• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , মঙ্গলবার, ২২ জানুয়ারী ২০১৯

 

জামায়াত নিষিদ্ধের উদ্যোগ

নিউজ আপলোড : ঢাকা , বুধবার, ০৯ জানুয়ারী ২০১৯

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
image

জামায়াতে ইসলামীসহ যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত সব সংগঠনের বিচারে ফের আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। বিভিন্ন মহলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে বেছে নেয়া হলেও এই আইনে দল বা সংগঠনের মানবতাবিরোধী অপরাধের শাস্তির ব্যাপারে কিছু বলা নেই। এজন্য আইনটি সংশোধন করেই জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আইন মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, গত সরকারের সময় সংশোধনী এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের খসড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু আইনের কিছু বিষয়ে আরও সংশোধনী আনার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠানো হয়। এরপর থেকে বিষয়টি ঝুলে আছে। আবারও সংশোধন খসড়া চূড়ান্ত করতে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। সংশোধন করে শীঘ্রই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে। মন্ত্রিসভায় উত্থাপিত হলে তা অনুমোদনের পর জাতীয় সংসদে পাঠানো হবে। সংসদ সংশোধনী পাস করলে ট্রাইব্যুনালে জামায়াতের বিচারে আইনগত কোন বাধা থাকবে না বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা। এ বিষয়ে অগ্রগতি জানতে চাওয়া হলে বুধবার (৯ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, জামায়াতে ইসলামীর বিচার শুরুর জন্য ফের আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

একাত্তরের বাংলাদেশের স্বাধীনতার আন্দোলন যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, তখন ১১ দফাসহ বিভিন্ন দাবির বিরোধিতা করে জামায়াত। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সহায়তা করতে রাজাকার, আলবদর, আলশামস্ নামে বিভিন্ন দল গঠন করে জামায়াত ও এর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘ। যুদ্ধকালীন সময় সাংগঠনিকভাবে তারা সারা দেশে ব্যাপক হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাটের মতো যুদ্ধাপরাধে লিপ্ত হয়। সেই অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে এই পর্যন্ত জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, দলটির প্রধান অর্থদাতা হিসেবে পরিচিত মীর কাশেম আলী, বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীসহ সংগঠনটির সাত শীর্ষ নেতার সাজা হয়েছে। ইতোমধ্যে ছয়জনের মৃত্যুদ- কার্যকর করা হয়েছে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে। শীর্ষ রাজাকার যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের আমির গোলাম আযমের মামলার রায়ে জামায়াতকে একটি ‘ক্রিমিনাল সংগঠন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ওই রায়ে বলা হয়, ‘জামায়াত একটি অপরাধী সংগঠন। একাত্তরে তাদের ভূমিকা ছিল দেশের স্বার্থের পরিপন্থী।’ দেশের কোন সংস্থার শীর্ষপদে স্বাধীনতাবিরোধীদের থাকা উচিত নয় বলে রায়ে বলা হয়। এছাড়াও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রায় প্রতিটি রায়ের পর্যবেক্ষণেই জামায়াতকে সন্ত্রাসী সংগঠন (ক্রিমিনাল অর্গানাইজেশন) হিসেবে উল্লেখ করেছে। ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন সাজার আদেশ হলে যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে শাহবাগে গড়ে ওঠে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন। তাদের সাত দফা দাবির মধ্যে জামায়াতসহ যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত দলগুলোর রাজনীতি নিষিদ্ধ করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। বিভিন্ন মহল থেকে বারবার উচ্চারিত হয় যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত এই দলটিকে নিষিদ্ধের দাবি। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটিসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারসহ যুদ্ধপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকা সংগঠনগুলো নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি বিচারের দাবিও ওঠে। পরবর্তীতে এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ২০১৩ সালের ১ আগস্ট জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করলে দলটির নির্বাচনে অংশ নেয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। এর পাঁচ বছর পর গত বছরের অক্টোবরে নিবন্ধন বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর আগে পাকিস্তানে দু’বার এবং ভারতে চারবার সাময়িক নিষিদ্ধ হয় জামায়াত। বাংলাদেশে ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত নিষিদ্ধ ছিল জামায়াত। সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর জামায়াত আবার রাজনীতির সুযোগ পায়। ১৯৮৬ সালে প্রথম বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয় জামায়াত। বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে দলটির নিবন্ধন না থাকলেও সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের ২৫ জন প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করে। তবে তাদের মধ্যে কেউ জিততে পারেনি।

জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হলেও একাত্তরের ভূমিকায় সংগঠনটির বিচারের দাবি পূরণ হয়নি এখনও। এ ব্যাপারে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা দীর্ঘদিন ধরে জোরালো দাবি জানিয়ে আসছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সংগঠন হিসেবে জামায়াতকে বিচারের সম্মুখীন করতে প্রয়োজনীয় নথিসহ একটি তদন্ত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের কাছে ২০১৪ সালের ২৭ মার্চ দাখিল করে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) দাখিলের জন্য ওই তদন্ত প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই করার কাজও শুরু করে প্রসিকিউশন। কিন্তু ওই বছর ২৯ মে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালের বিদ্যমান আইনে সংগঠনের বিচার ও শাস্তির বিধান নেই।’ তখন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা আইন সংশোধন করতে যাচ্ছে। এ সংশোধনীর পরই বলা যাবে কোন প্রক্রিয়ায় বিচার হবে।

পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়। সরকার এরপর আইনের ওই সংশোধনী সংসদে তোলার বিষয়ে কয়েক দফা প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু বিচারের মুখোমুখি করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালস আইন ১৯৭৩-এর সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত থাকলেও তা মন্ত্রিসভায় ওঠেনি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ওই সময় বলেছিলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদনটি যাচাই-বাছাই শুরু করার দুই মাস পর জামায়াতের বিচার বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন সংশোধনের বিষয়টি ওঠে। সে অনুসারে আইনটির খসড়াও করা হয়। কিন্তু এত দিনেও আইনটি কেন অনুমোদন হচ্ছে না, এটি আমার কাছে বোধগম্য নয়।’

আইনের খসড়াটি মন্ত্রিসভায় উত্থাপনের ক্ষেত্রে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পরিবারের সদস্যসহ অনেকেই। এ নিয়ে বিভিন্ন মহল ক্ষোভ জানিয়ে আসছে, এটি দ্রুত হওয়া দরকার বলে দাবি করে আসছেন। এ বিষয়ে আইনজ্ঞরাও প্রশ্ন তুলছেন, অনেক আইন রাতারাতি সংশোধন করা হচ্ছে। অথচ জামায়াতের বিচারে আইনের সংশোধনী আটকে আছে। জামায়াত যে একটি অপরাধী সংগঠন এটি ট্রাইব্যুনালের অনেক রায়ে উঠে এসেছে। জামায়াতকে নির্বাহী আদেশেও নিষিদ্ধ করা সম্ভব। এছাড়া বিদ্যমান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে ব্যক্তির বিচারের কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে সংগঠনের নেই। সেখানে অর্গানাইজেশন বা সংগঠন শব্দটি সংযোজন করলে বিদ্যমান আইনের মাধ্যমেই অভিযুক্ত ব্যক্তির পাশাপাশি কোন সংগঠন বা দলেরও বিচার করা সম্ভব হবে। বিশিষ্টজনরা বলছেন, স্বাধীনতাবিরোধী সংগঠনগুলোর বিচারে বর্তমান সরকারের ওপর জাতির অগাধ আস্থা রয়েছে। এখনই উপযুক্ত সময়। যত দ্রুত সম্ভব আইন সংশোধন করে জামায়াতের পাশাপাশি আলবদর, আলশামসসহ সংশ্লিষ্টদের বিচারের মুখোমুখি করা সরকারের উচিত।

এ বিষয়ে বুধবার আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, আমরা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধন তৈরি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ লেজিসলেটিভ ভাষা আবারও একটু ইয়ে করার জন্য বলেছে, আইনটি আমাদের কাছে আছে। আমরা চেষ্টা করব, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা নিয়ে আবারও আইনটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়ে দেব, যাতে এটা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়। আইনমন্ত্রী আরও বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের বিচার করা যায় কি না, সে জন্যই এই আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। তিনটি রায়ে দেখা গেছে যে জামায়াত দল হিসেবে যুদ্ধাপরাধে জড়িত। তাদের বিচারের জন্য দাবি উঠেছে। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আমি বলেছিলাম যে বিদ্যমান আইনে বিচার করা যায় না, তাই সংশোধন প্রয়োজন।

হাইকোর্টের রুল গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির ঘোষনা অবৈধ

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের টিআরসি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গ্যাসের উৎপাদন, সঞ্চালন

শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার মামলায় আসামিদের আপিলের ওপর শুনানি শুরু করেছেন হাইকোর্ট

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত

১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা শুনানিতে বিব্রত হাইকোর্ট বেঞ্চ

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

আলোচিত ১০ ট্র্রাক অস্ত্র আটকের ঘটনার মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিদের ডেথ রেফারেন্স

sangbad ad

হাইকোর্টের আদেশ বহাল ডাকসু নির্বাচনে আর বাধা নেই

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের বিষয়ে হাইকোর্টের দেয়া

মামলা জট কমাতে আপিল বিভাগের বেঞ্চ পুনর্গঠন

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দুটি বেঞ্চ গঠন করে দিয়েছেন প্রধান

ভিকারুননিসার শিক্ষক হাসনা হেনার জামিনে মুক্তি পেলেন

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাতী শাখার শিক্ষক হাসনা হেনা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। সোমবার

ভিকারুননিসার শিক্ষিকা হাসনা হেনার জামিন

আদালত বার্তা পরিবেশক

image

ছাত্রী আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয়ার মামলায় ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষিকা

আদালতের রায়ে নির্বাচনের পথ বন্ধ দুই ডজনের বেশি নেতার

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

দুই বছরের বেশি দণ্ডপ্রাপ্ত হলে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ

নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না খালেদা জিয়া

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

উচ্চ আদালতের এক আদেশে দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক

sangbad ad