• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯

 

নিরীহ মুসলিমদের হত্যা ’শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ব’ ঘোষনার মাধ্যম ছিলো ব্রেন্টন ট্যারান্টের

নিউজ আপলোড : ঢাকা , শনিবার, ১৬ মার্চ ২০১৯

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
image

অভিবাসী মুক্ত ইউরোপ গড়ে তোলার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতেই সন্ত্রাসী ব্রেন্টন ট্যারান্ট নিউজিল্যান্ডে ক্রাইস্টচার্চের দুইটি মসজিদে হামলা চালিয়ে ৪৯ জনকে হত্যা করেছে। হত্যাকরীর অস্ত্রে লেখা বিভিন্ন ইঙ্গিত পূর্ণ কথা এবং হামলার ১০ মিনিট আগে নিউজিল্যান্ড সরকারকে দেওয়া ৭৩ পৃষ্ঠার ’দ্য গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট’ ইশতেহারে এই প্রমান পাওয়া যায়। ১৬ মার্চ শনিবার আদালতের কাঠগড়ায় দাড়িয়েও হাসতে হাসতে ‘শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ব’র প্রতীক দেখান হত্যাকারী ব্রেন্টন। হত্যাকারী তার বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও ‘পুনরুজ্জীবিত শ্বেতাঙ্গ পরিচয়ের প্রতীক’ বলে প্রশংসা করেন। তার বিশ্বাস এই হত্যাকান্ডের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের শেতাঙ্গরা অভিবাসীদের বিরুদ্ধে একইভাবে প্রতিবাদ জানাবে।

সাম্প্রতিককালে অনলাইনে ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ নামে উগ্রডানপন্থী শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী মতাদর্শের দ্রুত প্রসার লাভ করছে। ইতিমধ্যে পুরো বিশ্বে এই মতাদর্শের একটি ব্যাপক আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীও তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এই ষড়যন্ত্র তত্ত্বের মূল কথা হলো, ইউরোপীয়রা ক্রমশ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে তাদের তুলনায় নিকৃষ্ট এবং বিপদজনক জাতি ও সংস্কৃতির দাপটে। মূলত মুসলিমদের নিয়ে ঘৃণা এবং ভীতি ছড়ানোর সাংকেতিক আলোচনা বলে মনে করা হয় এসব আলোচনাকে। এই ষড়যন্ত্র তত্ত্বে আরও বলা হচ্ছে, পশ্চিমা দুনিয়ায় যে অভিবাসীদের আসার হার বেড়েই চলেছে, এর পেছনেও রয়েছে ষড়যন্ত্র। বিশ্ব পুজিবাদকে টিকিয়ে রাখতে বড় বড় রাষ্ট্র এবং কর্পোরেশনগুলো ’হোয়াইট জেনোসাইড’ বা ’শ্বেত্ঙ্গা গণহত্যায়’ উৎসাহ যোগানোর নীতি নিয়েছে। এই ইশতেহারে এন্টি সেমিটিক (ইহুদী বিদ্বেষী) এবং নব্য নাৎসীবাদী কথাবার্তাও আছে। পশ্চিমা দুনিয়ায় যে উগ্র ডানপন্থী শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর উত্থান ঘটছে, তার পেছনে এ ধরণের ’ষড়যন্ত্রমূলক তত্ত্বের’ বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। নানা ধরণের গোপন গোষ্ঠী ফেসবুকে এবং অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ায় এসব প্রচারণা চালাচ্ছে জোরে-শোরে।

হামলার ঘটনার যে ১৭ মিনিটের ভিডিও এবং তার আগে যে সুদীর্ঘ ইশতেহার ব্রেন্টন টারান্ট প্রকাশ করেছেন, তা থেকে তার চিন্তা ও মতাদর্শ সম্পর্কে কী ধারণা পাওয়া যায়? ব্রেন্টন টারান্ট যখন অস্ত্র বোঝাই গাড়ি নিয়ে আল নুর মসজিদের দিকে যাচ্ছেন, তখন তার গাড়িতে যে গানটি বাজছিল, সেটি একটি সার্বিয়ান জাতীয়তাবাদী রণসঙ্গীত। ’চেটনিকস’ নামে পরিচিত সার্বিয়ান প্যারামিলিটারি ইউনিট ১৯৯২-৯৫ সালের বসনিয়ান যুদ্ধের সময় এটিকে তাদের কুচকাওয়াজ সঙ্গীত হিসেবে ব্যবহার করতো। এই সঙ্গীতে বসনিযান সার্ব নেতা রাদোভান কারাদযিচের প্রশংসা রয়েছে। গণহত্যা এবং যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে রাদোভান কারাদযিচ দোষী সাব্যস্ত হন।

মুসলিমদের এবং অভিবাসীদের হত্যার কারণে যেসব লোকের সাজা হয়েছে, তাদের অনেকের নাম লেখা আছে ব্রেটন টারান্টের আগ্নেয়াস্ত্রগুলিতে। একটি বন্দুকের গায়ে লেখা ’ফর রদারহ্যাম।’ যুক্তরাজ্যের রদারহ্যামে শিশুদের ওপর এশিয়ান মুসলিম পুরুষদের যৌন নিপীড়নের যে কেলেংকারির ঘটনা আলোড়ন তুলেছিল, সেই ঘটনাকেই এতে ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া অটোম্যান সাম্রাজ্যের সঙ্গে ইউরোপের দেশগুলোর ঐতিহাসিক অনেক লড়াইয়ের প্রতি ইঙ্গিত করে বিভিন্ন শব্দ লেখা ছিল তার অস্ত্রশস্ত্রে।

হামলা চালানোর আগে লেখা ৭৪ পৃষ্ঠার ইশতেহারে আকারলাউন্ডের মৃত্যুর প্রতিশোধ নেয়ার কথা বলেছিল ব্রেন্টন । ১৬ হাজার ৫০০ শব্দের ইশতেহারে হামলার কারণ ব্যাখ্যা করেছে এ অস্ট্রেলীয় নাগরিক। সেখানে মোটা দাগে উঠে আসে মুসলিমবিদ্বেষ ও শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদের মতো বিষয়গুলো। নিজের অস্ত্রে মুসলমানদের উসমানীয় খিলাফতের বিরুদ্ধে তৎকালীন ইউরোপীয় খ্রিষ্টানদের বিজয়ের কথাও উল্লেখ করেছে সে।

ব্রেন্টন তার ইশতেহারে লিখেছে, বছর দুয়েক আগের ওই ঘটনা তার চিন্তা-চেতনায় নাটকীয় পরিবর্তন নিয়ে আসে। ২০১৭ সালের ৭ এপ্রিলের ওই সহিংসতার পর থেকে আর চুপ থাকতে পারেনি সে। কারণ এবার ঘটনা পুরো পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে। স্কুল ছুটির পর মায়ের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিল। সে হত্যার বদলা নিতেই শুক্রবার এবার জন্মদিনে পাশবিক হিংগ্রতায় নিরপরাধ মুসল্লিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নেয় ব্রেন্টন । প্রতিশোধের বার্তা দিয়ে অভিবাসীদের উদ্দেশে ক্রাইস্টচার্চের খুনি বলেছে, এ হামলা চালানো হয়েছে এটা দেখানোর জন্য যে, যতক্ষণ পর্যন্ত একজন শ্বেতাঙ্গও বেঁচে আছেন ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের দেশ আমাদেরই (শ্বেতাঙ্গদের) থাকবে। আমাদের দেশ কখনোই তাদের (অভিবাসী মুসলিমদের) হবে না। তারা কখনও আমাদের ভূমি দখল করতে পারবে না।

আদালতে হাজির করা হলে কাঠগড়ায় ব্রেন্টন ট্যারেন্টন হাতের আঙুল দিয়ে একটি চিহ্ন দেখিয়েছেন, যা ‘শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ব’ বর্ণবাদের প্রতীক বলে জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। বলা হচ্ছে, আদালতে ব্রেন্টন যেভাবে আঙুল রেখেছেন, সেভাবে রাখাটা হলো ‘শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ব’র প্রতীক। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হয়, ব্রেন্টন আদালতে কোনো কথা বলেননি। শুনানির সময় মিডিয়া ব্যক্তিত্বরা যখন তার আলোকচিত্র তুলছিলেন, তখন তিনি হাসছিলেন এবং হাতের আঙুল দিয়ে ‘শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক প্রদর্শন করছিলেন।

তার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দিয়ে শনিবার স্থানীয় সময় সকালে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। তখন আদালত আত্মপক্ষ সমর্থনে আনার জন্য কোনো আবেদন ছাড়াই পুলিশের হেফাজতে ব্রেন্টনকে রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন। একইসঙ্গে মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয় আগামী ০৫ এপ্রিল। এ দিন দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের উচ্চ আদালতে তাকে হাজির করা হবে। তার বিরুদ্ধে আস্ত্র আইন লঙ্ঘনসহ আরও বেশ কয়েকটি অভিযোগ আনা হবে বলে ধারণা করছেন আইনপ্রণেতারা। বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলার সন্দেহভাজন মূলহোতাকে আদালতে হাজিরের সময় হাতকড়া পরানো ছিল। তার পরনে ছিল কারাগারের শার্ট। তার দু’পাশে দু’জন পুলিশ সদস্য ছিলেন সতর্কতা অবলম্বন করে।

ইশতেহারে হত্যাকারী বলেন, ট্রাম্পকে সে ‘শ্বেতাঙ্গ পরিচিতির নতুন প্রতীক’ মনে করে সমর্থন জানায় কিন্তু সাধারণভাবে ‘একজন নীতি নির্ধারক হিসেবে’ সমর্থন করে না। ২৮ বছরের এই ব্যক্তি দাবি করেছে, অস্ত্র হিসেবে বন্দুক নির্বাচনের কারণ হলো এতে করে দ্বিতীয় সংশোধনী ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক শুরু হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিতর্ক জন্ম নেবে এবং তা নিষিদ্ধ হবে। সে বলেছে, ‘ব্যাপক চাপ তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্রের বামপন্থীরা দ্বিতীয় সংশোধনী বাতিল করতে চাইবে। এতে করে যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থীরা এটাকে নিজেদের মুক্তি ও স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করবে।’ ইশতেহারে ট্যারান্ট আশা প্রকাশ করেছে, এতে করে যুক্তরাষ্ট্রে গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়বে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বলকানীকরণ শুরু হবে। ট্যারান্ট আরও বলেছে, বামপন্থীদের দ্বারা ডানপন্থীদের বিলুপ্ত করার প্রয়াস যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে নাটকীয় মেরুকরণ সৃষ্টি করবে এবং তা যুক্তরাষ্ট্রকে সাংস্কৃতিক ও বর্ণগতভাবে বিভক্ত করবে।’ এতে সে আরও উল্লেখ করেছে, উজবেকিস্তানের শরণার্থী আশ্রয় প্রত্যাশী রাখমাত আকিলভের হামলার প্রতিশোধ নিতেই মসজিদে গুলিবর্ষণ করেছে।

ইশতেহার সম্পর্কে হোয়াইট হাউজ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে হত্যাকান্ডের পর হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি সারাহ স্যান্ডার্স এক বিবৃতিতে হামলার তীব্র নিন্দা জানায়। হোয়াইট হাউজের বিবৃতিতে বলাহয়, যুক্তরাষ্ট্র তীব্রভাবে ক্রাইস্টচার্চে হামলার নিন্দা জানায়। আমরা নিহত ও তাদের পরিবারের সমব্যাথী। এ ঘৃণ্য হামলার বিরুদ্ধে আমরা একযোগে নিউজিল্যান্ডের জনগণ ও সরকারের পাশে আছি। অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প তরি টুইটারে হামলাকে ‘ভয়ঙ্কার হত্যাযজ্ঞ’ বলে উল্লেখ করেন। বিবিসি’র সংবাদে বলা হয়, হামলার নিন্দা জানিয়ে ট্রাম্প লিখেছেন, নিউ জিল্যান্ডের জন্য যে কোনও কিছু আমরা তাদের পাশে আছি।

বৈশ্বিক জরুরি অবস্থার ঘোষণা হু’র

সংবাদ ডেস্ক

image

আফ্রিকার পশ্চিশ-মধ্যঞ্চীয় দেশ ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে ‘বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য সংকট’ হিসেবে

ইরানের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ তেলের ট্যাংকারকে ‘বাধা দেয়ার’ অভিযোগ

সংবাদ ডেস্ক

image

পারস্য উপসাগরে কয়েকটি ইরানি নৌকা একটি ব্রিটিশ তেল ট্যাঙ্কারকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

কংগ্রেস সভাপতি পদে গান্ধী পরিবারের কেউ থাকছেন না

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

হাজারও বাধা উপেক্ষা করে ভারতের প্রাচীন ও অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল কংগ্রেসের সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন রাহুল গান্ধী

sangbad ad

লিবিয়ায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের

সংবাদ ডেস্ক

image

লিবিয়ার বিদ্যমান সংঘাতে গত ৩ মাসে প্রায় ছয় হাজার মানুষ হতাহত হয়েছেন। এর মধ্যে নিহতের সংখ্যা প্রায় এক হাজার। এছাড়াও আহত

মুম্বাইয়ে ভারী বর্ষণে নিহত ২২

সংবাদ ডেস্ক

image

বর্ষার প্রথম বৃষ্টিতেই বড় ধরনের বিপর্যয়ের কবলে পড়েছে ভারতের বন্দরনগরী মুম্বাই। টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে ডুবে গেছে গোটা শহর। ১ জুলাই

সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করছে মোদি সরকার!

সংবাদ ডেস্ক

image

ভারতে ৩টি শীর্ষস্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়া বন্ধ রেখেছে মোদি সরকার। সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনামূলক প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে টাইমস

মধ্যপ্রাচ্যে এফ-২২ যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

সংবাদ ডেস্ক

image

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির এফ-২২ স্টিলথ যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে ওয়াশিংটন। ২৭ জুন বৃহস্পতিবার

ট্রাম্পের ‘দুর্দান্ত’ চিঠি পেয়েছেন কিম

সংবাদ ডেস্ক

image

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছ থেকে চিঠি পেয়ে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন বলেছেন, ট্রাম্পের চিঠি ‘দুর্দান্ত’। উত্তর কোরিয়ার

ইরানের ওপর ‘বড় আকারের’ নিষেধাজ্ঞা আসছে : ট্রাম্প

সংবাদ ডেস্ক

image

আবারও ইরানের ওপর ‘বড় আকারের’ নিষেধাজ্ঞা জারি করতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। তেহরানের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি প্রতিরোধের লক্ষ্যে

sangbad ad