত্ব দিয়েছেন।

রায়ের পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মনিরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ছাত্র রাজনীতির ব্যাপারে কোন দলের কথা উল্লেখ না করে আদালত বলেছেন, ‘ছাত্ররা যাতে কোন দলের দ্বারা ব্যবহৃত না হয়। তাদের কর্মকাণ্ড আরও পরিশীলিত হওয়া উচিত। আদালত এই মামলায় দেখতে পান যে, পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদন এবং ডাক্তার যে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন করেছেন তার সঙ্গে ঘটনার সময়ে করা ভিডিও ফুটেজের মিল নেই। আদালত ভিডিও ফুটেজ ও বিভিন্ন সাক্ষ্য দ্বারা বিশ্বজিতের শরীরে একাধিক আঘাত এর কথা শুনলেও মামলার বিচারিক নথি হিসেবে দায়ের করা সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে এত আঘাতের উল্লেখ নেই। ফলে তাদের দায়িত্বে কোন অবহেলা হয়েছে কিনা তদন্ত করতে বলা হয়েছে।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মনিরুজ্জামান জানান বলেন, বিশ্বজিতের লাশের সুরতহাল করার ক্ষেত্রে সূত্রাপুর থানার এসআই জাহিদুল হকের দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না- তা তদন্ত করে আইজিপিকে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আর ময়নাতদন্ত করার ক্ষেত্রে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ডা. মাহফুজুর রহমানের কোনো গাফিলতি ছিল কি না- তা তদন্ত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ডেন্টাল কাউন্সিলকে প্রতিবেদন দিতে বলেছে হাই কোর্ট। এই আদেশ ঠিকমত বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না- সে বিষয়ে মানবাধিকার বিষয়ে অভিজ্ঞ আইনজীবী মনজিল মোরসেদকে সময়ে সময়ে আদালতে জানাতে বলা হয়েছে।

সৌদি কর্মকর্তা খালাফ হত্যা মামলার রায় ১০ অক্টোবর

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

ঢাকাস্থ সৌদি দূতাবাসের কর্মকর্তা খালাফ আল আলী হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে

জিয়া ট্রাস্ট মামলায় খালেদার আদালত বদলের আবেদনের আদেশ রোববার

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আদালত পরিবর্তন চেয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার...

মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি আবদুস সুবহানের আপিল শুনানির দিন ধার্য হবে আগামিকাল

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

আগামিকাল কার্যতালিকার তিন নম্বর ক্রমিকে সুবহানের মামলা রয়েছে। তার আপিলের ওপর...

sangbad ad

ষোড়শ সংশোধনী ছিল বিচারকদের উপর বিষফোঁড়া

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

ষোড়শ সংশোধনী ছিল বিচারকদের উপর একটি বিষফোঁড়া। সেটা আপিল বিভাগ...

ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদার জামিন

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় স্থায়ী জামিন দিয়েছেন

ঢাবি অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেনের বরখস্তের আদেশ অবৈধ : হাইকোর্ট

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

রিটের পক্ষে আইনজীবী সাংবাদিকদের জানান, ড. শাহাদৎ হোসাইনকে বরখাস্তের...

সিনিয়র সহকারী জজ হলেন ১১২ জন

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

আইন ও বিচার বিভাগ সুপ্রিম কোর্টের সাথে পরামর্শক্রমে জুডিশিয়াল সার্ভিসের...

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও আ্যাটর্নি জেনারেল মহাবুব আলমের বক্তব্যে দুঃখ প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নেতারা

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

অধঃস্তন (নিম্ন) আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধামালা ও ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল...

পদ্মাসেতু নির্মাণ চুক্তি ও দুর্নীতি নিয়ে মিথ্যা গল্প সৃষ্ঠিকারীদের ধরতে কেন কমিটি গঠন করা হবেনা প্রশ্ন হাইকোর্টের

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

পদ্মাসেতু নির্মাণ চুক্তি ও দুর্নীতি নিয়ে মিথ্যা গল্প সৃষ্টির পেছনে প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করতে...

sangbad ad