• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮

 

ট্রাম্প-কিম শীর্ষ বৈঠকে চুক্তি স্বাক্ষর

পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে ঐকমত্য

কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি স্থাপন, নতুন সম্পর্কের লক্ষ্যে সহযোগিতা

নিউজ আপলোড : ঢাকা , বুধবার, ১৩ জুন ২০১৮

সংবাদ :
  • নাসরিন শওকত
image

নাটকীয়তা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে তিন মাসের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফল হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন মঙ্গলবার (১২ জুন) বৈঠক করেছেন। সেই ১৯৪৫ সাল থেকে শুরু হওয়া ওয়াশিংট-পিয়ংইয়ং কূটনৈতিক টানা পড়েনের পর যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ দুই নেতার এটাই প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। সিঙ্গাপুরের অবকাশযাপন দ্বীপ সেন্তোসার বিলাসবহুল কাপেলা হোটেলে স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে এ ঐতিহাসিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ শীর্ষ বৈঠকে কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি স্থাপনের লক্ষ্যে উত্তর কোরিয়াকে পুরোপুরি পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে একসঙ্গে কাজ শুরুর অঙ্গীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়া। নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য সহযোগিতা করাসহ উত্তর কোরিয়াকে নিরাপত্তার গ্যারান্টি দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দেয় একে অন্যকে। এ দুই শীর্ষ নেতার বৈঠকের পর এ সংক্রান্ত একটি নথিতে স্বাক্ষর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও উত্তর কোরীয় নেতা কিম। প্রথম পর্বের একান্ত বৈঠকের পর ট্রাম্প নিজেই সাংবাদিকদের ঐতিহাসিক সমঝোতার আভাস দেন। এদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস যুক্তরাষ্ট্র এবং উত্তর কোরিয়ার মধ্যকার বৈঠককে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তার জন্য এ বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ সময় তিনি নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে জাতিসংঘ সাহায্য করতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া এক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, এর মধ্য দিয়ে শীতলযুদ্ধ যুগের শেষ সংঘাতের অবসান হলো। একইসঙ্গে রাশিয়া এবং চীনও

এ বৈঠককে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে ট্রাম্প দেশে ফিরে যাওয়ার আগেই এ চুক্তি বাতিল করে দিতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ইরান।

সম্প্রতি শিল্পোন্নত সাত দেশের অর্থনৈতিক জোট জি-৭ এর অংশীদারদের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ, ইরানের সঙ্গে করা পরমাণু সমঝোতা চুক্তি থেকে একতরফাভাবে বেরিয়ে আসা এবং জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে উল্টোপথে হাঁটা ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্ব রাজনীতিতে অনেকটাই একঘরে হয়ে পড়েছে। ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি ৪৫তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেয়ার পর থেকে বিশ্বে প্রতিনিধিত্বকারী দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় বছরে পা রাখা ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্জনের হিসাব এমনটাই। আর তাই ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির ধ্বজাধারী ট্রাম্পের কোণঠাঁসা ইমেজকে বদলাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে তার জাতীয়তাবাদী প্রশাসন। দেশটির পররাষ্ট্রনীতিকে এ জুয়ার টেবিলের শেষ দান হিসেবে বাজি রেখেছে হোয়াইট হাউজ। ট্রাম্পের জাতীয়তাবাদী প্রশাসনের প্রত্যাশা, কথিত কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি স্থাপনের লক্ষ্যে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে উত্তর কোরিয়াকে বাগে আনার লক্ষ্যে ট্রাম্প কিছুটা সফল হলে দেশে ও দেশের বাইরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট কিছুটা হাফ ছেড়ে বাঁচবেন।

কিম জং উনও কম নন। ২০১১ সালে ক্ষমতায় এসে দাদা কিম ইল সাং এবং বাবা কিম জং ইল-এর পথ অনুসরণ করে একনায়ক কিম উন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির মধ্য দিয়ে তার পরমাণু সক্ষমতা অর্জনের অভিলাস জারি রাখেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের আগস্টে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূ-খন্ডে আঘাত হানার উপযোগী একটি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি এবং সেপ্টেম্বরে হাইড্রোজেন বোমা দাবি করা ষষ্ঠ পরমাণু পরীক্ষা চালায় দেশটি। এমন সময়ে ওয়াশিংটন-পিয়ংইয় কূটনৈতিক সম্পর্ক এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছে যে, উত্তর কোরিয়ার একনায়ক কিম ট্রাম্পকে ‘মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত বুড়ো’ বলে উল্লেখ করেন। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে বোমা মেরে আগুনে পুড়িয়ে ট্রাম্পকে পথে বসানোর হুমকি পর্যন্ত দেন তিনি। আত্মপ্রেমী ট্রাম্প এর জবাবে টুইটারে অভিযোগের সুরে বলেন, ‘কিম জং উনকে কি আমি কখনো ‘বেটে আর মোটা’ বলেছি , যে সে আমাকে ‘বুড়ো’ বলে অপমান করল!’ এরই ধারাবাহিকতায় জাতিসংঘে ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘ভীত কুকুরের উচ্চস্বরে চিৎকারের’ সঙ্গেও তুলনা করতে দ্বিধা করেননি কিম। শব্দের এমন আঘাতও পাল্টা আঘাতের জেরে গত সেপ্টেম্বরে কিমকে ‘রকেট মানব’ হিসেবে অভিহিত করেন ট্রাম্প। এর সর্বশেষ পরিণতি হেসেবে উত্তর কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালালে এর প্রতিক্রিয়া হুমকি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘কিমের চেয়েও বড় পারমাণবিক বোতাম তার কাছে রয়েছে।’ তবে মঙ্গলবারের বৈঠকের পরে অনেকটাই পাল্টে গেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উন। এদিন কিমের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন ট্রাম্প। বৈঠক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন উত্তর কোরীয় নেতাকে। বিকেলে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে দেয়া যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প তার প্রশংসা করে বলেন, ‘কিম খুবিই প্রতিভাবান একজন মানুষ। অনেক কম বয়সে তিনি ক্ষমতায় আসেন এবং দেশ পরিচালনা করছেন।’ ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি জানতে পেরেছি যে কিম নিজের দেশকে খুবই ভালোবাসেন।’ কিমের সঙ্গে তার বৈঠক স্বচ্ছ, প্রত্যক্ষ ও সফল ছিল বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। তবে কিম এক প্রতিক্রিয়ায় জানান, ‘এমন অবস্থায় আসা সহজ ছিল না।’ সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বিশ্ব শান্তির জন্য বড় এক ঘটনা ছিল আজকের দিনটি। শব্দের আঘাত ও পাল্টা আঘাত এবং এমন হুমকির মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ের মধ্যস্থতায় হঠাৎ করেই শত্রুভাবাপন্ন দেশ দুটির (যুক্তরাষ্ট্র- উত্তর কোরিয়া) মধ্যে কূটনৈতিক আবহ পাল্টাতে শুরু করে। মুনের উদ্যোগেই গত ফেব্রুয়ারিতে সিউলের শীতকালীন অলিম্পিকে যোগ দেয় পিয়ংইয়ং। এপরই অসামরিকায়ন অঞ্চল পানমুনজায়ে কিম-মুন ঐতিহাসিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরিবর্তিত কূটনীতির অংশ হিসেবে কিমের আমন্ত্রণে পিয়ংইয়ং সফর করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। এ সময়ের মধ্যেই উত্তর কোরিয়া তার প্রধান পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র পুঙ্গ রি ধ্বংস করার পাশাপাশি তিন মার্কিন বন্দীকেও মুক্তি দেয় কিমের দেশ। এমন নানা পদক্ষেপ নেয়ার মধ্য দিয়ে নাটকীয়তার শেষ পরিণতি হলো সিঙ্গাপুরের হোটেল কাপেলায় স্বপ্নাতীত বৈঠকে ট্রাম্প-কিমের মিলন।

মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে করমর্দনের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প ও কিম প্রাথমিক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এরপর শুরু হয় একান্ত বৈঠক। ৩৫ মিনিটের একান্ত বৈঠক শেষে কর্মকর্তাদের নিয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেন দুই নেতা। এতে দুই দেশের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকেন। পরে তারা মধ্যাহ্নভোজও করেন। বৈঠক শেষে ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে একটি চুক্তির দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছে তার দেশ। দিনের শুরুতে দুই নেতার মধ্যে কোনো চুক্তির আগাম আভাস না পাওয়া গেলেও স্থানীয় সময় সাড়ে বেলা ১১টায় দুপুরের খাবারের পরের বিরতির এক পর্যায়ে কিছু সময় কিমের সঙ্গে হোটেলের আঙিনায় হাঁটেন ট্রাম্প। সে সময় তিনি ঘোষণা দেন, দুপুরের পর একটি নথি সই হতে পারে। চুক্তি সই শেষে সাংবাদিকদের সামনে নথি নিয়ে আসেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এরপর বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে চুক্তির বিস্তারিত জানান ট্রাম্প। শীর্ষ এ বৈঠকের মূল বিষয় ছিল,পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ, কোরীয় যুদ্ধের অবসান, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করাসহ দেশটির শীর্ষ নেতা কিমের নিরাপত্তার এবং কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা হ্রাস। দু’দেশের মধ্যে সইকৃত যৌথ ঘোষণার চুক্তিতে বলা হয় - নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য সহযোগিতা করবে দুই দেশ, এবং যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়াকে নিরাপত্তার গ্যারান্টি দেবে। কিম কোরীয় উপদ্বীপকে সম্পূর্ণ রূপে পরমাণু অস্ত্র মুক্ত করার জন্য তার অবিচল এবং দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে কিভাবে তা সম্পন্ন করা হবে সেটি স্পষ্ট করা হয়নি বলে কোন কোন বিশ্লেষক অভিমত জানিয়েছেন। তাদের দাবি মাত্র দেড় পৃষ্ঠার ওই দলিলটি অস্পষ্ট এবং ‘ওর ভেতরে কিছু নেই।’ এর জবাবে পরে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, পরমাণূ অস্ত্র ত্যাগের বিষয়টি যেন যাচাই করে দেখা যায়- তাতে সম্মত হয়েছেন কিম। তবে এ বৈঠকে কোরীয় যুদ্ধের অবসান বা মানবাধিকারের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে আসেনি। এ বৈঠকের পর দক্ষিণ কোরিয়া এক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, এর মধ্যে দিয়ে শীতল যুদ্ধ যুগের শেষ সংঘাতের অবসান হলো। একে আরও স্বাগত জানিয়েছেন রাশিয়া এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, এখন উত্তর কোরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞাগুলো শিথিল করা যেতে পারে। তবে ইরান বলেছে, এমনও হতে পারে যে ট্রাম্প দেশে ফিরে যাবার আগেই এ চুক্তি বাতিল করে দিতে পারেন। পরে যৌথ সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে ট্রাম্প বলেছেন, ‘অত্যন্ত ঘটনাবহুল ২৪ ঘণ্টা পার করলাম আমরা। সত্যি বলতে ঘটনাবহুল তিনটি মাস পার হলো।’ উত্তর কোরিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘অবিশ্বাস্য একটি জায়গা হিসেবে নিজেদের প্রকাশ করার সম্ভাবনা আছে তাদের।’

যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে : পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের যৌথ ঘোষণায় সই : ঐতিহাসিক এ বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ। দু’দেশের মধ্যে মতভেদ সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে পরিপূর্ণ, যাচাইযোগ্য ও অপরিবর্তনীয় পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের (সিভিআইডি) যুক্তরাষ্ট্রের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বৈঠকের দুটি পর্ব শেষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও কিম উন একটি যৌথ ঘোষণায় সই করেছেন। উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্বাক্ষরিত ওই যৌথ ঘোষণায় কোরীয় উপদ্বীপকে সম্পূর্ণভাবে পারমাণবিক নিরন্ত্রীকরণের কথা বলা হয়েছে। এজন্য উভয় দেশ কাজ করবে বলে আছে ওই ঘোষণায়। তবে বিশ্লেষকদের দাবি, যৌথ এ ঘোষণায় তেমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু নেই। সমঝোতামূলক এ চুক্তি সই শেষে সাংবাদিকদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে আসেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেখান থেকেই ছবি তোলেন সাংবাদিকরা। ওই ছবি থেকে সমঝোতার ৪টি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও দ্য গার্ডিয়ান।

সেগুলো হলো : ১ যুক্তরাষ্ট্র ও ডিপিআরকে (ডেমোক্র্যাটিক পিপলস রিপাবলিক অফ কোরিয়া) শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য দুই দেশের জনগণের আকাক্সক্ষানুযায়ী ইউএস-ডিপিআরকে নতুন সম্পর্কের সূচনা করবে।

২. কোরীয় উপদ্বীপে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করবে দুই দেশ।

৩. গত ২৭ এপ্রিলের পানমুনজাম ঘোষণা অনুযায়ী, কোরীয় উপদ্বীপকে পুরোপুরি পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার লক্ষ্যে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের প্রক্রিয়া শুরু করবে দুই দেশ।

৪. যুদ্ধবন্দীদের উদ্ধারের অঙ্গীকার করেছে উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। ইতোমধ্যে যাদের শনাক্ত করা গেছে তাদের নিজ নিজ দেশে শীঘ্রই প্রত্যাবাসন করারও অঙ্গীকার করেছে তারা।

সইকৃত এ ঘোষণাকে ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ’ এবং ‘যথেষ্ট বড় পরিসরের’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ও ‘চেয়ারম্যান কিম’ এটি স্বাক্ষর করে ‘খুব সম্মানিতবোধ করছেন। এদিকে উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম বলেছেন, ‘আমরা একটি ঐতিহাসিক বৈঠকে মিলিত হয়েছি এবং অতীতকে পেছনে ফেলে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকালে ট্রাম্প-কিম ৩৫ মিনিটের ওই একান্ত বৈঠক শেষে দ্বিতীয় পর্বে দুই দেশের কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন তারা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে একটি চুক্তির দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছে তার দেশ। দিনের শুরুতে দুই নেতার মধ্যে কোন চুক্তির আগাম আভাস না পাওয়া গেলেও স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় দুপুরের খাবারের পরে বিরতির একপর্যায়ে কিছু সময় কিমের সঙ্গে হোটেলের আঙিনায় হাঁটেন ট্রাম্প। সে সময়ই তিনি ঘোষণা দেন, দুপুরের পর একটি নথি সই হতে পারে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া বন্ধের প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের : উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে সিঙ্গাপুরে বৈঠকের পর দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া বন্ধের কিমকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ট্রাম্প। কিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেন, উত্তর কোরিয়ার নেতা ‘একটি বড় ক্ষেপণাস্ত্র ইঞ্জিন পরীক্ষা ক্ষেত্র’ ধ্বংস করতে সম্মতি দিয়েছেন। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়াকে লক্ষ্য করে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া চালানো বন্ধ করবে। এ সময় ট্রাম্প কোরিয়া উপদ্বীপে ওই যৌথ মহড়াকে ‘খুবই উস্কানিমূলক’ এবং ‘ব্যয়বহুল’ বলে বর্ণনা করেছেন তিনি। মঙ্গলবার কিমের সঙ্গে বৈঠকের পর সিঙ্গাপুরে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘ওই যুদ্ধ মহড়া (ওয়ার গেম) খুবই ব্যয়বহুল। এ মহড়া অনুষ্ঠানের জন্য বেশিরভাগ অর্থ আমরাই দিতাম।’ ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে, যেহেতু আমরা আলোচনা করছি...আমার মনে হয় ওই যুদ্ধ মহড়া চালিয়ে যাওয়া ঠিক হবে না।’ একে স্পষ্টতই বড় ধরনের ছাড় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।তবে যৌথ সামরিক মহড়া বন্ধ করার কথা বলে ট্রাম্প আসলে ঠিক কি বোঝাতে চাইছেন সে সম্পর্কে স্পষ্ট করে জানতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। ব্লু হাউজের এক মুখপাত্র বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে আমাদের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্যের যথার্থ অর্থ বা তার আসল উদ্দেশ্য খুঁজে বের করা প্রয়োজন।’

উত্তর কোরিয়াকে চাপে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্র দেশ দক্ষিণ কোরিয়া প্রতিবছরই নিয়মিত এ সামরিক মহড়া অনুষ্ঠান করে আসছে। এ মহাড়কে ‘যুদ্ধের উসকানি’ বলেই মনে করে থাকে পিয়ংইয়ং।

‘নিরাপত্তার বিনিময়ে পরমাণু অস্ত্র ত্যাগ করবেন কিম’ : উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম উনের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক এবং চুক্তি স্বাক্ষরের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তাদের মধ্যে ‘দারুণ ভালো’ আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ার নিরাপত্তার গ্যারান্টির বিনিময়ে কিম জং উন পরমাণু অস্ত্র ত্যাগ করার অঙ্গীকার করেছেন। দুই নেতার স্বাক্ষরিত দলিলে কিম কোরিয়া উপদ্বীপকে পরমাণু অস্ত্র মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে এর পর এক নজিরবিহীন সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প এমন কিছু খুঁটিনাটি প্রকাশ করেন - কাগজপত্রে যার উল্লেখ নেই।

এছাড়াও উত্তর কোরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যখন পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হতে পারবো তখনই উত্তর কোরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হবে।’ ‘আমি প্রকৃতপক্ষেই এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে চাই’ জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, তবে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত না হয়ে এ পদক্ষেপ নিতে চান না তিনি। এসময় মার্কিন সেনাদের প্রত্যাবাসন সম্পর্কে উত্তর কোরিয়ায় যুদ্ধবন্দী মার্কিন সেনাসদস্যদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প বলেন, ‘আজকে এবিষয়ে আমি জিজ্ঞেস করেছি এবং আশানুরূপ উত্তর পেয়েছি। তবে কিমের সঙ্গে ‘অপেক্ষাকৃত সংক্ষেপে ’ মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান মি.ট্রাম্প। তিনি বলেন, স্বাক্ষরিত বিবৃতির শর্ত অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এখনই সেনাবাহিনী সরিয়ে নেবে না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতার মধ্যে অনুষ্ঠিত মঙ্গলবারের এ স্মরনাতীত বৈঠককে ঘিরে আলোচনা ও গণমাধ্যমের বিশ্লেষণের কেন্দ্রবিন্দুুতে ট্রাম্প থাকায় এ বৈঠকের পুরো কৃতিত্বই হয়তো তিনি দাবি করে বসবেন। যেমনটা বৈঠক অনুষ্ঠানের পর দেয়া প্রতিক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, কিম জং-উনের সঙ্গে দেখা করতে সম্মতি হওয়া ছাড়া ‘আমরা আর কোনো কিছুতেই ছাড় দেই নি। ’ তিনি বলেন, ‘ ট্রাম্পকে যারা অপছন্দ করেন তারাও বলবেন, আমরা অনেক বড় প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছি।’ তবে অনেক বিশ্লেষকই মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের একজন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দ্বিপাক্ষীয় এ বৈঠক উত্তর কোরিয়ার জন্য সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক বিজয়। কারণ কিমের কাছে এ বৈঠক পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির বিনিময়ে পিয়ংইয়ংয়ের জন্য সুবিধা আদায়ের একটি বড় সুযোগ। তাই কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি স্থাপনের লক্ষ্যে তার দেশের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পিয়ংইয়ংয়ের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সেখানে নতুন বিনিয়োগ এবং মানবিক সহায়তার মতো বড় দাবিগুলো কিমের পক্ষ থেকে আসতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে। তবে যুদ্ধের হুমকি থেকে সৌহার্দের আলিঙ্গন করার মধ্য দিয়ে একজন দক্ষ কূটনীতিক হিসেবে উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন এ বৈঠককে বাস্তবায়িত করে নতুন এক ইতিহাস নির্মাণের মর্যাদা লাভ করেছেন।

কিমের সঙ্গে ঐতিহাসিক শীর্ষ সম্মেলনের পর মঙ্গলবার রাতে সিঙ্গাপুর ত্যাগ করার কথা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের । এ বৈঠকের পর মধ্যাহ্নভোজ ও সম্প্রসারিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পমপেও, চীফ অফ স্টাফ জন কেলি এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টানও যোগ দেন। সিঙ্গাপুর ত্যাগ করার আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সংবাদ মাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন।

খাশোগি হত্যাকাণ্ড : ‘সত্য’ প্রকাশের অঙ্গীকার তুরস্কের

সংবাদ ডেস্ক

image

সৌদির নির্বাসিত সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যার বিষয়ে আড়ালে থাকা সত্য উদঘাটনের

ভারতে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬১

সংবাদ ডেস্ক

image

ভারতের পাঞ্জাবের অমৃতসরের চৌরিবাজার এলাকায় দশেরার রাবণ পোড়ানোর উৎসবে ট্রেনচাপার

আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি বিশ্ব সম্প্রদায়ের

সংবাদ ডেস্ক

image

দুই সপ্তাহ ধরে অনুসন্ধানী সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যায় সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করলেও অবশেষে

sangbad ad

মার্কিন গোয়েন্দাদের সন্দেহের তীর যুবরাজ সালমানের দিকে

সংবাদ ডেস্ক

image

সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগির নিখোঁজের ঘটনায় দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের

বিল গেটসের বন্ধু ও মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা পল অ্যালেন মারা গেছেন

সংবাদ ডেস্ক

image

মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা পল অ্যালেন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। সোমবার (১৫ অক্টোবর) ৬৫

দানবীয় ঘূর্ণিঝড় মাইকেল লণ্ডভণ্ড ফ্লোরিডা

সংবাদ ডেস্ক

image

ক্যারিবিয়ান সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘মাইকেল’র তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের

ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে রুশ সীমান্তে জীবাণু অস্ত্র গবেষণার অভিযোগ

সংবাদ ডেস্ক

image

রাশিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী সিরিজ সাইবার হামলা চালানোর অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য

রাশিয়ার সঙ্গে ঐতিহাসিক এস-৪০০ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করল ভারত

সংবাদ ডেস্ক

image

আঞ্চলিক রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবিলায় সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে নয়াদিল্লি তার অন্যতম

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মায়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার আহ্বান : ভারতকে আন্তোনিও গুতেরেস

image

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মায়ানমারের ওপর চাপ দিতে ভারতকে আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের

sangbad ad